Mysterious লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Mysterious লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১১

মর্গে জেগে উঠলো 'মরা মানুষ'

মর্গ থেকে জেগে উঠেছে এক লোক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ণ কেপ এ।

রোববার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ৫০ বছর বয়সী ওই লোক মর্গ থেকে জেগে উঠে বাইরে বের হয়ে আসার জন্য ডাকাডাকি করলে ভুত ভেবে ভয়ে পালিয়ে যায় সেখানকার কর্মীরা।

ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সিজুয়ি কুপিলো সংবাদ সংস্থা সাপাকে জানান, শনিবার রাতে ঘুম থেকে জাগাতে না পেরে ওই ব্যক্তির পরিবার তাকে মৃত ভেবে একটি বেসরকারি মর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

মর্গে সে ২৪ ঘণ্টা ছিল বলেও জানান তিনি।

পরে মর্গের কর্মীরা ফিরে এসে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার পরিচয় জানা যায়নি।

কুপেলো বলেন, "তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমডি/এলকিউ/১৬৫৩ঘ.

লম্বা হওয়ার খ্যাতি

সমকাল ডেস্ক
মেয়েটির নাম জেসিকা পারডো। ১৮ বছর বয়সেই তার উচ্চতা এখন ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি। জেসিকাকে বলা হয় ব্রিটেনের সবচেয়ে লম্বা অষ্টাদশী। তার এই শারীরিক গঠনের জন্য সে মোটেই বিব্রত নয়। বরং সে গর্বিত। লোকজন তাকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে। ঘরের বাইরে গেলে সবার চোখে পড়ে যায় সে। লম্বা হওয়ার কারণে জেসিকা হিল জুতা পরতে পারে না। অনলাইনে বা টেইলারিং থেকে বিশেষভাবে তাকে পোশাক তৈরি করিয়ে নিতে হয়।
গাড়িতে চড়তে বা চালাতে গেলে জেসিকা সমস্যায় পড়ে। বিশেষ ধরনের বড় গাড়ির প্রয়োজন পড়ে তার। বাসায় হাঁটা-চলার সময় সতর্কতার সঙ্গে চলতে হয়। দরজা অতিক্রম করার সময় মাথা নিচু করে চলতে হয় তাকে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে জেসিকা সবার পেছনে দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করতে পারে। লম্বা হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে তার ফেসবুকে অনেক বন্ধু জুটে গেছে। কয়েকজন ছেলে বন্ধুও আছে তার। তার মা লিসা (৪১) একজন প্রশাসক। যদিও তার মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। জেসিকা তার ছোট ভাই নেইলের (১৭) সঙ্গে মার কাছেই থাকে। ছোট ভাই নেইলের উচ্চতা ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি। তার চেয়ে এক ইঞ্চি লম্বা। জেসিকার মা সবার উচ্চতা প্রসঙ্গে জানান, জেসিকার বাবা অ্যান্ড্রুর (৪৩) উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। আর তার উচ্চতা ৬ ফুটের ওপরে। এ কারণে মেয়ে জেসিকা এবং ছেলে নেইলও উচ্চতায় তাদের ছাড়িয়ে গেছে। জেসিকার ফুফু এবং চাচাও তাদের বাবার মতোই লম্বা। ইংল্যান্ডের ফুটবল স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচের চেয়েও জেসিকা লম্বায় বড়। ইংল্যান্ডের দ্য টল পারসন ক্লাবের সদস্য জেসিকা। জেসিকার মা জানিয়েছেন, অন্তত ১৮ মাস আগে থেকে জেসিকার উচ্চতা আর বাড়ছে না। দ্য মেইল

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১১

৫৩ বছর পর প্রেমপত্র হাতে এসে পৌছল!!!

 
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ক্লার্ক সি. মুরকে প্রেম নিবেদন করে চিঠি পাঠিয়েছিলো একজন। কিন্তু ওই চিঠি তার হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে বুড়ো হয়ে গেলেন তিনি।

কারণ, এই প্রেমপত্র ১৯৫৮ সালে পোস্ট করা। আর কাঙ্খিত ঠিকানায় পৌঁছেছে ৫৩ বছর পর।

"চিঠিটি মুরের ঠিকানায় পোস্ট করা হয়েছিল ২০ ফেব্র"য়ারি ১৯৫৮ সালে। কিন্তু অবাককান্ড, গত সপ্তাহে তা মেইল রুমে এসে পৌঁছায়," বলেন, পেনসেলভানিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ক্রিস্টিনি কিনডল।

তার কথাতেই জানা গেলো, বৃহস্পতিবার মুরকে খুঁজে পাওয়া গেছে, তার বয়স এখন ৭০। থাকেন ইন্ডিয়ানাপোলিসে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার হদিস বের করেছে।

কিনডল বলেন, "আমরা তার কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছি। চিঠির সঙ্গে 'তোমাকে চাই' লেখা একটি টি-শার্টও ছিল। ওটাও পাঠানো হয়েছে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

প্রেমিকের স্মৃতি ভুলতে গাড়ির রং বদলালেন প্যারিস!

সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলতে অতিপ্রিয় জাপানি সুপারকারটির রং বদলে ফেললেন হলিউডি তারকা প্যারিস হিলটন। খবর ব্যাংশোবিজ-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ৩০তম জন্মদিনের উপহার হিসেবে প্যারিসকে হলুদ রঙের গাড়িটি দিয়েছিলেন বয়ফ্রেন্ড সাই ওয়েটস। গাড়িটি প্যারিসের এতোই প্রিয় যে, সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর ওয়েটস এর স্মৃতিবিজড়িত সব জিনিসপত্র ঝেড়ে ফেললেও গাড়িটি তিনি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তবে ওয়েটসের স্মৃতি ভুলতে প্যারিস এবারে লেক্সাস এলএফএ মডেলের হলুদ রংয়ের গাড়িটি সাদা রং করিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে ওয়েটসের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানেন প্যারিস।

সাবেক বয়ফ্রেন্ডকে মনে পড়ে এমন কোনো স্মৃতি তার কাছে থাকুক এটা আর চাইছেন না প্যারিস। কারণ? নতুন বয়ফ্রেন্ড খুঁজে পেয়েছেন প্যারিস। জানা গেছে, ‘হ্যাংওভার ২’ ছবির পরিচালক টড ফিলিপসের সঙ্গে চুটিয়ে ডেটিং চালাচ্ছেন হলিউডের এই আবেদনময়ী তারকা।


বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/নাহিদ/টিকে/এইচআর/জুলাই ২১/১১

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১

৩ বছর ধরে স্ত্রীর রক্ত পান !

অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি সত্যি। বিশিষ্ট আমেরিকান লেখিকা স্টিফানি মেয়ারের লেখা টোয়াইলাইট ছবিতে যারা ভ্যাম্পায়ারকে মানুষের রক্ত খেতে দেখেছেন ঘটনাটি ঠিক তেমনি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামের পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রীর রক্ত পান করেছে তিন বছর ধরে। এতদিন কেউ জানতো না। সইতে না পেরে স্ত্রী নিজেই এ অবিশ্বাস্য ঘটনা ফাঁস করেছে। আজ সোমবার দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ লোমহর্ষক উপাখ্যান প্রকাশিত হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের দামো জেলার ২২ বছরের স্ত্রী দীপা আরিবার পুলিশকে জানায়, স্বামী মহেষ বিগত তিন বছর ধরে তার রক্ত পান করেছে। সে প্রতিদিন সিরিঞ্জ দিয়ে তার বাহু থেকে রক্ত বের করে নিতো। মহেশ সেই রক্ত একটি শূন্য গ্লাসে রাখতো এবং এভাবে সে তৃপ্তির সঙ্গে ৩ বছর তার রক্ত পান করেছে। প্রতিদিন সে রক্ত নিতো। দীপাকে সে হুমকি দিতো। বলতো, এ ঘটনা ফাঁস করে দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
২০০৭ সালে শিকারপুরা গ্রামের দীপার সঙ্গে কৃষি শ্রমিক মহেষের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মহেষ তার স্ত্রীর শিরা থেকে রক্ত নিতে শুরু করে। রক্ত নিয়ে সে মজা করে পান করতো। মহেষ বলতো, রক্ত পান করায় সে বলবান হচ্ছে। দীপা গর্ভবতী হলেও মহেষ রক্ত নেয়া বন্ধ করেনি। সাত মাস আগে দীপা পুত্র সন্তানের মা হয়েছে। মা হওয়ার পর সে প্রতিবাদ করতে শুরু করে। দীপা পুলিশকে আরো জানায়, স্বামী রক্ত নেয়ার পর তার মাথা ঘুরাতো। বমি বমি লাগতো। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হতো। অবশেষে এ মাসের গোড়ার দিকে দীপা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে পালিয়ে আসে। পিতার বাড়িতে এসে সে পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বলে। তবে এখানেও তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া কম হয়নি। শিকারপুরা গ্রামের লোকদের চাপে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

ভলভো বাস আর চলবে না!

 প্রতিটি বাস কেনা হয় এক কোটি তিন লাখ টাকায়  বয়সসীমা ছিল ১৫ বছর চলেছে আট বছর  বর্তমানে প্রতিটি মেরামতে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হচ্ছে  রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি  নতুন বাস কেনায় আগ্রহ বেশি

গত রোববার বেলা তিনটা। ফার্মগেট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একটি টিকিট কাউন্টার। সরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত আবদুল মতিন মতিঝিল যাওয়ার জন্য ১০ টাকার একটি টিকিট কিনে দেখেন গায়ে লেখা ‘ভলভো বাস সেবা’। কিন্তু বাসে উঠতে গিয়ে দেখেন ভলভো নয়, চীনের তৈরি বাসের জন্য এই টিকিট দেওয়া হয়েছে। টিকিট বিক্রেতার কাছে কারণ জানতে চাইলে বলেন, ভলভো দ্বিতল বাস আর যাত্রী পরিবহন করে না। 
টিকিট বিক্রেতার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রায় ৬১ কোটি টাকায় কেনা বিআরটিসির ৫০টি ভলভো বাসের ৪০টিই এখন পুরোপুরি অকেজো। অচল বাসগুলো গাজীপুরে সংস্থার মেরামত কারখানায় পড়ে আছে। বাকি ১০টি বাস কিছুটা সচল হলেও সেগুলো দিয়ে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে না। ‘স্টাফ বাস’ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা দপ্তরের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
ভলভো বাসগুলোর ন্যূনতম বয়সসীমা ১৫ বছর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নয় বছরের মধ্যেই প্রায় সব বাস অকেজো হয়ে গেছে। বিআরটিসি সূত্র জানায়, কিছু বাস পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যেই মেরামত কারখানায় যায়। 
ভলভোর পতন: সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) আর্থিক সহায়তায় সুইডেন থেকে ভলভো বাসগুলো আমদানি করা হয় ২০০২ সালে। সিডা, ভলভো বাসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইডিস মোটরস ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতির কারণেই বাসগুলো অল্প সময়ের মধ্যে অকেজো হয়ে গেছে। বিআরটিসির একটি সূত্র জানায়, সব সরকারের আমলেই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিআরটিসির কর্মকর্তারা নতুন বাস কেনার প্রকল্প নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন। ‘কমিশন বাণিজ্যের’ কারণে নতুন বাস কেনার পেছনে ছুটতে গিয়ে পুরোনো বাস আর মেরামত হয় না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাসগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। ভলভো বাসের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। 
২০০৮ সালে বিভিন্ন সময় ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা প্রায় দেড় শ অকেজো বাসের তালিকা করে সেগুলো নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নেয় বিআরটিসি। সেই বাসগুলোর মধ্যে কিছু কিছু বাসের বয়স পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে ছিল। তবে তখন ভলভো নিলামে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 
বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) মেজর কাজী শফিক উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি অকেজো ভলভো বাস মেরামতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সরকারি অনুদান না পাওয়া গেলে এই বাস মেরামত করা যাবে না। অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় এবং যন্ত্রাংশের দাম বেশি হওয়ার কারণে এই সেবাটি চালু রাখা যাচ্ছে না। 
বিআরটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, চীন থেকে নতুন বাস কেনা হয়েছে ৩৩ লাখ টাকায়। নতুন বাস কেনার সময় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটিতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ভলভো বাস মেরামতে আগ্রহ নেই কারও। ওই কর্মকর্তা বলেন, ধরে নেওয়া যায়, এই সেবাটির ভবিষ্যৎ এখানেই শেষ।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, ৪০টি অকেজো বাসের ১৭টি ২০০৮ সাল থেকে চলে না। ২০০৯ সালে এসে অকেজো বাসের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪-এ। গত দেড় বছরের ব্যবধানে বাকি বাসগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। সূত্র জানায়, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে ভলভো বাসগুলো আস্তে আস্তে রাস্তা থেকে উঠে যায়। 
শুরু থেকে ভলভো বাসের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইডিস মোটরস থেকে নেওয়া হতো। বিগত জোট সরকারের আমল থেকে বাকিতে যন্ত্রাংশ কেনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিআরটিসির কাছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা পাওনা হয়। জোট সরকার এ টাকা পরিশোধ না করায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে সুইডিস মোটরস যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। 
যেভাবে শুরু: শুরু থেকেই ভলভো বাসগুলো রাজধানীর মতিঝিল-মিরপুর ও মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর পথে চলাচল শুরু করে। অল্প দিনের মধ্যেই এই সেবাটি জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠে। 
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রথম আওয়ামী লীগের সরকার ভলভো বাস কেনার প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে সিডা ৬১ কোটি টাকার অর্ধেক সাহায্য এবং বাকি অর্ধেক সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দেয়। প্রতিটি বাস এক কোটি তিন লাখ টাকা হিসেবে ৫০টি বাস কেনায় ব্যয় হয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হয় রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে। 
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে নেওয়া ঢাকা নগর পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্পে রাজধানীর যানজট নিরসনে বড় এবং দ্বিতল বাস বেশি করে নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আলোকে ২০০২-০৪ সালের মধ্যে সুইডেন থেকে ৫০টি ভলভো এবং ভারত থেকে ২০৫টি আশোক লিল্যান্ড দ্বিতল বাস নামানো হয়। ভলভো দ্বিতল বাসে মোট আসন ১২০টি। শুরুতে বলা হয়, আসনের অতিরিক্ত আরও ৪০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারবে। একটি ভলভো বাসে পাঁচটি মিনিবাসের সমান যাত্রী বহন করা সম্ভব।
সিডার মূল্যায়ন: সিডা ২০০৪ সালে ৫০টি ভলভো বাসের ওপর একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভলভো বাসের শতকরা ৯০ ভাগ সচল ছিল, যা ইউরোপীয় মানদণ্ডের চেয়েও বেশি। চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই একটি বাস পুড়িয়ে দেওয়ায় সচলতার হার কিছুটা কম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভলভো বাসগুলো ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার চলেছে। ১৯৯৯ সালে যখন এই প্রকল্পটি নেওয়া হয় তখন প্রতিটি বাস বছরে ছয় হাজার কিলোমিটার চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি বাসে বছরে সাত লাখ ২০ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বাসে বছরে যাত্রী পরিবহন করা হয় তিন লাখ ১৪ হাজার ৮০০।

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১১

দুনিয়ার বিচিত্র আইন সমুহ

সবচেয়ে লম্বা কোন হাত? ডান হাত,বাম হাত অথবা অজুহাত? এই প্রশ্ন করলে কেউ বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে গিয়ে বলবে আইনের হাত।কারন আইনের হাত যে কত শক্ত তা মানুষ জানে।আইন যতক্ষন হাত হিসেবে থাকে তখন তা অনেক লম্বা ক্ষমতাশালী।কিন্তু কার্বনের মত আইনের বহুরূপতা য়াছে।এর দুটা রূপের আরেকটা হল জাল।আইন যখন জাল হয়ে যায় তখন তার ফাঁক ফোকড় হয়ে যায় বিশাল এবং বিস্তৃত।এর বিশাল ফাকঁ গুলো দিয়ে রাগব বোয়ালরা সহজেই চলাচল করতে পারে।তবে আইনের হাত কিন্তু অনেক শক্ত।

আইনের হাতের এই শক্তিমত্তার রূপক হিসেবে বিচারকদের লম্বা হাতার পোষাক পড়তে হয় কোন কোন দেশে।এই পোষাকের আরো বিভিন্ন রূপক অর্থ আছে।যেমন এই কাল রঙের পোষাকের অর্থ নাকী নিজের পরিচয় গোপন রাখা।আর গলার সাদা ব্যান্ডের অর্থ মিথ্যার কাল আধাঁর থেকে সত্য প্রকাশ।আমাদের দেশের প্রধান বিচারপতি যে পরচুলা পড়েন এই পরচুলা দিয়ে বোঝানো হয় বিচারক মায়ের মত।মায়ের কাছে যেমন আপনি যেমন আপনার ছোট তেমন ঠিক তেমনি এই বিচারকের কাছে বাদী বিবাদী সবাই সন্তানের মত ,সবাই সমান।

দেশে এবং বিদেশে এমন কিছু আইন আছে যেগুলো শুনতে একটু হাস্যকর এবং অদ্ভুত বলে মনে হয়।বাংলাদেশের আইনের দন্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় আছে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করলে তার শাস্তি এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা একবছরের কারাদন্ড দেয়ার বিধান।এক্ষেত্রে উভয় দন্ডেও হতে পারে।

কলোরাডতে যৌক্তিক কোন কারন না দেখিয়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা এক ধরনের চুরি।প্রতারনা অথবা ছিনতাইয়ের পর্যায়েও পড়ে।মহান আদালত এ ব্যাপারে বলেছেন, বৃষ্টির পানি এভাবে ধরে রাখলে কৃষিকাজের জন্য পানি পাওয়া যাবে না।অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়বে।

হংকংযে একটা আইন আছে যদি কারো স্ত্রী পরকীয়া করে তবে স্বামী তাকে খুন করতে পারে।তবে শর্ত একটাই খুন করতে হবে খালি হাতে।তবে যে লোকের সাথে পরকীয়া করেছে তাকে অস্ত্র দিয়ে খুন করতে পারবে।

আমেরিকার আরিজোয়ানাতে শিশুরা পেয়াজ খেয়ে স্কুলে যেতে পারবে না বলে আইন আছে।১৮৮০ সালে এই পেয়াজ নিষিদ্ধকরন আইন পাশ হয়।আমেরিকার আরেকটি আইন হল কেউ রসুন খেয়ে গির্জা থিয়েটার ইত্যাদিতে যেতে পারবে না।ম্যাসাটুচেসের একটা আইন কেউ গির্জায় চীনাবাদাম খেতে পারবে না।

ক্যালিফোর্নিয়ার সুসানভিলে শব্দ করে সুপ খাওয়া অপরাধ।মায়ামীতে পুরুষের স্ট্র্যাপলেস গাউন পরে জনসমক্ষে যাওয়া আইনত অপরাধ।

ইলিনয়িস রাজ্যে আরেকটি আইন রয়েছে শীতকালে কোনো বাচ্চা জমে থাকা তুষার দিয়ে স্নো বল বানিয়ে গাছের দিকে ছুঁড়তে পারবে না।


আলাস্কায় কোনো গ্রিজলি ভালুককে মোটেও বিরক্ত করা যাবে না।উনি সম্মানী লোক।আপনি কেন বিরক্ত করবেন।

মেইন-এ একটা অতি পুরনো আইন রয়েছে, কোনো খচ্চরকে আগুনে ফেলা যাবে না।

মেইন-এ রাস্তায় হাঁটা অবস্থায় কোনো পথচারীর জুতার ফিতে যদি খোলা পাওয়া যায়, তাহলে এটা আইনত অপরাধ।

সান দিয়েগোতে একটা আইন রয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গান গেয়ে পেট চালায়, তাদের অবশ্যই কাপড় পরতে হবে।

কানেকটিকাট রাজ্যে কড়া আইন রয়েছে, কোনো বাচ্চা পা ওপরে তুলে হাতে হেঁটে রাস্তা পেরোতে পারবে না।এই এলাকার বাচ্চাগুলা এককালে বান্দরস্বভাবের ছিল এটার প্রমান পাওয়া যায় এই আইন থেকে।ডারউইনের বিবর্তনবাদ প্রমানে এটা একটা যুক্তি হতে পারে।


মিশিগানে কঠোর আইন রয়েছে, যদি দোতলার চেয়ে উঁচু কোনো দালান তোলা হয়, তাহলে সেই দালানের প্রতিটা জানালায় একটা করে দড়ি ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
আমেরিকার মিশিগানে কোন বিবাহিত মহিলার চুল কাটাতে স্বামীর অনুমতি লাগে।


ইন্ডোনেশিয়ায় হস্তমৈথুনের শাস্তি হলো মুন্ডচ্ছেদ।

আমেরিকার কলাম্বিয়া প্রদেশে মেয়ের বাসর রাতে তার মার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

গুয়ামের আইন অনুসারে কোন কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে পারেনা। তাই কিছু লোক আছে যারা পয়সার বিনিময়ে কুমারিত্বের অভিশাপ মুক্ত করার কাজ করে। মেয়ের বাবা-মা সাধারনতঃ এই কাজের জন্য অনেক টাকা থরচ করেন।এরা কাজ শেষে সার্টিফিকেট দেয়।

লেবাননের আইন অনুসারে কোন পুরুষ লোক গৃহপালিত পশুর সাথে সহবাস করতে পারে। কিন্তু পশুটা অবশ্যই মাদী হতে হবে। মদ্দা পশুর সাথে সহবাস করার শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড।

এথেন্সের পুলিশ কোনও গাড়ির চালকের লাইসেন্স বাতিল করে দেবার ক্ষমতা রাখে যদি ঐ চালক গোসল না করে গাড়ি চালায় অথবা চালকের বেশভূষা না ঠিক থাকে।

মস্কোতে আবহাওয়াবিদরা ভুল তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।এটা বাংলাদেশে হলে বিটিভির আবহাওয়াবিদদের খবর হয়ে যেত।

ইংল্যাণ্ডে পার্লামেন্টে মৃত্যুবরন করা বেআইনি।

ফ্রান্সে শুকরের নাম নেপোলিয়ন রাখা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

ইংল্যান্ডে একজন গর্ভবতী মহিলা যেকোন জায়গায়মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এমনকি তিনি চাইলে কোন ট্রাফিক পুলিশে হেলমেটে মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এটা তার বিবেচনা।

সিঙ্গাপুরে চুইং গাম অবৈধ।
ইন্ডিয়ানাতে রবিবারে গাড়ি বিক্রি করা আইনত দন্ডনীয়।


জাপানে কোন মেয়েকে ছেলে ডেটিং য়ে যেতে বললে মেয়েটি আইন অনুসারে না করতে পারবে না।


জাপানে কারো বড় ভাই তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে ছোট ভাইকে সম্মানীত করতে চাইলে আইন অনুসারে গার্লফ্রেন্ড অসম্মতি জানাতে পারবে না।

জাপানে একটা মাছের নাম ফাগু।এই ফাগু মাছ ৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করা আইনত অপরাধ।৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করলে এটি থেকে একধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়।


জাপানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিল্ডিংযে মেয়েদের ব্রা না পড়া আইনত দন্ডনীয়।

১৬০৪ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জেমস witch craft act নামে একটা আইন প্রনয়ন করেন।এই আইনে যারা কালোশক্তি মানে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করবে তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়।সাধারনত যারা কৃষ্ণশক্তি বা এই ব্ল্যাকম্যাজিক ব্যবহার করত তাদের বলা হত ডাইনি।ডাইনিদের পুড়িয়ে মারা হত,যদিও বিধান ছিল ফাসিতে ঝুলিয়ে মারা।এই আইনের আয়তায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মারা হয়।ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত জোয়ান অব আর্ক কে এই আইনের অধীনেই পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।তিনি ফ্রান্সকে ইংল্যান্ডের শাষন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।১৯৫১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন বাতিল করে দেয়।


প্রাচীন ভারতে এক আইন ছিল সতীদাহ প্রথা।এই প্রথায় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদের সহমরনে যেতে বাধ্য করা হত।কোন ধনী লোকের মৃত্যুর সম্পত্তি অধিকার করার লোভে তার আত্মীয়রা তার সদ্যবিধবা স্ত্রীকে ধরে বেঁধে, ঢাক-ঢোলের শব্দ দ্বারা তার কান্নার আওয়াজকে চাপা দিয়ে তার স্বামীর সাথে চিতায় শুইয়ে পুড়িয়ে মারতো।পরবর্তীতে ১৮২৯ সালে ৪ ডিসেম্বর রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের ফলে উইলিয়াম বেন্টিংক এই প্রথা বেঙল প্রেসিডেন্সিতে বাতিল করেন।


তথ্যসুত্রঃ
বিভিন্ন ওয়েবসাইট
হুমায়ুন আহমেদের ম্যাজিক মুন্সী
উইকিপিডিয়া

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

৬৬ বছরে ৩৯ বউ, চাই আরও!


প্রচলিত আছে ‘কাউকে বিপদে ফেলতে চাও তো বিয়ে করিয়ে দাও’। বিয়ে নিয়ে তাই আমাদের ভাবনার শেষ নেই। বিয়ে তাই অনেকের কাছে রীতিমত ভীতির ব্যাপার- চিকিৎসা বিজ্ঞানে যাকে বলে ম্যারেজ ফোবিয়া। কিন্তু উত্তর ভারতের জিয়না চানা’র কাছে বিয়ে নিয়ে এসব ভাবাভাবির কোনও ফুরসৎ নেই।
মিয়ানমারের সীমানা ঘেষা মিজোরাম রাজ্যের উঁচু পাহাড়ি গ্রামের জিয়না চানার বয়স এখন ৬৭ ছুঁই ছুঁই। বয়সে তাকে ৬৭ বছরের বুড়ো ভাবলেও চানা কিন্তু তেমনটি ভাবেন না। বর্তমানে তার বিয়ে করা স্ত্রীর সংখ্যা মাত্র ৩৯ জন। মাত্র বলছি এ কারণে যে, ৬৭ বছরেও চানার আরও বিয়ের করার ইচ্ছেটা মোটেও কমে যায়নি।
সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যমতে, কেউ আগ্রহী হলে তিনি নাকি আরও কয়েকটি বিয়ে করতে একপায়ে খাড়া। ‘প্রতিদিনই আমি আমার পরিবার বর্ধিত করতে চাই এবং আরও বিয়ে করতে চাই’- বিয়ে এবং পরিবার নিয়ে জিয়না তার মনোভাব প্রকাশ করেন এভাবেই।
১৭ বছর বয়েসে চানা প্রথম বিয়ে করেন। তার সেই স্ত্রীর বয়স ছিল তখন তার চেয়ে ৩ বছর বেশি। সে-ই শুরু। তারপর আর থেমে থাকেনি বিয়ে নামের দিল্লিকা লাড্ডুর পৌণপুনিক স্বাদ গ্রহণ করার পালা।

সন্তান-সন্ততিসহ জিয়না চানা ও তার ১০০ ঘরবিশিষ্ট বাড়ি
বিয়ের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে চানা বলেন- একটা সময় ছিল যখন আমি বছরে সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত বিয়ে করেছি। চানার ৩৯ জন স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে ৯৪ জন ছেলেমেয়ে। ছেলেমেয়েদের ঘরে জন্ম নেওয়া নাতি-নাতনীর সংখ্যা এরই মধ্যে দাঁড়িয়েছে ৩৩। অর্থাৎ ৬৭ বছরের বুড়ো চানার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা এখন ১৬৭।
চানার নিজ গ্রামের চারতলা একটি দালানে ১০০টি রুমে বসবাস করছে পরিবারের সব সদস্য। আর তার স্ত্রীরা থাকেন চানার নিজ বেডরুমের পাশের একটি ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে। তবে স্থানীয়রা জানান, সব সময় স্ত্রীদের অন্তত ৭-৮ জন তার চারপাশ ঘিরে থাকুক-চানার পছন্দ এমনটিই।
১৬৭ সদস্যের বিশাল এ পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন পড়ে কমপক্সে ৯১ কেজি চাল এবং ৫৯ কেজি আলু যার অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা এবং বাকি তার অনুসারিদের অনুদানের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়।
১৯৪২ সালে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বনকারী জিয়না চানা পরে নিজেই একটি ধর্মীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। বহুবিবাহে বিশ্বাসী চানা মনে করেন- বহুবিবাহের মাধ্যমে তার প্রবর্তিত বিশেষ খ্রিস্ট ধর্ম এক সময় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। আর মূলতঃ এ কারণেই নাকি চানা ৩৯ টি বিয়ে করেছেন!

সাড়ে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারেননি ১৪ জেলে

‘পোলাডা আইজ চাইর বছর ধইর‌্যা ভারতের জেলে বন্দী অইয়্যা রইছে। পরিবারে আয়-রোজগার করনের আর কেউ নাই। মানষের ধারে চাইয়্যা-চিন্তা পাইলে খাই, না পাইলে না খাইয়্যা থাহি।’
কয়েক দিন আগে আক্ষেপের সুরে এ কথাগুলো বলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাসেম পেয়াদা। তাঁর ছেলে আলমগীর পেশায় জেলে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় আলমগীরসহ ১৪ জন জেলে একটি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে দিক হারিয়ে ভারতে চলে যান। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের আটক করে ভারতের ওডিশার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। তাঁরা এই সাড়ে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারেননি।
ভারতের কারাগারে আটক অপর ১৩ জন জেলে হলেন পাথরঘাটার চর লাঠিমারা গ্রামের করিম খানের ছেলে বাবুল খান, মোতালেব মিয়ার ছেলে দেলোয়ার ও আব্বাস, নকুল চন্দ্রের ছেলে মনোতোষ ও নির্মল, সোহরাফ হোসেনের ছেলে আবদুর রহিম, বজলুর রহমানের ছেলে শামসুর রহমান, মোতালেব মিয়ার ছেলে আউয়াল, সামসুর রহমানের ছেলে বাদশা মিয়া, আবদুর রহমানের ছেলে বারেক মাঝি, সৈয়দ আলীর ছেলে ফুল মিয়া, বাদুড়তলা গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে জাকির এবং মজিদ ফকিরের ছেলে আজিজ ফকির।
এসব জেলের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ ও ১৭ জুন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৭৯ জন জেলে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আশ্রয় নেন। ছয় দিনের মাথায় ওই দেশের সরকার তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও সরকারের অবহেলার কারণে তাঁদের সন্তানেরা দেশে ফিরতে পারেনি।
বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের উপহাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে ওই ১৪ জন জেলের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বন্দী জেলেদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করে তা জানানোর অনুরোধ করা হয়।
ওই চিঠির সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন গত বছরের ১১ মে বরগুনার পুলিশ সুপারকে ভারতের ওডিশা কারাগারে বন্দী ১৪ জন জেলের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিতের জন্য তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি চিঠি দেন। সে অনুযায়ী মে মাসের শেষ দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এক বছর পার হলেও ওই জেলেরা মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসতে পারেননি। এ কারণে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
বরগুনা-২ আসনের সাংসদ গোলাম সবুর জানান, অচিরেই তিনি বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করবেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বন্দী জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাবেন।

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

'টেস্টটিউব বেবি' নিচ্ছেন ঐশ্বরিয়া!


গুজব রটেছিলো, কখনও নাকি মা হতে পারবেন না বলিউডি অভিনেত্রী এবং বচ্চন পরিবারের ‘বহুরাণী’ ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে, সে গুজবের আগুনে জল ঢেলে অমিতাভ বচ্চন টুইটে জানিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়ার মা হওয়ার খবর। এদিকে, ‘ভেজা ফ্রাই’খ্যাত অভিনেত্রী ভৈরবী গোস্বামী সম্প্রতি দাবি করেছেন, স্বাভাবিকভাবে নয়, ঐশ্বরিয়ার শিশুর জন্ম হচ্ছে টেস্টটিউবে। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।  

কৃত্রিম উপায়ে টেস্ট টিউবে যে শিশুর জন্মানোর প্রক্রিয়াটি সারা হয়, তাকেই বলা হয় টেস্ট টিউব বেবি। আর কৃত্রিমভাবে জন্ম দেয়ার এই পদ্ধতিকে বলা হয় ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)। মায়ের শরীরের বাইরে প্রাণহীন টেস্ট টিউবে শিশুর জন্ম দেয়ার প্রক্রিয়ার কারণেই এই পদ্ধতিটির এমন নামকরণ।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভৈরবী গোস্বামী তার টুইটার এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের আইভিএফ পদ্ধতিতে ছেলে সন্তান নেবার খবরটি দিয়েছেন। এজন্য অ্যাশকে নাকি ব্যাংককের আইভিএফ ক্লিনিকেও যেতে হয়েছে। 

অবশ্য, বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে অমিতাভ বচ্চন বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/মিন্টু/টিকে/এইচআর/জুলাই ০২/১১

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

দুই মেয়ে নিয়ে দেড় বছর গৃহবন্দী বাবা

সিলেট নগরের অভিজাত আবাসিক এলাকা হাউজিং এস্টেটের ১৩২ নম্বর বাড়ি ‘সহিদ মঞ্জিল’। এর প্রধান ফটকে যুক্তরাজ্যের পতাকা আঁকা। দেয়ালজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ইংরেজি ও আরবিতে লেখা কিছু সন-তারিখ আর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানের নাম। দোতলা বাড়িটির নিচতলায় কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করেন যুক্তরাজ্যফেরত বাবা আবদুন নূর (৭০)।
বাইরে থেকে এলাকাবাসী শুধু এটুকুই জানত। বাড়ির ভেতরে যে বাবা, মেয়েসহ তিনজনই প্রায় দেড় বছর ধরে একধরনের স্বেচ্ছাবন্দী জীবন যাপন করছেন, তা জানা গেল গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ উদ্ধারের পর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মত, তাঁরা সবাই মানসিকভাবে অসুস্থ।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবদুন নূর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে মেয়েদের নিয়ে এ রকম অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। গতকাল সকালে পুলিশ তাঁদের ‘বন্দিদশা’ থেকে উদ্ধার করে আত্মীয়দের মাধ্যমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
প্রতিবেশী, আত্মীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কইয়ারখই গ্রামের বাসিন্দা আবদুন নূর ১৯৫৬ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে কর্মজীবন শেষ হলে তিনি ১৯৯৬ সালে দেশে ফেরেন এবং স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে হাউজিং এস্টেটের ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। বাড়িটির অন্য তলায় তাঁর আরও দুই ভাই সপরিবারে থাকতেন।
আবদুন নূরের দুই মেয়ের মধ্যে শাফিয়া বেগম (৩২) নগরের আম্বরখানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। ছোট মেয়ে আফিয়া ওই বিদ্যালয়েই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। পড়াশোনা চলাকালীন হঠাৎ বাবা আবদুন নূর আম্বরখানায় একটি সেলাই কারখানা খুলে দুই মেয়েকেই সেখানে কাজে লাগিয়ে দেন। আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে আবদুন নূরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম মারা গেলে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ‘গৃহবন্দী’ জীবনযাপন শুরু করেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে তাঁদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
আবদুন নূরের ভাইপো আবদুল ওয়াদুদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁরা চাচার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে চাচি মারা যাওয়ার পর তাঁরা তিনজন ঘরে বন্দিজীবন শুরু করেন। আত্মীয়রা একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাঁদের দা নিয়ে তাড়া করা হতো। আটকা থাকা অবস্থায়ও যাতে তাঁরা ভালো থাকেন, এ জন্য ফ্ল্যাটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নিজে থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে রেখে অন্ধকারের মধ্যেই থাকতেন। সপ্তাহে এক-দুবার তাঁদের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত।
আবদুন নূরের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাত্রে কাঁঠালের বিচি আর শুকনো মরিচ ছাড়া আর কিছু নেই। প্রতিবেশীরা জানান, সপ্তাহে এক-দুবার আবদুন নূরকে সাধারণ পোশাকে বের হতে দেখতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি হিসেবে পরিচিত হলেও গত দেড় বছরে তাঁকে মসজিদে দেখেননি কেউ।
কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, তাঁরা শুনেছেন, আবদুন নূর যুক্তরাজ্য থেকে অনেক টাকা নিয়ে ফিরেছিলেন। তাঁরা মনে করেন, স্ত্রীর মৃত্যু ছাড়াও ওই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কোনো সমস্যার কারণেও বড় মানসিক আঘাত পেয়ে তাঁর এই অবস্থা হয়ে থাকতে পারে। তবে হাসপাতালে পাশে থাকা আবদুন নূরের এক ভাই তাজউদ্দিন এ ধারণা সত্যি নয় বলে দাবি করেন। তাজউদ্দিন জানান, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আবদুন নূর মেজো। দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তাঁরা খোঁজখবর কমই নিতেন। পুলিশ উদ্ধার করেছে শুনে হাসপাতালে এসে তিনি ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। তাজউদ্দিন বলেন, তাঁদের জানামতে, ভাই আবদুন নূর অর্থবিত্তের প্রতি উদাসীন। যুক্তরাজ্যে অবসর ভাতাও নাকি তিনি নিয়মিত উত্তোলন করতেন না। তবে ঠিক কী কারণে দুই মেয়েকে নিয়ে এমন অস্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন, এ বিষয়ে তাঁদের ধারণা নেই।
গতকাল দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি শয্যায় থাকা আফিয়া ও শাফিয়া নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন এবং হাসছেন। দুজনেরই পরনে ছেলেদের পোশাক। কথাবার্তায় বিদেশি টান। শাফিয়ার শরীর রোগা হয়ে গেছে। তাঁর ডান হাতে ও দুই পায়ের গোড়ালিতে ঘা।
অন্য ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বাবা আবদুন নূরকে। দেখা গেল শয্যায় বসে নামাজ পড়ছেন। এ প্রতিবেদককে ‘আর ইউ এ রিপোর্টার?’ প্রশ্ন করে বলেন, ‘হোয়াট ইজ লাইফ! আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি!’ (জীবন যে কী! আমি খুব সুখী)। দুই মেয়ের কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাই ডটার্স আর ওয়েল অ্যান্ড গুড’ (আমার মেয়েরা ভালো আছে)। নিজ ঘরে বন্দিজীবন কেন, এ প্রশ্নের জবাবে শুধু বাংলায় ‘আল্লাহর হাওলায় রাখছি’ বলে নীরব হয়ে যান আবদুন নূর।
ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক মকসুদুল হাসান খান জানান, তিনজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় বোন শাফিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাঁর হাতে ও পায়ে চর্মরোগ হয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অপুষ্টিজনিত রোগ। আফিয়াকে সুস্থ দেখালেও তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান গোপাল শংকর রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তিনজনকেই দেখেছি। এঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ। নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন। খাওয়াদাওয়ার কোনো নিয়ম না থাকায় শারীরিকভাবেও তাঁরা অসুস্থ। এর মধ্যে একজনের অবস্থা (আফিয়া) অপুষ্টিজনিত কারণে সংকটাপন্ন।’
এক প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘কোনো মানসিক আঘাত কিংবা একাকী জীবন ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এঁরা একাকী থাকায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। এ জন্য তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।’
প্রথম আলো..

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

সাগরতলের জাদুঘর!

undefined

মেঙ্েিকা সরকার পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরি করতে সমুদ্রতলে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে জাদুঘর। কানকুনের ইসলা নুজারিস দ্বীপের ন্যাশনাল পার্কে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ এ সমুদ্রতলের জাদুঘর
মেঙ্েিকার কানকুনের মেরিন ন্যাশনাল পার্কটি খুবই মনোহর। প্রতিবছর এখানে ঘুরতে আসেন প্রায় আট লাখ পর্যটক। এত পর্যটকের চাপে এখানকার সমুদ্রসৈকত হাঁপিয়ে উঠেছে, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্যও। তাই পার্ক থেকে পর্যটকের দৃষ্টি সরাতে বিকল্প কিছু করার চিন্তা করল কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসলা নুজারিস দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে 'কানকুন ন্যাশনাল পার্ক' নামের একটি পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হলো। সমুদ্রতলের এ জাদুঘরে বসবে ৪০০ স্থাপনা। ২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রথম দফায় এটির কাজ শুরু হয় এবং ২০১০ সালের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশির ভাগ ভাস্কর্য। এখন চলছে জাদুঘরটি সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলার কাজ। এ বছরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হতে পারে। তবে পর্যটকদের আর তর সইছে না, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করছেন জাদুঘর দেখার জন্য। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বছরের শেষ দিকে পর্যটকদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে।
সাগরতলের এই অসাধারণ জাদুঘরের কংক্রিটের স্থাপনাগুলো তৈরি করছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ ভাস্কর জেসন ডি কেয়ারস টেইলর। এখানে স্থাপিত ৪০০ ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যয় হবে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার। বিখ্যাত এ সমুদ্রতলের ভাস্কর্য নির্মাণশিল্পীর প্রথম ভাস্কর্য স্থাপিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্রানাডা পার্কে। কংক্রিটের ভাস্কর্যগুলো বানানো হচ্ছে খুবই নিখুঁত ডিজাইনে এবং পরে তা পানির নিচে নামিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ভাস্কর্যই একেকটি ভাব প্রকাশ করছে। পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে মানুষের ব্যক্তিগত চিন্তাচেতনার উপস্থাপনভঙ্গিও ভাস্কর্যগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে। সম্মিলিত প্রয়াসে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এ জাদুঘরের মূল বিষয়বস্তু বা 'থিম' করা হয়েছে।
কানকুনের প্রাকৃতিক পার্কে পর্যটকদের এতই ভিড় যে জীববৈচিত্র্য ও সমুদ্রসৈকত রীতিমতো ধ্বংসের পথে যাচ্ছিল। ১৯৯৭ সালে একটি পর্যটক জাহাজ দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার কোরাল-স্তর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ পার্কে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে আধুনিক বিশ্বে যখন পর্যটন খাত খুবই লাভজনক ব্যবসা এবং বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভের জন্য পর্যটন খাতকে সবাই উন্নত করার পরামর্শ দিচ্ছে, তখন তো পর্যটক আসা বন্ধ করা যায় না। অবশেষে ২০০৫ সালে কংক্রিটের ব্লক ও ১০০-র বেশি পিলার দিয়ে কৃত্রিম আস্তরণ তৈরি করা হয়। এতে কাজও হলো, এখন আবার ১৯৯৭ সালের ধ্বংস হওয়া কোরাল-স্তর আগের রূপ নিয়েছে। মূলত একটি পার্ক থেকে পর্যটকদের মনোযোগ ভিন্নমুখী করাতেই ন্যাশনাল পার্কে পানির নিচে এ জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সমুদ্রতলে কংক্রিটের ভাস্কর্য স্থাপনই বা কতটা পরিবেশবান্ধব এবং বৃহৎ এ স্থাপনার কাজে সমুদ্রতলের জীববৈচিত্র্যই বা কতটা হুমকির মুখে পড়বে? এ প্রসঙ্গে নির্মাতা টেইলর বলেন, ভাস্কর্য স্থাপনের কোরাল-স্তর বা অন্য জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছুই ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়নি। তা ছাড়া ভাস্কর্য স্থাপনের সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেগুলো নিজেই সমুদ্রতলের জীববৈচিত্র্যে রূপ নিচ্ছে।
* সজল সরকার.. কালের কন্ঠ.

জলবৎ তরলং

undefined



মানুষকে শূন্যে ভাসানো, লটারির টিকিটকে নগদ টাকায় রূপান্তর, তুষারকণা থেকে হীরা তৈরির মতো অদ্ভুত সব জাদু দেখাতে ওস্তাদ ডায়নামো। সম্প্রতি পানির ওপর হেঁটেছেন তিনি। এ কাজটি এত সহজভাবে করলেন, যেন এটি জলবৎ তরলং। এই অসাধারণ জাদুকরকে নিয়ে প্রধান ফিচার। লিখেছেন ওমর শাহেদ
২৮ বছরের যুবক স্টিভেন ফ্রেইনি। জন্ম তাঁর ইংল্যান্ডের ব্রেডফোর্ডে। উত্তর ইংল্যান্ডের এই অঞ্চলটি দারিদ্র্যপীড়িত। এখানেই এমন এক পরিবারে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন, যার কর্তা বছরের বেশির ভাগ সময়ই জেলখানায় বন্দি থাকেন। তাঁদের চার ভাইবোনের জীবনে তেমন কোনো গল্প নেই। ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় এই ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই রোগাক্রান্ত। এখনো তাঁকে দিনে চারটি ট্যাবলেট খেতে হয়। এই দুঃখময় জীবনে স্টিভেনের একমাত্র ভালোবাসা ছিল জাদু। জাদুর প্রতি এই ভালোবাসার জন্ম দিয়েছিলেন তাঁর দাদা। তিনি তাস খেলার একটি জাদু দেখিয়ে পুরোপুরি মুগ্ধ করে দিয়েছিলেন নাতিকে। দাদার কাছ থেকে এই বিদ্যা শিখে নেওয়ার পর জীবনের অন্য রকম আনন্দের দেখা পেয়ে স্টিভেন এটা নিয়েই সারাক্ষণ পড়ে থাকতেন। রাস্তায় চলাফেরার সময়ও হাঁ করে তাকিয়ে থাকতেন জাদুকরদের কারসাজি দেখার জন্য। আস্তে আস্তে জাদু নিয়েই ভবিষ্যৎ জীবন কাটিয়ে দেওয়ার সংকল্প করেন তিনি। নতুন করে জাদুকে মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করার ভাবনা শুরু করেন। নাচ শেখেন, হিপহপ গান শেখেন। আর এ দুটোকেই তাঁর জাদুবিদ্যার অপরিহার্য দিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এতে দর্শকদের আকর্ষণও বেড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।
দিনে দিনে তাঁর নাম ছড়িয়ে যেতে থাকে চারদিকে। আর তিনিও ডায়নামো নাম নিয়ে নতুন পরিচয়ে জাদুর আলো চারদিকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। অধ্যবসায়ের ফলও তিনি পেয়েছেন। যে ছেলেটিকে ২০ বছর বয়সেও বন্ধুর সোফায় ঘুমাতে হতো, এখন তাঁর ভক্ত অনেক, এমনকি তারকাদের সঙ্গেও দারুণ খাতির তাঁর। হলিউড তারকা গিনেথ প্যালট্রো, ব্রিটেনের বিখ্যাত র‌্যাপার মাইক স্নিকার, এমনকি ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসও তাঁর ভক্ত। তবে সব সময়ই বিস্ময়কর কিছু দেখানোর দারুণ ঝোঁক ডায়নামোর। আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সামনে লিটল ব্রিটেনখ্যাত তারকা ম্যাট লুকাসকে শূন্যে ভাসিয়ে দেন। বিবিসির একটি লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে স্বাক্ষর দেওয়া লটারিকে নগদ টাকায় রূপান্তর করেন। স্পোর্টস রিলিফ নামের সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন রবি উইলিয়ামসের মতো সংগীত তারকা। এভাবেই দিন দিন নিজের ভক্ত ও অনুরাগীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন ডায়নামো [এই নামের অর্থ আসলে অসাধ্য] নামের এই অসাধারণ প্রতিভা। তাঁর জাদু নিয়ে ডিভিডিও বেরিয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ম্যাজিক নামের সেই ডিভিডিতে অংশ নিয়েছে ব্যান্ড দল কোল্ড প্লে, গিনেথ প্যালট্রো আর আমেরিকান র‌্যাপার স্নুপ ডগের মতো তারকারা। তাঁর প্রকাশিত আরেকটি ডিভিডি হলো, 'কংক্রিট প্লে গ্রাউন্ড'। তবে তাঁর সবচেয়ে বিস্ময়কর কীর্তিটি করেছেন ২৭ জুন। হেঁটে হেঁটে টেমস নদী পার হয়েছেন তিনি। তখন ব্রিজের ওপর হাজারো মানুষ। তাঁরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছেন, কিভাবে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব! তিনি যখন নদীর ওপর দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যাওয়া শুরু করলেন, সত্যিই চারপাশের পরিবেশ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। ব্রিজের ওপর দাঁড়ানো এক নারী বলেছিলেন, আমার মনে হয়েছিল, যিশু পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আরেকজনের অভিমত ছিল, তাঁকে পানির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে এর কোনোটিই সত্য নয়। ডায়নামো নিজের জাদুবিদ্যা দিয়েই এই অসম্ভব কাজটি করেছেন। ৭ জুলাই টিভিতে শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন শো ডায়নামো : মিশন ইম্পসিবল। সেখানে হাজির হবেন ম্যানচেস্টারের কিংবদন্তি রক গায়ক ইয়ান ব্রাউন, গায়িকা নাতালি ইমবার্গলিয়া এবং ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট বঙ্ংি চ্যাম্পিয়ন ইয়ান হায়ের মতো তারকারা। সেই অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ের জন্যই এই আয়োজন। কিভাবে এই কাজটি সম্ভব হয়েছে সে কথা কোনোভাবেই প্রকাশ করেননি তিনি। তবে আগে থেকেই এই কাজের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল পোর্ট অব লন্ডন কর্তৃপক্ষের। তারা এ কারণে কোনো বাধা দেয়নি। ডায়নামো আস্তে আস্তে নদীর মাঝ বরাবর হেঁটে গিয়েছেন, ছবি তোলার জন্য পোজ দিয়েছেন এবং একসময় পুলিশের একটি স্পিডবোট তাঁকে তুলে নিয়েছে। নতুন শোতে জাদুর আরো কারিকুরি দেখাবেন তিনি। এর মধ্যে আছে বিয়ারের বোতলের মধ্যে আস্ত মোবাইল ফোন ঢুকিয়ে বের করা, কুড়িয়ে পাওয়া তুষারকণা থেকে হীরা তৈরি। ডায়নামোর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে তাঁর চিন্তাধারার একটি সূত্র পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, 'ডায়নামো ওয়ার্ল্ড : নাথিং ইজ ইম্পসিবল'! একেই বলে সাধনার ফল!..কালেন কন্ঠ..

সাত বছর বয়সেই ডাক্তার!

undefined

ডাক্তার হতে হলে নামের পাশে কয়েকটা ডিগ্রি না হলে তো চলে না। তবে যদি কোনো হাসপাতালে দেখা যায় সাত বছরের ছেলে অপারেশন করছে, তাহলে তো চমকে যাওয়ারই কথা। ভারতের অক্রিত জসওয়াল সে রকমই একজন ডাক্তার। খুদে এ ডাক্তার সাত বছর বয়সেই সফল অপারেশন চালিয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। ভারতের হিমাচল প্রদেশের এই ছেলেটি কোনো মেডিক্যাল কলেজে না পড়েই এমন প্রতিভার অধিকারী হয়েছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালের এক ডাক্তার তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে ছোটখাটো (মাইনর) একটি অপারেশন করতে বলেন। দেখা গেছে, অক্রিত ওই অপারেশনটি খুবই সফলভাবে করে ফেলেছে। তার মা জানান, খুব ছোটকাল থেকেই তাঁর ছেলে অন্য ছেলেদের তুলনায় আলাদা। চিকিৎসাশাস্ত্র ও বিজ্ঞানের প্রতি তার অদম্য কৌতূহল। পাঁচ বছর বয়সেই সে শেকসপিয়ারের রচনাসামগ্রী পড়ে শেষ করে। ভারতের চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ১১ বছর বয়সেই বিএসসি পড়ে। প্রথম টেস্টেই তার আইকিউ ওঠে ১৪৬ পয়েন্ট।
* সুশান্ত সরকার

অনুমোদন ছাড়াই ১১ কলেজে ছাত্রভর্তি

কুমিল্লা-কোটবাড়ী সড়কের চাঙ্গিনি এলাকায় পাশাপাশি কয়েকটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কুমিল্লা ক্যামব্রিয়ান কলেজ। তিন বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। 
ওই প্রতিষ্ঠানটির মতো কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয়টি জেলায় অনুমোদনহীন আরও ১০টি কলেজের সন্ধান মিলেছে। এসব কলেজের বেশির ভাগই বাসাবাড়ি অথবা মার্কেটের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। 
এর মধ্যে কোটবাড়ী এলাকার কুমিল্লা সিটি কলেজের অনুমোদন থাকলেও বিজ্ঞান শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন নেই। কিন্তু ওই শাখাতে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
অনুমোদনহীন বাকি নয়টি কলেজ হলো, কুমিল্লা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা বিজ্ঞান কলেজ, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় অবস্থিত ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চৌদ্দগ্রামের কলেজ অব ব্রিটিশ কনসার্ন, ফেনী সিটি কলেজ, ফেনীর পদুয়া এলাকায় বীকন মডেল কলেজ ও ক্যামব্রিয়েট কলেজ, চাঁদপুরের চাঁদপুর সিটি কলেজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞান কলেজ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনুমোদিত ২৯৬টি কলেজের নামের তালিকায় এ প্রতিষ্ঠানগুলো নেই।
অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করে কুমিল্লা ক্যামব্রিয়ান কলেজের উপাধ্যক্ষ মাধব চন্দ্র সিংহ প্রথম আলোকে বলেন, অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অনুমোদন ছাড়া কুমিল্লা সিটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ ইফতেখার আলম ভূঁইয়া বলেন, অনুমোদনের জন্য বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোটবাড়ী এলাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজও ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু করেছে। কুমিল্লা বিজ্ঞান কলেজ স্থাপন করা হয়েছে আদর্শ সদর উপজেলার কুচাইতলী এলাকায় দ্বিতল একটি ভবনের দোতলার পাঁচটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে। ওই কলেজের নিচতলায় রয়েছে দোকানপাট। তারাও অনুমোদন না নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। 
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বালিকা বিদ্যালয় সড়কের ভূঁইয়া ভিলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কলেজ অব ব্রিটিশ কনসার্ন’। ওই কলেজের অনুমোদনের জন্য জেলার এক সাংসদ গত ২৭ মে বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেন। 
ফেনী শহরের পাঁচগাছিয়া সড়কে ফেনী সিটি কলেজ, একই শহরের পাঠান বাড়ি সড়কে ক্যামব্রিয়েট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভাড়া বাড়িতেই এসব কলেজের কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ফেনীর পদুয়া এলাকায় বীকন মডেল কলেজের কার্যক্রম চলছে টিনশেডের দুই কক্ষের একটি ভবনে। অনুমোদন ছাড়াই এ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।
অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করে এসব কলেজের অধ্যক্ষরা বলেন, তাঁরা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. নিজামুল করিম বলেন, ‘বোর্ড আগেই অনুমোদনহীন কলেজের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যে এসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তার পরও কেউ যদি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে ভর্তি হয়, এর দায়দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে।’
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কুণ্ডু গোপী দাস প্রথম আলোকে বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হয়। অনুমোদনহীন কলেজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কলেজের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রথম আলো..

সত্যিকারের মুগলি!


সিলভি রবার্ট ও অ্যালেইন ডেগ্রে ছিলেন ফ্রিল্যান্স ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। ফরাসি এই দম্পতি আশির দশকের শেষের দিকে গিয়েছিলেন আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে; ছবি তুলতে। সেই আফ্রিকাতেই নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান। আলফ্রেড হিচককের দ্য বার্ডস ছবির অভিনয়শিল্পী টিপ্পি হেড্রেনের নামানুসারে সেই মেয়ের নাম তাঁরা রাখেন টিপ্পি ডেগ্রে।
একদিকে কোলজুড়ে এল মেয়ে, অন্যদিকে চলতে থাকল পশুপাখি ক্যামেরায় ধরে রাখার কাজ। সেই কাজের জন্য সিলভি ও অ্যালেইনকে চষে বেড়াতে হলো আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল। মেয়ে টিপ্পি বেড়ে উঠতে লাগল একদম প্রকৃতির কোলেই। তার বন্ধু হলো বনের কিছু পশুপাখি। খেলার জায়গা হলো বিশাল ঘাসবন, মরুভূমি কিংবা ঠাসবুনোটের ঝোপঝাড়। মাথার ওপর ছাদ হলো উদার জমিনের সুনীল আকাশ। 
মা সিলভি বলছিলেন মেয়ে টিপ্পির বেড়ে ওঠার দিনগুলোর কথা, ‘আফ্রিকায় একেবারে অন্য রকম একটা শৈশব কাটিয়ে এসেছে মেয়েটা। সেটা ছিল একটা জাদুর দুনিয়া, সেখানে সত্যিকারের আনন্দ পেয়েছিল সে।’ কে দিয়েছিল সেই আনন্দ? প্রকৃতি তো বটেই, বিশেষ কয়েকটি নামের কথা না বললেই নয়। একটা বেজি ছিল টিপ্পির বন্ধু, সেটিই ছিল টিপ্পির প্রথম আফ্রিকান বন্ধু, নাম ছিল ওকানতি। বন্ধু ছিল ২৮ বছরের হাতি আবু। চিতাবাঘ জেঅ্যান্ডবিও ছিল খুব কাছের। এ ছাড়া ছিল আস্ত একটা কুমির! ছিল আদুরে এক সিংহের ছানা, জিরাফ, গালাগো, উটপাখি, মিরক্যাট। খাতির ছিল একটা বাচ্চা জেব্রা, ভেড়া, সাপ ও আফ্রিকান ধূসর তোতাপাখির সঙ্গে। আর ছিল পেটমোটা ব্যাঙ ও বহুরূপী এক গিরগিটি! 
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই এই বুনো পশুপাখিকে বন্ধু মেনেছিল টিপ্পি। পশুপাখিও ছোট্ট মানুষটিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বন্ধুত্বের শুঁড়, ঠোঁট, ডানা কিংবা থাবা!
শুধু পশুপাখিই নয়, টিপ্পি বেশ ভাব জমিয়ে ফেলল বুশম্যান ও কালাহারির হিম্বা আদিবাসীদের সঙ্গে। সোনালি চুলের মেয়েটিকেও আপন করে নিল আফ্রিকার মানুষগুলো। টিপ্পির একেকটা দিন কাটতে লাগল বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যে অভিজ্ঞতা কেবলই আনন্দের। এই সকালে দেখা গেল হাতি আবুর পিঠে সওয়ার হয়েছে টিপ্পি, তার পরই দেখা গেল কুমিরটার সঙ্গে দুটো কথা বলে আসতে। দুপুরে আবার বুশম্যানদের সঙ্গে শিকার শিকার খেলায় ব্যস্ত! বিকেলে বাচ্চা জেব্রাটাকে নিজ হাতে দুধ না খাওয়ালেই নয়। সূর্য যখন পাটে যেতে বসেছে, দেখা গেল উটপাখির পিঠে করে হেলেদুলে ফিরে আসছে সে মা-বাবার কাছে! মুখে রাজ্যজয়ের হাসি।
মোটকথা, আফ্রিকায় সত্যিকারের একটা মুগলি আবিষ্কার করলেন সিলভি-অ্যালেইন দম্পতি। রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের দ্য জাঙ্গল বুক-এর ছবিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠল তাঁদের চোখের সামনে। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো সত্যিকারের মুগলি, মানে মেয়ে টিপ্পি ও তার বন্ধুদের প্রতিদিনের জীবন ক্যামেরায় ধরে রাখতে শুরু করলেন সিলভি ও অ্যালেইন। আলাদা করে কিছুই করতে হলো না তাঁদের। যা করার করল টিপ্পি নিজেই। পশুপাখির সঙ্গে দোস্তি তো তার হামাগুড়ি দেওয়ার বয়স থেকেই। তার ওপর এরই মধ্যে বুশম্যান ও হিম্বা আদিবাসীদের ভাষাও রপ্ত করেছে সে! শিখেছে তীর ছোড়ার কায়দা-কানুন। আর তার পোশাক-আশাক? কিপলিংয়ের মুগলি তাকে দেখলে লজ্জাই পেত! বুশম্যানদের মতো সংক্ষিপ্ত নেংটিতেই মেয়েটি দুর্দান্ত। এদিকে পিঠের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একরাশ সোনালি চুল। পোড় খাওয়া তামাটে চেহারা, চোখে বুনো চঞ্চলতা। মোটামুটি গাট্টাগোট্টা শরীর। এর চেয়ে ভালো সত্যিকারের মুগলি আর কোথায় মেলে?
টিপ্পি যখন ফ্রান্সে
আফ্রিকায় তোলা সত্যিকারের মুগলি টিপ্পির ছবিগুলো নিয়ে একটা বই বেরোল একদিন। নাম—টিপ্পি: মাই বুক অব আফ্রিকা। বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রকাশিত হলো তা। হইচই পড়ে গেল চারপাশে। বেশ নামডাক হলো টিপ্পির। দেশ-বিদেশের নামজাদা পত্রপত্রিকায় ছাপা হতে থাকল তার ছবি আর খবর। কিন্তু টিপ্পির মন ভালো নেই। কী হলো প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে মেয়েটির? মেয়েটিকে বন্দী করা হলো খাঁচায়! হ্যাঁ, আফ্রিকা যদি হয় উন্মুক্ত প্রান্তর, ফ্রান্সের প্যারিস খাঁচাই বটে। 
১৯৯৯ সালের বড়দিনের কথা। সিলভি-অ্যালেইন বড়দিন উদ্যাপনের জন্য মেয়েকে নিয়ে গেলেন মাদাগাস্কারে। কিন্তু সেখানে দিন কতক থাকতে না থাকতেই মেয়ের চোখ ছলছল, ‘মা, আমি ওকান্তিদের কাছে যাব!’ মেয়ের কথা ভেবে সেখান থেকে দ্রুতই পাততাড়ি গোটালেন সিলভি ও অ্যালেইন। কিন্তু এর মধ্যে একদিন ফরাসি একটি টিভি চ্যানেল আমন্ত্রণ জানাল টিপ্পিকে, সঙ্গে ওর মা-বাবাকেও। সত্যিকারের মুগলির একটা সাক্ষাৎকার চাই তাদের। তা-ই হলো, মেয়েকে নিয়ে প্যারিসে এলেন সিলভি-অ্যালেইন।
প্যারিসের বাতাসে কী ছিল কে জানে! মেয়ের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার কদিন যেতে না যেতেই সিলভি ও অ্যালেইন সিদ্ধান্ত নিলেন, বিচ্ছেদ চাই তাঁদের! দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা থমকে গেল। আর সেই সঙ্গে টিপ্পি হারাল আফ্রিকার জীবন!
সেই সময়ের কথা বলছিলেন সিলভি, ‘টিপ্পির বয়স তখন ১০। তখন সে আমাদের বিচ্ছেদের ব্যাপারটা বুঝতে শিখেছে। এবং সেই সঙ্গে আবিষ্কার করল, আফ্রিকা থেকেও সে বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে, যেমনটা হয়েছিল ওর বাবার সঙ্গে।’ আফ্রিকা ও বাবা, দুই সত্তার সঙ্গে যুগপৎ বিচ্ছেদ, টিপ্পির তখন কেমন লেগেছিল? সেই অনুভূতি সহজেই অনুমেয়। মা সিলভি দেয়ালে ঝোলানো মেয়েটার বিমর্ষ একটা ছবির দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘প্রথম দিকে কোনোমতেই প্যারিসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি মেয়েটা। সব সময় ওর আফ্রিকার বন্ধুদের কথা বলত ও! বুকটা ভেঙে যেত তখন।’ কী বলত টিপ্পি? ওর ওয়েবসাইটে লিখেছিল, ‘এখানে তো আমি আকাশটা দেখতে পাই না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি যেন খাঁচায় বন্দী।’ 
মেয়েকে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত করে তুলতে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন মা। কিন্তু নাহ্, স্কুলে কোনো বন্ধুর খোঁজ পেল না টিপ্পি। সারাক্ষণ চোখ-মুখ কালো। পড়াশোনায়ও মন নেই। দুই বছর চেষ্টা করেও স্কুলে মন টেকাতে না পেরে বাড়িতেই চলতে লাগল পড়াশোনা। চিন্তিত মা। একসময় ধরেই নিলেন, এই মেয়ে সময়-সুযোগ পেলেই ফের আফ্রিকায় ছুটে যাবে। 
মায়ের ধারণা সত্যি হয়েছিল। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হলেও শেষমেশ প্যারিসের শহুরে জীবনে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে টিপ্পি। পরে সে ভর্তি হয়েছে প্যারিসের লা সরবনে নভেলে ইউনিভার্সিটিতে। এখনো সে সেখানেই পড়ছে। পড়াশোনার বিষয় ফিল্ম মেকিং। পুঁথিগত বিদ্যা এরই মধ্যে কাজে লাগিয়েছে টিপ্পি। এবং কাজের ক্ষেত্র সেই আফ্রিকা! হ্যাঁ, ফের আফ্রিকায় ফিরে গিয়েছিল টিপ্পি। ডিসকভারি চ্যানেলের জন্য সে তৈরি করেছে ছয়টি প্রামাণ্যচিত্র। 
কদিন আগে, ৪ জুন ছিল টিপ্পির জন্মদিন। এখন ওর বয়স ২১ বছরের খানিকটা বেশি। টিপ্পির বিচরণক্ষেত্র এখন প্যারিসের শহুরে পথ। টিপ্পি প্রতিদিন সূর্যটাকে হারিয়ে যেতে দেখে বড় দালানকোঠার আড়ালে। টিপ্পি পাখির ডাক শোনে না অনেক দিন। টিপ্পির মন পড়ে থাকে সেই আফ্রিকায়। তার পরও সত্যিকারের মুগলি এখন শহুরে মানুষ। বছর কতক আগে ওকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘তোমার জাতীয়তা কী?’ ওর দ্বিধাহীন উত্তর ছিল, ‘আফ্রিকা!’ এখনো একই উত্তর দেয় টিপ্পি, ‘আমার দেশ আফ্রিকা!’
রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে মাহফুজ রহমান

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১১

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons