Thesis লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Thesis লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১১

মুম্বাই গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন বসতপুরের অনেক নারী

ভারতের মুম্বাইয়ের এক পানশালায় এক বছর কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন শানু। সঙ্গে কিছু টাকা, আর শরীরে নির্যাতনের ক্ষত। বাড়িতে পা দিয়েই তিন বছরের সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন কী নির্মম সময় পেরিয়ে এসেছেন তিনি।
শানুর মুম্বাইয়ের জীবন সম্পর্কে তাঁর মামা আকরাম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওর বাবার ক্যানসার ধরা পড়িসিলো। ভাতই যাদের জোটে না, তাদের আবার চিকিৎসা কী? কিন্তু শানু তাঁর আব্বার চিকিস্যা করাবেই। সেই জন্য সে বোম্বে গেল। তিন হাজার টাকা দালালেরে দিয়েসে। পরে শুনিসি শানুরে আটকায়ে রেখে বর্ডারে নির্যাতন করছে দালালেরা। বর্ডার পেরোবার পর এক বছরের চুক্তিতে তারে কাজ করতে হয়েছে এক বারে।’
যেমন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেছিলেন, তেমন কাঁদতে কাঁদতেই আবার একদিন দেশ ছাড়লেন শানু। যশোর সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সীমান্তবর্তী বসতপুর গ্রামের মেয়েটির কোথায় ঠাঁই হলো, সে খোঁজ কেউ রাখেনি। বাবা মারা গেছেন, স্বামী নিরুদ্দেশ। এখন মাঝেমধ্যে কিছু টাকা আসে বাড়িতে। তাতে পরিবারের লোকজন বুঝে নেয়, শানু বেঁচে আছে।
শার্শা উপজেলার বসতপুর ও এর আশপাশের গ্রামের ঠিক কত মেয়ে মুম্বাই গেছেন, তার হিসাব নেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা নারী পাচার নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানের কাছে। গ্রামের কয়েক ব্যক্তি বললেন, তাঁরা খোঁজখবর করার আর চেষ্টাই করেন না। গ্রামের প্রায় ৯০০ পরিবারের মধ্যে মুম্বাইতে কেউ থাকেন না—এমন ১০০ পরিবারও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাঁদের কাছে ‘বোম্বে’ এখন দূরের কোনো অচেনা শহর নয়, পাশের বাড়ি, বড়জোর কয়েক ক্রোশ দূরের কোনো গ্রামের নাম। এদের কেউ জেনে-শুনে শুধু একটু ভালো থাকার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাই যাচ্ছেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে বাধ্য হয়ে যৌনকর্মীর জীবন বেছে নিচ্ছেন।
এত ঝুঁকি নিয়ে নারীরা কেন মুম্বাই যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গিরামের মানুষের আসল সমস্যা হলো অভাব। ইখান থেকে বোম্বেতে ইনকাম সোর্স বেশি। দিন চলতি হলি ২০০ টাকা লাগে। এই বদ্ধ গিরামে কে কাকে এত টাকা দেবে? সেই ’৯২ সাল থিকেই মেয়েরা যাচ্ছে।’
কাগজের বউ: ১৫ বছর ধরে নারী পাচারের কাজ করছেন আমান। বললেন, ‘ধরেন গে, অনেক মেয়ে আছে পরিচয় নিয়ে যেতে চায়। সে ক্ষেত্রে একটা বিয়ের ফলস কাগজ করলিই হলো। এই আমিই তো ৮১টা বে (বিয়ে) করেছি। বউ বলে দেখিয়ে সোজা চলে যাই। তারপর বোম্বেতে বছর খানেকের চুক্তিতে কারও হাতে দিয়ে দিই।’
মুম্বাইফেরত একজন নারী জানান, মাস ছয়েক আগে তিনি এক দালালের সঙ্গে সীমান্তে যান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর এ পারের দালাল তাঁকে ওপারে পাঠিয়ে দেন। ওপার থেকে একজন ট্রেনে তুলে দেন। তিন দিন পর তিনি মুম্বাইতে পৌঁছান। কপাল খারাপ হলে বর্ডারে মারধর খেতে হয় বলেও তিনি জানান।
মুম্বাইতে এত স্বাচ্ছন্দ্য, তার পরও কেন ফিরে এসেছেন—এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আড়াই বছরের বাচ্চা। শুধু কান্নাকাটি করে।’
কোথায় কাজ করছে বাংলাদেশের মেয়েরা, জানতে চাইলে দালাল আমান নিউ মুম্বাই, ওয়াশি, সানপাড়া, জুঁইনগর, নেরুল, বেলপাড়া, খান্ডেশ্বর, পানমেলের নাম উল্লেখ করেন। যশোরের শার্শা এলাকার অধিবাসীরা সাধারণত শালকোনা, শিকারপুর, বেনাপোল, গগা, চান্দরিয়া, পুটখালী, বাহাদুরপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের বনগাঁ, কুরুলিয়া, জয়ন্তীপুর, হরিদাসপুর, ঝাউডাঙ্গা, আংরাইলে পৌঁছান।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা: যশোরে ২২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার হাসিব আলম তাঁদের নজরদারি এড়িয়ে মানব পাচারের কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ আসলে যাচ্ছে পেটের দায়ে।
কখনো কখনো নারীদের উদ্ধার করে বিজিবি ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন একজন যশোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের মেয়ে বীথি। এক দালাল তাঁকে ফুসলে বেঙ্গালুরু নিয়ে যান। দুই বছর যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেন। গত বছর চেন্নাইতে তাঁর অবস্থানের কথা জানতে পেরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় ‘রাইটস যশোর’ নামের একটি সংগঠন। এতে সহযোগিতা করে বিজিবি।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা ফিরে আসছেন তাঁদের কেউ কেউ পুনর্বাসনের পরও আবার মুম্বাই গেছেন। যদিও তাঁদের আয়ের ওপর পরিবারগুলো নির্ভরশীল, কিন্তু মুম্বাইফেরত নারীদের সমাজ গ্রহণ করছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাই অনেকে বাধ্য হয়ে মুম্বাই যাচ্ছেন।
শুধু মামলা নয়, কাজ দরকার: বসতপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব লিচু বেগমও মুম্বাই গিয়েছিলেন ২০ বছর আগে। ইট ভাঙার কাজ করেছেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর নিরুপায় হয়ে তিনি মুম্বাই যান। এখন ছেলে ও ছেলের বউ মুম্বাই থাকে। তারা টাকা পাঠায়। তিনি বলেন, ‘বাঁচতে হলে কাজ চাই, টাকা চাই। শুধু মুম্বাই যাওয়া বন্ধ করলে চলবে কী করে?’
যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ বলেন, পাচার বন্ধে তাঁরা নারীদের ক্ষমতায়নের কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১১

লিভ টুগেদার


বিশ্বমোড়ল আমেরিকায় লিভ টুগেদারের জনপ্রিয়তা নিছক কোন পারিবারিক কারনে নয়। আমেরিকানরা লিভ টুগেদার করছে অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। বিয়ে হয়নি, অথচ স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একত্রে বসবাস করছেন এমন আমেরিকান নারী-পুরুষের সংখ্যা ৭৫ লাখ। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৬৯/৭০ বছরের অধিক বয়সী অনেক অবিবাহিত আমেরিকানও 'লিভ টুগেদার' করছেন। বিয়ে মানেই পারিবারিক মেলবন্ধন। দায়-দায়িত্ব সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি নানা বিষয়ের জটিল সমাবেশ। আর এই জটিলতা এড়াতেই বিয়ে ছেড়ে লিভ টুগেদারের দিকে ঝুঁকছেন আমেরিকানরা। শুধু আমেরিকানরাই নয়, ওখানে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের মধ্যেও লেগেছে এই ছোঁয়া। লিভ টুগেদারের ক্ষেত্রে পুরুষ আর নারী একেবারে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একসঙ্গে বসবাস করে। সামাজিকভাবে জৈবিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উভয়ে সমানভাবে সংসারের খরচ বহন করে। আর শেষ বয়সে অবসরের ভাতা পৃথকভাবে পাওয়ায় তাদের দিন কাটছে চমৎকারভাবে।
গত দু'বছর ধরেই অর্থনৈতিক মন্দা আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে স্বল্প আয়ী আমেরিকানরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এমনি কঠিন পরিস্থিতিতে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের অবস্থা অকল্পনীয়। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। বিকল্প হিসেবে অনেকের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও শুধু খরচের কথা ভেবে বিয়ে করা হয়ে ওঠে না। আর তাই বিকল্প উপায় খোঁজা। আবার অনেকে ২০/২৫ বছর যাবত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড হিসেবে বাস করে সন্তানাদি নেয়ার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হননি। চাকরি অথবা ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছেন, তবুও বিয়ে করছেন না। এমন আমেরিকানদের ব্যাপারে ইউএসএ টুডে অনুসন্ধানী এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়েসী টম ব্ল্যাক এবং ৬৯ বছর বয়েসী গ্রিটা কহেন গত ১৩ বছর যাবত 'লিভ টুগেদার' করছেন। দিনভর একত্রে চলাফেরা করেন। কেনাকাটা করেন একত্রে। রান্না অথবা হোটেলের ব্যয়ও ফিফটি ফিফটি হারে বহন করেন। এর ফলে এ দম্পতির অবসর সময় আনন্দে কাটছে। অবসরভাতা অথবা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট হিসেবে তারা আলাদাভাবে যে চেক পাচ্ছেন তা দিয়ে উভয়ের মাসিক খরচে ঘাটতি পড়ে না। একইভাবে অনেক কর্মজীবী প্রেমিক-প্রেমিকারাও একই বিছানায় থাকা সত্বেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন না খরচের কথা চিন্তা করে। তাদের ধারণা, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাস করতে ব্যয় বাড়বে। এই ধারা চলতে থাকলে আমেরিকানদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন দেখার বিষয় সেটাই।
আর পশ্চিম বঙ্গেই  বা এর জনপ্রিয়তা কেমন বাড়ছে বলে মনে করেন।কিছু মিডিয়া অলরেডি এর ব্যাপক প্রচারনা শুরু করছে।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

মূত্র থেকে পানীয় জল

নভোযান আটলান্টিসের শেষযাত্রায় এর নভোচারীদের নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। জানা গেছে, ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনস্ট্রেশন বা নাসা’র নভোচারীদের পানির সমস্যা দূর করতে এই ‘মূত্র থেকে রূপান্তরিত পানি’ কাজে লাগবে। খবর হাফিংটন পোস্ট-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নাসার গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ‘ফরওয়ার্ড অসমোসিস ব্যাগ’ (এফওবি) নামে ইউরিন রিসাইক্লিং সিস্টেমটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা সফল হলে পরবর্তীতে নভোচারীদের পানির সমস্যা দূর হবে এবং  ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল মহাকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। 

গবেষকরা জানিয়েছেন, এফওবি হচ্ছে সহজেই পরিবহনযোগ্য একটি ছোটো ব্যাগ, যা মূত্রকে পানিতে রূপান্তর করতে পারে। মুত্রে থাকা টক্সিন, মেমব্রেন বা ঘন চিনিকে সাধারণ পানিতে রূপান্তর করে এই ব্যাগটি।

এদিকে নাসার গবেষক হাওয়ার্ড লেভিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের ঘাম থেকে জলীয় দ্রবণ আলাদা করে, আমাদের শ্বাস এমনকি আমাদের বর্জ্য ব্যবহার করেও নিরাপদ পানীয় তৈরি করার ক্ষেত্রে এটি প্রথম পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, আটলান্টিসে থাকা নভোচারীরা এফওবি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তবে, তারা এখনই মূত্র রূপান্তরিত পানি পান করার বদলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ দ্রবণ ব্যবহার করেই পরীক্ষা চালাবেন।

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১১

দুনিয়ার বিচিত্র আইন সমুহ

সবচেয়ে লম্বা কোন হাত? ডান হাত,বাম হাত অথবা অজুহাত? এই প্রশ্ন করলে কেউ বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে গিয়ে বলবে আইনের হাত।কারন আইনের হাত যে কত শক্ত তা মানুষ জানে।আইন যতক্ষন হাত হিসেবে থাকে তখন তা অনেক লম্বা ক্ষমতাশালী।কিন্তু কার্বনের মত আইনের বহুরূপতা য়াছে।এর দুটা রূপের আরেকটা হল জাল।আইন যখন জাল হয়ে যায় তখন তার ফাঁক ফোকড় হয়ে যায় বিশাল এবং বিস্তৃত।এর বিশাল ফাকঁ গুলো দিয়ে রাগব বোয়ালরা সহজেই চলাচল করতে পারে।তবে আইনের হাত কিন্তু অনেক শক্ত।

আইনের হাতের এই শক্তিমত্তার রূপক হিসেবে বিচারকদের লম্বা হাতার পোষাক পড়তে হয় কোন কোন দেশে।এই পোষাকের আরো বিভিন্ন রূপক অর্থ আছে।যেমন এই কাল রঙের পোষাকের অর্থ নাকী নিজের পরিচয় গোপন রাখা।আর গলার সাদা ব্যান্ডের অর্থ মিথ্যার কাল আধাঁর থেকে সত্য প্রকাশ।আমাদের দেশের প্রধান বিচারপতি যে পরচুলা পড়েন এই পরচুলা দিয়ে বোঝানো হয় বিচারক মায়ের মত।মায়ের কাছে যেমন আপনি যেমন আপনার ছোট তেমন ঠিক তেমনি এই বিচারকের কাছে বাদী বিবাদী সবাই সন্তানের মত ,সবাই সমান।

দেশে এবং বিদেশে এমন কিছু আইন আছে যেগুলো শুনতে একটু হাস্যকর এবং অদ্ভুত বলে মনে হয়।বাংলাদেশের আইনের দন্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় আছে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করলে তার শাস্তি এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা একবছরের কারাদন্ড দেয়ার বিধান।এক্ষেত্রে উভয় দন্ডেও হতে পারে।

কলোরাডতে যৌক্তিক কোন কারন না দেখিয়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা এক ধরনের চুরি।প্রতারনা অথবা ছিনতাইয়ের পর্যায়েও পড়ে।মহান আদালত এ ব্যাপারে বলেছেন, বৃষ্টির পানি এভাবে ধরে রাখলে কৃষিকাজের জন্য পানি পাওয়া যাবে না।অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়বে।

হংকংযে একটা আইন আছে যদি কারো স্ত্রী পরকীয়া করে তবে স্বামী তাকে খুন করতে পারে।তবে শর্ত একটাই খুন করতে হবে খালি হাতে।তবে যে লোকের সাথে পরকীয়া করেছে তাকে অস্ত্র দিয়ে খুন করতে পারবে।

আমেরিকার আরিজোয়ানাতে শিশুরা পেয়াজ খেয়ে স্কুলে যেতে পারবে না বলে আইন আছে।১৮৮০ সালে এই পেয়াজ নিষিদ্ধকরন আইন পাশ হয়।আমেরিকার আরেকটি আইন হল কেউ রসুন খেয়ে গির্জা থিয়েটার ইত্যাদিতে যেতে পারবে না।ম্যাসাটুচেসের একটা আইন কেউ গির্জায় চীনাবাদাম খেতে পারবে না।

ক্যালিফোর্নিয়ার সুসানভিলে শব্দ করে সুপ খাওয়া অপরাধ।মায়ামীতে পুরুষের স্ট্র্যাপলেস গাউন পরে জনসমক্ষে যাওয়া আইনত অপরাধ।

ইলিনয়িস রাজ্যে আরেকটি আইন রয়েছে শীতকালে কোনো বাচ্চা জমে থাকা তুষার দিয়ে স্নো বল বানিয়ে গাছের দিকে ছুঁড়তে পারবে না।


আলাস্কায় কোনো গ্রিজলি ভালুককে মোটেও বিরক্ত করা যাবে না।উনি সম্মানী লোক।আপনি কেন বিরক্ত করবেন।

মেইন-এ একটা অতি পুরনো আইন রয়েছে, কোনো খচ্চরকে আগুনে ফেলা যাবে না।

মেইন-এ রাস্তায় হাঁটা অবস্থায় কোনো পথচারীর জুতার ফিতে যদি খোলা পাওয়া যায়, তাহলে এটা আইনত অপরাধ।

সান দিয়েগোতে একটা আইন রয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গান গেয়ে পেট চালায়, তাদের অবশ্যই কাপড় পরতে হবে।

কানেকটিকাট রাজ্যে কড়া আইন রয়েছে, কোনো বাচ্চা পা ওপরে তুলে হাতে হেঁটে রাস্তা পেরোতে পারবে না।এই এলাকার বাচ্চাগুলা এককালে বান্দরস্বভাবের ছিল এটার প্রমান পাওয়া যায় এই আইন থেকে।ডারউইনের বিবর্তনবাদ প্রমানে এটা একটা যুক্তি হতে পারে।


মিশিগানে কঠোর আইন রয়েছে, যদি দোতলার চেয়ে উঁচু কোনো দালান তোলা হয়, তাহলে সেই দালানের প্রতিটা জানালায় একটা করে দড়ি ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
আমেরিকার মিশিগানে কোন বিবাহিত মহিলার চুল কাটাতে স্বামীর অনুমতি লাগে।


ইন্ডোনেশিয়ায় হস্তমৈথুনের শাস্তি হলো মুন্ডচ্ছেদ।

আমেরিকার কলাম্বিয়া প্রদেশে মেয়ের বাসর রাতে তার মার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

গুয়ামের আইন অনুসারে কোন কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে পারেনা। তাই কিছু লোক আছে যারা পয়সার বিনিময়ে কুমারিত্বের অভিশাপ মুক্ত করার কাজ করে। মেয়ের বাবা-মা সাধারনতঃ এই কাজের জন্য অনেক টাকা থরচ করেন।এরা কাজ শেষে সার্টিফিকেট দেয়।

লেবাননের আইন অনুসারে কোন পুরুষ লোক গৃহপালিত পশুর সাথে সহবাস করতে পারে। কিন্তু পশুটা অবশ্যই মাদী হতে হবে। মদ্দা পশুর সাথে সহবাস করার শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড।

এথেন্সের পুলিশ কোনও গাড়ির চালকের লাইসেন্স বাতিল করে দেবার ক্ষমতা রাখে যদি ঐ চালক গোসল না করে গাড়ি চালায় অথবা চালকের বেশভূষা না ঠিক থাকে।

মস্কোতে আবহাওয়াবিদরা ভুল তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।এটা বাংলাদেশে হলে বিটিভির আবহাওয়াবিদদের খবর হয়ে যেত।

ইংল্যাণ্ডে পার্লামেন্টে মৃত্যুবরন করা বেআইনি।

ফ্রান্সে শুকরের নাম নেপোলিয়ন রাখা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

ইংল্যান্ডে একজন গর্ভবতী মহিলা যেকোন জায়গায়মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এমনকি তিনি চাইলে কোন ট্রাফিক পুলিশে হেলমেটে মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এটা তার বিবেচনা।

সিঙ্গাপুরে চুইং গাম অবৈধ।
ইন্ডিয়ানাতে রবিবারে গাড়ি বিক্রি করা আইনত দন্ডনীয়।


জাপানে কোন মেয়েকে ছেলে ডেটিং য়ে যেতে বললে মেয়েটি আইন অনুসারে না করতে পারবে না।


জাপানে কারো বড় ভাই তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে ছোট ভাইকে সম্মানীত করতে চাইলে আইন অনুসারে গার্লফ্রেন্ড অসম্মতি জানাতে পারবে না।

জাপানে একটা মাছের নাম ফাগু।এই ফাগু মাছ ৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করা আইনত অপরাধ।৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করলে এটি থেকে একধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়।


জাপানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিল্ডিংযে মেয়েদের ব্রা না পড়া আইনত দন্ডনীয়।

১৬০৪ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জেমস witch craft act নামে একটা আইন প্রনয়ন করেন।এই আইনে যারা কালোশক্তি মানে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করবে তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়।সাধারনত যারা কৃষ্ণশক্তি বা এই ব্ল্যাকম্যাজিক ব্যবহার করত তাদের বলা হত ডাইনি।ডাইনিদের পুড়িয়ে মারা হত,যদিও বিধান ছিল ফাসিতে ঝুলিয়ে মারা।এই আইনের আয়তায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মারা হয়।ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত জোয়ান অব আর্ক কে এই আইনের অধীনেই পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।তিনি ফ্রান্সকে ইংল্যান্ডের শাষন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।১৯৫১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন বাতিল করে দেয়।


প্রাচীন ভারতে এক আইন ছিল সতীদাহ প্রথা।এই প্রথায় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদের সহমরনে যেতে বাধ্য করা হত।কোন ধনী লোকের মৃত্যুর সম্পত্তি অধিকার করার লোভে তার আত্মীয়রা তার সদ্যবিধবা স্ত্রীকে ধরে বেঁধে, ঢাক-ঢোলের শব্দ দ্বারা তার কান্নার আওয়াজকে চাপা দিয়ে তার স্বামীর সাথে চিতায় শুইয়ে পুড়িয়ে মারতো।পরবর্তীতে ১৮২৯ সালে ৪ ডিসেম্বর রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের ফলে উইলিয়াম বেন্টিংক এই প্রথা বেঙল প্রেসিডেন্সিতে বাতিল করেন।


তথ্যসুত্রঃ
বিভিন্ন ওয়েবসাইট
হুমায়ুন আহমেদের ম্যাজিক মুন্সী
উইকিপিডিয়া

পৃথিবী বিখ্যাত সব ব্যর্থ কাহিনী

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে বিভিন্ন ব্যর্থতার কাহিনী। এখানে পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্যর্থতার কাহিনী দেয়া হল। যা পড়ে আমাদের নিজেদের ব্যর্থ জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসতে পারে। অতএব Don’t worry be happy.

১. ব্যর্থতম লেখক: জার্মানীর এক লেখক তার জীবনে ৬৪ টা বই লেখেন যার মধ্যে মাত্র ৩টি বই এর প্রকাশক ধরতে তিনি সমর্থ হন। এর মধ্যে একটি বই প্রকাশক তার নিজের নামে ছাপিয়ে ফেলে। দ্বিতীয়টি ভুলক্রমে লেখকের নাম ছাড়াই প্রকাশিত হয়ে পড়ে। আর তৃতীয়টির ক্ষেত্রে এ রকম কোন সমস্যা হয়নি। পুরো বইযের বান্ডিল মার্কেটে যাবার পথে মিসিং হয় আর সে বই এর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে অবশ্য এক ঠোঙ্গা বিক্রেতার কাছে হারানো বই এর হদিস পাওয়া যায়। তবে বই হিসেবে নয় ঠোঙ্গা হিসেবে।

২. ব্যর্থতম ব্যাংক ডাকাত: ১৯৭১ সালে তিনজন ব্যাংক ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের স্থানীয় একটি ব্যাংক এ ঢুকে পড়ে। এটা ছিল তাদের প্রথম ব্যাংক ডাকাতি। তাই উত্তেজনাবশত তারা ভুল করে ব্যাংক এ না ঢুকে পাশের ডির্পামেন্টাল স্টোরে ঢুকে পড়ে। হাতের অস্ত্র উচিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে আমরা ব্যাংক লুট করতে এসেছি। দোকানের কর্মচারীরা এটাকে উচুদরের রসিকতা ভেবে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। তাদের হাসি শুনে ডাকাতরা ঘাবড়ে গিয়ে কিছু না বুঝেই এক গাদা কয়েন চকলেট নিয়ে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।

৩. ব্যর্থতম কম্পিউটার প্রোগ্রামার: জার্মানীর জন মারথুস পেশায় একজন সৌখিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। তার কাজ হচ্ছে এন্টি ভাইরাস প্রোগ্রাম তৈরী করা। একবার বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে তিনি একটি এন্টি ভাইরাস তৈরী করে পরীক্ষামূলক ভাবে বন্ধুর পিসিতে এটাকে টেস্ট রান করান। পিসিটি চালাতে গিয়ে দেখা গেল তার এন্টি ভাইরাসটি আসল ভাইরাস হয়ে বন্ধুর পিসির হার্ডডিস্ক ক্রাশ করে ফেলেছে।

৪. ব্যর্থতম বই: পশ্চিমা লেখক রুডলফ স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি নামে একটি গবেষণামূলক বই লেখেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বইটি বেস্ট সেলার বই এর তালিকায় চলে যায়। এর মধ্যে আকস্মাৎ লেখকের মৃত্যূ হলে ময়না তদন্ত করে ডাক্তার সার্টিফিকেট দেন। তাতে মৃত্যুর কারণ দেখানো হয় পুষ্টিহীনতা। এ খবর প্রচার হলে পরের সপ্তাহেই বই এর বিক্র বেস্ট সেলার থেকে ওর্স্ট সেলারে নেমে আসে। 

৫. ব্যর্থতম আর্কিওলজিস্ট: মরক্কোর আবিওয়ালা আল রাজি একজন সৌখিন আর্কিওলজিস্ট। পেশায় তিনি একজন ইন্জিনিয়ার হলেও তার নেশা হচ্ছে প্রাচীণ কালের হাড়-গোড় খুজে বের করা। দীর্ঘ বার বছর পরিশ্রম করে তিনি নিজের এলাকাতেই নিয়ানডারথল যুগের মানুষের চোয়াল খুজে পান। যা নিয়ে আর্কিওলজিস্টদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। পরে কার্বন টেস্টে ধরা পড়ে যে ঐ চোয়ালটি কোন নিয়ানডারথল যুগের মানুষের নয় তারই মৃত দাদার চোয়াল।

৬. ব্যর্থতম শিক্ষক: আফ্রিকার এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক প্রাইমারী স্কুল। স্কুলের অবস্থা খুবই করুণ। ঐ স্কুলে কোন ঘন্টা ছিল না। ফলে তারা ক্লাশ শেষ হলে বা ছুটির আগে স্কুলের বাইরে অপেক্ষমান এক আইসক্রিমওয়ালার কাছ থেকে ঘন্টা ধার করে এনে বাজাত। কিন্তু এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে আইসক্রিমওয়ালা ঐ স্কুলে ঘন্টার বিনিময়ে শিক্ষকের চাকুরী দাবী করে বসে। স্কুলে শিক্ষকের কিছু স্বল্পতাও ছিল আবার ঘন্টারও দরকার তাই তার চাকরী হয়ে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর ঐ ঘন্টা স্কুল থেকে চুরি হয়ে গেলে ঐ আইসক্রিমওয়ালা শিক্ষকের চাকরী চলে যায়।

৭. ব্যর্ততম ধূমপায়ী: কলম্বিয়ার মাইকেল জর্জ কখনই ধূমপান করতেন না। কিন্তু বিয়ের পর তার স্ত্রী তাকে ধূমপান করতে উৎসাহিত করেন। কেননা তার স্ত্রীর ধারণা পুরুষ মানুষ সিগারেট না খেলে ম্যনলি লাগে না। স্ত্রীর অনুরোধে জর্জ একদিন বিমর্ষ মুখে এক প্যাকেট সিগারেট কিনে এনে একটি ধরালেন। সিগারেটে টান দেয়া মাত্র তিনি কাশতে কাশতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে আসলে তিনি একটি চিঠি পান। তার স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার।

৮. ব্যর্থতম উদ্ধার অভিযান: ১৯৭৮ সালের ১৪ জানুয়ারী সম্ভবত পৃথিবীর সব চাইতে সফল পশু উদ্ধার ঘটনাটি ঘটে বৃটেনে। এক বৃদ্ধার পোষা বিড়াল ছানাটি কি ভাবে যেন এক বিশাল বৃক্ষের মগডালে উঠে আটকে যায়। তখন দমকল বাহিনীর ধর্মঘট চলছিল বলে বৃটিশ সৈন্যরা বিপুল উদ্যমে ঐ বিড়ালটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। এবং অসাধারণ দক্ষতায় বিড়ালটিতে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। সমস্ত ব্যাপরটিতে বৃদ্দা এতই খুশি হন যে তিনি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সৈন্যদের না খাইয়ে ছাড়েন না। সৈন্যরা বিদায় পর্ব শেষ করে গাড়ীতে উঠে যাওয়ার সময় উদ্ধারকৃত বিড়ালটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। কারণ কোন ফাকে বিড়ালটি বৃদ্ধার কোল থেকে নেমে গাড়ীর চাকার নিচে অবস্থান করছিল তা কেউই লক্ষ্য করেনি।

৯. ব্যর্থতম সার্কাস: ফ্রান্সে মিস রিটা থান্ডারবার্ড নামে এক মহিলা কামানের গোলা হিসেবে খেলা দেখাতেন সার্কাসে। খেলার নিয়ম অনুযায়ী তিনি কামানের ভেতর গিয়ে ঢুকতেন, কামান দাগা হলে তিনি ছিটকে গিয়ে দূরবর্তী জালে গিয়ে পড়তেন। একদিন শহরের মেয়র আসলেন খেলা দেখতে। যথারীতি কামান দাগা হল। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে মিস রিটার পরিবর্তে তার অর্ন্তবাসটি ছিটকে গিয়ে মেয়রের মাথায় পড়ে। কামানের ভেতর মিস রিটার কাছে দ্বিতীয় অর্ন্তবাসটি পৌছানো পর্যন্ত সার্কাস বন্ধ রাখতে হয়।

১০. ব্যর্থতম রাজনৈতিক হত্যা প্রচেষ্টা: ফিদেল কাস্ট্রো ভাগ্যবানদের একজন। ১৯৭৪ সালের ভেতরেই উনাকে অন্তত ২৪ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। এবং প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়। একবার কোল্ড ক্রিমের ডিব্বায় বিষ ভরা ক্যাপসুল রাখলে তা গলে যায়। আরেকবার কালো চুলের এক মায়াবিনী ঘাতক উল্টো্ উনার প্রেমে পড়ে যায়। আরেকবার ফ্রিজে রাখা চকলেট মিল্ক শেকে বিষ মিশিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তা জমে বরফ হয়ে গিয়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়ে। উনাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পয়জন পেলেটস ছোড়া হয় যা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। আরেকবার এক আস্ত বাজুকা নিয়ে মারতে আসা দুই ঘাতক ধরা পড়ে যায়। বিস্ফোরিত একগাদা সী শেল মাত্র চল্লিশ মিনিটের জন্য ক্যাস্ট্রোকে মিস করলেও মূল হাভানা শহরের সমস্ত ট্রাফিক লাইট ফিউজ করে দিতে সক্ষম হয়।

১১. ব্যর্থতমবিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী: বাংলাদেশের বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বিদ্যুত সমস্যাকে টর্নেডো, সুনামির মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে তুলনা করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেমন মানুষের সাধ্যের বাইরে তেমনি বর্তমানে দেশের বিদ্যুত পরিস্থিতিও সমাধান করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। খুবই চমৎকার যুক্তি। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিদ্যুত খাতের সমস্যা সমাধান করার জন্য। তিনি যেন শীঘ্রই একজন দেবদূত পাঠিয়ে আমাদের দেশের বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করে দেন।

* মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি পৃথিবীর বর্থ্যতম একজন মানুষ হিসেবে এই জীবনে কিছুইতো করা হল না । মাঝে মাঝে মা-বাবাকে বলতে ইচ্ছে করে তোমরা ভুল মানুষকে নিয়ে কেন স্বপ্ন দেখলে? ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে আয়ু। হায়! জীবন এত ছোট কেন?
সংগৃহীত: আহসান হাবীব সম্পাদিত পৃথিবী বিখ্যাত সব ফেলটুস। (১১ নম্বরটি বাদে)
সামু

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ জনে ১ জন ধর্ষীত হয়

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীদের ছয় জনে এক জনই ধর্ষণের শিকার হন। এমনকি এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই তাদের জীবনে বহুবার যৌন নির্যাতন অথবা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপের ফলাফলে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস) সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫শ’য়েরও বেশি নারী শিক্ষার্থীদের ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা গেছে, উত্তর দানকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ চেষ্টার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১২ শতাংশের। অবশ্য যৌন নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঘটেছে এমন নয়।
ছাত্র ইউনিয়নটির নারী বিষয়ক কর্মকর্তা কোরটনি সেøায়ান বলেন, ওই ইন্টারনেট জরিপটিতে দেখা যাচ্ছে, মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত সমাজের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মেয়েরা পড়তে আসে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই মেয়েদের যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং অত্যন্ত পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সিডনি মরনিং হেরাল্ড পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
জরিপে আরো দেখা যায়, উত্তরদানকারীদের ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনাকাক্সিক্ষত যৌন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ বলেছেন এ অবস্থায় তারা সঙ্গম করেছেন অথবা শেষাবধি সম্মতি দিতে পারেননি। এদের মধ্যে ১৭ শতাংশ বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন।
জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত।
যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশিরভাগই ঘটেছে বন্ধু অথবা পরিচিত জনদের দ্বারা। এর মধ্যে ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের  ঘনিষ্ঠ জনদের কাছ থেকে  এমন আচরণ পেয়েছেন যা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।
এমন ঘটনার শিকার বেশিরভাগ মেয়ে এ ব্যাপারে কারো কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। প্রায় ২ বা ৩ শতাংশ মাত্র পুলিশকে জানিয়েছেন। এর কারণ তাদের বেশিরভাগই এ ঘটনাগুলো অভিযোগ করার মতো গুরুতর বলে মনে করেননি।
উপরের তথ্যগুলোর অনুরুপ তথ্য এর আগে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের পরিচালিত জরিপেও পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জরিপে দেখা গিয়েছিল, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই বেশিরভাগ মেয়েরা যৌন সহিংসতার শিকার হয়।
২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটির ছেলেদের আবাসিক কলেজের ছাত্ররা ফেসবুকে একটি পাতা খুলেছিল । তারা এর নাম দিয়েছিল ‘সম্মতি ছাড়া ধর্ষণকামী‘ (প্রো-রেইপ, অ্যান্টি-কনসেন্ট)। এই ঘটনার পর এনএসইউ এই জরিপ করল।

সাড়ে ৫ হাজার নারী-পুরুষের সঙ্গে যৌন মিলন করেছে এক জুটি

পরপুরুষ কিংবা পরনারীর সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার রগরগে কাহিনি নিয়ে ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোকে সরব হতে দেখা যায়৷

 
তবে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই যখন জেনেশুনে দিনের পর দিন অন্যের সঙ্গে যৌনমিলন করেন এবং নিজেদেরকে ‘সুখি জুটি' বলে পরিচয় দেন, তখন সে সংবাদ নিশ্চয়ই অনেক বেশি চাঞ্চল্যকর৷ 
লন্ডনের স্যারা মুর এবং জেফ ড্যানিয়েল তাই সংবাদ শিরনামে৷ ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সান জানিয়েছে, ২০ বছর ধরে চলছে অবিবাহিত এই জুটির সংসার৷ দু'জন এই সময়ের মধ্যে নাকি ৫ হাজার ৪৮৫ জন নারী ও পুরুষের সঙ্গে বিছানায় গিয়েছে৷
আদতে এই দুজনই পেশায় সেক্স থেরাপিস্ট৷ নিয়ম অনুসারে এ নিয়ে যদি কেউ কোন সমস্যায় পড়েন তাহলে তারা এই থেরাপিস্টদের কাছে আসবে, তারা পরামর্শ দেবে৷ প্রয়োজনে ‘কী করিলে কী হয়' জাতীয় কথাবার্তা জানাবেন৷ কিন্তু স্যারা মুর এবং ড্যানিয়েল ভিন্ন কাজ করেন৷ তারা একটু ‘বিশেষ' বলে চিকিৎসকরা তাদের কাছে রোগীদের পাঠান৷ এবং বেশিরভাই সময় ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিছানায় যেতে হয় তাদের৷‘থেরাপি’র খাতিরেই এমন অভিনব উদ্যোগ‘থেরাপি’র খাতিরেই এমন অভিনব উদ্যোগ
স্যারা মুর ১৯ বছরে ৩ হাজার ৩২৩ জন পুরুষের সঙ্গে বিছানায় গিয়েছেন৷ আর এদের মধ্যে ৫২ জন ছিল কৌমার্য হারায়নি এমন পুরুষ৷ আর স্যারার দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড ড্যানিয়েল, যার বয়স ৪০, তিনি বিছানায় গিয়েছেন ২ হাজার ১৬২ জন নারীর সঙ্গে৷ আর তিনি ৪৯ জন নারীর কৌমার্য ভাঙাতে সহায়তা করেছেন৷ স্যারা মুর বললেন, ‘বিষয়টিকে আমরা কেবল সাহায্য বলেই মনে করছি৷ এটাকে কোনভাবেই গণিকা পেশা বলে মনে করি না আমরা৷ তিনি বলেন, সমস্যায় পড়া মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে চিকিৎসকদের পরামর্শে৷ এ থেকে আমাদের রোজগারও বেশ৷ আমাদের সঙ্গে মিলনের পর স্বভাতই সেই পুরুষ কিংবা মহিলা যৌনভীতি থেকে মুক্তি পান৷' 
১৫ বছর বয়সে নিজের কুমারীত্ব হারান মুর৷ ২০ বছর বয়সে তার পরিচয় হয় ড্যানিয়েলের সঙ্গে৷ সেই থেকে তারা একসঙ্গে আছেন৷ আর তখন থেকেই তারা এই পেশাতেই রয়েছেন৷
প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক
 

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

‘অন্যনারীকে মুগ্ধ করতেই নারীর সাজগোজ’


পুরুষসঙ্গীকে খুশী করতে নারীরা আয়নার সামনে বেশি সময় কাটায় বলে প্রচলিত ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষসঙ্গী নয় অন্যনারীর কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই নারীরা সাজগোজ করে থাকে। ২ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত সিম্পল স্কিন কেয়ারের গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ তথ্য জানায়।
এতে দেখা যায়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই অন্য নারীর কাছ থেকে প্রশংসাসূচক মন্তব্য পাওয়ার জন্য পোশাক নির্বাচন করে। অপরদিকে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন পোশাক নির্বাচন করে তাদের বান্ধবীদের কথা মাথায় রেখে।
এক চতুর্থাংশেরও বেশি অংশগ্রহণকারী জানিয়েছে, তারা পুরুষ নয় বরং অপরিচিত নারীদের কাছ থেকেই বেশি মন্তব্য পেয়ে থাকে।
সিম্পল স্কিন কেয়ারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি মেইল বলেছে, “প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে যে, বিপরীতলিঙ্গের সঙ্গীকে খুশী করতেই নারীরা সব কিছু করে থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে এটা সবসময় ঠিক নয়।”
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের ২২ শতাংশ দাবি করেন, পুরুষরা কেমন মন্তব্য করল তা তারা মোটেও পরোয়া করেন না। আর ৪৮ শতাংশ নারী জানান, তারা মূলত অপরিচিত নারীদের কাছ থেকে প্রশংসা পেতেই বেশি পছন্দ করেন।
বিডিনিউজ২৪

১৮ না পেরুতেই যৌন অভিজ্ঞতা ৫০% শহুরে তরুণের


বাংলাদেশে বয়স ১৮ হওয়ার আগেই যৌন অভিজ্ঞতা হচ্ছে ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। এদের এক-তৃতীয়াংশ আবার লিপ্ত হচ্ছেন দলগত যৌনকর্মে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের যৌনসঙ্গী হচ্ছেন পেশাদার যৌনকর্মী।
কিন্তু এসব তরুণের অর্ধেকই যৌনকর্মে একদমই নিরোধ ব্যবহার করছেন না। বাকীরাও নিরোধ ব্যবহারে অনিয়মিত। তাই তাদের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে।
আইসিডিডিআরবি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যান এমন এক হাজার তরুণের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
এদিকে এমন অনিরাপদ যৌনকর্মের মাধ্যমে ৫২ শতাংশ এইডস ছড়ায় বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জাতীয় এইডস কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে। আর তরুণরাই বেশি এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে।
তরুণদের এইডস ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক মো. ওয়াদুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘যৌন আচরণে পরিবর্তন হওয়ার কারণে তরুণের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যেই এইডস ছড়াচ্ছে বেশি।’
তিনি বলেন, ‘তরুণ সমাজকে এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আমরা বিশেষ সচেতনামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। এতে তরুণদের জন্য কাউন্সেলিং থাকবে। এছাড়া পাঠ্য পুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিষয়টি সিলেবাসে নিয়ে আসা হবে।’
এছাড়া সরকার জেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতাল যুব বান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া তরুণের প্রায় ৭৯ শতাংশই এইডস সম্পর্কে সচেতন নন। যৌন মিলনের পর যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বলেও মনে করেন তারা।
যৌনকর্মে লিপ্ত হতে এসব তরুণের ৮০ শতাংশ যাচ্ছেন আবাসিক হোটেলে। আর ২০ শতাংশ অপেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন।
আর জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ তরুণ হওয়ায় দেশের বৃহৎ ও নিভর্রশীল এই জনগোষ্ঠী ব্যাপক ঝুঁকিতে মধ্যে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, তরুণদের অধিকাংশ যৌন চাহিদা মেটাতে যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন। সব ধরণের যৌন আচরণ করছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, এসব তরুণের প্রায় ২০ শতাংশের মধ্যে যৌনবাহিত ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে এদের মাত্র ১৫ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে যান।
ঢাকার ৯টি আবাসিক হোটেলে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত জরিপটিতে আরো দেখা গেছে, তরুণের দুই তৃতীয়াংশ স্কুল ও কলেজ পড়–য়া। তারা যৌনকর্মে প্ররোচিত হন বন্ধু বা বন্ধুস্থানীয় কাউকে দিয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত জন। আবার অনেকে পর্ন সিডি দেখে যৌন কর্মে উৎসাহিত হন। এদের অনেকের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর।
এছাড়া বিবাহিতরাও যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে গবেষণা জরিপে।
সাইদ আরমান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

বৈধ হওয়ার লোভে অবৈধ হওয়ার ফাঁদে


মালয়েশিয়ায় বৈধ হওয়ার লোভে গিয়ে অবৈধ হওয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিনই কয়েক শ বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজের জন্য থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ফুরালে তাঁরা গ্রেপ্তার হবেন। বৈধ জনশক্তি রপ্তানিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর সূত্র এই মালয়েশিয়াগামী ঢলের কথা জানিয়েছেন। এই দুই সূত্রে জানা গেছে, একশ্রেণীর দালাল মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সহজ-সরল শ্রমিকদের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছেন। অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ওই দালালেরা বলছেন, এখন মালয়েশিয়া গেলেই বৈধ হওয়া যাবে। কিন্তু আসলে এভাবে ভ্রমণ ভিসায় যাওয়া লোকজন কেউ বৈধ কর্মী হতে পারবেন না। কারণ এখন যাঁরা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন, তাঁদের সবার আঙুলের ছাপ রেখে দেওয়া হচ্ছে। থেকে যাওয়ার চেষ্টা করলে উল্টো তাঁরা সে দেশে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
চার-পাঁচ বছর ধরে আছেন কিন্তু কাজের অনুমতিপত্র নেই, সম্প্রতি শুধু এমন অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। ১১ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। কিন্তু উপরিউক্ত শর্ত প্রযোজ্য নয়, এমন কেউই এই সুযোগ নিতে পারবেন না।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আছেন, এমন তিন লাখ শ্রমিক বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই শ্রমিকদের তথ্য মালয়েশিয়ার তথ্যভান্ডারে (ডেটাবেইস) নেই। কিন্তু এখন যাঁরা যাচ্ছেন, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাঁদের সবার ছবি ও আঙুলের ছাপ রেখে দিচ্ছে। এপ্রিল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে এখন কোনো শ্রমিক গিয়ে চাইলেও বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বিএমইটি মহাপরিচালক বলেন, এ কারণে যাঁরা ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে কাজের কথা ভাবছেন, তাঁদের এই চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। এভাবে গিয়ে তাঁরা যেমন নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন, তেমন দেশের ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করছেন।
সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি টাস্কফোর্স আছে। ওই টাস্কফোর্স এখন থেকে কাজ শুরু করবে। এর ফলে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া হয়তো ঠেকানো যাবে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের বৈধ করার ঘোষণা কেবল ইতিমধ্যে অবৈধ হওয়া শ্রমিকদের জন্য। দেশটি এক বছর ধরে শ্রমিকদের কাজের অনুমতিপত্র দিচ্ছিল না। এর ফলেই পুরোনো শ্রমিকেরা অবৈধ হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে আসা কেউ এই সুযোগ পাবেন না।
বিএমইটির বহির্গমন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, একশ্রেণীর দালাল কর্মপ্রার্থীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছেন। অনেক ট্রাভেল এজেন্সিও এই তৎপরতায় জড়িত। এভাবে ছাড়াও অবৈধ নানা প্রক্রিয়ায় একশ্রেণীর লোক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ১৫(১)সি-তে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেউ সে দেশে থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। কাজেই এক মাসের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে যাওয়া কেউ অতিরিক্ত সময় থাকলে তিনি অবৈধ হিসেবে গ্রেপ্তার হবেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ লোক কাজের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। দালালচক্র এদের কাছ থেকে অনেক টাকা নিচ্ছে। এর ফলে এই লোকগুলো বিপদে পড়বে। বৈধ বাজারও নষ্ট হচ্ছে। কাজেই ভ্রমণ ভিসায় লোক যাওয়া ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব।’
এশিয়ার অভিবাসন-বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট ‘কারাম এশিয়ার’ প্রধান সমন্বয়ক হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ যদি দালালদের প্রতারণায় এখন মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য আসে, তারা চরম বিপদে পড়বে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত, যেকোনোভাবে এটি ঠেকানো।’
গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটিতে পাওয়া নতুন সুযোগের অপব্যবহার ঠেকাতে কী করা হচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভ্রমণ ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকায় মালয়েশীয় দূতাবাসকে আরও যাচাই করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতের ভ্রমণ রেকর্ড দেখেই কেবল কাউকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে খুব শিগগির প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হবে।
এসবির বহির্গমন বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিশেষ সুপার নাসিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে আমরাও এখন তৎপর আছি। যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা অতীতে কোন কোন দেশে গেছেন, তাঁদের কথাবার্তা, চেহারা—এসব দেখেই আমরা যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে আমরা তাঁকে যেতে দিচ্ছি না। গত মাসে এমন ২০০ জনকে বিমান থেকে নামিয়ে যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।’

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসা

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কামাল খান
'চুড়ি নিবেন চুড়ি? লাল, নীল, কালো, সাদা_যা চান তাই পাবেন।' এটাই একজন চুড়ি বিক্রেতা ফেরিওয়ালার ডাক। কিন্তু র‌্যাব-৩-এর সদস্যরা দেখতে পেলেন, একজন চুড়িওয়ালা কাঁধে চুড়ির বোঝা নিয়ে যাচ্ছে, অথচ কোনো ধরনের হাঁক দিচ্ছে না। বরং ভয়ে এদিক-ওদিক চেয়ে হাঁটছে। সন্দেহবশত তাকে থামিয়ে চুড়ির কার্টনগুলো তল্লাশি করতে চাইলে চুড়িওয়ালা নির্বিঘ্নে তা নামিয়েও দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কার্টনের ওপর সারিবদ্ধভাবে চুড়ি সাজানো। ওপরের কার্টনটি ওঠাতে বললেই বেরিয়ে এল আসল ঘটনা। র‌্যাবের সদস্যরা দেখতে পেলেন, লোকটি চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। কামাল খান (৩৫) নামের ছদ্মবেশী ওই ফেনসিডিল ব্যবসায়ীকে সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
র‌্যাব-৩-এর মেজর এমারত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কামাল মূলত একজন পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রেতা। রাজধানী এবং এর আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সে চুড়ি বিক্রির নাম করে ছদ্মবেশে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। সে রাজশাহীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকার কাশিয়াডাঙ্গা থেকে ফেনসিডিল কম দামে কিনে এনে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তার ক্রেতা ছিল। অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে ছদ্মবেশে সে মাদক ব্যবসা করত।'
গ্রেপ্তারকৃত কামাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ছয় মাস ধরে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে সে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিক্রি করছে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বাহাড়া খানপাড়া এলাকায়। শুধু ফেনসিডিল ব্যবসার জন্য সে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসা ভাড়া করে ছিল। চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল বহন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো সন্দেহ করেন না; এ কারণে সে এ কৌশলে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। এর আগে সে আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার কাছে ধরা পড়েনি। তার ক্রেতা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী। প্রতি বোতল ফেনসিডিল ভারত থেকে এক-দেড় শ টাকায় কিনে ক্রেতাদের কাছে বারো-চৌদ্দ শ টাকায় বিক্রি করত সে। ফেনসিডিল বিক্রির টাকা সে গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঠাত।
র‌্যাব-পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে লোকাল বাসে চলাফেরা করত কামাল। সীমান্ত থেকে ঢাকায় আসতে তার দুই থেকে তিন দিন লেগে যায়। এভাবে ফেরিওয়ালার বেশে পথ চলতে তার সমস্যায় পড়তে হতো না। বিভিন্ন জেলায় সে পরিচিত লোকজনের আশ্রয়ে থাকত। চুড়ির পোঁটলার ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল বহন করত সে।
ফেনসিডিল আকারে বড় হওয়ায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এখন ফেনসিডিল থেকে ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছে_এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল র‌্যাবকে জানায়, ফেনসিডিলের দাম বেশি, তাই ঝুঁকি হলেও এই অভিনব কায়দায় ব্যবসায় তাড়াতাড়ি লাভবান হওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ফেনসিডিল বহনের আরো কিছু অভিনব পন্থার কথা উল্লেখ করে। তার মতে, মোটা বিদ্যুতের তারের ভেতর, মাটির হাঁড়িতে দই বহনের মতো করে, গাড়ির সিটের নিচে অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল বহনে ঝুঁকি কম।
র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর এমারত জানান, গত ২৩ জুন র‌্যাবের একটি টহলদল কেরানীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব চরআইল খোকন চেয়ারম্যানের গলি এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় কাঁধে সাদা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে এক যুবককে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দেখে মনে হয় চুড়িওয়ালা। কিন্তু তার আচরণ চুড়িওয়ালার মতো না হওয়ায় সন্দেহ হয়। এ সময় তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পোঁটলার ওপর সারিবদ্ধ চুড়ি আর তার নিচে ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এরপর ১৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ কামাল নামের ওই ছদ্মবেশী চুড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে খোকন চেয়ারম্যানের গলির জাহাঙ্গীরের বাড়ির (পাঁচ তলা) নিচ তলায় ভাড়া থাকত।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons