প্রতারনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতারনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২

প্রেম প্রতারণা, ফেঁসে গেছেন যশোর কারাগারের ডেপুটি জেলার

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীর সর্বস্ব লুট করে এখন ফেঁসে গেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী’র মতো সম্পর্ক গড়ে এখন অস্বীকার করছে। এ অবস্থায় তরুণীটি এ প্রতারণার বিচার চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে এবং তার সঙ্গে আকতারের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি জমা দিয়েছে। আবেদনে মেয়েটির দাবি- এ প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার বিকল্প নেই। এদিকে মেয়েটির আত্মহত্যার হুমকি এবং বিচারের আবেদন ও তার সঙ্গে যুক্ত করা কিছু ছবি নিয়ে বিপাকে পড়েছে কারাকর্তৃপক্ষ। ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় গোটা কারাপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যশোর কারাকর্তৃপক্ষ ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনকে শোকজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনের সঙ্গে প্রায় ৮ মাস আগে পরিচয় হয় কারাগারেরই আরেক কর্মচারীর কলেজপড়ুয়া কন্যার। অল্পদিনেই অনিন্দ্য সুন্দর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আকতার। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আকতার মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সর্বনাশ শুরু করে। বিয়ের কথা বলে আকতার মেয়েটির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। দিনে দিনে তাদের ঘনিষ্ঠতা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। যা নিয়ে কারা চত্বরে নানা রকম রসাত্মক আলাপ-আলোচনার জন্ম হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ‘হবু জামাই’ জেলার আকতারের পরামর্শে ৩ মাস আগে তরুণীর পিতা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বদলি হয়ে স্বেচ্ছায় যান রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। আকতার ছুটি নিয়ে মাঝে মধ্যে রাজশাহী যেতেন এবং ওই তরুণীর বাসায়ও থাকতেন। আর বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে সময় ক্ষেপণ করতেন। পাঁচদিন আগে জরুরি কাজে নিজ বাড়ি যাওয়ার নামে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আকতার রাজশাহী যান। এবারও রাজশাহীতে গিয়ে আকতার তার প্রেমিকার বাসায় উঠেছিলেন। এ সময় মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মেয়ের পিতা-মাতা আকতারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এরপরই প্রকাশ পায় আকতারের আসল রূপ। তিনি সরাসরি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জানিয়ে দেন- ‘যা হয়েছে তা দু’জনের সম্মতিতেই হয়েছে। যে মেয়ে বিয়ের আগে তার প্রেমিককে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে, নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।’
আকতারের এ প্রত্যাখ্যানে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তরুণীর। সে ছুটে আসে যশোরে। লিখিত নালিশ জানায় কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আকতারকে ডেকে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। নিরুপায় তরুণী এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ফলে বিপাকে পড়ে কারাগার কর্তৃপক্ষ। গত দু’দিন ধরে তরুণী ও তার অভিভাবকরা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মচারীর বাসায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, কারাগার কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডেপুটি জেলার আকতারের পিতা-মাতাও এসেছেন যশোর। তারাও ছেলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, ওই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে তারা মেনে নেবেন না।
আকতারের এ প্রতারণার কাহিনী এখন শুধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে শহরে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা, সাংবাদিকসহ বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কারাগারে।
তরুণীর মা সাংবাদিকদের বলেন, আকতারের সঙ্গে তার মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেম সম্পর্ক। সে তার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে রাত-বিরাতে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় দু’জনে ছবি তুলেছে। কিন্তু যখনই বিয়ের কথা বলা হয়েছে তখনই সে ‘একটু সময় দিন’ বলে কালক্ষেপণ করেছেন। সমপ্রতি গত ৫ দিন আগে রাজশাহী গিয়ে তার বাসায় ওঠেন আকতার। তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ফাঁস হয়ে যায় তার আসল চেহারা। সে এখন আর তার মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললেও তারা বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন দাবি করেন, ‘আমাদের মধ্যে স্রেফ বন্ধুত্ব ছিল। এর বেশি কিছু না।’
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে যশোরে এসে অফিসে যোগদান করেছি। এরপর আকতারের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের বিষয়টি অবহিত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত। এখানে কারা প্রশাসনের করার কিছুই নেই। তবে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান আশা করেন তিনি।
আকতার বিয়ে করতে রাজি না হলে তরুণী আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে- এমন কথা শুনেছেন কিনা জানতে চাইলে জেলর মাসুদ পারভেজ বলেন, যদি উভয়পক্ষ কোন যৌক্তিক সমঝোতায় আসতে না পারেন এবং মেয়েপক্ষ লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেন তবে তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এদিকে মেয়েটির লিখিত আবেদন ও বিশেষ ঘনিষ্ঠতার মুহূর্তের কিছু ছবি হাতে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকতারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নোটিসে বলা হয়েছে, তার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিব্রত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে আশু সুস্থ সমাধানে উপনীত হতে না পারলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সুপার সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিসটি বৃহস্পতিবার ডেপুটি জেলার আকতারের হাতে দেয়া হয়। আগামী দু’দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জেলার জানান, বিষয়টি জানানো হয়েছে কারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আইজিকেও। আইজি (প্রিজন্স) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ডেপুটি জেলার নোটিসের জবাব দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বিবদমান যে কোন পক্ষ ইচ্ছা করলে আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
এদিকে, প্রতারণার শিকার তরুণী গতকাল যশোর ছেড়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি যশোরের জেলা প্রশাসককে প্রতারণার কাহিনী লিখিতভাবে জানিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারও বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। এদিকে কারা অভ্যন্তরে বসবাসকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১১

গোসলের গোপন ভিডিও

undefined
দুবাইতে এক পিজ্জা ডেলিভারি বয় গোপনে দুই মহিলার বিবস্ত্র গোসলের দৃশ্য ভিডিও করেছে। এ কে (৩১) নামের ফিলিপাইনি ডেলিভারি বয় এয়ারকন্ডিশন সিস্টেমের ওপর গোপনে তার ব্ল্যাকবেরি মোবাইলের ক্যামেরা ওপেন করে রেখে দেয়, যাতে এম কে (৩৫) ও আর এল (২৮) নামক দুই মহিলার বিবস্ত্র গোসলের দৃশ্য রেকর্ড হয়। ক্যামেরা দেখে আর এলের সন্দেহ হলে নামিয়ে এনে দেখে ৫০ মিনিট স্থায়ী ভিডিওতে তাদের দু’জনের বিবস্ত্র গোসলের দৃশ্য ধারণ করা। তারা পুলিশে অভিযোগ করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ কে আদালতে তার অপরাধ স্বীকার করে নেয় এবং আর কখনও এমন করবে না বলে শপথ করে। আগামী ৫ই ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করবেন বিচারক।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

শ্বশুরের অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল

undefined
অভিনেতা গর্ডন রামসে তার শ্বশুর ক্রিস হাটসেনের সঙ্গে তার মহিলা ডিরেক্টর সারা স্টুয়ার্টের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পাপারাজ্জি দিয়ে তুলিয়েছেন। এই ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়ে রামসে সারার কাছে ২৫ লাখ পাউন্ড দাবি করছেন। সারা ও রামসের মধ্যে টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সারা স্টুয়ার্ট বিধবা ও চার সন্তানের জননী।   

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

কোকেনসহ গ্রেফতার হলেন ব্রুক মুলার

কোকেন বহনের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে হলিউডি অভিনেত্রী ব্রুক মুলারকে। খবর পিটিআই- এর।

কোকেনসহ গ্রেফতার হওয়াটা ব্রুকের জন্য মোটেও নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে ২০০১ সালে তিনি কোকেন বহনের অভিযোগে ফ্লোরিডায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে কোকেন সেবন না করায় সেবার খুব দ্রুতই ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, মাদকে জর্জরিত আরেক হলিউডি তারকা চার্লি শিনের সঙ্গে ব্রুকের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে ২০০৯ সালে। চলতি বছর বেশ কয়েকবারই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন ব্রুক।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

সাবেক স্ত্রীকে বিব্রত করতে গিয়ে জেলে

চুয়াডাঙ্গায় নিজের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মাসুদ রেজা ওরফে টোকন (২৭) নামে এক তরুণকে আটক করেছে। সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুদকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রেজা আগের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে হরিরামপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের পরিণতি বিয়ে পর্যন্তও গড়ায়। তবে সে বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। বিষয়টি স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে জানাজানি হলে চার মাসের মাথায় মেয়েটির পরিবারের ইচ্ছায় তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতিশোধ নিতে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখা বৈবাহিক জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে একের পর এক ফোন দেন মাসুদ।
মেয়েটির বাবা পুরো ঘটনা জেলার পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমানকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাসুদকে আটক করে। তাঁকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা সোমবার রাতে দামুড়হুদা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন। মাসুদকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে হাকিম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

কক্সবাজারে মধু’র বাণিজ্য

 পুরো নাম হনুফা আকতার মধু। তারা ৩ বোন। তাদের কাজ প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লোভেী পুরুষদের সর্বস্বান্ত করা। তিন বোনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তবে থানার সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তারা আইন ভাল বোঝে। তাই তাদের অভিযোগেও হয়রানি শিকার হচ্ছেন অনেকে। থানা, কোর্ট, হোটেল, মোটেলসহ সর্বত্র রয়েছে মধুদের কদর। তবে তারা বেশি দিন এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে  না। কিছুদিন পর পরই বাসা পাল্টাতে হয়। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জেনে বেরসিক বাড়িওয়ালারা তাদের বের করে দেন বাড়ি থেকে।
মহেশখালী উপজেলার পৌর এলাকার ১৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহানা আকতার মিলি, হনুফা আকতার মধু ও কাজল। ৭-৮ বছর আগে আসে কক্সবাজারে। এ আসার পেছনেও রয়েছে কাহিনী। তাদের মা খতিজা বেগম জীনের কথা বলে বহু মানুষকে ‘স্বর্ণের ডেক’ পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মাসৎ করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নেয়। এ অবস্থায় তারা মহেশখালী ছাড়তে বাধ্য হয়। কক্সবাজার এসে প্রথমে শহরের মাঝেরঘাট এলাকা বাসা ভাড়া নেয় তারা। খতিজা  বেগম লোভ দেখিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে থাকে। মায়ের পথ ধরে বড় মেয়ে মিলি। মা ও বড় বোনের সঙ্গে যোগ দেয় হানিফা আকতার মধু-ও। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর জানাজানি হলে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালার চাপে বাসা ছাড়ে তারা। এরপর বাসা নেয় টার্মিনাল এলাকায়। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে আসে বিডিআর ক্যাম্প এলাকায়। তারপর টিএমসি স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। সেখান থেকে সিকদার মহেলর পেছনে। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে বাজারঘাটা রয়েল হোটেলের পেছনে। এভাবে তাদের প্রায় ১৫টি বাসা ছাড়তে হয়। তাদের মধ্যে মধু’র কৌশল একটু ভিন্ন। দেহব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে পটু সে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হলেও কেউ প্রতিবাদ বা উচ্চবাচ্য করার সাহস পায় না। তা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করার অনেক নজিরও রয়েছে।
২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর ইসমাইল হোসনকে বিয়ে করে মধু। ২০০৯ সালে ৬ই জুন এ বিয়ে ভেঙে যায়। এক দারোগার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন ৯৩ হাজার টাকা। কিছুদিন পর সে বিয়ে করে বাংলাবাজার এলাকার শামশুল আলমকে। তার সংসারে থাকতেই শহরের টেকপাড়ার জুবাইদুল ইসলাম বাপ্পীকে বিয়ে করে পালিয়ে গিয়ে। অপরদিকে দুশ্চরিত্র মেয়েকে বিয়ে করার খবর পেয়ে পিতামাতা জুবাইরুলকে ঘর থেকে বের করে দেন। মামলাও করেন। এ মামলায় জেল খাটে জুবাইদুল ও মধু। জেল থেকে বেরিয়ে জুবাইদুল দেখে, যে স্ত্রীর জন্য পিতামাতা ত্যাগ করেছে, সে স্ত্রীর রয়েছে অসংখ্য বয়ফ্রেন্ড। নামীদামি ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ। জুবাইদুলের সন্দেহ হয়। স্ত্রীর ওপর সে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর তার কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। তার অজান্তে প্রিয়তম স্ত্রী মধু এতদিন চালিয়ে যাচ্ছিল দেহ ব্যবসা। বিভিন্ন সময় হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন স্থানে স্ত্রীকে ধরে ফেলে স্বামী। এসব কারণে মধুর প্রতি তার মোহ কেটে যায়। ফলে তাদের এই বিয়েও স্থায়ী হয়নি। জুবাইদুল জানায়, অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ভাল করতে পারেনি সে। পরে অন্যের পরামর্শে তাকে ডিভোর্স দেয় স্ত্রী। বনিবনা না হওয়ায় উভয়ে আলাদা হওয়ার ব্যাপারে একটি অঙ্গীকারনামাও করে। এর কয়েকদিন পরই থানা ও কোর্টে পৃথক দু’টি মামলা করে মধু। জুবাইদুল বলে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া মধুদের কাজ। মধুর বড় ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী জেসমিন আকতার জানান, মধুদের পরিবারে শহরের নামীদামি ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিয়ের পরে মধুদের পরিবারে যাওয়ার পর থেকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বাসায় আগন্তুক ব্যক্তিদের ‘সেবা’ দেয়ার জন্য তাকে স্বামী-শাশুড়ি-ননদ নিয়মিত অত্যাচার চালাতো। তাদের ধারাবাহিক অত্যাচার ও নির্যাতনে সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ১ সন্তানসহ বাপের বাড়িতে থাকছেন। মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান,  ২০-২২ দিন হলো আমি মধুকে চিনি। একটি অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে আমার কাছ এসেছিল সে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুনেছি মেয়েটি খারাপ। তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। মডেল থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার জানান, মধুর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রভাত কর্মকারকে পরিবর্তন করে জিসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হনুফা আক্তার মধু বলেন, অভিযোগকারীদের সব অভিযোগ সত্য, আপনারা ভালো করে লিখে দিন।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১১

ইন্টারনেটে বানানো ছবি ফাঁসে বিব্রত তেন্ডুলকার-পুনম পান্ডে

ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ভারতীয় অভিনেত্রী পুনম পান্ডের নগ্ন ছবি বসিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় শচীন টেন্ডুলকার এবং পুনম পান্ডে দুজনই বিব্রত হয়েছেন এবং কষ্ট  পেয়েছেন।

পুনমের বিব্রতকর ছবি ছড়িয়ে পড়ায় শচীন বেশ কষ্ট পেয়েছেন বলেই জানা গেছে। এ ছবিটি ফটোশপের কাজ বলেই মনে করছেন তিনি।

এদিকে, পুনম পান্ডেও দুঃখ পেয়েছেন এবং হতাশা ব্যক্ত করে টুইট করেছেন।

টুইটে পুনম লিখেছেন, ‘সারাবিশ্বে আমার ভক্তদের আমার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু শচীনের সঙ্গে আমার এডিট করা এমন ছবি প্রকাশ করায় আমি খুব দুঃখ পেয়েছি, কারণ ক্রিকেট আমার কাছে ধর্মের মতো।’



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১

পপ কিং-এর ময়নাতদন্তের নগ্ন ছবি ফাঁস

পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের ময়না তদন্তের মৃতদেহের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছেন তার ভক্ত ও পরিবারের সদস্যরা। খবর হিন্দুস্তান টাইমস-এর।

জ্যাকসনকে ‘হত্যার দায়ে’ ডাক্তার কনরাড মুরের বিচারকার্য টেলিভিশনে প্রদর্শনের সময় জ্যাকসনের এই বিভৎস ছবিটি সবার নজরে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, মৃত জ্যাকসন চিৎ হয়ে ময়না তদন্তের টেবিলের উপর শুয়ে আছেন। পপ কিং এর মৃতদেহের পুরোপুরি নগ্ন এমন একটি ছবি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় যার পর নাই ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছেন সবাই।

উল্লেখ্য, জ্যাকসনের ময়না তদন্ত করেছিলেন প্যাথলজিস্ট ক্রিস্টোফার রজারস। অতিরিক্ত প্রপোফল সেবনের কারণে জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছে বলেই নিশ্চিত করেছেন তিনি। 



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুন্সীগঞ্জে হোটেলে অসামাজিকতায় লিপ্ত ৫ নারীসহ গ্রেফতার ১০


মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে : মুন্সীগঞ্জ শহরের ইসলাম মার্কেটের থ্রি স্টার হোটেলে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অসামাজিকতায় লিপ্ত থাকা অবস্থায় পাঁচ নারী, চার পুরুষ এবং হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমানসহ (২৬) ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সদর থানার সেকেন্ড অফিসার সুলতান মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেল অসামাজিক কর্যকলাপ চলছিল। এই হোটেলের মালিক পিকলুসের নেতৃত্বে অনেক চক্র মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীদের বিপথগামী করে তুলছে। আটককৃতরে মধ্যে একজন মাদ্রাসা ছাত্রী এবং একজন স্কুল ছাত্রী রয়েছে। এব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে – ডালিম (২৬), সজিব (২৯), অপু (১৯), হানিফ (২০) এবং ময়না (৩২), টুম্পা (১৮), সুর্বণা রানী (৩৫), নাসিমা আক্তার (২৮), সুইটি আক্তার (২৬) ও হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমান (২৬)।



মুন্সিগঞ্জ নিউজ


—————
মুন্সীগঞ্জে হোটেল থেকে গৃহবধু ও কলেজ ছাত্রীসহ ১০ জন গ্রেফতার
কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ থেকে : অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহরস্থ থ্রি স্টার হোটেল থেকে কলেজ ছাত্রী ও গৃহবধুসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজারও রয়েছে। পরে তাদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
গোপন সংবাদে খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় থ্রি স্টার হোটেলে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় অপু মিয়া, আবু হানিফ, মো. ডালিম, সজিব খান, সুর্বনা মন্ডল, ময়না বেগম, টুম্পা বেগম, সুইটি আক্তার, নাছিমা আক্তার এবং হোটেল ম্যানেজার সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মহিলাদের মধ্যে গৃহবধু ও কলেজ ছাত্রী রয়েছে। তাদের বাড়ি সদর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। স্থাণীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলটিতে অপকর্ম চলছিল।

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১১

মোবাইল ফোনে প্রেম, এরপর . . . .


তোহুর আহমদ : ঢাকা থেকে :  পিতা ব্যাংক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন মেয়েকে শখ করে দামি মোবাইল ফোন সেট কিনে দেন সে কখন কোথায় থাকছে তার খোঁজখবর নেয়ার জন্য। কিন্তু মোবাইল কাল হয়ে দাঁড়ায়। স্কুলে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে মেয়ে। না দেখেই মোবাইল ফোনে একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তার। সম্পর্ক গড়ে ওঠার কয়েক মাস পর তাদের দু’জনের দেখা হয়। কিন্তু দেখা হওয়ার পর জানা যায় ছেলেটি মোবাইল ফোনে খুব ভাল কথা বলতে পারলেও লেখাপড়া কিছুই জানে না। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। এরপর প্রচণ্ড মানসিক আঘাত। আশাহত অনুভূতির প্রচণ্ড চাপ। এ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা। ঘটনাটি দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাথীর। মা আফসানা বেগম তাকে নিয়ে এসেছেন ধানমন্ডির মনোজগত সেন্টারে। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য। তার রঙ ফরসা। শরীর শীর্ণ। অসম্ভব রোগাটে, মাথা ন্যাড়া।
মা জানালেন তার মেয়ে প্রায় এক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। কিন্তু এ বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে- এটা কি বংশীয় অসুখ? নাকি অন্যকিছু। এত প্রশ্ন শুনে মুখে আঁচল চাপা দেন মা। প্রশ্ন এড়াতে মেয়েকে নিয়ে একপাশে সরে গেলেন। কাছে গিয়ে আবারও প্রশ্ন করতেই ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন। বলেন, বংশীয় কোন অসুখ নয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন, আমার মেয়ে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। ফাইভে ও এইটে দু’টোতেই বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু এখন অসময়েই ওর জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টিকে আমরা এত গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু ও হঠাৎ খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিল। বান্ধবীদের সঙ্গে আর মেশে না। টিভি দেখে না। পড়াশোনা করে না। ওর শরীর আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগল। উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমরা কি হয়েছে জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের মুখ দিয়ে একটি কথাও বলাতে পারিনি। অথচ ওর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। অবস্থা এমন হলো যে ও আর বাথরুমেও যায় না। ঘরেই বাথরুম করে নোংরা করে রাখে। পরে ওর এক বান্ধবীর কাছ থেকে আমরা জানতে পারলাম কিন্তু এসব বিষয় আমাদের কাছে কিছুই বলেনি। ধীরে ধীরে ও নিজেই নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ হয়ে যেতে থাকে। ও যখন পুরোপুরি অসুস্থ তখন আমরা ওর এক বান্ধবীর মুখে ঘটনা শুনতে পাই।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা যখন একের অপরকে দেখেছে তখন তাদের সাজানো মানুষটির সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকছে না। তখন ঘটছে বিপর্যয়। অনেকেই বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে পারলেও অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিমর্ষতায় ভুগছে নয়তো মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু যে মোবাইল ফোনে প্রেমের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা নয়। মোবাইল ফোনে প্রেমের অভিনয়ের জন্য পেশাদার একটি চক্রও গড়ে উঠেছে। গত মাসে র‌্যাব-৩ আসমা নামের এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে গুলিস্তান এলাকা থেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। এরপর প্রেমিককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে তার বাবা-মায়ের কাছে মুক্তিপণ আদায় করতো। এ সময় পেশাদার মোবাইল প্রেমিকা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে মিসড কল দেয়। কোন ছেলে কণ্ঠ ফোন ব্যাক করলে মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলে। কথার জালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রথম দিকে তারা প্রায়ই ছেলেটিকে মোবাইলে টাকা পাঠাতে বলে। এরপর সব ঠিকঠাক করে ছেলেটিকে তাদের আস্তানায় আসতে বলে। এরপর তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এছাড়া ইন্টারনেট বেশ কিছু বাংলা ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে স্মার্ট নারী কণ্ঠের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা কথা বলা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে ডেটিংও করা যায়। এ ধরনের শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। মনোজগত সেন্টারের চিকিৎসক বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, মোবাইল ফোনে প্রেম-পরবর্তী অবসাদ সংক্রান্ত কেস প্রায়ই আসছে। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেটিকে না দেখেই অল্পবয়সী মেয়েরা মোবাইল ফোনে সুন্দর কণ্ঠস্বর শুনে পুরুষটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কিন্তু পরে যখন তারা একে অপরকে দেখেছে তখন তাদের কল্পনার সঙ্গে মিলছে না।
এসব ক্ষেত্রের মেয়েরাই বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। কল্পনার মানুষটির সঙ্গে না মেলায় এক ধরনের আশাহত অনুভূতির চাপে ভুগছে মেয়েটি। এখান থেকেই তার মানসিক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক মেয়ে পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ছেলেটি মেয়েটির নানা ধরনের ছবি তুলে রাখছে। পরে মেয়েটিকে ওইসব ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। যার পরিণতিতে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। ফিরোজ বলেন, এ ধরনের অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সন্তানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো। সন্তান কোথায় যাচ্ছে কি করছে সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে।
সমাজে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে এ জন্য মোবাইল ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে একটা আইন করা জরুরি। যে আইনে বলা হবে কত বছর বয়স পর্যন্ত মোবাইল ফোন কেনা যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বাবা-মা সন্তানদের কাছে ওপেন বা ফ্রি নন। বাবা মা যদি ফ্রি হন তবে সন্তান কোথায় কি করছে তা তারা জানতে পারতেন। সন্তান বাবা-মাকে লুকিয়ে কোন কিছু করতো না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা থেকেই সন্তানকে রক্ষা করা যেতো।

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১১

স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যা, অতঃপর …

জর্দানের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যা করেছে। পরে তিনি ওই প্রেমিকের পুরম্নষাঙ্গ কেটে ব্যাগে করে পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। একজন জুডিশিয়াল কর্মকর্তা সোমবার এ কথা জানান। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি আম্মান শহরতলীর একটি হোটেল রুমে শনিবার এ হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। তিনি নিজে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন এবং দোষ স্বীকার করেছেন। স্ত্রী ও তার প্রেমিকের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে একটি মীমাংসায় যেতে চেয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। অনৈতিক কাজ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে পরে তিনি ওই প্রেমিককে গলা কেটে হত্যা করেন।যৌন সম্পর্কের অভিযোগে এর আগে ২৭ বছর বয়সী মহিলা ও তার প্রেমিককে আটক রাখা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ ৰমায় সম্প্রতি তারা মুক্তি পান। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মুক্তি পেয়ে তারা আবারও বেপরোয়া যৌনাচারে লিপ্ত হলে বেচারা স্বামী তা সহ্য করতে পারেননি এবং তিনি হত্যার পরিকল্পনা অাঁটেন। -এএফপি।
জনকন্ঠ

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

 কোচিংয়ের চিচিং-ফাঁক

ভৈরব পৌর শহরের দেয়ালে লাগানো প্যারাগন কোচিং সেন্টারের পোস্টার<span title=। আবদুর রহমান (গোলচিহ্নিত) আসলে দ্" width="100%">

ভৈরব পৌর শহরের দেয়ালে লাগানো প্যারাগন কোচিং সেন্টারের পোস্টার। আবদুর রহমান (গোলচিহ্নিত) আসলে দ্বিতীয় শ্রেণী পাস করা দিনমজুর ফরহাদ। তাঁকে দেখানো হয়েছে, তিনি এখানে কোচিং করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন

প্রথম আলো

দেয়ালে সাঁটানো চাররঙা পোস্টারে ছেলের ছবি দেখে থমকে দাঁড়ান নিরক্ষর নার্গিস বেগম (৪৫) পোস্টারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন, এটা তাঁর ছেলে ফরহাদের (১৯) ছবি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ওঠার পর পড়ালেখার পাট চুকাতে হয়েছে ফরহাদকে এখন মাছবাজারে দিনমজুরের কাজ করেন
পোস্টারে ফরহাদের ছবি দেখে অজানা শঙ্কায় পেয়ে বসে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবেড় দক্ষিণপাড়ার নার্গিসকে এক পথচারীকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, ‘বাজান, পোস্টারে কী লিখা আছে
পোস্টারে বড় অক্ষরে লেখা: ‘প্রথম বছরেই বিস্ময়কর সাফল্য “ওরা আমাদের গর্ব, ওরা আমাদের অহংকার” তোমাদের জন্য প্রাণঢালা অভিনন্দন-অভিনন্দন-অভিনন্দন
এটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার প্যারাগনের বিজ্ঞাপন ঢাকার প্যারাগন কোচিং এ বছরই ভৈরবে তাদের শাখা খুলেছে শাখাটির অবস্থান ভৈরব পৌর শহরের রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ সড়কে এ বছর থেকে চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তাদের সেন্টার থেকে কোচিং করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে—এমন ২৭ জনের ছবিসংবলিত একটি পোস্টার শহরে কয়েক মাস ধরে শোভা পাচ্ছে
প্রথম আলো এই ২৭ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছে, এদের কেউই প্যারাগন কোচিং সেন্টার থেকে কোচিং করেননি আবার ফরহাদের মতো অনেকে জানেই না তাঁদের ছবি কীভাবে সাফল্যের তালিকায় স্থান পেল পোস্টারে ফরহাদের নাম আ. রহমান উল্লেখ করা আছে
কোচিং সেন্টারের পোস্টারে নিজের ছবি দেখে ফরহাদ বলেন, ‘বিদেশ যামু মনে কইরা জীবনে একবার স্টুডিওতে যাইয়া ছবি তুলছিলাম ছাপানো এই ছবিটা ছাড়া আমার আর কোনো ছবি নাই নিজেও জানি না কীভাবে আমার ছবি পোস্টারে গেল’ জানতে চাইলে প্যারাগন ভৈরব শাখার পরিচালক আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আসলে বিষয়টি কীভাবে হলো, আমরাও ঠিক বুঝতে পারছি না মনে হয় প্রেস ভুল করেছে’ শাখা চালুর পর কোনো পরীক্ষা না হলেও কীভাবে ২৭ জন সাফল্য পেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আগের বছর অন্য একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতাম এরা আগের সেন্টার থেকে কোচিং নিয়েছিল
তিন জেলায় কোচিংয়ের হাট: সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু প্যারাগন নয়, ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের প্রায় এক ডজন শাখা নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা সদরে খোলা হয়েছে এর মধ্যে প্যারাগন, লিডস ভার্সিটি, ইউসিসি, ইউনিএইড (কিরণ-সুমন-কবির), এডমিশন প্লাস, ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার, ইউএসি, পজিট্রন, ইউনিএইড (মনির-মল্লিক-জহির), এভিনিউ কোচিং, মেডিকেল কলেজ ভর্তি কোচিং প্রাইমেট উল্লেখযোগ্য সেন্টারগুলোর নাম ভিন্ন হলেও শিক্ষার কৌশল এবং শিক্ষকের মান প্রায় একই রকম প্রায় চার মাসের কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা গড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা নিয়ে থাকে
কোচিং করেছে এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রথম কয়েক দিন প্রধান কার্যালয় থেকে শিক্ষক আসেন পরে স্থানীয় শিক্ষক দিয়েই ক্লাস পরিচালনা করা হয় সপ্তাহে চার দিন ক্লাস হওয়ার কথা কিন্তু সব সপ্তাহে হয় না নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি গাইড ও লেকচার শিট দেওয়া হয় না ডেইলি টেস্ট, রিভিশন টেস্ট, পেপার ফাইনাল, সাবজেক্ট ফাইনাল, মডেল টেস্ট ইত্যাদির কথা বলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তার সব হয় না
প্রচার: প্রচারকাজে বেহিসাবি লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তথ্য স্মরণিকা, প্রসপেক্টাস ব্যবহার করা হচ্ছে তা ছাড়া বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ এবং শিক্ষক কমিশন প্রথা চালু এই প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান সড়কে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরত্বে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ব্যানার সড়কবাতির খুঁটি, ছোট-বড় গাছ—সবকিছুতে ব্যানার লাগানো ‘অবাক করা সাফল্য’, ‘বিস্ময়কর সাফল্য’, ‘তাক লাগানো সাফল্য’, ‘চোখ ধাঁধানো সাফল্য’, ‘আশ্চর্য রকম সাফল্য’, ‘হতবাগ হবার মতো সাফল্য’ ইত্যাদি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এসব পোস্টার-ব্যানারে
ভৈরব জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশন যেমন আচরণবিধি জারি করে যত্রতত্র প্রচারণার অত্যাচার থেকে নাগরিকদের রক্ষা করেছে, তেমনি কোচিং সেন্টরের বেলায় এমন আচরণবিধি করা দরকার
একাধিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনকারীদের তালিকায় দিনমজুর ফরহাদের ছবি আসলে কোচিং সেন্টারের প্রতারণার চিত্র এর মাধ্যমে সামান্য হলেও প্রকাশ পেয়েছে কোচিং সেন্টারগুলোর শিক্ষা-বাণিজ্যের অন্ধকার দিক
নীতিবর্জিত কর্মকাণ্ড: ভৈরবের শিক্ষার্থী মানাল বিনতে মো. উল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল হামীম টানাহেঁচড়ার শিকার হয়েছেন বলে জানান ইউসিসি এবং প্যারাগন ভৈরব শাখার পোস্টারে তাঁদের ছবি ছাপিয়েছে
মানাল তাঁর কাছে পড়ত কি না জানতে চাইলে প্যারাগনের পরিচালক বলেন, ‘মানাল আমার এখানে মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছে সে হিসেবে তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি
ইউসিসি কোচিং সেন্টার ভৈরব শাখার পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘আমার সেন্টার থেকে কোচিং করেছে এমন অনেক শিক্ষার্থীর ছবি বিভিন্ন কোচিং সেন্টার প্রচারণায় ব্যবহার করছে বিশেষ করে, প্যারাগন আমাদের মেধাবীদের নিয়ে বাণিজ্য করছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শারমিন আক্তার ও শারমিন ইসলাম নামের দুই শিক্ষার্থীর ছবি ইউসিসি, ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার এবং ইউএসি কোচিং পোস্টারে ছাপিয়েছে
ইউনিভার্সিটি এডমিশন কেয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই শারমিনই আমাদের এখানে কোচিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে আমাদের সাফল্য কেড়ে নিয়ে ইউসিসি ও ইউএসি শিক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করেছে
পাল্টা দাবি ইউসিসির পরিচালক ইজাজ বিন আজিজের তিনি বলেন, ‘দুই শারমিন আমাদের এখানে পড়েছে এডমিশন কেয়ার ভুয়ামি করেছে
ইউনিএইড নরসিংদী শাখার পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এখান থেকে কোচিং করল আর তাদের ছবি ছাপিয়ে গর্ব করে অন্যরা সে দুঃখে এবার আমি পোস্টারই করিনি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মো মোস্তফা জালাল প্রথম আলোকে বলেন, এরা কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু শিট ধরিয়ে দেয় এতে শিক্ষার্থীদের খুব বেশি উপকৃত হওয়ার সুযোগ নেইপ্রথম আলো

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১

দারাদের প্রতারণা সত্ত্বেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব

জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমা
জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমা
আমি কেইকো আজুমা, জাপানের একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমার স্ত্রী। সিলেটে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে দারাদ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের দ্বারা আমরা প্রতারিত হয়েছি। প্রথম আলোর সহযোগিতায় আমাদের এত দিনের ভ্রান্তি কাটল। আমরা এখন দারাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার এবং তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব বাংলাদেশির সহযোগিতা কামনা করছি। 
দারাদ অনেক বছর ধরে আমার স্বামী ও আমাকে ঠকিয়েছে। এতে আমরা যে কত মর্মাহত হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমার স্বামী এখন খুবই অসুস্থ। তাঁর মনের অবস্থা চিন্তা করে বড় দুঃখ পাই।
দারাদ আহমেদ আমাদের কাছে অনেকবার টাকা চেয়েছিল। প্রথমে সিলেটে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেনার নামে তিন কোটি জাপানি ইয়েন (দুই কোটি ৭৩ লাখ টাকা) জোগাড় করার জন্য বলেছিল। এরপর ভবন নির্মাণ বাবদ এক কোটি ৭০ লাখ ইয়েন (এক কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা) চেয়েছিল। আবার নির্মাণের খরচ অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি হওয়ার কথা বলে আমার ননদের কাছে দেড় কোটি ইয়েন (এক কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) নিয়েছিল। এতেও শেষ হয়নি। বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জামের জন্য সে বারবার টাকা চাওয়ায় আমরা অতিরিক্ত আরও ৪৮ লাখ ইয়েন (৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা) জোগাড় করে তাকে দিয়েছিলাম। সর্বশেষ সে আমাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা) ধার হিসেবে নিতে চেয়েছিল। এভাবে আমরা মোট ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন (ছয় কোটি ২৪ লাখ টাকা) তার হাতে দিয়েছিলাম আমাদের স্বপ্নের সাংস্কৃতিক বিনিময়কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, তার সেই কথা বিশ্বাস করে।
আমার স্বামী ও আমি কত কষ্ট করে এত টাকা জোগাড় করেছি, দারাদ কি সেটা বুঝতে পারে? আমাদের নিজের টাকা সব খরচ করে শেষ পর্যন্ত আমরা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে তাকে দিয়েছি, সে কথা তার জানা ছিল কি? দারাদ আহমেদকে বিশ্বাস করেই আমরা তাকে এত বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছি। তার সঙ্গে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছিলাম আমরা দুজন। শান্তিনিকেতনে নিপ্পন ভবন এবং কলকাতায় ভারত-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার পর আমার স্বামীর আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাংলাদেশেও দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের জন্য অনুরূপ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। তবে শেষ পর্যন্ত দারাদের হাতে প্রতারিত হয়ে ঠকে গিয়ে এত দুর্দশা ভোগ করতে হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।
এত দিন সে যে কথা আমাদের শুনিয়েছে, তার সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, কেন্দ্রটির কিছুই হচ্ছে না। কতবার সে বলেছিল, ভবনটির উদ্বোধন হবে এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। সব মিথ্যা কথা। কোনো একটি মসজিদের ছবি পাঠিয়ে একসময় সে জানাল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছবি এটা। আমাদের বোকা বানানোর জন্য সে এমনকি মসজিদ পর্যন্ত কাজে লাগিয়েছে। দারাদ আবার একসময় বলেছিল, তার মা জাতিসংঘের চিকিৎসক। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম, তিনি একজন সাধারণ গৃহিণী। নিজের মাকে এ ধরনের নিন্দনীয় কাজে লাগানো মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব কি? আমরা জানতে পেরেছি, দারাদের কথা আগাগোড়া মিথ্যা। ভাবতে অবাক লাগে, তার মতো এ রকম চূড়ান্ত অসৎ লোকও মানুষ হয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম নিতে পারে!
আমরা তার কাছে দাবি করছি, আমাদের টাকা সে যেন ফিরিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে তার ভাইপো বলে নিজেকে পরিচয় দেওয়া এক লোক লন্ডন থেকে আমাকে টেলিফোন করে জানিয়েছে, কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্যে সিলেটে যে জমি কেনা হয়েছে, এর দাম এখন বেড়ে গেছে এবং সেই জমি বিক্রি করে দারাদ আহমেদ আমাদের টাকা ফেরত দিতে চায়। ভালো কথা। শিগগিরই জমি বিক্রি করা হোক এবং টাকাটা আমাদের পাঠানো হোক। আমরা সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসল জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করব। দারাদের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা তাতে একেবারেই থাকবে না। তার একমাত্র করণীয়, এখন কেবল আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া।
সিলেটে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার আমাদের পরিকল্পনায় সাড়া দিয়ে জাপানে ১০০ জনের মতো টাকা দান করেছেন। তাঁরা সবাই এখন দারাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আসল কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নতুনভাবে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি একা কিছুই করতে পারতাম না, তবে অনেকেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছি এবং আমাদের চলতি কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য জোর অনুরোধ তাঁকে জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে ভালো করেই চেনেন। তাই আমার বিশ্বাস, তিনি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ অচিরেই গ্রহণ করবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে এই ঘটনার সমাধান করতে এবং বাংলাদেশে আমাদের দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ঘাঁটি হিসেবে একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদিকে আমরা ইতিমধ্যে জাপানি পুলিশের কাছে মামলা করেছি এবং তারা সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে।
দারাদ আহমেদ এখন যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের আইন সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের আন্তরিক তৎপরতায় অল্প দিনের মধ্যে সে ধরা পড়বে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সঙ্গে আমি আরও বিশ্বাস করি যে জাপানের প্রতি বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের মানুষ দুই দেশের মৈত্রীর সম্পর্কের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঘন্য ধরনের প্রতারণায় লিপ্ত সেই ব্যক্তিকে একঘরে করবেন। সর্বশক্তিমান তাকে যেন যথাযথ শাস্তি দেন—সেটাই আমাদের কামনা।
টোকিও, জাপান, ১২ জুলাই, ২০১১
কেইকো আজুমা: জাপানি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমার স্ত্রী।
প্রথম আলো

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও জ্যেষ্ঠতা পেলেন ১৯৭ জন চিকিৎসক

দশম বিসিএসের ১৯৭ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ না নিয়ে এবং জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও জ্যেষ্ঠতা পেয়েছেন, অথচ বাদ পড়েছেন বিভিন্ন সময় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাঁদের তিন শতাধিক সহকর্মী।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। আর বঞ্চিত ব্যক্তিরা বলছেন, নানা নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ স্বাস্থ্য খাতে সরকার নতুন করে বৈষম্য ও অসংগতি সৃষ্টি করল। তাঁরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৭ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে স্থায়ী হতে হলে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস করতে হবে। জ্যেষ্ঠতা পেতে হলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১৪ বছরের মধ্যে সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে।
কিন্তু ওই ১৯৭ চিকিৎসক কর্মকর্তা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নেননি, জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হননি। একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২৪৭ জন জ্যেষ্ঠতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য খাতে চলমান নানা সমস্যাকে আরও প্রকট করবে। বঞ্চিত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে রোগীদের ওপর। একজন চিকিৎসক তখনই কাজের স্পৃহা পাবেন, যখন তাঁর প্রতি ন্যায্য আচরণ করা হবে।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) আশরাফুল ইসলাম বলেন, জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। স্বাস্থ্য ক্যাডারে জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার যে বিধান, তা পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়মের কারণে বহু বছর আগে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকেরা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের বাইরে থেকে গেছেন। নির্বাহী আদেশে তাঁরা সব শর্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ১৯৯১ সালের ৫ ডিসেম্বর বা তার আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের বিভাগীয় পরীক্ষা ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু জ্যেষ্ঠতা পাওয়া ১৯৭ জন চিকিৎসক চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অনিয়ম দূর করতে গিয়ে মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। হরেদরে অব্যাহতি দিলে নতুন করে আইনগত জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে যেকোনো সময় সেই আদেশ বাতিলও করা হতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, গত ৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ওই ১৯৭ জনের জ্যেষ্ঠতা প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে দুই ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। উপসচিব মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ বা তার আগে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের জ্যেষ্ঠতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ওই একই চিঠিতে বিশেষ বিসিএসের একজন, চতুর্থ বিসিএসের দুজন, সপ্তম বিসিএসের ২৭ জন, অষ্টম বিসিএসের ৫০৬ জন, নবম বিসিএসের ২০৭ জন, দশম বিসিএসের ১৯৭ জন এবং একাদশ বিসিএসের একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারাও জ্যেষ্ঠতা পেয়েছেন। কিন্তু প্রথম থেকে একাদশ বিসিএস পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ। তাঁদের কাজের গতিশীলতা আনাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দশম বিসিএসের ওই কর্মকর্তারা ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দিলেও, নথিপত্রে ওই বছরের ২২ এপ্রিল তাঁদের যোগদানের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২২ এপ্রিল সরকারি কর্মকমিশন তাঁদের চাকরির সুপারিশ করেছিল।
সূত্রগুলো জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্যগত ওই অসংগতি সম্পর্কে জানে। বহু বছর ধরে স্থগিত থাকার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে বলা হয়, ১৯৯১ সালের ৫ ডিসেম্বরের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের বিভাগীয় পরীক্ষা, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য এই তথ্য আবশ্যক।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েতউল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বহুদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলে এসেছে, তা দূর করে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

ভূমিহীনরা পেয়েছেন চারা বিত্তশালীরা গরু

রাজশাহীর বাগমারায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ১৯ লাখ টাকার সম্পদ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমিহীনদের গাছের চারা এবং বিত্তশালীদের গরু ও ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বাগমারা উপজেলার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাগমারার বাসুপাড়া, বড়বিহানালী, আউচপাড়া ও মাড়িয়া ইউনিয়নকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের চারটি গ্রাম নির্বাচন করে প্রতিটি গ্রামের ৬০টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে সম্পদ বিতরণের জন্য নির্বাচিত করে গ্রাম সংগঠন কমিটি। এ জন্য তারা অতি দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে। অভিযোগ উঠেছে, এ তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গ্রামের প্রভাবশালীরা কথিত গ্রাম সংগঠনের নেতা হয়ে তাঁরাই তালিকা তৈরি করেছেন। নয় সদস্যবিশিষ্ট এই গ্রাম সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা পেয়েছেন মূল্যবান সম্পদ। তাঁদেরই রাখা হয়েছে ‘অতি দরিদ্রের’ তালিকায়। অথচ যাঁদের জমিজমা নেই, তাঁদের রাখা হয়েছে এসব কথিত অতি দরিদ্রের ওপরের স্তরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী দরিদ্ররা পেয়েছেন মূল্যবান গাভী ও ঢেউটিন। আর প্রকৃত দরিদ্ররা পেয়েছেন গাছের চারা ও সবজির বীজ। আউচপাড়ার বিধবা খতেজান বেওয়া জানান, তাঁকে এক হাজার টাকা মূল্যের গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জায়গা নেই। তিনি গাছের চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। গরু চেয়েও তিনি পাননি। আউচপাড়া ইউনিয়নের খুজিপুর গ্রামের বিধবা রনেকা জানান, যাঁদের জায়গা নেই, তাঁদের গাছের চারা ও সবজির বীজ দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা গ্রাম কমিটির সদস্য ও যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের দেওয়া হয়েছে গাভী, ঢেউটিন ও ২০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ।
হাটখুজিপুর গ্রাম সংগঠনের সভাপতি রহিদুল ইসলাম নিজের নামে গরু নিয়েছেন। তাঁর ভাই সাদিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী খাদিজাকে সদস্য করে তাঁদের নামেও গরু দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী ও সদস্য ছামান আলীও নিয়েছেন গরু।
এই সংগঠনের আশরাফ আলী, ছামান আলীসহ অন্যরা নিজেদের নামে গরু নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তাঁরা জানান, পরবর্তী তালিকায় তাঁদের (গরিব ব্যক্তিদের) দেওয়া হবে।
বাসুপাড়ার আব্বাস আলী ও বড়বিহানালীর সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায়ও প্রভাবশালীদের দামি সম্পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁদের সবজির বীজ ও চারা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এম জিয়াউর রহমান জানান, তালিকা তৈরিতে ও সম্পদ বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি প্রকল্পের সভাপতি হলেও এ ব্যাপারে তাঁর কোনো মতামতই নেওয়া হয়নি।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বিআরডিবি কর্মকর্তা তাজ নাওয়াজউল কবির প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তালিকা তৈরিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য লোক নিয়োগ থাকলেও সেসব পদে কেউ না থাকায় অনিয়ম খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।

প্রেমের ফাঁদে কিশোরীরা, শঙ্কায় অভিভাবকেরা

ভোলায় বেশ কয়েকজন কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে সিডি করা ও মুঠোফোনে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের শতাধিক মুঠোফোন জব্দ করেছেন। তাঁদের দাবি, মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ধরনের অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভোলার সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভোলার সাতটি উপজেলায় তথাকথিত প্রেমিক সেজে তাদের প্রেমিকাকে যৌন হয়রানি করছে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন অশ্লীল চিত্র মুঠোফোনে ও ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে বাজারে ছাড়ছে। ওই ভিডিওচিত্র ভোলার দুই শতাধিক কম্পিউটার ব্যবসায়ী উচ্চ দরে বিক্রি করছে। পুলিশের তথ্যমতে, গত চার মাসে এ ধরনের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।
সম্প্রতি ভোলা শহরের একটি স্কুলের ছাত্রীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অশ্লীল দৃশ্য গোপনে ক্যামেরাবন্দী করে সিডি বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে এক বখাটে চক্র। এ ঘটনায় ৭ জুলাই ভোলা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভোলা জেলার সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির সামাজিক দায়িত্ব এ ধরনের অন্যায়ের প্রতিরোধ করা। এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সবার ঘরে ঘটতে পারে। সমাজে এ ধরনের অশ্লীলতা প্রশ্রয় পাবে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যাদের কম্পিউটারে, মুঠোফোনে, ভিসিডিতে এ ধরনের দৃশ্য থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনবেন।’
ভোলা আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সামস উল আলম বলেন, ‘সমস্যাটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ যে তারা ১৮ বছরের কম বয়সীদের মুঠোফোন জব্দ করছে। আর তরুণদের কাছে আমার অনুরোধ, ওই অশালীন ভিডিওচিত্রটি নিজের বোনের মনে করে মুঠোফোন থেকে ফেলে দিন!’
শাহাবাজপুর থিয়েটারের পরিচালক এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। কম্পিউটারের দোকানের ব্যবসাও অনুমোদনের (লাইসেন্স) আওতায় আনা দরকার।’
জেলা গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক রতন কৃষ্ণ রায় চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্রীকে এভাবে যৌন নিপীড়ন চালানো এবং সে দৃশ্য ভিডিও করে বাজারে ছাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে শঙ্কা-ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ ভোলা শহরে ব্যাপক তদন্ত চালায়। দেখা গেছে, জেলা শহরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকার দরগা রোডের বাসিন্দা মো. হাসান এ ঘটনার মূল হোতা। গত বুধবার রাতে ডিবি পুলিশ বাসায় হানা দিয়ে হাসানের বাবা ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় হাসানের ব্যবহূত কম্পিউটারসহ একাধিক স্কুলছাত্রীর অশ্লীল ভিসিডি, মেমোরি কার্ড ও সাতটি মুঠোফোনের সিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি পুলিশ শহরতলির পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া লঞ্চঘাট থেকে হাসানকে গ্রেপ্তার করে।
হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সঙ্গে তার বন্ধুরাও আছে। তার তথ্যের সূত্র ধরেই শুক্রবার তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম সৌধকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অশ্লীল সিডি বিক্রির অভিযোগে শনিবার দিবাগত রাতে তিনটি কম্পিউটার সিপিইউসহ তিন ব্যবসায়ী আজিজ, রুবেল ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, প্রথম সতর্কতায় যদি কেউ ওই চিত্র মুছে না ফেলে, তবে পরবর্তী সময়ে কারও মুঠোফোন ও কম্পিউটারে অশ্লীল চিত্র পেলেই তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি করা হবে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘মুঠোফোনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের বাবা-মা সন্তানের হাত থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ জন্য অভিযান চালিয়ে ১৮ বছরের নিচের তরুণ-তরুণীর হাত থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে অভিভাবককে ফেরত দিচ্ছি।’ এ পর্যন্ত তাঁরা ভোলা শহর থেকে শতাধিক মুঠোফোন জব্দ করেছেন।

ফাও খাবার না পেয়ে রেস্তোরাঁ ভাঙচুর

ফাও খাবার না পেয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র রাজধানীর কলেজগেটে একটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর করেছেন। এ সময় হোটেলের কর্মচারীরা ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। 
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর পুলিশ রেস্তোরাঁর দুজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টো দিকের অনুরাগ রেস্তোরাঁয় খেতে যান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও জাহিদ। তিনজনের খাবারের দাম হয় ৩১১ টাকা। কিন্তু কর্মীরা মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। এ সময় ব্যবস্থাপক তাঁদের ডাক দিলে ছাত্ররা ফিরে এসে জানান, তাঁরা ২০ ভাগ মূল্যছাড় পেয়ে থাকেন। ব্যবস্থাপক ওই ছাড় দিয়েই বাকি দাম দিতে বলেন। ছাত্ররা এতেও রাজি না হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্ররা ব্যবস্থাপককে মারধর শুরু করেন। 
প্রত্যক্ষদর্শী আরও একজন জানান, ছাত্রদের মধ্যে একজন ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০-১৫ জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে আসেন। ছাত্ররা এসেই রেস্তোরাঁর সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় রেস্তোরাঁর সব খদ্দের বের হয়ে যান। শুরু হয় মারামারি। মারামারিতে ছাত্রলীগের ও রেস্তোরাঁকর্মী উভয় পক্ষই আহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনার পর পুলিশ এসে ছাত্রলীগের কর্মীদের পক্ষ নিয়ে তৎ পরতা শুরু করলে রেস্তোরাঁকর্মীরা পালিয়ে যান।
ছাত্ররা জানান, মারামারির সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরোয়ার মামুন, সহসভাপতি এ এম আহসান হায়দার শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হাসান নিপুণ, ইব্রাহিম খলিল খান, কর্মী জান্নাত চৌধুরী ও সুমন চন্দ্র সরকার আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সম্মেলন শেষে নেতারা কয়েকজনকে টাকা দিয়ে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে বলেন। টাকা নিয়ে ওই তিনজন রেস্তোরাঁয় খেতে যান। খাওয়া শেষে দাম হয় ১২০ টাকা। তাঁরা ১০০ টাকা দিতে চান। কিন্তু ব্যবস্থাপক ২০০ টাকা দাবি করেন। রেস্তোরাঁকর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও রড-লাঠি নিয়ে তাঁদের মারধর করেছেন বলে তিনি জানান। 
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পুলিশ রেস্তোরাঁর মালিকের আত্মীয় ও রেস্তোরাঁর কর্মী সৈয়দ হোসাইনুল ইসলাম তালুকদার ও রাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

প্রয়োজন নেই, তবু ১২ কোটি টাকার যন্ত্র ক্রয়!

দুই বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনেছে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি)। বায়োজিন ফার্মা এ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আরও পাঁচ-ছয় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা এই যন্ত্রপাতি কিনতে বাধ্য করছেন। বায়োজিন ফার্মা ওই নেতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বায়োজিন ফার্মার মাধ্যমে ব্যয়বহুল, কম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে বাধ্য করছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা। এনআইসিভিডির বাইরে অন্যান্য মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালেও তিনি প্রভাব খাটাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
ওই ইনস্টিটিউটের অন্তত ছয়জন চিকিৎসক একই অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েতউল্লাহ বলেন, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কেনাকাটার অনিয়ম নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবদুল্লাহ আল শাফি মজুমদার এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। 
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কেনা যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে দুটি রেনাল গার্ড, একটি স্টেম সেল থেরাপি মেশিন ও দুটি ইইসিপি মেশিন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অপ্রয়োজনীয় আরও কিছু যন্ত্রপাতির নাম যুক্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকা থেকে নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতির নাম যেন ইনস্টিটিউটের ক্রয় কমিটি বাদ না দেয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা ও তাঁর লোকজন।
তবে ওই নেতা বায়োজিন ফার্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রথমে তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা সম্পর্কে তাঁর জানার কথা নয়। পরে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী যে সংস্কার চলছে, তার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। তাঁর দাবি, হূদরোগ ইনস্টিটিউটে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা চিকিৎসকদের ব্যর্থতা। 
বায়োজিন ফার্মার চেয়ারম্যান মো. শাফায়াতুল ইসলামও যন্ত্রপাতি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান যুক্ত নয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৮ নম্বরে ওই বায়োজিন ফার্মার অফিসে গিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ওই নেতা এ অফিসে শাফায়াতুল ইসলামের পাশের কক্ষে বসেন। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালের হূদেরাগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব যন্ত্রপাতি চালানোর মতো বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে নেই। একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অলংকার পরলে তো অলংকারের শেষ নেই। কিন্তু দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে যেসব যন্ত্রপাতি দরকার আগে সেগুলো কেনা উচিত।’
হূদরোগ ইনস্টিটিউটের কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটিতে তিন বছরের কম বয়সী রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা মাঝে বন্ধ ছিল। কারণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুত ছিল না। এখন অস্ত্রোপচার চালু হলেও এ ব্যবস্থার মান নিয়ে চিকিৎসকেরাই সন্তুষ্ট নন। তা ছাড়া রোগীর সার্বক্ষণিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ডিয়াক মনিটর দরকার। ৪২টির মধ্যে ২৫টি এক বছর ধরে নষ্ট। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় ইসিজি ও ইকো মেশিন দরকার। অতি প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি জরুরি ভিত্তিতে কেনা দরকার।
ইনস্টিটিউট সূত্র জানিয়েছে, বায়োজিন ফার্মা একচেটিয়া কাজ শুরু করে ২০০৯ সালে। ওই বছর ৩০ মে ও ৫ জুন এক কোটি টাকা মূল্যের দুটি রেনাল গার্ড যন্ত্র সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
চিকিৎসকেরা জানান, রোগীর শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে রেনাল গার্ড ক্ষতি কমিয়ে আনে। কিন্তু সরবরাহ করা যন্ত্র দুটির একটিও কাজ করছে না। ২০০৯ সালের ৮ জুন যন্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক খন্দকার শহীদ হোসেন ও এম জালাল উদ্দিন লিখিত মন্তব্য দেন, যন্ত্র দুটি রোগীর শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম। 
তখন ক্রয় কমিটির সভাপতি ছিলেন কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি বিভাগের খাজা এন মাহমুদ। তিনিই সই করে যন্ত্র দুটি গ্রহণ করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে যন্ত্র দুটি বায়োজিন ফার্মার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছিলেন। সচল না অচল তা জানা ছিল না।’ তবে এখন যন্ত্র দুটি পড়ে আছে। নতুন একটি রেনাল গার্ড যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ওই বছর বায়োজিন ফার্মা চার কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা দামের একটি টিএমআর যন্ত্র ও ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের একটি ইইসিপি যন্ত্র দেয়। যেসব রোগীর এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করা যায় না, তাদের চিকিৎসায় এই যন্ত্র দুটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি চার কোটি ৭৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দামের স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্র ও ২০১১ সালে আরও একটি ইইসিপি মেশিন দেয়। যাদের হূৎপিণ্ডের মাংসপেশি অত্যন্ত দুর্বল, স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে তাদের হূৎপিণ্ডের গায়ে রক্ত চলাচল উন্নত করা যায়।
সূত্র জানায়, স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্র ও ইইসিপি চালানো শেখাতে ইনস্টিটিউটের কয়েকজনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল বায়োজিন ফার্মার। কিন্তু তারা তা করেনি। এখন দুটি ইইসিপি যন্ত্র নষ্ট। নতুন একটি যন্ত্র আসছে। অন্যদিকে, স্টেম সেল থেরাপি যন্ত্রটিও অচল পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি: কম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা আমলে না নেওয়ায় জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালককে ২০ জুন কড়া চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছুদিন আগে ইনস্টিটিউটকে যন্ত্রপাতির একটি তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় ৯০ লাখ টাকা দামের দুটি স্ফিগমোকর যন্ত্র, এক কোটি ১০ লাখ টাকা দামের ইইসিপি যন্ত্র ও ৫০ লাখ টাকা দামের স্পার্টান (ডিএনএ টেস্ট ডিভাইস) আছে। কর্তৃপক্ষ কম প্রয়োজনীয় যন্ত্র বাদ দিয়ে খুব প্রয়োজন এমন যন্ত্রপাতির একটি তালিকা পাঠায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লেখে, ইনস্টিটিউটকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা থেকে যন্ত্র না বেছে কেন নিজেদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রের নাম পাঠানো হলো তা জানাতে বলা হয়।
কিনছে অন্য প্রতিষ্ঠানও: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালেও বায়োজিন ফার্মা ইইসিপি যন্ত্র সরবরাহ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ওই নেতা ইইসিপি যন্ত্র এখানেও দিতে চেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে সফল হননি।

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

বৈধ হওয়ার লোভে অবৈধ হওয়ার ফাঁদে


মালয়েশিয়ায় বৈধ হওয়ার লোভে গিয়ে অবৈধ হওয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিনই কয়েক শ বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজের জন্য থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ফুরালে তাঁরা গ্রেপ্তার হবেন। বৈধ জনশক্তি রপ্তানিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর সূত্র এই মালয়েশিয়াগামী ঢলের কথা জানিয়েছেন। এই দুই সূত্রে জানা গেছে, একশ্রেণীর দালাল মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সহজ-সরল শ্রমিকদের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছেন। অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ওই দালালেরা বলছেন, এখন মালয়েশিয়া গেলেই বৈধ হওয়া যাবে। কিন্তু আসলে এভাবে ভ্রমণ ভিসায় যাওয়া লোকজন কেউ বৈধ কর্মী হতে পারবেন না। কারণ এখন যাঁরা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন, তাঁদের সবার আঙুলের ছাপ রেখে দেওয়া হচ্ছে। থেকে যাওয়ার চেষ্টা করলে উল্টো তাঁরা সে দেশে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
চার-পাঁচ বছর ধরে আছেন কিন্তু কাজের অনুমতিপত্র নেই, সম্প্রতি শুধু এমন অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। ১১ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। কিন্তু উপরিউক্ত শর্ত প্রযোজ্য নয়, এমন কেউই এই সুযোগ নিতে পারবেন না।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আছেন, এমন তিন লাখ শ্রমিক বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই শ্রমিকদের তথ্য মালয়েশিয়ার তথ্যভান্ডারে (ডেটাবেইস) নেই। কিন্তু এখন যাঁরা যাচ্ছেন, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাঁদের সবার ছবি ও আঙুলের ছাপ রেখে দিচ্ছে। এপ্রিল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে এখন কোনো শ্রমিক গিয়ে চাইলেও বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বিএমইটি মহাপরিচালক বলেন, এ কারণে যাঁরা ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে কাজের কথা ভাবছেন, তাঁদের এই চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। এভাবে গিয়ে তাঁরা যেমন নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন, তেমন দেশের ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করছেন।
সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি টাস্কফোর্স আছে। ওই টাস্কফোর্স এখন থেকে কাজ শুরু করবে। এর ফলে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া হয়তো ঠেকানো যাবে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের বৈধ করার ঘোষণা কেবল ইতিমধ্যে অবৈধ হওয়া শ্রমিকদের জন্য। দেশটি এক বছর ধরে শ্রমিকদের কাজের অনুমতিপত্র দিচ্ছিল না। এর ফলেই পুরোনো শ্রমিকেরা অবৈধ হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে আসা কেউ এই সুযোগ পাবেন না।
বিএমইটির বহির্গমন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, একশ্রেণীর দালাল কর্মপ্রার্থীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছেন। অনেক ট্রাভেল এজেন্সিও এই তৎপরতায় জড়িত। এভাবে ছাড়াও অবৈধ নানা প্রক্রিয়ায় একশ্রেণীর লোক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ১৫(১)সি-তে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেউ সে দেশে থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। কাজেই এক মাসের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে যাওয়া কেউ অতিরিক্ত সময় থাকলে তিনি অবৈধ হিসেবে গ্রেপ্তার হবেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ লোক কাজের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। দালালচক্র এদের কাছ থেকে অনেক টাকা নিচ্ছে। এর ফলে এই লোকগুলো বিপদে পড়বে। বৈধ বাজারও নষ্ট হচ্ছে। কাজেই ভ্রমণ ভিসায় লোক যাওয়া ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব।’
এশিয়ার অভিবাসন-বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট ‘কারাম এশিয়ার’ প্রধান সমন্বয়ক হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ যদি দালালদের প্রতারণায় এখন মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য আসে, তারা চরম বিপদে পড়বে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত, যেকোনোভাবে এটি ঠেকানো।’
গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটিতে পাওয়া নতুন সুযোগের অপব্যবহার ঠেকাতে কী করা হচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভ্রমণ ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকায় মালয়েশীয় দূতাবাসকে আরও যাচাই করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতের ভ্রমণ রেকর্ড দেখেই কেবল কাউকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে খুব শিগগির প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হবে।
এসবির বহির্গমন বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিশেষ সুপার নাসিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে আমরাও এখন তৎপর আছি। যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা অতীতে কোন কোন দেশে গেছেন, তাঁদের কথাবার্তা, চেহারা—এসব দেখেই আমরা যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে আমরা তাঁকে যেতে দিচ্ছি না। গত মাসে এমন ২০০ জনকে বিমান থেকে নামিয়ে যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

 নিষিদ্ধ ওষুধসহ পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তার, ‘ভুয়া চিকিৎসক’ আটক

আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধসহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল রোববার ভোরে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। তাঁর নাম মুহাম্মদ শাহাবুদ্দীন (৪৩)। তাঁর ৯০ কেজি ওজনের চারটি বড় লাগেজ থেকে ওই ওষুধগুলো উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
আর্মড পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল ভোরে বিমানবন্দরের ১ নম্বর আগমনী টার্মিনাল থেকে শাহাবুদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হলেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তাঁর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে পাকিস্তানের করাচি থেকে কাতারের দোহা হয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় তিনি ঢাকায় নামেন। আটক করার সময় প্রথমে তিনি আর্মড পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যদের উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ঢাকার মতিন মোল্লা নামের একজন তাঁর মাধ্যমে ওই মালামাল এনেছেন বলে জানান।
চিকিৎসক আটক: চিকিৎসকের বেশে রোগীদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় মশিউর রহমান (২৪) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল হক মল্লিক জানান, গতকাল দুপুরের দিকে চিকিৎসকের বেশে ওই যুবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর (নতুন) ওয়ার্ডে ঢোকেন। ওয়ার্ডে ঢোকামাত্রই তিনি ঘুরে ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ অচেনা ওই ‘চিকিৎসকের’ পরিচয় জানতে চান। ওই যুবক একেকবার একেক কথা বলায় চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ওই যুবকের কাছ থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে দেখেন, সেটি ভুয়া। তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons