সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

এ টি এম শামসুজ্জামানের ছোট ছেলের হাতে বড় ছেলে খুন

বিশিষ্ট অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের বড় ছেলেকে তাঁর সামনেই ছুরি মেরে খুন করেছে ছোট ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় প্রবীণ এ অভিনয়শিল্পীর পৈতৃক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এ টি এম কামরুজ্জামান কবীর (৪০) গাড়ির ব্যবসা করতেন। রক্তমাখা ছুরিসহ হত্যাকারী ছোট ছেলে এ টি এম খলিকুজ্জামানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে সূত্রাপুর থানার পুলিশ। এ ঘটনার পর রাতে এ টি এম শামসুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ টি এম শামসুজ্জামানের ভাই ইব্রাহিম জামান সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল বেলা তিনটার দিকে বড় ছেলে কামরুজ্জামান এসে বাসায় ঢোকার লোহার গেট বন্ধ পান। ওই গেটের এক পাশে বাইরের দিকে তালা লাগানো ছিল। ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খুললে কামরুজ্জামান তালা-চাবির মিস্ত্রি নিয়ে ওই তালা খোলার চেষ্টা করেন। তখন এ টি এম শামসুজ্জামান ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কামরুজ্জামান। তখন ভেতর থেকে ছুরি এনে ছোট ছেলে খলিকুজ্জামান বড় ভাইকে আঘাত করেন। আহত কামরুজ্জামানকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
থানা হেফাজতে থাকা খলিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাবার গায়ে হাত তোলায় তিনি বড় ভাইকে ছুরি মেরেছেন। খলিকুজ্জামান জানান, তিনি বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, পৈতৃক সূত্রে দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনের চারতলা ওই বাড়িটির নিচতলার মালিক এ টি এম শামসুজ্জামান। এ টি এম দম্পতি, বড় ছেলে ও তাঁর স্ত্রী এবং ছোট ছেলে এ বাড়িতেই থাকেন। মেজো ছেলে থাকেন অন্যত্র।
বড় ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এ টি এম শামসুজ্জামান। তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সহকারী কমিশনার মনজুর রহমান বলেন, শামসুজ্জামান পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুরের পর দরজায় করাঘাত করছিল বড় ছেলে। দরজা খুলে দিলে ছেলে তাঁকে ধাক্কা দেয়। তখনই পেছন থেকে ছুরি নিয়ে এসে ছোট ছেলে বড় ভাইকে ছুরি মারে। শামসুজ্জামান পুলিশকে আরও বলেছেন, তাঁর ছোট ছেলে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল না।
সূত্রাপুর থানার এএসআই শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাত নয়টার দিকে এ টি এম শামসুজ্জামান ছেলে খলিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
চাচাতো ভাই হাসানুজ্জামান বলেন, কামরুজ্জামান কয়েক মাস আগে মিরপুরে একটি গাড়ির শোরুম খুলেছিলেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। ঘটনার সময় তাঁর মা রুনি জামান ও স্ত্রী লাকী জামান বাসায় ছিলেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, কামরুজ্জামানের শরীরে কয়েকটি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন বাড়ির সামনে ও ভেতরে। বাসার ভেতরে অনেক আত্মীয়স্বজন। লোহার গেটে ঢোকার মুখে শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। prothom-alo

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ঝিনাইদহে নির্যাতনের পর গৃহপরিচারিকার চুল কর্তন

ঝিনাইদহ শহরে নির্যাতনের পর এক গৃহপরিচারিকার মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন ওই গৃহপরিচারিকা।
কিন্তু গতকাল সকাল থেকে তিনি আর মুখ খুলছেন না।
এলাকাবাসী জানান, ওই গৃহপরিচারিকা শহরের উপশহর পাড়ার বাসিন্দা মশিয়ার রহমান জোয়াদ্দারের বাসায় কাজ করতেন। মশিয়ার রহমান হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহপরিচারিকা মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি তিন বছর ধরে মশিয়ারের বাসায় কাজ করছেন। বর্তমানে মশিয়ার ভারতে আছেন। ওই দিন বেলা একটার দিকে তিনি বাসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় বাসায় আসেন মশিয়ারের মেয়ের জামাই তপু ও শ্যালিকা মিরা খাতুন। এ সময় তিনি তাঁদের খেতে বলেন। কিন্তু কোনো কিছু বোঝার আগেই তপু তাঁকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আল মামুন বলেন, ওই গৃহপরিচারিকার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ডান হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওই গৃহপরিচারিকা কারও সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন না। শুধু বলছেন, তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। হাসপাতালের বাইরে সারাক্ষণ কিছু ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছেন। যাঁরা কাউকে তাঁর কাছে যেতে দেখলেই পিছু নিচ্ছেন। তিনি সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে কথা বলছেন।
মিরা খাতুন জানান, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মশিয়ারের বাসায় যান। এরপর হঠাৎ করে বাসায় আসেন তপু। তপু এসে ওই গৃহপরিচারিকার হাত ধরে টানতে টানতে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান। এ সময় তপু তাঁকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও এক ঘণ্টা পর তিনি খবর পান, গৃহপরিচারিকাকে মারধর করা হয়েছে। এর বেশি তিনি কিছুই জানেন না।
মশিয়ার দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তপুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়ক আমিনুর রহমান জানান, গৃহপরিচারিকার ওপর এমন নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মেয়েটি ভয়ে কথা বলতে পারছেন না। মামলা করতেও ভয় পাচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো ওই গৃহপরিচারিকা প্রকাশ করেননি। এমনকি মামলাও করতে চাচ্ছেন না।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২

সিলেটে আগুনে মারা যাওয়া ব্যক্তি নায়িকা শাবনুরের পিতা!

সিলেটে পুড়ে মারা গেছেন চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা! ১৮ই ডিসেম্বর গাড়িতে আগুন দিলে তিনি গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা পুলিশের কাছে এমন তথ্য এসেছে। পুলিশ সব কিছু খতিয়ে দেখছে। আর এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সিলেট পুলিশে তোলপাড় চলছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ১৮ই ডিসেম্বর যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এক যাত্রী বাসের ভেতরেই দগ্ধ হন। দীর্ঘ ১২ দিনেও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল পুলিশ নিহত বাসযাত্রীর পরিচয় পেয়েছে। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকার কাজী নাছির। ঘটনার ১২ দিন পর গত শুক্রবার বগুড়ার জ্যোৎস্না বেগম নামের এক মহিলা নিহত ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি নিজেকে নিহত কাজী নাছিরের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন। কাজী নাছির নায়িকা শাবনুরের পিতা বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন জ্যোৎস্না বেগম। নিহতের জুতা দেখে তিনি পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শামা ইকবাল হায়াত। সাংবাদিকদের কাছে তিনি আরও জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত কাজী নাছির তিনটি বিয়ে করেছেন বলে জ্যোৎস্না বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন। তার প্রথম স্ত্রী নায়িকা শাবনুরের মা বলেও দাবি করেন জ্যোৎস্না। সর্বশেষ মৌলভীবাজারের স্বপ্না বেগম নামের আরেক মহিলাকে বিয়ে করেন কাজী নাছির। গতকাল বিকালে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার সাব ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, জ্যোৎস্না বেগম পুলিশের কাছে এসে কাজী নাছিরকে স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানান, জ্যোৎস্না বেগম আরও অনেক তথ্য দিয়েছেন। সব কিছু আমরা তদন্ত করছি। মানব জমিন

বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১১

বিয়ে করলেন প্রভা

undefinedবিয়ের পিঁড়িতে বসলেন মডেল ও অভিনেত্রী প্রভা। ১৯ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে তার আকদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাত্রের নাম মাহমুদ শান্ত। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

এ প্রসেঙ্গ প্রভা জানিয়েছেন, বেশ ক’মাস আগেই তার বাবা-মা শান্ত’র সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। বাবা-মা’র পছন্দে আর দ্বিমত করেননি প্রভা।

প্রভার ভাষ্যে, ‘অসম্ভব ভদ্র ও বিনয়ী একটি ছেলে শান্ত। এই ক’দিনে যতটুকু জেনেছি, তাতে মনে হয়েছে ওর ওপর আস্থা রাখা যায়। অসম্ভব ভালো গিটার বাজাতে আর গান গাইতে পারে ও। আমি বেশ খুশি। আসলে এ সবই সম্ভব হয়েছে আমার শুভাকাক্সখী, গুরুজন’দের দোয়া আর আল্লাহর রহমতের কারণে। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

শান্ত জানিয়েছেন, ‘আমার মা বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশ ছাড়ার আগে অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই আমাদের আকদ সম্পন্ন হয়েছে। মা দেশে ফিরলেই আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে। এই অনুষ্ঠান করতে মাস ছয়েক সময় লাগতে পারে।’  

এদিকে, প্রভার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে নাজিয়া হোসেন অদিতির সঙ্গে অভিনেতা ও মডেল জিয়াউল ফারুক অপূবর্র আকদ হয়েছিলো। রাজধানীর বারিধারার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২১ ডিসেম্বর বুধবার বেশ জাঁক-জমকভাবে আয়োজন করা হয়েছে অপূর্ব-অদিতির বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে দেন মোহর ধার্য করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

একসঙ্গে ৪ সন্তান

সিলেটে একসঙ্গে চার পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। অস্ত্রোপচার ছাড়াই জন্ম নেয়া শিশু চারটি এবং মা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ চার শিশুর জন্ম দেন কুলসুমা আক্তার (২০)। হাসপাতালের চিকিৎসক খোরশেদা হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘অপারেশন ছাড়া একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম একটি বিরল ঘটনা। মা ও নবজাতকরা সুস্থ আছেন।’ নবজাতকদের বাবা রেফুল মিয়া জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে এক মাস আগে তার স্ত্রী কুলসুমাকে হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। ছয় মাস আগে কুলসুমার গর্ভে চারটি সন্তান রয়েছে বলে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হামিদা বেগমের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজলার পিটুয়া গ্রামের  রেফুল মিয়া একজন কৃষক এবং তার স্ত্রী কুলসুমা গৃহিণী। কুলসুমা বলেন, একসঙ্গে সুস্থ-সবল চারটি সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি বেশ খুশি। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এখন তাদের সন্তানের সংখ্যা ছয়-এ দাঁড়ালো। সূত্র: বিডি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

নবাবগঞ্জে নারীকে জবাই করে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শুভারানী (৫০) নামের এক নারীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালুচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী রাকিব হোসেন (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই গ্রামের সম্ভু মণ্ডলের স্ত্রী শুভারানীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন একই গ্রামের রাকিব হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে রাকিব তাঁর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার দিলে রাকিব তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শুভারানীর গলা কেটে পালিয়ে যান। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শুভারানীকে দ্রুত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে শুভারানীর ঘরের সামনে রাকিবের জুতা দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আশপাশে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে গ্রামের একটি মাঠে রাকিবকে রক্তমাখা অবস্থায় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ করিম বলেন, এ ঘটনায় নিহত শুভারানীর ছেলে অমিত মণ্ডল গতকাল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করতে রাকিবকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের বয়স ১৮ দেখিয়ে থানায় মামলা!

আবদুর রহমান আবদুর রহমান
নাম আবদুর রহমান। পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে। প্রকৃত বয়স তার ১১। তবে একটি সন্ত্রাসী হামলার মামলায় পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই বয়স ১৮ উল্লেখ করে আবদুর রহমানের নাম নথিভুক্ত করেছে। এমনকি ওই মামলার আসামি গ্রেপ্তারে গতকাল শুক্রবার অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি ১১ বছরের শিশু আবদুর রহমানসহ তার সাত ভাই এবং দুই মা। গ্রেপ্তার এড়াতে গতকাল পুলিশের অভিযানের সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুর রহমানও পালিয়েছিল। পরে সে তার বড় ভাই ইছুব আলীর সঙ্গে বিকেলে প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে এসে ঘটনাটি অবহিত করে।
আবদুর রহমানের বড় ভাই ইছুব আলী (৩৫) জানান, কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বিজয় পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। পারিবারিকভাবে তাঁরা পাথর শ্রমিক। পাশের গ্রাম বনপুরের বাসিন্দা আবদুল মালিক শত্রুতাবশত গত ২৫ নভেম্বর একটি সন্ত্রাসী হামলায় তাঁদের অভিযুক্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দেন। তবে এজাহার পাওয়ার পর সরেজমিন কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। নথিভুক্ত মামলার (১৯/১৩২) প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে আবদুর রহমানের নাম আছে। সেখানে তার বয়স দেওয়া হয়েছে ১৮।
ইছুব আলী এ সময় ছোট ভাই আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও সে যে বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত—সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করেন। যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদউদ্দিন ও মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমদ আবদুর রহমানের জন্মসনদ ও প্রত্যয়নপত্রে উল্লিখিত বয়স ১১ বছর সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
ইছুব বলেন, ‘(সন্ত্রাসী হামলার) ঘটনাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বড়দের বিরোধ থাকতে পারে, ছোট এই বাচ্চাটার কী দোষ? পুলিশ গ্রামে গেছে শুইনা আমার লগে হেও পালাইছে।’
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছেলেটিকে নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার বার্ষিক পরীক্ষা। আসামি হওয়ায় তার শিশুমনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। ঘটনা যা-ই হোক—কোনোভাবে যেন ছেলেটির পরীক্ষা ব্যাহত না হয়, এ জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমার কথায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেন গতকাল সকালে আসামি গ্রেপ্তার করতে বিজয় পাড়ুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। তবে রাতে মুঠোফোনে মোবারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আসামি গ্রেপ্তারে নয়, ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ১১ বছরের আবদুর রহমানকে ১৮ বছর উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাই নাকি! এমন হলে তো আশ্চর্যজনক ঘটনা। ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
মামলার বাদী মো. আবদুল মালিক দাবি করেন, ‘মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আমাদের লাঠি ও দা নিয়ে মারতে এসেছিল।’
অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দনকান্তি ধর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরেজমিন খোঁজ নিয়েই মামলা নথিভুক্ত হওয়ার নিয়ম। বিষয়টি আমার জানার মধ্যে নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই মামলা থেকে ছেলেটাকে বাদ দেওয়া হবে। prothom-alo

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। মেয়ের ভবিষ্যৎ আর লোকলজ্জার ভয়ে এ খবর কাউকেই জানাননি মা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেছেন, বাপমরা মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটা বাসায় ভাড়া থাকি। মামলা করলে এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে। ওর বিয়ে হবে না। তখন ওর কি হবে? এটা জানাজানি হলে আমাকেও এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না। আমার স্বামী নেই। মেয়েকে নিয়ে তখন কোথায় যাবো? তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের এমন কোন খবর থানায় আসেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী রেজিস্ট্রার নথিতে ধর্ষণজনিত কেস বলে উল্লেখ আছে। দুপুরে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী দু’জন মহিলা চিকিৎসক জানান, প্রাথমিক আলামতে এটিকে ধর্ষণ বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। তবুও টেস্ট করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা নার্স জানিয়েছেন, সে এখনও স্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যেই বমি করছে। দুপুরে মুন্নির সঙ্গে কথার বলার সময়ও একবার বমি করে। তার চোখ-নাক-মুখ ফোলা ছিল। কথা বলার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
গতকাল চিকিৎসাধীন মুন্নির কাছে ঘটনার বর্ণনা জানতে চাওয়া হয়। মুন্নি চোখ বন্ধ করে আধো আধো কণ্ঠে জানায়, সে রামপুরার ম্যাগ স্টার গার্মেন্টসে কাজ করে। রোববার বিকাল ৫টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে বান্ধবী কল্পনার সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। তারা আফতাবনগরে ঘুরতে যায়। সেখানে দু’টি ছেলে তাদের পিছু নেয়। ঘোরাঘুরি শেষে তারা হেঁটে ১৯৬ নম্বর পাকা মসজিদের বাসার দিকে ফিরছিল। তখন রাত ৮টা। হঠাৎ করে ওই দু’টি ছেলে তাদের পেছন থেকে হাত ধরে মুখ ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী মহানগর প্রজেক্ট মাঠের কোনায় নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই দু’জনের সঙ্গে মুন্নিকে দৈহিক অপকর্মে লিপ্ত হতে বলে। না হলে ১০ হাজার টাকা চায়। মুন্নি টাকা দিতে রাজি হলে তার মাকে ফোন করতে বলে। কিন্তু তারা ফোন না দিয়ে তার মুখ ছাপিয়ে ধর্ষণ করে। এক সময় মুন্নি নিস্তেজ হয়ে এলে উঠে যায় ধর্ষণকারীরা। সে জানায়, কল্পনাকেও হয়তো একইভাবে অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ শেষে ওই যুবকরা তাদের হাতে ১০ টাকা দিয়ে রিকশায় করে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই মুন্নি প্রজেক্ট মাঠের অনতিদূরের একটি বাজারে আসে তার মাকে ফোন করার জন্য। এ সময় পূর্বপরিচিত এক যুবককে পেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। কয়েক যুবক মিলে ধাওয়া করলে দেখতে পায়, ধর্ষণকারীদের একজন তাদেরই কারও ছোট ভাই। ফিরে এসে ‘পরে এর বিচার হবে, এ ঘটনা কাউকে যেন না জানায়’ বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ফাতেমা বেগম জানান, রাত ১০টার দিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় মুন্নি ঘরে ফেরে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই মেঝেতে পড়ে যায়। বলেন ‘আমার সব শেষ’। এরপর তার রক্তক্ষরণ দেখে বুঝতে পারে পরের ঘটনা। মুন্নি জানায়, তাদের দু’জনকে ‘হেরোইনচি’র  মতো লাগছিল। তাদের সে এর আগে দেখেনি।
রমাপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। থানায় এখনও এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

লালমনিরহাটে ঈদ আনন্দমেলার নামে চলছে অশ্লীল নৃত্য

ঈদ আনন্দমেলার নামে এভাবেই চলছে অশ্লীল নৃত্য
মিলন পাটোয়ারী, লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট শহরের উপকণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ মাঠে ঈদ আনন্দমেলার নামে মাসব্যাপী চলছে অশ্লীল ও নগ্ন নৃত্য। তবে এ নিয়ে নীরব রয়েছে প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় জাদু খেলার নামে অসামাজিক নৃত্য পরিবেশন করা হলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিভিন্ন মহলে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, শহরের উপকণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ মাঠে একটি নাট্য গোষ্ঠীর ব্যানারে ৫ই নভেম্বর থেকে মাসব্যাপী চলছে ঈদ আনন্দমেলা। মেলায় ৪৮টি স্টলে বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসে। মেলার টিকিট মূল্য ৫ টাকা। শিশুদের কাছ থেকেও নেয়া হচ্ছে টিকিট। বসানো হয়েছে পুলিশের অস্থায়ী বিশেষ ক্যাম্প। মেলার পশ্চিম পাশে চলে জাদুর আসর। ওই জাদুর আসরে জাদু খেলার নামে চলছে নারী নিয়ে খেলা। জাদুর পরিবর্তে সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত চলে অশ্লীল নৃত্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের নিয়ে এসে চলে সারা রাত অর্ধনগ্ন ও অশ্লীল নাচ-গান। আয়োজকরা প্রচার করে জাদু খেলা। কিন্তু জাদুর পরিবর্তে চলে নারীর অশ্লীল নৃত্য ও গান। অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনকারীদের পরনে থাকে আপত্তিকর পোশাক। নাচের সময় নারীরা প্রদর্শন করে শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গ। তারা উঠতি বয়সীদের আকৃষ্ট করতেই এসব করে। এসব নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হচ্ছে সর্বত্র। অনেকে জাদু খেলা দেখতে এসে অশ্লীল নৃত্য দেখে ফিরে যাচ্ছে। গ্রাম ও শহরে ব্যাপক প্রচার করায় অনেকে ছুটে আসেন জাদু দেখতে। কিন্তু নারীরা এসব নাচ দেখে ফিরে যান মুখ ঢেকে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সমাপনী পরীক্ষা চলছে। সারা রাত মাইকের বিকট শব্দে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত হচ্ছে। অনেকে জেলা প্রশাসনে অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন থেকে জাদু বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও আয়োজকরা কর্ণপাত করছে না। এ ব্যাপারে মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মফিজুর রহমান জানান, অশ্লীল নৃত্য বন্ধের জন্য বার বার বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বন্ধ না করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, আমি অশ্লীল নৃত্যের বিপক্ষে।

সাবেক স্ত্রীকে বিব্রত করতে গিয়ে জেলে

চুয়াডাঙ্গায় নিজের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মাসুদ রেজা ওরফে টোকন (২৭) নামে এক তরুণকে আটক করেছে। সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুদকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রেজা আগের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে হরিরামপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের পরিণতি বিয়ে পর্যন্তও গড়ায়। তবে সে বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। বিষয়টি স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে জানাজানি হলে চার মাসের মাথায় মেয়েটির পরিবারের ইচ্ছায় তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতিশোধ নিতে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখা বৈবাহিক জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে একের পর এক ফোন দেন মাসুদ।
মেয়েটির বাবা পুরো ঘটনা জেলার পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমানকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাসুদকে আটক করে। তাঁকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা সোমবার রাতে দামুড়হুদা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন। মাসুদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে হাকিম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

 বিচার না পেয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন!

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার হয় দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেয় পুলিশ। এতে মেয়েটিকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয় ধর্ষকেরা।
বিচার না পেয়ে সেঁজুতি ওরফে কমলা (১৬) নামের ওই ছাত্রী গত শুক্রবার রাতে বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
কমলা রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী সাদেক মৃধার মেয়ে। পড়ত চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
গতকাল শনিবার সকালে কমলার আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী এবং পাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি ও বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়ক অবরোধ করে। তারা বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ রবিউল হককে প্রত্যাহার ও ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
ওসি রবিউল গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘেরাও করলে তিনি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
রঘুনাথপুর গ্রামবাসী ও কমলার পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে সাতটার দিকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কমলার চাচাতো ভাই মো. নয়ন মৃধা কমলাকে তার ঘর থেকে ডেকে নেয়। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা গ্রামের মো. নাসির আকন, মো. শামীম আকন, মো. রাজীব, মো. সবুজ ও মো. সাইফুল ইসলাম কমলাকে জোর করে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে চাচাতো ভাই নয়নও যোগ দেয়। কমলার চিৎকারে তার মা ও অন্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কমলার মা হাফিজা বেগম ওই ছয়জনকে আসামি করে পরের দিন বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কমলার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেনি।
হাফিজা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণধর্ষণের পর আসামিরা নানাভাবে আমার অন্য দুই মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয়। কিন্তু বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করে আমাকে মীমাংসা করতে বলেন। মীমাংসায় রাজি না হলে ওসি অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেন। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষকেরা কমলাকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে। বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কমলা। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সবার অজান্তে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।’
রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওসি রবিউল ধর্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ধর্ষণের মামলা না নিয়ে অপহরণচেষ্টার মামলা নেন। তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে ধর্ষকেরা কমলা ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখে। বিচার না পেয়ে লজ্জায়-ঘৃণায় আত্মহননের পথ বেছে নেয় কমলা।
চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, কমলার আত্মহত্যার খবর জানার পর তাঁর বিদ্যালয়সহ পাশের আরও চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবরোধ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের শান্ত করলে আধঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ওসি রবিউল হক বলেন, ‘আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব আসামি পলাতক। তাদের আমি চিনিও না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরও কমলার ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণ জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি রবিউল।

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১১

 হেলিকপ্টারে শ্বশুরবাড়ি এলেন অনন্ত

হেলিকপ্টার থেকে নেমে এলেন অনন্ত ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার হেলিকপ্টার থেকে নেমে এলেন অনন্ত ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার
ছবি: প্রথম আলো
বিয়ের ২২ দিন পর চিত্রনায়ক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক অনন্ত হেলিকপ্টারে চড়ে এলেন শ্বশুরবাড়িতে। স্ত্রী চিত্রনায়িকা বর্ষা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ গ্রামে বর্ষার বাবা আয়নুল হক নতুন জামাইকে বরণ করতে আয়োজন করেন এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এতে যোগ দিতে জামাই আসেন হেলিকপ্টারে চড়ে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে অনন্ত ভাড়া করা একটি হেলিকপ্টার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গাড়াদহ গ্রামে আসেন। সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। স্থানীয় সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম নতুন জামাইকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
আয়নুল হক জানান, তাঁর মেয়ে বর্ষার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন করা হয় প্রায় ১৫ হাজার আমন্ত্রিত অতিথিকে। আর সবার খাবারের জন্য ১১টি গরু, ১৬টি খাসি ও চার হাজার মুরগির ব্যবস্থা করা হয়। সেই সঙ্গে ছিল পর্যাপ্ত দই ও মিষ্টির ব্যবস্থা। খাবার রান্না শুরু হয় এক দিন আগে। বাবুর্চি এবং ডেকোরেটরের জিনিসপত্র আনা হয় ঢাকা থেকে।
বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর্ষার বাবার বাড়ির সামনে নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের পশ্চিম পাশের এক কিলোমিটার অংশ জুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়। আর এই আলোকসজ্জা ছিল পুরো এক সপ্তাহ।
বিয়ের এ অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের ১১০ জন সদস্য। ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে।
বিকেল চারটায় হেলিকপ্টারে চড়ে জামাই অনন্ত ও কনে বর্ষা এবং পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
ঢাকায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনন্ত ও বর্ষার বিয়ে হয়। অনন্ত ও বর্ষা জুটি প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন খোঁজ-দ্য সার্চ ছবিতে।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১

পারসোনার ক্যামেরা কেলেঙ্কারি - ইন্টারনেটে পর্নোসাইটগুলো সবচেয়ে বেশি হিট হচ্ছে



পারসোনার ক্যামেরা ক্যালেঙ্কারির পর ইন্টারনেটে পর্নোসাইটগুলো সবচেয়ে বেশি হিট হচ্ছে। ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও ইয়াহুতে পারসোনার পর্নো নিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চলছে। ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিনের হিসাব রাখা ওয়েবসাইট বলছে, অন্তত গত এক সপ্তাহ ধরে এ পর্নো সাইটগুলোতে হামলে পড়ছেন প্রচুর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

একই সাথে ব্লগ দুনিয়ায় এখন এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। সামহয়্যারইনব্লগ, সচলায়তন, বিডিনিউজব্লগ,ফেসবুকসহ বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পুলিশ কোনো রকমের ছাড় না দিয়ে তদন্ত করছে বলে বাংলানিউজ শুক্রবার সংবাদ প্রকাশ করেছে।


বিডিনিউজের ব্লগে আইরিন একটি পোস্টে বলেছেন, যে ক্যামেরাটিকে সিসি ক্যামেরা বলে চালানো হচ্ছে, সেটি আদতে আইপি ক্যামেরা কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সিসি ক্যামেরার চেয়ে আইপি ক্যামেরা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। তাই আমাদের এটি জানতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যবসায় করছে পারসোনা। তাই পারসোনার সব আউটলেটে অবশ্যই এ ধরনের ক্যামেরা থাকতে পারে, সেটি খুলে নেয়া জরুরি বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।


কানিজ আলমাসের কাছে যে প্রশ্নগুলো রেখেছেন ইন্টারনেট দুনিয়ার পাঠক-লেখকরা, সেগুলো হলো-‘পারসোনায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত জিনিস রাখার জন্য লকার রাখা হয়নি কেন?’, ‘সিসি ক্যামেরা আছে, এমন জায়গাগুলোতে দিজ প্লেস ইজ আন্ডার সার্ভিলেন্সের মতো সতর্ক নোটিশ রাখা হয়নি কেন?’, ‘যে কর্মীরা ভিডিও সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে তাদের ব্যাপারে কী ব্যবস'া নেয়া হয়েছে?’, ‘কোন প্রতিষ্ঠানের, কোন টেকনিশিয়ান ক্যামেরা সেট করে দিয়েছেন?’, ‘আমরা ধরে নেই কেষ্ট বেটাই চোর, তাহলে সেই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে কাজে গাফেলতি নিয়ে শোকজ করবেন কি কানিজ আলমাস?’, ‘ত্রুটিপূর্ণ ক্যামেরা সম্পর্কে ডিউটিরত কর্মচারীরা রিপোর্ট করেননি কেন?’, ‘চিকিৎসক গ্রাহকের স্বামীর প্রশ্ন- যদি ব্যাড ইনটেশন না থাকে, তাহলে ওই কক্ষের ক্যামেরা দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেয়া হলো কেন?’


এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি পারসোনা। কেবল বক্তব্য অস্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ফেসবুকে পারসোনার নিজস্ব হোমপেজে বলা হয়েছে, গ্রাহকের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হওয়ার কারণে তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন।
ব্লগাররা প্রশ্ন তুলেছেন এটি কোনোভাবেই যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে না। আইরিন বলছেন, এটি খুবই ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


বিডি নিউজের ব্লগে কান্তা লিখেছেন, ‘কানিজ আলমাস ও তার স্বামীর (ইনি পার্সোনার কর্মচারী) শাস্তি হওয়া উচিত। তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তদন্ত করার জন্য আয়কর বিভাগকে অনুরোধ করছি। নাপিতের ব্যবসায় ছাড়া এদের আর কোনো অবৈধ ব্যবসায় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া এই জাতীয় ব্যবসায়ের সাথে জড়িত অন্যান্য মহিলা যেমন, ফারজানা শাকিল এবং তার স্বামী শাকিলের (ইনিও কর্মচারী) কার্যকলাপও তদন্ত হওয়া দরকার। তাদের আউটলেটগুলোতে কোনো লিখিত সার্ভিস রেট নেই। তারা মহিলাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে থাকেন। ফেসিয়ালের নামে তেঁতুলের পানি আর স্পার নামে মহিলাদের গায়ে কাদামাটি মাখিয়ে এরা ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন। পত্রিকার সম্পাদক ও পুলিশের বড় কর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদের এখানে স্পেশাল ব্যবস'া আছে। তাই কোনো পত্রিকায় পারসোনার বিরুদ্ধে লেখা দেখবেন না। মিডিয়ার মেয়েরাও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। ’


মায়া রহমান লিখেছেন, ‘অনেক সেলিব্রেটির নগ্ন/ অর্ধনগ্ন ছবি অনলাইনে দেখা যায়। এইবার এর সোর্স বোঝা গেলো। কিন' সেই (কয়েকজন অভিনেত্রীর নাম...) ও অন্যদের কাউকেই কিন' একবারো প্রতিবাদ করতে দেখলাম না। বাংলাদেশের ব্যাপারটা বোঝা আমার কর্ম নয়। ’
ব্লগার কানা বাবা অবশ্য পারসোনা বন্ধের পক্ষে নন। তিনি কিছু নীতিমালা চান, কোথায় কোথায় বসানো যাবে সিসি টিভি ক্যামেরা। তা সরকার যেন নির্ধারণ করে দেয়, সেটি তিনি দাবি করেছেন। একই সাথে পারসোনার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেছেন, এটি তদন্ত না করা হলে সামনে এ ধরনের ঘটনা বাড়বেই।


বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১১

পাবনার ঈশ্বরদীতে অদ্ভুত শিশুর জন্ম’র এক ঘন্টা পর মৃত্যু


শাহীন রহমান,পাবনা :
পাবনার ঈশ্বরদীতে মঙ্গলবার দুপুরে দুই মাথা ও তিন হাত বিশিষ্ট একটি শিশু জন্মগ্রহণের একঘন্টা পর মারা গেছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি নবজাতক ‘পলাশ-শিমূল‘কে। তবে ওই শিশুর মা শিউলি বেগম (২৫) বর্তমানে সুস্থ আছেন।
কর্তব্যরত সিজারিয়ান চিকিৎসক আসমা খানম সাংবাদিকদের জানান, আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট অনুযায়ী ঈশ্বরদীর আরামবাড়িয়া সাদিপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিউলি বেগমের গর্ভে জমজ বাচ্চা আছে জেনেই মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। প্রথমে বোঝা না গেলেও পেট থেকে বাচ্চাটি বের করার পর দেখা যায় ওই শিশুর দুটি মাথা ও তিনটি হাত এবং যথারিতি পা আছে দু’টি। জমজ ছেলে শিশুর বাবা-মা শিউলি বেগম ও শহিদুল ইসলাম শখ করে ফুলের নামে তাদের জমজ শিশুর নাম রেখেছিলেন পলাশ ও শিমূল।
শিশুটি ভূমিষ্ট হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ বেঁচে থাকলেও এক ঘন্টা পর তাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি বলে জানান ডাক্তার আরমিনা নাজনিন। এনেসথেসিয়া চিকিৎসক আতাউর রহমান জানান, ঈশ্বরদী হাসপাতালে এ ধরনের শিশু জন্মের ঘটনা এটিই প্রথম। এদিকে দুই মাথা বিশিষ্ট শিশু জন্মের চাঞ্চল্যকর খবরে হাসপাতালে শত শত উৎসুক মানুষ একনজর শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons