Student লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Student লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১১

 স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: প্ররোচনার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে ডিবি পুলিশ সেলিম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে সেলিমকে দিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাতেই তাঁকে ঢাকা আনা হয়েছে। সুমাইয়া আত্মহত্যা করার পর থেকে সেলিম দিনাজপুরে লুকিয়ে ছিলেন।
মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও সামাজিক সেবা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে সুমাইয়াকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। বখাটেরা উত্ত্যক্ত করার কারণে গত মঙ্গলবার সুমাইয়া আত্মহত্যা করে। এরপর পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করলে সেলিম গা-ঢাকা দেন। তাঁকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসায় সুমাইয়া সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

হাজিরা ডাকার পরই শুরু হয় কান্নার রোল

দুর্ঘটনার ছয়দিন পরে মিরসরাইয়ের আবুতোরাব স্কুল খুলেছে। সহপাঠীদের হারানোর শোক ভুলতে পারেনি শিক্ দুর্ঘটনার ছয়দিন পরে মিরসরাইয়ের আবুতোরাব স্কুল খুলেছে। সহপাঠীদের হারানোর শোক ভুলতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। কান্নায় ভেঙেপড়া শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক
ছবি: প্রথম আলো
মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ ছাত্রের করুণ মৃত্যুর পর ছয় দিন কেটে গেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ভেবে গতকাল শনিবার আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সহপাঠী হারানোর হাহাকার যখন আবার কান্নায় রূপ নিল, তখন ক্লাস নেয় কার সাধ্য!
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলির প্রস্তুতির ঘণ্টা বাজে। সোয়া ১০টায় সব শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একত্র হয়। সারিতে দাঁড়িয়ে চলে জাতীয় সংগীত, দোয়া ও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এ পর্যন্ত সবকিছু ছিল স্বাভাবিক।
কিন্তু ক্লাসে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। শ্রেণীশিক্ষক যখন হাজিরা ডাকা শুরু করেন, তখন শুরু হয় কান্নার রোল। অষ্টম শ্রেণী কান্নার উৎস। এই শ্রেণীর মেধাতালিকার প্রথম ছাত্র ধ্রুবনাথসহ ১১ জন প্রাণ হারায়। ধ্রুব পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। এবার জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) তাকে নিয়ে শিক্ষকদের অনেক আশা ছিল।
দশম শ্রেণীতে হাজিরা ডাকার সময় একইভাবে কেঁদে ওঠে রাহেলা আক্তার, নিশাত, ফারজানা, সাজেদা, খালেদা, বিমল বড়ুয়া, প্রণয় চক্রবর্তী, অহিদুর রহমানেরা। সহপাঠীদের নাম ধরে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।
নবম শ্রেণীতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণীশিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বারবার চোখের পানি মুছছেন। দেয়ালে একটি ঝুলন্ত কাগজ দেখিয়ে তিনি বলছেন, ‘এটি আমাদের নিহত ছাত্র ইমরান হোসেনের আঁকা-লেখা। ছবি-লেখা আছে, আজ সে নাই।’
এ কথা বলার পর অঝোরধারায় কাঁদতে থাকেন শিক্ষক জাহাঙ্গীর। তাঁর কান্না দেখে বাঁধভাঙা কান্না শুরু হয় পুরো কক্ষে। এভাবে প্রতিটি কক্ষ থেকে ভেসে আসে কান্নার রোল।
একসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কান্নার শব্দ পৌঁছে যায় আবুতোরাব বাজারে। ছুটে আসেন অভিভাবক, এলাকাবাসী। সান্ত্বনা দিতে এসে নিজেদের কান্না সংবরণ করতে পারেননি তাঁরাও।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক, সহপ্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির চেষ্টা চালান। প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ক্লাস শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ভাবছেন, কখন স্বাভাবিকভাবে ক্লাস চালু করা যাবে, একমাত্র আল্লাহ জানেন।
জাফর সাদেক বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের হারিয়ে যে মানসিক কষ্ট পাচ্ছে, সেটি এখনো সংবরণ করতে পারছে না। পরিচিত শ্রেণীকক্ষে চেনা ৮-১০টি মুখ নেই, এটি ভেবেই তারা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে। তাই বিদ্যালয় খুললেও ক্লাস নেওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক সব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি বড় কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চলে গেছে, তাদের স্মৃতি মনে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পড়ালেখায় মন দিতে হবে, দেশের জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের কীভাবে স্বাভাবিক করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে গতকাল শনিবার বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের একটি বৈঠক হয়েছে।
আহতদের তালিকা বাড়ছে: দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে সাহায্যের জন্য আসছেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের তৈরি করা তালিকার বাইরে থাকায় তাঁরা কোনো আর্থিক সাহায্য পাননি।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল, কিন্তু অনেক ছাত্র ভয়ে অভিভাবকদের জানায়নি। এখন শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা অভিভাবককে বলছে। তাই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের অভিভাবকেরা এখন সাহায্যের জন্য আসছেন।
গতকাল বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাসুল করিম প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেকের অফিসে এসে জানায়, ওই দিন সে দর্ঘটনায় আহত হয়েছিল। সে পারিবারিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিল। এখন শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট পাচ্ছে, কষ্ট আস্তে আস্তে বাড়ছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মো. নিজাম উদ্দীন এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তার মা বিবি জোহরা জানান, নিজাম এখন মাঝে মাঝে বমি করছে।
জানা গেছে, ওই দিন সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দীনসহ আহত হয়েছে আরও ১০ জন। জেলা প্রশাসনের তালিকায় নাম না থাকায় এরা সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পায়নি।
১১ জনকে ছাড়পত্র: চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ১৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছে। মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কবির নিজামী জানান, আহত শিক্ষার্থীরা এলাকায় ফিরে এসেছে। এখন তাদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফিরে আসা ১১ জন হচ্ছে মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জাবেদুল ইসলাম; আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর আশিক রিজভী হূদয়; সপ্তম শ্রেণীর রায়হান উদ্দীন, বোরহান উদ্দীন, আরিফ হোসেন; অষ্টম শ্রেণীর জুয়েল বড়ুয়া, মেহেদি হাসান, মো. মামুন; নবম শ্রেণীর মোতাহার হোসেন; কৃষক মো. আলমগীর এবং প্রফেসর কামাল উদ্দীন চৌধুরী কলেজের নৈশপ্রহরী মো. আবুল কাশেম।

মাথায় ইট পড়ে রাস্তায় মারা গেলেন যুবকটি

অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। মাকে দেখে হেঁটে আবার বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবন থেকে একটি ইট মাথায় পড়ে থামিয়ে দিল তাঁর জীবনের চাকা। যুবকটি মারা গেলেন রাস্তাতেই। শেষ হয়ে গেল ২১ বছর বয়সী এক যুবকের একটি সম্ভাবনাময় জীবন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম হাবিবুর রহমান। তেজগাঁও কলেজ থেকে এ বছর তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, হাবিবুর বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। গতকাল তিনি তাঁর অসুস্থ মাকে দেখতে শমরিতা হাসপাতালে যান। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে বের হয়ে তিনি হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় হাসপাতালটির বাঁ পাশে সাগুফতার ১৮ তলাবিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে একটি ইট তাঁর মাথার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ভবনের শ্রমিক মিজান হোসেন, জোনাথ, ইয়াকুব মিয়া, এবাদুল হক ও আশফাকুল ইসলামকে আটক করেছে।
নিহত যুবকের বাবা আবু কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে হাবিবুর ছিলেন বড়। হাবিবুরের মা মঞ্জু আরা বেগম ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১০-১২ দিন ধরে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা বাবা ও ছেলে সময় ভাগ করে হাসপাতালে থাকতেন। গতকাল তাঁরা দুজন হাসপাতালে আসেন। দুপুরের দিকে তিনি হাবিবুরকে বাসায় গিয়ে গোসল ও খাওয়াদাওয়া করে আবার হাসপাতালে আসতে বলেন। এ জন্য হাবিবুর বাসায় যাচ্ছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘একটি ইট কেন কেড়ে নেবে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন? কে এর জবাব দেবে?’
নিহত যুবকের ছোট খালা মাহিনুর বলেন, হাবিবুর তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এবার তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। মাহিনুর বলেন, হাবিবুরের স্বপ্ন ছিল ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, এর আগেও ওই সাগুফতা ভবনটিকে ঘিরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। মাস দুয়েক আগে ওই ভবনের এক শ্রমিক ওপর থেকে পড়ে মারা যান। ১৫-২০ দিন আগে একটি পাথরখণ্ড ওপর থেকে পড়েছিল। তবে কেউ না থাকায় হতাহত হয়নি। গতকালও ঘটনার সময় ভবনটির সামনে কোনো নিরাপত্তার জাল ছিল না। গতকালের দুর্ঘটনার পরপর সাগুফতার শ্রমিক ও কর্মচারীরা তড়িঘড়ি করে ভবনটির সামনে নিরাপত্তার জাল লাগিয়ে দেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাগুফতার বিপণন ব্যবস্থাপক আবু শোয়েব খান বলেন, সাগুফতার ভবন থেকে ইট পড়েনি। পাশেই আরও একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। সেখান থেকে ইট পড়তে পারে। তা ছাড়া ভবনের ১০ তলার ভেতরের দিকে টাইলসের কাজ চলছিল। ইটের কোনো কাজ চলছিল না।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সাগুফতার পাশের নির্মাণাধীন ভবনের নিচে কয়েকটি নিরাপত্তা টিন দেওয়া থাকলেও সাগুফতার এমন কিছু ছিল না। সাগুফতার নির্মাণাধীন ভবনটির নিচে কয়েকটি শুকনো বাঁশের ওপর রক্তের দাগ দেখা গেছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় অগোছালোভাবে ইটের স্তূপ, টাইলসের জিনিসপত্র, পাইপসহ বিভিন্ন যন্ত্র বিশৃঙ্খলভাবে পড়ে ছিল।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউজ্জামান জানান, সাগুফতা ভবনের ১০ ও ১১ তলায় কাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই তলার যেকোনো একটি থেকে ইটটি পড়তে পারে। ওসি জানান, ওই ভবনের সামনে নিরাপত্তা হিসেবে একটি জাল দেওয়া থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। ভবনমালিকদের গাফিলতির বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রথম আলো

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

ছাত্রকে যৌন নির্যাতন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

ছাত্রকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে পুলিশ এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম জাকির হোসেন (৪০)। আজ বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজধানীর মিরপুর থানার পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাইকপাড়ার মাদ্রাসাতুল আহবাদ থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম খান জানান, জাকির হোসেন গতকাল দুপুরে মাদ্রাসাতুল আহবাদের হাফিজি শাখার এক ছাত্রকে একটি কক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ওই ছাত্র বাসায় গিয়ে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানায়। রাতে ওই অভিভাবক মহল্লাবাসীকে নিয়ে মাদ্রাসায় এসে শিক্ষককে আটকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জাকির একপর্যায়ে অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে রাতেই মহল্লাবাসী জাকিরকে পুলিশে সোপর্দ করে।
ছাত্রের বাবা গতকাল রাতে মিরপুর থানায় জাকির হোসেনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, শিক্ষক জাকির গত রোববার আরও একটি ছেলেকে বলৎকার করে বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার কুতুবপুরে।

শোকে কাতর পাঁচ গ্রাম

  • স্কুল খুলেছে যথারীতি। যে প্রাঙ্গণ মুখর থাকত নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে, সেখানে শোকের কালো ছায়া। কাল
    স্কুল খুলেছে যথারীতি। যে প্রাঙ্গণ মুখর থাকত নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে, সেখানে শোকের কালো ছায়া। কাল যে ছিল সহপাঠী,আজ সে নেই। আবুতোরাব স্কুলের দুই ছাত্রী ভেঙে পড়েছে কান্নায়
    ছবি: রাশেদ মাহমুদ
  • আবু তোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে সহপাঠীদের শোকে শিক্ষার্থীদের বুকফাটা কান্না
    আবু তোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে সহপাঠীদের শোকে শিক্ষার্থীদের বুকফাটা কান্না
    প্রথম আলো
  • কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে কয়েকজন ছাত্রী
    কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে কয়েকজন ছাত্রী
    প্রথম আলো
  • বিদ্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় স্বজনদের আহাজারি
    বিদ্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় স্বজনদের আহাজারি
    প্রথম আলো
  • সন্তানহারা এক পিতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী
    সন্তানহারা এক পিতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী
    প্রথম আলো
  • বিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ প্রধান ফটক
    বিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ প্রধান ফটক
    প্রথম আলো
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোক র্যালি
    শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোক র্যালি
    প্রথম আলো
1 2 3 4 5 6 7
এক-দুই বাড়ি পর পর একটি-দুটি করে কাঁচা কবর। এসব কবরে শায়িত মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার ৩৫ স্কুলছাত্র। একসঙ্গে এত শিশু-কিশোরের মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি পাঁচ গ্রামের মানুষ। শোকে হতবিহ্বল গ্রামবাসীকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কারও জানা নেই।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় সৈদালী এলাকায় ট্রাক ডোবায় পড়ে যে ৪৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তাদের ৩৫ জনই ওই পাঁচ গ্রামের। অন্যরা আশপাশ এলাকার। গত সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে এরা দুর্ঘটনার শিকার হয়।
গ্রামগুলো হলো ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের মধ্য মায়ানী ও পূর্ব মায়ানীর মনু ভূঁইয়াপাড়া। ১১ নম্বর মগাদিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, জলদাসপাড়া ও শেখের তালুক। নতুন কবরগুলো দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করেছে গ্রামগুলোতে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে দুর্ঘটনাস্থল সৈদালী এলাকায়। সেখানে কালও শিশু-কিশোরদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল, গায়ের ছেঁড়া জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার মাতম দেখা যায় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায়। তোরাব আলী বাজারের প্রতিটি দোকানে উড়ছে কালো পতাকা। লোকজনের বুকে আঁটা ছিল কালো ব্যাজ। দোকানপাটে বসে লোকজন নিচু স্বরে বলাবলি করছিল আগের দিনের দুর্ঘটনার কথা। সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবকেরা শোক মিছিল বের করলে বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা বেছে বেছে আমার মেধাবী ছাত্রগুলো নিয়ে গেল। যারা ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল, যারা অ্যাসেম্বলি করত, তারাই খেলা দেখতে গিয়েছিল। তরতাজা ছেলেগুলো ফিরল লাশ হয়ে!’
কবরের পর কবর: দুর্ঘটনাস্থল সৈদালী পার হলেই পূর্ব মায়ানীর মনু ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পর পর তিনটি নতুন কবর। আরও একটি কবরের জন্য আগাছা পরিষ্কারের নমুনা দেখা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে চতুর্থ কবরটি আর খোঁড়া হয়নি।
আনোয়ার নামের একজন বাসিন্দা জানান, রাজিব, তারেক ও শাখাওয়াতের লাশ এখানে দাফন করা হয়েছে। শাখাওয়াতের ফুফাতো ভাই শামসুদ্দিনের জন্য আরেকটি কবর তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শামসুদ্দিনের বাবা ছেলেকে তার মামার বাড়িতে দাফন করতে রাজি হননি। এ কারণে দক্ষিণ মগাদিয়ায় বাবার বাড়িতে শামসুদ্দিনকে দাফন করা হয়। পড়ালেখার সুবিধার জন্য শামসুদ্দিন মামার বাড়িতে থাকত।
এরপর পশ্চিম দিকে কিছু দূর এগোলেই মায়ানী গ্রাম। এই গ্রামে মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক। এখানে অন্তত ১৬ জনকে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুদ্দুস মাস্টারের বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র সুজনকে। একই গ্রামের ঝুলুর বাপের কবরস্থানে দাফন করা হয় চার ছাত্রকে। এরা হলো তোফাজ্জল, রিয়াজ, সাকিব ও ইফতেখার। ইফতেখার স্থানীয় প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অন্য তিনজন আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এই গ্রামের মুক্তার বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয় নয়ন নামের এক ছাত্রকে। আরও পশ্চিমের মগাদিয়া ইউনিয়নের জলদাশপাড়ায় দাহ করা হয় টিটু দাস ও লিটন দাসকে।
গতকাল দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এবং সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবদুল করিম ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শোকার্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেন। শিক্ষামন্ত্রী নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য পাঁচ হাজার টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। শিল্পমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১০ হাজার এবং আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। শিল্পমন্ত্রী নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির ঘোষণাও দেন। আগের রাতে জানাজায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন।
মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘুরে ঘুরে দেখেছি, এই পাঁচ গ্রামের মানুষ শোকে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সান্ত্বনা দেওয়ার লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও এদের মাঝে স্বস্তি আনতে পারছে না।’
পূর্ব মায়ানী গ্রামের আয়নাল হক বলেন, ‘কাকে দোষ দেব বুঝতে পারছি না। ধরে নিতে হবে আমাদের কপাল খারাপ।’
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াজ উদ্দিন, কমর উদ্দিন ও ইসমাইল জানায়, তাদের সঙ্গে পড়ত এমন পাঁচজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তারা জানায়, সোমবার বিদ্যালয় ছুটি ছিল না। ওরা খেলাপাগল বলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে খেলা দেখতে গিয়েছিল।
যুদ্ধকালীন মিরসরাই থানার ডেপুটি কমান্ডার জাফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, মিরসরাইয়ের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, মাইক্রোচালকদের লাইসেন্স নেই। এসব দেখার যেন কেউ নেই। লাইসেন্সবিহীন গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে মিরসরাইবাসী চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গতকাল আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহপাঠীরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল। একটি কক্ষে অন্য সহপাঠীরা তাদের সেবা করছিল। একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি চিকিৎসক দল আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে আসে।
চিকিৎসক দিলীপ চৌধুরী বলেন, মেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ায় তারা মূর্ছা যাচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে কাউকে কাউকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
ক্লাস ছুটি: শোকের কারণে এ সপ্তাহের বাকি দুই দিন আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস হবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা না হলেও শিক্ষক কিংবা ছাত্র কারও ক্লাস করার মতো মানসিক অবস্থা নেই।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে জানান, আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে শোকসভা হবে, বৃহস্পতিবার হবে মিলাদ মাহফিল। শুক্রবারও একটি সংগঠন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। তাই শনিবারের আগে কোনো ক্লাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

যৌন নিপীড়ক প্রধান শিক্ষকের সাজা

স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করায় পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে আদালত বসিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডিত সামসুল ইসলাম (৪৮) বাশেরবাদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ঈশ্বরদী থানার ওসি হানিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টিফিনের ফাঁকে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক যৌন নিপীড়নের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। রাত সাড়ে ১১টায় আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয় বলে ওসি জানান।

আদালত চার মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পর সামসুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/আরএম/এমআই/১৩৪০ ঘ.

ফাও খাবার না পেয়ে রেস্তোরাঁ ভাঙচুর

ফাও খাবার না পেয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র রাজধানীর কলেজগেটে একটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর করেছেন। এ সময় হোটেলের কর্মচারীরা ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। 
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর পুলিশ রেস্তোরাঁর দুজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টো দিকের অনুরাগ রেস্তোরাঁয় খেতে যান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও জাহিদ। তিনজনের খাবারের দাম হয় ৩১১ টাকা। কিন্তু কর্মীরা মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। এ সময় ব্যবস্থাপক তাঁদের ডাক দিলে ছাত্ররা ফিরে এসে জানান, তাঁরা ২০ ভাগ মূল্যছাড় পেয়ে থাকেন। ব্যবস্থাপক ওই ছাড় দিয়েই বাকি দাম দিতে বলেন। ছাত্ররা এতেও রাজি না হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্ররা ব্যবস্থাপককে মারধর শুরু করেন। 
প্রত্যক্ষদর্শী আরও একজন জানান, ছাত্রদের মধ্যে একজন ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০-১৫ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে আসেন। ছাত্ররা এসেই রেস্তোরাঁর সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় রেস্তোরাঁর সব খদ্দের বের হয়ে যান। শুরু হয় মারামারি। মারামারিতে ছাত্রলীগের ও রেস্তোরাঁকর্মী উভয় পক্ষই আহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনার পর পুলিশ এসে ছাত্রলীগের কর্মীদের পক্ষ নিয়ে তৎ পরতা শুরু করলে রেস্তোরাঁকর্মীরা পালিয়ে যান।
ছাত্ররা জানান, মারামারির সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরোয়ার মামুন, সহসভাপতি এ এম আহসান হায়দার শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, ইব্রাহিম খলিল খান, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও সুমন চন্দ্র সরকার আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সম্মেলন শেষে নেতারা কয়েকজনকে টাকা দিয়ে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে বলেন। টাকা নিয়ে ওই তিনজন রেস্তোরাঁয় খেতে যান। খাওয়া শেষে দাম হয় ১২০ টাকা। তাঁরা ১০০ টাকা দিতে চান। কিন্তু ব্যবস্থাপক ২০০ টাকা দাবি করেন। রেস্তোরাঁকর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও রড-লাঠি নিয়ে তাঁদের মারধর করেছেন বলে তিনি জানান। 
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পুলিশ রেস্তোরাঁর মালিকের আত্মীয় ও রেস্তোরাঁর কর্মী সৈয়দ হোসাইনুল ইসলাম তালুকদার ও রাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১১

এশিয়ান উইমেন ভার্সিটির১১ ছাত্রী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বহাল

Details
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার দায়ে ১১ ছাত্রীর বহিষ্কারের আদেশ বহাল রেখেছে এশিয়ান ফর উইমেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বহিষ্কৃত ছাত্রীদের অভিভাবকদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালার কথা তুলে ধরেন এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। বহিষ্কৃত ছাত্রীদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশী, ১ জন শ্রীলংকান ও ১ জন ভারতীয়। সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাসে একই অভিযোগে এক ছাত্রী বহিষ্কার ও ২ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
  ইত্তেফাক

 হলে ঢুকে ছাত্রী পেটালেন শিক্ষিকা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | তারিখ: ১০-০৭-২০১১
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এক ছাত্রীকে পিটিয়েছেন এক শিক্ষিকা। গত বৃহস্পতিবার রাতে হলে অবস্থান করে ওই প্রভাষক ছাত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের শিক্ষিকা আলেয়া ফেরদৌসী ওরফে রত্না হলের ১৩৪ নম্বর কক্ষে যান। ওই কক্ষে ছাত্রলীগের উত্তরবঙ্গ পক্ষের জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী কর্মী নাজমুন নাহার ওরফে মুন থাকেন। সেখানে শিক্ষিকা রত্নার নেতৃত্বে মুন, চৈতি ও লিজা নৈশভোজের আয়োজন করেন। ভোজে প্রতিপক্ষ ময়মনসিংহ পক্ষের ছাত্রলীগের কর্মী নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী ওরফে মুন্নিকে দাওয়াত করা হয়। উত্তরবঙ্গ পক্ষ করা না-করা নিয়ে মুন্নির সঙ্গে রাত ১২টার দিকে মুন, চৈতি ও লিজার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক রত্নাসহ অন্য ছাত্রীরা মুন্নিকে মারধর করেন।
রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর ও হাউস টিউটর হলে গেলে ছাত্রী ও নেতা-কর্মীরা তাঁদের কাছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। গত শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা তাপসী রাবেয়া হলে যান। তাঁরা সেখানে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন।
মারধরের শিকার মুন্নি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে দাওয়াত দিয়ে ওই কক্ষে নিয়ে রত্না ম্যাম ও মুনসহ ওই পক্ষের ছাত্রলীগের কর্মীরা উত্তরবঙ্গ পক্ষে যোগ দিতে চাপ দেন। একপর্যায়ে মুন আমাকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে আমার মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত ও অশালীন কথা রেকর্ড করেন। পরে সেগুলো আমাকে শুনিয়ে রত্না ম্যাম বলেন, “তোর এত বড় সাহস! তুই আমার ব্যক্তিগত কথা রেকর্ড করেছিস। তুই বল, উত্তরবঙ্গ পক্ষ করবি কি না? না করলে এই রেকর্ডের কথা বলে তোকে হলছাড়া করব।”’ মুন্নি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমি তাঁদের কথায় রাজি না হওয়ায় তাঁরা আমার চুলের মুঠি ধরে চড়, থাপড় ও লাথি মারেন।’
ছাত্রলীগের অভিযুক্ত কর্মী মুন বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মুন্নি আমাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা তার মোবাইলে রেকর্ড করে আমাদের মানহানি করতে চেয়েছিল। এ জন্য রত্না ম্যাম তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং রেকর্ডটি নষ্ট করে ফেলেছেন।’ তাপসী রাবেয়া হলের সাধারণ ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুন তাঁর ইচ্ছামতো ডাইনিং-ক্যান্টিন পরিচালনা করে আসছেন। হলের খাবারের মান ভালো না হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ে খেতে রাজি না হলে মুন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুন ও শিক্ষিকা রত্নার এ আচরণে শাস্তি দাবি করেন।
শিক্ষিকা রত্না বলেন, ‘মুন্নিকে শাসন করেছি এবং সতর্ক করেছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ ছাত্রী হলে আপনার রাত্রিযাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, বেআইনি।’ তবে ওই রাতে তিনি বাসায় চলে যান বলে দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। রত্না ম্যাডাম ও মুন ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ আয়শা সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার হলে অবস্থান করা বেআইনি হয়েছে। তাঁকে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন।’ ছাত্রলীগের কর্মী মুনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ওর আচরণ শিষ্টাচারবহির্ভূত। সব জেনেও কিছু বলতে পারছি না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’ 

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১১

 বিয়ে ভেঙে স্কুলের পথে কাকলী

বিয়ে ভেঙে দিয়ে স্কুলে আসতে শুরু করেছে কাকলী (১১)। তাকে সাহায্য করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর কালীকৃর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কাকলী।
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাতব্বর বাড়িতে তাদের কুঁড়েঘর। প্রান্তিক কৃষক বাবা মহসিন ও মা রহিমা বেগম তার বিয়ে ঠিক করেন একই গ্রামের শেখ বাড়ির সিরাজ মাঝির ছেলে মিজান মাঝির (২৮) সঙ্গে। মিজানও পেশায় জেলে।
গত জুনের মাঝামাঝি সময় ছেলেপক্ষ মেয়েকে স্বর্ণের নাকফুল ও কানফুল দিয়ে বাগদান করে। কথামতো ৮ জুলাই বিয়ের দিন ধার্য করা হয় কাকলীর। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় কাকলী এ বিয়ে মেনে নিতে পারে না। সে জানায়, ওই নাকফুল ও কানফুল পরিয়ে দেওয়ার পর থেকে তার ঘুম নেই; নাওয়া-খাওয়া নেই। কোথাও যেতে পারছে না, খেলতে পারছে না বন্ধুদের সঙ্গে। মা-বাবা স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন। সারা দিন ঘরের মধ্যে বসে থাকতে হয়। ‘বিয়ে বিয়ে’ করে সমাপনী পরীক্ষা দিতে দেননি মা-বাবা। অনেক কষ্টে সহপাঠীদের দিয়ে কাকলী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন নম্বর জোগাড় করে। মুঠোফোনেই সবকিছু জানিয়ে তার বিয়ে বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে সে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাকলী ফোন করে আমাকে বলে—“স্যার, আমারে বাঁচান। আমার বিয়া ঠিক অইছে। আমনে আব্বারে বুজান, এই বিয়া বন্দ করেন, আমি পড়তাম চাই।” এ কথা শোনার পর আমি ও কয়েকজন শিক্ষক কাকলীর বাড়িতে একাধিকবার যাই। তার মা-বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল, আইনের ধারা-শাস্তি বুঝিয়ে ভয়ভীতি দেখাই। একসময় কাকলীর মা-বাবা তাঁদের ভুল বুঝতে পারেন এবং কাকলীকে আবার স্কুলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত মঙ্গলবার থেকে মেয়েটা স্কুলে আসছে।’
প্রধান শিক্ষক জানান, পড়াশোনার প্রতি কাকলীর প্রচণ্ড আগ্রহ। ছাত্রীও ভালো। ওর সমাপনী পরীক্ষা আলাদাভাবে নেওয়া হবে। কাকলী বলে, ‘আমার ভালো লাগদেছে। স্যারে গো জন্য আমি আবার স্কুলোত আসতাম পারছি। আমি অনেক পড়তাম চাই।’

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

সাত বছর বয়সেই ডাক্তার!

undefined

ডাক্তার হতে হলে নামের পাশে কয়েকটা ডিগ্রি না হলে তো চলে না। তবে যদি কোনো হাসপাতালে দেখা যায় সাত বছরের ছেলে অপারেশন করছে, তাহলে তো চমকে যাওয়ারই কথা। ভারতের অক্রিত জসওয়াল সে রকমই একজন ডাক্তার। খুদে এ ডাক্তার সাত বছর বয়সেই সফল অপারেশন চালিয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। ভারতের হিমাচল প্রদেশের এই ছেলেটি কোনো মেডিক্যাল কলেজে না পড়েই এমন প্রতিভার অধিকারী হয়েছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালের এক ডাক্তার তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে ছোটখাটো (মাইনর) একটি অপারেশন করতে বলেন। দেখা গেছে, অক্রিত ওই অপারেশনটি খুবই সফলভাবে করে ফেলেছে। তার মা জানান, খুব ছোটকাল থেকেই তাঁর ছেলে অন্য ছেলেদের তুলনায় আলাদা। চিকিৎসাশাস্ত্র ও বিজ্ঞানের প্রতি তার অদম্য কৌতূহল। পাঁচ বছর বয়সেই সে শেকসপিয়ারের রচনাসামগ্রী পড়ে শেষ করে। ভারতের চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ১১ বছর বয়সেই বিএসসি পড়ে। প্রথম টেস্টেই তার আইকিউ ওঠে ১৪৬ পয়েন্ট।
* সুশান্ত সরকার

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১১

যৌন হয়রানি: এক যুবকের ছয় মাসের কারাদণ্ড

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উজ্জ্বল দেবনাথ (২৪) নামের এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ রোববার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম মাহবুব-উল করিম এই রায় দেন।
জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আড়কান্দি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী (১৫) প্রাইভেট পড়ার জন্য স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় রাস্তায় ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি শ্যামসুন্দর গ্রামের উজ্জ্বল দেবনাথ তাকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই ছাত্রীর চিত্কারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বখাটে উজ্জ্বলকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এ খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বালিয়াকান্দির ইউএনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করেন। উজ্জ্বল তাঁর দোষ স্বীকার করায় আদালত এই রায় দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বালিয়াকান্দির ইউএনও এ টি এম মাহবুব-উল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কী ঘটেছিল প্রধান শিক্ষকের কক্ষে?


কী ঘটেছিল ডা. আবুবকর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে? জানার উপায় নেই। আমরা শুধু এটুকু জেনেছি, সনজিতা খাতুন আর নেই। সনজিতা চলে যাওয়ার সময় কাউকে কিছু বলে যায়নি। আমাদের উদ্দেশে কিছু লিখেও যায়নি। সনজিতার মা বাড়িতে ছিলেন না। ছোট ভাই ছিল ঘরের বাইরে। বাড়ি বলতে সনজিতাদের একটি ঘর। তিনজনের সংসার। বাবা নেই। মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে সনজিতাদের সংসার। মাটির ঘরটিতে নিত্য অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিল না। দেড়-দুই বিঘা জমি ছিল। বাবার অসুখের সময় তাও বিক্রি হয়েছে। এখন আয় বলতে বাড়ির সামনে ছোট একটি মুদির দোকান। দোকানের আয়ে কি তিনজনের সংসার চলে? মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সনজিতার মা জানালেন, চেয়েচিন্তে কোনো রকমে বেঁচে আছি।
আমরা যখন সনজিতাদের বাড়ি পৌঁছাই, সূর্য তখন পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ আসছে। দর্শন বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন সনজিতার মায়ের কান্না দেখে ঠিক থাকতে পারেননি। আমি শুধু সহকর্মীকে চোখ মুছতে দেখলাম। সনজিতাদের বাড়ির সবাই বাকরুদ্ধ। এরা কথা বলছে না, এরা কান্না করছে। সনজিতার জন্য বিলাপ করছে। এ ছাড়া এদের আর কী করার আছে? সনজিতার চাচারা কাঁদছেন। প্রতিবেশীদের চোখে পানি। বাড়ির পাশে মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে যাঁরা এলেন, তাঁদের চোখেও পানি। এঁরা সবাই অপরাধীর বিচার চান।
সনজিতার বয়স কত হয়েছিল? শৈশব শেষে কৈশোরে পা রেখেছে মাত্র। এরই মধ্যে হায়েনার লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে তার ওপর। অপমান সে সহ্য করতে পারেনি। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে এসে সোজা মাটির ঘরে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে পড়ার টেবিলের পাশেই ওড়না পেঁচিয়ে জীবন শেষ করেছে। অপমানিত জীবন সে রাখতে চায়নি। সে কারও কাছে বিচার চায়নি। সে হয়তো জানত, বিচার পাওয়া যায় না। সনজিতার মতো অনেক মেয়ে নীরবে অপমান সহ্য করে। সনজিতা অপমানিত হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মহননের পথকে উপযুক্ত মনে করেছে। সনজিতাকে যে ব্যক্তি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনিই প্রকৃত খুনি। খুন করা এবং হত্যার জন্য প্ররোচিত করা সমান অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখনো অপরাধীকে ধরতে পারেননি। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অপরাধীকে ধরার চেষ্টা চলছে। এই চেষ্টা কত দিন চলবে? আমার শুধু একবার জানতে ইচ্ছে করে, সনজিতা যদি তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মেয়ে হতো, তাহলেও কি একই ধরনের চেষ্টা চলত?
সনজিতা আমাদের বোন। সে আমাদের কারও সন্তান, কারও বোন, কারও নিকটাত্মীয়। কিন্তু সে আমাদের সমাজেরই একটি মেয়ে। এই সনজিতারা অপমানিত হয় হিংস্র দানবদের দ্বারা। যারা হাত-পাবিশিষ্ট মানুষ। আমাদের চারপাশেই থাকে। কিন্তু মনুষ্যত্ব কি তাদের আছে? কখনো কখনো এই মানুষগুলো এত প্রভাবশালী যে সনজিতারা মুখ খুলে দাঁড়াতে পারে না। স্কুলে, কলেজে, মাদ্রাসায়, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ভদ্রবেশী এই হিংস্র দানবেরা থাকে। এরাও কারও না কারও বাবা, কারও ভাই।
আমাদের আজকের সনজিতার বাড়ি রাজশাহী জেলার তানোর থানার শেষ সীমানায় চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের জুড়ানপুর গ্রামে। সনজিতা স্থানীয় ডা. আবুবকর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। দরিদ্রতা জয় করে স্কুলে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিল। সনজিতার খাতার ওপর লেখা রোল নম্বর আট। গতবারের সমাপনী পরীক্ষায় সে ভালো করেছিল। স্কুল থেকে এসে মায়ের সঙ্গে মুদি দোকানে সনজিতাকে বসতে হতো জীবন বাঁচানোর জন্য। তারপর পড়াশোনা। সনজিতা যেখানে আত্মহনন করেছে, তার পাশেই রয়েছে পড়ার টেবিল। মাটির দেয়ালে পড়ার রুটিন। কখন বাংলা পড়বে, কখন ইংরেজি পড়বে, কত সময় পড়বে—সবই লেখা রয়েছে। দোকান শেষে মাটির এই ঘরটিতে মেয়েটি আর কখনো পড়তে বসবে না। তার পড়ার শব্দও কেউ শুনবে না। রুটিনের দিকেও কেউ তাকাবে না। সনজিতা এসবের ঊর্ধ্বে।
ঘটনার দিন সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনজিতার চাচাকে ফোন করে সনজিতাকে স্কুলে যেতে বলেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটি। স্কুল বন্ধ। উপবৃত্তি দেওয়ার নাম করে সনজিতাকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। সঙ্গে সনজিতার ছোট ভাইটিও ছিল। কিন্তু ভাইকে প্রধান শিক্ষকের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে আসার সময় ছোট ভাইয়ের কথার উত্তরে সনজিতা শুধু বলেছিল, স্বাক্ষর দিয়েছি। সনজিতাকে আর কখনো উপবৃত্তি নেওয়ার জন্য স্বাক্ষর দিতে হবে না। স্কুল বন্ধের সময়ও প্রধান শিক্ষকরূপী দানব বৃত্তি দেওয়ার নাম করে ডাকবে না। সনজিতার উপবৃত্তির প্রয়োজন নেই। সনজিতা আত্মবিসর্জন দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, সমাজের দায়িত্বশীল তথাকথিত মহান মানুষগুলো আসলে মানুষ নয়। এরা হিংস্র, এরা জানোয়ার। এই জানোয়ারদের রুখবে কে? আসুন, আমরা অন্তত একবার এই জানোয়ারদের ঘৃণা করি।
সনজিতার পড়ার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শুনলাম, কে যেন বলছে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাব কীভাবে? শিক্ষক সমাজের দায়িত্বশীল অংশ। শিক্ষকের চরিত্র যদি ডা. আবুবকর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মতো হয়, তাহলে আমরা দাঁড়াব কোথায়? সত্যিই, আমাদের দাঁড়ানোর জায়গা ছোট হয়ে আসছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এ কথা শোনার পর সনজিতার বাড়ি থেকে পালিয়ে না এসে উপায় ছিল না। আমরা একে একে পালাচ্ছি আর সনজিতারা আত্মহনন করছে। আমাদের শিক্ষার হার সরকারি হিসাবে ৫৩ শতাংশ। প্রকৃত শিক্ষার হার আরও কম। নারীশিক্ষার হার আরও কম। শিক্ষার হার বাড়ানোর চেষ্টার অন্ত নেই। কিন্তু ডা. আবুবকর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বাবা-মা কি মেয়েদের পাঠাবেন? স্কুলে গেলে যদি মেয়ে আত্মহনন করে? মেয়েদের স্কুলে না পাঠালে শিক্ষার হার বাড়বে না। সনজিতা আত্মহনন করে ডা. আবুবকর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চরিত্র উন্মোচন করেছে। শিক্ষাঙ্গনে ও সমাজে আরও বহু দুর্বৃত্ত আছে। তাঁদের চরিত্র উন্মোচন করবে কে? 
মানিক আনিসুজ্জামান: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
manik780@yahoo.com

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons