নারী নির্জাতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারী নির্জাতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২

প্রেম প্রতারণা, ফেঁসে গেছেন যশোর কারাগারের ডেপুটি জেলার

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীর সর্বস্ব লুট করে এখন ফেঁসে গেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী’র মতো সম্পর্ক গড়ে এখন অস্বীকার করছে। এ অবস্থায় তরুণীটি এ প্রতারণার বিচার চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে এবং তার সঙ্গে আকতারের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি জমা দিয়েছে। আবেদনে মেয়েটির দাবি- এ প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার বিকল্প নেই। এদিকে মেয়েটির আত্মহত্যার হুমকি এবং বিচারের আবেদন ও তার সঙ্গে যুক্ত করা কিছু ছবি নিয়ে বিপাকে পড়েছে কারাকর্তৃপক্ষ। ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় গোটা কারাপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যশোর কারাকর্তৃপক্ষ ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনকে শোকজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনের সঙ্গে প্রায় ৮ মাস আগে পরিচয় হয় কারাগারেরই আরেক কর্মচারীর কলেজপড়ুয়া কন্যার। অল্পদিনেই অনিন্দ্য সুন্দর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আকতার। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আকতার মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সর্বনাশ শুরু করে। বিয়ের কথা বলে আকতার মেয়েটির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। দিনে দিনে তাদের ঘনিষ্ঠতা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। যা নিয়ে কারা চত্বরে নানা রকম রসাত্মক আলাপ-আলোচনার জন্ম হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ‘হবু জামাই’ জেলার আকতারের পরামর্শে ৩ মাস আগে তরুণীর পিতা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বদলি হয়ে স্বেচ্ছায় যান রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। আকতার ছুটি নিয়ে মাঝে মধ্যে রাজশাহী যেতেন এবং ওই তরুণীর বাসায়ও থাকতেন। আর বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে সময় ক্ষেপণ করতেন। পাঁচদিন আগে জরুরি কাজে নিজ বাড়ি যাওয়ার নামে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আকতার রাজশাহী যান। এবারও রাজশাহীতে গিয়ে আকতার তার প্রেমিকার বাসায় উঠেছিলেন। এ সময় মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মেয়ের পিতা-মাতা আকতারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এরপরই প্রকাশ পায় আকতারের আসল রূপ। তিনি সরাসরি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জানিয়ে দেন- ‘যা হয়েছে তা দু’জনের সম্মতিতেই হয়েছে। যে মেয়ে বিয়ের আগে তার প্রেমিককে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে, নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।’
আকতারের এ প্রত্যাখ্যানে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তরুণীর। সে ছুটে আসে যশোরে। লিখিত নালিশ জানায় কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আকতারকে ডেকে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। নিরুপায় তরুণী এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ফলে বিপাকে পড়ে কারাগার কর্তৃপক্ষ। গত দু’দিন ধরে তরুণী ও তার অভিভাবকরা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মচারীর বাসায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, কারাগার কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডেপুটি জেলার আকতারের পিতা-মাতাও এসেছেন যশোর। তারাও ছেলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, ওই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে তারা মেনে নেবেন না।
আকতারের এ প্রতারণার কাহিনী এখন শুধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে শহরে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা, সাংবাদিকসহ বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কারাগারে।
তরুণীর মা সাংবাদিকদের বলেন, আকতারের সঙ্গে তার মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেম সম্পর্ক। সে তার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে রাত-বিরাতে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় দু’জনে ছবি তুলেছে। কিন্তু যখনই বিয়ের কথা বলা হয়েছে তখনই সে ‘একটু সময় দিন’ বলে কালক্ষেপণ করেছেন। সমপ্রতি গত ৫ দিন আগে রাজশাহী গিয়ে তার বাসায় ওঠেন আকতার। তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ফাঁস হয়ে যায় তার আসল চেহারা। সে এখন আর তার মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললেও তারা বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন দাবি করেন, ‘আমাদের মধ্যে স্রেফ বন্ধুত্ব ছিল। এর বেশি কিছু না।’
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে যশোরে এসে অফিসে যোগদান করেছি। এরপর আকতারের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের বিষয়টি অবহিত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত। এখানে কারা প্রশাসনের করার কিছুই নেই। তবে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান আশা করেন তিনি।
আকতার বিয়ে করতে রাজি না হলে তরুণী আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে- এমন কথা শুনেছেন কিনা জানতে চাইলে জেলর মাসুদ পারভেজ বলেন, যদি উভয়পক্ষ কোন যৌক্তিক সমঝোতায় আসতে না পারেন এবং মেয়েপক্ষ লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেন তবে তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এদিকে মেয়েটির লিখিত আবেদন ও বিশেষ ঘনিষ্ঠতার মুহূর্তের কিছু ছবি হাতে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকতারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নোটিসে বলা হয়েছে, তার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিব্রত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে আশু সুস্থ সমাধানে উপনীত হতে না পারলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সুপার সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিসটি বৃহস্পতিবার ডেপুটি জেলার আকতারের হাতে দেয়া হয়। আগামী দু’দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জেলার জানান, বিষয়টি জানানো হয়েছে কারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আইজিকেও। আইজি (প্রিজন্স) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ডেপুটি জেলার নোটিসের জবাব দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বিবদমান যে কোন পক্ষ ইচ্ছা করলে আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
এদিকে, প্রতারণার শিকার তরুণী গতকাল যশোর ছেড়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি যশোরের জেলা প্রশাসককে প্রতারণার কাহিনী লিখিতভাবে জানিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারও বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। এদিকে কারা অভ্যন্তরে বসবাসকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

রাজশাহীতে নারী কনস্টেবলের শ্লীলতাহানি এসআই সাসপেন্ড

রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অফিসে এক নারী কনস্টেবলের শ্লীলতাহানির দায়ে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে । নারী কনস্টেবলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমান ওই নারী কনস্টেবলকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। যখন তখন তার গায়ে পড়ে কথা বলার চেষ্টা করতো সে। গত সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা অফিসে মামলার সিডি (কেস ডকেট) লেখার কথা বলে নারী কনস্টেবলকে অপেক্ষা করতে বলে শফি। এসময় ডিবি’র অন্য সদস্যরা খাবারের জন্য অফিস ত্যাগ করে চলে যান। ফাঁকা অফিস পেয়ে শফিকুর রহমান ওই নারী কনস্টেবলের গায়ে হাত দেয়। এক পর্যায়ে অফিসের ভেতরেই তাকে জড়িয়ে ধরে। তবে ওই সময় ডিবি পুলিশের একজন পুরুষ কনস্টেবল অফিসে এসে পড়ায় শফিকও তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয়। যৌন হয়রানির শিকার ওই নারী কনস্টেবল অভিযোগ দিতে প্রথমে যান রিজার্ভ পরিদর্শকের কাছে। তিনি পুলিশ সুপারকে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। তবে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে সুবিচার পাওয়ার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন ওই নারী কনস্টেবল। শেষ পর্যন্ত তিনি  সোমবার বিকালে যান রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজির কাছে। ঘটনা খুলে বলে তিনি বিচার প্রার্থনা করেন। বিষয়টি শোনার পর ডিআইজি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির কাছে তাকে পাঠিয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, এস আই শফি ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী পুলিশ সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন ওই নারী কনস্টেবল। অতিরিক্ত ডিআইজি তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে রাজশাহীর পুলিশ সুপারকে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার সোমবার সন্ধ্যায় সে আদেশ জারি করেন। তবে এ ঘটনা জানাজানির পর শফিকুর রহমান অসুস্থ বলে রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন, রাতেই উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় চলে যান। এদিকে অভিযোগকারী নারী কনস্টেবলকে জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া, নারী পুলিশ সদস্যদের যৌন হয়রানিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রাজশাহী পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী শামীম হোসেন, আর্দালি ইকবাল হোসেন, মেস ম্যানেজার নাসির উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর কাম টাইপিস্ট নুুরুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর বন্ধুকে ১০১ দোররা

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় গত শুক্রবার এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর বন্ধুকে ১০১টি দোররা মারা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সে টাকায় করা হয়েছে ভূরিভোজ।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূর স্বামীর বন্ধু স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁর ঘরে গেলে দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন গ্রাম্য মাতবর আফজল হোসেন। পরদিন সালিস বৈঠকে গৃহবধূ ও যুবককে দোররা ও জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয়। যুবকের সাড়ে চার হাজার টাকা ও গৃহবধূর ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিবেশী যুবক ওই গৃহবধূর ঘরে তাঁর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ সময় ওই বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় প্রতিবেশী আফজাল তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে যুবককে আটক করে হইচই শুরু করেন।
গতকাল দুপুরের দিকে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ‘আসছি’ বলে চলে যান। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় গৃহবধূর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা রাজি হননি। গৃহবধূর একাধিক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বামীর বন্ধু বলে গৃহবধূ ওই যুবকের সঙ্গে ঘরে বসে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। গ্রামের মাতবর বলে পরিচিত আফজাল অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে ওই যুবককে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। গত শনিবার রাতে সালিসে দুজনকে ১০১টি দোররা মারা হয়। দুজনের কাছ থেকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই টাকায় ভূরিভোজ করা হয়েছে।
শনিবার রাতে স্থানীয় একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত সালিস বৈঠকে প্রধান দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় আজিজুল হক। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইছহাক আলী জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের সত্যতা না পেয়ে ওই গৃহবধূ ও যুবককে সামাজিকতা মেনে চলার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরে আফজালসহ অন্যরা সালিস করে গৃহবধূ ও যুবককে শাস্তি দেন।
গৃহবধূকে দোররা মারার রায় দেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান নূর আলম। তিনি জানান, গ্রাম্য মাতবর আজিজুল হক, মোফাজ্জল হোসেন, আফজাল হোসেনসহ কয়েকজনের পীড়াপীড়িতে এ রায় দিয়েছেন। নূর আলম আরও জানান, মাতবরেরা থানা-পুলিশ সামাল দেবেন বলায় ওই দুজনকে দোররা মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে গতকাল দুপুরে আফজাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি জরুরি কাজে নওগাঁ শহরে গেছেন। অপর মাতবর আজিজুল হক বলেন, ‘গ্রামে অসামাজিক কিছু হলে তা সমাজের সবার মতামত নিয়ে সমাধান করা হয়। ওই গৃহবধূর ক্ষেত্রেও তা-ই করা হয়েছে।’ জরিমানার টাকায় ভূরিভোজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিষ্টিমুখ করিয়ে সবাইকে খুশি করা হয়েছে, ওই গৃহবধূর ঘর বাঁচানো হয়েছে।’
অভিযুক্ত যুবক চট্টগ্রাম চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিবারের কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।
রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি, দোররা মারার বিষয়টি আমার জানা নেই।

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মেয়ে ধর্ষণের শিকার, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাবা খুন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাঘবপুর এলাকা থেকে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বালুয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মেয়ে গত সোমবার তার ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিল। বেলা ১ টার দিকে তালতলা নুনদহ সেতুতে পৌঁছালে বালুয়াবাজার গ্রামের আবু বক্কর মিয়ার ছেলে আবুল বাসার ওরফে পিচ্চি মিলন (২৫) সহযোগিদের নিয়ে জোরপূর্বক তাকে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামের এক বাড়ীতে মিলন ও তার সহযোগিরা তাকে ধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিকেল ৫ টার দিকে মেয়েটিকে তার বাড়ীর নিকটবর্তী ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ৪১ মাইল নামক স্থানে রেখে যায় তারা। বাড়ী ফিরে মেয়েটি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁরা গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার জন্য রওনা হন। এ খবর শুনে বখাটে মিলন ও তার সঙ্গীরা মেয়েটির বাড়ির কাছে তার বাবা ও অন্যান্য অভিভাবকদের পথরোধ করে। এ সময় মেয়েটির বাবার চিৎকার শুনে গিয়ে এলাকাবাসী মিলনকে আটক করে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে মিলনের সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে মিলনের সঙ্গীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মেয়েটির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ী ভাঙচুর এবং মেয়েটির বাবা ও চাচাকে বেদম মারপিট করে মিলনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটির বাবাকে সোমবার রাত ৮ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাস বলেন, নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ঝিনাইদহে নির্যাতনের পর গৃহপরিচারিকার চুল কর্তন

ঝিনাইদহ শহরে নির্যাতনের পর এক গৃহপরিচারিকার মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন ওই গৃহপরিচারিকা।
কিন্তু গতকাল সকাল থেকে তিনি আর মুখ খুলছেন না।
এলাকাবাসী জানান, ওই গৃহপরিচারিকা শহরের উপশহর পাড়ার বাসিন্দা মশিয়ার রহমান জোয়াদ্দারের বাসায় কাজ করতেন। মশিয়ার রহমান হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহপরিচারিকা মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি তিন বছর ধরে মশিয়ারের বাসায় কাজ করছেন। বর্তমানে মশিয়ার ভারতে আছেন। ওই দিন বেলা একটার দিকে তিনি বাসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় বাসায় আসেন মশিয়ারের মেয়ের জামাই তপু ও শ্যালিকা মিরা খাতুন। এ সময় তিনি তাঁদের খেতে বলেন। কিন্তু কোনো কিছু বোঝার আগেই তপু তাঁকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আল মামুন বলেন, ওই গৃহপরিচারিকার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ডান হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওই গৃহপরিচারিকা কারও সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন না। শুধু বলছেন, তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। হাসপাতালের বাইরে সারাক্ষণ কিছু ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছেন। যাঁরা কাউকে তাঁর কাছে যেতে দেখলেই পিছু নিচ্ছেন। তিনি সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে কথা বলছেন।
মিরা খাতুন জানান, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মশিয়ারের বাসায় যান। এরপর হঠাৎ করে বাসায় আসেন তপু। তপু এসে ওই গৃহপরিচারিকার হাত ধরে টানতে টানতে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান। এ সময় তপু তাঁকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও এক ঘণ্টা পর তিনি খবর পান, গৃহপরিচারিকাকে মারধর করা হয়েছে। এর বেশি তিনি কিছুই জানেন না।
মশিয়ার দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তপুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়ক আমিনুর রহমান জানান, গৃহপরিচারিকার ওপর এমন নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মেয়েটি ভয়ে কথা বলতে পারছেন না। মামলা করতেও ভয় পাচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো ওই গৃহপরিচারিকা প্রকাশ করেননি। এমনকি মামলাও করতে চাচ্ছেন না।

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২

পাষণ্ড বাবার কাণ্ড!

দীর্ঘ ১০ বছর বাথরুমে আটক থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে প্যালেস্টাইনের এক নারীকে। শনিবার পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া সিটির একটি বাড়ির ছোট্ট একটি বাথরুম থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে প্যালেস্টাইন পুলিশ। ২১ বছর বয়সী বারা মেহেম কর্তৃপকে অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তার বাবা তাকে বাথরুমে আটক করে রেখেছেন। মেহেমের বয়স যখন মাত্র ১১ বছর, তখন থেকেই বাবা তাকে বাথরুমে আটকে রাখতেন। কখনো কখনো মোটা লাঠি ও ধাতব তার দিয়ে তাকে মারা হতো। তিনি মেহেমকে স্কুলে যেতে দিতেন না, এমনকি তার মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দিতেন না। তার বাবার সঙ্গে মায়ের ইতিমধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। ভয়েস অব প্যালেস্টাইনকে দেওয়া সাাৎকারে মেহেম জানান, বাবাই তার চুল ও ভ্রূ কেটে দিতেন। মাসে মাত্র একবার তাকে গোসল করতে দিতেন এবং প্রতিদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার জন্য রাত একটা থেকে রাত চারটা পর্যন্ত তাকে বাথরুম থেকে বের করতেন। বাথরুমটি ছোট্ট একটি খোপের মতো। এটি লম্বায় মাত্র এক মিটার আর চওড়ায় অর্ধমিটার। বললেন, সমাজকর্মী হালা শ্রেইম। মেহেমের বাবা তাকে প্রায়ই আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করতেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। মেহেমের বাবা জš§সূত্রে একজন ইসরাইলের নাগরিক। মেহেমকে উদ্ধারের পর পুলিশ তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইল কর্তৃপরে কাছে হস্তান্তর করেছে। আর মেহেম থাকছেন মায়ের সঙ্গে।
প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

পর্নো ভিডিও ধারণ করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল!

যৌতুক আদায়ের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের বহু উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর পর্নো ভিডিও ধারণ করে যৌতুক আদায়ের চেষ্টার কথা খুব একটা শোনা যায়নি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্ত্রী নির্যাতনের এ কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করে ফেঁসে গেছেন যৌতুকলোভী এক স্বামী।
নির্যাতিত ওই নারী গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর একটি থানায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বায়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি দাবি করেন। অন্যথায়, ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর ওই নারীর (২০) সঙ্গে মোহাম্মদ বায়াসের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি যৌতুক নেন বায়াস। বেকার বায়াস পরে ওই গয়নাগুলো বিক্রি করে দেন। কিছুদিন আগে ওই তরুণী মাথা ব্যথার কথা বললে স্বামী বায়াস তাঁকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর তিনি অচেতন হলে বায়াস তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এ সময় তাঁর ভিডিওচিত্র ধারণ করেন বায়াস।
মামলার এজাহার থেকে আরও জানা যায়, আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণের পর থেকেই তাঁর স্বামী তাঁকে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অন্যথায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু ওই তরুণী যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বায়াস তাঁকে ঘরে আটকে রাখতেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে ভাইয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়েও বায়াস যৌতুক দাবি করেন।
এ ব্যাপারে রামান্নাথাপুরাম থানা পুলিশের পরিদর্শক মুনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছি।’ প্রথম আলো

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ভাবীকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে জুয়েল

সাতক্ষীরা শহরের দুর্ধর্ষ নারীখাদক সদ্যবিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ জুয়েল হাসানের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তারই আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী (৩০)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার গৃহবধূ। ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এই গুণধর ছাত্রনেতা। এ ঘটনায় ভাবী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর গ্রামের শেখ জুয়েল হাসানের বড় ভাই বিগত ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নারী খাদক জুয়েল হাসান সকাল ১০টার দিকে বড় ভাবীর ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ভাবী তার ইজ্জত রক্ষার জন্য তার কাছে মিনতি করে বার বার। কিন্তু এতে তার মন গলেনি। এক পর্যায়ে তার ভাবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারপিট করে জখম করেন। ভাবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই জুয়েল হাসান পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভাবী বাদী হয়ে দেবর ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসানকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(৪)(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৪, তাং ২২.১০.১০ ইং। এ মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই কামাল হোসেন রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ প্রচেষ্টার মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন। এই ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায়।

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

মিশরে সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ

undefined
মিশরের সামরিক জেলে মেয়েদের সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কায়রোর এক প্রশাসনিক আদালত। সামিরা ইব্রাহিম নামের এক মানবাধিকার কর্মীর দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার এই রায় দেয়া হয়। সামিরা গত এপ্রিল মাসে তাহরীর স্কয়ারের এক প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হলে সামরিক কারাগারে তাকে জোর করে সতীত্ব পরীক্ষা করানোর অভিযোগে এই মামলাটি করেছিলেন।  মিশরের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে এরকম আরও অনেক পরীক্ষা সেনাবাহিনী করে থাকে। আদালতের প্রধান আলী ফিকরি তার রায়ে সামরিক কারাগারে সতীত্ব পরীক্ষা বন্ধ করতে নির্দেশ দিলে আদালত কক্ষে উপস্থিত অনেকেই আনন্দে চিৎকার করে উঠে।mzamin

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১১

কোম্পানীগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে: কোম্পানীগঞ্জের চর কচ্চপিয়া গ্রামের খাল পাড়ের একটি ধানক্ষেতে গতকাল পিংকি আক্তার (১২) নামের এক বালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। পুলিশ বালিকাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. রনিকে আটক করেছে।
নিহত বালিকার পিতা আবু ইউসুফ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বাড়ির নিহত শিশু পিংকি আক্তারকে ক্ষেতে পাঠানো হয়। ধান ক্ষেতে বিলের মধ্যে পিংকিকে একা পেয়ে বখাটে রনি ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর হত্যা করে তার লাশ পাশের খালে ফেলে যায়। বালিকার পিতা মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি করে খালের মধ্যে তার লাশ দেখে চিৎকার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মো. মিজানের পুত্র বখাটে রনিকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

 চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা

বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পরও পরস্পর দেখা করায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়া গ্রামে দুই নারী-পুরুষের মাথার চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই নারী কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
এদিকে দুজনকে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার একটি দল গতকাল ওই গ্রাম পরিদর্শন করে। তারা ওই তরুণীকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তরুণীর মা এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। ভোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল আহম্মদ বলেন, ‘তাঁরা অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু যেভাবে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা খুবই লজ্জাজনক।’
জানা যায়, তিন মাস আগে ওই দুজনে বিয়ে করেন। কিন্তু গত ১৫ দিন আগে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপরও তাঁরা বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন।
গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত রোববার ভোলপাড়া গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় গ্রামের কিছু লোক তাঁদের আটক করেন। এরপর রাতে স্থানীয় নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুর রহমানের বাড়িতে সালিস বসে। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের চুল কাটা হয়। এরপর চুন আর পোড়া মবিল লাগিয়ে ঘোরানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করে ওই তরুণী মামলা করেছেন।

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

গরু চুরির অভিযোগে এবার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর!

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গরু চুরির অভিযোগ তুলে এবার এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে দুই দফা মারধর করা হয়েছে। উপজেলার রাঙ্গাবালি ইউনিয়নে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূ এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকি ৎসাধীন রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম ফাতেমা বেগম (২৬)। তিনি রাঙ্গাবালি ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের মো. শহীদুল লাহারির স্ত্রী।
নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গাবালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গলাচিপা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমা বেগম তাঁর ভাই মো. সাইদুল ইসলামের কাছে ৩৫ হাজার টাকা পান। সাইদুল পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছে দুটি গরু বন্ধক রাখেন। ২১ নভেম্বর বিকেল চারটায় ফাতেমা ওই গরু নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
ওই সময় ছোটবাইশদিয়া ইউপির সদস্য মো. আনিসুজ্জামান চতলাখালী গ্রামের রাস্তায় ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে মারধর করেন। ২২ নভেম্বর দুপুরে ফাতেমাকে রাঙ্গাবালি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে বাহেরচর বাজারের চৌরাস্তায় ২২ নভেম্বর সালিস বৈঠক হয়। এতে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামানসহ ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গরু চুরির অপরাধে নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান, জাকির হোসেন এবং একজন গ্রামপুলিশ ফাতেমাকে মারধর করেন।
ফাতেমা অভিযোগ করেন, গরু চুরির সাজানো অভিযোগ এনে গত ২৩ নভেম্বর রাঙ্গাবালি থানায় সুজন দাসকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। পরদিন ওই মামলায় তাঁকে (ফাতেমা) গ্রেপ্তার দেখিয়ে গলাচিপায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে জামিন দিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকি ৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ফাতেমার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
ফাতেমাকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালির ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২২ নভেম্বর বিকেলে আনিসুজ্জামান ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাঁকে রাঙ্গাবালি থানায় সোপর্দ করেছি।’
ইউপি সদস্য আনিসুজ্জামান দাবি করেন, কয়েকজন গ্রামবাসী ফাতেমাকে গরুসহ ধরে তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি গরু দুটি তাঁর জিম্মায় রেখে ফাতেমাকে ছেড়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙ্গাবালি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ফাতেমা ও তাঁর স্বামীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি কখনো খারাপ কিছু শোনেননি।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

পাষণ্ড পিতা!

 পাষণ্ড এক পিতাকে নিয়ে জার্মানিতে তোলপাড় চলছে। ৬৯ বছর বয়সী ওই পিতার নাম অ্যাডলফ বি। তাকে জার্মানির জোসেফ ফ্রিটজলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। কেউ কেউ তার নামে থু-থু ছিটাচ্ছেন। এর কারণ অ্যাডলফ বি অমানুষের মতো নিজের কন্যাকে ৩৪ বছর যাবৎ ধর্ষণ করেছে। এর ফলে ওই কন্যা তিনটি সন্তানের মা হয়েছেন। এতটা সময় অ্যাডলফ বি তার পুরো পরিবারকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। সব ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়ির মাটির নিচে অন্ধকার বাঙ্কারে। সেখানে দিনের পর দিন সে তার মেয়ের সঙ্গে এ অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছে। অ্যাডলফ বি’র রয়েছে স্ত্রী, সন্তান। কিন্তু দীর্ঘদিন সে মাটির নিচে প্রকোষ্ঠে আটকিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রেখেছে। যে মেয়ের সঙ্গে সে এই সম্পর্ক গড়েছে তার এখন বয়স ৪৬ বছর। এ ঘটনা এক পর্যায়ে চলে যায় পুলিশের কানে। পুলিশ জার্মানির উইলমার্সব্যাচ গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে ওই পরিবারের সবাইকে। এ সময় অ্যাডলফ বি’র ওই মেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার বয়স যখন ১২ বছর তখন থেকেই তার পিতা তাকে ধর্ষণ শুরু করে। তা অব্যাহত থাকে গত ৩৪টি বছর। তিনি মা, ভাই-বোনের সঙ্গে ওই একই বাড়িতে অবস্থান করতেন। সেখানে পরিবারের সবাইকে প্রহার করা হতো। তাদের ভয় দেখানো হতো। নুরেমবার্গ-ফুর্ট আঞ্চলিক আদালতে এক প্রসিকিউটর বলেছেন, অ্যাডলফ বি’র ওই কন্যা তার পিতার কারণে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি সন্তান শৈশবেই মারা গিয়েছে। অন্য একটি সন্তান সমপ্রতি মারা গিয়েছে। তৃতীয় সন্তানটি এখনও বেঁচে আছে। এসব অভিযোগে গতকাল জার্মানির স্থানীয় সময় সকালে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয় অ্যাডলফ বি’কে। এ সময় তার আইনজীবী আদালতকে বলেন, তার কন্যা পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তা ছিল দু’জনের সমঝোতার ভিত্তিতে। জার্মানির আইন অনুযায়ী অ্যাডলফ বি যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে জেল অথবা জরিমানা করা হতে পারে। এ বিচার চলবে আগামী ৬ দিন। এ সময়ে ২৪ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেয়া হবে। মানবজমিন ডেস্ক:

শারীরিক সম্পর্কহীন দাম্পত্য, স্বামীকে ১০,০০০ ইউরো জরিমানা

 বিয়ে করেছেন অথচ স্ত্রীর সঙ্গে বছরের পর বছর কোন শারীরিক সম্পর্ক নেই! এমন অভিযোগে এবার ফ্রান্সের একটি আদালত এক ব্যক্তিকে ১০,০০০ ইউরো জরিমানা করেছে। ওই জরিমানার অর্থ তুলে দেয়া হবে তার স্ত্রীর হাতে। এ অর্থ তার ক্ষতিপূরণের জন্য। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে আরও বলা হয়েছে, ওই দম্পতির ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। বর্তমানে তাদের বয়স দু’জনেরই ৫১ বছর করে। কিন্তু বিচ্ছেদের আগে স্ত্রীর প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি ওই স্বামী। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার রায় হয়েছে গত মে মাসে। কিন্তু তা এতদিন গোপন ছিল। মঙ্গলবার তা প্রকাশ করে দিয়েছে গেজেট দু প্যারাইস জুডিশিয়াল রিভিউ। তাতে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আইক্সয়েন প্রভিন্স শহরের একটি আপিল আদালত আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। তাতে বলা হয়, বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না রাখায় ওই স্বামীকে ওই জরিমানা করা হলো। আদালত তার রায়ে বলেছেন, তার স্ত্রী শারীরিক সম্পর্কহীন সংসার করেছেন। এতে তিনি মানসিকভাবে যে যন্ত্রণা ভোগ করেছেন তার তিনি ক্ষতিপূরণ পেতেই পারেন। তার দাবি বৈধ। বিবাহিত দম্পতির মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক থাকাটাই বিধান। এ দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি মানুষের অবশ্যই কর্তব্য। তবে আদালতে ওই স্বামী দাবি করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘ সময় কাজ করতেন। এতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত থাকতেন। তাই তিনি স্ত্রীর চাহিদার দিকে মোটেও খেয়াল দিতে পারতেন না। তার এ দাবি আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত রায়ে বলেছে, তারা ওই ব্যক্তির শরীরে এমন কোন সমস্যা খুঁজে পায়নি, যার জন্য তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।

মানবজমিন ডেস্ক:

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। মেয়ের ভবিষ্যৎ আর লোকলজ্জার ভয়ে এ খবর কাউকেই জানাননি মা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেছেন, বাপমরা মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটা বাসায় ভাড়া থাকি। মামলা করলে এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে। ওর বিয়ে হবে না। তখন ওর কি হবে? এটা জানাজানি হলে আমাকেও এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না। আমার স্বামী নেই। মেয়েকে নিয়ে তখন কোথায় যাবো? তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের এমন কোন খবর থানায় আসেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী রেজিস্ট্রার নথিতে ধর্ষণজনিত কেস বলে উল্লেখ আছে। দুপুরে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী দু’জন মহিলা চিকিৎসক জানান, প্রাথমিক আলামতে এটিকে ধর্ষণ বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। তবুও টেস্ট করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা নার্স জানিয়েছেন, সে এখনও স্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যেই বমি করছে। দুপুরে মুন্নির সঙ্গে কথার বলার সময়ও একবার বমি করে। তার চোখ-নাক-মুখ ফোলা ছিল। কথা বলার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
গতকাল চিকিৎসাধীন মুন্নির কাছে ঘটনার বর্ণনা জানতে চাওয়া হয়। মুন্নি চোখ বন্ধ করে আধো আধো কণ্ঠে জানায়, সে রামপুরার ম্যাগ স্টার গার্মেন্টসে কাজ করে। রোববার বিকাল ৫টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে বান্ধবী কল্পনার সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। তারা আফতাবনগরে ঘুরতে যায়। সেখানে দু’টি ছেলে তাদের পিছু নেয়। ঘোরাঘুরি শেষে তারা হেঁটে ১৯৬ নম্বর পাকা মসজিদের বাসার দিকে ফিরছিল। তখন রাত ৮টা। হঠাৎ করে ওই দু’টি ছেলে তাদের পেছন থেকে হাত ধরে মুখ ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী মহানগর প্রজেক্ট মাঠের কোনায় নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই দু’জনের সঙ্গে মুন্নিকে দৈহিক অপকর্মে লিপ্ত হতে বলে। না হলে ১০ হাজার টাকা চায়। মুন্নি টাকা দিতে রাজি হলে তার মাকে ফোন করতে বলে। কিন্তু তারা ফোন না দিয়ে তার মুখ ছাপিয়ে ধর্ষণ করে। এক সময় মুন্নি নিস্তেজ হয়ে এলে উঠে যায় ধর্ষণকারীরা। সে জানায়, কল্পনাকেও হয়তো একইভাবে অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ শেষে ওই যুবকরা তাদের হাতে ১০ টাকা দিয়ে রিকশায় করে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই মুন্নি প্রজেক্ট মাঠের অনতিদূরের একটি বাজারে আসে তার মাকে ফোন করার জন্য। এ সময় পূর্বপরিচিত এক যুবককে পেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। কয়েক যুবক মিলে ধাওয়া করলে দেখতে পায়, ধর্ষণকারীদের একজন তাদেরই কারও ছোট ভাই। ফিরে এসে ‘পরে এর বিচার হবে, এ ঘটনা কাউকে যেন না জানায়’ বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ফাতেমা বেগম জানান, রাত ১০টার দিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় মুন্নি ঘরে ফেরে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই মেঝেতে পড়ে যায়। বলেন ‘আমার সব শেষ’। এরপর তার রক্তক্ষরণ দেখে বুঝতে পারে পরের ঘটনা। মুন্নি জানায়, তাদের দু’জনকে ‘হেরোইনচি’র  মতো লাগছিল। তাদের সে এর আগে দেখেনি।
রমাপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। থানায় এখনও এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

সাবেক স্ত্রীকে বিব্রত করতে গিয়ে জেলে

চুয়াডাঙ্গায় নিজের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মাসুদ রেজা ওরফে টোকন (২৭) নামে এক তরুণকে আটক করেছে। সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুদকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রেজা আগের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে হরিরামপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের পরিণতি বিয়ে পর্যন্তও গড়ায়। তবে সে বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। বিষয়টি স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে জানাজানি হলে চার মাসের মাথায় মেয়েটির পরিবারের ইচ্ছায় তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতিশোধ নিতে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখা বৈবাহিক জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে একের পর এক ফোন দেন মাসুদ।
মেয়েটির বাবা পুরো ঘটনা জেলার পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমানকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাসুদকে আটক করে। তাঁকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা সোমবার রাতে দামুড়হুদা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন। মাসুদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে হাকিম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

ডেমি মুর ওজন হারিয়েছেন ৯৮ পাউন্ড

বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী অ্যাস্টন কুচারের বিশ্বাসঘাতকতায় নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন হলিউডি অভিনেত্রী ডেমি মুর। ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড়ঝাপ্টা এবার তার স্বাস্থ্যহানীর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ৯৮ পাউন্ড ওজন হারানোয় অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছেন ৪৯ বছর বয়সী এই তারকা। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র।

সম্প্রতি নিজের ৪৯ তম জন্মদিন পালন করা এই তারকাকে দেখা গেছে প্রচণ্ড রকমের ফ্যাকাসে এবং শুকিয়ে যাওয়া অবস্থায়। এই সপ্তাহেই লস এঞ্জেলসের একটি বিউটি সেলুন থেকে বের হওয়ার সময় তাকে এই অবস্থায় দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ডেমির স্বামী অভিনেতা অ্যাস্টন কুচার এ বছরের সেপ্টম্বরে তাদের বিয়েবার্ষিকীর দিনে ২৩ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে ধোঁকা দেওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই ডেমি-কুচার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিলো। একটা সময়ে এই জুটির বিয়ে বিচ্ছেদের গুজবেও ছেয়ে যায় পুরো হলিউড।

তবে এতকিছুর পরও নিজের ৪৯তম জন্মদিনটি বেশ ধুমধামের সঙ্গেই পালন করেছেন ‘এ ফিউ গুড মেন’খ্যাত এই অভিনেত্রী। জন্মদিনে একটি ছোট্ট বানরকে কোলে নিয়ে নিজের বেশ কিছু হাস্যোজ্জ্বল ছবিও তিনি পোস্ট করেছেন টুইটারে।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১১

 ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ - গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ইছাদীঘি গ্রামের ডাবাইলপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আম্বিয়া খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আম্বিয়ার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী লিটন মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা আম্বিয়াকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেন। পরে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেন।
লিটনসহ তিনজনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন আম্বিয়ার বাবা আমিনুল ইসলাম। আমিনুল বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ইছাদীঘি গ্রামের আরিফুল ইসলামের সঙ্গে আম্বিয়ার বিয়ে হয়। সুখেই কাটছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী লিটন মাঝেমধ্যে আম্বিয়াকে উত্ত্যক্ত করতেন।
সখীপুর থানার পুলিশ ও আম্বিয়ার পরিবারের ভাষ্যমতে, ৮ নভেম্বর লিটন, তাঁর বন্ধু সাইফুল ও রুবেল আম্বিয়াকে অপহরণ করেন। পরে লিটন ইছাদীঘি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করে আম্বিয়াকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন এবং আম্বিয়ার সন্ধান করতে বারণ করেন। রফিকুল বিষয়টি আম্বিয়ার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে বাবার বাড়ির সামনে কাঁঠালগাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আম্বিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আম্বিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
আম্বিয়ার বাবা আমিনুল বলেন, ‘লিটন আমার মেয়ের সর্বনাশ করে হত্যা করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আম্বিয়ার স্বামী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। হঠাৎ করেই শুনি, আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পরে শ্বশুরবাড়ির পাশে লাশ পাওয়া যায়।’
এ ব্যাপারে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝুলন্ত লাশ দেখে মনে হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তা ছাড়া অপহরণকারীরা মুঠোফোনে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে বলেও লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি।’
আম্বিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে ধর্ষণের পর হত্যা লেখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বোঝা যাবে আসল রহস্য। তার পরও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ মেয়েটিকে তিন দিন আগেই দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছিল।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১

ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগী গত শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ঢাকার সাভারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।
এ অভিযোগ এনে ওই শিক্ষিকা গতকাল মঙ্গলবার সাভার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। ধর্ষণের পর ওই দুর্বৃত্তরা শিক্ষিকার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুটে নেয়। ওই শিক্ষিকা বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষিকা বলেন, গত শনিবার বিদ্যালয়ের কাজে তিনি ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি গাবতলী থেকে ভিলেজ লাইন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে তাঁর পাশে গিয়ে বসেন অপরিচিত এক লোক। বাসটি সাভারের দিকে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওই লোকটি নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই লোকটি তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বলেন।
শিক্ষিকা নিজের পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তির কথার প্রতিবাদ করলে লোকটি তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন। শিক্ষিকা ভয়ে লোকটির কথামতো সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। এর পর ওই লোকটি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে লোকটি তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে যান আরও এক ব্যক্তি। তিনিও তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই দুই দুর্বৃত্ত শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেন।
ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষিকা প্রথম আলোকে বলেন, চলন্ত বাসে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই প্রতারকের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তাঁর বাগিবতণ্ডা চলার সময়ে বাসের অন্য যাত্রীরা তাঁকে কোনো সহায়তা করেননি। যাত্রীদের সহায়তা না পেয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের (রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই প্রতারক তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়ে তিনি ওই প্রতারকের কথামতো বাস থেকে নেমে হোটেলে যান।
শিক্ষিকা বলেন, আকস্মিক ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর পুলিশ ভাইকে বিষয়টি জানালে তাঁর পরামর্শে গতকাল তিনি সাভার থানায় মামলা করতে যান।
ওই শিক্ষিকা বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি সাভার থানায় গিয়ে থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেনকে জানান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে তাঁর কক্ষে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোর এ প্রতিবেদক সাভার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। ওসি ঘটনা শুনে শিক্ষিকার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ওই এসআই আবুল হোসেনকে।
দুপুর পৌনে একটার দিকে এসআই আবুল হোসেন বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষিকাকে নিয়ে ওই হোটেলে যান। পুলিশ হোটেলের মালিক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই আবদুস ছালাম ও ভগ্নিপতি ফরিদ আহাম্মেদকে আটক করেন। ছালামকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ফরিদকে থানায় নিয়ে যান। এর আগেই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন পালিয়ে যান।
আবদুস ছালাম নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের হোটেলে এসেছিলেন।
সাভার থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে মামলা করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১১

এবার শাইনির বিরুদ্ধে শায়লির যৌন হয়রানির মামলা

undefinedবলিউডি অভিনেতা শাইনি আহুজা বিপাকে পড়লেন আরো একবার। ধর্ষণের অভিযোগে ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই অভিনেতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি আরেকটি যৌন হয়রানির মামলা করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শায়লি ভগত। খবর এনডিটিভি’র।

শাইনি আহুজার মুক্তি প্রতিক্ষীত ‘ঘোস্ট’ ছবিতে তার সহ-অভিনেত্রী শায়লির অভিযোগ, ছবির শুটিং চলাকালে বিভিন্ন সময় শাইনির অশালীন ব্যবহারের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও শাইনি অভিনয়ের সুযোগ নিয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করেছন বলেও তিনি অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগ দায়ের করে শিগগিরই তিনি মুম্বাইয়ের মালাড় পুলিশ স্টেশনে মামলা করতে যাচ্ছেন।

এদিকে শায়লি দাবী করেছেন, শাইনির এসব কুকীর্তি একটি সাক্ষাৎকারে ফাঁস করে দেওয়ার পর থেকে তাকে এসএমএস-এর মাধ্যমে অনবরত এসব কিছুকে অস্বীকারের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন শাইনির স্ত্রী অনুপম। আর তাই অনুপমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়েরের পরিকল্পনা আঁটছেন শায়লি।

উল্লেখ্য, গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণের মামলায় দোষী প্রমাণিত হয়ে চলতি বছরের শুরুতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন শাইনি। বর্তমানে বোম্বে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনে কারাগারের বাইরে আছেন তিনি।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons