Medical-Treatment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Medical-Treatment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

চক্ষু বিভাগে চর্ম চিকিৎসক

চর্মরোগের চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছে চোখের চিকিৎসা দিতে। আর এ কাজে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন প্যাথলজির অন্য চিকিৎসক। ঘটনাটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন ঘটনার নজির তাঁদের মনে পড়ে না।
হাসপাতালের পরিচালক শহীদুল হক মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, চক্ষু বিভাগে অন্য বিভাগের চিকিৎসক থাকায় আবাসিক সার্জনের ওপর চাপ পড়ছে। সাধারণ সমস্যা নিয়ে যাঁরা আসেন, তাঁদের বেলায় অন্য বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তারা সেবা দিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে বিশেষায়িত জ্ঞান থাকা দরকার। বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানিয়েছেন।
চক্ষু বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, গড়ে প্রতিদিন ১৫০ জন রোগী চক্ষু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, এক বিভাগের চিকিৎসক কিছুতেই অন্য বিভাগে কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকায় থাকার জন্য অনেকে এ রকম ফন্দিফিকির খোঁজেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৪ জুলাইয়ের জারি করা একটি বদলির আদেশে জানায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অনুভা চন্দকে (চর্মরোগ ও যৌনরোগ বিষয়ে এফসিপিএস, প্রথম পর্ব পাস) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বহির্বিভাগে মণিকা খন্দকারের জায়গায় বদলি করা হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চক্ষু বহির্বিভাগে চিকিৎসা কর্মকর্তার দুটি পদের একটিতে প্রায় দেড় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন প্যাথলজির চিকিৎসক মো. বশির। অন্য পদে চার-পাঁচ মাস ধরে কাজ করছিলেন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক মণিকা খন্দকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চক্ষু বিভাগে অন্য বিভাগের চিকিৎসকদের বদলি করা নিয়ে বহু দিন ধরেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে আসছিলাম। এত দিন পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের কথা শুনেছে। স্ত্রীরোগের চিকিৎসককে সরিয়ে চর্ম ও যৌনরোগের চিকিৎসক পাঠিয়েছে।’
চক্ষু বহির্বিভাগের অপর চিকিৎসা কর্মকর্তা প্যাথলজির চিকিৎসক মো. বশির বলেন, চক্ষু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। তবে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
প্রথম আলো

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১

ক্যানসারের চিকিৎসার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রতারণা

ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করার দাবি তাঁর। এ রোগের চিকিৎসাও দেন তিনি। সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত কোনো রোগীকে সুস্থ করতে পারেননি। রোগীপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে।
এই অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাইজিদ আলম শিবিবের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে প্রতারিত একটি পরিবার। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে প্রতারণার আরও ঘটনা পাওয়া গেছে।
বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, শিবিবের দাবি যে তিনি আধ্যাত্মিকভাবে ক্যানসারের চিকিৎসা করেন। তিনি পীর বংশের সন্তান। তাঁর মৃত চাচা স্বপ্নে এ চিকিৎসা শিখিয়েছেন।
শিবিবের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়। ১৯৯০ সালে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ছয় বছর আগে নিজেকে ক্যানসারের প্রথম চিকিৎসক বলে দাবি করতে থাকেন। একটি পত্রিকা এ বিষয়ে তাঁর সাক্ষাৎকারও ছাপে।
শিবিব প্রথম আলোকে জানান, ২০০৫ সালে ইঁদুরের ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালিয়েছিলেন, মানুষের ওপর কোনো পরীক্ষা করেননি। তিনি প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চিকিৎসা নিয়েছেন, এমন পাঁচটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবিব চিকিৎসা শুরু করেন। দাবি করেন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। অর্থ লেনদেনের কাগজ রোগীপক্ষকে দেন না। বলেন, চিকিৎসার সময় রোগীর স্বজন উপস্থিত থাকতে পারবে না। এসব শর্তে রাজি হলে আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে রোগীর চোখ বাঁধেন। নিজের আবিষ্কৃত ওষুধ খাওয়ান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় সহজেই শিবিবের কথায় অনেকে বিশ্বাস করেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী জান্নাতুল কৌশরী জানান, তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৮ সালে তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। ভারতে এবং ঢাকায় শুরু হয় চিকিৎসা। একদিন অগ্রণী ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তা শিবিবের চিকিৎসার বিষয়ে জানান। দেখা করলে শিবিব বলেন, এক মাসের মধ্যে সুস্থ করে দেবেন। নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা চান তিনি।
কৌশরী বলেন, ‘এত টাকা শুনে আমরা প্রথমে রাজি হইনি। শিবিব বারবার বলতে থাকেন, সুস্থ না হলে টাকা ফেরত দেবেন।’ ২০০৮ সালের ২৮ মে থেকে শুরু হয় চিকিৎসা।
এক মাস পর শিবিব বলেন, ক্যানসার জটিল হয়েছে। আরও এক মাস ওষুধ খাওয়াতে হবে। চান আরও সাড়ে সাত লাখ টাকা। কৌশরী বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা জমি বিক্রি করে, ব্যাংকের কাছে বাড়ি বন্ধক রেখে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা দিই। দুই মাস চিকিৎসার পর শিবিব দাবি করেন, রোগী সুস্থ হয়ে গেছে।’ কিন্তু ল্যাবএইড ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, ক্যানসার আছেই। শিবিব বলেন, ওসব পরীক্ষা ভুল। তিনি ১৫ দিন চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা চান। এভাবে রোগীপক্ষ ১৮ লাখ টাকা দিয়েছে শিবিবকে। শিবিব চিকিৎসা ও পরীক্ষার সব কাগজ নিজের কাছে রেখে দেন।
কৌশরী জানান, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হলে কাগজপত্র আনতে শিবিবের কাছে যান। কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে তিনি আবারও চিকিৎসা দিতে চান এবং বাড়তি টাকা চান। ‘একরকম বাধ্য হই আমরা,’ বলেন কৌশরী। ১৬ ফেব্রুয়ারি শিবিব ওই রোগীকে ইনজেকশন ও কিছু ওষুধ দেন। রোগীর পেট ফুলে যায়। শিবিব বেলের শরবত, স্যালাইন ও ইসবগুলের ভুসি খাওয়াতে বলেন। অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি কৌশরীর বাবা মারা যান। পুরো ঘটনা তিনি লিখিতভাবে উপাচার্যকে জানিয়েছেন।
কৌশরীর মতোই প্রতারণার শিকার বরিশাল বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী উম্মে মমতা বিল্লাহ। মমতা প্রথম আলোকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মাধ্যমে জানতে পেরে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ বাবার চিকিৎসার জন্য শিবিবের কাছে যান। সাত লাখ টাকা দাবি করে শিবিব বলেন, এক মাসে রোগী সুস্থ হবে। চোখ বেঁধে ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন। নির্ধারিত সময় মমতার বাবা সুস্থ না হলে শিবিব বাড়তি টাকা দাবি করেন। এভাবে ১১ লাখ টাকা নেন। মাস দুয়েক পরই মমতার বাবা মারা যান। মমতা বলেন, ‘আমি এই প্রতারকের বিচার চাই।’
সহকর্মী জেবা ইসলাম মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসা করান শিবিবের কাছে। চিকিৎসা নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মারা যান জেবার মা। জেবা প্রথম আলোকে জানান, চায়ের মতো একধরনের তরল পানীয় রোগীকে খাওয়াতেন শিবিব। নিজের বাসায় সম্পূর্ণ পৃথক একটি কক্ষে শিবিব এই তরল পানীয়ের মিশ্রণ তৈরি করতেন। ওষুধ খাওয়ানোর সময় শিবিবের শরীর থেকে ঘাম ঝরতে দেখা গেছে।
ঢাকা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আফরোজা সুলতানার স্বামী মো. নূর ইসলাম ছিলেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব। ২০০৮ সালের অক্টোবরে নূর ইসলামের ক্যানসার ধরা পড়ে। ভারত এবং দেশের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শিবিবের কাছে যান তিনি।
আফরোজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন লাখ টাকা নিয়ে এক মাস ওষুধ খাওয়াবেন, এমন কথা বলে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু ১০ দিন পরই তিনি অতিরিক্ত টাকা চাওয়া শুরু করেন। ২০ দিনের মধ্যে সাত লাখ টাকা নেন। অবস্থার উন্নতি হওয়ার বদলে আমার স্বামী মারা গেছেন।’ আফরোজা বলেন, তিনিও প্রতারণার বিচার চান।
ক্যানসারের চিকিৎসার নামে প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে শিবিব সব ঘটনা অস্বীকার করেছেন। প্রত্যেক রোগীর নাম ধরে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কারও চিকিৎসা করিনি। এ ছাড়া আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, এমন দলিলও কেউ দেখাতে পারবে না।’ এমনকি বিভাগের সহকর্মী জেবা ইসলামের মায়ের চিকিৎসাও করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
আনোয়ার হোসেনও নিকটাত্মীয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন শিবিবকে দিয়ে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিবিবের চিকিৎসায় কেউ ভালো হয়েছেন, এমন শুনিনি।’
যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।
আহমেদ জায়িফ
Prothom-alo.com

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১১

সাড়ে ৫ হাজার নারী-পুরুষের সঙ্গে যৌন মিলন করেছে এক জুটি

পরপুরুষ কিংবা পরনারীর সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার রগরগে কাহিনি নিয়ে ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোকে সরব হতে দেখা যায়৷

 
তবে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই যখন জেনেশুনে দিনের পর দিন অন্যের সঙ্গে যৌনমিলন করেন এবং নিজেদেরকে ‘সুখি জুটি' বলে পরিচয় দেন, তখন সে সংবাদ নিশ্চয়ই অনেক বেশি চাঞ্চল্যকর৷ 
লন্ডনের স্যারা মুর এবং জেফ ড্যানিয়েল তাই সংবাদ শিরনামে৷ ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সান জানিয়েছে, ২০ বছর ধরে চলছে অবিবাহিত এই জুটির সংসার৷ দু'জন এই সময়ের মধ্যে নাকি ৫ হাজার ৪৮৫ জন নারী ও পুরুষের সঙ্গে বিছানায় গিয়েছে৷
আদতে এই দুজনই পেশায় সেক্স থেরাপিস্ট৷ নিয়ম অনুসারে এ নিয়ে যদি কেউ কোন সমস্যায় পড়েন তাহলে তারা এই থেরাপিস্টদের কাছে আসবে, তারা পরামর্শ দেবে৷ প্রয়োজনে ‘কী করিলে কী হয়' জাতীয় কথাবার্তা জানাবেন৷ কিন্তু স্যারা মুর এবং ড্যানিয়েল ভিন্ন কাজ করেন৷ তারা একটু ‘বিশেষ' বলে চিকিৎসকরা তাদের কাছে রোগীদের পাঠান৷ এবং বেশিরভাই সময় ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিছানায় যেতে হয় তাদের৷‘থেরাপি’র খাতিরেই এমন অভিনব উদ্যোগ‘থেরাপি’র খাতিরেই এমন অভিনব উদ্যোগ
স্যারা মুর ১৯ বছরে ৩ হাজার ৩২৩ জন পুরুষের সঙ্গে বিছানায় গিয়েছেন৷ আর এদের মধ্যে ৫২ জন ছিল কৌমার্য হারায়নি এমন পুরুষ৷ আর স্যারার দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড ড্যানিয়েল, যার বয়স ৪০, তিনি বিছানায় গিয়েছেন ২ হাজার ১৬২ জন নারীর সঙ্গে৷ আর তিনি ৪৯ জন নারীর কৌমার্য ভাঙাতে সহায়তা করেছেন৷ স্যারা মুর বললেন, ‘বিষয়টিকে আমরা কেবল সাহায্য বলেই মনে করছি৷ এটাকে কোনভাবেই গণিকা পেশা বলে মনে করি না আমরা৷ তিনি বলেন, সমস্যায় পড়া মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে চিকিৎসকদের পরামর্শে৷ এ থেকে আমাদের রোজগারও বেশ৷ আমাদের সঙ্গে মিলনের পর স্বভাতই সেই পুরুষ কিংবা মহিলা যৌনভীতি থেকে মুক্তি পান৷' 
১৫ বছর বয়সে নিজের কুমারীত্ব হারান মুর৷ ২০ বছর বয়সে তার পরিচয় হয় ড্যানিয়েলের সঙ্গে৷ সেই থেকে তারা একসঙ্গে আছেন৷ আর তখন থেকেই তারা এই পেশাতেই রয়েছেন৷
প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক
 

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

চলছে উত্তেজক ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে যুবসমাজ

undefined

'ভয়ংকর নেশা' উত্তেজক ওষুধে ঝুঁকছে যুবসমাজ। গোপনে চলছে আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধ উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন-বাণিজ্য। চোরাপথে দেশের বাজারে আসছে এসব ওষুধ। বিক্রি হচ্ছে অনেকটা প্রকাশ্যেই। বিক্রেতারা এসব ওষুধকে 'পাওয়ার' বলে অভিহিত করছেন। এসব পাওয়ারের মধ্যে 'ইয়াবা' নিয়ে দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও অন্যান্য ওষুধ নিয়ে নেই তৎপরতা। এসব ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু অভিযান চালালেও মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 'যৌন উত্তেজক' বলে প্রচার করা অনুমোদনহীন দেশীয় ওষুধের বাজারও বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্য ও মাদকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওষুধ এক ধরনের মাদক। আসক্তি বাড়ানো ওষুধগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা ও সারা দেশের খুচরা ওষুধ বিক্রেতারা রাজধানীর মিটফোর্ড, বাবুবাজার ও চানখাঁরপুল থেকে দেশি-বিদেশি উত্তেজক ওষুধ কিনে এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করছেন। খুচরা বিক্রেতারা এসব ওষুধকে পাওয়ার বলে ডাকেন। অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে তাঁরা পাওয়ারও নিয়ে নেন প্রয়োজনমতো। শাহবাগ, মতিঝিল, ধানমণ্ডি, মিরপুর রোড, শেরে বাংলানগরসহ সবখানেই পাওয়ার খুচরা বিক্রি হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মিটফোর্ডের কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানান, সরদার মার্কেটকে বলা হয় ইন্ডিয়ান মার্কেট। এ মার্কেটের নিচতলার দোকানগুলোতেই পাওয়ার ওষুধ বেশি বিকিকিনি হয়। এ ছাড়া হাবিব মার্কেটসহ সব মার্কেটে এখন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হয়। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ওষুধের দোকানেই বিক্রি বেশি। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর যুবক-যুবতীরা এসব ওষুধ খাচ্ছে। কিছু উত্তেজক ওষুধ খেলে চেহারার লাবণ্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ কারণে শখ করে খায় অনেকে। উত্তেজনার পাশাপাশি নেশার কারণে ইয়াবা বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া আইসপিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, ইন্টাগ্রা, কেজি প্লাসসহ বিভিন্ন ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েছে যুবসমাজ। এক শ্রেণীর অপচিকৎসায় এ ধরনের ওষুধের মাধ্যমে যৌন দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সব কথিত চিকিৎসক এ ধরনের ওষুধ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেটেও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিক্রেতারা জানান, ভারতের তৈরি 'ইন্টাগ্রা' ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আমেরিকার ভায়াগ্রার প্রতি ট্যাবলেটের মূল্য ৭৫০ টাকা। ভারতের সেনেগ্রা ও কামাগ্রা প্রতি ট্যাবলেট ৫০ থেকে ৭০ টাকা। সেনেগ্রা, টেনেগ্রা, ফরজেস্ট, ক্যাবেটরা, টার্গেট ও ইডেগ্রা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। অধিকাংশ ওষুধের গায়ে মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ লেখা থাকে না। আমেরিকার টাইটানিক এক বোতলের দাম চার হাজার টাকা। খুচরা ট্যাবলেট ৪০০ টাকা। টাইটানিকে ইয়াবার মতো উত্তেজনার পাশাপাশি নেশা হয়। তাই ইয়াবার ক্রেতারা কেউ কেউ টাইটানিক সেবন করছেন। কম দামে পাওয়া যাচ্ছে চীনের জিয়ংবার। একটি ট্যাবলেটের দাম ৭০ টাকা। কেজি প্লাস (ইউএসএ) কৌটা ৫০০ টাকা। জে হরমালিন ৭৫০ টাকা। কস্তুরি গোল্ড ৫২০ টাকা। পাকিস্তানি ফরজেস্ট-২০-এর মূল্য ৩৫০ টাকা। জিনসিন প্লাস ৯০০ টাকার বঙ্ েবিক্রি হয়। পাওয়া যাচ্ছে দেশে তৈরি উত্তেজক ওষুধও। বিভিন্ন কম্পানির নিশাত, নিশাত সিলভার, লিভিজ্ঞা, এনডিউরেঙ্, লিপিডেঙ্, ডিউরেঙ্, বাইটোলেঙ্, ফ্রুডেঙ্ ও চায়না গোল্ড নামের ওষুধগুলো বিক্রি হচ্ছে দেদার।
মাদকের তালিকায় নেই : ইয়াবা, আইসপিলসহ সব ধরনের পাওয়ার বা উত্তেজক ওষুধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকের তালিকায় নেই। ফলে ক্ষতিকর ওষুধগুলো থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ঢাকা মেট্রোপলিটন উপ-অঞ্চল) মজিবুর রহমান পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ইয়াবায় ব্যবহৃত হয় কাঁচামাল মিথাইল অ্যামফিটামিন ও অ্যামফিটামিন। এই অ্যামফিটামিনকেই আলাদা করে আইসপিল বলে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া অন্য উত্তেজক ওষুধগুলোয়ও এ রকম মাদকের উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। তবে ওই সব ওষুধ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরীক্ষা করে দেখেছে কি না তা জানাতে পারেননি তিনি।
ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের জন্য : উত্তেজক ওষুধে আসক্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে কৌতূহলেই খাওয়া শুরু করেন তাঁরা। ভালো লাগা থেকে এখন আসক্তি ও নেশা। কেউ কেউ বিশেষ শারীরিক ক্ষমতা বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেন। পরে ওষুধ না খেলে তাঁরা স্বস্তি পান না। তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলেন, উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ধরনের উত্তেজক ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম এন হুদা জানান, পুরুষ-মহিলাদের মধ্যে ২ থেকে ৫ শতাংশের দুর্বলতা থাকতে পারে। ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মানসিক সমস্যা। সে জন্য বিভ্রান্ত হয়ে উত্তেজক ওষুধ খায় অনেকে। এসব ওষুধ হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
আসছে যেভাবে : অনুসন্ধানে জানা যায়, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধ দেশে আসছে। বিমানবন্দরে প্রায়ই ধরা পড়ে এ ধরনের বড় চালান। অভিযোগ আছে, পাচারকারীদের সঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশনসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত আছেন। তাই মূল হোতারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ জুলাই হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন লাগেজ আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধ আটক করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তবে লাগেজ বহনকারী সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিক পালিয়ে যায়। ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর কাস্টমস প্রায় সোয়া কোটি টাকার আমদানি-নিষিদ্ধ উত্তেজক ওষুধ আটক করে। তবে রহস্যজনকভাবে ওষুধ পাচারকারী চক্রের কাউকেই আটক করতে পারেনি কাস্টমস। চারটি লাগেজে তল্লাশি চালিয়ে পাকিস্তানে তৈরি ২৩ ধরনের উত্তেজক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও ইনজেকশন জব্দ করা হয়। সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে কার্গো ভিলেজে পড়ে থাকা পাঁচটি বড় কার্টন কাস্টমস কর্মকর্তারা গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে খুলে দেখেন কয়েক হাজার পিস উত্তেজক ওষুধ। এ চালান আনা হয় ভুয়া একটি গার্মেন্টের নামে। এর সঙ্গে জড়িত সিদ্দিক নামের এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, কঙ্বাজার, উখিয়া, টেকনাফ এবং উত্তরাঞ্চলের ভারতের সীমান্ত হয়ে ইয়াবার সঙ্গে উত্তেজক ওষুধের চালান আসছে দেশে। গত ২১ মে চাঁদপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ভারতে তৈরি আট হাজার উত্তেজক ট্যাবলেটসহ রফিক খন্দকার ও শাহাদাত হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুমিল্লা সীমান্ত থেকে এসব উত্তেজক ট্যাবলেট কিনে বিক্রির জন্য চাঁদপুরের লঞ্চঘাট হয়ে রফিক ও শাহাদাত নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল।
কার্যকর অভিযান নেই : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক হিসেবে নয়, আমদানি ও বিপণন-নিষিদ্ধ ওষুধ হিসেবেই উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পুলিশ ও র‌্যাবের কিছু বড় অভিযান চললেও পরে তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। পরে ইয়াবার বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অভিযান চালানো হচ্ছে, এর তুলনায় অন্য ওষুধের ক্ষেত্রে অভিযান খুবই কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওষুধ প্রশাসন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎপরতার অভাবে নিয়মিত অভিযান নেই।
র‌্যাবের গণমাধ্যম ও আইন বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ইয়াবার পাশাপাশি উত্তেজক ওষুধও আটক করছে র‌্যাব। ২০১০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে পাঁচ হাজার ৯২ পিস আইসপিল উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ভায়াগ্রা আটক করেছে ১৫ হাজার ১৫২ পিস। নিষিদ্ধ আরো বিভিন্ন ধরনের উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার পিস।
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোথায়, কিভাবে এসব ওষুধ বিক্রি হয় তা খতিয়ে দেখার জন্য আলাদা প্রশাসন কাজ করছে। তবে ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এসব ওষুধ ভেজাল বা অনুমোদনহীন বলেই এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যায়।'
ওষুধ প্রশাসনের তৎপরতা নেই : মিটফোর্ডের ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল কাসেম জানান, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অভিযানের অভাবেই এসব ওষুধ বিক্রি হয়। ডাক্তাররা এসব ওষুধ নিতে ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন, তাই অনেকে দোকানে নিষিদ্ধ উত্তেজক ওষুধ রাখেন। এমন বক্তব্য আরো অনেক ব্যবসায়ীর। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিদেশি আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধের আদলে এখন দেশি কম্পানি উত্তেজক ওষুধ বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে। ওষুধ প্রশাসন ওই সব ওষুধের অনুমোদনও দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কিছু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করেন। তাঁরা প্রভাবশালী। প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করেই মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় নীতিমালা অমান্য করে ওষুধ বিক্রি হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসন ভূমিকা না রাখলে আমাদের কিছু করার থাকে না।' তবে ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবল সংকটের কারণে এসব ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে মাত্র ২৮ জন কর্মকর্তা আছেন ওষুধ প্রশাসনের। তাই মনিটরিং করাও দুষ্কর।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, উত্তেজক ওষুধ হিসেবে যেসব ওষুধ বাজারে বিক্রি হয় তা ভেজাল এবং অনুমোদনহীন। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেরা তৈরি করে বিদেশি সিল লাগিয়ে দিচ্ছেন। দেশি কোনো কম্পানিকেও এ জাতীয় ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ক্ষতিকর সব উপাদান আছে। তিনি আরো বলেন, ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ এবং লোকবল বাড়ানো হলে অভিযান জোরদার করা হবে। কালের কন্ঠ

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১১

ইতিহাস গড়ছেন মা-মেয়ে

জরায়ু প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা
নিজের দেহ থেকে মেয়ের দেহে জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছেন ব্রিটেনের ইভা ওটোসন (৫৬)।
পরিকল্পনাধীন এ অস্ত্রোপচারটি সফল হলে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা পেতে পারেন ওটোসনের মেয়ে সারা (২৫)। আর তা সত্যি হলে যে জরায়ুতে সারার নিজের জন্ম হয়েছে, তা থেকেই আবার নিজের সন্তান জন্ম দিবেন তিনি।

সারা এমআরকেএইচ সিনড্রোম নামের একটি উপসর্গে ভুগছেন। জন্মগতভাবেই তাঁর দেহে গর্ভাশয় ও যোনিপথের কয়েকটি অংশ অনুপস্থিত। গড়ে পাঁচ হাজার মানুষের মধ্যে একজনের এ সমস্যা থাকে। এর কারণ বিশেষজ্ঞদের কাছে এখনো অজানা। কৈশোরে পেঁৗছার পর যখন সারার ঋতুস্রাব শুরু হচ্ছিল না, তখনই সমস্যাটি ধরা পড়ে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নতুন একটি গবেষণায় সারার দেহে জরায়ু প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় অংশ নিতে রাজি হয়েছেন সারার মা ইভা। সুইডেনের গোথেনবার্গের একদল চিকিৎসক আগামী বসন্তে এ অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেছেন। প্রতিস্থাপনটি সফল হলে সারা হয়তো বাচ্চা জন্ম দিতে পারবেন।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

২০ বছর পর অবশেষে নারী!


নিজের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে অতৃপ্তিতে ভোগে এমন মানুষ কি আছে? একজন পুরুষ হাসিমুখে নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দেয়, একজন নারীও নিজেকে নারী বলতে কুণ্ঠাবোধ করে না। পুরুষ নিজের পৌরুষে উদ্দীপ্ত আর নারী স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। কেউই নিজের লৈঙ্গিক পরিচয়ে বিব্রত বা বিষণ্ন হয়ে নিয়তিকে দোষারোপ করে না।
তবে ইংল্যান্ডের অ্যাডেলে মার্কহ্যামের বেলায় ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। অ্যাডেলের বয়স এখন ৩১। সুন্দর, সুগঠিত শরীরের পূর্ণাঙ্গ যুবতী। শিগগিরই বিয়েশাদী করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন তার চোখে। কিন্তু গত ২৮ বছর ধরে অ্যাডেলে পরিচিত হয়ে এসেছেন ম্যাথু মার্কহ্যাম হিসেবে। একজন টগবগে যুবক হিসেবে সবাই চিনত তাকে। কিন্তু ওই যুবক ম্যাথুই এখন তন্বী-তরুণী। একটা জটিল অপারেশন তার আসল লৈঙ্গিক পরিচয় উদ্ঘাটন করে দিয়েছে। আর তিনি যে পুরুষ নন, এটা তার বাবা-মার বুঝতে সময় লেগেছে কমপক্ষে ২০ বছর!

সতীত্ব মেরামতের রমরমা ব্যবসা

আরবের অবিবাহিত তরুণীদের কাছে কুমারীত্ব বড়ই গুরুতর বিষয়। বিয়ের আগে প্রেমে পড়েই হোক, আর ঘটনাচক্রের হোক কোনো পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলনের কথা জানাজানি হলে কেবল সামাজিক লাঞ্ছনাই নয়, খুন হওয়াটাও তাদের কাছে বিচিত্র কিছু নয়। এ কারণেই বিয়ের আগে সতীত্ব যারা হারিয়েছে, তারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটা আবার ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। যাতে বাসর রাতে স্বামী বুঝতে পারে নববধূ সত্যিই কুমারী।

বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই আজকাল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়েদের সতীত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তার জন্য খরচ পড়ে এক হাজার ৭০০ পাউন্ড (২ হাজার ইউরো)। তবে আরব তরুণীদের ওই অস্ত্রোপচারের জন্য ক্লিনিক দুবাই কিংবা কায়রোসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নগরীতে নেই। সেজন্য তাদের যেতে হয় প্যারিসে। যেমন ডা. মার্ক আবেকাসিস নামের এক চিকিৎসকের একটি ক্লিনিক আছে, যেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়েদের সতীত্ব ফিরিয়ে আনা হয়। ওই চিকিৎসক সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মেয়েদের যে অস্ত্রোপচার করে থাকেন, তাকে বলা হয় ‘হিমেনোপ্লাস্টি’। সোজা কথায় সতীচ্ছদ পুনঃস্থাপন। লোকাল অ্যানেসথেশিয়ার সাহায্যে সতীচ্ছদের টিস্যু স্থাপনের ওই কাজ সারতে সময় লাগে বড় জোর ৩০ মিনিট। ডা. আবেকাসিস জানান, ঐতিহ্যগত ও পারিবারিক দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা করেই মেয়েরা তাদের কাছে আসে। তাদের ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা বিচার করা চিকিৎসকের কাজ নয় বলে তিনি জানান।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons