অমানবীক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অমানবীক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ, ২০১২

ধর্ষণের পর টুনি’র শরীর থেকে বের করে নেয়া হয় রক্ত

 বছরের টুনিকে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা, তার শরীর থেকে রক্ত বের করে নিয়েছে। এরপর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপসী গ্রামের। এ ঘটনায় পুলিশ রুবেল শেখ তুহিন নামে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। রুবেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে সে রক্ত বিক্রেতা। রক্ত সংগ্রহ করার জন্যই এ কাজ করেছে।
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান জানান, গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জুলেখা খাতুন টুনি কীর্তন দেখতে যাচ্ছিল। এ সময় একই গ্রামের রমজান ব্যাপারীর ছেলে রুবেল, তার সহযোগী সোহেল (১৯) ও মঞ্জিল (২০) তাকে ফুঁসলিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে তারা। একপর্যায়ে টুনি অচেতন হয়ে পড়লে তার শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করে নেয়। শুধু তাই নয়, ৩ জন মিলে হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার লাশ পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টুনির পিতা শুকুর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় মামলা করেন। রোববার রাতে বাড়ি থেকে  রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিরাজগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ ভটাচার্জ বলেন গ্রেপ্তারকৃত রুবেল মাত্র ৫ হাজার টাকার চুক্তিতে টুনিকে তার সহযোগীদের হাতে তুলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক অপর দু’ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা  চলছে। রুবেলকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিকালে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মানব জমিন

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মেয়ে ধর্ষণের শিকার, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাবা খুন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাঘবপুর এলাকা থেকে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বালুয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মেয়ে গত সোমবার তার ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিল। বেলা ১ টার দিকে তালতলা নুনদহ সেতুতে পৌঁছালে বালুয়াবাজার গ্রামের আবু বক্কর মিয়ার ছেলে আবুল বাসার ওরফে পিচ্চি মিলন (২৫) সহযোগিদের নিয়ে জোরপূর্বক তাকে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামের এক বাড়ীতে মিলন ও তার সহযোগিরা তাকে ধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিকেল ৫ টার দিকে মেয়েটিকে তার বাড়ীর নিকটবর্তী ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ৪১ মাইল নামক স্থানে রেখে যায় তারা। বাড়ী ফিরে মেয়েটি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁরা গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার জন্য রওনা হন। এ খবর শুনে বখাটে মিলন ও তার সঙ্গীরা মেয়েটির বাড়ির কাছে তার বাবা ও অন্যান্য অভিভাবকদের পথরোধ করে। এ সময় মেয়েটির বাবার চিৎকার শুনে গিয়ে এলাকাবাসী মিলনকে আটক করে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে মিলনের সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে মিলনের সঙ্গীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মেয়েটির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ী ভাঙচুর এবং মেয়েটির বাবা ও চাচাকে বেদম মারপিট করে মিলনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটির বাবাকে সোমবার রাত ৮ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাস বলেন, নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২

পাষণ্ড বাবার কাণ্ড!

দীর্ঘ ১০ বছর বাথরুমে আটক থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে প্যালেস্টাইনের এক নারীকে। শনিবার পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া সিটির একটি বাড়ির ছোট্ট একটি বাথরুম থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে প্যালেস্টাইন পুলিশ। ২১ বছর বয়সী বারা মেহেম কর্তৃপকে অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তার বাবা তাকে বাথরুমে আটক করে রেখেছেন। মেহেমের বয়স যখন মাত্র ১১ বছর, তখন থেকেই বাবা তাকে বাথরুমে আটকে রাখতেন। কখনো কখনো মোটা লাঠি ও ধাতব তার দিয়ে তাকে মারা হতো। তিনি মেহেমকে স্কুলে যেতে দিতেন না, এমনকি তার মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দিতেন না। তার বাবার সঙ্গে মায়ের ইতিমধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। ভয়েস অব প্যালেস্টাইনকে দেওয়া সাাৎকারে মেহেম জানান, বাবাই তার চুল ও ভ্রূ কেটে দিতেন। মাসে মাত্র একবার তাকে গোসল করতে দিতেন এবং প্রতিদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার জন্য রাত একটা থেকে রাত চারটা পর্যন্ত তাকে বাথরুম থেকে বের করতেন। বাথরুমটি ছোট্ট একটি খোপের মতো। এটি লম্বায় মাত্র এক মিটার আর চওড়ায় অর্ধমিটার। বললেন, সমাজকর্মী হালা শ্রেইম। মেহেমের বাবা তাকে প্রায়ই আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করতেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। মেহেমের বাবা জš§সূত্রে একজন ইসরাইলের নাগরিক। মেহেমকে উদ্ধারের পর পুলিশ তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইল কর্তৃপরে কাছে হস্তান্তর করেছে। আর মেহেম থাকছেন মায়ের সঙ্গে।
প্রথম আলো

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২

নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার

পেটের দায়ে উত্তরাঞ্চলের এক জেলা থেকে ১৫ দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী। অনেক চেষ্টায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ জোটে। তাঁর স্বামী রিকশা চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত শুক্রবার রাতে ভাষানটেক বালুরমাঠে নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার হন কর্মজীবী এই নারী। তিনি গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত ১০টার সময় তিনি ও তাঁর স্বামী হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তাঁদের পিছু নেয় এলাকার বখাটে যুবক ইব্রাহীম, বাবু, রানা ও নাম না জানা আরেকজন। তাঁদের পিছু পিছু বখাটেরাও ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয়। বখাটেরা প্রথমে মুড়ি মাখিয়ে দিতে বলে, তারপর বলে ভাত রান্না করে খাওয়াতে। ভাত খাওয়ার পর একপর্যায়ে বখাটেরা স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে বাথরুমে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার এক দিন পর ওই এলাকার দুজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর সহযোগিতায় নির্যাতিত ওই নারী কাফরুল থানায় মামলা করেন।
জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিষয়টি দেখছি। আশা করছি, শিগগিরই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।’ প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

দুই মাসের শিশুকে পতিতালয়ে বিক্রি

ভারতের মুম্বইয়ের গিরগাউম থেকে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে চুরি করে ১২০০০ রুপির বিনিময়ে এক পতিতালয় প্রধানের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। পুলিশ অবশ্য রোববার ওই শিশুকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিয়মিত এ ধরনের শিশুকে চুরি করে নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করার কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন এ ব্যাপারে আরও জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। গত ৫ই জানুয়ারি গিরগাউমের মওলানা শওকত আলি রোডের বাসা থেকে সালমা শেখের দুই মাস বয়সী কন্যা নিখোঁজ হয়। তিন কন্যা সন্তানের মা সালমা প্রথমে ভেবেছিলেন আলাদা বসবাসকারী স্বামীই তার শিশুকন্যাকে নিয়ে গেছেন। তাই তিনি প্রথমে এ ব্যাপারে পুলিশকেও কিছু জানাননি। ১৪ই জানুয়ারি স্বামীর সঙ্গে তার দেখা হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন মেয়ে নিখোঁজ হবার ব্যাপারে তার স্বামী কোন কিছুই জানেন না। তখন তিনি পুলিশের কাছে সন্তান নিখোঁজ হবার কথা জানিয়ে মামলা করেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ দাখিলের পর আমরা দুই মাস বয়সী ওই শিশুর ব্যাপারে তল্লাশি শুরু করি। এরপর একটি সূত্রে জানতে পারি স্থানীয় পতিতালয়ে শিশুটিকে ১২০০০ রুপির বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। পুলিশ পরে জানতে পারে, ঘরের বাইরে বিছানায় শুইয়ে রাখার সময় অমর শর্মা নামের এক ব্যক্তি তাকে চুরি করে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। ওই ব্যক্তি পরে পতিতালয়ের প্রধানের কাছে বিক্রি করে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পর শিশুটিকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে এ ব্যাপারে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মানবজমিন ডেস্ক: 

পর্নো ভিডিও ধারণ করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল!

যৌতুক আদায়ের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের বহু উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর পর্নো ভিডিও ধারণ করে যৌতুক আদায়ের চেষ্টার কথা খুব একটা শোনা যায়নি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্ত্রী নির্যাতনের এ কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করে ফেঁসে গেছেন যৌতুকলোভী এক স্বামী।
নির্যাতিত ওই নারী গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর একটি থানায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বায়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি দাবি করেন। অন্যথায়, ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর ওই নারীর (২০) সঙ্গে মোহাম্মদ বায়াসের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি যৌতুক নেন বায়াস। বেকার বায়াস পরে ওই গয়নাগুলো বিক্রি করে দেন। কিছুদিন আগে ওই তরুণী মাথা ব্যথার কথা বললে স্বামী বায়াস তাঁকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর তিনি অচেতন হলে বায়াস তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এ সময় তাঁর ভিডিওচিত্র ধারণ করেন বায়াস।
মামলার এজাহার থেকে আরও জানা যায়, আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণের পর থেকেই তাঁর স্বামী তাঁকে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অন্যথায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু ওই তরুণী যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বায়াস তাঁকে ঘরে আটকে রাখতেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে ভাইয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়েও বায়াস যৌতুক দাবি করেন।
এ ব্যাপারে রামান্নাথাপুরাম থানা পুলিশের পরিদর্শক মুনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছি।’ প্রথম আলো

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১২

পঞ্চম শ্রেণীর শিশু অন্তঃসত্ত্বা, অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে


ঝালকাঠীতে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে।

নলছিটি উপজেলার হয়বাতপুর গ্রামের ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার রনজিৎ নট্ট (৬৩) শিশুটির প্রতিবেশী। উপজেলার পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি।

শিশুটির মা শুক্রবার রাতে নলছিটি থানায় মামলা করলে রনজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

শিশুটি কয়েকদিন আগে পেটে ব্যথার কথা জানালে তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর দেখা যায়, সে সন্তানসম্ভবা।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আওছাফুল ইসলাম রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটি পেটে ব্যথা নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি ভর্তি হয়। ১২ জানুয়ারি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে দেখা যায়, সে ১৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

শিশুটি হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছে, “অনেক দিন আগে পাশের ঘরের রনজিত স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে খারাপ (ধর্ষণ) কাজ করে, তখন স্যারের ঘরে কেউ ছিল না।”

ধর্ষণের পর গলায় দা ঠেকিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে রনজিৎ হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ করে সে।

তবে রনজিৎ ধর্ষণের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মেয়েটির পরিবার তার কাছ থেকে জমি কিনে বসবাস করে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার আরো সম্পত্তি দখলের জন্য মেয়েকে দিয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

রনজিতের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির মায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১২

আদিবাসী নারীদের নগ্ন নৃত্য, ভারতে তোলপাড়

ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে আদিবাসী নারীদের প্রায় নগ্ন করে নাচতে বাধ্য করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বৃটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের সঙ্গে দেয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের তিন হাজার বছরের পুরনো আদিবাসী জারাওয়া উপজাতির নারীদেরকে পর্যটকদের আনন্দ দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় নগ্ন করে নাচানো হচ্ছে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে সেখানকারই পুলিশ। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে সেখানকার স্থানীয় পুলিশকে পর্যটকরা ঘুষের বিনিময়ে আদিবাসী নারীদেরকে প্রায় নগ্ন অবস্থায় নাচাতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এ ধরনের মনোরঞ্জনের আশায় সেখানে সমপ্রতি পর্যটকের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে। একজন টুরিস্টের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় পুলিশ আদিবাসী এক নারীকে নাচার নির্দেশ দিচ্ছেন। ভিডিওতে অবশ্য নির্দেশকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। পুলিশ আদিবাসী নারীকে খাবারের লোভ দেখিয়ে নাচতে উদ্বুদ্ধ করছে বলে ভিডিওতে শোনা গেছে। এ জন্য অবশ্য পুলিশকে পর্যটকরা ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত ঘুষ দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিভৃতচারী জারাওয়া উপজাতির সদস্যরা এতদিন লোক চক্ষুর আড়ালেই ছিলেন। সমপ্রতি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরেই তাদেরকে এ ধরনের কাজে বাধ্য করা লজ্জার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী দক্ষিণ আন্দামানের প্রত্যন্ত জঙ্গলে জারাওয়া উপজাতির ৪০৩ জন সদস্য রয়েছেন। তারা বেশ বিশ্বাসপ্রবন এবং নিরীহ। তাদের অবস্থাও বেশ করুণ। তাই তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে। এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আন্দামান এবং নিকোবর প্রশাসনের কাছে এ ধরনের উপজাতি নারীকে নগ্ন নাচে বাধ্য করার ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করে উপজাতিবিষয়ক মন্ত্রী কে পি সিং দেও একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের কোনভাবেই ক্ষমা করা হবে না। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। আইন ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী সালমান খুরশিদও বলেছেন এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

মিশরে সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ

undefined
মিশরের সামরিক জেলে মেয়েদের সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কায়রোর এক প্রশাসনিক আদালত। সামিরা ইব্রাহিম নামের এক মানবাধিকার কর্মীর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার এই রায় দেয়া হয়। সামিরা গত এপ্রিল মাসে তাহরীর স্কয়ারের এক প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হলে সামরিক কারাগারে তাকে জোর করে সতীত্ব পরীক্ষা করানোর অভিযোগে এই মামলাটি করেছিলেন।  মিশরের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে এরকম আরও অনেক পরীক্ষা সেনাবাহিনী করে থাকে। আদালতের প্রধান আলী ফিকরি তার রায়ে সামরিক কারাগারে সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধ করতে নির্দেশ দিলে আদালত কক্ষে উপস্থিত অনেকেই আনন্দে চিৎকার করে উঠে।mzamin

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

ধর্ষিতা মেয়েকে মায়ের বিষ প্রয়োগ

ভারতের মিরাটে ধর্ষণের শিকার এক মেয়েকে বিষ প্রয়োগ হত্যার চেষ্টা করেন তার মা ও প্রেমিক। ধষির্তার বাবা পুলিশে অভিযোগ করার পর পুলিশ প্রেমিক ধর্মান্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে। বাবার অভিযোগ মেয়ের মা ও প্রেমিক বিষ প্রয়োগে তার মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। চায়ের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে ধর্ষিতা মেয়েকে খেতে দেন মা। গত বছর ধর্ষনের শিকার হয়েছিল ওই মেয়েটি।

কুকুরকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১০ বছর জেল

মানবজমিন ডেস্ক: কুকুরকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে আহত করার অপরাধে এক মার্কিনিকে ১০ বছরের কারদণ্ড দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট এডওয়ার্ড ডি শিল্ড গত মার্চে আট মাস বয়সী কুকুর চিহুআহুয়াকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে কুকুরটির মালিক তাকে ওই বাড়ির গ্যারেজ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কুকুরটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কুকুরটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে বাঁচিয়ে তোলা হলেও তার মালিক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শিল্ডকে গত সপ্তাহে এই কারাভোগের শাস্তি দেয়া হয়। সে সঙ্গে তাকে আজীবন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে তাকে সব সময় ইলেকট্রনিক শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি স্কুল এবং যেসব জায়গায় শিশুরা জমায়েত হয় সেসব স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। mzamin.com

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১১

কোম্পানীগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে: কোম্পানীগঞ্জের চর কচ্চপিয়া গ্রামের খাল পাড়ের একটি ধানক্ষেতে গতকাল পিংকি আক্তার (১২) নামের এক বালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। পুলিশ বালিকাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. রনিকে আটক করেছে।
নিহত বালিকার পিতা আবু ইউসুফ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বাড়ির নিহত শিশু পিংকি আক্তারকে ক্ষেতে পাঠানো হয়। ধান ক্ষেতে বিলের মধ্যে পিংকিকে একা পেয়ে বখাটে রনি ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর হত্যা করে তার লাশ পাশের খালে ফেলে যায়। বালিকার পিতা মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি করে খালের মধ্যে তার লাশ দেখে চিৎকার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মো. মিজানের পুত্র বখাটে রনিকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

 গরম পানিতে দগ্ধ করে শিশু হত্যা, মায়ের ১১ বছর কারাদণ্ড

১৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গরম পানিতে চুবিয়ে হত্যার দায়ে মিলিসা আলেকজান্ডার (২৬) নামের এক নারীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন টরন্টোর একটি আদালত।
গতকাল বুধবার উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত কারাদণ্ডের এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে শিশুপুত্র মিগুয়েল ফার্নান্দেজকে বাথরুমের হট টাবে ডুবিয়ে রাখেন মা মিলিসা আলেকজান্ডার। এতে মিগুয়েলের শরীরের ৪০ ভাগ অংশই দগ্ধ হয়। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুটির মা মিলিসা তাত্ক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স না ডেকে শুধু তুলার ব্যান্ডেজ দিয়ে শিশুটিকে রেখে দেয়। এরপর রাত দুইটার দিকে মিলিসা ফোনে পুলিশকে জানান, তাঁর শিশুপুত্র মৃতপ্রায়। সরেজমিন তদন্তে মিলিসার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয় পুলিশের কাছে। পরে দীর্ঘদিন পুলিশের নজরদারিতে থাকার পর ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিলিসাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টরন্টো আদালতের বিচারক অ্যান মলি মিলিসাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। কিন্তু মিলিসার বয়স ও তাঁর পক্ষের আইনজীবীদের অনুরোধে তাঁর দণ্ড কমিয়ে ১১ বছরে আনা হয়। prothom-alo

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

 চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা

বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পরও পরস্পর দেখা করায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়া গ্রামে দুই নারী-পুরুষের মাথার চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই নারী কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
এদিকে দুজনকে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার একটি দল গতকাল ওই গ্রাম পরিদর্শন করে। তারা ওই তরুণীকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তরুণীর মা এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। ভোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল আহম্মদ বলেন, ‘তাঁরা অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু যেভাবে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা খুবই লজ্জাজনক।’
জানা যায়, তিন মাস আগে ওই দুজনে বিয়ে করেন। কিন্তু গত ১৫ দিন আগে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপরও তাঁরা বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন।
গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত রোববার ভোলপাড়া গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় গ্রামের কিছু লোক তাঁদের আটক করেন। এরপর রাতে স্থানীয় নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুর রহমানের বাড়িতে সালিস বসে। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের চুল কাটা হয়। এরপর চুন আর পোড়া মবিল লাগিয়ে ঘোরানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করে ওই তরুণী মামলা করেছেন।

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের বয়স ১৮ দেখিয়ে থানায় মামলা!

আবদুর রহমান আবদুর রহমান
নাম আবদুর রহমান। পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে। প্রকৃত বয়স তার ১১। তবে একটি সন্ত্রাসী হামলার মামলায় পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই বয়স ১৮ উল্লেখ করে আবদুর রহমানের নাম নথিভুক্ত করেছে। এমনকি ওই মামলার আসামি গ্রেপ্তারে গতকাল শুক্রবার অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি ১১ বছরের শিশু আবদুর রহমানসহ তার সাত ভাই এবং দুই মা। গ্রেপ্তার এড়াতে গতকাল পুলিশের অভিযানের সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুর রহমানও পালিয়েছিল। পরে সে তার বড় ভাই ইছুব আলীর সঙ্গে বিকেলে প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে এসে ঘটনাটি অবহিত করে।
আবদুর রহমানের বড় ভাই ইছুব আলী (৩৫) জানান, কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বিজয় পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। পারিবারিকভাবে তাঁরা পাথর শ্রমিক। পাশের গ্রাম বনপুরের বাসিন্দা আবদুল মালিক শত্রুতাবশত গত ২৫ নভেম্বর একটি সন্ত্রাসী হামলায় তাঁদের অভিযুক্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দেন। তবে এজাহার পাওয়ার পর সরেজমিন কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। নথিভুক্ত মামলার (১৯/১৩২) প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে আবদুর রহমানের নাম আছে। সেখানে তার বয়স দেওয়া হয়েছে ১৮।
ইছুব আলী এ সময় ছোট ভাই আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও সে যে বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত—সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করেন। যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদউদ্দিন ও মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমদ আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও প্রত্যয়নপত্রে উল্লিখিত বয়স ১১ বছর সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
ইছুব বলেন, ‘(সন্ত্রাসী হামলার) ঘটনাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বড়দের বিরোধ থাকতে পারে, ছোট এই বাচ্চাটার কী দোষ? পুলিশ গ্রামে গেছে শুইনা আমার লগে হেও পালাইছে।’
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছেলেটিকে নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার বার্ষিক পরীক্ষা। আসামি হওয়ায় তার শিশুমনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। ঘটনা যা-ই হোক—কোনোভাবে যেন ছেলেটির পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, এ জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমার কথায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেন গতকাল সকালে আসামি গ্রেপ্তার করতে বিজয় পাড়ুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। তবে রাতে মুঠোফোনে মোবারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আসামি গ্রেপ্তারে নয়, ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ১১ বছরের আবদুর রহমানকে ১৮ বছর উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাই নাকি! এমন হলে তো আশ্চর্যজনক ঘটনা। ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
মামলার বাদী মো. আবদুল মালিক দাবি করেন, ‘মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আমাদের লাঠি ও দা নিয়ে মারতে এসেছিল।’
অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দনকান্তি ধর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরেজমিন খোঁজ নিয়েই মামলা নথিভুক্ত হওয়ার নিয়ম। বিষয়টি আমার জানার মধ্যে নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই মামলা থেকে ছেলেটাকে বাদ দেওয়া হবে। prothom-alo

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

শারীরিক সম্পর্কহীন দাম্পত্য, স্বামীকে ১০,০০০ ইউরো জরিমানা

 বিয়ে করেছেন অথচ স্ত্রীর সঙ্গে বছরের পর বছর কোন শারীরিক সম্পর্ক নেই! এমন অভিযোগে এবার ফ্রান্সের একটি আদালত এক ব্যক্তিকে ১০,০০০ ইউরো জরিমানা করেছে। ওই জরিমানার অর্থ তুলে দেয়া হবে তার স্ত্রীর হাতে। এ অর্থ তার ক্ষতিপূরণের জন্য। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে আরও বলা হয়েছে, ওই দম্পতির ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। বর্তমানে তাদের বয়স দু’জনেরই ৫১ বছর করে। কিন্তু বিচ্ছেদের আগে স্ত্রীর প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি ওই স্বামী। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার রায় হয়েছে গত মে মাসে। কিন্তু তা এতদিন গোপন ছিল। মঙ্গলবার তা প্রকাশ করে দিয়েছে গেজেট দু প্যারাইস জুডিশিয়াল রিভিউ। তাতে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আইক্সয়েন প্রভিন্স শহরের একটি আপিল আদালত আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। তাতে বলা হয়, বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না রাখায় ওই স্বামীকে ওই জরিমানা করা হলো। আদালত তার রায়ে বলেছেন, তার স্ত্রী শারীরিক সম্পর্কহীন সংসার করেছেন। এতে তিনি মানসিকভাবে যে যন্ত্রণা ভোগ করেছেন তার তিনি ক্ষতিপূরণ পেতেই পারেন। তার দাবি বৈধ। বিবাহিত দম্পতির মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক থাকাটাই বিধান। এ দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি মানুষের অবশ্যই কর্তব্য। তবে আদালতে ওই স্বামী দাবি করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘ সময় কাজ করতেন। এতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত থাকতেন। তাই তিনি স্ত্রীর চাহিদার দিকে মোটেও খেয়াল দিতে পারতেন না। তার এ দাবি আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত রায়ে বলেছে, তারা ওই ব্যক্তির শরীরে এমন কোন সমস্যা খুঁজে পায়নি, যার জন্য তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।

মানবজমিন ডেস্ক:

 প্রেমিকাকে খুন করে থানায় ধরা দিলেন প্রেমিক

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় শাপলা (১৫) নামের এক পোশাক শ্রমিককে খুন করে রক্তমাখা ছুরিসহ থানায় গিয়ে ধরা দিয়েছেন ঘাতক বিল্লাল হোসেন। আজ বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার নিশারুল আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, শাপলা দক্ষিণখান এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শাপলার সঙ্গে তার প্রেমিক বিল্লালের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শাপলা পায়ের জুতা খুলে বিল্লালকে আঘাত করেন। এতে বিল্লাল ক্ষিপ্ত হন। আজ রাত আটটার দিকে পোশাক কারখানা ছুটি শেষে শাপলা বাসায় ফিরছিলেন। দক্ষিণখান থানার মিয়াপাড়ায় বিল্লাল পথরোধ করে শাপলার। এ সময় বিল্লাল শাপলার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শাপলার মৃত্যু হয়। পরে বিল্লাল রক্তমাখা ছুরি নিয়ে দক্ষিণখান থানায় গিয়ে বলেন, রাগের বশবর্তী হয়ে প্রেমিকা শাপলাকে খুন করেছে তিনি। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, স্ত্রীকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দিলেন রাজা

সোয়াজিল্যান্ডের বহুগামী রাজা তৃতীয় মাসোয়াতি (৪৪) তার ১২তম স্ত্রী নাথান্ডো ডাউবি (২৩)-কে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দিয়েছেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আইনমন্ত্রী ও রাজার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাম্বার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। গত সপ্তাহে রাজার অফিস থেকে তাকে রাজকীয় বাসভবন ছেড়ে যেতে আদেশ দেয়া হয়। রাজার বর্তমান ১৪ জন স্ত্রীর মধ্যে ১২তম স্ত্রী ডাউবি বলেন, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে গত এক বছর রাজপ্রাসাদে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। এ সময় তাকে তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তিনি তার অসুস্থ এক সন্তানকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর গণমাধ্যম বিষয়টা জানতে পারে। তিনি বলেন, তার পেছনে সব সময় একজন নিরাপত্তা কর্মী নিযুক্ত থাকতো। যখন তিনি বেরিয়ে যান তখনও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করে। আইনমন্ত্রী নাতিমুসো মাম্বার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকার সন্দেহে আফ্রিকার শেষ রাজা মাসোয়াতি তার স্ত্রীকে তালাক দেন । এই নাথান্ডো রাজার তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। স্ত্রীর রাজকীয় বিছানায় অভিযুক্ত মন্ত্রীর ছবি লুকানো থাকায় তাকে তালাকের সঙ্গে মন্ত্রীকেও বহিষ্কার করা হয়। এই অভিযোগে তাকে এক বছর আটক রাখা হয় এবং স্বামীর সাক্ষাৎ থেকেও বঞ্চিত করা হয়। বিয়ের সময় রাজার এই স্ত্রীর বয়স ছিল ১৬ বছর এবং তিনি তখন মিস সোয়াজিল্যান্ড ছিলেন। রাজা তার মায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই তালাকের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কেননা তিনি নিরাপত্তাকর্মীকে প্রহার করেছিলেন। রাজপ্রসাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় রাজার এই ১২তম স্ত্রী তার সন্তান ও জিনিসপত্রও নিয়ে যেতে পারেননি। সোয়াজিল্যান্ডের সমাজকর্মীরা হঠাৎ রাজপ্রাসাদ ত্যাগের এ ঘটনাকে মানবাধিকার পরিপন্থি হিসেবে দেখছেন। একে একটি নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। সোয়াজিল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী বসন্তের শুরুতে নতুন ফলভোগ অনুষ্ঠানের আগে রাজা যখন প্রজাদর্শন থেকে দূরে তখনই এই ঘটনা ঘটলো। সোয়াজ ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজার জন্য বহু বিয়ে অনুমোদিত এবং তিনি প্রতি বছর একজন কুমারী স্ত্রী গ্রহণ করতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী রেড-ডেন্স উৎসবে নাচে ১ম স্থান হয়েছিলেন নাথান্ডো। তার পর থেকেই তাকে রাজা স্ত্রী হিসেবে বেছে নেন। রাজার স্ত্রীদের আফ্রিকা ও মোজাম্বিকে তার পক্ষ থেকে একটি করে বাড়ি দেয়া হয়। যেখানে রাজকীয়ভাবে সব ব্যবস্থা থাকে উন্নত জীবনযাপনের জন্য। এভাবেই রাজা ভোগ-দখলের মাধ্যমে, বিরোধীদের দমন করে তার রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ দেশটির মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ সমস্যায় জর্জরিত। এইডস সহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত দেশবাসীকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই বৃটেনে শিক্ষা লাভ করা এই রাজার। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সহায়তায় রমরমা জীবনযাপন করছেন।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১

ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগী গত শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ঢাকার সাভারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।
এ অভিযোগ এনে ওই শিক্ষিকা গতকাল মঙ্গলবার সাভার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। ধর্ষণের পর ওই দুর্বৃত্তরা শিক্ষিকার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুটে নেয়। ওই শিক্ষিকা বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষিকা বলেন, গত শনিবার বিদ্যালয়ের কাজে তিনি ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি গাবতলী থেকে ভিলেজ লাইন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে তাঁর পাশে গিয়ে বসেন অপরিচিত এক লোক। বাসটি সাভারের দিকে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওই লোকটি নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই লোকটি তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বলেন।
শিক্ষিকা নিজের পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তির কথার প্রতিবাদ করলে লোকটি তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন। শিক্ষিকা ভয়ে লোকটির কথামতো সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। এর পর ওই লোকটি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে লোকটি তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে যান আরও এক ব্যক্তি। তিনিও তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই দুই দুর্বৃত্ত শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেন।
ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষিকা প্রথম আলোকে বলেন, চলন্ত বাসে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই প্রতারকের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তাঁর বাগিবতণ্ডা চলার সময়ে বাসের অন্য যাত্রীরা তাঁকে কোনো সহায়তা করেননি। যাত্রীদের সহায়তা না পেয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের (রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই প্রতারক তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়ে তিনি ওই প্রতারকের কথামতো বাস থেকে নেমে হোটেলে যান।
শিক্ষিকা বলেন, আকস্মিক ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর পুলিশ ভাইকে বিষয়টি জানালে তাঁর পরামর্শে গতকাল তিনি সাভার থানায় মামলা করতে যান।
ওই শিক্ষিকা বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি সাভার থানায় গিয়ে থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেনকে জানান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে তাঁর কক্ষে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোর এ প্রতিবেদক সাভার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। ওসি ঘটনা শুনে শিক্ষিকার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ওই এসআই আবুল হোসেনকে।
দুপুর পৌনে একটার দিকে এসআই আবুল হোসেন বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষিকাকে নিয়ে ওই হোটেলে যান। পুলিশ হোটেলের মালিক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই আবদুস ছালাম ও ভগ্নিপতি ফরিদ আহাম্মেদকে আটক করেন। ছালামকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ফরিদকে থানায় নিয়ে যান। এর আগেই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন পালিয়ে যান।
আবদুস ছালাম নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের হোটেলে এসেছিলেন।
সাভার থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে মামলা করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১

দেনার দায়ে বউ বিক্রি!

দেনার দায়ে শেষ পর্যন্ত নিজের বউ বিক্রি করে দিলেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রামের দিনমজুর অমৃত রায়। অমৃত রায়ের স্ত্রীর নাম জ্যোত্স্না।
জানা গেছে, ৪৬ হাজার টাকা ঋণ শোধ করার বিকল্প উপায় না পেয়ে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রীতিমতো রেজিস্ট্রি চুক্তি করে নিজের বউকে মো. জহিরউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন অমৃত। অমৃত রায়ের স্ত্রী জ্যোত্স্না লোকসংগীতশিল্পী হওয়ায় জহিরউদ্দিনের সঙ্গে অমৃত ও তাঁর সখ্য গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় অমৃত তাঁর বউ বিক্রি করার কথা বললে জহিরউদ্দিন তা মেনে নেন। অবশেষে ২৩ মে গোপনে দলিলের মাধ্যমে জ্যোত্স্নাকে কিনে নেন জহিরউদ্দিন।
এত দিন গোপন থাকার পর সম্প্রতি বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যায়। পরে রাজ্যের নতুন নারী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। তবে পুলিশ এখনো জ্যোত্স্নাকে খুঁজে পায়নি বলে জানা গেছে।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons