ঘৃনীত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঘৃনীত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

পর্নো ভিডিও ধারণ করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল!

যৌতুক আদায়ের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের বহু উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর পর্নো ভিডিও ধারণ করে যৌতুক আদায়ের চেষ্টার কথা খুব একটা শোনা যায়নি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্ত্রী নির্যাতনের এ কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করে ফেঁসে গেছেন যৌতুকলোভী এক স্বামী।
নির্যাতিত ওই নারী গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর একটি থানায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বায়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি দাবি করেন। অন্যথায়, ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর ওই নারীর (২০) সঙ্গে মোহাম্মদ বায়াসের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি যৌতুক নেন বায়াস। বেকার বায়াস পরে ওই গয়নাগুলো বিক্রি করে দেন। কিছুদিন আগে ওই তরুণী মাথা ব্যথার কথা বললে স্বামী বায়াস তাঁকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর তিনি অচেতন হলে বায়াস তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এ সময় তাঁর ভিডিওচিত্র ধারণ করেন বায়াস।
মামলার এজাহার থেকে আরও জানা যায়, আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণের পর থেকেই তাঁর স্বামী তাঁকে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অন্যথায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু ওই তরুণী যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বায়াস তাঁকে ঘরে আটকে রাখতেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে ভাইয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়েও বায়াস যৌতুক দাবি করেন।
এ ব্যাপারে রামান্নাথাপুরাম থানা পুলিশের পরিদর্শক মুনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছি।’ প্রথম আলো

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১২

পঞ্চম শ্রেণীর শিশু অন্তঃসত্ত্বা, অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে


ঝালকাঠীতে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে।

নলছিটি উপজেলার হয়বাতপুর গ্রামের ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার রনজিৎ নট্ট (৬৩) শিশুটির প্রতিবেশী। উপজেলার পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি।

শিশুটির মা শুক্রবার রাতে নলছিটি থানায় মামলা করলে রনজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

শিশুটি কয়েকদিন আগে পেটে ব্যথার কথা জানালে তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর দেখা যায়, সে সন্তানসম্ভবা।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আওছাফুল ইসলাম রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটি পেটে ব্যথা নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি ভর্তি হয়। ১২ জানুয়ারি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে দেখা যায়, সে ১৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

শিশুটি হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছে, “অনেক দিন আগে পাশের ঘরের রনজিত স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে খারাপ (ধর্ষণ) কাজ করে, তখন স্যারের ঘরে কেউ ছিল না।”

ধর্ষণের পর গলায় দা ঠেকিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে রনজিৎ হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ করে সে।

তবে রনজিৎ ধর্ষণের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মেয়েটির পরিবার তার কাছ থেকে জমি কিনে বসবাস করে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার আরো সম্পত্তি দখলের জন্য মেয়েকে দিয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

রনজিতের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির মায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ভাবীকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে জুয়েল

সাতক্ষীরা শহরের দুর্ধর্ষ নারীখাদক সদ্যবিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ জুয়েল হাসানের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তারই আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী (৩০)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার গৃহবধূ। ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এই গুণধর ছাত্রনেতা। এ ঘটনায় ভাবী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর গ্রামের শেখ জুয়েল হাসানের বড় ভাই বিগত ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নারী খাদক জুয়েল হাসান সকাল ১০টার দিকে বড় ভাবীর ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ভাবী তার ইজ্জত রক্ষার জন্য তার কাছে মিনতি করে বার বার। কিন্তু এতে তার মন গলেনি। এক পর্যায়ে তার ভাবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারপিট করে জখম করেন। ভাবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই জুয়েল হাসান পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভাবী বাদী হয়ে দেবর ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসানকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(৪)(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৪, তাং ২২.১০.১০ ইং। এ মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই কামাল হোসেন রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ প্রচেষ্টার মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন। এই ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায়।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

কুকুরকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১০ বছর জেল

মানবজমিন ডেস্ক: কুকুরকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে আহত করার অপরাধে এক মার্কিনিকে ১০ বছরের কারদণ্ড দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট এডওয়ার্ড ডি শিল্ড গত মার্চে আট মাস বয়সী কুকুর চিহুআহুয়াকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে কুকুরটির মালিক তাকে ওই বাড়ির গ্যারেজ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কুকুরটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কুকুরটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে বাঁচিয়ে তোলা হলেও তার মালিক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শিল্ডকে গত সপ্তাহে এই কারাভোগের শাস্তি দেয়া হয়। সে সঙ্গে তাকে আজীবন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে তাকে সব সময় ইলেকট্রনিক শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি স্কুল এবং যেসব জায়গায় শিশুরা জমায়েত হয় সেসব স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। mzamin.com

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

বৃটেনে এক চতুর্থাংশ মেয়ে অপরিনত বয়সে যৌনকর্মে লিপ্ত

undefined
বৃটেনের এক চতুথাংশ মেয়েই অপরিণত বয়সে যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। শুক্রবার এক জরিপে প্রকাশিত এ ফলাফলে রক্ষণশীল বলে পরিচিত বৃটেন বেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশই স্বীকার করেছেন যে, সম্মতি দেয়ার মতো বয়সে পদার্পণ করার আগেই তারা যৌনতার স্বাদ নিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে তেমন কোন আক্ষেপ বা হতাশাও নেই। ১৬ বছরের এলিস ক্যাটলিং ১৫ বছর বয়সেই তার কুমারিত্ব হারিয়েছেন। এজন্য তার মোটেও কোন আক্ষেপ নেই। ১৫ বছর বয়সী বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস ডেট করার পরেই তারা সেঙ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। লিভারপুলের বাসিন্দা এলিস বলেছেন, সেঙ করার সিদ্ধান্তটি আমরা হঠাৎ করেই নেইনি। আমরা দুজনেই একে অপরকে ভালবাসতাম। তাই আমাদের দু’জনেরই এতে আগ্রহ ছিল। মা তখন বাড়িতে ছিল না। টেলিভিশনে ছবি দেখছিলাম। তখনই এ ঘটনা ঘটে। আমি কেবল মাকেই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এলিস বলেছে, আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই ১৩ বছর বয়সেই কুমারিত্ব হারিয়েছে। কিন্তু আমি মনের মতো এক মানুষের জন্যই অপেক্ষা করেছিলাম। এলিসের সঙ্গে তার বয়ফ্রেন্ডের সম্পর্ক এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে আক্ষেপ করে এলিস বলেছেন সম্পর্কটা টিকাতে পরলাম না। বিষয়টি লজ্জার। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে আমিও আর সেঙ করিনি। অথচ জরিপে অংশ নেয়া ৫৫ থেকে ৬৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মাত্র চার শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা ১৬ বছরে পদার্পণের আগে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এ জরিফের ফলাফলে প্রতীয়মান হচ্ছে, বৃটেনের অপরিণত মেয়ে ক্রমেই যৌনতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মেয়েদের মতো ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২২ শতাংশ ছেলেই যৌনতার স্বাদ নিয়েছে বলে জরিপে জানিয়েছে। এ জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে স্কুলে যৌন শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত বহন করছে। যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা  ইপিএ’র রেবেকা ফিন্ডলে বলেছেন, গত ৫০ বছরে সমাজে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন এসেছে। তরুণ-তরুণীদেরকে যৌনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষা এবং তথ্য সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। এসবই তাদেরকে পরিণত বয়স না হওয়ার আগে যৌনতা থেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে বৃটেনের ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডিয়ানে আবট বলেছেন, সংস্কৃতি পর্নোর ছাড়াছড়ি আর উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের মাঝে আবেদনময়ভাবে উপস্থাপনের প্রবণতার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এনএইচএস ইনফরমেশন সেন্টার পরিচালিত দ্য হেলথ সার্ভে ফর ইংল্যান্ড শীর্ষক জরিপে ৮৪২০ জন পূর্ণ বয়স্ক নারনারীকে তাদের যৌনাচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এতে আরও দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছরের তরুণদের মধ্যে এক দশমাংশ ১০ বা তার চেয়ে বেশি সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। আর সব বয়সীর মধ্যে একজন পুরুষ সাধারণ সারাজীবনে ৯.৩ জন নারীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। আর নারীদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা হচ্ছে ৪.৭ জন পুরুষ। 

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

মেয়েকে ধর্ষণের শাস্তি ২০৮০ ঘা বেত

সৌদি আরবে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক পাষাণ্ড পিতাকে ১৩ বছরের জেল ও ২০৮০ ঘা বেত মারার রায় দিয়েছে এক আদালত। সৌদি আরবের মক্কা নগরীর এক আদালত ওই সোদি নাগরিকের বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে নেশাগ্রস্ত করে গত ৭ বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করে।  স্থানীয় প্রভাবশালী ওকাজ পত্রিকা গত শনিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। সৌদি ধর্মীয় পুলিশ জানায়, মেয়ের চাচার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই অপরাধ উদঘাটন করেন।   মানব জমিন

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

গরু চুরির অভিযোগে এবার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর!

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গরু চুরির অভিযোগ তুলে এবার এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে দুই দফা মারধর করা হয়েছে। উপজেলার রাঙ্গাবালি ইউনিয়নে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূ এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকি ৎসাধীন রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম ফাতেমা বেগম (২৬)। তিনি রাঙ্গাবালি ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর গ্রামের মো. শহীদুল লাহারির স্ত্রী।
নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গাবালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গলাচিপা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমা বেগম তাঁর ভাই মো. সাইদুল ইসলামের কাছে ৩৫ হাজার টাকা পান। সাইদুল পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছে দুটি গরু বন্ধক রাখেন। ২১ নভেম্বর বিকেল চারটায় ফাতেমা ওই গরু নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
ওই সময় ছোটবাইশদিয়া ইউপির সদস্য মো. আনিসুজ্জামান চতলাখালী গ্রামের রাস্তায় ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে মারধর করেন। ২২ নভেম্বর দুপুরে ফাতেমাকে রাঙ্গাবালি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে বাহেরচর বাজারের চৌরাস্তায় ২২ নভেম্বর সালিস বৈঠক হয়। এতে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামানসহ ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গরু চুরির অপরাধে নজরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান, জাকির হোসেন এবং একজন গ্রামপুলিশ ফাতেমাকে মারধর করেন।
ফাতেমা অভিযোগ করেন, গরু চুরির সাজানো অভিযোগ এনে গত ২৩ নভেম্বর রাঙ্গাবালি থানায় সুজন দাসকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। পরদিন ওই মামলায় তাঁকে (ফাতেমা) গ্রেপ্তার দেখিয়ে গলাচিপায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে জামিন দিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকি ৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ফাতেমার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
ফাতেমাকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালির ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২২ নভেম্বর বিকেলে আনিসুজ্জামান ফাতেমাকে গরু চুরির অভিযোগে আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাঁকে রাঙ্গাবালি থানায় সোপর্দ করেছি।’
ইউপি সদস্য আনিসুজ্জামান দাবি করেন, কয়েকজন গ্রামবাসী ফাতেমাকে গরুসহ ধরে তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি গরু দুটি তাঁর জিম্মায় রেখে ফাতেমাকে ছেড়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙ্গাবালি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ফাতেমা ও তাঁর স্বামীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি কখনো খারাপ কিছু শোনেননি।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

যৌন ব্যবসার দায়ে অভিনেত্রী আটক

ভারতের সেই পুনেতেই যৌন ব্যবসা চালানোর দায়ে এক মারাঠি অভিনেত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম পদ্মজা বিশ্বনাথ বাপাত (৫২)। এ সময়ে আটক করা হয়েছে আরও ২ নারীকে। তাদের একজনের বয়স ২৮ বছর। অন্যজনের ৩০ বছর। অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রী পদ্মজা ৪ বছর ধরে এ ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি খদ্দেরদের কাছ থেকে ৪০০০ থেকে ৫০০০ রুপি পর্যন্ত ফি নিয়ে থাকেন। তাকে পুলিশের সামাজিক নিরাপত্তা সেল (এসএসসি)  কোন্ধওয়ার এনআইবিএম রোডের অরর্কিড প্যালেস থেকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, মারাঠি থিয়েটার অভিনেত্রী পদ্মজা কোন্ধওয়া এলাকায় এনআইবিএম রোডে তার নিজস্ব বাংলো বাড়িতে ওই যৌন ব্যবসার ফাঁদ পেতেছিলেন। এ বিষয়ে তথ্য পেয়ে তার বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। এ সময় যৌন ব্যবসায় জড়িত থাকা ২ নারীকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পদ্মজা’র আসল বাড়ি কোহ্লাপুরে। তিনি ২০০৪ সালে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর পুনেতে চলে যান। পুলিশ বলেছে, তিনি বেশ কিছু মারাঠি নাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া মারাঠি কিছু ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পুনেতে আরও এক অভিনেত্রী আটক হন। মানবজমিন ডেস্ক:

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। মেয়ের ভবিষ্যৎ আর লোকলজ্জার ভয়ে এ খবর কাউকেই জানাননি মা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেছেন, বাপমরা মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটা বাসায় ভাড়া থাকি। মামলা করলে এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে। ওর বিয়ে হবে না। তখন ওর কি হবে? এটা জানাজানি হলে আমাকেও এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না। আমার স্বামী নেই। মেয়েকে নিয়ে তখন কোথায় যাবো? তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের এমন কোন খবর থানায় আসেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী রেজিস্ট্রার নথিতে ধর্ষণজনিত কেস বলে উল্লেখ আছে। দুপুরে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী দু’জন মহিলা চিকিৎসক জানান, প্রাথমিক আলামতে এটিকে ধর্ষণ বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। তবুও টেস্ট করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা নার্স জানিয়েছেন, সে এখনও স্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যেই বমি করছে। দুপুরে মুন্নির সঙ্গে কথার বলার সময়ও একবার বমি করে। তার চোখ-নাক-মুখ ফোলা ছিল। কথা বলার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
গতকাল চিকিৎসাধীন মুন্নির কাছে ঘটনার বর্ণনা জানতে চাওয়া হয়। মুন্নি চোখ বন্ধ করে আধো আধো কণ্ঠে জানায়, সে রামপুরার ম্যাগ স্টার গার্মেন্টসে কাজ করে। রোববার বিকাল ৫টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে বান্ধবী কল্পনার সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। তারা আফতাবনগরে ঘুরতে যায়। সেখানে দু’টি ছেলে তাদের পিছু নেয়। ঘোরাঘুরি শেষে তারা হেঁটে ১৯৬ নম্বর পাকা মসজিদের বাসার দিকে ফিরছিল। তখন রাত ৮টা। হঠাৎ করে ওই দু’টি ছেলে তাদের পেছন থেকে হাত ধরে মুখ ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী মহানগর প্রজেক্ট মাঠের কোনায় নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই দু’জনের সঙ্গে মুন্নিকে দৈহিক অপকর্মে লিপ্ত হতে বলে। না হলে ১০ হাজার টাকা চায়। মুন্নি টাকা দিতে রাজি হলে তার মাকে ফোন করতে বলে। কিন্তু তারা ফোন না দিয়ে তার মুখ ছাপিয়ে ধর্ষণ করে। এক সময় মুন্নি নিস্তেজ হয়ে এলে উঠে যায় ধর্ষণকারীরা। সে জানায়, কল্পনাকেও হয়তো একইভাবে অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ শেষে ওই যুবকরা তাদের হাতে ১০ টাকা দিয়ে রিকশায় করে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই মুন্নি প্রজেক্ট মাঠের অনতিদূরের একটি বাজারে আসে তার মাকে ফোন করার জন্য। এ সময় পূর্বপরিচিত এক যুবককে পেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। কয়েক যুবক মিলে ধাওয়া করলে দেখতে পায়, ধর্ষণকারীদের একজন তাদেরই কারও ছোট ভাই। ফিরে এসে ‘পরে এর বিচার হবে, এ ঘটনা কাউকে যেন না জানায়’ বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ফাতেমা বেগম জানান, রাত ১০টার দিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় মুন্নি ঘরে ফেরে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই মেঝেতে পড়ে যায়। বলেন ‘আমার সব শেষ’। এরপর তার রক্তক্ষরণ দেখে বুঝতে পারে পরের ঘটনা। মুন্নি জানায়, তাদের দু’জনকে ‘হেরোইনচি’র  মতো লাগছিল। তাদের সে এর আগে দেখেনি।
রমাপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। থানায় এখনও এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

২১১৪ পিস ইয়াবাসহ যুবতী আটক

উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বিজিবির যৌথ চেকপোস্টে ঢাকাগামী এস আলম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২১১৪ পিস ইয়াবাসহ এক যুবতীকে আটক করেছে। মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার ইছহাক মোল্লা জানিয়েছেন, গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থেকে ঢাকাগামী এস আলম পরিবহনের একটি কোচের সিটের নিচে লুকানো ২১১৪ পিস ইয়াবাসহ খালেদা বেগম (১৮) নামের এক যুবতীতে আটক করা হয়েছে। আটক যুবতী উখিয়া টিএন্ডটি এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। আটক ইয়াবার মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

কক্সবাজারে মধু’র বাণিজ্য

 পুরো নাম হনুফা আকতার মধু। তারা ৩ বোন। তাদের কাজ প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লোভেী পুরুষদের সর্বস্বান্ত করা। তিন বোনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তবে থানার সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তারা আইন ভাল বোঝে। তাই তাদের অভিযোগেও হয়রানি শিকার হচ্ছেন অনেকে। থানা, কোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ সর্বত্র রয়েছে মধুদের কদর। তবে তারা বেশি দিন এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে  না। কিছুদিন পর পরই বাসা পাল্টাতে হয়। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জেনে বেরসিক বাড়িওয়ালারা তাদের বের করে দেন বাড়ি থেকে।
মহেশখালী উপজেলার পৌর এলাকার ১৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহানা আকতার মিলি, হনুফা আকতার মধু ও কাজল। ৭-৮ বছর আগে আসে কক্সবাজারে। এ আসার পেছনেও রয়েছে কাহিনী। তাদের মা খতিজা বেগম জীনের কথা বলে বহু মানুষকে ‘স্বর্ণের ডেক’ পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মাসৎ করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নেয়। এ অবস্থায় তারা মহেশখালী ছাড়তে বাধ্য হয়। কক্সবাজার এসে প্রথমে শহরের মাঝেরঘাট এলাকা বাসা ভাড়া নেয় তারা। খতিজা  বেগম লোভ দেখিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে থাকে। মায়ের পথ ধরে বড় মেয়ে মিলি। মা ও বড় বোনের সঙ্গে যোগ দেয় হানিফা আকতার মধু-ও। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জানাজানি হলে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালার চাপে বাসা ছাড়ে তারা। এরপর বাসা নেয় টার্মিনাল এলাকায়। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে আসে বিডিআর ক্যাম্প এলাকায়। তারপর টিএমসি স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। সেখান থেকে সিকদার মহেলর পেছনে। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে বাজারঘাটা রয়েল হোটেলের পেছনে। এভাবে তাদের প্রায় ১৫টি বাসা ছাড়তে হয়। তাদের মধ্যে মধু’র কৌশল একটু ভিন্ন। দেহব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে পটু সে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হলেও কেউ প্রতিবাদ বা উচ্চবাচ্য করার সাহস পায় না। তা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করার অনেক নজিরও রয়েছে।
২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর ইসমাইল হোসনকে বিয়ে করে মধু। ২০০৯ সালে ৬ই জুন এ বিয়ে ভেঙে যায়। এক দারোগার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন ৯৩ হাজার টাকা। কিছুদিন পর সে বিয়ে করে বাংলাবাজার এলাকার শামশুল আলমকে। তার সংসারে থাকতেই শহরের টেকপাড়ার জুবাইদুল ইসলাম বাপ্পীকে বিয়ে করে পালিয়ে গিয়ে। অপরদিকে দুশ্চরিত্র মেয়েকে বিয়ে করার খবর পেয়ে পিতামাতা জুবাইরুলকে ঘর থেকে বের করে দেন। মামলাও করেন। এ মামলায় জেল খাটে জুবাইদুল ও মধু। জেল থেকে বেরিয়ে জুবাইদুল দেখে, যে স্ত্রীর জন্য পিতামাতা ত্যাগ করেছে, সে স্ত্রীর রয়েছে অসংখ্য বয়ফ্রেন্ড। নামীদামি ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ। জুবাইদুলের সন্দেহ হয়। স্ত্রীর ওপর সে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর তার কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। তার অজান্তে প্রিয়তম স্ত্রী মধু এতদিন চালিয়ে যাচ্ছিল দেহ ব্যবসা। বিভিন্ন সময় হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন স্থানে স্ত্রীকে ধরে ফেলে স্বামী। এসব কারণে মধুর প্রতি তার মোহ কেটে যায়। ফলে তাদের এই বিয়েও স্থায়ী হয়নি। জুবাইদুল জানায়, অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ভাল করতে পারেনি সে। পরে অন্যের পরামর্শে তাকে ডিভোর্স দেয় স্ত্রী। বনিবনা না হওয়ায় উভয়ে আলাদা হওয়ার ব্যাপারে একটি অঙ্গীকারনামাও করে। এর কয়েকদিন পরই থানা ও কোর্টে পৃথক দু’টি মামলা করে মধু। জুবাইদুল বলে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া মধুদের কাজ। মধুর বড় ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী জেসমিন আকতার জানান, মধুদের পরিবারে শহরের নামীদামি ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিয়ের পরে মধুদের পরিবারে যাওয়ার পর থেকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বাসায় আগন্তুক ব্যক্তিদের ‘সেবা’ দেয়ার জন্য তাকে স্বামী-শাশুড়ি-ননদ নিয়মিত অত্যাচার চালাতো। তাদের ধারাবাহিক অত্যাচার ও নির্যাতনে সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ১ সন্তানসহ বাপের বাড়িতে থাকছেন। মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান,  ২০-২২ দিন হলো আমি মধুকে চিনি। একটি অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে আমার কাছ এসেছিল সে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুনেছি মেয়েটি খারাপ। তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। মডেল থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার জানান, মধুর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রভাত কর্মকারকে পরিবর্তন করে জিসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হনুফা আক্তার মধু বলেন, অভিযোগকারীদের সব অভিযোগ সত্য, আপনারা ভালো করে লিখে দিন।

তিন মেয়েই পর্নো তারকা

মানবজমিন ডেস্ক: নিজের তিন মেয়ে পর্নো তারকা হওয়ায় রীতিমতো গর্ববোধ করেন স্কটল্যান্ডের এক মা ক্রিস্টিন রেনডাল। তিন মেয়ে অ্যালিসিয়া, অ্যামান্ডা এবং কিম্বালি ইতিমধ্যেই এক্স-রেটেড লেট নাইট টেলিভিশন সেক্স চ্যাট চ্যানেলে উপস্থিতির মাধ্যমে একে তাদের পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত করেছেন। বেশির ভাগই মধ্য রাতে পূর্ণ বয়স্কদের চ্যানেল বেবস্টেশনে নিজেকে তুলে ধরা ২৬ বছরের অ্যামান্ডা স্কটিশ নিউজকে বলেছেন, ঈশ্বরের নাম নিয়ে বলছি- আমরা যে কাজ করি তাতে আমাদের মা খুবই খুশি। স্কুলে অ্যামান্ডা নিজেকে একজন প্রতিভাময়ী জিমন্যাস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মধ্যে জিমন্যাস্ট তারকা হওয়ার মতো সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, ২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেয়ার জন্য অনুশীলনের সময় অনুশীলনের চেয়ে স্কার্ট তুলে ধরার ক্ষেত্রেই তিনি বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। অ্যামান্ডা বলেন, আমি স্কটল্যান্ডের জিমন্যাস্ট প্রতিযোগী হিসেবে বেশ ভালোই করছিলাম। কিন্তু আমাকে খুব বেশি স্কুল কামাই করতে হতো বলে মা আমাকে সেখান থেকে বের করে আনেন। তখন আমি বেশ বেয়ারা হয়ে উঠেছিলাম। স্কুলে পড়াশোনা ঠিকমতো করতাম না বলে ১৪ বছর বয়সেই আমি স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার তখন বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আমি একদিন একজনকে পেটানোর কারণে আমাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি স্কটল্যান্ডের প্রতিভাময়ী জিমন্যাস্ট হওয়ার পরিবর্তে নাম লেখান পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে। অ্যামান্ডা বলছিলেন কমনওয়েলথ গেমসে আমি স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতাম। কিন্তু সেটা না করে আমি যোগ দিলাম পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে। তিন বোনের মধ্যে অ্যামান্ডাই প্রথম এক্স-রেটেড কাজে যোগ দেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বেবস্টেশনে কাজ করছেন। তার বড় বোন ২৭ বছরের অ্যালিসিয়া সেক্স স্টেশন বা এলিটের মতো সেক্স চ্যাট চ্যানেলগুলোতে দু’বছর ধরে নিঃসঙ্গ পুরুষদের সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যেই ক্যাটি কোল নামে বৃটেনের শীর্ষ পর্নো তারকায় পরিণত হয়েছেন। আর ছোট বোন ২২ বছরের কিম্বালিও সমপ্রতি পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অ্যামান্ডা বলেন, মা নার্স হিসেবে হসপিটালে কাজ করেন। তিনি হাসপাতালের সব রোগীকেই বলে বেড়ান তার মেয়ে বেবস্টেশনে আছে। মায়ের বক্তব্য হচ্ছে এর মাধ্যমে তুমি যেহেতু অর্থ উপার্জন করছো। তাই এ কাজের ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই।

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

এবারে অমিতাভের বিরুদ্ধে অভিযোগ শায়লি'র!

সম্প্রতি শাইনি আহুজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া ও বলিউডি অভিনেত্রী শায়লি ভগত। খবর সান্তাবান্তাডটকম-এর।
  
কয়েক বছর ধরেই টিনসেলে কাজ করছেন শায়লি ভগত। সম্প্রতি বলিউডি ছবিকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। এর পেছনের কারণ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, ‘৭ বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ তারকা থেকে শুরু করে আমার সহ-তারকাদের কাছে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। তাদের মধ্যে অমিতাভ বচ্চন এবং সাজিদ খানের মতো ব্যক্তিরাও আছেন।’

অমিতাভ সম্পর্কে শায়লির অভিযোগ, ‘সম্প্রতি টিনু ভার্মার ‘দিস উইকএন্ড’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন অমিতাভ। আর সবার মতো আমিও তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চাইলাম। কিন্তু তখন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটালেন তিনি। আমার নিতম্বে হাত রাখলেন এবং আস্তে আস্তে উপরের দিকে হাতটাকে ওঠাতে লাগলেন। ঘটনায় আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।’

শায়লি জানিয়েছেন, ‘আমি বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, কাউকেই কিছু বলতে পারিনি। অমিতাভের বয়স এখন ৭০। তিনি আমার দাদার বয়সী। এই বয়সে আমার সঙ্গে এ ধরনের বিষয় তিনি কীভাবে করলেন তার কোনো উত্তর আমার জানা নেই!’

সাজিদ খান সম্পর্কে শায়লির অভিযোগ, ‘হাউসফুল ছবির অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের অজুহাতে সাজিদ আমাকে তার অফিসে ডেকেছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর এক বিস্ময়কর ঘটনার মুখোমুখি হলাম। আমার সামনে সাজিদ পুরোপুরি বিবসন অবস্থায় দাঁড়ালেন এবং সেখানেই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন। আমি চিৎকার করে তার অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।’

‘চোরো কি বারাত’ ছবির সহ-অভিনেতা আরিয়ান বাব্বরের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন শায়লি। তিনি জানিয়েছেন, ‘চোরো কি বারাত ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আরিয়ানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো আমার। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই তিনি আমাকে ঘনঘন উত্তেজক এসএমএস পাঠানো শুরু করলেন।’

শায়লির ভাষ্য, ‘এতোকিছুর পরও আমি চুপ করেইছিলাম। কিন্তু আর নয়। আমি বলিউডি ছবিকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই মিলানে চলে যাবো। সেখানে মডেলিংয়ে আমার ক্যারিয়ার গড়ে তুলবো।’



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

 বিচার না পেয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন!

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার হয় দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেয় পুলিশ। এতে মেয়েটিকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয় ধর্ষকেরা।
বিচার না পেয়ে সেঁজুতি ওরফে কমলা (১৬) নামের ওই ছাত্রী গত শুক্রবার রাতে বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
কমলা রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী সাদেক মৃধার মেয়ে। পড়ত চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
গতকাল শনিবার সকালে কমলার আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী এবং পাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি ও বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়ক অবরোধ করে। তারা বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ রবিউল হককে প্রত্যাহার ও ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
ওসি রবিউল গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘেরাও করলে তিনি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
রঘুনাথপুর গ্রামবাসী ও কমলার পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে সাতটার দিকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কমলার চাচাতো ভাই মো. নয়ন মৃধা কমলাকে তার ঘর থেকে ডেকে নেয়। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা গ্রামের মো. নাসির আকন, মো. শামীম আকন, মো. রাজীব, মো. সবুজ ও মো. সাইফুল ইসলাম কমলাকে জোর করে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে চাচাতো ভাই নয়নও যোগ দেয়। কমলার চিৎকারে তার মা ও অন্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কমলার মা হাফিজা বেগম ওই ছয়জনকে আসামি করে পরের দিন বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কমলার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেনি।
হাফিজা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণধর্ষণের পর আসামিরা নানাভাবে আমার অন্য দুই মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয়। কিন্তু বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করে আমাকে মীমাংসা করতে বলেন। মীমাংসায় রাজি না হলে ওসি অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেন। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষকেরা কমলাকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে। বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কমলা। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সবার অজান্তে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।’
রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওসি রবিউল ধর্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ধর্ষণের মামলা না নিয়ে অপহরণচেষ্টার মামলা নেন। তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে ধর্ষকেরা কমলা ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখে। বিচার না পেয়ে লজ্জায়-ঘৃণায় আত্মহননের পথ বেছে নেয় কমলা।
চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, কমলার আত্মহত্যার খবর জানার পর তাঁর বিদ্যালয়সহ পাশের আরও চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবরোধ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের শান্ত করলে আধঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ওসি রবিউল হক বলেন, ‘আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব আসামি পলাতক। তাদের আমি চিনিও না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরও কমলার ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণ জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি রবিউল।

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সামিরার ডিজে পার্টি এবং…

তিনি সামিরা। ধনীর দুলালী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে ফ্যাশন-শো, হট ড্যান্স ও ডিজে পার্টির আয়োজক। তবে এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে নানা কাহিনী। নানা গল্প। উপরে পার্টি হলেও ভেতরে চলে মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও সিসাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের আসর। চলে পতিতাবৃত্তিও। সামিরার গোপন এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে গোয়েন্দা জালে। গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। গুলশান ও বনানী এলাকায় প্রায় ৭০-৭৫টি ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে এক নামে পরিচিত সামিরা।গত ৯ই সেপ্টেম্বর গুলশান ২-এ অবস্থিত থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে সামিরাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- অগাস্টিন রোজারিও ওরফে পলাশ, সৈয়দ ওবায়দুল করিম ওরফে রুশো ও সামিরা কায়জার। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা বলেন, সামিরা কায়জার উচ্চশিক্ষিত। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী। তিনি থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দিতেন। নিজেও হাই সোসাইটির কলগার্ল হিসাবে কাজ করতেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব ছিল তার।
এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪০৮ ক্যান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার ও ৩০ বোতল বিদেশী মদ। যখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে হানা দেন তখন ওই বাড়িতে প্রায় ১৫০ নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে উচ্চ শব্দে বাজানো মিউজিকের তালে ড্যান্স করছিল। বেশির ভাগ তরুণীর পরনে সংক্ষিপ্ত পোশাক ছিল। পার্টিতে অংশ নেয়া অনেক তরুণ-তরুণীর সামাজিক পরিচয় ছিল রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। অভিযানের সময় তাদের অনেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি ধমকি দেন। আবার অনেকেই মুখ ঢেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
অবৈধভাবে তৈরি করা বারে থরে থরে সাজানো ছিল নানা ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। গ্রেপ্তারকৃত সামিরা কায়জার অকপটে সব কিছু স্বীকার করেন। কিভাবে তিনি এ জগতে এলেন তার বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। গুলশান এলাকায় কারা অবৈধ মদ ও বিয়ারের আসর বসায় তাদের অনেকের নামও বলেন তিনি। সামিরা জানায়, এমপি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা অনেকেই নিয়মিত তাদের অতিথি হয়ে আসেন। রাতভর ফুর্তি করে সকাল হওয়ার আগে বাসায় ফিরে যান। পরে এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মামলা করেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রমনা বিভাগের পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেয়া হয় না। অনুমতি নেয়া হলেও বলা হয় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু পরে মদ-বিয়ারের জমজমাট আসর বসানো হয়। শতাধিক মেয়ে এসব অবৈধ বার ও পার্টি সেন্টারে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দেয়। সংক্ষিপ্ত পাশ্চাত্য পোশাক পরা এসব তরুণী নিজেরাও হাই সোসাইটি কলগার্ল হিসাবে কাজ করে। গত ২৯শে জুলাই আরেকটি অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬,৪৭২ ক্যান বিয়ার ও ১,৭০০ বোতল বিদেশী মদ। গুলশান ২-এর ১১৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে কোরিয়ান ক্লাবের নামে নিয়মিত মদ-বিয়ারের অবৈধ আসর বসছিল।
এ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিং জং সু-কে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় সু’র বাংলাদেশী সহযোগী আবদুর রহিম ওরফে রহমানকে। যৌথভাবে অভিযানটি চালায় র‌্যাব-১ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীন ভূঁইয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীন বলেন, কোরিয়ান ক্লাবের আড়ালে এখানে নিয়মিত মদের আসর বসছিল। কিন্তু তাদের কোন অনুমোদন ছিল না। তিনি বলেন, ক্লাবটিতে নানা রকম অনুষ্ঠানের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল। ওদিকে র‌্যাব ১-এর একটি সূত্র জানিয়েছে গুলশান, বনানী এলাকায় অবৈধ মদ-বিয়ারের আসরের পেছনে রাজনীতিবিদ, এমপি ও মন্ত্রীদের হাত রয়েছে। এ ছাড়া এসব হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ঘনিষ্ঠরাও এসবের আয়োজন করছে। ফলে চাইলেই এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তোহুর আহমদ – মানবজমিন

বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১১

স্কুলপড়ুয়া শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে


স্কুলপড়ুয়া ছেলেদের প্রায় সাত শতাংশ এবং মেয়েদের ১৬ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ফারাহ দীবা এ তথ্য প্রকাশ করেন। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে, ‘সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ ইন স্কুল চিলড্রেনস লাইফ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ফারাহ দীবা বলেন, বাংলাদেশে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এবং শহরের তুলনায় গ্রামের শিশুরা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। যৌন হয়রানির কারণে শিশুর বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হারুন-অর-রশীদ বলেন, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় আছে। পথশিশু ও বস্তিবাসী শিশুরা বেশি নিরাপত্তাহীন। তিনি সর্বস্তরের শিশুকে নিয়ে একটি সমীক্ষার ওপর জোর দেন। যৌন হয়রানি রোধে পারিবারিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখারও আহ্বান জানান অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান শহীদ আখতার হোসেন বলেন, ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী যখন হয়রানির শিকার হয় তখন এর প্রভাব পুরো সমাজে পড়ে। আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। কী করে আমাদের শিশুদের রক্ষা করা যাবে তা এখনই ভাবতে হবে।’
নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে গৃহীত মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের কর্মসূচি পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, শিশুদের স্বার্থে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। 
কারা যৌন হয়রানির শিকার সমীক্ষায় রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও সীতাকুণ্ডের নয় থেকে ১৭ বছর বয়সী ৫৮১টি শিশু অংশ নেয়। ইভ টিজিং, যৌন স্পর্শ ও যৌন নির্যাতন এই তিনটি বিষয়ে তারা বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়। দেখা গেছে, পরিচিতজনেরাই সবচেয়ে বেশি হয়রানি করছে শিশুদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষক ছাত্রছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করছেন। এসব ভুক্তভোগী শিশু আত্মীয়স্বজন ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। 
সমীক্ষার আওতাভুক্ত পাঁচটি জেলায় গ্রামাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ জন ছেলে এবং ১০ দশমিক ৫ জন মেয়ে; শহরাঞ্চলে শতকরা নয়জন ছেলে এবং ৪ দশমিক ৮ জন মেয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বা বন্ধুবান্ধব নিকটাত্মীয়কে হয়রানির শিকার হতে দেখেছে। এই শিশুদের ২৫ শতাংশ মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে, ২০ শতাংশ চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে এবং ৫৭ দশমিক ২ জন বিষণ্নতায় ভুগছে। 
গবেষক ফারাহ দীবা বলেন, শৈশবে যৌন হয়রানির শিকার শিশুরা ভবিষ্যতে নিজেরা নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তাদের যৌনকর্মী, মাদকাসক্ত হওয়া ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। 
ফারাহ দীবা বাবা-মায়ের প্রতি শিশুদের কথা বলার পরিবেশ তৈরি করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সমীক্ষার আওতায় আসা শিশুরা অনেক সময় তাদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করতে চায়নি। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের সমীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১১

শিক্ষক যখন ভক্ষক !


হাসানুর রশীদ : গর্জনিয়া ,চট্টগ্রাম থেকে : মূলত শিক্ষকদের অভিবাবকের পরেই স্থান দেয়া হয়। নিজের বাবা-মার পর শিক্ষকদের মাঝেই আশ্রয় খুঁজে পান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী নির্যাতন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমানে কিছু শিক্ষক নামধারী পশু ছাত্রীদের রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষক রূপে প্রতিনিয়ত অর্বিভূত হচ্ছে। এবার কঙ্বাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইংগাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৩) প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান (৪০) তা ধামা-চাপা দিতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। ওই ছাত্রীর বাড়ি উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থিমছড়ি এলাকায়।

ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবা মনির আহমদ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে বিদ্যালয় ছুটি হলে প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান তার মেয়েকে বিদ্যালয় কক্ষ ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে রেখে দেন। ছুটির পর সবাই চলে গেলে তাকে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের কক্ষে নিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য তার মেয়েকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন ওই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ভয় ও লজ্জায় এ ঘটনাটি কাউকে প্রকাশ করেনি তার মেয়ে। সম্প্রতি শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে মেয়ে বিষয়টি তার মাকে বলতে বাধ্য হয়। প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে বর্তমানে ওই ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে সমপ্রতি এ বিষয়ে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্য্লাহ চৌধুরীকে অবহিত করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, 'ঘটনাটি শুনেই আমি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক ও তার সাথে কথা বলেছি। ওই ছাত্রীর মুখে পুরো ঘটনাটি শুনে আমি হতবাক। আসলে যা ঘটেছে খুবই দুঃখজনক।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এলাকার প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।'

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্য্লাহ চৌধুরীর মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়েছে। উপবৃত্তি না দেয়ার কারণে এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।'

পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গত ছয়মাস ধরে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।'

তবে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১, ২, ১৩ ও সর্বশেষ ১৬ জুনও ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলো বলে হাজিরা খাতায় তা উল্লেখ রয়েছে।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'ঘটনাটি সত্য। ওই মেয়ের বাবা-মা আমার কাছে এসেছে। আমি তাদের আগে একটি থানায় সাধারণ ডাইরি করতে বলেছি।'

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

স্ত্রীকে বিক্রি!


বিয়ের তিন দিন পর মেয়েটি (২২) জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের ঝগড়া হয়। পরে মেয়েটিকে মাদারীপুরের যৌনপল্লিতে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন প্রতারক স্বামী।
খবর পেয়ে র‌্যাব-৮-এর সদস্যরা গত রোববার মেয়েটিকে মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার যৌনপল্লির সামনে থেকে উদ্ধার করেন; গ্রেপ্তার করেন প্রতারক স্বামী আবদুল আজিজ সরদারকে (৩৮)। আজিজকে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মেয়েটিকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
মেয়েটির বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। আজিজের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামে।
উদ্ধার হওয়া মেয়ে ও তাঁর স্বামীর ভাষ্যমতে, প্রায় এক বছর আগে শ্রীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গেলে আজিজের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন দিন পর মেয়েটি জানতে পারেন, আজিজের আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। এরপর দুজনের ঝগড়াঝাঁটি হলে আজিজ মাদারীপুরে চলে আসেন। গত শুক্রবার আজিজ শ্রীপুর গিয়ে স্ত্রীকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মাদারীপুরের পুরানবাজার এলাকার যৌনপল্লিতে নিয়ে আসেন।
উদ্ধারের পর মেয়েটি সাংবাদিকদের বলেন, মাদারীপুরে বোনের বাসায় রাখার কথা বলে আজিজ তাঁকে যৌনপল্লির সর্দারনি সুরমা বেগমের কাছে রেখে যান। পরদিন শনিবার তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে যৌনপল্লিতে রাখা হয়েছে। তখনই স্বামীকে অনুরোধ করেন, তাঁকে সেখান থেকে আজিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে। কিন্তু আজিজ তাঁকে জানান, ১০ হাজার টাকায় তাঁকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে খারাপ কাজ করতে হবে।
প্রচণ্ড দুঃখে শনিবার সারা রাত মেয়েটি কান্নাকাটি করেন। রোববার সকালে মেয়েটির ছবি তুলে যৌনপল্লির লোকজন; এবং মেয়েটি যে স্বেচ্ছায় যৌনবৃত্তিতে নেমেছেন, এ জন্য তাঁর কাছ থেকে জোর করে হলফনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সিরাজুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি হলফনামায় স্বাক্ষর করতে না চাইলে তাঁকে মারধর করতে থাকে যৌনপল্লির লোকজন। খবর পেয়ে র‌্যাব-৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল মেয়েটিকে উদ্ধার ও নারী পাচারকারী আবদুল আজিজ সরদারকে গ্রেপ্তার করে।
তবে যৌনপল্লির অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করেনি র‌্যাব। আজিজ র‌্যাব ও সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার স্ত্রীকে বিক্রি করেছি। তবে সর্দারনি সুরমা আমাকে মাত্র ৭০০ টাকা দিয়েছেন। স্ত্রীকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে ভুল করেছি। কাজটি করা ঠিক হয়নি।’
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া মেয়েটি তাঁর স্বামী আজিজের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আজিজকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রথম আলো

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

গৃহকর্মীকে গরম দায়ের ছেঁকা, ছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৃথক ঘটনায় এক তরুণী গৃহকর্মী ও এক স্কুলছাত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। দক্ষিণ সালুয়া গ্রামে গত বুধবার রাতে এক গৃহবধূ দা ও কাঁচি গরম করে ওই তরুণীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব আগরপুর গ্রামে স্কুলছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে বখাটেরা।
গৃহকর্মীকে নির্যাতন: পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর বাড়ি উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের মাটিকাটা খিদিরপুর গ্রামে। তাদের অভাবের সংসার চলে কোনো রকমে। কাজ দেওয়ার কথা বলে দুই বছর আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী লাইলী বেগম। তিনি মেয়েটিকে দেহব্যবসার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে মেয়েটি তখনই ওই বাড়ি থেকে চলে যায়। কাজ নেয় একই গ্রামের খলিল মিয়ার বাড়িতে। এক সপ্তাহ আগে লাইলী মেয়েটির সঙ্গে দেখা করে একই প্রস্তাব দেন, কিন্তু মেয়েটি রাজি হয়নি। গত বুধবার বাড়ির কাছে পেয়ে মেয়েটিকে ধরে এনে ঘরে আটকে রাখেন লাইলী বেগম। রাত ১২টার দিকে রশি দিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দা ও কাঁচি গরম করে মেয়েটির মুখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ও গোপনাঙ্গে ছেঁকা দেন লাইলী বেগম।
রাতে নির্যাতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাইলী বেগম কুলিয়ারচর থানায় যান। তিনি মেয়েটির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মামলা করতে এজাহার জমা দেন, কিন্তু ততক্ষণে পুলিশ অন্য সূত্রের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা জেনে যায়। পুলিশ থানা থেকে লাইলী বেগমকে আটক করে। এরপর তাঁর বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
গতকাল বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ওয়ার্ডের একটি শয্যায় শুয়ে মেয়েটি কাতরাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা গলায় মেয়েটি জানায়, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এমন নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে কুলিয়ারচর থানায় আটক লাইলী বেগম নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মেয়েটি দেহব্যবসা করে। আমি চেয়েছিলাম, সে যেন এ কাজ না করে, কিন্তু সে শোনেনি। এ কারণে ছেঁকা দিয়েছি।’
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, লোহা-জাতীয় কিছু গরম করে মেয়েটির সারা শরীরে ছেঁকা দেওয়া হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল হক জানান, মেয়েটি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। লাইলী বেগমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
স্কুলছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব আগরপুর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী মঙ্গলবার বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একই গ্রামের নবদ্বীপ চন্দ্র বিশ্বাসের বখাটে ছেলে দীপু চন্দ্র বিশ্বাস ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পাশের গোসাইয়ের জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে দীপু মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার হাত-পা বেঁধে গলায় পা দিয়ে চাপ দেয় বখাটেরা। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এর পরও মেয়েটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বখাটেরা তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে একই গ্রামের দুজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
ওই স্কুলছাত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলে, ‘প্রতিদিন আমাকে দীপুর বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ সময় প্রায়ই দীপু আমাকে অশালীন কথাবার্তাসহ কুপ্রস্তাব দেয়। মাস খানেক আগেও বিদ্যালয় থেকে আসার পথে দীপু আমাকে ওই জঙ্গলে নিয়ে একটি গাছে বেঁধে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নির্যাতন করে।’
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘লোকজন এগিয়ে না এলে বখাটেরা আমার মেয়েকে মেরেই ফেলত। আমরা গরিব মানুষ, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
গত বুধবার বিকেলে দীপুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ছোট বোন ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল হক প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটির পরিবার অভিযোগ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাউকে আটক করতে পারেনি। তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।
প্রথম আলো

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

পর্নো ছবির জগতে দেব প্যাটেল!

পর্নো চলচ্চিত্রশিল্প-নির্ভর একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন ‘স্ল্যামডগ মিলিয়নিয়র’ ছবির আলোচিত অভিনেতা দেব প্যাটেল! মানুষের গোপন যৌন জীবনের নানা কাহিনি নিয়ে ‘চেরি’ নামের এ ছবিটি তৈরি হচ্ছে। এ ছবির প্রধান নায়িকা ও চিত্রনাট্যকার দুজনই পর্নো ছবির আলোচিত তারকা।
চেরি নামে ১৮ বছর বয়সী একটি মেয়ের (অ্যাশলে হিনশা) কাহিনি নিয়ে এ ছবির গল্প এগিয়েছে। মেয়েটি নানা কারণে পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ে। ছবিটির একপর্যায়ে যে একজন মাদকাসক্ত আইনজীবীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এদিকে, নায়ক দেব প্যাটেল চেরির প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে। এভাবেই গল্পটি এগিয়ে যায় পরিণতির দিকে! ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন তারকা অভিনয়শিল্পী জেমস ফ্রাঙ্কো ও হিথার গ্রাহাম।
চেরি পরিচালনা করছেন নবাগত পরিচালক স্টিফেন ইলিয়

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons