খাদ্যে ভেজাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খাদ্যে ভেজাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

ভেজাল ঘি তৈরির দায়ে বাবা-ছেলের সাজা

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
ছবি: প্রথম আলো
পামওয়েল, ডালডা আর বিষাক্ত রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘি। নামীদামি ব্র্যান্ডের চকচকে টিনের কৌটায় তা বাজারজাতও হচ্ছে। নিজের বাড়ির ছাদে ঘি তৈরির এ কারখানা গড়ে তুলেছিলেন আবদুস সামাদ ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল। র‌্যাব ১০-এর একটি দল গতকাল ভোরে সে কারখানায় হানা দিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের সাজা দেন।
র‌্যাব সদস্যরা জানান, পুরান ঢাকার বেগমবাজারে একটি চারতলা বাড়ির মালিক আবদুস সামাদ। ঘি তৈরির কারখানা ছিল ওই বাড়িতেই। গতকাল দুপুরে ওই কারখানায় গিয়ে যায়, বাজার থেকে কেনা পামওয়েল, ডালডা ও রং গ্যাসের চুলায় জ্বাল করে তরল তৈরি করা হয়। পরে সে তরল ভরা হয় নাম করা কোম্পানির কৌটায়। ঘিয়ের ঘ্রাণের জন্য খানিকটা আসল ঘি ওপরে দেওয়া হয়। টিনের কৌটার মুখ বন্ধ করে তা তুলে দেওয়া হয় ফেরিওয়ালাদের হাতে। এই ঘি আসল ঘি বলেই বিক্রি হয় বাজারে।
ঘি কারখানার মালিক আবদুল সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কোটা ঘিয়ে লাভ থাকে ৪০ টাকা। দুই মাস ধরে তিনি এই ঘি তৈরি করছেন বলে জানান।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা প্রথম আলোকে বলেন, নাম করা ঘিয়ের কৌটায় ভেজাল ঘি বাজারজাত করে তাঁরা প্রতারণা করছিলেন। এ জন্য কারখানা মালিক সামাদকে দুই বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর ছেলে সোহেলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের উপপরিচালক মুহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে গতকাল সকালে র‌্যাব-১০-এর একটি দল লালবাগের পোস্তা এলাকায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে নকল বাল্ব, নারকেল তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি ও পাউডার তৈরির অভিযোগে কারখানার মালিক ইসমাইল হোসেনকে আটক করে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইসমাইলকে চার লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিদর্শক সাইদুর রহমান এসব অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

রং সুন্দর করতে রাসায়নিক! (হায়রে মৌসুমী ফল)!!

রাজধানীতে ফলের সবচেয়ে বড় বাজার সদরঘাটের পাশে বাদামতলী ফলপট্টি। সেখানে আছে ছোট-বড় প্রায় ৩০০ আড়ত। এখন প্রায় সব আড়তই আমের দখলে। আম আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে, উত্তরবঙ্গ থেকে।
গত ১৬ মে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। সাতটিতে অভিযান চালিয়ে চারটি আড়তের আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের প্রমাণ পান আদালত। রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে আদালত আট হাজার কোটি আম ধ্বংস করেন।
সম্প্রতি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ওই বাজারের আম কিনে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ী ও আড়তের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাজারে আসা প্রায় সব আম পাকানো হয় কৃত্রিমভাবে। আম পাকাতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড অথবা ইথেফন নামের জৈব রাসায়নিক। ঢাকায় আনার আগে বা পরে আমে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যেখান থেকে আম আসে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় আমে রাসায়নিক ব্যবহার করে তারপরই তা ঢাকায় আনা হয়। তবে বাদামতলীর অনেক আড়তে আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়।
আমে কেন ইথেফন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেওয়া হয় জানতে চাইলে আবদুল জলিল নামের একজন আম ব্যবসায়ী বলেন, ‘রঙের লাইগ্যা। রঙেরই তো দুনিয়া, বুঝেন না।’ তবে তাঁর দাবি, তিনি এসব মেশান না।
একাধিক ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ইথেফনের ব্যবহার এখন স্বাভাবিক বিষয়। রাসায়নিক ব্যবহার না করলে রাজশাহীর আম ঢাকা বা দেশের অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে না, নষ্ট হবে। তাঁদের যুক্তি, গাছের সব আম একসঙ্গে পাকে না। সে ক্ষেত্রে একটি-দুটি করে আম বিক্রি করতে হবে। আবার গাছপাকা আম ঢাকা পর্যন্ত আনতে গেলে অনেক আম পচে যাবে। ব্যবসার স্বার্থে তাঁরা এসব ব্যবহার করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হতো। এখন কার্বাইডের চেয়ে ইথেফন বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ, ইথেফন দিলে আমের রং বেশি সুন্দর হয়।
বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীদের সমবায় সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের বাজারে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। বাদামতলী থেকে নেওয়া আমের নমুনায় কীভাবে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি ব্যাপারীরা আমে কোনো কেমিক্যাল দিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা তো আর দেখে বুঝি না, কোন আমে কী আছে।’ তাঁর দাবি, আম ঢাকায় নিয়ে আসার আগেই ব্যাপারীরা তাতে ওষুধ মেশান। যেখান থেকে আম ঢাকায় পাঠানো হয়, সেখানে স্থানীয়ভাবে এটি প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons