This is featured post 1 title
Replace these every slider sentences with your featured post descriptions.Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha - Premiumbloggertemplates.com.
This is featured post 2 title
Replace these every slider sentences with your featured post descriptions.Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha - Premiumbloggertemplates.com.
This is featured post 3 title
Replace these every slider sentences with your featured post descriptions.Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha - Premiumbloggertemplates.com.
রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২
সিলেটে আগুনে মারা যাওয়া ব্যক্তি নায়িকা শাবনুরের পিতা!
সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১
লাশ শত টুকরা করে মেঘনায় নিক্ষেপ!
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফরিদ হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি তাহের মিয়া ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় হত্যার লোমহর্ষক এসব বর্ণনা বের হয়ে আসে। কাসেম ওরফে কাচ্চু মিয়ার ছেলে তাহের মিয়া (৪৪) উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ফরিদ মিয়া (৫৫) হত্যার অন্যতম আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় হত্যা, লাশ গুম, ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ গত শনিবার ভোরে মেঘনা নদীর একটি নৌকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাহের ভৈরব থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের খুনের বর্ণনা দেন। পরে তাঁকে ওই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আইজ উদ্দিনের কাছে ওই দিন তাহের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ভৈরব থানার পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২৬ আগস্ট উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত কাদির মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা লোকমুখে জানতে পারেন, ফরিদকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে হত্যা এবং হত্যাসহ লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর পুলিশ শনিবার সন্দেহভাজন তাহেরকে গ্রেপ্তার করে।
তাহের মিয়া জানান, একই এলাকার ছিদ্দিক, মস্তু, হুমায়ুন, ফরিদ তাঁরা ভালো বন্ধু। ডাকাতি, হত্যা, লাশ গুম তাঁদের পেশা। এক বছর আগে ফরিদ তাঁদের সঙ্গ ছাড়ে। দলছুট হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ফরিদের সখ্য গড়ে ওঠে। তাঁদের সব গোপন বিষয় পুলিশের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। একপর্যায়ে ফরিদ মাসিক মাসোহারা দাবি করেন। এতেই দলের সবাই তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হন এবং হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন ফরিদকে মস্তুর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। কথা বলার সুযোগে ছিদ্দিক বল্লম দিয়ে পেটে আঘাত করেন। তাহের ছুরিকাঘাত করেন এবং মস্তু লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পাশের গ্রামের নবীপুরের তারা মিয়ার নৌকায় করে লাশ মেঘনার মাঝ নদীতে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে ছুরি দিয়ে প্রথমে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা করা হয়। কমপক্ষে ১০০ টুকরা করার পর টুকরাগুলো নদীতে ফেলা হয়। এ কাজ করতে তাঁদের সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকটা অনুশোচনা থেকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা অকপটে পুলিশ, সাংবাদিক ও আদালতে বলেন তাহের।
মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১১
স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী খুন
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে চাপাতি ও ছুরিকাঘাতের হাত থেকে স্বামী শাহাদাত আলীকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী কাজী নুরুন্নাহার (৪২) নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাজী ইমান আলী ও খলিলুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।
টঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, গত কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় কাজী ইমান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর চাচাতো বোন নুরুন্নাহারের স্বামী শাহাদাত হোসেনের মদ খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে গতকাল রাতে জাহাঙ্গীর তাঁর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শাহাদাতের বাসায় গেলে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে শাহাদাতের বাসায় বেড়াতে আসা শহীদ মেম্বার বিষয়টি মিটমাট করতে যান। এ সময় জাহাঙ্গীরের ছুরিকাঘাতে শহীদ মেম্বার আহত হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রবিন ও খায়রুল ইসলাম নামের দুজন প্রতিবেশী আহত হন।
এ সময় তাঁদের চিত্কারে নুরুন্নাহার তাঁর স্বামী শাহাদাতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনি চাপাতি ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপপরিদর্শক আরও জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১
বাবা-মায়ের কলহের বলি হলো দিহান?
ঘরটিতে ছিল এ রকম একটা চিরকুট আর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দিহান মেহজাবিনের (১২) লাশ। স্বজনেরা পুলিশকে বলেছেন, বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের জেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে তাঁদের ধারণা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া এলাকায়।
গতকাল রোববার সকালে পুলিশ দিহানের লাশ উদ্ধার করে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে। তার মা ফাতেমা সুলতানা চৌধুরী সেখানকারই শিক্ষক। আর বাবা আলীউজ্জামান একজন হোমিও চিকিৎসক। বাবা-মা ঝগড়া করে আলাদা বাস করতে শুরু করার পর থেকে মায়ের সঙ্গে থাকত দিহান।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুদ্দৌলা বলেন, হাজি চিনু মিয়া সড়কের ওই বাসার একটি ঘরে ফ্যানের সঙ্গে বাঁধা ওড়নায় ঝুলছিল দিহানের শরীর। বাবা-মায়ের কলহ ও বাবার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার দুঃখে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে এসআই সিরাজুদ্দৌলা বলেন, দিহানদের ফ্ল্যাট ছয়তলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলায়। তৃতীয় তলায় থাকেন তার নানা-নানি। গতকাল সকাল সাতটার দিকে দিহানকে রেখে বাসা থেকে বের হন তার মা। এর আধঘণ্টা পর তার নানি নাশতা করার জন্য ডাকতে গিয়ে দেখেন, দিহান ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।
নানা গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, দিহানের বাবা দেড় বছর আগে তাদের নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে থাকা শুরু করেন। সেখানে তাঁর হোমিও চেম্বার ছিল। যাত্রাবাড়ীতে যাওয়ার পর অন্য নারীর সঙ্গে আলীউজ্জামানের কথিত সম্পর্কের কথা দিহানের মা ফাতেমার কানে আসে। এর জের ধরে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে মারধরও করেছেন আলীউজ্জামান। একপর্যায়ে গত ১৯ মে আলীউজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে দিহানকে নিয়ে টিক্কাপাড়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন ফাতেমা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে দিহানের মামা কাওসার চৌধুরী বলেন, বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব, মামলা ও আলাদা থাকা মেনে নিতে পারেনি দিহান। সে মাঝেমধ্যে বাবাকে ফোন করত। কাওসার দাবি করেন, ফোন করলে বাবা আলীউজ্জামান তাকে গালিগালাজ করতেন। এ কারণে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দিহানকে নিষেধ করেছিলেন তার মা। এসব কারণে মেয়েটি মানসিকভাবে ভালো ছিল না।
যোগাযোগ করা হলে আলীউজ্জামান প্রথম আলোর কাছে মেয়েকে গালিগালাজ ও স্ত্রীকে মারধর করা এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পাশের বাড়ির একটি ছেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য শনিবার দিহানকে মারধর করেন তার মা ফাতেমা। মা আরও মন্তব্য করেন, ‘দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষছি।’ আলীউজ্জামান বলেন, ‘মেয়ে যে আমার কাছে আসতে চায়, এ কারণেই তার মা এই কথা বলেছে। মেয়ে এই কথা সহ্য করতে পারেনি। মেয়েটাকে তালা মেরে চলে যেত। আজকেও (রোববার) গিয়েছিল।’
আলীউজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, দিহানের মায়ের পরিবার তাঁকে লাশও দেখতে দিতে চায়নি। মোহাম্মদপুরে গেলে মারধর ও গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দিয়েছে।
দিহান বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। গতকাল দুপুরে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাসাভর্তি আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, দিহানের সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকেরা।
বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১১
পানিতে চুবিয়ে মাকে হত্যা করল ছেলে
এলাকাবাসী ও আলাউদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে আলাউদ্দিন পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে তাঁর মাকে ধরে নিয়ে যান। ১৫-২০ মিনিট পর তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা খুলে দেয়। এর পরপরই খবর আসে, আলাউদ্দিন তাঁর মাকে বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর লাশ বিলের পাড়ে উঠিয়ে তাঁর পাশে বসে আছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী আলাউদ্দিনকে মারধর করে।
এ সময় আলাউদ্দিন উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, মা নিয়মিত নামাজ না পড়ায় তিনি তাঁকে হত্যা করেছেন। এলাকাবাসী পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে। আলাউদ্দিন চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি বাড়ির মুরগির খামারে কাজ করতেন। বেলা তিনটার দিকে আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বিলাপ করছেন তাঁর বোন জোহরা ও সুফিয়া খাতুন। আলাউদ্দিনের মামা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বোনকে নির্মমভাবে পানিতে চুবিয়ে মারছে আলাউদ্দিন। এর আগেও কয়েকবার আলাউদ্দিন আমার বোনকে মারধর করেছে। অর মা কখনো অর বিচার করতে দেয় নাই। আজ তারে মাইরাই ফালাইল।’
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার বলেন, এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের বড় ভাই মো. জসিমউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আলাউদ্দিন তাঁর মাকে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। prothom-alo
শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১১
যৌনকর্মী বলে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি
রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম উত্তরপাড়ার একটি ঘরে আগুনে পুড়ছে সাবিনা (২২)। ঘরের দরজায় ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো। তবে খোলা জানালা দিয়ে পাশের ঘরের মানুষ ও প্রতিবেশীদের অনেকেই দেখেছে আগুনে পুড়ে সাবিনার দুঃসহ মৃত্যু যন্ত্রণা। কিন্তু পেশায় যৌনকর্মী বলে কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি। স্টোভের কেরোসিন ঢেলে নিজের দেয়া আগুনে রক্ত-মাংসের শরীর প্রায় এক ঘন্টা ধরে পুড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে বাইরে আনার পর তার মৃত্যু হয়। যৌনকর্মী সাবিনার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তার কথিত স্বামী গিয়াস উদ্দিন ও নিউ প্যারাডাইস আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার মোঃ মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা হোটেল বয়দের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করেছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১
নড়ে উঠল লাশ
বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১
‘বৃদ্ধা স্ত্রীকে খুন করেছি আমাকে গ্রেফতার করুন’
বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১
গাজীপুরে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
পুলিশ ও হীরার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হীরা গত সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। রাত একটার দিকে তার মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তিনি হীরার কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান। ওই কক্ষে তখন কেউ ছিল না। হীরার মা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও হীরার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সকালে তাঁদের বাড়ির বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় হীরার লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হীরা ভাদুন উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তার বাবা সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান।
ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জয়দেবপুর থানাধীন পূবাইল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আ. করিম প্রথম আলোকে বলেন, এটি হত্যা, না আত্মহত্যা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তরুণীর লাশ উদ্ধার: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গজারি বনের ভেতর থেকে গতকাল মঙ্গলবার শিল্পী আক্তার নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, শিল্পীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও শিল্পীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, শিল্পীর বাড়ি উপজেলার আমতলী দক্ষিণপাড়া গ্রামে। পাশের বান্দাবাড়ি গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩০) আলমের সঙ্গে শিল্পীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রোববার রাত আটটার দিকে জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে ফোন পেয়ে শিল্পী তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
গত সোমবার সকালে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক গজারি বনে শিল্পীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশের লোকজনকে খবর দিলে শিল্পীর মা এসে লাশটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।
কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন-উর-রশিদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রোববার রাতে শিল্পীকে ধর্ষণ শেষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা সবুরজান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।
রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১১
সালিসে অপমান, ছাত্রীর আত্মহনন
মেয়েটির নাম শিরিন আক্তার (১৫)। বাড়ি দুধখালীর এওজ গ্রামে।
গতকাল শনিবার বিকেলে এওজ গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, শিরিনের বাবা হাসেম শরীফ বছর খানেক আগে মারা যান। শিরিনের একমাত্র ভাই মুর্তজা শরীফ যশোরের বেনাপোলে কাজ করেন। অপর এক বোন স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। শিরিনের পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক সম্প্রতি সহায়তাস্বরূপ তাদের তিনটি ছাগল দেয়। এ ছাড়া শিরিনদের আরও তিনটি ছাগল আছে। ছয়টি ছাগলের দেখভাল করত শিরিন। পাশাপাশি গ্রামের বড়াইলবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীতে পড়ত।
শিরিনের ভাই মুর্তজা শরীফ, খালাতো ভাই সবুর খান ও খালাতো বোন মেঘনা আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার শিরিনের একটি ছাগল প্রতিবেশী শাহ আলম হাওলাদারের চারা আমগাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এর জের ধরে শিরিনের পায়ে লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন শাহ আলম।
গ্রামবাসী বলেন, শিরিন প্রতিবাদী ও অভিমানী ছিল। শাহ আলম তাকে লাঠি দিয়ে পেটালে সে হাতের মুঠোফোন তাঁর দিকে ছুড়ে মারে।
এ ঘটনা শিরিন তার মা হাজেরা খাতুনকে জানালে তিনি দুধখালী ইউপির সাবেক সদস্য মহসিন বেপারীর কাছে নালিশ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে গ্রামে সালিস বসে। এতে মহসিন বেপারীর নেতৃত্বে সালিসে ছিলেন আক্কাস বেপারী, আক্কাস চৌকিদার, রশিদ আকনসহ ১০-১২ জন। মাতব্বররা সালিসে শিরিনকে দোষী সাব্যস্ত করে শাহ আলমের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। শিরিন প্রতিবাদ করলে এক মাতব্বর উল্টো তাঁকে চড় মারেন। পরে শাহ আলমের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় শিরিন।
শিরিনের মা কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, শাহ আলমের পা ধরার সময় আমার মেয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। পরে ঘরে এসে বিছানায় শুয়েও কান্নাকাটি করে। আমি পাশের বাড়ি গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরে এসে দেখি, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শিরিনের লাশ ঝুলছে।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে শিরিনের লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ। গতকাল মাদারীপুর সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
শিরিনের মৃত্যুর জন্য সাবেক ইউপি সদস্য মহসিন বেপারীসহ সালিসকারীদের দায়ী করে তাদের শাস্তি দাবি করেছে তার পরিবার। আটক হওয়ার আগে মহসিন বেপারী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সালিস করেছি সত্য। শিরিন শাহ আলমের দিকে মুঠোফোন ছুড়ে মারায় তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু সালিসে শিরিনের গায়ে হাত তুলিনি।’
শিরিনের পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করা সত্ত্বেও শাহ আলমকে শাস্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মহসিন বলেন, ‘সালিসে আমিই সবচেয়ে কম বয়সী ছিলাম। অন্য মুরব্বিরা শাহ আলমকে কোনো শাস্তি দেননি।’
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকায় গিয়ে জানতে পেরেছি যে সালিসে অপমানিত হয়েই শিরিন আত্মহত্যা করেছে। সালিসকারীরা রায় দিয়ে বলেন, “শিরিনই অন্যায় করেছে এবং তাকে শাহ আলমের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।” সালিসে সমবয়সী ছেলেমেয়েসহ এলাকার লোকজন থাকায় অপমানিত হয় শিরিন। সে সালিসে বলেছিল, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। যে অন্যায় করেছে, আমাকে মারধর করেছে; তার কাছেই আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে?” এই বলে সে সালিসে অনেক কান্নাকাটি করেছে।’
ওসি বলেন, সালিসকারীদের প্রধান মহসিন বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে শিরিনের পরিবার সালিসকারীদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সালিসে অপমান ও সমাজচ্যুত করার পর ১৫ আগস্ট চার সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন হবিগঞ্জের ফেরদৌসী বেগম। এতে তিনি ও তাঁর দুই সন্তান মারা যায়। প্রথম আলো
সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১১
৪ সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ
মাধবপুর উপজেলার শাহপুর স্টেশনের আধা কিলোমিটার দক্ষিণে রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন জনের লাশ দেখেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক।
নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সৌদী প্রবাসী জিলন মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৩৫), তার মেয়ে বন্যা (৮) ও ছেলে জীবন (১২)।
আহত দুই মেয়ে শাওন (১০) ও ঝর্ণাকে (৪) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ফেরদৌসী সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে চার সন্তানকে জড়িয়ে ধরে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সুরমা এক্সপ্রেসের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ফেরদৌসী ও বন্যা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জীবন, শাওন ও ঝর্নাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়। সেখানে জীবনের মৃত্যু হয়।
ফেরদৌসী কেন এভাবে সন্তান নিয়ে ট্রেনে ঝাঁপ দিলেন, তা এলাকাবাসী বলতে পারেনি।
চার বছর আগে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে এভাবে ময়মনসিংহের একটি পরিবার একসঙ্গে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাতে নয় জন মারা যায়। ওই পরিবারটি নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করতো।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১
দুখু বাহিনী নয়, মায়ের পরকীয়ার বলি ইরান
গত সোমবার মেহেরপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসুদ আলীর আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আহমেদ শরীফ। তাঁর বাড়ি জেলার গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ধলা গ্রামে।
৫ আগস্ট শুক্রবার সকালে কাথুলীর ধলা রাধাগোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের মাঠ থেকে শিশু ইরানের (১০) জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ইরান ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল। এর আগে ২০০৮ সালের ৩১ আগস্ট রাতে চরমপন্থী দুখু বাহিনী ইরানের সামনে তার বাবা এমদাদুল হক ও দুই চাচাকে বাড়ির উঠানে জবাই করে খুন করে। ইরান ওই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী থাকায় শুক্রবার পুলিশ ও ইরানের মা ধারণা করেছিলেন চরমপন্থী দুখু বাহিনীই ইরানকে খুন করেছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমল কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ইরানের হত্যার এক দিন পর তার মা বারবার ‘আমি কার বিচার চাইব’ বলে আর্তনাদ করেন। এতে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তখন ইরানের মা পুলিশকে আহমেদ শরীফের কথা বলেন।
এরপর মেহেরপুর সদর থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান ও গাংনী থানার ওসি যৌথভাবে আহমেদকে রোববার দুপুরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আহমেদ শরীফ বলেন, ইরানের বাবার মৃত্যুর পর ইরানের মায়ের সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সন্তানের মা হওয়ায় শরীফের পরিবার এই সম্পর্কে আপত্তি জানায়। আবার মেলামেশা দেখলেই ইরান তার মাকে বলত, ‘মা, বাপজি তোকে খুব ভালোবাসত, তুই কাউকে নিকে করিস নে।’ তখন মায়ের মনটা ভেঙে যেত। এভাবে ইরান তাঁর পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার বলেন, ইরান হত্যার জন্য পুলিশ প্রথমে সন্ত্রাসী চরমপন্থী দুখু বাহিনীকে সন্দেহ করেছিল। পরে তার মায়ের প্রশ্নবোধক কান্নায় পুলিশের সন্দেহ হলে দুই দিনের ব্যবধানে এই খুনের রহস্য বের হলো। ফলে এই মামলায় সন্দেহজনকভাবে চারজনকে আটক করা হলেও এখন মামলায় আহমেদ শরীফ ছাড়া অন্য কেউ আসামি নয়।
মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১
কখন জাগবে মা...
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শিশুটির মা। নয় দিন ধরে তিনি অজ্ঞান। শিশুটির অসহায় চাহনিতে মায়ের জ্ঞান ফেরার আকুলতা। গতকাল ছবিটি তুলেছেন
জিয়া ইসলাম
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নয় দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন হয়ে আছেন এই নারী। তাঁর সঙ্গে আছে শিশুটিও।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিটাক সড়ক পার হওয়ার সময় একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওই নারী। এ সময় তাঁর কোলে শিশুটিও ছিল। তবে দুর্ঘটনা থেকে শিশুটি বেঁচে যায়। আহত হওয়ার পর পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সঙ্গে শিশুটিকেও।
হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, ওই নারী ও শিশুটি সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। জ্ঞান না থাকায় নারীর নাম জানা যায়নি। আবার শিশুটিও নিজের নাম বলতে পারে না। তবে হাসপাতালে আসার পর শিশুটি একটি নাম পেয়েছে। পাশের এক রোগীর স্বজন শিশুটির নাম রেখেছেন রুপালি। তাঁর ভাশুরের একই বয়সের মেয়ে সোনালি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকি ৎ সাধীন। সোনালির সঙ্গে মিল রেখে তিনি শিশুটির নাম দিয়েছেন রুপালি। নাম না জানায় শিশুটি এখন রুপালি নামেই সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেট কারটিকে ধাওয়া করা হয়েছিল। কিন্তু গাড়িটিকে আর ধরা যায়নি। ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে কলোনি বাজারে থাকতেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
গতকাল সোমবার কলোনি বাজার এলাকায় গেলে সেখানকার বাসিন্দা সালমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে ওই নারী কলোনি বাজারে আছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি ওই নারীর বিছানায় শুয়ে হাত-পা ছুড়ছে। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেই শুধু মাথা নাড়ছে। পাশের রোগীরা জানান, ওয়ার্ডে সবার আদরের হয়ে উঠেছে শিশুটি। রাতের বেলায় সে মায়ের সঙ্গে ঘুমায়, অজ্ঞান মায়ের দুধও পান করে।
শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১
বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় শ্যালক-দুলাভাই নিহত
নিহতেরা হলেন—বগুড়া সদরের গোকুল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে এমদাদুল (৪০) এবং বালা কৈগাড়ি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আলম হোসেন (২৪)। এমদাদুলের শ্যালক আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলম গতকাল সকালে তাঁর বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। আজ সকালে তাঁর দুলাভাই তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বালা কৈগাড়ি গ্রামে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের গোকুল বাসস্ট্যান্ডে রংপুরগামী একটি ট্রাক তাঁদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খালেকুজ্জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাক ও ট্রাকের চালককে আটক করা যায়নি।প্রথম আলো
বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১
বগুড়া ও গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বগুড়ায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা গ্রামের জাহেদুল ইসলাম (৪০) ও কিচক গ্রামের বেঙ্গু (৪০)।
গাজীপুরে নিহত দুজন হলেন গাইবান্ধা বাসাপাড়া গ্রামের জাবেদ (২৭) ও পলাশবাড়ী উপজেলার ইসলাম নবীর (২৫)।
বগুড়া: প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ছয়টার দিকে নয়মাইল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঢাকা থেকে রংপুরগামী জাকের পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে চারজন নারী ও তিনটি শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। আহত ব্যক্তিদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।
তবে বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ১৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ওই এলাকায় গতিরোধক স্থাপনের আশ্বাস পাওয়ায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় এলাকাবাসী। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তিন কিলোমিটারজুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সেনাবাহিনী একটি ক্রেন দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
গাজীপুর: কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নারীসহ চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৫ জন। আজ ভোর পাঁচটার দিকে খারাজোড়া এলাকার কালিয়াকৈর বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সানোয়ার হোসেন জানান, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১১
ইঁদুর মারতে দরপত্র!
সংস্থাটি দরপত্রে ১০০ বর্গফুট এলাকার ইঁদুর মারার জন্য চার রুপি করে চেয়েছে। এতে রাজিও হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুরুও করেছে প্রথম পর্যায়ের ইঁদুর নিধন অভিযান।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক দিন ধরে ইঁদুরের উপদ্রব চলছিল। ইঁদুর রাতে রোগীর টেবিলে থাকা খাবারই শুধু নিয়ে যেত না, মাঝেমধ্যে কামড়েও দিত রোগীদের; কেটে তছনছ করত হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও। কোনোক্রমেই এই ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধ করতে না পেরে গত ২৫ জুন কর্তৃপক্ষ ইঁদুর মারার জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় একটি পত্রিকায়।
৭ জুলাই দরপত্র গ্রহণ করে ইঁদুর মারার দায়িত্ব দেওয়া হয় কলকাতার একটি সংস্থাকে।
হাসপাতালের ডেপুটি সুপার তাপস কুমার ঘোষ বলেছেন, হাসপাতালের ইঁদুরের উপদ্রব কমানোর জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এতে সুফল পাওয়া যাবে।প্রথম আলো
মর্গে জেগে উঠলো 'মরা মানুষ'
মর্গ থেকে জেগে উঠেছে এক লোক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ণ কেপ এ। রোববার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ৫০ বছর বয়সী ওই লোক মর্গ থেকে জেগে উঠে বাইরে বের হয়ে আসার জন্য ডাকাডাকি করলে ভুত ভেবে ভয়ে পালিয়ে যায় সেখানকার কর্মীরা। ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সিজুয়ি কুপিলো সংবাদ সংস্থা সাপাকে জানান, শনিবার রাতে ঘুম থেকে জাগাতে না পেরে ওই ব্যক্তির পরিবার তাকে মৃত ভেবে একটি বেসরকারি মর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মর্গে সে ২৪ ঘণ্টা ছিল বলেও জানান তিনি। পরে মর্গের কর্মীরা ফিরে এসে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার পরিচয় জানা যায়নি। কুপেলো বলেন, "তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।" বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমডি/এলকিউ/১৬৫৩ঘ. |
স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যুবক খুন
নিহত আপেল কুমিল্লা শহরের ছোটরা এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি শহরের কান্দিরপাড় সাত্তার খান শপিং মলের একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, আপেলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার কলেজের একাদশ শ্রেণীর ব্যবসায় শাখার ছাত্রী। কয়েকজন বখাটে কিছুদিন ধরে আয়েশাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপেল তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে কলেজে আসেন। এ সময় বাগিচাগাঁও এলাকার একদল যুবক আপেলকে কলেজের প্রধান ফটকের ভেতরে আটকিয়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎ সক আপেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বোন লিপি আক্তার বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তাঁর ভাইকে খুন করা হতে পারে। তিনি এ হত্যার বিচার দাবি করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই আবদুল মোমেন জানান, দুই মাস আগে আপেল আয়েশাকে বিয়ে করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বোন লিপি আক্তার কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বখাটের হামলায় মা-মেয়েসহ আহত ৫: যশোর অফিস জানায়, যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডহেরপাড়া গ্রামে গতকাল এক বখাটে ও তার সহযোগীদের হামলায় মা-মেয়ে এবং তাঁদের প্রতিবেশী তিন নারী আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের যশোরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রামের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী গতকাল সকালে প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় একই গ্রামের আকিদুল ইসলাম ওরফে আকিসহ চার যুবক তার পথ রোধ করে তাকে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে বখাটেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেয়েটির বাঁ হাতে আঘাত করে। মেয়েটির চিৎ কারে তার মাসহ প্রতিবেশী তিন নারী এগিয়ে আসেন। বখাটেরা রড দিয়ে তাদের পেটায়।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ প্রথম আলোকে বলেন, এ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আকি নামের ওই যুবক মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত।
সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১১
মাত্র সাতাশেই চলে গেলেন অ্যামি
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ২৩ জুলাই শনিবার বিকেল ৪টায় নর্থ লন্ডনে অ্যামির নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই গায়িকা। সম্প্রতি কিছুদিন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রেও ভর্তি ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, অ্যামির মৃত্যু সম্পর্কে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘শনিবার বিকেল ৪টায় লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থেকে পুলিশকে জানানো হয়, অ্যামিকে মৃত অবস্থায় তার বাড়িতে পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত চলছে।’
এদিকে সানডে মিরর পত্রিকার নিক বাকলি জানিয়েছেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনকেই অ্যামি ওয়াইনহাউসের মৃত্যুর কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই মাদকের ভয়াবহ নেশায় ডুবে ছিলেন এই গায়িকা। মাদক ছাড়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ চালালেও, সফল হননি তিনি। সর্বশেষ এ বছরের মে মাসে তিনি রিহ্যাবে গিয়েছিলেন। এর আগে হেরোইনে আসক্তির কারণে ২০০৭ সালেও চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। ২০ জুলাই আইটিউনস ফেস্টিভ্যালে সর্বশেষ কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন ক্ষণজন্মা এই শিল্পী।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম
বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১
শোকে কাতর পাঁচ গ্রাম
- স্কুল খুলেছে যথারীতি। যে প্রাঙ্গণ মুখর থাকত নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে, সেখানে শোকের কালো ছায়া। কাল যে ছিল সহপাঠী,আজ সে নেই। আবুতোরাব স্কুলের দুই ছাত্রী ভেঙে পড়েছে কান্নায়ছবি: রাশেদ মাহমুদ
- আবু তোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে সহপাঠীদের শোকে শিক্ষার্থীদের বুকফাটা কান্নাপ্রথম আলো
- কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে কয়েকজন ছাত্রীপ্রথম আলো
- বিদ্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় স্বজনদের আহাজারিপ্রথম আলো
- সন্তানহারা এক পিতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীপ্রথম আলো
- বিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ প্রধান ফটকপ্রথম আলো
- শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোক র্যালিপ্রথম আলো
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় সৈদালী এলাকায় ট্রাক ডোবায় পড়ে যে ৪৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তাদের ৩৫ জনই ওই পাঁচ গ্রামের। অন্যরা আশপাশ এলাকার। গত সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে এরা দুর্ঘটনার শিকার হয়।
গ্রামগুলো হলো ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের মধ্য মায়ানী ও পূর্ব মায়ানীর মনু ভূঁইয়াপাড়া। ১১ নম্বর মগাদিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, জলদাসপাড়া ও শেখের তালুক। নতুন কবরগুলো দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করেছে গ্রামগুলোতে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে দুর্ঘটনাস্থল সৈদালী এলাকায়। সেখানে কালও শিশু-কিশোরদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল, গায়ের ছেঁড়া জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার মাতম দেখা যায় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায়। তোরাব আলী বাজারের প্রতিটি দোকানে উড়ছে কালো পতাকা। লোকজনের বুকে আঁটা ছিল কালো ব্যাজ। দোকানপাটে বসে লোকজন নিচু স্বরে বলাবলি করছিল আগের দিনের দুর্ঘটনার কথা। সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবকেরা শোক মিছিল বের করলে বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা বেছে বেছে আমার মেধাবী ছাত্রগুলো নিয়ে গেল। যারা ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল, যারা অ্যাসেম্বলি করত, তারাই খেলা দেখতে গিয়েছিল। তরতাজা ছেলেগুলো ফিরল লাশ হয়ে!’
কবরের পর কবর: দুর্ঘটনাস্থল সৈদালী পার হলেই পূর্ব মায়ানীর মনু ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পর পর তিনটি নতুন কবর। আরও একটি কবরের জন্য আগাছা পরিষ্কারের নমুনা দেখা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে চতুর্থ কবরটি আর খোঁড়া হয়নি।
আনোয়ার নামের একজন বাসিন্দা জানান, রাজিব, তারেক ও শাখাওয়াতের লাশ এখানে দাফন করা হয়েছে। শাখাওয়াতের ফুফাতো ভাই শামসুদ্দিনের জন্য আরেকটি কবর তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শামসুদ্দিনের বাবা ছেলেকে তার মামার বাড়িতে দাফন করতে রাজি হননি। এ কারণে দক্ষিণ মগাদিয়ায় বাবার বাড়িতে শামসুদ্দিনকে দাফন করা হয়। পড়ালেখার সুবিধার জন্য শামসুদ্দিন মামার বাড়িতে থাকত।
এরপর পশ্চিম দিকে কিছু দূর এগোলেই মায়ানী গ্রাম। এই গ্রামে মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক। এখানে অন্তত ১৬ জনকে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুদ্দুস মাস্টারের বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র সুজনকে। একই গ্রামের ঝুলুর বাপের কবরস্থানে দাফন করা হয় চার ছাত্রকে। এরা হলো তোফাজ্জল, রিয়াজ, সাকিব ও ইফতেখার। ইফতেখার স্থানীয় প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অন্য তিনজন আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এই গ্রামের মুক্তার বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয় নয়ন নামের এক ছাত্রকে। আরও পশ্চিমের মগাদিয়া ইউনিয়নের জলদাশপাড়ায় দাহ করা হয় টিটু দাস ও লিটন দাসকে।
গতকাল দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এবং সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবদুল করিম ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শোকার্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেন। শিক্ষামন্ত্রী নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য পাঁচ হাজার টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। শিল্পমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১০ হাজার এবং আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। শিল্পমন্ত্রী নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির ঘোষণাও দেন। আগের রাতে জানাজায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন।
মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘুরে ঘুরে দেখেছি, এই পাঁচ গ্রামের মানুষ শোকে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সান্ত্বনা দেওয়ার লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও এদের মাঝে স্বস্তি আনতে পারছে না।’
পূর্ব মায়ানী গ্রামের আয়নাল হক বলেন, ‘কাকে দোষ দেব বুঝতে পারছি না। ধরে নিতে হবে আমাদের কপাল খারাপ।’
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াজ উদ্দিন, কমর উদ্দিন ও ইসমাইল জানায়, তাদের সঙ্গে পড়ত এমন পাঁচজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তারা জানায়, সোমবার বিদ্যালয় ছুটি ছিল না। ওরা খেলাপাগল বলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে খেলা দেখতে গিয়েছিল।
যুদ্ধকালীন মিরসরাই থানার ডেপুটি কমান্ডার জাফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, মিরসরাইয়ের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, মাইক্রোচালকদের লাইসেন্স নেই। এসব দেখার যেন কেউ নেই। লাইসেন্সবিহীন গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে মিরসরাইবাসী চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গতকাল আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহপাঠীরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল। একটি কক্ষে অন্য সহপাঠীরা তাদের সেবা করছিল। একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি চিকিৎসক দল আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে আসে।
চিকিৎসক দিলীপ চৌধুরী বলেন, মেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ায় তারা মূর্ছা যাচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে কাউকে কাউকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
ক্লাস ছুটি: শোকের কারণে এ সপ্তাহের বাকি দুই দিন আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস হবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা না হলেও শিক্ষক কিংবা ছাত্র কারও ক্লাস করার মতো মানসিক অবস্থা নেই।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে জানান, আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে শোকসভা হবে, বৃহস্পতিবার হবে মিলাদ মাহফিল। শুক্রবারও একটি সংগঠন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। তাই শনিবারের আগে কোনো ক্লাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।




৬:৪৩ PM
Akashnill
Posted in: