জালিয়াতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জালিয়াতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

মুক্তিযোদ্ধা সনদ-বাণিজ্য

জাল সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাও নন, সনদের যোগ্যও নন। সম্প্রতি সনদ জাল করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন পুলিশের ২৩ কনস্টেবল। জাল সনদ করা হয় সাধারণত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা-সুবিধার জন্য। সুবিধার যোগ্য যিনি নন, তাঁর সুবিধা নিতে চাওয়াই দুর্নীতি। এই জাল সনদধারীরা কেবল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেই প্রতারণা করেন না, বঞ্চিত করেন আরেকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে; প্রতারণা করেন সরকারের সঙ্গেও। মুক্তিযুদ্ধকে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিশেষ একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নিজেকে বিশেষ দাবি করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার এই সুবিধাবাদী প্রবণতা মুক্তিযুদ্ধকেও ছাড়েনি। এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদই ভুয়া বলে প্রমাণ মিলেছিল। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বলে চাকরির বয়স বাড়ানোর আবেদনকারীদের মধ্যে ২৫ জনের কাগজপত্রও ছিল সন্দেহজনক। প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া সাত হাজার সনদধারীকে নিয়েও। এঁদের মধ্যে রয়েছেন অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ভুয়া সনদের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেড় হাজার চাকরি বেহাতে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ কোটা বরাদ্দ রয়েছে। সেই কোটা-সুবিধা দেওয়া-নেওয়াকে ঘিরে জাল সনদের একটি চক্রও দাঁড়িয়ে গেছে। অনেক সময় মন্ত্রী-সাংসদ কিংবা তাঁদের সহকারীদের কেউ কেউ ভুয়া সনদধারীর পক্ষে সুপারিশ করে থাকেন। এটি দুর্ভাগ্যজনক।
সমস্যার কারণ হয়তো আরও গভীরে। যখন যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাঁরা দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করেন। এই সুযোগে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের সারিতে নকলরা ঢুকে অবৈধ সুবিধা হাতিয়ে নেন। এই অপকর্ম রোধে প্রয়োজন দলীয় প্রভাবমুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শুদ্ধ তালিকা। সেই সঙ্গে সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রী-সাংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সনদ-বাণিজ্য চলতেই থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নম্বর ঘষামাজা, এক ছাত্রের নম্বর বৃদ্ধি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্র তেজগাঁও কলেজের এক ছাত্রের নম্বর বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ করেছে। নম্বর ঘষামাজার (টেম্পারিং) এ ঘটনা শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক তদন্তে এই কারসাজির প্রমাণও মিলেছে। 
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ওই ছাত্র সম্মান চূড়ান্ত (অনার্স ফাইনাল) পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষার আবেদনই করেননি।
এর নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু কাওসারসহ কয়েকজনের নাম। এখন তাঁদের রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্র ভেতর-বাইরে দেনদরবার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
আবু কাওসার প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে মন্তব্য করতে চান না। কয়েক দিন পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। 
যোগাযোগ করা হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য তোফায়েল আহমদ চৌধুরী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এভাবে একে অপরকে দেখিয়ে দেন, কেউ বা তদন্তের অজুহাতে নম্বর ঘষামাজার বিষয়ে কথা বলতে চাননি। কিন্তু এসব কর্মকর্তার কেউই জোর দিয়ে বলেননি যে ঘটনাটি মিথ্যা। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। গতকালও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আরেক সহ-উপাচার্য মো. আবু সাইদ খান তিন মাস আগে ইস্তফা দিলেও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েও যান না।
জানা যায়, সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃ নিরীক্ষা করতে চাইলে ৫০০ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে আবেদন করবেন। কিন্তু তেজগাঁও কলেজের প্রাণ রসায়নের ওই ছাত্র খাতা পুনঃ নিরীক্ষার আবেদন না করলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার টেবিলে তাঁর নম্বর সংশোধনের নথি ঘোরাঘুরি করেছে। একপর্যায়ে নম্বরপত্রের সঙ্গে কম্পিউটার শিটের গরমিল ধরা পড়ে। এ ঘটনাটি প্রাথমিক তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ-সংক্রান্ত ফাইলটি তথ্যপ্রমাণসহ উপাচার্যের কাছে 

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons