প্রতারক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতারক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

সাবেক স্ত্রীকে বিব্রত করতে গিয়ে জেলে

চুয়াডাঙ্গায় নিজের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মাসুদ রেজা ওরফে টোকন (২৭) নামে এক তরুণকে আটক করেছে। সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুদকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রেজা আগের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে হরিরামপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের পরিণতি বিয়ে পর্যন্তও গড়ায়। তবে সে বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। বিষয়টি স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে জানাজানি হলে চার মাসের মাথায় মেয়েটির পরিবারের ইচ্ছায় তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতিশোধ নিতে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখা বৈবাহিক জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে একের পর এক ফোন দেন মাসুদ।
মেয়েটির বাবা পুরো ঘটনা জেলার পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমানকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাসুদকে আটক করে। তাঁকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা সোমবার রাতে দামুড়হুদা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন। মাসুদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে হাকিম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

সাধুরা উধাও!

‘আমরা বাবা লোকনাথের ভক্ত। লোকনাথ তোর স্বর্ণালংকার দেখতে চান। না দেখালে তোর ও তোর স্বামীর মহা বিপদ আসন্ন।’ সাধুবেশী দুই প্রতারকের এমন কথায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার তাদের হাতে তুলে দেন গৃহবধূ সুমিত রানী রবি দাস। এবার সাধুরা বলল, ‘চোখ বন্ধ কর; না বলা পর্যন্ত খুলবি না।’ গৃহবধূ চোখ বন্ধ করলেন। এই ফাঁকে প্রতারকেরা স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট। একসময় চোখ খুলে গৃহবধূ দেখেন, সাধুরা উধাও! গতকাল সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের হরিজনপল্লিতে। সুমিত রানী বলেন, ‘স্বামী রঞ্জিত রবি দাসের বিপদ হবে শুনে স্বর্ণালংকারগুলো এনে দিয়েছিলাম।’ নিজস্ব প্রতিবেদক, ভৈরব প্রথম আলো   

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

স্ত্রীকে বিক্রি!


বিয়ের তিন দিন পর মেয়েটি (২২) জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের ঝগড়া হয়। পরে মেয়েটিকে মাদারীপুরের যৌনপল্লিতে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন প্রতারক স্বামী।
খবর পেয়ে র‌্যাব-৮-এর সদস্যরা গত রোববার মেয়েটিকে মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার যৌনপল্লির সামনে থেকে উদ্ধার করেন; গ্রেপ্তার করেন প্রতারক স্বামী আবদুল আজিজ সরদারকে (৩৮)। আজিজকে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মেয়েটিকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
মেয়েটির বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। আজিজের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামে।
উদ্ধার হওয়া মেয়ে ও তাঁর স্বামীর ভাষ্যমতে, প্রায় এক বছর আগে শ্রীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গেলে আজিজের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন দিন পর মেয়েটি জানতে পারেন, আজিজের আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। এরপর দুজনের ঝগড়াঝাঁটি হলে আজিজ মাদারীপুরে চলে আসেন। গত শুক্রবার আজিজ শ্রীপুর গিয়ে স্ত্রীকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মাদারীপুরের পুরানবাজার এলাকার যৌনপল্লিতে নিয়ে আসেন।
উদ্ধারের পর মেয়েটি সাংবাদিকদের বলেন, মাদারীপুরে বোনের বাসায় রাখার কথা বলে আজিজ তাঁকে যৌনপল্লির সর্দারনি সুরমা বেগমের কাছে রেখে যান। পরদিন শনিবার তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে যৌনপল্লিতে রাখা হয়েছে। তখনই স্বামীকে অনুরোধ করেন, তাঁকে সেখান থেকে আজিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে। কিন্তু আজিজ তাঁকে জানান, ১০ হাজার টাকায় তাঁকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে খারাপ কাজ করতে হবে।
প্রচণ্ড দুঃখে শনিবার সারা রাত মেয়েটি কান্নাকাটি করেন। রোববার সকালে মেয়েটির ছবি তুলে যৌনপল্লির লোকজন; এবং মেয়েটি যে স্বেচ্ছায় যৌনবৃত্তিতে নেমেছেন, এ জন্য তাঁর কাছ থেকে জোর করে হলফনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সিরাজুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি হলফনামায় স্বাক্ষর করতে না চাইলে তাঁকে মারধর করতে থাকে যৌনপল্লির লোকজন। খবর পেয়ে র‌্যাব-৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল মেয়েটিকে উদ্ধার ও নারী পাচারকারী আবদুল আজিজ সরদারকে গ্রেপ্তার করে।
তবে যৌনপল্লির অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করেনি র‌্যাব। আজিজ র‌্যাব ও সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার স্ত্রীকে বিক্রি করেছি। তবে সর্দারনি সুরমা আমাকে মাত্র ৭০০ টাকা দিয়েছেন। স্ত্রীকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে ভুল করেছি। কাজটি করা ঠিক হয়নি।’
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া মেয়েটি তাঁর স্বামী আজিজের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আজিজকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রথম আলো

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১১

 মাটিতে পুঁতে চিকিৎ সা!

রাহেলা বেগমকে গাছের ছাল খাওয়াচ্ছেন কথিত কবিরাজ সাইদুর রহমান

রাহেলা বেগমকে গাছের ছাল খাওয়াচ্ছেন কথিত কবিরাজ সাইদুর রহমান

ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত একজন বৃদ্ধাকে চিকিৎ সার নামে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কোমর-পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখেন কথিত কবিরাজ সাইদুর রহমান দেওয়ান। বৃদ্ধাকে সুস্থ করে তুলতে পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিমও নিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার সাইদুরের বাড়ি গোপালপুর গ্রামে এই চিকিৎ সা (!) চলে।
বাগমারা থানার পুলিশ খবর পেয়ে সাইদুরকে থানায় ডেকে পাঠায়। সাইদুর আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে পুলিশের কাছে তওবা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাহিরএকডালা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৭২) প্রায় তিন মাস আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎ সা নিয়ে সুস্থ না হওয়ায় আফাজ একই উপজেলার গোপালপুরে কথিত কবিরাজ সাইদুরের কাছে পরামর্শ নিতে যান। আফাজ জানান, সাইদুর তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ করে দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে তিনি সম্মত হয়ে গতকাল সকালে স্ত্রীকে নিয়ে সাইদুরের বাড়িতে যান। সাইদুর তাঁর বাড়ির উঠানে গর্ত করে রাহেলাকে সকাল নয়টার দিকে সেখানে নামিয়ে দেন। মাটি দিয়ে রাহেলার কোমর-পর্যন্ত পুঁতে ফেলা হয়। সাইদুর মাঝেমধ্যে ঝাড়-ফুঁক ও কিছু গাছের ছাল খেতে দেন রাহেলাকে। এভাবে রাহেলাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ওই গর্তে রাখা হয়। বেলা দুইটার দিকে গর্ত থেকে অসুস্থ অবস্থায় রাহেলাকে তুলে আনা হয়।
আফাজ জানান, সাইদুরকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। রাহেলা সুস্থ হলে আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।
সাইদুর দাবি করেন, ‘এই চিকিৎ সায় রাহেলা সুস্থ হবেন।’ এর বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা পাবেন বলেও স্বীকার করেন সাইদুর। তিনি দাবি করেন, ৩৪ বছর ধরে এই চিকিৎ সা দিয়ে আসছেন। ভারতের এক কবিরাজসহ তাঁর ৩২ জন ওস্তাদের কাছ থেকে এ চিকিৎ সা শিখেছেন।
পাঁচ ঘণ্টা ধরে চিকিৎ সার (!) পরও রাহেলা সুস্থ হলেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় লাগবে। আরও চিকিৎ সা দিতে হবে।’
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা কোনো চিকিৎ সা পদ্ধতি নয়। কথিত ওই কবিরাজের শাস্তি হওয়া উচিত।’ বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, সাইদুর আর এমন কাজ করবেন না বলে তওবা করেছেন। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১১

অনুমতিপত্রের আড়ালে অবৈধভাবে গাছ কর্তন!

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার আতিয়াবাগ চা-বাগানে বেশকিছু দিন ধরে পরিপূর্ণ গাছকর্তনের নামে অবাধে ছ� মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার আতিয়াবাগ চা-বাগানে বেশকিছু দিন ধরে পরিপূর্ণ গাছকর্তনের নামে অবাধে ছোট আকারের গাছকর্তন চলছে। গতকাল দুপুরে ছবিটি তুলেছেন কল্যাণ প্রসূন
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার আতিয়াবাগ চা-বাগানে বন বিভাগের অনুমতিপত্রের আড়ালে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন জাতের বনজ গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিয়াবাগ চা-বাগান ধামাই টি এস্টেট কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকায়। জুড়ীর পশ্চিম জুড়ী ও পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নে আতিয়াবাগসহ পাশাপাশি ধামাই ও সোনারুপা নামের ওই প্রতিষ্ঠানের আরও দুটি চা-বাগান আছে।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর আতিয়াবাগ চা-বাগানের সাবেক ব্যবস্থাপক গোপাল কুমার সিকদার (বর্তমানে ধামাইয়ের ব্যবস্থাপক) চায়ের আবাদ সম্প্রসারণের কারণ উল্লেখ করে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কেনা প্রায় ৫৩ একর জায়গা (ইজারাবহির্ভূত) থেকে পরিপক্ব বিভিন্ন জাতের বনজ দুই হাজার ৫২০টি গাছ কাটার অনুমতি পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল সিলেটের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. দেলোয়ার হোসেন উল্লিখিত জায়গা থেকে দুই হাজার ৩২টি গাছ কাটতে বাগানের ব্যবস্থাপককে লিখিত অনুমতি দেন।
অনুমতিপত্রের শর্তে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চিহ্নিত (মার্কিং) করা গাছ কর্তন ও স্থানান্তর করতে হবে। চিহ্নিত তালিকা অনুযায়ী তিন ফুট বেড়ের কম পরিমাপের ৪৮৮টি গাছ কাটা যাবে না। কাটার পর গোড়ায় গাছ থাকা অবস্থায় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘পাস মার্কা’ করতে হবে।
সূত্র জানায়, পরে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রায় এক কোটি টাকায় ওই গাছগুলো শ্রীমঙ্গলের কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর কাছে বিক্রি করে দেয়। কিবরিয়ার নিয়োজিত শ্রমিকেরা মাস দু-এক ধরে সেখানে গাছ কাটছেন।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চা-বাগানের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গর্জন, কড়ই, একাশিয়া, চাপালিশসহ বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনুমতিপত্রে উল্লিখিত তিন ফুট বেড়ের চেয়ে কম মাপের গাছও আছে। কাটা গাছের কোনোটিরই গোড়ায় বন বিভাগের পাস মার্কা নেই। স্থানীয় একটি ডিপোতে কয়েক হাজার গাছের টুকরা স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে অনুমতিপত্রের আড়ালে এ কাজটি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মুমিত, ইউএনও মনীষ চাকমা, জুড়ী-১ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তারসহ ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত শনিবার (১৫ জুলাই) এবং সোমবার (১৮ জুলাই) আতিয়াবাগে গিয়ে গাছ কাটা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ইউএনও মনীষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমতিপত্রে যে এলাকা থেকে গাছ কাটার কথা বলা হয়েছে, সেখানে ৫০০টির বেশি পরিপক্ব গাছ নেই। ইজারাভুক্ত অংশ থেকে অবৈধভাবে বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছ কাটা ও পরিবহন বন্ধ করতে বাগান কর্তৃপক্ষ ও কাঠ ব্যবসায়ীর লোকজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।
তিনি জানান, গাছ কাটার সময় জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানায়নি।
আতিয়াবাগ চা-বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, গাছ কাটার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে। তিনি বন বিভাগের অনুমতিসংক্রান্ত চিঠি পাননি। সেটি না পাওয়ায় কোন কোন এলাকা থেকে গাছ কাটা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে পারেননি।
তাঁর ভাষ্যমতে, মাস দু-এক আগে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বাগানে এসে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে তাঁকে মুঠোফোনে আলাপ করান। এমডির নির্দেশে তিনি তাঁকে গাছ কাটানোর অনুমতি দেন।
জুড়ী-১ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার গত মঙ্গলবার বলেন, আতিয়াবাগের কাটার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত দুই হাজার ৩২টি গাছ চিহ্নিত (মার্কিং) করা হয়েছে বছর দু-এক আগে। তখন অন্য কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন। অবৈধভাবে কাটা গাছগুলো জব্দ করা হচ্ছে। কাটা গাছের গোড়ায় পাস মার্কা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলোও অবৈধভাবে কাটা হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তিমালিকানাধীন অথবা সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।
কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মুঠোফোনে দাবি করেন, ইজারাভুক্ত অংশ থেকে কোনো গাছ কাটা হয়নি। প্রায় ৪০ শতাংশ গাছ কাটার কাজ শেষ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
ধামাই টি এস্টেট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিয়া আসাফ আলী মুঠোফোনে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে বলে তিনি জানেন। ইজারাভুক্ত অংশ থেকে গাছ কাটার বিষয়টি তিনি ব্যবস্থাপককে দিয়ে খোঁঁজ নিয়ে দেখবেন।
সিলেটের ডিএফও মো. দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাগান ব্যবস্থাপক কেন অনুমতিপত্র পাননি, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। আর গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইজারাভুক্ত অংশ থেকে গাছ কাটলে সরকারের কোষাগারে নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব দিতে হয়।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

মুঠোফোনে আপত্তিকর ভিডিও, ছাত্রীর আত্মহনন

জোর করে তোলা আপত্তিকর ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও ঘৃণায় আত্মহত্যা করেছেন স্নাতক (সম্মান) পড়ুয়া এক গৃহবধূ।
গত সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ বরিশাল নগরের কলেজ রো লেচুশাহ সড়কের বাসা থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ ভিডিওচিত্র ধারণকারী নজরুল ইসলাম ও তাঁর খালাতো ভাই আবদুর রাজ্জাককে আটক করেছে।
আত্মহনন করা সুপর্ণা বালা (২২) বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের গণিত বিষয়ের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার লক্ষ্মীখালী গ্রামে। একই উপজেলার পুইজালা গ্রামের কামনা আশীষ মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। আশীষ একই কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষের ছাত্র। টিউশনি করে সংসার চালাতেন তিনি।
কামনা আশীষ মণ্ডল জানান, প্রেম করে তাঁরা ২০০৪ সালে বিয়ে করেন। কিন্তু উভয় পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে শহরের কলেজ রো লেচুশাহ সড়কের প্রথম গলির খান মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন এবং স্ত্রীকে বিএম কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি করে দেন। সেখানে তাঁকে সব সময় উত্ত্যক্ত করতেন সহপাঠী নজরুল। একসময় নজরুল সুপর্ণার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাঁর আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণ করেন এবং তা বিভিন্ন মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় লজ্জায়-ক্ষোভে-দুঃখে সুপর্ণা সোমবার রাতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপর্ণার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
নজরুল গতকাল বিএম কলেজে পরীক্ষা দিতে এলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ভিডিওচিত্র ধারণের কথা স্বীকার করে নজরুল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সুপর্ণার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে ২০০৯ সালে নগরের প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশুপার্কে ওই ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়। এত দিন তা তাঁর মুঠোফোনের সেটে ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে এক সহপাঠীর বাসায় বেড়াতে গেলে ওই সহপাঠী তাঁর মুঠোফোন থেকে ভিডিওচিত্র নিয়ে কলেজে ছড়িয়ে দেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপত্তিকর ভিডিওচিত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, সুপর্ণার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই ভিডিওচিত্র ধারণ করে নজরুল। পরে নজরুল ভিডিওচিত্র দিয়ে সুপর্ণাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে। ১০-১২ দিন আগে ওই ভিডিওচিত্র মুঠোফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে লজ্জায়-ক্ষোভে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করতে পারে।’
ওসি জানান, ঘটনা জানার পর ভিডিওচিত্র ধারণকারী নজরুলকে আটক করা হয়। আটক করা হয় তাঁর খালাতো ভাই আবদুর রাজ্জাককেও।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, সুপর্ণার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে অশ্লীল ভিডিওচিত্র ধারণ ও আত্মহননের প্ররোচনার মামলা হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১

ক্যানসারের চিকিৎসার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রতারণা

ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করার দাবি তাঁর। এ রোগের চিকিৎসাও দেন তিনি। সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত কোনো রোগীকে সুস্থ করতে পারেননি। রোগীপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে।
এই অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাইজিদ আলম শিবিবের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে প্রতারিত একটি পরিবার। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে প্রতারণার আরও ঘটনা পাওয়া গেছে।
বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, শিবিবের দাবি যে তিনি আধ্যাত্মিকভাবে ক্যানসারের চিকিৎসা করেন। তিনি পীর বংশের সন্তান। তাঁর মৃত চাচা স্বপ্নে এ চিকিৎসা শিখিয়েছেন।
শিবিবের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়। ১৯৯০ সালে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ছয় বছর আগে নিজেকে ক্যানসারের প্রথম চিকিৎসক বলে দাবি করতে থাকেন। একটি পত্রিকা এ বিষয়ে তাঁর সাক্ষাৎকারও ছাপে।
শিবিব প্রথম আলোকে জানান, ২০০৫ সালে ইঁদুরের ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালিয়েছিলেন, মানুষের ওপর কোনো পরীক্ষা করেননি। তিনি প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চিকিৎসা নিয়েছেন, এমন পাঁচটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবিব চিকিৎসা শুরু করেন। দাবি করেন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। অর্থ লেনদেনের কাগজ রোগীপক্ষকে দেন না। বলেন, চিকিৎসার সময় রোগীর স্বজন উপস্থিত থাকতে পারবে না। এসব শর্তে রাজি হলে আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে রোগীর চোখ বাঁধেন। নিজের আবিষ্কৃত ওষুধ খাওয়ান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় সহজেই শিবিবের কথায় অনেকে বিশ্বাস করেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী জান্নাতুল কৌশরী জানান, তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৮ সালে তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। ভারতে এবং ঢাকায় শুরু হয় চিকিৎসা। একদিন অগ্রণী ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তা শিবিবের চিকিৎসার বিষয়ে জানান। দেখা করলে শিবিব বলেন, এক মাসের মধ্যে সুস্থ করে দেবেন। নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা চান তিনি।
কৌশরী বলেন, ‘এত টাকা শুনে আমরা প্রথমে রাজি হইনি। শিবিব বারবার বলতে থাকেন, সুস্থ না হলে টাকা ফেরত দেবেন।’ ২০০৮ সালের ২৮ মে থেকে শুরু হয় চিকিৎসা।
এক মাস পর শিবিব বলেন, ক্যানসার জটিল হয়েছে। আরও এক মাস ওষুধ খাওয়াতে হবে। চান আরও সাড়ে সাত লাখ টাকা। কৌশরী বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা জমি বিক্রি করে, ব্যাংকের কাছে বাড়ি বন্ধক রেখে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা দিই। দুই মাস চিকিৎসার পর শিবিব দাবি করেন, রোগী সুস্থ হয়ে গেছে।’ কিন্তু ল্যাবএইড ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, ক্যানসার আছেই। শিবিব বলেন, ওসব পরীক্ষা ভুল। তিনি ১৫ দিন চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা চান। এভাবে রোগীপক্ষ ১৮ লাখ টাকা দিয়েছে শিবিবকে। শিবিব চিকিৎসা ও পরীক্ষার সব কাগজ নিজের কাছে রেখে দেন।
কৌশরী জানান, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হলে কাগজপত্র আনতে শিবিবের কাছে যান। কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে তিনি আবারও চিকিৎসা দিতে চান এবং বাড়তি টাকা চান। ‘একরকম বাধ্য হই আমরা,’ বলেন কৌশরী। ১৬ ফেব্রুয়ারি শিবিব ওই রোগীকে ইনজেকশন ও কিছু ওষুধ দেন। রোগীর পেট ফুলে যায়। শিবিব বেলের শরবত, স্যালাইন ও ইসবগুলের ভুসি খাওয়াতে বলেন। অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি কৌশরীর বাবা মারা যান। পুরো ঘটনা তিনি লিখিতভাবে উপাচার্যকে জানিয়েছেন।
কৌশরীর মতোই প্রতারণার শিকার বরিশাল বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী উম্মে মমতা বিল্লাহ। মমতা প্রথম আলোকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মাধ্যমে জানতে পেরে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ বাবার চিকিৎসার জন্য শিবিবের কাছে যান। সাত লাখ টাকা দাবি করে শিবিব বলেন, এক মাসে রোগী সুস্থ হবে। চোখ বেঁধে ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন। নির্ধারিত সময় মমতার বাবা সুস্থ না হলে শিবিব বাড়তি টাকা দাবি করেন। এভাবে ১১ লাখ টাকা নেন। মাস দুয়েক পরই মমতার বাবা মারা যান। মমতা বলেন, ‘আমি এই প্রতারকের বিচার চাই।’
সহকর্মী জেবা ইসলাম মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসা করান শিবিবের কাছে। চিকিৎসা নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মারা যান জেবার মা। জেবা প্রথম আলোকে জানান, চায়ের মতো একধরনের তরল পানীয় রোগীকে খাওয়াতেন শিবিব। নিজের বাসায় সম্পূর্ণ পৃথক একটি কক্ষে শিবিব এই তরল পানীয়ের মিশ্রণ তৈরি করতেন। ওষুধ খাওয়ানোর সময় শিবিবের শরীর থেকে ঘাম ঝরতে দেখা গেছে।
ঢাকা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আফরোজা সুলতানার স্বামী মো. নূর ইসলাম ছিলেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব। ২০০৮ সালের অক্টোবরে নূর ইসলামের ক্যানসার ধরা পড়ে। ভারত এবং দেশের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শিবিবের কাছে যান তিনি।
আফরোজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন লাখ টাকা নিয়ে এক মাস ওষুধ খাওয়াবেন, এমন কথা বলে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু ১০ দিন পরই তিনি অতিরিক্ত টাকা চাওয়া শুরু করেন। ২০ দিনের মধ্যে সাত লাখ টাকা নেন। অবস্থার উন্নতি হওয়ার বদলে আমার স্বামী মারা গেছেন।’ আফরোজা বলেন, তিনিও প্রতারণার বিচার চান।
ক্যানসারের চিকিৎসার নামে প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে শিবিব সব ঘটনা অস্বীকার করেছেন। প্রত্যেক রোগীর নাম ধরে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কারও চিকিৎসা করিনি। এ ছাড়া আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, এমন দলিলও কেউ দেখাতে পারবে না।’ এমনকি বিভাগের সহকর্মী জেবা ইসলামের মায়ের চিকিৎসাও করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
আনোয়ার হোসেনও নিকটাত্মীয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন শিবিবকে দিয়ে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিবিবের চিকিৎসায় কেউ ভালো হয়েছেন, এমন শুনিনি।’
যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।
আহমেদ জায়িফ
Prothom-alo.com

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

ভেজাল ঘি তৈরির দায়ে বাবা-ছেলের সাজা

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
ছবি: প্রথম আলো
পামওয়েল, ডালডা আর বিষাক্ত রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘি। নামীদামি ব্র্যান্ডের চকচকে টিনের কৌটায় তা বাজারজাতও হচ্ছে। নিজের বাড়ির ছাদে ঘি তৈরির এ কারখানা গড়ে তুলেছিলেন আবদুস সামাদ ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল। র‌্যাব ১০-এর একটি দল গতকাল ভোরে সে কারখানায় হানা দিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের সাজা দেন।
র‌্যাব সদস্যরা জানান, পুরান ঢাকার বেগমবাজারে একটি চারতলা বাড়ির মালিক আবদুস সামাদ। ঘি তৈরির কারখানা ছিল ওই বাড়িতেই। গতকাল দুপুরে ওই কারখানায় গিয়ে যায়, বাজার থেকে কেনা পামওয়েল, ডালডা ও রং গ্যাসের চুলায় জ্বাল করে তরল তৈরি করা হয়। পরে সে তরল ভরা হয় নাম করা কোম্পানির কৌটায়। ঘিয়ের ঘ্রাণের জন্য খানিকটা আসল ঘি ওপরে দেওয়া হয়। টিনের কৌটার মুখ বন্ধ করে তা তুলে দেওয়া হয় ফেরিওয়ালাদের হাতে। এই ঘি আসল ঘি বলেই বিক্রি হয় বাজারে।
ঘি কারখানার মালিক আবদুল সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কোটা ঘিয়ে লাভ থাকে ৪০ টাকা। দুই মাস ধরে তিনি এই ঘি তৈরি করছেন বলে জানান।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা প্রথম আলোকে বলেন, নাম করা ঘিয়ের কৌটায় ভেজাল ঘি বাজারজাত করে তাঁরা প্রতারণা করছিলেন। এ জন্য কারখানা মালিক সামাদকে দুই বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর ছেলে সোহেলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের উপপরিচালক মুহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে গতকাল সকালে র‌্যাব-১০-এর একটি দল লালবাগের পোস্তা এলাকায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে নকল বাল্ব, নারকেল তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি ও পাউডার তৈরির অভিযোগে কারখানার মালিক ইসমাইল হোসেনকে আটক করে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইসমাইলকে চার লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিদর্শক সাইদুর রহমান এসব অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভুয়া দলিল দিয়ে অর্থ লোপাট

ভুয়া জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখা থেকে অভিনব কায়দায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মেসার্স স্টিভেন ফ্রস্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ কর্মকাণ্ড হয়েছে।
স্টিভেন ফ্রস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হচ্ছেন জনৈক নাজমুল হক। চেক জালিয়াতির এক মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ নাজমুল হককে খুঁজছে। নাজমুল হক পালিয়ে দেশে এসে একই ব্যবসার নতুন ফন্দি আঁটছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল এসব তথ্য-উপাত্ত জনতা ব্যাংককে দিয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রথম আলোকে জানান, এই অনিয়মের খেসারত হিসেবে ব্যাংককে দু-একটি এলসির অর্থ ইতিমধ্যেই পরিশোধ করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের কিছু বিধিনিষেধ থাকায় ইরান থেকে বাংলাদেশে সরাসরি পণ্য আমদানি করা যায় না। স্টিভেন ফ্রস্ট দুবাই থেকে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। এ জন্য জনতা ব্যাংকের দুবাই শাখায় ঋণপত্র বা এলসি খুলে পণ্য এনে তারপর তা পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দরে। এই আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টিভেন ফ্রস্ট ইরান থেকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। রপ্তানিকারক পণ্য পাঠিয়ে জাহাজীকরণ দলিল দিয়েছে জনতা ব্যাংক দুবাই শাখাকে। ব্যাংকের দুবাই শাখা স্টিভেন ফ্রস্টের অনুমোদন নিয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে স্বীকৃতিপত্র (এক্সসেপটেন্স) পাঠিয়ে দিয়েছে। আবার আমদানির মূল্য না নিয়েই স্টিভেন ফ্রস্টকে জাহাজীকরণ দলিল দিয়ে দিয়েছে। স্টিভেন ফ্রস্ট তা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়ায় পণ্য খালাসও হয়ে গেছে। এতে ব্যাংককে কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।
অন্য এলসির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিয়ম অনুসারে স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার তিন মাস পর ইরানের ব্যাংক অর্থ পরিশোধের জন্য জনতা ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। জনতা ব্যাংক কোম্পানিটির কাছে টাকা চাইলে ত্রুটিপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে অর্থ পরিশোধ করেনি। ইরানের ব্যাংক দলিলটি ফেরত চাইলে স্টিভেন ফ্রস্ট কোম্পানি জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া দলিল তৈরি করে সেটি পাঠিয়ে দেয়। ভুয়া দলিলের বিষয়টি ইরানের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরানের কাছে অভিযোগ করে। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান অভিযোগটি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানালে এ নিয়ে তদন্ত করা হয়।
ভুয়া জাহাজীকরণ দলিলের বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে ব্যাংককে। তবে টাকার পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুবাই শাখায় স্টিভেন ফ্রস্টের নামে কোনো হিসাব খোলার আগেই অন্য কোম্পানির চলতি হিসাব ব্যবহার করে এলসি খোলা হয়, যা গুরুতর অনিয়ম। এসব এলসি খুলতে ব্যাংকটির ইউএই কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী শফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশনা ছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানতে পেরেছে। কিন্তু এ নির্দেশনা দেওয়ার বিধিগত ক্ষমতা তাঁর নেই।
এদিকে নাজমুল হক দুবাই থেকে পালিয়ে দেশে এসে মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত ভবন শাখা থেকে ব্যাংকিং লেনদেন চালানোর উদ্যোগ নেন। এখানে স্টিভেন ফ্রস্ট বিডি নামে সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুলে দুবাইয়ের কোম্পানির সমস্ত লেনদেন স্থানান্তরের চেষ্টা চালান নাজমুল। তবে ভবন শাখা তাতে সায় দেয়নি বলে জানা গেছে।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

বাগেরহাটে টিআরের ৬০০ বস্তা গমসহ ট্রলার আটক

বাগেরহাট শহরের মাঝিঘাট থেকে গতকাল রোববার সকালে খাদ্য অধিদফতরের টেস্ট রিলিফের (টিআর) ৬০০ বস্তা গমসহ ট্রলার আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় ট্রলারচালক সৈয়দ মোহম্মদকেও (৩৮) আটক করা হয়। আটকত্রকৃত গমের বাজার মূল্য প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার টাকা।
মংলার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের লে. কমান্ডার শহীদ জানান, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকা থেকে খাদ্য অধিদফতরের টিআরের ৬০০ বস্তা গম নিয়ে এমভি রানা রেজা নামে একটি ট্রলার নদীপথে বাগেরহাট শহরে আসছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা আগে থেকেই মাঝিঘাট এলাকায় অবস্থান নেন। রোববার সকাল সাতটার দিকে গমবোঝাই ট্রলারটি ঘাটে পৌঁছালে তাঁরা এতে অভিযান চালিয়ে খাদ্য অধিদফতরের সিলসংবলিত ৬০০ বস্তা গমসহ ওই ট্রলারের চালককে আটক করেন।
ট্রলারচালক বলেন, গত শনিবার রাত নয়টার দিকে ভান্ডারিয়া বাজারের ঘাট থেকে আলমগীর কবিরাজ নামে এক ব্যক্তি তাঁর ট্রলার ভাড়া করে বাগেরহাটের তাপস সাহার নাম লিখে ৬০০ বস্তা গম পৌঁছে দিতে বলেন। মাল বুঝে নিয়ে তাপস সাহাকে ট্রলারের ভাড়া পরিশোধ করার কথা ছিল।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

সস্তা দামের সালফার ও মাটি মিশিয়ে দস্তা সার বিক্রি

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নিম্নমানের দস্তা সার অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির চকচকে প্যাকেটে সস্তা দামের সালফার ও মাটি ভরে দস্তা সার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুধু দস্তা সারের নামেই ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করে জেলা থেকে প্রতিবছর ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক কৃষক না বুঝে এসব নিম্নমানের সার জমিতে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সার ব্যবহারের কারণে কৃষকেরা বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লোকসান গুনছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই দুই ও তিন ফসলি। এসব জমিতে উন্নত ফলনের আশায় কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ দস্তা সার ব্যবহার করছেন। ৪২টি দস্তা সার কোম্পানি স্থানীয় ৮১ পাইকারি, ৯১০ জন খুচরা সার ও কীটনাশকের ডিলারসহ বিভিন্ন মুদি দোকানের মাধ্যমে এসব সার বিক্রি করছে। যশোরের নওয়াপাড়া, ঢাকা ও স্থানীয় বেশ কিছু কোম্পানি এ সার তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত।
বাজার থেকে দস্তা সার কিনে ব্যবহারের পর আশানুরূপ ফসল উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মে মাসে বাজার থেকে দস্তা সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার মৃত্তিকাসম্পদ ইনস্টিটিউটে পাঠায়। সেখানে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ১ জুলাই চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌঁছায়।
প্রাপ্ত ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মান অনুযায়ী মনোহাইড্রেট-জাতীয়তে সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশ, হেপ্টাজাতীয়তে ২১ শতাংশ ও চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারে ১৭ শতাংশ জিংক থাকার কথা। অথচ পরীক্ষাগারের ৪৪টি সারের মধ্যে মাত্র নয়টিতে এ মানের কাছাকাছি জিংক পাওয়া গেছে। চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে এআরজেড কোম্পানির ‘জিংক’-এ কোনো জিংক পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মনোহাইড্রেট-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে জিংকটক্সে দশমিক ৪, যমুনা জিংক প্লাসে ৪, সিনো জিংকে ৪ দশমিক ৪, আর কে তাজায় ১০ দশমিক ৪, প্রাইম জিংকে ১২ দশমিক ৬, ক্রাউন মনো সুপার জিংকে ১৪ দশমিক ৮, ফিউচার জিংকে ১৫ দশমিক ৩ এবং হেপ্টাজাতীয় দস্তা সারের মধ্যে সুফলন জিংকে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ দস্তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত বছর চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল সারের একটি কারখানার সন্ধান মেলে, যেখান থেকে সারের উপকরণ হিসেবে কালো মাটি, ইটের গুঁড়া ও সালফার পাওয়া যায়।
সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরীফ উদ্দীন জানান, জমিতে দস্তার প্রয়োজন আছে কি না, তা না জেনেই কৃষকেরা বিক্রেতা ও কোম্পানির লোকের মিষ্টি কথায় সার ব্যবহার করে চলেছেন। এতে জমির উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি।’
চুয়াডাঙ্গা শহরে দস্তা সারের পাইকারি বিক্রেতা তসলিম আরিফ জানান, কোনো সার নিম্নমানের প্রমাণিত হলে সেগুলো কোম্পানিকে জানানো হবে। কোম্পানি ব্যবস্থা না নিলে নিম্নমানের সার বিক্রি করা হবে না। সেলিম ট্রেডার্সের মালিক এম এম সেলিম জানান, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির দস্তা সার বিক্রি করেন। মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, পরীক্ষায় প্রমাণিত নিম্নমানের সার বিপণন বন্ধ করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

বারাক ওবামা আততায়ীর গুলি তেঁ নিহত


মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের টুইটার অ্যাকাউন্টে হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। শুধু তাই নয়, তারা সেখানে লিখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিহত হয়েছেন। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা এই বার্তা ফক্স নিউজ চ্যানেলের টুইটারে থাকে। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে এ ঘটনা ঘটে। টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রথমে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর লেখা হয়, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই মাত্র মারা গেছেন। আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনা টের পেলে ফক্স নিউজ চ্যানেল দ্রুত তাদের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়।
কে বা কারা এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে, তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে ফক্স নিউজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য ফক্স নিউজ চ্যানেল অনেক মার্কিনির কাছে প্রিয় নয়। তাদেরই কেউ হ্যাক করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি দেখা চ্যানেলের মধ্যে ফক্স নিউজ সবার শীর্ষে। এরপর রয়েছে সিএনএন ও এমএসএনবিসি। হ্যাকার গ্রুপ লুলজসিকিউরিটি গত মে মাসে ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের ওয়েবসাইট ফক্স ডটকমে হামলা চালায়।
একটা গল্প


Read more: http://techtunes.com.bd/news/tune-id/78478/#ixzz1RJNVlMWH

ধরা!

সরকারি সফরে যাওয়ার কথা ছিল চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাগে। কিন্তু তিনি যেতে চান প্যারিসে। সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সই জাল করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পর্যন্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে সফরটিই বাতিল হয়ে যায়। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রাথমিক তদন্ত করে। এর ভিত্তিতে মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির। গত সোমবার তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের কাছে সুপারিশপত্র পাঠান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আপাতত তাঁকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ স্বীকার করে মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে জানান, তিনি বুঝতে পারেননি। ভুল হয়ে গেছে। তাঁর সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
কিন্তু নিজাম উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে চেক রিপাবলিকের কোনো দূতাবাস নেই। সে কারণে তিনি ফ্রান্সে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে প্রাগের ওই সম্মেলনে আরও একজন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, ঢাকার চেক রিপাবলিকের কনস্যুলার অফিস থেকেই ভিসা নিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৩-২৬ জুন পর্যন্ত প্রাগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাঁর এই বিদেশ সফর অনুমোদন করে ৬ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত আইরিনের স্বাক্ষর ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে প্রত্যয়নপত্রও দেয়। কিন্তু ৯ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন। এতেও সই আছে নুসরাত আইরিনের। তাতে লেখা, ২২ জুন থেকে ২৯ জুন মেয়াদে ফ্রান্সে ভ্রমণ করবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক। একই নামে তিন দিনের ব্যবধানে দুটি চিঠি আসায় খটকা লাগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। তাঁরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত আইরিন সংশোধিত কোনো প্রজ্ঞাপনে সই করেননি। তাঁর সই জাল করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজাম উদ্দিনের এই সফরের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু নিজাম উদ্দিন আর বিমানবন্দরে যাননি। নির্ধারিত দিনে বিমানবন্দরে না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানতে পারেন, তাঁর কাগজপত্র নিয়ে কিছু ঝামেলা হচ্ছে। তাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাইলেই বিদেশ যেতে পারি, কেন জালিয়াতি করব!

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

নার্সারী ওয়ার্কারের শিশু-ধর্ষণ ও ইন্টারনেটে যৌন ব্ল্যাকমেইলিং দোষ স্বীকার



Paul-Wilson-has-admitted--007.jpg
ইউকেবেঙ্গলি, ৭ জুন ২০১১, মঙ্গলবারঃ বার্মিংহ্যাম ক্রাউন কৌর্টে নার্সারী ওয়ার্কার পল উইলসন (২০) দুই বা তিন বছরের একটি মেয়ে শিশুকে মৌখিক-ধর্ষণের ২টি অভিযোগ এবং ইন্টারনেটে অশালীন ছবি বিতরণ ও ২০-এরও অধিক কিশোরীকে যৌন ক্রিয়ায় প্ররোচিত করার ৪৫টি অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
এ-বছরের জানুয়ারীতে চাইল্ড এ্যাবিউসের সন্দেহে উইলসনকে গ্রেফতার করার পর তার কর্মস্থল 'লিটল স্টার্স নার্সারী'তে পুলিসী তদন্ত শুরু হলে সমস্ত প্রমাণ বেরিয়ে আসে। নার্সারীটি সাময়িক কালের জন্য বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার খোলা হয়েছে।
তদন্তকারী ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিস জানায়, উইলসন ওয়েব ক্যামেরায় কিশোর ও তরুণ বয়েসী মেয়েদেরকে যৌন ভঙ্গিতে ছবি তুলতে উৎসাহিত করে এবং তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হবে বলে ভয় দেখিয়ে তার নানা ইচ্ছা পূরণে বাধ্য করে।
ঘটনাটি কৌর্টে আসার পর উইলসনের শিকার একাধিক মেয়ে তার সম্পর্কে ঘৃণা এবং নিজেদের বোকামীর জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে।
বার্মিংহ্যাম ক্রাউন কৌর্ট থেকে ইউলসনকে অনির্দিষ্ট কালের কারাদণ্ডের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আগামী মাসে তার রায়ের শুনানি হবে।
এ-ঘটনাটি নার্সারীতে পাঠানো শিশুদের ব্যাপারে এবং টীন-বয়সের ছেলে-মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে দেবার ক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা তাদের অভিভাবকদের উচ্চ-মাত্রার সতর্ক হবার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সাথে নির্দেশ করছে।
portal.ukbengali

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

ডিভোর্সের আবেদন শোয়ার্জেনেগারের স্ত্রী মারিয়ার

শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথেই হাঁটলেন আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের স্ত্রী মারিয়া শ্রিভার। সম্প্রতি ডিভোর্সের আবেদন করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই আর্নল্ডের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটবে তার। খবর টিএমজির।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডিভোর্সের আবেদনে মারিয়া বলেছেন, ‘আর্নল্ড আর আমার ভেতর যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সেটা কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়। এই দূরত্ব এতোটাই বেশি যে আমরা একে অপরের সঙ্গে আর খাপ খাওয়াতে পারবো না এবং আমাদের সন্ধি হওয়াও আর সম্ভব নয়।’

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, মারিয়া আর্নল্ডের কাছে তাদের সন্তান ১৭ বছর বয়সী প্যাট্রিক এবং ১৩ বছর বয়সী ক্রিস্টোফারের ভরণ-পোষণেরও দাবি করেছেন।

জানা গেছে, মারিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লারা ওয়াসের। এই মামলায় তিনি দুই পক্ষেরই অ্যাটর্নি ফিস ভরার অনুরোধ জানিয়েছেন আর্নল্ডকে।

উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গোপন রাখার পর এ বছরের মে মাসে বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে গৃহপরিচারিকা মিলড্রেড বায়েনার সঙ্গে নিজের ‘লাভ চাইল্ড’-এর কথা স্বীকার করে নেন আর্নল্ড। এরপর থেকেই আলাদাভাবে বসবাস করছেন আর্নল্ড এবং মারিয়া।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/টিকে/এইচআর/জুলাই ০৩/১১

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসা

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কামাল খান
'চুড়ি নিবেন চুড়ি? লাল, নীল, কালো, সাদা_যা চান তাই পাবেন।' এটাই একজন চুড়ি বিক্রেতা ফেরিওয়ালার ডাক। কিন্তু র‌্যাব-৩-এর সদস্যরা দেখতে পেলেন, একজন চুড়িওয়ালা কাঁধে চুড়ির বোঝা নিয়ে যাচ্ছে, অথচ কোনো ধরনের হাঁক দিচ্ছে না। বরং ভয়ে এদিক-ওদিক চেয়ে হাঁটছে। সন্দেহবশত তাকে থামিয়ে চুড়ির কার্টনগুলো তল্লাশি করতে চাইলে চুড়িওয়ালা নির্বিঘ্নে তা নামিয়েও দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কার্টনের ওপর সারিবদ্ধভাবে চুড়ি সাজানো। ওপরের কার্টনটি ওঠাতে বললেই বেরিয়ে এল আসল ঘটনা। র‌্যাবের সদস্যরা দেখতে পেলেন, লোকটি চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। কামাল খান (৩৫) নামের ছদ্মবেশী ওই ফেনসিডিল ব্যবসায়ীকে সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
র‌্যাব-৩-এর মেজর এমারত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কামাল মূলত একজন পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রেতা। রাজধানী এবং এর আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সে চুড়ি বিক্রির নাম করে ছদ্মবেশে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। সে রাজশাহীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকার কাশিয়াডাঙ্গা থেকে ফেনসিডিল কম দামে কিনে এনে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তার ক্রেতা ছিল। অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে ছদ্মবেশে সে মাদক ব্যবসা করত।'
গ্রেপ্তারকৃত কামাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ছয় মাস ধরে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে সে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিক্রি করছে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বাহাড়া খানপাড়া এলাকায়। শুধু ফেনসিডিল ব্যবসার জন্য সে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসা ভাড়া করে ছিল। চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল বহন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো সন্দেহ করেন না; এ কারণে সে এ কৌশলে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। এর আগে সে আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার কাছে ধরা পড়েনি। তার ক্রেতা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী। প্রতি বোতল ফেনসিডিল ভারত থেকে এক-দেড় শ টাকায় কিনে ক্রেতাদের কাছে বারো-চৌদ্দ শ টাকায় বিক্রি করত সে। ফেনসিডিল বিক্রির টাকা সে গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঠাত।
র‌্যাব-পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে লোকাল বাসে চলাফেরা করত কামাল। সীমান্ত থেকে ঢাকায় আসতে তার দুই থেকে তিন দিন লেগে যায়। এভাবে ফেরিওয়ালার বেশে পথ চলতে তার সমস্যায় পড়তে হতো না। বিভিন্ন জেলায় সে পরিচিত লোকজনের আশ্রয়ে থাকত। চুড়ির পোঁটলার ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল বহন করত সে।
ফেনসিডিল আকারে বড় হওয়ায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এখন ফেনসিডিল থেকে ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছে_এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল র‌্যাবকে জানায়, ফেনসিডিলের দাম বেশি, তাই ঝুঁকি হলেও এই অভিনব কায়দায় ব্যবসায় তাড়াতাড়ি লাভবান হওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ফেনসিডিল বহনের আরো কিছু অভিনব পন্থার কথা উল্লেখ করে। তার মতে, মোটা বিদ্যুতের তারের ভেতর, মাটির হাঁড়িতে দই বহনের মতো করে, গাড়ির সিটের নিচে অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল বহনে ঝুঁকি কম।
র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর এমারত জানান, গত ২৩ জুন র‌্যাবের একটি টহলদল কেরানীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব চরআইল খোকন চেয়ারম্যানের গলি এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় কাঁধে সাদা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে এক যুবককে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দেখে মনে হয় চুড়িওয়ালা। কিন্তু তার আচরণ চুড়িওয়ালার মতো না হওয়ায় সন্দেহ হয়। এ সময় তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পোঁটলার ওপর সারিবদ্ধ চুড়ি আর তার নিচে ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এরপর ১৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ কামাল নামের ওই ছদ্মবেশী চুড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে খোকন চেয়ারম্যানের গলির জাহাঙ্গীরের বাড়ির (পাঁচ তলা) নিচ তলায় ভাড়া থাকত।

রং সুন্দর করতে রাসায়নিক! (হায়রে মৌসুমী ফল)!!

রাজধানীতে ফলের সবচেয়ে বড় বাজার সদরঘাটের পাশে বাদামতলী ফলপট্টি। সেখানে আছে ছোট-বড় প্রায় ৩০০ আড়ত। এখন প্রায় সব আড়তই আমের দখলে। আম আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে, উত্তরবঙ্গ থেকে।
গত ১৬ মে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। সাতটিতে অভিযান চালিয়ে চারটি আড়তের আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের প্রমাণ পান আদালত। রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে আদালত আট হাজার কোটি আম ধ্বংস করেন।
সম্প্রতি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ওই বাজারের আম কিনে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ী ও আড়তের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাজারে আসা প্রায় সব আম পাকানো হয় কৃত্রিমভাবে। আম পাকাতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড অথবা ইথেফন নামের জৈব রাসায়নিক। ঢাকায় আনার আগে বা পরে আমে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যেখান থেকে আম আসে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় আমে রাসায়নিক ব্যবহার করে তারপরই তা ঢাকায় আনা হয়। তবে বাদামতলীর অনেক আড়তে আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়।
আমে কেন ইথেফন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেওয়া হয় জানতে চাইলে আবদুল জলিল নামের একজন আম ব্যবসায়ী বলেন, ‘রঙের লাইগ্যা। রঙেরই তো দুনিয়া, বুঝেন না।’ তবে তাঁর দাবি, তিনি এসব মেশান না।
একাধিক ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ইথেফনের ব্যবহার এখন স্বাভাবিক বিষয়। রাসায়নিক ব্যবহার না করলে রাজশাহীর আম ঢাকা বা দেশের অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে না, নষ্ট হবে। তাঁদের যুক্তি, গাছের সব আম একসঙ্গে পাকে না। সে ক্ষেত্রে একটি-দুটি করে আম বিক্রি করতে হবে। আবার গাছপাকা আম ঢাকা পর্যন্ত আনতে গেলে অনেক আম পচে যাবে। ব্যবসার স্বার্থে তাঁরা এসব ব্যবহার করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হতো। এখন কার্বাইডের চেয়ে ইথেফন বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ, ইথেফন দিলে আমের রং বেশি সুন্দর হয়।
বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীদের সমবায় সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের বাজারে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। বাদামতলী থেকে নেওয়া আমের নমুনায় কীভাবে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি ব্যাপারীরা আমে কোনো কেমিক্যাল দিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা তো আর দেখে বুঝি না, কোন আমে কী আছে।’ তাঁর দাবি, আম ঢাকায় নিয়ে আসার আগেই ব্যাপারীরা তাতে ওষুধ মেশান। যেখান থেকে আম ঢাকায় পাঠানো হয়, সেখানে স্থানীয়ভাবে এটি প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

পিরোজপুরে মাটি খুঁড়ে ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার

রাজধানীর বনানীতে নিউ হীরা জুয়েলার্স থেকে লুণ্ঠিত আরও ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ওই ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াকুব আলী মালের পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার মাটি খুঁড়ে এসব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
ডাকাতির মালামাল লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ইয়াকুবের ভাই ইয়াছিন মাল (২২), বোন খাদিজা (২৪) এবং মা মমতাজ বেগমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে নিউ হীরা জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনায় র‌্যাব ও ডিবি ১৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩৪১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করল। এর মধ্যে র‌্যাব উদ্ধার করেছে ২৯১ ভরি।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ভেচকী গ্রামে ডাকাত ইয়াকুব মালের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার দিনভর যৌথভাবে অভিযান চালায় র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৮। অভিযান তদারককারী র‌্যাব-১-এর মেজর মোসতাক আহমেদ জানান, ইয়াকুবদের বসতবাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে গাবগাছ ও রেইনট্রি গাছের তলায় দুটি মাটির হাঁড়িতে পলিথিনে মুড়িয়ে ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার পুঁতে রাখা হয়েছিল। ইয়াকুবের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মাটি খুঁড়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, পিরোজপুর থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা তিনজনকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৪ জুন (শুক্রবার) দুপুরে বনানীর ইকবাল সেন্টারের নিচতলায় নিউ হীরা জুয়েলার্সে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ডাকাতেরা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার রাতে ডাকাত দলের নেতা ইয়াকুব মালকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে ডিবি। একই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং ৭০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই নয়জনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করে ডিবি ও র‌্যাব। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি কুদ্দুস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার করা ১০ জনকে আট দিনের হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভালোবাসাই কাল হলো


রাজগোখরার সঙ্গে লিউক ইয়োম্যান্স
গোখরাজাতীয় সাপের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিষাক্ত সাপ হচ্ছে রাজগোখরা। এর একটি ছোবলে ২০ জন মানুষ বা একটি হাতির মৃত্যু হতে পারে। এর পরও রাজগোখরার প্রতি ভালোবাসার অন্ত ছিল না লিউক ইয়োম্যান্সের। ভালোবাসার টানেই যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামশায়ারের ইস্টউড শহরে নিজ বাড়ির পেছনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই ভয়ংকর সাপের অভয়ারণ্য। তবে এই ভালোবাসাই কাল হলো তাঁর জীবনে। একটি রাজগোখরাকে চুমু খেতে গিয়ে ওই সাপের ছোবলে মাত্র ছয় মিনিটে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়োম্যান্স। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। 
ইয়োম্যান্স বিশ্বাসই করতেন না যে তিনি কোনো দিন সাপের দংশনে মারা যাবেন। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এসব সাপ জানে, আমি ওদের ভালোবাসি। ওরা জানে, আমি ওদের খাবার দিই, পানি দিই। আক্রান্ত না হলে আক্রমণ করা ওদের স্বভাবে নেই। স্বভাবের বাইরে গিয়ে ওরা কখনোই আমার ক্ষতি করবে না। কারণ, আমি ওদের ক্ষতি করি না।’ 
ইয়োম্যান্সের এই মৃত্যুতে মর্মাহত তাঁর প্রতিবেশীরা। একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘তাঁর এ মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা সবাই জানতাম, তিনি গোখরা পোষেন। কিন্তু তিনি এ ক্ষেত্রে এত অভিজ্ঞ ছিলেন যে, এ রকম কিছু ঘটতে পারে তা আমরা ধারণাই করতে পারিনি। সাপের মঙ্গলের জন্যই জীবনভর খেটে গেলেন।’ 
নিজ বাড়ির পেছনে ২০০৮ সালে অভয়ারণ্যটি গড়ে তোলেন ইয়োম্যান্স। তাঁর দাবি ছিল, এটিই রাজগোখরার জন্য একমাত্র অভয়ারণ্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতীয় বনাঞ্চলে সাধারণত এ রাজগোখরার বাস। ইয়োম্যান্সের আশঙ্কা ছিল, যেভাবে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে কিংবা মানুষের হাতে মারা পড়ছে সাপসহ নানা বন্য প্রাণী, এতে অচিরেই এ রাজগোখরাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এ প্রাণীটিকে টিকিয়ে রাখতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অভয়ারণ্যটি। ডেইলি মেইল।
PROTHOM-ALO

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

কোলে শিশু, গায়ে মাদক

কাজে যাওয়ার আগে শিশুটিকে পেট ভরে খাওয়ানো হয় না। ধরা পড়লে ঘন ঘন চিমটি দিতে হয় কোলের শিশুটির গায়ে। এতে শিশুটি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। সে সময় এক ধরনের সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি হয়। তখন পুলিশকে বলি, খাবারের অভাবে কোলের বাচ্চাটা অভুক্ত। এগুলো নিতে পারলে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে দুধ কেনা হবে। তখন উপস্থিত সবার মন একটু নরম হয়।’
মাদক পাচারের কৌশল সম্পর্কে এভাবেই বললেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার এক নারী মাদক বহনকারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও ভাইবোনের বাচ্চাদের নেওয়া হয়। এ জন্য দিনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা গুনতে হয়। আর শিশুটির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠতে তাঁদের পূর্বপ্রস্তুতিও থাকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক তমিজ উদ্দিন মৃধা জানান, ব্যক্তি, প্রশাসন ও বিচারকদের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় করতে নারী মাদক বহনকারীরা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে ব্যবহার করছে। জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েন তানহিয়া বেগম। কোলের শিশুটি তাঁর ছিল না। ভাড়ায় এনেছিলেন।
মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝুঁকি এড়াতে অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে এ পেশায় অতি কৌশলী হতে হয়। কিছুদিন পর পর বদলাতে হয় সেই কৌশল। তবে পুরুষের চেয়ে নারীরা এ পেশায় বেশ যোগ্য ও নিরাপদ। 
মাদক ব্যবসায়ীরা জানান, ভৈরব রেলওয়ে থানার ভৈরব থেকে ঢাকার টঙ্গী এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে। অপর দিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেল থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় কিশোরগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলা। র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের অধীনে আছে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ভৈরব মূল থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী সদস্য নেই। এই সুযোগটি নেন নারী মাদক বহনকারীরা। তাঁরা গায়ে মাদকদ্রব্য পেঁচিয়ে বহন করেন। ফলে পুলিশের পুরুষ সদস্যের পক্ষে দেহ তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। 
ভাড়ায় শিশু নিয়ে মাদক বহন করেন ভৈরবের পঞ্চবটির এমন একজন নারী মাদক বহনকারী বলেন, ‘কাঁঠাল, কুমড়া, গাড়ির চাকা, স্যালাইনের প্যাকেট, সাপ রাখার বাক্স এমনকি গরম ভাতের পাত্রে করে মাদক পাচারের কৌশল পুলিশ জেনে গেছে। কী কারণে কোলে শিশু রাখা হয়, তা-ও পুলিশের জানা। এর পরও শিশু কোলে থাকলে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবেই। পুলিশের কাছ থেকে মাফ না মিললে আদালতে গিয়ে পাওয়া যায়।’
বেসরকারি সংস্থা সাদ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সাগর রহমান প্রথম আলোকে জানান, যেসব নারী কোলে নিজের বা ভাড়ায় নিয়ে মাদক বহন করেন, তাঁরা কিন্তু ব্যবসায়ী নয়, বহনকারী। গডফাদারদের দ্বারা পরিস্থিতির শিকার। ভৈরবের নামীদামি অনেক ব্যক্তি এই খাতে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ওই গডফাদারদের বিরুদ্ধে পুলিশের একার পক্ষে সফল হওয়া কঠিন। 
সমস্যা সমাধানের কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেল ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের কাছ থেকে। তারা জানায়, ‘বাল্লা লোকাল’ নামে ভৈরব-আখাউড়ার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনে করে নারীরা মাদক বহন করে থাকেন বেশি। সে কারণে স্থানীয়ভাবে ট্রেনটি ‘মাদক ট্রেন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ট্রেনে নারী পুলিশ সদস্য রাখা, ওঠা ও নামার সময় সন্দেহভাজন যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করা, কামরায় আলোর ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ভৈরবের নারী মাদক ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে ফেলা যায়।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons