অবাক-বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অবাক-বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

রাজশাহীতে নারী কনস্টেবলের শ্লীলতাহানি এসআই সাসপেন্ড

রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অফিসে এক নারী কনস্টেবলের শ্লীলতাহানির দায়ে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে । নারী কনস্টেবলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমান ওই নারী কনস্টেবলকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। যখন তখন তার গায়ে পড়ে কথা বলার চেষ্টা করতো সে। গত সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা অফিসে মামলার সিডি (কেস ডকেট) লেখার কথা বলে নারী কনস্টেবলকে অপেক্ষা করতে বলে শফি। এসময় ডিবি’র অন্য সদস্যরা খাবারের জন্য অফিস ত্যাগ করে চলে যান। ফাঁকা অফিস পেয়ে শফিকুর রহমান ওই নারী কনস্টেবলের গায়ে হাত দেয়। এক পর্যায়ে অফিসের ভেতরেই তাকে জড়িয়ে ধরে। তবে ওই সময় ডিবি পুলিশের একজন পুরুষ কনস্টেবল অফিসে এসে পড়ায় শফিকও তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয়। যৌন হয়রানির শিকার ওই নারী কনস্টেবল অভিযোগ দিতে প্রথমে যান রিজার্ভ পরিদর্শকের কাছে। তিনি পুলিশ সুপারকে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। তবে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে সুবিচার পাওয়ার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন ওই নারী কনস্টেবল। শেষ পর্যন্ত তিনি  সোমবার বিকালে যান রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজির কাছে। ঘটনা খুলে বলে তিনি বিচার প্রার্থনা করেন। বিষয়টি শোনার পর ডিআইজি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির কাছে তাকে পাঠিয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, এস আই শফি ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী পুলিশ সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন ওই নারী কনস্টেবল। অতিরিক্ত ডিআইজি তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে রাজশাহীর পুলিশ সুপারকে উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার সোমবার সন্ধ্যায় সে আদেশ জারি করেন। তবে এ ঘটনা জানাজানির পর শফিকুর রহমান অসুস্থ বলে রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন, রাতেই উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় চলে যান। এদিকে অভিযোগকারী নারী কনস্টেবলকে জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া, নারী পুলিশ সদস্যদের যৌন হয়রানিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রাজশাহী পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী শামীম হোসেন, আর্দালি ইকবাল হোসেন, মেস ম্যানেজার নাসির উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর কাম টাইপিস্ট নুুরুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

এ টি এম শামসুজ্জামানের ছোট ছেলের হাতে বড় ছেলে খুন

বিশিষ্ট অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের বড় ছেলেকে তাঁর সামনেই ছুরি মেরে খুন করেছে ছোট ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় প্রবীণ এ অভিনয়শিল্পীর পৈতৃক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এ টি এম কামরুজ্জামান কবীর (৪০) গাড়ির ব্যবসা করতেন। রক্তমাখা ছুরিসহ হত্যাকারী ছোট ছেলে এ টি এম খলিকুজ্জামানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে সূত্রাপুর থানার পুলিশ। এ ঘটনার পর রাতে এ টি এম শামসুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ টি এম শামসুজ্জামানের ভাই ইব্রাহিম জামান সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল বেলা তিনটার দিকে বড় ছেলে কামরুজ্জামান এসে বাসায় ঢোকার লোহার গেট বন্ধ পান। ওই গেটের এক পাশে বাইরের দিকে তালা লাগানো ছিল। ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খুললে কামরুজ্জামান তালা-চাবির মিস্ত্রি নিয়ে ওই তালা খোলার চেষ্টা করেন। তখন এ টি এম শামসুজ্জামান ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কামরুজ্জামান। তখন ভেতর থেকে ছুরি এনে ছোট ছেলে খলিকুজ্জামান বড় ভাইকে আঘাত করেন। আহত কামরুজ্জামানকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
থানা হেফাজতে থাকা খলিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাবার গায়ে হাত তোলায় তিনি বড় ভাইকে ছুরি মেরেছেন। খলিকুজ্জামান জানান, তিনি বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, পৈতৃক সূত্রে দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনের চারতলা ওই বাড়িটির নিচতলার মালিক এ টি এম শামসুজ্জামান। এ টি এম দম্পতি, বড় ছেলে ও তাঁর স্ত্রী এবং ছোট ছেলে এ বাড়িতেই থাকেন। মেজো ছেলে থাকেন অন্যত্র।
বড় ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এ টি এম শামসুজ্জামান। তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সহকারী কমিশনার মনজুর রহমান বলেন, শামসুজ্জামান পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুরের পর দরজায় করাঘাত করছিল বড় ছেলে। দরজা খুলে দিলে ছেলে তাঁকে ধাক্কা দেয়। তখনই পেছন থেকে ছুরি নিয়ে এসে ছোট ছেলে বড় ভাইকে ছুরি মারে। শামসুজ্জামান পুলিশকে আরও বলেছেন, তাঁর ছোট ছেলে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল না।
সূত্রাপুর থানার এএসআই শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাত নয়টার দিকে এ টি এম শামসুজ্জামান ছেলে খলিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
চাচাতো ভাই হাসানুজ্জামান বলেন, কামরুজ্জামান কয়েক মাস আগে মিরপুরে একটি গাড়ির শোরুম খুলেছিলেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। ঘটনার সময় তাঁর মা রুনি জামান ও স্ত্রী লাকী জামান বাসায় ছিলেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, কামরুজ্জামানের শরীরে কয়েকটি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন বাড়ির সামনে ও ভেতরে। বাসার ভেতরে অনেক আত্মীয়স্বজন। লোহার গেটে ঢোকার মুখে শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। prothom-alo

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২

নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার

পেটের দায়ে উত্তরাঞ্চলের এক জেলা থেকে ১৫ দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী। অনেক চেষ্টায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ জোটে। তাঁর স্বামী রিকশা চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত শুক্রবার রাতে ভাষানটেক বালুরমাঠে নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার হন কর্মজীবী এই নারী। তিনি গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত ১০টার সময় তিনি ও তাঁর স্বামী হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তাঁদের পিছু নেয় এলাকার বখাটে যুবক ইব্রাহীম, বাবু, রানা ও নাম না জানা আরেকজন। তাঁদের পিছু পিছু বখাটেরাও ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয়। বখাটেরা প্রথমে মুড়ি মাখিয়ে দিতে বলে, তারপর বলে ভাত রান্না করে খাওয়াতে। ভাত খাওয়ার পর একপর্যায়ে বখাটেরা স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে বাথরুমে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার এক দিন পর ওই এলাকার দুজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর সহযোগিতায় নির্যাতিত ওই নারী কাফরুল থানায় মামলা করেন।
জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিষয়টি দেখছি। আশা করছি, শিগগিরই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।’ প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

 চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা

বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পরও পরস্পর দেখা করায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়া গ্রামে দুই নারী-পুরুষের মাথার চুল কেটে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই নারী কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
এদিকে দুজনকে চুনকালি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার একটি দল গতকাল ওই গ্রাম পরিদর্শন করে। তারা ওই তরুণীকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তরুণীর মা এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। ভোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল আহম্মদ বলেন, ‘তাঁরা অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু যেভাবে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা খুবই লজ্জাজনক।’
জানা যায়, তিন মাস আগে ওই দুজনে বিয়ে করেন। কিন্তু গত ১৫ দিন আগে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপরও তাঁরা বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন।
গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত রোববার ভোলপাড়া গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় গ্রামের কিছু লোক তাঁদের আটক করেন। এরপর রাতে স্থানীয় নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুর রহমানের বাড়িতে সালিস বসে। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের চুল কাটা হয়। এরপর চুন আর পোড়া মবিল লাগিয়ে ঘোরানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করে ওই তরুণী মামলা করেছেন।

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

গরু চুরির অভিযোগে এবার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর!

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গরু চুরির অভিযোগ তুলে এবার এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে দুই দফা মারধর করা হয়েছে। উপজেলার রাঙ্গাবালি ইউনিয়নে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূ এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকি ৎসাধীন রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম ফাতেমা বেগম (২৬)। তিনি রাঙ্গাবালি ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের মো. শহীদুল লাহারির স্ত্রী।
নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গাবালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গলাচিপা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমা বেগম তাঁর ভাই মো. সাইদুল ইসলামের কাছে ৩৫ হাজার টাকা পান। সাইদুল পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছে দুটি গরু বন্ধক রাখেন। ২১ নভেম্বর বিকেল চারটায় ফাতেমা ওই গরু নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
ওই সময় ছোটবাইশদিয়া ইউপির সদস্য মো. আনিসুজ্জামান চতলাখালী গ্রামের রাস্তায় ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে মারধর করেন। ২২ নভেম্বর দুপুরে ফাতেমাকে রাঙ্গাবালি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে বাহেরচর বাজারের চৌরাস্তায় ২২ নভেম্বর সালিস বৈঠক হয়। এতে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামানসহ ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গরু চুরির অপরাধে নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান, জাকির হোসেন এবং একজন গ্রামপুলিশ ফাতেমাকে মারধর করেন।
ফাতেমা অভিযোগ করেন, গরু চুরির সাজানো অভিযোগ এনে গত ২৩ নভেম্বর রাঙ্গাবালি থানায় সুজন দাসকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। পরদিন ওই মামলায় তাঁকে (ফাতেমা) গ্রেপ্তার দেখিয়ে গলাচিপায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে জামিন দিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকি ৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ফাতেমার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
ফাতেমাকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালির ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২২ নভেম্বর বিকেলে আনিসুজ্জামান ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাঁকে রাঙ্গাবালি থানায় সোপর্দ করেছি।’
ইউপি সদস্য আনিসুজ্জামান দাবি করেন, কয়েকজন গ্রামবাসী ফাতেমাকে গরুসহ ধরে তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি গরু দুটি তাঁর জিম্মায় রেখে ফাতেমাকে ছেড়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙ্গাবালি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ফাতেমা ও তাঁর স্বামীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি কখনো খারাপ কিছু শোনেননি।

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের বয়স ১৮ দেখিয়ে থানায় মামলা!

আবদুর রহমান আবদুর রহমান
নাম আবদুর রহমান। পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে। প্রকৃত বয়স তার ১১। তবে একটি সন্ত্রাসী হামলার মামলায় পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই বয়স ১৮ উল্লেখ করে আবদুর রহমানের নাম নথিভুক্ত করেছে। এমনকি ওই মামলার আসামি গ্রেপ্তারে গতকাল শুক্রবার অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি ১১ বছরের শিশু আবদুর রহমানসহ তার সাত ভাই এবং দুই মা। গ্রেপ্তার এড়াতে গতকাল পুলিশের অভিযানের সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুর রহমানও পালিয়েছিল। পরে সে তার বড় ভাই ইছুব আলীর সঙ্গে বিকেলে প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে এসে ঘটনাটি অবহিত করে।
আবদুর রহমানের বড় ভাই ইছুব আলী (৩৫) জানান, কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বিজয় পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। পারিবারিকভাবে তাঁরা পাথর শ্রমিক। পাশের গ্রাম বনপুরের বাসিন্দা আবদুল মালিক শত্রুতাবশত গত ২৫ নভেম্বর একটি সন্ত্রাসী হামলায় তাঁদের অভিযুক্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দেন। তবে এজাহার পাওয়ার পর সরেজমিন কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। নথিভুক্ত মামলার (১৯/১৩২) প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে আবদুর রহমানের নাম আছে। সেখানে তার বয়স দেওয়া হয়েছে ১৮।
ইছুব আলী এ সময় ছোট ভাই আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও সে যে বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত—সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করেন। যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদউদ্দিন ও মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমদ আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও প্রত্যয়নপত্রে উল্লিখিত বয়স ১১ বছর সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
ইছুব বলেন, ‘(সন্ত্রাসী হামলার) ঘটনাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বড়দের বিরোধ থাকতে পারে, ছোট এই বাচ্চাটার কী দোষ? পুলিশ গ্রামে গেছে শুইনা আমার লগে হেও পালাইছে।’
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছেলেটিকে নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার বার্ষিক পরীক্ষা। আসামি হওয়ায় তার শিশুমনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। ঘটনা যা-ই হোক—কোনোভাবে যেন ছেলেটির পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, এ জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমার কথায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেন গতকাল সকালে আসামি গ্রেপ্তার করতে বিজয় পাড়ুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। তবে রাতে মুঠোফোনে মোবারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আসামি গ্রেপ্তারে নয়, ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ১১ বছরের আবদুর রহমানকে ১৮ বছর উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাই নাকি! এমন হলে তো আশ্চর্যজনক ঘটনা। ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
মামলার বাদী মো. আবদুল মালিক দাবি করেন, ‘মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আমাদের লাঠি ও দা নিয়ে মারতে এসেছিল।’
অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দনকান্তি ধর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরেজমিন খোঁজ নিয়েই মামলা নথিভুক্ত হওয়ার নিয়ম। বিষয়টি আমার জানার মধ্যে নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই মামলা থেকে ছেলেটাকে বাদ দেওয়া হবে। prothom-alo

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

২১১৪ পিস ইয়াবাসহ যুবতী আটক

উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বিজিবির যৌথ চেকপোস্টে ঢাকাগামী এস আলম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২১১৪ পিস ইয়াবাসহ এক যুবতীকে আটক করেছে। মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার ইছহাক মোল্লা জানিয়েছেন, গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থেকে ঢাকাগামী এস আলম পরিবহনের একটি কোচের সিটের নিচে লুকানো ২১১৪ পিস ইয়াবাসহ খালেদা বেগম (১৮) নামের এক যুবতীতে আটক করা হয়েছে। আটক যুবতী উখিয়া টিএন্ডটি এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। আটক ইয়াবার মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১১

আড়াইহাজার থানার ওসির কাণ্ড

আড়াইহাজারের বালিয়াপাড়ার চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ী মোক্তারের ঘর থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ মোক্তারকে আটক করলেও ১২ ঘণ্টা পর মোটা অঙ্কের মাসোহারা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়। পুলিশ ফেনসিডিল উদ্ধার দেখায় মাত্র ৫০ বোতল। বাকি ১৫০ বোতল হাওয়া। থানার ওসির তেলেসমাতি এ কাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গতকাল দিনভর পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
ব্রাহ্মদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাক মিয়া জানান, ঘটনার পরপরই বালিয়াপাড়া গ্রামের লোকজন তাকে জানান, আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোক্তারের বাড়িতে অভিযান চালায়। ঘরের ভেতর থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। মোক্তার এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ী মোক্তারকে গ্রেপ্তার করা হলেও ১২ ঘণ্টা পর থানার ওসি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এবং মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ওসি মোক্তারকে ছেড়ে দিয়েছেন। আড়াইহাজার থানার ওসি সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ঘর নয় উঠানে খড়ের গাদা থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোক্তার ঘুমিয়ে ছিল। মোক্তার মাদক ব্যবসায়ী কিনা তা আমাদের জানা নেই। তার বিরুদ্ধে মাদকের কোন মামলা নেই। তাই উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল যে তার সে রকম কোন প্রমাণ নেই।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

ভাড়ায় প্রেম

এভাবেই প্রেমিক যুগল ক্যামেরায় ধরা পড়ে -ছবি: শাহীন কাওসার
আলী আজগর খোকন: ভাড়ায় প্রেম চলছে রাজধানীতে। ক্যাটরিনা, মল্লিকা, বিপাশারা অপেক্ষায় থাকে ভাড়াটে প্রেমিকদের জন্য। ঘণ্টা চুক্তিতে চলে তাদের প্রেম। ৫০ টাকায় গল্প করা, ১০০ টাকায় হাত ধরা ও চুমুতে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। টাকার পরিমাণ বাড়লে মিলবে অন্তরঙ্গ হওয়ার সুযোগও। রাজধানীর রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এমন প্রেমিকারা অপেক্ষায় থাকে প্রেমিকের জন্য। মিলে গেলেই কোন গাছের ফাঁকে, কিংবা আড়ালে প্রেমিক-জুটির চলে আড্ডা। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী। ভাড়াটে প্রেমিক-যুগল পার্কের প্রতিটি সিট দখল করে বসে থাকে। তারা আশপাশের লোকজনকেও তোয়াক্কা করে না। ঠিক থাকে না তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ। পার্কগুলো আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে। উদ্যানের ঘাস তখন তাদের বিছানায় রূপ নেয়। তাদের দেখাদেখি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও মেতে ওঠে উদ্দামতায়। ভাড়াটে প্রেমিকারা চলার পথে এক পলকেই যুবকদের টার্গেট করে। কাছে এসে নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করে। পরক্ষণেই বলে ওঠে, বসবেন নাকি? কতক্ষণ? টার্গেট করা যুবকের সম্মতি পেলে কম দামেই তারা বসে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে রেট বাড়াতে থাকে। সূত্র জানায়, এরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিফট হিসেবে সময় দেয় উদ্যানে। যারা সকালে বা দিনে থাকে তারা রাতে আসে না। রোববার দুপুর ১২টা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন গেটের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে সারি সারি প্রেমিক যুগল বসে আছে। এদের মধ্যে স্কুলের ইউনিফর্ম পরা কমপক্ষে ৩০টি জুটি দেখা গেছে। এদের বেশির ভাগই স্কুল ফাঁকি দিয়ে এসেছে। আর অন্যরা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাড়াটে বিনোদিনী। ভাড়াটে প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফ বলেন, একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেড় ঘণ্টা উষ্ণ প্রেম নিবেদন করে তার ১৮০ টাকা কামাই হয়েছে। ক্যাটরিনা জানায়, তার মতো আরও অনেক সুন্দরী এ পেশার সঙ্গে জড়িত। এমন একজনের নাম মল্লিকা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেম ভাড়া দিই। অন্যের দুঃখকে আনন্দে ভরিয়ে দিই। এ কাজ এত্ত সহজ নয়। তাই কাজ বুঝে ভাড়াও নির্ধারণ করা আছে আমাদের।’ তপু নামের একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় এ রাস্তায় বাসায় ফিরি। প্রতিদিনই দেখি এদের।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্কে বিনোদিনীদের নিরাপত্তায় সহায়তা করে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ। এজন্য তারা নির্ধারিত কমিশন পায়। এমন বিনোদনদানকারীদের কাছ থেকে রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনোদিনীরাই বলেছে, মাসোহারা নেয়ার সময় অনেক পুলিশ সদস্য নিখরচায় উষ্ণ বিনোদনও গ্রহণ করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে থাকা রমনা কালীমন্দির সংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণপাড় ঘেঁষে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বসেছিল এক জুটি। পার্কে থেকেই চকলেট বিক্রি করেন এমন একজন মধ্যবয়সী মহিলা বলেন, ‘ওই মাইয়াডা প্রায় দিনই এদিকে আইয়া বন্ধুর লগে আড্ডা দেয়। মেয়েডা বালো না। একেক দিন একেক পোলা লইয়া আইয়ে। দ্যাকতে সুন্দরী। ওর নাম কইছে বিপাশা। যেয় যেইডা খোঁজে হেয় হেইডা পায়। তয় দিনে কম, রাইতে বেশি।’ রমনা পার্কে সবসময় পানি বিক্রি করে রতন। রোববার সন্ধ্যায় তার কাছে জানতে চাইলে বলে, ‘ইডা আর নতুন কি। যার ডারলিং নাই, হে ডারলিং ভাড়া নেয়।’ ভাড়াটে বিনোদিনী ও ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরির নামে আপত্তিকর আচরণে চরম বিব্রত হন পার্কে আসা স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা। সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তায়েজুল হাসান সস্ত্রীক পার্কে এসেছেন বৈকালিক ভ্রমণে। তিনি বলেন, পার্কের ভেতরের যা অবস্থা- তাতে এখানে আসাই বিপদ। এমন কোন রাস্তা নেই যেখানে আপত্তিকর অবস্থায় কোন যুবক-যুবতী বসে নেই। লজ্জায় ১০ হাত জায়গার মধ্যেই হাঁটাহাঁটি করে ঘরে ফিরতে হয়। প্রশাসন এসব বিষয় মাথায়ই আনে না। রমনা পার্কের উত্তর গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী হানিফ মিয়া জানান, বাইরে থেকে কেউ কাউকে নিয়ে এসে ঘোরাঘুরি করলে তো আমাদের করার কিছু নেই। এটা তো ঘুরে বেড়ানোরই জায়গা। রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন বিষয় সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। পার্কের ২৪ ঘণ্টার  নিরাপত্তায় ২০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ভাড়াটে প্রেমিক কিংবা বিনোদিনীদের থাকার সুযোগ নেই। আর পুলিশ মসোহারা নেয়- এমন অভিযোগও ঠিক নয়।

কক্সবাজারে মধু’র বাণিজ্য

 পুরো নাম হনুফা আকতার মধু। তারা ৩ বোন। তাদের কাজ প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লোভেী পুরুষদের সর্বস্বান্ত করা। তিন বোনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তবে থানার সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তারা আইন ভাল বোঝে। তাই তাদের অভিযোগেও হয়রানি শিকার হচ্ছেন অনেকে। থানা, কোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ সর্বত্র রয়েছে মধুদের কদর। তবে তারা বেশি দিন এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে  না। কিছুদিন পর পরই বাসা পাল্টাতে হয়। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জেনে বেরসিক বাড়িওয়ালারা তাদের বের করে দেন বাড়ি থেকে।
মহেশখালী উপজেলার পৌর এলাকার ১৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহানা আকতার মিলি, হনুফা আকতার মধু ও কাজল। ৭-৮ বছর আগে আসে কক্সবাজারে। এ আসার পেছনেও রয়েছে কাহিনী। তাদের মা খতিজা বেগম জীনের কথা বলে বহু মানুষকে ‘স্বর্ণের ডেক’ পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মাসৎ করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নেয়। এ অবস্থায় তারা মহেশখালী ছাড়তে বাধ্য হয়। কক্সবাজার এসে প্রথমে শহরের মাঝেরঘাট এলাকা বাসা ভাড়া নেয় তারা। খতিজা  বেগম লোভ দেখিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে থাকে। মায়ের পথ ধরে বড় মেয়ে মিলি। মা ও বড় বোনের সঙ্গে যোগ দেয় হানিফা আকতার মধু-ও। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জানাজানি হলে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালার চাপে বাসা ছাড়ে তারা। এরপর বাসা নেয় টার্মিনাল এলাকায়। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে আসে বিডিআর ক্যাম্প এলাকায়। তারপর টিএমসি স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। সেখান থেকে সিকদার মহেলর পেছনে। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে বাজারঘাটা রয়েল হোটেলের পেছনে। এভাবে তাদের প্রায় ১৫টি বাসা ছাড়তে হয়। তাদের মধ্যে মধু’র কৌশল একটু ভিন্ন। দেহব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে পটু সে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হলেও কেউ প্রতিবাদ বা উচ্চবাচ্য করার সাহস পায় না। তা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করার অনেক নজিরও রয়েছে।
২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর ইসমাইল হোসনকে বিয়ে করে মধু। ২০০৯ সালে ৬ই জুন এ বিয়ে ভেঙে যায়। এক দারোগার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন ৯৩ হাজার টাকা। কিছুদিন পর সে বিয়ে করে বাংলাবাজার এলাকার শামশুল আলমকে। তার সংসারে থাকতেই শহরের টেকপাড়ার জুবাইদুল ইসলাম বাপ্পীকে বিয়ে করে পালিয়ে গিয়ে। অপরদিকে দুশ্চরিত্র মেয়েকে বিয়ে করার খবর পেয়ে পিতামাতা জুবাইরুলকে ঘর থেকে বের করে দেন। মামলাও করেন। এ মামলায় জেল খাটে জুবাইদুল ও মধু। জেল থেকে বেরিয়ে জুবাইদুল দেখে, যে স্ত্রীর জন্য পিতামাতা ত্যাগ করেছে, সে স্ত্রীর রয়েছে অসংখ্য বয়ফ্রেন্ড। নামীদামি ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ। জুবাইদুলের সন্দেহ হয়। স্ত্রীর ওপর সে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর তার কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। তার অজান্তে প্রিয়তম স্ত্রী মধু এতদিন চালিয়ে যাচ্ছিল দেহ ব্যবসা। বিভিন্ন সময় হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন স্থানে স্ত্রীকে ধরে ফেলে স্বামী। এসব কারণে মধুর প্রতি তার মোহ কেটে যায়। ফলে তাদের এই বিয়েও স্থায়ী হয়নি। জুবাইদুল জানায়, অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ভাল করতে পারেনি সে। পরে অন্যের পরামর্শে তাকে ডিভোর্স দেয় স্ত্রী। বনিবনা না হওয়ায় উভয়ে আলাদা হওয়ার ব্যাপারে একটি অঙ্গীকারনামাও করে। এর কয়েকদিন পরই থানা ও কোর্টে পৃথক দু’টি মামলা করে মধু। জুবাইদুল বলে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া মধুদের কাজ। মধুর বড় ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী জেসমিন আকতার জানান, মধুদের পরিবারে শহরের নামীদামি ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিয়ের পরে মধুদের পরিবারে যাওয়ার পর থেকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বাসায় আগন্তুক ব্যক্তিদের ‘সেবা’ দেয়ার জন্য তাকে স্বামী-শাশুড়ি-ননদ নিয়মিত অত্যাচার চালাতো। তাদের ধারাবাহিক অত্যাচার ও নির্যাতনে সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ১ সন্তানসহ বাপের বাড়িতে থাকছেন। মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান,  ২০-২২ দিন হলো আমি মধুকে চিনি। একটি অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে আমার কাছ এসেছিল সে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুনেছি মেয়েটি খারাপ। তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। মডেল থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার জানান, মধুর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রভাত কর্মকারকে পরিবর্তন করে জিসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হনুফা আক্তার মধু বলেন, অভিযোগকারীদের সব অভিযোগ সত্য, আপনারা ভালো করে লিখে দিন।

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১

লাশ শত টুকরা করে মেঘনায় নিক্ষেপ!

‘স্যার, ফরিদ আমরার লগে বেইমানি করছে। ডাকাতি ছাইড়া পুলিশের খেদমতদার হইছে। আমরার ক্ষেপের কথা পুলিশকে জানাইয়া দেয়। আমরার লগে থাকব না, ভালা কথা। পুলিশের সোর্স হইলে কেন? তাইজ্জব ব্যাপার, হে আমরারে র‌্যাব-পুলিশের ডর দেহায়। কাজ না কইরা কাজের ভাগ চায়। কাজ করুম আমরা, হেরে ভাগ দিমু কেন? তার চেয়ে ভালা, হেরে ভাগ কইরা মাছের আদার (খাবার) বানাইয়া ফালামু। তা হইলেই তো ঝামেলা খতম। স্যার, কম কইরা হইলেও ১০০ টুকরা করছি। মেঘনায় ছাড়ামাত্র মাছ ঠুকুর মাইরা খাইতে থাহে।’
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফরিদ হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি তাহের মিয়া ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় হত্যার লোমহর্ষক এসব বর্ণনা বের হয়ে আসে। কাসেম ওরফে কাচ্চু মিয়ার ছেলে তাহের মিয়া (৪৪) উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ফরিদ মিয়া (৫৫) হত্যার অন্যতম আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় হত্যা, লাশ গুম, ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ গত শনিবার ভোরে মেঘনা নদীর একটি নৌকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাহের ভৈরব থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের খুনের বর্ণনা দেন। পরে তাঁকে ওই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আইজ উদ্দিনের কাছে ওই দিন তাহের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ভৈরব থানার পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২৬ আগস্ট উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত কাদির মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা লোকমুখে জানতে পারেন, ফরিদকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে হত্যা এবং হত্যাসহ লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর পুলিশ শনিবার সন্দেহভাজন তাহেরকে গ্রেপ্তার করে।
তাহের মিয়া জানান, একই এলাকার ছিদ্দিক, মস্তু, হুমায়ুন, ফরিদ তাঁরা ভালো বন্ধু। ডাকাতি, হত্যা, লাশ গুম তাঁদের পেশা। এক বছর আগে ফরিদ তাঁদের সঙ্গ ছাড়ে। দলছুট হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ফরিদের সখ্য গড়ে ওঠে। তাঁদের সব গোপন বিষয় পুলিশের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। একপর্যায়ে ফরিদ মাসিক মাসোহারা দাবি করেন। এতেই দলের সবাই তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হন এবং হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন ফরিদকে মস্তুর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। কথা বলার সুযোগে ছিদ্দিক বল্লম দিয়ে পেটে আঘাত করেন। তাহের ছুরিকাঘাত করেন এবং মস্তু লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পাশের গ্রামের নবীপুরের তারা মিয়ার নৌকায় করে লাশ মেঘনার মাঝ নদীতে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে ছুরি দিয়ে প্রথমে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা করা হয়। কমপক্ষে ১০০ টুকরা করার পর টুকরাগুলো নদীতে ফেলা হয়। এ কাজ করতে তাঁদের সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকটা অনুশোচনা থেকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা অকপটে পুলিশ, সাংবাদিক ও আদালতে বলেন তাহের।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১১

 ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ - গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ইছাদীঘি গ্রামের ডাবাইলপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আম্বিয়া খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আম্বিয়ার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী লিটন মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা আম্বিয়াকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেন। পরে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেন।
লিটনসহ তিনজনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন আম্বিয়ার বাবা আমিনুল ইসলাম। আমিনুল বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ইছাদীঘি গ্রামের আরিফুল ইসলামের সঙ্গে আম্বিয়ার বিয়ে হয়। সুখেই কাটছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী লিটন মাঝেমধ্যে আম্বিয়াকে উত্ত্যক্ত করতেন।
সখীপুর থানার পুলিশ ও আম্বিয়ার পরিবারের ভাষ্যমতে, ৮ নভেম্বর লিটন, তাঁর বন্ধু সাইফুল ও রুবেল আম্বিয়াকে অপহরণ করেন। পরে লিটন ইছাদীঘি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করে আম্বিয়াকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন এবং আম্বিয়ার সন্ধান করতে বারণ করেন। রফিকুল বিষয়টি আম্বিয়ার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে বাবার বাড়ির সামনে কাঁঠালগাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আম্বিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আম্বিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
আম্বিয়ার বাবা আমিনুল বলেন, ‘লিটন আমার মেয়ের সর্বনাশ করে হত্যা করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আম্বিয়ার স্বামী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। হঠাৎ করেই শুনি, আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পরে শ্বশুরবাড়ির পাশে লাশ পাওয়া যায়।’
এ ব্যাপারে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝুলন্ত লাশ দেখে মনে হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তা ছাড়া অপহরণকারীরা মুঠোফোনে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে বলেও লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি।’
আম্বিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে ধর্ষণের পর হত্যা লেখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বোঝা যাবে আসল রহস্য। তার পরও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ মেয়েটিকে তিন দিন আগেই দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছিল।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১

ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগী গত শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ঢাকার সাভারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।
এ অভিযোগ এনে ওই শিক্ষিকা গতকাল মঙ্গলবার সাভার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। ধর্ষণের পর ওই দুর্বৃত্তরা শিক্ষিকার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুটে নেয়। ওই শিক্ষিকা বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষিকা বলেন, গত শনিবার বিদ্যালয়ের কাজে তিনি ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি গাবতলী থেকে ভিলেজ লাইন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে তাঁর পাশে গিয়ে বসেন অপরিচিত এক লোক। বাসটি সাভারের দিকে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওই লোকটি নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই লোকটি তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বলেন।
শিক্ষিকা নিজের পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তির কথার প্রতিবাদ করলে লোকটি তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন। শিক্ষিকা ভয়ে লোকটির কথামতো সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। এর পর ওই লোকটি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে লোকটি তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে যান আরও এক ব্যক্তি। তিনিও তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই দুই দুর্বৃত্ত শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেন।
ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষিকা প্রথম আলোকে বলেন, চলন্ত বাসে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই প্রতারকের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তাঁর বাগিবতণ্ডা চলার সময়ে বাসের অন্য যাত্রীরা তাঁকে কোনো সহায়তা করেননি। যাত্রীদের সহায়তা না পেয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের (রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই প্রতারক তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়ে তিনি ওই প্রতারকের কথামতো বাস থেকে নেমে হোটেলে যান।
শিক্ষিকা বলেন, আকস্মিক ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর পুলিশ ভাইকে বিষয়টি জানালে তাঁর পরামর্শে গতকাল তিনি সাভার থানায় মামলা করতে যান।
ওই শিক্ষিকা বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি সাভার থানায় গিয়ে থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেনকে জানান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে তাঁর কক্ষে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোর এ প্রতিবেদক সাভার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। ওসি ঘটনা শুনে শিক্ষিকার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ওই এসআই আবুল হোসেনকে।
দুপুর পৌনে একটার দিকে এসআই আবুল হোসেন বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষিকাকে নিয়ে ওই হোটেলে যান। পুলিশ হোটেলের মালিক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই আবদুস ছালাম ও ভগ্নিপতি ফরিদ আহাম্মেদকে আটক করেন। ছালামকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ফরিদকে থানায় নিয়ে যান। এর আগেই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন পালিয়ে যান।
আবদুস ছালাম নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের হোটেলে এসেছিলেন।
সাভার থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে মামলা করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১

দেনার দায়ে বউ বিক্রি!

দেনার দায়ে শেষ পর্যন্ত নিজের বউ বিক্রি করে দিলেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রামের দিনমজুর অমৃত রায়। অমৃত রায়ের স্ত্রীর নাম জ্যোত্স্না।
জানা গেছে, ৪৬ হাজার টাকা ঋণ শোধ করার বিকল্প উপায় না পেয়ে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রীতিমতো রেজিস্ট্রি চুক্তি করে নিজের বউকে মো. জহিরউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন অমৃত। অমৃত রায়ের স্ত্রী জ্যোত্স্না লোকসংগীতশিল্পী হওয়ায় জহিরউদ্দিনের সঙ্গে অমৃত ও তাঁর সখ্য গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় অমৃত তাঁর বউ বিক্রি করার কথা বললে জহিরউদ্দিন তা মেনে নেন। অবশেষে ২৩ মে গোপনে দলিলের মাধ্যমে জ্যোত্স্নাকে কিনে নেন জহিরউদ্দিন।
এত দিন গোপন থাকার পর সম্প্রতি বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যায়। পরে রাজ্যের নতুন নারী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। তবে পুলিশ এখনো জ্যোত্স্নাকে খুঁজে পায়নি বলে জানা গেছে।

পারসোনার ক্যামেরা কেলেঙ্কারি - ইন্টারনেটে পর্নোসাইটগুলো সবচেয়ে বেশি হিট হচ্ছে



পারসোনার ক্যামেরা ক্যালেঙ্কারির পর ইন্টারনেটে পর্নোসাইটগুলো সবচেয়ে বেশি হিট হচ্ছে। ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও ইয়াহুতে পারসোনার পর্নো নিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চলছে। ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিনের হিসাব রাখা ওয়েবসাইট বলছে, অন্তত গত এক সপ্তাহ ধরে এ পর্নো সাইটগুলোতে হামলে পড়ছেন প্রচুর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

একই সাথে ব্লগ দুনিয়ায় এখন এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। সামহয়্যারইনব্লগ, সচলায়তন, বিডিনিউজব্লগ,ফেসবুকসহ বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পুলিশ কোনো রকমের ছাড় না দিয়ে তদন্ত করছে বলে বাংলানিউজ শুক্রবার সংবাদ প্রকাশ করেছে।


বিডিনিউজের ব্লগে আইরিন একটি পোস্টে বলেছেন, যে ক্যামেরাটিকে সিসি ক্যামেরা বলে চালানো হচ্ছে, সেটি আদতে আইপি ক্যামেরা কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সিসি ক্যামেরার চেয়ে আইপি ক্যামেরা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। তাই আমাদের এটি জানতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যবসায় করছে পারসোনা। তাই পারসোনার সব আউটলেটে অবশ্যই এ ধরনের ক্যামেরা থাকতে পারে, সেটি খুলে নেয়া জরুরি বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।


কানিজ আলমাসের কাছে যে প্রশ্নগুলো রেখেছেন ইন্টারনেট দুনিয়ার পাঠক-লেখকরা, সেগুলো হলো-‘পারসোনায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত জিনিস রাখার জন্য লকার রাখা হয়নি কেন?’, ‘সিসি ক্যামেরা আছে, এমন জায়গাগুলোতে দিজ প্লেস ইজ আন্ডার সার্ভিলেন্সের মতো সতর্ক নোটিশ রাখা হয়নি কেন?’, ‘যে কর্মীরা ভিডিও সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে তাদের ব্যাপারে কী ব্যবস'া নেয়া হয়েছে?’, ‘কোন প্রতিষ্ঠানের, কোন টেকনিশিয়ান ক্যামেরা সেট করে দিয়েছেন?’, ‘আমরা ধরে নেই কেষ্ট বেটাই চোর, তাহলে সেই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে কাজে গাফেলতি নিয়ে শোকজ করবেন কি কানিজ আলমাস?’, ‘ত্রুটিপূর্ণ ক্যামেরা সম্পর্কে ডিউটিরত কর্মচারীরা রিপোর্ট করেননি কেন?’, ‘চিকিৎসক গ্রাহকের স্বামীর প্রশ্ন- যদি ব্যাড ইনটেশন না থাকে, তাহলে ওই কক্ষের ক্যামেরা দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেয়া হলো কেন?’


এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি পারসোনা। কেবল বক্তব্য অস্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ফেসবুকে পারসোনার নিজস্ব হোমপেজে বলা হয়েছে, গ্রাহকের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হওয়ার কারণে তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন।
ব্লগাররা প্রশ্ন তুলেছেন এটি কোনোভাবেই যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে না। আইরিন বলছেন, এটি খুবই ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


বিডি নিউজের ব্লগে কান্তা লিখেছেন, ‘কানিজ আলমাস ও তার স্বামীর (ইনি পার্সোনার কর্মচারী) শাস্তি হওয়া উচিত। তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তদন্ত করার জন্য আয়কর বিভাগকে অনুরোধ করছি। নাপিতের ব্যবসায় ছাড়া এদের আর কোনো অবৈধ ব্যবসায় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া এই জাতীয় ব্যবসায়ের সাথে জড়িত অন্যান্য মহিলা যেমন, ফারজানা শাকিল এবং তার স্বামী শাকিলের (ইনিও কর্মচারী) কার্যকলাপও তদন্ত হওয়া দরকার। তাদের আউটলেটগুলোতে কোনো লিখিত সার্ভিস রেট নেই। তারা মহিলাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে থাকেন। ফেসিয়ালের নামে তেঁতুলের পানি আর স্পার নামে মহিলাদের গায়ে কাদামাটি মাখিয়ে এরা ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন। পত্রিকার সম্পাদক ও পুলিশের বড় কর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদের এখানে স্পেশাল ব্যবস'া আছে। তাই কোনো পত্রিকায় পারসোনার বিরুদ্ধে লেখা দেখবেন না। মিডিয়ার মেয়েরাও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। ’


মায়া রহমান লিখেছেন, ‘অনেক সেলিব্রেটির নগ্ন/ অর্ধনগ্ন ছবি অনলাইনে দেখা যায়। এইবার এর সোর্স বোঝা গেলো। কিন' সেই (কয়েকজন অভিনেত্রীর নাম...) ও অন্যদের কাউকেই কিন' একবারো প্রতিবাদ করতে দেখলাম না। বাংলাদেশের ব্যাপারটা বোঝা আমার কর্ম নয়। ’
ব্লগার কানা বাবা অবশ্য পারসোনা বন্ধের পক্ষে নন। তিনি কিছু নীতিমালা চান, কোথায় কোথায় বসানো যাবে সিসি টিভি ক্যামেরা। তা সরকার যেন নির্ধারণ করে দেয়, সেটি তিনি দাবি করেছেন। একই সাথে পারসোনার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেছেন, এটি তদন্ত না করা হলে সামনে এ ধরনের ঘটনা বাড়বেই।


 হাজতি লাপাত্তা

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গতকাল রোববার এক হাজতি পালিয়ে গেছেন। সাজ্জাদ (২৫) নামের ওই হাজতি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত শনিবার রাতে শহরের খড়কি এলাকায় ছিনতাইকালে স্থানীয় লোকজন ধরে গণধোলাই দিয়ে তাঁকে পুলিশে দেয়। হাসপাতালে তাঁর পাহারায় ছিল কয়েকজন পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ‘হাসপাতালের নিচতলার একটি ওয়ার্ডে ওই হাজতিকে রাখা হয়। ওয়ার্ডের ভাঙা জানালা দিয়ে সে পালিয়ে যেতে পারে।’ যশোর অফিস prothom-alo

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সামিরার ডিজে পার্টি এবং…

তিনি সামিরা। ধনীর দুলালী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে ফ্যাশন-শো, হট ড্যান্স ও ডিজে পার্টির আয়োজক। তবে এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে নানা কাহিনী। নানা গল্প। উপরে পার্টি হলেও ভেতরে চলে মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও সিসাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের আসর। চলে পতিতাবৃত্তিও। সামিরার গোপন এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে গোয়েন্দা জালে। গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। গুলশান ও বনানী এলাকায় প্রায় ৭০-৭৫টি ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে এক নামে পরিচিত সামিরা।গত ৯ই সেপ্টেম্বর গুলশান ২-এ অবস্থিত থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে সামিরাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- অগাস্টিন রোজারিও ওরফে পলাশ, সৈয়দ ওবায়দুল করিম ওরফে রুশো ও সামিরা কায়জার। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা বলেন, সামিরা কায়জার উচ্চশিক্ষিত। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী। তিনি থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দিতেন। নিজেও হাই সোসাইটির কলগার্ল হিসাবে কাজ করতেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব ছিল তার।
এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪০৮ ক্যান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার ও ৩০ বোতল বিদেশী মদ। যখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে হানা দেন তখন ওই বাড়িতে প্রায় ১৫০ নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে উচ্চ শব্দে বাজানো মিউজিকের তালে ড্যান্স করছিল। বেশির ভাগ তরুণীর পরনে সংক্ষিপ্ত পোশাক ছিল। পার্টিতে অংশ নেয়া অনেক তরুণ-তরুণীর সামাজিক পরিচয় ছিল রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। অভিযানের সময় তাদের অনেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি ধমকি দেন। আবার অনেকেই মুখ ঢেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
অবৈধভাবে তৈরি করা বারে থরে থরে সাজানো ছিল নানা ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। গ্রেপ্তারকৃত সামিরা কায়জার অকপটে সব কিছু স্বীকার করেন। কিভাবে তিনি এ জগতে এলেন তার বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। গুলশান এলাকায় কারা অবৈধ মদ ও বিয়ারের আসর বসায় তাদের অনেকের নামও বলেন তিনি। সামিরা জানায়, এমপি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা অনেকেই নিয়মিত তাদের অতিথি হয়ে আসেন। রাতভর ফুর্তি করে সকাল হওয়ার আগে বাসায় ফিরে যান। পরে এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মামলা করেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রমনা বিভাগের পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেয়া হয় না। অনুমতি নেয়া হলেও বলা হয় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু পরে মদ-বিয়ারের জমজমাট আসর বসানো হয়। শতাধিক মেয়ে এসব অবৈধ বার ও পার্টি সেন্টারে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দেয়। সংক্ষিপ্ত পাশ্চাত্য পোশাক পরা এসব তরুণী নিজেরাও হাই সোসাইটি কলগার্ল হিসাবে কাজ করে। গত ২৯শে জুলাই আরেকটি অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬,৪৭২ ক্যান বিয়ার ও ১,৭০০ বোতল বিদেশী মদ। গুলশান ২-এর ১১৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে কোরিয়ান ক্লাবের নামে নিয়মিত মদ-বিয়ারের অবৈধ আসর বসছিল।
এ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিং জং সু-কে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় সু’র বাংলাদেশী সহযোগী আবদুর রহিম ওরফে রহমানকে। যৌথভাবে অভিযানটি চালায় র‌্যাব-১ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীন ভূঁইয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীন বলেন, কোরিয়ান ক্লাবের আড়ালে এখানে নিয়মিত মদের আসর বসছিল। কিন্তু তাদের কোন অনুমোদন ছিল না। তিনি বলেন, ক্লাবটিতে নানা রকম অনুষ্ঠানের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল। ওদিকে র‌্যাব ১-এর একটি সূত্র জানিয়েছে গুলশান, বনানী এলাকায় অবৈধ মদ-বিয়ারের আসরের পেছনে রাজনীতিবিদ, এমপি ও মন্ত্রীদের হাত রয়েছে। এ ছাড়া এসব হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ঘনিষ্ঠরাও এসবের আয়োজন করছে। ফলে চাইলেই এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তোহুর আহমদ – মানবজমিন

তাহিরপুরে এক তরুণী পুরুষে রূপান্তরিত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ১৬ বছরের তরুণী বেবী আক্তার পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত মোক্তার আলীর মেয়ে বেবী আক্তার শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বেবীর মা আনোয়ারা বেগম জানান, পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই বেবীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত সোমবার রাতে পুরুষে রূপান্তর হওয়ার ঘটনাটি সে পরিবারের লোকদের জানায়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাহিরপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন তাকে এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় জমায়। এই উত্সুক মানুষকে সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে তার পরিবার। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম বলেন, বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে কথাবার্তা বলে ও দেহের গঠন আকৃতি দেখে বেবী আক্তারকে একজন পরিপূর্ণ পুরুষ মনে হয়েছে। তাহিরপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি লোক মুখে শুনেছেন; কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কেউ তার কাছে আসেনি। বিষয়টি উচ্চতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


ইত্তেফাক

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুন্সীগঞ্জে হোটেলে অসামাজিকতায় লিপ্ত ৫ নারীসহ গ্রেফতার ১০


মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে : মুন্সীগঞ্জ শহরের ইসলাম মার্কেটের থ্রি স্টার হোটেলে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অসামাজিকতায় লিপ্ত থাকা অবস্থায় পাঁচ নারী, চার পুরুষ এবং হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমানসহ (২৬) ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সদর থানার সেকেন্ড অফিসার সুলতান মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেল অসামাজিক কর্যকলাপ চলছিল। এই হোটেলের মালিক পিকলুসের নেতৃত্বে অনেক চক্র মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীদের বিপথগামী করে তুলছে। আটককৃতরে মধ্যে একজন মাদ্রাসা ছাত্রী এবং একজন স্কুল ছাত্রী রয়েছে। এব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে – ডালিম (২৬), সজিব (২৯), অপু (১৯), হানিফ (২০) এবং ময়না (৩২), টুম্পা (১৮), সুর্বণা রানী (৩৫), নাসিমা আক্তার (২৮), সুইটি আক্তার (২৬) ও হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমান (২৬)।



মুন্সিগঞ্জ নিউজ


—————
মুন্সীগঞ্জে হোটেল থেকে গৃহবধু ও কলেজ ছাত্রীসহ ১০ জন গ্রেফতার
কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ থেকে : অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহরস্থ থ্রি স্টার হোটেল থেকে কলেজ ছাত্রী ও গৃহবধুসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজারও রয়েছে। পরে তাদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
গোপন সংবাদে খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় থ্রি স্টার হোটেলে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় অপু মিয়া, আবু হানিফ, মো. ডালিম, সজিব খান, সুর্বনা মন্ডল, ময়না বেগম, টুম্পা বেগম, সুইটি আক্তার, নাছিমা আক্তার এবং হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মহিলাদের মধ্যে গৃহবধু ও কলেজ ছাত্রী রয়েছে। তাদের বাড়ি সদর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। স্থাণীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলটিতে অপকর্ম চলছিল।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

 গরম পানিতে ঝলসে দেওয়া হলো গৃহবধূর শরীর

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালেহা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে ওই গৃহবধূর শরীর ঝলসে যায়। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের নতুনচর চাষী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের হযরত আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী আবদুল আজিজের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে সকাল ১০টার দিকে আজিজ মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগমকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান হযরত আলীর ছেলে বাবুল ও স্ত্রী পিয়ারা বেগম। তাঁরা সালেহাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বাবুল পিঠা তৈরির জন্য রান্নাঘরে গরম করে রাখা পানি সালেহার শরীরে ঢেলে দেন। পরে এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকি ৎ সক খন্দকার আরশাদ কবীর বলেন, সালেহার হাত ও পা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons