দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের বয়স ১৮ দেখিয়ে থানায় মামলা!

আবদুর রহমান আবদুর রহমান
নাম আবদুর রহমান। পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে। প্রকৃত বয়স তার ১১। তবে একটি সন্ত্রাসী হামলার মামলায় পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই বয়স ১৮ উল্লেখ করে আবদুর রহমানের নাম নথিভুক্ত করেছে। এমনকি ওই মামলার আসামি গ্রেপ্তারে গতকাল শুক্রবার অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি ১১ বছরের শিশু আবদুর রহমানসহ তার সাত ভাই এবং দুই মা। গ্রেপ্তার এড়াতে গতকাল পুলিশের অভিযানের সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুর রহমানও পালিয়েছিল। পরে সে তার বড় ভাই ইছুব আলীর সঙ্গে বিকেলে প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে এসে ঘটনাটি অবহিত করে।
আবদুর রহমানের বড় ভাই ইছুব আলী (৩৫) জানান, কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বিজয় পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। পারিবারিকভাবে তাঁরা পাথর শ্রমিক। পাশের গ্রাম বনপুরের বাসিন্দা আবদুল মালিক শত্রুতাবশত গত ২৫ নভেম্বর একটি সন্ত্রাসী হামলায় তাঁদের অভিযুক্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দেন। তবে এজাহার পাওয়ার পর সরেজমিন কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। নথিভুক্ত মামলার (১৯/১৩২) প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে আবদুর রহমানের নাম আছে। সেখানে তার বয়স দেওয়া হয়েছে ১৮।
ইছুব আলী এ সময় ছোট ভাই আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও সে যে বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত—সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করেন। যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদউদ্দিন ও মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমদ আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও প্রত্যয়নপত্রে উল্লিখিত বয়স ১১ বছর সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
ইছুব বলেন, ‘(সন্ত্রাসী হামলার) ঘটনাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বড়দের বিরোধ থাকতে পারে, ছোট এই বাচ্চাটার কী দোষ? পুলিশ গ্রামে গেছে শুইনা আমার লগে হেও পালাইছে।’
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছেলেটিকে নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার বার্ষিক পরীক্ষা। আসামি হওয়ায় তার শিশুমনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। ঘটনা যা-ই হোক—কোনোভাবে যেন ছেলেটির পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, এ জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমার কথায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেন গতকাল সকালে আসামি গ্রেপ্তার করতে বিজয় পাড়ুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। তবে রাতে মুঠোফোনে মোবারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আসামি গ্রেপ্তারে নয়, ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ১১ বছরের আবদুর রহমানকে ১৮ বছর উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাই নাকি! এমন হলে তো আশ্চর্যজনক ঘটনা। ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
মামলার বাদী মো. আবদুল মালিক দাবি করেন, ‘মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আমাদের লাঠি ও দা নিয়ে মারতে এসেছিল।’
অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দনকান্তি ধর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরেজমিন খোঁজ নিয়েই মামলা নথিভুক্ত হওয়ার নিয়ম। বিষয়টি আমার জানার মধ্যে নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই মামলা থেকে ছেলেটাকে বাদ দেওয়া হবে। prothom-alo

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

 কোচিংয়ের চিচিং-ফাঁক

ভৈরব পৌর শহরের দেয়ালে লাগানো প্যারাগন কোচিং সেন্টারের পোস্টার<span title=। আবদুর রহমান (গোলচিহ্নিত) আসলে দ্" width="100%">

ভৈরব পৌর শহরের দেয়ালে লাগানো প্যারাগন কোচিং সেন্টারের পোস্টার। আবদুর রহমান (গোলচিহ্নিত) আসলে দ্বিতীয় শ্রেণী পাস করা দিনমজুর ফরহাদ। তাঁকে দেখানো হয়েছে, তিনি এখানে কোচিং করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন

প্রথম আলো

দেয়ালে সাঁটানো চাররঙা পোস্টারে ছেলের ছবি দেখে থমকে দাঁড়ান নিরক্ষর নার্গিস বেগম (৪৫) পোস্টারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন, এটা তাঁর ছেলে ফরহাদের (১৯) ছবি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ওঠার পর পড়ালেখার পাট চুকাতে হয়েছে ফরহাদকে এখন মাছবাজারে দিনমজুরের কাজ করেন
পোস্টারে ফরহাদের ছবি দেখে অজানা শঙ্কায় পেয়ে বসে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবেড় দক্ষিণপাড়ার নার্গিসকে এক পথচারীকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, ‘বাজান, পোস্টারে কী লিখা আছে
পোস্টারে বড় অক্ষরে লেখা: ‘প্রথম বছরেই বিস্ময়কর সাফল্য “ওরা আমাদের গর্ব, ওরা আমাদের অহংকার” তোমাদের জন্য প্রাণঢালা অভিনন্দন-অভিনন্দন-অভিনন্দন
এটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার প্যারাগনের বিজ্ঞাপন ঢাকার প্যারাগন কোচিং এ বছরই ভৈরবে তাদের শাখা খুলেছে শাখাটির অবস্থান ভৈরব পৌর শহরের রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ সড়কে এ বছর থেকে চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তাদের সেন্টার থেকে কোচিং করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে—এমন ২৭ জনের ছবিসংবলিত একটি পোস্টার শহরে কয়েক মাস ধরে শোভা পাচ্ছে
প্রথম আলো এই ২৭ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছে, এদের কেউই প্যারাগন কোচিং সেন্টার থেকে কোচিং করেননি আবার ফরহাদের মতো অনেকে জানেই না তাঁদের ছবি কীভাবে সাফল্যের তালিকায় স্থান পেল পোস্টারে ফরহাদের নাম আ. রহমান উল্লেখ করা আছে
কোচিং সেন্টারের পোস্টারে নিজের ছবি দেখে ফরহাদ বলেন, ‘বিদেশ যামু মনে কইরা জীবনে একবার স্টুডিওতে যাইয়া ছবি তুলছিলাম ছাপানো এই ছবিটা ছাড়া আমার আর কোনো ছবি নাই নিজেও জানি না কীভাবে আমার ছবি পোস্টারে গেল’ জানতে চাইলে প্যারাগন ভৈরব শাখার পরিচালক আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আসলে বিষয়টি কীভাবে হলো, আমরাও ঠিক বুঝতে পারছি না মনে হয় প্রেস ভুল করেছে’ শাখা চালুর পর কোনো পরীক্ষা না হলেও কীভাবে ২৭ জন সাফল্য পেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আগের বছর অন্য একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতাম এরা আগের সেন্টার থেকে কোচিং নিয়েছিল
তিন জেলায় কোচিংয়ের হাট: সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু প্যারাগন নয়, ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের প্রায় এক ডজন শাখা নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা সদরে খোলা হয়েছে এর মধ্যে প্যারাগন, লিডস ভার্সিটি, ইউসিসি, ইউনিএইড (কিরণ-সুমন-কবির), এডমিশন প্লাস, ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার, ইউএসি, পজিট্রন, ইউনিএইড (মনির-মল্লিক-জহির), এভিনিউ কোচিং, মেডিকেল কলেজ ভর্তি কোচিং প্রাইমেট উল্লেখযোগ্য সেন্টারগুলোর নাম ভিন্ন হলেও শিক্ষার কৌশল এবং শিক্ষকের মান প্রায় একই রকম প্রায় চার মাসের কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা গড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা নিয়ে থাকে
কোচিং করেছে এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রথম কয়েক দিন প্রধান কার্যালয় থেকে শিক্ষক আসেন পরে স্থানীয় শিক্ষক দিয়েই ক্লাস পরিচালনা করা হয় সপ্তাহে চার দিন ক্লাস হওয়ার কথা কিন্তু সব সপ্তাহে হয় না নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি গাইড ও লেকচার শিট দেওয়া হয় না ডেইলি টেস্ট, রিভিশন টেস্ট, পেপার ফাইনাল, সাবজেক্ট ফাইনাল, মডেল টেস্ট ইত্যাদির কথা বলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তার সব হয় না
প্রচার: প্রচারকাজে বেহিসাবি লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তথ্য স্মরণিকা, প্রসপেক্টাস ব্যবহার করা হচ্ছে তা ছাড়া বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ এবং শিক্ষক কমিশন প্রথা চালু এই প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান সড়কে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরত্বে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ব্যানার সড়কবাতির খুঁটি, ছোট-বড় গাছ—সবকিছুতে ব্যানার লাগানো ‘অবাক করা সাফল্য’, ‘বিস্ময়কর সাফল্য’, ‘তাক লাগানো সাফল্য’, ‘চোখ ধাঁধানো সাফল্য’, ‘আশ্চর্য রকম সাফল্য’, ‘হতবাগ হবার মতো সাফল্য’ ইত্যাদি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এসব পোস্টার-ব্যানারে
ভৈরব জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশন যেমন আচরণবিধি জারি করে যত্রতত্র প্রচারণার অত্যাচার থেকে নাগরিকদের রক্ষা করেছে, তেমনি কোচিং সেন্টরের বেলায় এমন আচরণবিধি করা দরকার
একাধিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনকারীদের তালিকায় দিনমজুর ফরহাদের ছবি আসলে কোচিং সেন্টারের প্রতারণার চিত্র এর মাধ্যমে সামান্য হলেও প্রকাশ পেয়েছে কোচিং সেন্টারগুলোর শিক্ষা-বাণিজ্যের অন্ধকার দিক
নীতিবর্জিত কর্মকাণ্ড: ভৈরবের শিক্ষার্থী মানাল বিনতে মো. উল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল হামীম টানাহেঁচড়ার শিকার হয়েছেন বলে জানান ইউসিসি এবং প্যারাগন ভৈরব শাখার পোস্টারে তাঁদের ছবি ছাপিয়েছে
মানাল তাঁর কাছে পড়ত কি না জানতে চাইলে প্যারাগনের পরিচালক বলেন, ‘মানাল আমার এখানে মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছে সে হিসেবে তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি
ইউসিসি কোচিং সেন্টার ভৈরব শাখার পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘আমার সেন্টার থেকে কোচিং করেছে এমন অনেক শিক্ষার্থীর ছবি বিভিন্ন কোচিং সেন্টার প্রচারণায় ব্যবহার করছে বিশেষ করে, প্যারাগন আমাদের মেধাবীদের নিয়ে বাণিজ্য করছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শারমিন আক্তার ও শারমিন ইসলাম নামের দুই শিক্ষার্থীর ছবি ইউসিসি, ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার এবং ইউএসি কোচিং পোস্টারে ছাপিয়েছে
ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই শারমিনই আমাদের এখানে কোচিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে আমাদের সাফল্য কেড়ে নিয়ে ইউসিসি ও ইউএসি শিক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করেছে
পাল্টা দাবি ইউসিসির পরিচালক ইজাজ বিন আজিজের তিনি বলেন, ‘দুই শারমিন আমাদের এখানে পড়েছে এডমিশন কেয়ার ভুয়ামি করেছে
ইউনিএইড নরসিংদী শাখার পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এখান থেকে কোচিং করল আর তাদের ছবি ছাপিয়ে গর্ব করে অন্যরা সে দুঃখে এবার আমি পোস্টারই করিনি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মো মোস্তফা জালাল প্রথম আলোকে বলেন, এরা কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু শিট ধরিয়ে দেয় এতে শিক্ষার্থীদের খুব বেশি উপকৃত হওয়ার সুযোগ নেইপ্রথম আলো

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

মুক্তিযোদ্ধা সনদ-বাণিজ্য

জাল সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাও নন, সনদের যোগ্যও নন। সম্প্রতি সনদ জাল করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন পুলিশের ২৩ কনস্টেবল। জাল সনদ করা হয় সাধারণত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা-সুবিধার জন্য। সুবিধার যোগ্য যিনি নন, তাঁর সুবিধা নিতে চাওয়াই দুর্নীতি। এই জাল সনদধারীরা কেবল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেই প্রতারণা করেন না, বঞ্চিত করেন আরেকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে; প্রতারণা করেন সরকারের সঙ্গেও। মুক্তিযুদ্ধকে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিশেষ একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নিজেকে বিশেষ দাবি করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার এই সুবিধাবাদী প্রবণতা মুক্তিযুদ্ধকেও ছাড়েনি। এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদই ভুয়া বলে প্রমাণ মিলেছিল। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বলে চাকরির বয়স বাড়ানোর আবেদনকারীদের মধ্যে ২৫ জনের কাগজপত্রও ছিল সন্দেহজনক। প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া সাত হাজার সনদধারীকে নিয়েও। এঁদের মধ্যে রয়েছেন অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ভুয়া সনদের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেড় হাজার চাকরি বেহাতে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ কোটা বরাদ্দ রয়েছে। সেই কোটা-সুবিধা দেওয়া-নেওয়াকে ঘিরে জাল সনদের একটি চক্রও দাঁড়িয়ে গেছে। অনেক সময় মন্ত্রী-সাংসদ কিংবা তাঁদের সহকারীদের কেউ কেউ ভুয়া সনদধারীর পক্ষে সুপারিশ করে থাকেন। এটি দুর্ভাগ্যজনক।
সমস্যার কারণ হয়তো আরও গভীরে। যখন যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাঁরা দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করেন। এই সুযোগে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের সারিতে নকলরা ঢুকে অবৈধ সুবিধা হাতিয়ে নেন। এই অপকর্ম রোধে প্রয়োজন দলীয় প্রভাবমুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শুদ্ধ তালিকা। সেই সঙ্গে সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রী-সাংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সনদ-বাণিজ্য চলতেই থাকবে।

খুনিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ডাদেশ মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায়ে ২০০৩ সালে আদালত বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আরও দুটি হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে আটক আছেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় পলাতক থেকে বিপ্লব গত ৪ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁর বাবা আবু তাহের ছেলে বিপ্লবের প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বিপ্লবের সাজা মওকুফ করেন। গত ১৪ জুলাই এই সাজা মওকুফের আদেশ কার্যকর হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের বাসা থেকে নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এটি তখন দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। তখন সেখানকার পৌর চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরও সন্ত্রাসের ‘গডফাদার’ হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।
২০০৩ সালে এই মামলার রায়ে বিপ্লবসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত।
বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফসংক্রান্ত একটি চিঠি গতকাল মঙ্গলবার নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচারিক আদালত চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়। চিঠিটি পাঠিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরশেদ আহমেদ ভুইয়া। চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ‘কারা শাখা-২-এর পি-২০/২০১১(অংশ)/২৭০, তারিখ ১১/০৭/২০১১’ এবং কারা অধিদপ্তরের স্মারক নং ‘পিডি/পরি/৭/২০১১/১৬৭৫(৩), তারিখ ১৭/০৭/২০০১’-এর বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘উপরোক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকের আলোকে মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়োক্ত বন্দিকে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম-৪৮/২০০৩ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির পিতা কর্তৃক ছেলের প্রাণভিক্ষার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি “মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হলো” লিখে স্বাক্ষর করেছেন। তাই সংশ্লিষ্ট বন্দি গত ১৪/০৭/২০১১ তারিখে মৃত্যুদণ্ড হতে খালাস পেয়ে অন্য মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে বর্তমানে অত্র কারাগারে আটক আছে।’
গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরশেদ আহমেদ ভুইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি মামলায় বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেছেন। সেই আদেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, আরও দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিপ্লব কারাগারে বন্দী আছেন।
কী বিচার পেলাম: বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের খবর জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা ইসলাম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাহলে আমরা কী বিচার পেলাম? আমার বাচ্চারা কী বিচার পেল? একটা স্বাধীন দেশে যদি খুনি ক্ষমা পেয়ে যায়, তাহলে আর কী বলব! শুধু কষ্ট হয়। এই খুনির ক্ষমা হয় কীভাবে?’
রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘এখন তো আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, সে তো একজন খুনি। সে শুধু একটা খুন করেনি, আরও অনেক খুন করেছে। এখন আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?’
হত্যা, মামলা ও বিচার: স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আবু তাহের ও তাঁর ছেলেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর নানা অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে লক্ষ্মীপুর ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ওই সময় সেখানকার বেশির ভাগ বিএনপির নেতা-কর্মী হামলা ও মামলার মুখে এলাকাছাড়া ছিলেন। নুরুল ইসলাম ছিলেন তখন বিএনপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আইনজীবী হিসেবে এলাকায় অবস্থান করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলা পরিচালনা করতেন। আর তাঁর স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় থাকতেন।
২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকার মজুপুরের বাসা থেকে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। এরপর আর তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরদিন থেকে এটা দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘গডফাদার’ আবু তাহের ‘সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাহেরের তিন ছেলে বিপ্লব, লাবু ও টিপুর নেতৃত্বে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাহেরের বাসায় তাঁর স্ত্রী নাজমা তাহেরের উপস্থিতিতে নুরুল ইসলামকে জবাই করা হয়। এরপর লাশ টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পরদিন লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি এইচ এম তারেক উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ ছিল না।
এ ঘটনার ১০ দিন পর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির সাংসদদের একটি দল লক্ষ্মীপুরে যায় এবং ৩৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে মামলার একটি এজাহার জমা দেয়। কিন্তু পুলিশ বিএনপির মামলা নেয়নি। আগের এজাহার বহাল রাখে।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মামলার তদন্তের নতুন মোড় নেয়। ২০০২ সালের ৩০ জুলাই আবু তাহের, তাঁর স্ত্রী নাজমা, তিন ছেলেসহ ৩১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মামলাটি তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলার নথি আসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।
আদালত তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহবুবুল আলম, পুলিশ সুপার ইরফান আলীসহ ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। তাতে তাহেরের তিন ছেলেসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তাহের ও তাঁর স্ত্রী নাজমাসহ তিনজন খালাস পান। বিপ্লব এই মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে বিপ্লব লক্ষ্মীপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর গত ১৯ মে সকালে লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে পুলিশ পাহারায় বিপ্লবকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এ ছাড়া বিএনপির কর্মী কামাল হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিপ্লবের অপর দুই ভাই এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু ও আবদুর জব্বার লাবলু ওরফে লাবুর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। কামাল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় আবু তাহের, তাঁর বড় ছেলে বিপ্লব ও দলীয় কর্মী খালেক, বাবর এবং মারজুর। পরে বিপ্লব ও খালেক ছাড়া বাকি চারজন হাইকোর্ট থেকে খালাস পান।
বিএনপির কর্মী কামালকে ২০০০ সালে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১

দারাদের প্রতারণা সত্ত্বেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব

জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমা
জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমা
আমি কেইকো আজুমা, জাপানের একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমার স্ত্রী। সিলেটে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের দ্বারা আমরা প্রতারিত হয়েছি। প্রথম আলোর সহযোগিতায় আমাদের এত দিনের ভ্রান্তি কাটল। আমরা এখন দারাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার এবং তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব বাংলাদেশির সহযোগিতা কামনা করছি। 
দারাদ অনেক বছর ধরে আমার স্বামী ও আমাকে ঠকিয়েছে। এতে আমরা যে কত মর্মাহত হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমার স্বামী এখন খুবই অসুস্থ। তাঁর মনের অবস্থা চিন্তা করে বড় দুঃখ পাই।
দারাদ আহমেদ আমাদের কাছে অনেকবার টাকা চেয়েছিল। প্রথমে সিলেটে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেনার নামে তিন কোটি জাপানি ইয়েন (দুই কোটি ৭৩ লাখ টাকা) জোগাড় করার জন্য বলেছিল। এরপর ভবন নির্মাণ বাবদ এক কোটি ৭০ লাখ ইয়েন (এক কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা) চেয়েছিল। আবার নির্মাণের খরচ অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি হওয়ার কথা বলে আমার ননদের কাছে দেড় কোটি ইয়েন (এক কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) নিয়েছিল। এতেও শেষ হয়নি। বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জামের জন্য সে বারবার টাকা চাওয়ায় আমরা অতিরিক্ত আরও ৪৮ লাখ ইয়েন (৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা) জোগাড় করে তাকে দিয়েছিলাম। সর্বশেষ সে আমাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা) ধার হিসেবে নিতে চেয়েছিল। এভাবে আমরা মোট ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (ছয় কোটি ২৪ লাখ টাকা) তার হাতে দিয়েছিলাম আমাদের স্বপ্নের সাংস্কৃতিক বিনিময়কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, তার সেই কথা বিশ্বাস করে।
আমার স্বামী ও আমি কত কষ্ট করে এত টাকা জোগাড় করেছি, দারাদ কি সেটা বুঝতে পারে? আমাদের নিজের টাকা সব খরচ করে শেষ পর্যন্ত আমরা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে তাকে দিয়েছি, সে কথা তার জানা ছিল কি? দারাদ আহমেদকে বিশ্বাস করেই আমরা তাকে এত বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছি। তার সঙ্গে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছিলাম আমরা দুজন। শান্তিনিকেতনে নিপ্পন ভবন এবং কলকাতায় ভারত-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার পর আমার স্বামীর আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাংলাদেশেও দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের জন্য অনুরূপ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। তবে শেষ পর্যন্ত দারাদের হাতে প্রতারিত হয়ে ঠকে গিয়ে এত দুর্দশা ভোগ করতে হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।
এত দিন সে যে কথা আমাদের শুনিয়েছে, তার সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, কেন্দ্রটির কিছুই হচ্ছে না। কতবার সে বলেছিল, ভবনটির উদ্বোধন হবে এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। সব মিথ্যা কথা। কোনো একটি মসজিদের ছবি পাঠিয়ে একসময় সে জানাল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছবি এটা। আমাদের বোকা বানানোর জন্য সে এমনকি মসজিদ পর্যন্ত কাজে লাগিয়েছে। দারাদ আবার একসময় বলেছিল, তার মা জাতিসংঘের চিকিৎসক। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম, তিনি একজন সাধারণ গৃহিণী। নিজের মাকে এ ধরনের নিন্দনীয় কাজে লাগানো মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব কি? আমরা জানতে পেরেছি, দারাদের কথা আগাগোড়া মিথ্যা। ভাবতে অবাক লাগে, তার মতো এ রকম চূড়ান্ত অসৎ লোকও মানুষ হয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম নিতে পারে!
আমরা তার কাছে দাবি করছি, আমাদের টাকা সে যেন ফিরিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে তার ভাইপো বলে নিজেকে পরিচয় দেওয়া এক লোক লন্ডন থেকে আমাকে টেলিফোন করে জানিয়েছে, কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্যে সিলেটে যে জমি কেনা হয়েছে, এর দাম এখন বেড়ে গেছে এবং সেই জমি বিক্রি করে দারাদ আহমেদ আমাদের টাকা ফেরত দিতে চায়। ভালো কথা। শিগগিরই জমি বিক্রি করা হোক এবং টাকাটা আমাদের পাঠানো হোক। আমরা সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসল জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করব। দারাদের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা তাতে একেবারেই থাকবে না। তার একমাত্র করণীয়, এখন কেবল আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া।
সিলেটে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার আমাদের পরিকল্পনায় সাড়া দিয়ে জাপানে ১০০ জনের মতো টাকা দান করেছেন। তাঁরা সবাই এখন দারাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আসল কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নতুনভাবে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি একা কিছুই করতে পারতাম না, তবে অনেকেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছি এবং আমাদের চলতি কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য জোর অনুরোধ তাঁকে জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে ভালো করেই চেনেন। তাই আমার বিশ্বাস, তিনি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ অচিরেই গ্রহণ করবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে এই ঘটনার সমাধান করতে এবং বাংলাদেশে আমাদের দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ঘাঁটি হিসেবে একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদিকে আমরা ইতিমধ্যে জাপানি পুলিশের কাছে মামলা করেছি এবং তারা সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে।
দারাদ আহমেদ এখন যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের আইন সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের আন্তরিক তৎপরতায় অল্প দিনের মধ্যে সে ধরা পড়বে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সঙ্গে আমি আরও বিশ্বাস করি যে জাপানের প্রতি বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের মানুষ দুই দেশের মৈত্রীর সম্পর্কের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঘন্য ধরনের প্রতারণায় লিপ্ত সেই ব্যক্তিকে একঘরে করবেন। সর্বশক্তিমান তাকে যেন যথাযথ শাস্তি দেন—সেটাই আমাদের কামনা।
টোকিও, জাপান, ১২ জুলাই, ২০১১
কেইকো আজুমা: জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমার স্ত্রী।
প্রথম আলো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নম্বর ঘষামাজা, এক ছাত্রের নম্বর বৃদ্ধি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্র তেজগাঁও কলেজের এক ছাত্রের নম্বর বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ করেছে। নম্বর ঘষামাজার (টেম্পারিং) এ ঘটনা শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক তদন্তে এই কারসাজির প্রমাণও মিলেছে। 
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ওই ছাত্র সম্মান চূড়ান্ত (অনার্স ফাইনাল) পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষার আবেদনই করেননি।
এর নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু কাওসারসহ কয়েকজনের নাম। এখন তাঁদের রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্র ভেতর-বাইরে দেনদরবার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
আবু কাওসার প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে মন্তব্য করতে চান না। কয়েক দিন পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। 
যোগাযোগ করা হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য তোফায়েল আহমদ চৌধুরী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এভাবে একে অপরকে দেখিয়ে দেন, কেউ বা তদন্তের অজুহাতে নম্বর ঘষামাজার বিষয়ে কথা বলতে চাননি। কিন্তু এসব কর্মকর্তার কেউই জোর দিয়ে বলেননি যে ঘটনাটি মিথ্যা। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। গতকালও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আরেক সহ-উপাচার্য মো. আবু সাইদ খান তিন মাস আগে ইস্তফা দিলেও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েও যান না।
জানা যায়, সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃ নিরীক্ষা করতে চাইলে ৫০০ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে আবেদন করবেন। কিন্তু তেজগাঁও কলেজের প্রাণ রসায়নের ওই ছাত্র খাতা পুনঃ নিরীক্ষার আবেদন না করলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার টেবিলে তাঁর নম্বর সংশোধনের নথি ঘোরাঘুরি করেছে। একপর্যায়ে নম্বরপত্রের সঙ্গে কম্পিউটার শিটের গরমিল ধরা পড়ে। এ ঘটনাটি প্রাথমিক তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ-সংক্রান্ত ফাইলটি তথ্যপ্রমাণসহ উপাচার্যের কাছে 

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও জ্যেষ্ঠতা পেলেন ১৯৭ জন চিকিৎসক

দশম বিসিএসের ১৯৭ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ না নিয়ে এবং জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও জ্যেষ্ঠতা পেয়েছেন, অথচ বাদ পড়েছেন বিভিন্ন সময় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাঁদের তিন শতাধিক সহকর্মী।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। আর বঞ্চিত ব্যক্তিরা বলছেন, নানা নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ স্বাস্থ্য খাতে সরকার নতুন করে বৈষম্য ও অসংগতি সৃষ্টি করল। তাঁরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৭ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে স্থায়ী হতে হলে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস করতে হবে। জ্যেষ্ঠতা পেতে হলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১৪ বছরের মধ্যে সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে।
কিন্তু ওই ১৯৭ চিকিৎসক কর্মকর্তা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নেননি, জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হননি। একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২৪৭ জন জ্যেষ্ঠতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য খাতে চলমান নানা সমস্যাকে আরও প্রকট করবে। বঞ্চিত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে রোগীদের ওপর। একজন চিকিৎসক তখনই কাজের স্পৃহা পাবেন, যখন তাঁর প্রতি ন্যায্য আচরণ করা হবে।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) আশরাফুল ইসলাম বলেন, জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। স্বাস্থ্য ক্যাডারে জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার যে বিধান, তা পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়মের কারণে বহু বছর আগে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকেরা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের বাইরে থেকে গেছেন। নির্বাহী আদেশে তাঁরা সব শর্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ১৯৯১ সালের ৫ ডিসেম্বর বা তার আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের বিভাগীয় পরীক্ষা ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু জ্যেষ্ঠতা পাওয়া ১৯৭ জন চিকিৎসক চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অনিয়ম দূর করতে গিয়ে মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। হরেদরে অব্যাহতি দিলে নতুন করে আইনগত জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে যেকোনো সময় সেই আদেশ বাতিলও করা হতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, গত ৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ওই ১৯৭ জনের জ্যেষ্ঠতা প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে দুই ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। উপসচিব মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ বা তার আগে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ওই একই চিঠিতে বিশেষ বিসিএসের একজন, চতুর্থ বিসিএসের দুজন, সপ্তম বিসিএসের ২৭ জন, অষ্টম বিসিএসের ৫০৬ জন, নবম বিসিএসের ২০৭ জন, দশম বিসিএসের ১৯৭ জন এবং একাদশ বিসিএসের একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারাও জ্যেষ্ঠতা পেয়েছেন। কিন্তু প্রথম থেকে একাদশ বিসিএস পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ। তাঁদের কাজের গতিশীলতা আনাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দশম বিসিএসের ওই কর্মকর্তারা ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দিলেও, নথিপত্রে ওই বছরের ২২ এপ্রিল তাঁদের যোগদানের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২২ এপ্রিল সরকারি কর্মকমিশন তাঁদের চাকরির সুপারিশ করেছিল।
সূত্রগুলো জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্যগত ওই অসংগতি সম্পর্কে জানে। বহু বছর ধরে স্থগিত থাকার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে বলা হয়, ১৯৯১ সালের ৫ ডিসেম্বরের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের বিভাগীয় পরীক্ষা, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য এই তথ্য আবশ্যক।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েতউল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বহুদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলে এসেছে, তা দূর করে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ভেজাল ঘি তৈরির দায়ে বাবা-ছেলের সাজা

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বেগমবাজারে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালান
ছবি: প্রথম আলো
পামওয়েল, ডালডা আর বিষাক্ত রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘি। নামীদামি ব্র্যান্ডের চকচকে টিনের কৌটায় তা বাজারজাতও হচ্ছে। নিজের বাড়ির ছাদে ঘি তৈরির এ কারখানা গড়ে তুলেছিলেন আবদুস সামাদ ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল। র‌্যাব ১০-এর একটি দল গতকাল ভোরে সে কারখানায় হানা দিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের সাজা দেন।
র‌্যাব সদস্যরা জানান, পুরান ঢাকার বেগমবাজারে একটি চারতলা বাড়ির মালিক আবদুস সামাদ। ঘি তৈরির কারখানা ছিল ওই বাড়িতেই। গতকাল দুপুরে ওই কারখানায় গিয়ে যায়, বাজার থেকে কেনা পামওয়েল, ডালডা ও রং গ্যাসের চুলায় জ্বাল করে তরল তৈরি করা হয়। পরে সে তরল ভরা হয় নাম করা কোম্পানির কৌটায়। ঘিয়ের ঘ্রাণের জন্য খানিকটা আসল ঘি ওপরে দেওয়া হয়। টিনের কৌটার মুখ বন্ধ করে তা তুলে দেওয়া হয় ফেরিওয়ালাদের হাতে। এই ঘি আসল ঘি বলেই বিক্রি হয় বাজারে।
ঘি কারখানার মালিক আবদুল সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কোটা ঘিয়ে লাভ থাকে ৪০ টাকা। দুই মাস ধরে তিনি এই ঘি তৈরি করছেন বলে জানান।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা প্রথম আলোকে বলেন, নাম করা ঘিয়ের কৌটায় ভেজাল ঘি বাজারজাত করে তাঁরা প্রতারণা করছিলেন। এ জন্য কারখানা মালিক সামাদকে দুই বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর ছেলে সোহেলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের উপপরিচালক মুহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে গতকাল সকালে র‌্যাব-১০-এর একটি দল লালবাগের পোস্তা এলাকায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে নকল বাল্ব, নারকেল তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি ও পাউডার তৈরির অভিযোগে কারখানার মালিক ইসমাইল হোসেনকে আটক করে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইসমাইলকে চার লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিদর্শক সাইদুর রহমান এসব অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

ভূমিহীনরা পেয়েছেন চারা বিত্তশালীরা গরু

রাজশাহীর বাগমারায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ১৯ লাখ টাকার সম্পদ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমিহীনদের গাছের চারা এবং বিত্তশালীদের গরু ও ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বাগমারা উপজেলার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাগমারার বাসুপাড়া, বড়বিহানালী, আউচপাড়া ও মাড়িয়া ইউনিয়নকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের চারটি গ্রাম নির্বাচন করে প্রতিটি গ্রামের ৬০টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে সম্পদ বিতরণের জন্য নির্বাচিত করে গ্রাম সংগঠন কমিটি। এ জন্য তারা অতি দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে। অভিযোগ উঠেছে, এ তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গ্রামের প্রভাবশালীরা কথিত গ্রাম সংগঠনের নেতা হয়ে তাঁরাই তালিকা তৈরি করেছেন। নয় সদস্যবিশিষ্ট এই গ্রাম সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা পেয়েছেন মূল্যবান সম্পদ। তাঁদেরই রাখা হয়েছে ‘অতি দরিদ্রের’ তালিকায়। অথচ যাঁদের জমিজমা নেই, তাঁদের রাখা হয়েছে এসব কথিত অতি দরিদ্রের ওপরের স্তরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী দরিদ্ররা পেয়েছেন মূল্যবান গাভী ও ঢেউটিন। আর প্রকৃত দরিদ্ররা পেয়েছেন গাছের চারা ও সবজির বীজ। আউচপাড়ার বিধবা খতেজান বেওয়া জানান, তাঁকে এক হাজার টাকা মূল্যের গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জায়গা নেই। তিনি গাছের চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। গরু চেয়েও তিনি পাননি। আউচপাড়া ইউনিয়নের খুজিপুর গ্রামের বিধবা রনেকা জানান, যাঁদের জায়গা নেই, তাঁদের গাছের চারা ও সবজির বীজ দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা গ্রাম কমিটির সদস্য ও যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের দেওয়া হয়েছে গাভী, ঢেউটিন ও ২০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ।
হাটখুজিপুর গ্রাম সংগঠনের সভাপতি রহিদুল ইসলাম নিজের নামে গরু নিয়েছেন। তাঁর ভাই সাদিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী খাদিজাকে সদস্য করে তাঁদের নামেও গরু দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী ও সদস্য ছামান আলীও নিয়েছেন গরু।
এই সংগঠনের আশরাফ আলী, ছামান আলীসহ অন্যরা নিজেদের নামে গরু নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তাঁরা জানান, পরবর্তী তালিকায় তাঁদের (গরিব ব্যক্তিদের) দেওয়া হবে।
বাসুপাড়ার আব্বাস আলী ও বড়বিহানালীর সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায়ও প্রভাবশালীদের দামি সম্পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁদের সবজির বীজ ও চারা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এম জিয়াউর রহমান জানান, তালিকা তৈরিতে ও সম্পদ বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি প্রকল্পের সভাপতি হলেও এ ব্যাপারে তাঁর কোনো মতামতই নেওয়া হয়নি।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বিআরডিবি কর্মকর্তা তাজ নাওয়াজউল কবির প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তালিকা তৈরিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য লোক নিয়োগ থাকলেও সেসব পদে কেউ না থাকায় অনিয়ম খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।

ফাও খাবার না পেয়ে রেস্তোরাঁ ভাঙচুর

ফাও খাবার না পেয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র রাজধানীর কলেজগেটে একটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর করেছেন। এ সময় হোটেলের কর্মচারীরা ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। 
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর পুলিশ রেস্তোরাঁর দুজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টো দিকের অনুরাগ রেস্তোরাঁয় খেতে যান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও জাহিদ। তিনজনের খাবারের দাম হয় ৩১১ টাকা। কিন্তু কর্মীরা মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। এ সময় ব্যবস্থাপক তাঁদের ডাক দিলে ছাত্ররা ফিরে এসে জানান, তাঁরা ২০ ভাগ মূল্যছাড় পেয়ে থাকেন। ব্যবস্থাপক ওই ছাড় দিয়েই বাকি দাম দিতে বলেন। ছাত্ররা এতেও রাজি না হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্ররা ব্যবস্থাপককে মারধর শুরু করেন। 
প্রত্যক্ষদর্শী আরও একজন জানান, ছাত্রদের মধ্যে একজন ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০-১৫ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে আসেন। ছাত্ররা এসেই রেস্তোরাঁর সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় রেস্তোরাঁর সব খদ্দের বের হয়ে যান। শুরু হয় মারামারি। মারামারিতে ছাত্রলীগের ও রেস্তোরাঁকর্মী উভয় পক্ষই আহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনার পর পুলিশ এসে ছাত্রলীগের কর্মীদের পক্ষ নিয়ে তৎ পরতা শুরু করলে রেস্তোরাঁকর্মীরা পালিয়ে যান।
ছাত্ররা জানান, মারামারির সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরোয়ার মামুন, সহসভাপতি এ এম আহসান হায়দার শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, ইব্রাহিম খলিল খান, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও সুমন চন্দ্র সরকার আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সম্মেলন শেষে নেতারা কয়েকজনকে টাকা দিয়ে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে বলেন। টাকা নিয়ে ওই তিনজন রেস্তোরাঁয় খেতে যান। খাওয়া শেষে দাম হয় ১২০ টাকা। তাঁরা ১০০ টাকা দিতে চান। কিন্তু ব্যবস্থাপক ২০০ টাকা দাবি করেন। রেস্তোরাঁকর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও রড-লাঠি নিয়ে তাঁদের মারধর করেছেন বলে তিনি জানান। 
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পুলিশ রেস্তোরাঁর মালিকের আত্মীয় ও রেস্তোরাঁর কর্মী সৈয়দ হোসাইনুল ইসলাম তালুকদার ও রাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

সস্তা দামের সালফার ও মাটি মিশিয়ে দস্তা সার বিক্রি

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নিম্নমানের দস্তা সার অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির চকচকে প্যাকেটে সস্তা দামের সালফার ও মাটি ভরে দস্তা সার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুধু দস্তা সারের নামেই ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করে জেলা থেকে প্রতিবছর ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক কৃষক না বুঝে এসব নিম্নমানের সার জমিতে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সার ব্যবহারের কারণে কৃষকেরা বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লোকসান গুনছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই দুই ও তিন ফসলি। এসব জমিতে উন্নত ফলনের আশায় কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ দস্তা সার ব্যবহার করছেন। ৪২টি দস্তা সার কোম্পানি স্থানীয় ৮১ পাইকারি, ৯১০ জন খুচরা সার ও কীটনাশকের ডিলারসহ বিভিন্ন মুদি দোকানের মাধ্যমে এসব সার বিক্রি করছে। যশোরের নওয়াপাড়া, ঢাকা ও স্থানীয় বেশ কিছু কোম্পানি এ সার তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত।
বাজার থেকে দস্তা সার কিনে ব্যবহারের পর আশানুরূপ ফসল উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মে মাসে বাজার থেকে দস্তা সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার মৃত্তিকাসম্পদ ইনস্টিটিউটে পাঠায়। সেখানে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ১ জুলাই চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌঁছায়।
প্রাপ্ত ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মান অনুযায়ী মনোহাইড্রেট-জাতীয়তে সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশ, হেপ্টাজাতীয়তে ২১ শতাংশ ও চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারে ১৭ শতাংশ জিংক থাকার কথা। অথচ পরীক্ষাগারের ৪৪টি সারের মধ্যে মাত্র নয়টিতে এ মানের কাছাকাছি জিংক পাওয়া গেছে। চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে এআরজেড কোম্পানির ‘জিংক’-এ কোনো জিংক পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মনোহাইড্রেট-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে জিংকটক্সে দশমিক ৪, যমুনা জিংক প্লাসে ৪, সিনো জিংকে ৪ দশমিক ৪, আর কে তাজায় ১০ দশমিক ৪, প্রাইম জিংকে ১২ দশমিক ৬, ক্রাউন মনো সুপার জিংকে ১৪ দশমিক ৮, ফিউচার জিংকে ১৫ দশমিক ৩ এবং হেপ্টাজাতীয় দস্তা সারের মধ্যে সুফলন জিংকে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ দস্তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত বছর চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল সারের একটি কারখানার সন্ধান মেলে, যেখান থেকে সারের উপকরণ হিসেবে কালো মাটি, ইটের গুঁড়া ও সালফার পাওয়া যায়।
সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরীফ উদ্দীন জানান, জমিতে দস্তার প্রয়োজন আছে কি না, তা না জেনেই কৃষকেরা বিক্রেতা ও কোম্পানির লোকের মিষ্টি কথায় সার ব্যবহার করে চলেছেন। এতে জমির উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি।’
চুয়াডাঙ্গা শহরে দস্তা সারের পাইকারি বিক্রেতা তসলিম আরিফ জানান, কোনো সার নিম্নমানের প্রমাণিত হলে সেগুলো কোম্পানিকে জানানো হবে। কোম্পানি ব্যবস্থা না নিলে নিম্নমানের সার বিক্রি করা হবে না। সেলিম ট্রেডার্সের মালিক এম এম সেলিম জানান, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির দস্তা সার বিক্রি করেন। মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, পরীক্ষায় প্রমাণিত নিম্নমানের সার বিপণন বন্ধ করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো

প্রয়োজন নেই, তবু ১২ কোটি টাকার যন্ত্র ক্রয়!

দুই বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনেছে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি)। বায়োজিন ফার্মা এ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আরও পাঁচ-ছয় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা এই যন্ত্রপাতি কিনতে বাধ্য করছেন। বায়োজিন ফার্মা ওই নেতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বায়োজিন ফার্মার মাধ্যমে ব্যয়বহুল, কম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে বাধ্য করছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা। এনআইসিভিডির বাইরে অন্যান্য মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালেও তিনি প্রভাব খাটাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
ওই ইনস্টিটিউটের অন্তত ছয়জন চিকিৎসক একই অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েতউল্লাহ বলেন, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কেনাকাটার অনিয়ম নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবদুল্লাহ আল শাফি মজুমদার এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। 
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কেনা যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে দুটি রেনাল গার্ড, একটি স্টেম সেল থেরাপি মেশিন ও দুটি ইইসিপি মেশিন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অপ্রয়োজনীয় আরও কিছু যন্ত্রপাতির নাম যুক্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকা থেকে নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতির নাম যেন ইনস্টিটিউটের ক্রয় কমিটি বাদ না দেয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা ও তাঁর লোকজন।
তবে ওই নেতা বায়োজিন ফার্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রথমে তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা সম্পর্কে তাঁর জানার কথা নয়। পরে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী যে সংস্কার চলছে, তার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। তাঁর দাবি, হূদরোগ ইনস্টিটিউটে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা চিকিৎসকদের ব্যর্থতা। 
বায়োজিন ফার্মার চেয়ারম্যান মো. শাফায়াতুল ইসলামও যন্ত্রপাতি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান যুক্ত নয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৮ নম্বরে ওই বায়োজিন ফার্মার অফিসে গিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ওই নেতা এ অফিসে শাফায়াতুল ইসলামের পাশের কক্ষে বসেন। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালের হূদেরাগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব যন্ত্রপাতি চালানোর মতো বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে নেই। একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অলংকার পরলে তো অলংকারের শেষ নেই। কিন্তু দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে যেসব যন্ত্রপাতি দরকার আগে সেগুলো কেনা উচিত।’
হূদরোগ ইনস্টিটিউটের কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটিতে তিন বছরের কম বয়সী রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা মাঝে বন্ধ ছিল। কারণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুত ছিল না। এখন অস্ত্রোপচার চালু হলেও এ ব্যবস্থার মান নিয়ে চিকিৎসকেরাই সন্তুষ্ট নন। তা ছাড়া রোগীর সার্বক্ষণিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ডিয়াক মনিটর দরকার। ৪২টির মধ্যে ২৫টি এক বছর ধরে নষ্ট। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় ইসিজি ও ইকো মেশিন দরকার। অতি প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি জরুরি ভিত্তিতে কেনা দরকার।
ইনস্টিটিউট সূত্র জানিয়েছে, বায়োজিন ফার্মা একচেটিয়া কাজ শুরু করে ২০০৯ সালে। ওই বছর ৩০ মে ও ৫ জুন এক কোটি টাকা মূল্যের দুটি রেনাল গার্ড যন্ত্র সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
চিকিৎসকেরা জানান, রোগীর শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে রেনাল গার্ড ক্ষতি কমিয়ে আনে। কিন্তু সরবরাহ করা যন্ত্র দুটির একটিও কাজ করছে না। ২০০৯ সালের ৮ জুন যন্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক খন্দকার শহীদ হোসেন ও এম জালাল উদ্দিন লিখিত মন্তব্য দেন, যন্ত্র দুটি রোগীর শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম। 
তখন ক্রয় কমিটির সভাপতি ছিলেন কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি বিভাগের খাজা এন মাহমুদ। তিনিই সই করে যন্ত্র দুটি গ্রহণ করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে যন্ত্র দুটি বায়োজিন ফার্মার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছিলেন। সচল না অচল তা জানা ছিল না।’ তবে এখন যন্ত্র দুটি পড়ে আছে। নতুন একটি রেনাল গার্ড যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ওই বছর বায়োজিন ফার্মা চার কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা দামের একটি টিএমআর যন্ত্র ও ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের একটি ইইসিপি যন্ত্র দেয়। যেসব রোগীর এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করা যায় না, তাদের চিকিৎসায় এই যন্ত্র দুটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি চার কোটি ৭৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দামের স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্র ও ২০১১ সালে আরও একটি ইইসিপি মেশিন দেয়। যাদের হূৎপিণ্ডের মাংসপেশি অত্যন্ত দুর্বল, স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে তাদের হূৎপিণ্ডের গায়ে রক্ত চলাচল উন্নত করা যায়।
সূত্র জানায়, স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্র ও ইইসিপি চালানো শেখাতে ইনস্টিটিউটের কয়েকজনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল বায়োজিন ফার্মার। কিন্তু তারা তা করেনি। এখন দুটি ইইসিপি যন্ত্র নষ্ট। নতুন একটি যন্ত্র আসছে। অন্যদিকে, স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্রটিও অচল পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি: কম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা আমলে না নেওয়ায় জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালককে ২০ জুন কড়া চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছুদিন আগে ইনস্টিটিউটকে যন্ত্রপাতির একটি তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় ৯০ লাখ টাকা দামের দুটি স্ফিগমোকর যন্ত্র, এক কোটি ১০ লাখ টাকা দামের ইইসিপি যন্ত্র ও ৫০ লাখ টাকা দামের স্পার্টান (ডিএনএ টেস্ট ডিভাইস) আছে। কর্তৃপক্ষ কম প্রয়োজনীয় যন্ত্র বাদ দিয়ে খুব প্রয়োজন এমন যন্ত্রপাতির একটি তালিকা পাঠায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লেখে, ইনস্টিটিউটকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা থেকে যন্ত্র না বেছে কেন নিজেদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রের নাম পাঠানো হলো তা জানাতে বলা হয়।
কিনছে অন্য প্রতিষ্ঠানও: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালেও বায়োজিন ফার্মা ইইসিপি যন্ত্র সরবরাহ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ওই নেতা ইইসিপি যন্ত্র এখানেও দিতে চেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে সফল হননি।

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

ধরা!

সরকারি সফরে যাওয়ার কথা ছিল চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাগে। কিন্তু তিনি যেতে চান প্যারিসে। সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সই জাল করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পর্যন্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে সফরটিই বাতিল হয়ে যায়। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রাথমিক তদন্ত করে। এর ভিত্তিতে মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির। গত সোমবার তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের কাছে সুপারিশপত্র পাঠান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আপাতত তাঁকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ স্বীকার করে মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে জানান, তিনি বুঝতে পারেননি। ভুল হয়ে গেছে। তাঁর সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
কিন্তু নিজাম উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে চেক রিপাবলিকের কোনো দূতাবাস নেই। সে কারণে তিনি ফ্রান্সে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে প্রাগের ওই সম্মেলনে আরও একজন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, ঢাকার চেক রিপাবলিকের কনস্যুলার অফিস থেকেই ভিসা নিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৩-২৬ জুন পর্যন্ত প্রাগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাঁর এই বিদেশ সফর অনুমোদন করে ৬ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত আইরিনের স্বাক্ষর ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে প্রত্যয়নপত্রও দেয়। কিন্তু ৯ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন। এতেও সই আছে নুসরাত আইরিনের। তাতে লেখা, ২২ জুন থেকে ২৯ জুন মেয়াদে ফ্রান্সে ভ্রমণ করবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক। একই নামে তিন দিনের ব্যবধানে দুটি চিঠি আসায় খটকা লাগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। তাঁরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত আইরিন সংশোধিত কোনো প্রজ্ঞাপনে সই করেননি। তাঁর সই জাল করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজাম উদ্দিনের এই সফরের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু নিজাম উদ্দিন আর বিমানবন্দরে যাননি। নির্ধারিত দিনে বিমানবন্দরে না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানতে পারেন, তাঁর কাগজপত্র নিয়ে কিছু ঝামেলা হচ্ছে। তাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাইলেই বিদেশ যেতে পারি, কেন জালিয়াতি করব!

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

 নিষিদ্ধ ওষুধসহ পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তার, ‘ভুয়া চিকিৎসক’ আটক

আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধসহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল রোববার ভোরে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। তাঁর নাম মুহাম্মদ শাহাবুদ্দীন (৪৩)। তাঁর ৯০ কেজি ওজনের চারটি বড় লাগেজ থেকে ওই ওষুধগুলো উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
আর্মড পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল ভোরে বিমানবন্দরের ১ নম্বর আগমনী টার্মিনাল থেকে শাহাবুদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হলেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তাঁর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে পাকিস্তানের করাচি থেকে কাতারের দোহা হয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় তিনি ঢাকায় নামেন। আটক করার সময় প্রথমে তিনি আর্মড পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যদের উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ঢাকার মতিন মোল্লা নামের একজন তাঁর মাধ্যমে ওই মালামাল এনেছেন বলে জানান।
চিকিৎসক আটক: চিকিৎসকের বেশে রোগীদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় মশিউর রহমান (২৪) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল হক মল্লিক জানান, গতকাল দুপুরের দিকে চিকিৎসকের বেশে ওই যুবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর (নতুন) ওয়ার্ডে ঢোকেন। ওয়ার্ডে ঢোকামাত্রই তিনি ঘুরে ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ অচেনা ওই ‘চিকিৎসকের’ পরিচয় জানতে চান। ওই যুবক একেকবার একেক কথা বলায় চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ওই যুবকের কাছ থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে দেখেন, সেটি ভুয়া। তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

পিরোজপুরে মাটি খুঁড়ে ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার

রাজধানীর বনানীতে নিউ হীরা জুয়েলার্স থেকে লুণ্ঠিত আরও ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ওই ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াকুব আলী মালের পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার মাটি খুঁড়ে এসব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
ডাকাতির মালামাল লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ইয়াকুবের ভাই ইয়াছিন মাল (২২), বোন খাদিজা (২৪) এবং মা মমতাজ বেগমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে নিউ হীরা জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনায় র‌্যাব ও ডিবি ১৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩৪১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করল। এর মধ্যে র‌্যাব উদ্ধার করেছে ২৯১ ভরি।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ভেচকী গ্রামে ডাকাত ইয়াকুব মালের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার দিনভর যৌথভাবে অভিযান চালায় র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৮। অভিযান তদারককারী র‌্যাব-১-এর মেজর মোসতাক আহমেদ জানান, ইয়াকুবদের বসতবাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে গাবগাছ ও রেইনট্রি গাছের তলায় দুটি মাটির হাঁড়িতে পলিথিনে মুড়িয়ে ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার পুঁতে রাখা হয়েছিল। ইয়াকুবের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মাটি খুঁড়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, পিরোজপুর থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা তিনজনকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৪ জুন (শুক্রবার) দুপুরে বনানীর ইকবাল সেন্টারের নিচতলায় নিউ হীরা জুয়েলার্সে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ডাকাতেরা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার রাতে ডাকাত দলের নেতা ইয়াকুব মালকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে ডিবি। একই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং ৭০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই নয়জনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করে ডিবি ও র‌্যাব। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি কুদ্দুস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার করা ১০ জনকে আট দিনের হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

সাত মিনিটে এক হাজার ভরি স্বর্ণালংকার লুট


আলামত সংগ্রহ করছেন সিআইডির এক সদস্য
ছবি: প্রথম আলো
দোকান খুলতে না খুলতেই ডাকাত ঢুকে পড়ে। পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই তারা লুট করে নিয়ে যায় প্রায় এক হাজার ভরি স্বর্ণালংকার। কোনো সাড়াশব্দ নেই, আশপাশে কেউ কোনো কিছু টেরও পায়নি। 
গতকাল শুক্রবার ভরদুপুরে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ইকবাল সেন্টারের নিউ হীরা জুয়েলার্স থেকে অস্ত্রের মুখে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট করেছে একদল ডাকাত। দোকানমালিকের মেয়ে নুসরাত সুলতানা এভাবেই ঘটনার বিবরণ দেন।
মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে দিনদুপুরে ডাকাতির এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত রোববার দুপুরে বাংলামোটরের ইস্টার্ন টাওয়ারে ব্যবসায়ী ইকরামুল কদরের ফ্ল্যাটে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে সোয়া কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এরপর ডাকাতের খোঁজে পুলিশ পুরো কমপ্লেক্সের দেড় শ ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
গুলশান থানার পুলিশ জানায়, ইকবাল সেন্টারে ডাকাতির ঘটনায় দোকানের চার কর্মী ও ভবনের তিন নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর গুলশান থানার পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
যেভাবে ডাকাতি: দোকানমালিকের মেয়ে নুসরাত প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের জন্য বিক্রয়কেন্দ্রটি কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। দুপুর একটা ৫৬ মিনিটে কর্মচারী শামীম তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘আপা, দোকান খুললাম।’ এর ১৪ মিনিট পর দুপুর দুইটা ১০ মিনিটে শামীম আবার ফোন করে বলেন, ‘আপা, সব ডাকাতি হয়ে গেছে।’
ডাকাতির বর্ণনা দিয়ে নুসরাত সুলতানা বলেন, ঘটনার সময় দোকানে চারজন ছিলেন। তাঁরা হলেন বিক্রয়কর্মী শামীম, বাচ্চু, রাশেদ ও কাজের ছেলে ইমরান। বিক্রয়কর্মীদের ভাষ্যমতে, পাঁচ-ছয়জন যুবক দোকানে ঢুকেই অস্ত্র বের করে। এদের একজনের হাতে ছিল একটি পিস্তল বা রিভলবারজাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র। অন্যদের হাতে ধারালো দা ও চাপাতি। দোকানে ঢুকেই তারা আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে কর্মীদের দোকানের পশ্চিম কোণে জড়ো করে। এরপর চাপাতি দিয়ে দোকানের সামনের একটি শোকেস ও দেয়ালে লাগানো একটি শোকেসের কাচ ভেঙে ফেলে। ওই সব শোকেসভর্তি চুড়ি, চেইন, আংটিসহ বিভিন্ন অলংকার সাজানো ছিল। কিন্তু তারা বেছে বেছে চুড়ি, আংটিসহ ভারী অলংকারগুলো নিয়ে গেছে। হালকা আংটির শোকেস ভাঙলেও তারা সেগুলো নেয়নি। সব মিলিয়ে দোকানের ভেতরে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ডাকাতেরা অবস্থান করে। 
ভবনের পাশেই টাইম জোনের একজন বিক্রয় কর্মকর্তা জানান, দুপুর সোয়া দুইটার দিকে দু-তিনজন যুবককে তাঁর দোকানের সামনে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে দেখেছেন তিনি। এর পরই হীরা জুয়েলার্সের কর্মীরা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন। তবে দৌড়ে যাওয়া যুবকদের হাতে কোনো অস্ত্র বা ব্যাগ ছিল কি না, তা দেখতে পাননি ওই কর্মকর্তা। টাইম জোনের আরেক পাশের বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তাও এমনই বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ঘটনার আগে কেউই কিছু বুঝতে পারেননি।
দোকানটির শোকেসসহ বিভিন্ন জায়গায় ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। কর্মচারীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, ভাঙা কাচের ভেতর থেকে গয়না তোলার সময় এক ডাকাতের হাত কেটে যায়। সেখান থেকেই রক্ত গড়াচ্ছিল।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, দোকানের এক বিক্রয়কর্মীরও হাত-পা কাটা পাওয়া গেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডাকাতির জন্য কর্মচারীদের দায়ী করে নুসরাত বলেন, ‘শামীম আমাকে বলেছে, সব নিয়ে গেছে, আবার সে বলেছে ডাকাতেরা চারটা সিএনজি অটোরিকশায় করে পালিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, দোকানের ভেতরে বসে শামীম এত কিছু দেখল কীভাবে? তা ছাড়া ডাকাতেরা এসে দোকানের সব দিক বাদ দিয়ে শুধুই ভারী গয়নার ড্রয়ার ও শোকেস ভেঙে সেগুলো নিয়ে গেছে। তারা দোকান সম্পর্কে এসব তথ্য কী করে জানল?’
নিরাপত্তাব্যবস্থা: বনানীর ৪১ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে ১৯ তলা ভবন ইকবাল সেন্টার। ভবনটির উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে তিনটি প্রবেশমুখ রয়েছে। যতক্ষণ মার্কেট খোলা থাকে তিনটি প্রবেশমুখেই সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। ‘গ্রুপ ফোর সিকিউরিটিজে’র সদস্যরা ভবনের প্রবেশমুখ ছাড়াও বিভিন্ন তলায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
ভবনটির নিচতলায় কামাল আতাতুর্ক সড়কসংলগ্ন উত্তর দিকের ফটক দিয়ে ঢুকতেই সোজা হীরা জুয়েলার্সের অবস্থান। হীরা জুয়েলার্সের দুই পাশে ঘড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘টাইম জোনে’র দুটি বিক্রয়কেন্দ্র। পাশ দিয়ে গলি চলে গেছে ভবনের ভেতরে।
ভবনের উত্তর পাশের প্রবেশমুখেই সিসি ক্যামেরা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর হীরা জুয়েলার্সের ভেতরে তিনটি সিসি ক্যামেরা দেখা গেলেও তিনটিই ছিল নষ্ট।
সিসি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গে নুসরাত বলেন, ‘ওগুলো আগে থেকেই নষ্ট ছিল।’
ডাকাতি হওয়া হীরা জুয়েলার্সের মালিক আলী আকবর খান। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। তবে বনানীর বিক্রয়কেন্দ্রটির দেখাশোনা করেন মেয়ে নুসরাত সুলতানা। 
নুসরাতের দাবি, ডাকাতেরা প্রায় এক হাজার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এক হাজার ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।


প্রথম আলো

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

চুরির কাজেও ফেসবুক!

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। নতুন নতুন বন্ধু তৈরি, পুরাতন বন্ধু বা আপনজনদের খুঁজে বের করাসহ প্রিয় উক্তি, ভিডিও, অডিও, ছবি ও অনুভূতি বিনিময়ের সবচেয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় মাধ্যম এখন ফেসবুক। কিন্তু এ অতি প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় মাধ্যমটি যে চুরির কাজেও ব্যবহƒত হতে পারে তা কী কেউ ধারণা করেছিলেন।
ধারণা না করলেও এমন ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনে। ব্রিটেনের পশ্চিম সাসেক্সের পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুক ব্যবহার করে এ এলাকায় গত চার মাসে কমপক্ষে ১২টি বাড়িতে চুরি হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চোরেরা ফেসবুকে প্রথমে বন্ধু বানিয়ে তাদের ছুটির দিনগুলোর ব্যাপারে তথ্য নেয়। ছুটির দিনে যখন পরিবারের সবাই বেড়াতে যায় সেই সুযোগে তাদের বাড়ি চুরি করে। এ ধরনের চুরি ঠেকাতে লোকজনকে ছুটির দিনগুলো এবং এদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে ফেসবুকে না লিখতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আম নিয়ে উধাও...

১০ লাখ টাকার আম নিয়ে উধাও হয়েছেন ট্রাকচালক। আম ব্যবসায়ী লিটন ও মামুন-আল হক জানান, গত বুধবার রাতে তাঁরা রাজশাহীর বাঘা থেকে ট্রাকে ৫৮৮ ঝুড়ি আম নিয়ে ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে রওনা দেন। চালক ফারুকসহ ট্রাকে ছিলেন তিন ব্যবসায়ী। যানজটের কারণে তিন ব্যবসায়ী ঢাকার আমিনবাজারে নেমে অন্য যানবাহনে বাদামতলী যান। কিন্তু আমের ট্রাকটি সেখানে পৌঁছায়নি। লিটন শনিবার বাঘা থানায় জিডি করেছেন। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১১

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিতে ভুয়া সনদ ব্যবহার!


শিক্ষক পদে ১৫২ প্রার্থীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া


শ্যামল সরকার

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করা এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদই ভুয়া। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তার অবসরের বয়স দুই বছর বাড়ানোর পর অনেকেই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আবেদন করেন। এ রকম আবেদনকারী ২৫ জন পদস্থ কর্মকর্তার সনদ সন্দেহজনক চিহ্নিত করে তা যাচাই করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রযোজ্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া সাত হাজার জনের সনদও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর জাল করেও কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তদন্ত এবং যাচাই-বাছাইয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স বাড়ানো-সম্পর্কিত সারসংক্ষেপ অনুমোদনকালে সনদ যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন। সারসংক্ষেপের একাংশে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেড় হাজার লোক নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগেও একই অবস্থা হয়েছে।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

মালয়েশিয়ায় স্বামী ভাড়া


পুরুষের দাম বেড়েগেছে মালয়েশিয়ায়। মাসিক ১৫শ’ থেকে ২ হাজার ডলারে স্বামী ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। না। এটি আর গোপন নেই। সে দেশের ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান কর্তা ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কারা স্বামী ভাড়া করছেন। অবশ্যই যৌনকর্মীরা। মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসা নিষিদ্ধ হলেও এটি আয়ের অন্যতম পথ অনেকেরই। যেখানে নিয়মের বেড়াজাল, সেখানে ফাঁকফোঁকড়ও আছে।আর এ ফাঁকটাই হলো স্বামীত্ব বরণ করে নেয়া। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের প্রধান কর্তার বক্তব্য, বিদেশি যৌনকর্মীরা মালয়েশিয়ায় থাকতে এ ফর্মুলা গ্রহণ করছে। সে দেশের আইন অনুযায়ী একজন

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons