গবেষনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গবেষনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ভারতে তরুণীদের ড্রেস কোড বিতর্কে তসলিমা নাসরিন

undefined
মানবজমিন ডেস্ক: ভারতে তরুণীদের ড্রেস কোড কি হবে তা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সমপ্রতি সেখানে নারীদের পোশাকের কারণে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন- নারীদের পোশাক পুরুষকে ধর্ষণে প্রলুব্ধ করে। টুইটারে এরই জবাব দিয়েছে তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন- নারীদের ধর্ষণ প্রতিহত করতে বিশেষ ধরনের পোশাক পরতে বলা হচ্ছে। কিন্তু পুরুষদের ধর্ষণ না করার কথা বলছে না। নারীরা বোরকা বা বিকিনি যাই পরুক না কেন, তারা ধর্ষণের শিকার হবেন। ধর্ষণটা দর্শনের সঙ্গে জড়িত নয়। এটি এক ধরনের অপরাধ। তরুণীদের ড্রেস কোড সম্পর্কে সমপ্রতি এক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন ব্যাঙ্গালোরের উইমেন স্টাডিজের এক বিশেষজ্ঞ। ওই ইউনিভার্সিটির উইমেন স্টাডিজ বিভাগের সাবেক প্রধান ড. কে কে সীথামা একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নারীদের নিজের নিরাপত্তার জন্যই তিনি ড্রেস কোডের পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির অনেক প্রভাষকই জিন্স এবং সালোয়ার পরেন। এ ধরনের পোশাক পরে তারা ছেলেদের কাছ থেকে কি ধরনের সম্মান আশা করতে পারেন? তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রাজধানী নয়া দিল্লির অনেক শিক্ষিকাই। তারা এ ধরনের পরামর্শকে অবাস্তব এবং পশ্চাৎপদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ভারতের বসবাসকারী বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনও তার টুইটারের এ ব্যাপারে মন্তব্য দিতে গিয়ে ওই কথা লিখেছেন।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২

পাতলা পোশাকের কারণে..

undefined
মানবজমিন ডেস্ক: নারীরা ফিনফিনে পাতলা ও ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পোশাক পরলে ধর্ষণকে প্রলুব্ধ করা হয়। এমন মন্তব্য করেছেন অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশ প্রধান ডিজিপি ভি দিনেশ রেড্ডি। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ওই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ভি দিনেশ রেড্ডির বিবৃতির সঙ্গে আমি কোনভাবেই একমত নই। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে আরও বলা হয়, শুক্রবার হায়দরাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভি দিনেশ রেড্ডি। তিনি এ সময় বলেন, ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য পুলিশ দায়ী নয়। এ সময় তিনি উল্টো নারীদের দোষারোপ করেন। বলেন, নারীরা যে পাতলা পোশাক ও ফ্যাশনওয়ালা পোশাক পরেন তার মাধ্যমে তারা পুরুষদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করেন। এর ফলেই বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনার জন্য পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। শুধু শহর নয়, গ্রামেও আজকাল অনেক নারী ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরছে। কেউ যদি অপরাধের ধরন নিয়ে গবেষণা করেন তাহলে তার চোখে ধরা পড়বে ধর্ষণের এটাও একটা কারণ। তার এ বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে চারদিকে। এ নিয়ে গতকাল নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকরা জেঁকে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। প্রত্যেকেরই যেমনটা পছন্দ তেমন পোশাক পরার অধিকার আছে। যখন ফুটবল, টেনিস খেলা হয় অথবা কেউ সুইমওয়্যার পরেন তখন তো কেউ সারা শরীর ঢেকে মাঠে নামেন না অথবা কেউ ককটেল পার্টিতে যান তখন তো তার সারা গা ঢেকে যান না। এ নিয়ে চারদিকে যখন শোরগোল পড়ে গেছে তখন ভি দিনেশ রেড্ডি নতুন করে দাবি করছেন তার বক্তব্যকে বিকৃত করে পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি বলতে চেয়েছেন ধর্ষণ বৃদ্ধির একটি কারণ হলো নারীদের পোশাকের ধরন, যেখানে পুলিশের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। মানব জমিন

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

বৃটেনে এক চতুর্থাংশ মেয়ে অপরিনত বয়সে যৌনকর্মে লিপ্ত

undefined
বৃটেনের এক চতুথাংশ মেয়েই অপরিণত বয়সে যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। শুক্রবার এক জরিপে প্রকাশিত এ ফলাফলে রক্ষণশীল বলে পরিচিত বৃটেন বেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশই স্বীকার করেছেন যে, সম্মতি দেয়ার মতো বয়সে পদার্পণ করার আগেই তারা যৌনতার স্বাদ নিয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে তেমন কোন আক্ষেপ বা হতাশাও নেই। ১৬ বছরের এলিস ক্যাটলিং ১৫ বছর বয়সেই তার কুমারিত্ব হারিয়েছেন। এজন্য তার মোটেও কোন আক্ষেপ নেই। ১৫ বছর বয়সী বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস ডেট করার পরেই তারা সেঙ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। লিভারপুলের বাসিন্দা এলিস বলেছেন, সেঙ করার সিদ্ধান্তটি আমরা হঠাৎ করেই নেইনি। আমরা দুজনেই একে অপরকে ভালবাসতাম। তাই আমাদের দু’জনেরই এতে আগ্রহ ছিল। মা তখন বাড়িতে ছিল না। টেলিভিশনে ছবি দেখছিলাম। তখনই এ ঘটনা ঘটে। আমি কেবল মাকেই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এলিস বলেছে, আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই ১৩ বছর বয়সেই কুমারিত্ব হারিয়েছে। কিন্তু আমি মনের মতো এক মানুষের জন্যই অপেক্ষা করেছিলাম। এলিসের সঙ্গে তার বয়ফ্রেন্ডের সম্পর্ক এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে আক্ষেপ করে এলিস বলেছেন সম্পর্কটা টিকাতে পরলাম না। বিষয়টি লজ্জার। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে আমিও আর সেঙ করিনি। অথচ জরিপে অংশ নেয়া ৫৫ থেকে ৬৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মাত্র চার শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা ১৬ বছরে পদার্পণের আগে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এ জরিফের ফলাফলে প্রতীয়মান হচ্ছে, বৃটেনের অপরিণত মেয়ে ক্রমেই যৌনতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মেয়েদের মতো ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২২ শতাংশ ছেলেই যৌনতার স্বাদ নিয়েছে বলে জরিপে জানিয়েছে। এ জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে স্কুলে যৌন শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত বহন করছে। যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা  ইপিএ’র রেবেকা ফিন্ডলে বলেছেন, গত ৫০ বছরে সমাজে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন এসেছে। তরুণ-তরুণীদেরকে যৌনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষা এবং তথ্য সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। এসবই তাদেরকে পরিণত বয়স না হওয়ার আগে যৌনতা থেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে বৃটেনের ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডিয়ানে আবট বলেছেন, সংস্কৃতি পর্নোর ছাড়াছড়ি আর উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের মাঝে আবেদনময়ভাবে উপস্থাপনের প্রবণতার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এনএইচএস ইনফরমেশন সেন্টার পরিচালিত দ্য হেলথ সার্ভে ফর ইংল্যান্ড শীর্ষক জরিপে ৮৪২০ জন পূর্ণ বয়স্ক নারনারীকে তাদের যৌনাচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এতে আরও দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছরের তরুণদের মধ্যে এক দশমাংশ ১০ বা তার চেয়ে বেশি সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। আর সব বয়সীর মধ্যে একজন পুরুষ সাধারণ সারাজীবনে ৯.৩ জন নারীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। আর নারীদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা হচ্ছে ৪.৭ জন পুরুষ। 

সমকামী বিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো


সমকামী বিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ বিয়ে স্বীকৃতি পেলে সমকামীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে বলেই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাসাচ্যুসেটস অঙ্গরাজ্যে সমকামী বিয়ে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সমকামী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার হার উল্লে¬খযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।

‘আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ’ নামক গবেষণা সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

২০০৩ সালে ম্যাসাচ্যুসেটসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ টি অঙ্গরাজ্যে সমকামী বিয়ে আইনগত বৈধতা পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমকামী পুরুষরা বিয়ে করলে হাসিখুশী সম্পর্ক উপভোগ করতে পারে। আর প্রফুল্লতার সঙ্গে স্বাস্থ্যের যোগ আছে বৈকি!

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলমাম স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

১ হাজার ২১১ পুরুষ সমকামীর শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। নারী সমকামীরা (লেজবিয়ান) এ গবেষণার আওতাভুক্ত নয়।

প্রধান গবেষক ড. মার্ক হাতজেনবুয়েলার বলেন, “সামাজিক সীমাবদ্ধতাগলো দূর করে সমকামী ও উভয়কামী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যন্নোয়ন ঘটানো সম্ভব।”

গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামী বিয়ে বৈধতা পাওয়া পর তাদের ক্লিনিকে যাওয়ার হার ১৩ শতাংশ কমেছে।

বিয়ের কারণে মানসিক চাপ কমার ফলে কমে যায় রক্তচাপ, বিষন্নতা এমনকি একজনের সঙ্গে অন্যজনের মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে জটিলতার মতো নানা সমস্যা।

আর সে কারণেই গবেষক মার্ক বলেছেন, “মানসিক চাপের কারণে যে সমস্ত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তা কমিয়ে সমকামী বিয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে অনেকটাই সহায়ক হতে পারে।”

সমকামীদের ওপর পরিচালিত পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অন্যদের তুলনায় এদের বিষণœতায় ভোগা এবং আত্মহত্যা করার প্রবণতাও বেশি থাকে- যার অন্যতম একটি কারণ সামাজিক স্বীকৃতি না পাওয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

ডেমি মুর ওজন হারিয়েছেন ৯৮ পাউন্ড

বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী অ্যাস্টন কুচারের বিশ্বাসঘাতকতায় নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন হলিউডি অভিনেত্রী ডেমি মুর। ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড়ঝাপ্টা এবার তার স্বাস্থ্যহানীর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ৯৮ পাউন্ড ওজন হারানোয় অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছেন ৪৯ বছর বয়সী এই তারকা। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র।

সম্প্রতি নিজের ৪৯ তম জন্মদিন পালন করা এই তারকাকে দেখা গেছে প্রচণ্ড রকমের ফ্যাকাসে এবং শুকিয়ে যাওয়া অবস্থায়। এই সপ্তাহেই লস এঞ্জেলসের একটি বিউটি সেলুন থেকে বের হওয়ার সময় তাকে এই অবস্থায় দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ডেমির স্বামী অভিনেতা অ্যাস্টন কুচার এ বছরের সেপ্টম্বরে তাদের বিয়েবার্ষিকীর দিনে ২৩ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে ধোঁকা দেওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই ডেমি-কুচার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিলো। একটা সময়ে এই জুটির বিয়ে বিচ্ছেদের গুজবেও ছেয়ে যায় পুরো হলিউড।

তবে এতকিছুর পরও নিজের ৪৯তম জন্মদিনটি বেশ ধুমধামের সঙ্গেই পালন করেছেন ‘এ ফিউ গুড মেন’খ্যাত এই অভিনেত্রী। জন্মদিনে একটি ছোট্ট বানরকে কোলে নিয়ে নিজের বেশ কিছু হাস্যোজ্জ্বল ছবিও তিনি পোস্ট করেছেন টুইটারে।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১১

সবার ওপরে অ্যানিস্টন-পিট

undefinedনিজেদের ৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান হয়েছে সেই কবেই; তারপরেও আবারো একত্রে উচ্চারিত হলো জেনিফার অ্যানিস্টন এবং ব্র্যাড পিটের নাম। সাম্প্রতিক এক জরিপে চল্লিশোর্ধ তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেহাবয়বের অধিকারীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে এই সাবেক তারকা জুটির নাম। খবর পিটিআই-এর।

ফিটনেস ম্যাগাজিন ইয়াহু ওএমজি’র পরিচালিত জরিপে সাবেক এই তারকা জুটি নিজেদের এক ন¤^র আসনটি বাগিয়ে নেওয়ার দৌড়ে পেছনে ফেলেছেন হ্যালি বেরি এবং উইল স্মিথের মতো তারকাকে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিগারের উপাধির পাশাপাশি সবচেয়ে আকাক্সিক্ষত তারকা শরীরের তকমাটিও গায়ে চড়িয়েছেন অ্যানিস্টন।

জরিপে সব দিক দিয়েই অ্যানিস্টন ‘সুপার হিট’ হলেও, ‘সুপার ফ্লপ’ হয়েছেন ব্র্যাঞ্জেলিনা জুটি। পিটের বর্তমান সঙ্গী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নাম তালিকাতে স্থানই পায়নি। এমনকি বেস্ট বডি আফটার বেবি ক্যাটেগরিতেও জেনিফার লোপেজের কাছে হার মেনেছেন তিনি। এমনকি হটেস্ট সেলেব্রিটি কাপল ক্যাটেগরিতেও পশ-বেক জুটির কাছে হেরে গেছেন ব্র্যাঞ্জেলিনা।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

যৌনতা থেকে শিশুদের রক্ষায় যুক্তরাজ্যে কড়াকড়ি আরোপ

যৌনতা থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করছে যুক্তরাজ্যের সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট-গ্রাহকের সম্মতি না থাকলে পর্নো ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করে রাখা, উদ্বিগ্ন মা-বাবার অভিযোগ নিতে ওয়েবসাইট চালু, স্কুলের সামনে অশালীন দৃশ্যের বিলবোর্ড ও পণ্যের বিজ্ঞাপনে শিশুদের অন্তর্ভুক্ত নিষিদ্ধ করা প্রভৃতি।
শিশুদের ওপর যৌনতার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে খ্রিস্টধর্মভিত্তিক দাতব্য সংস্থা মাদারস ইউনিয়নের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকার এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন।
গতকাল মঙ্গলবার মাদারস ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তাবিত উদ্যোগে বলা হয়েছে, এখন থেকে গ্রাহকেরা যতক্ষণ না নিজেরা পর্নো বা অন্য কোনো ধরনের যৌনতার উপাদান থাকা ওয়েবসাইটগুলো দেখার সম্মতি না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো ব্লক করে রাখবে দেশটির ইন্টারনেট সেবাদানকারী বড় চারটি প্রতিষ্ঠান বিটি, স্কাই, টকটক ও ভার্জিন। গ্রাহকদের কম্পিউটার ও ল্যাপটপের পাশাপাশি স্মার্টফোনগুলোও এই সেবার আওতায় থাকবে। এর ফলে অভিভাবকেরা তাঁদের বাড়ির ইন্টারনেট-সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
এ ছাড়া যৌনতা বা অশ্লীলতার ব্যাপারে শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করে তুলতে পারে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অনলাইন অভিযোগ নিতে একটি ওয়েবসাইট খোলা হচ্ছে। প্যারেন্টপোর্ট নামের নতুন ওই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে উদ্বিগ্ন মা-বাবারা কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহূত দৃশ্য তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যৌনতা বা অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করলে অনলাইনে অভিযোগ করতে পারবেন। পরে তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির সম্প্রচারবিষয়ক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা অফকম তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে।
অফকম বলেছে, প্যারেন্টপোর্ট চালু করার ফলে মা-বাবারা এখন থেকে গণমাধ্যমে প্রচারিত যেসব বিষয় তাঁদের শিশুসন্তানদের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করবেন, সেসব বিষয়ে অতি সহজেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
অফকমের প্রধান নির্বাহী এড রিচার্ডস বলেন, যুক্তরাজ্যের সাতটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি একক ওয়েবসাইট তৈরির জন্য এগিয়ে এসেছে। এর উদ্দেশ্য একটাই, অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু থেকে শিশুদের রক্ষা করা।
এ ছাড়া স্কুলগুলোর সামনে অশালীন দৃশ্যসংবলিত বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড নিষিদ্ধ করা হবে। পণ্য বাজারজাতকরণে ১৫ বছর বা এর কম বয়সী শিশুদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ করতে পারবে না কোম্পানিগুলো।
এ ব্যাপারে মাদারস ইউনিয়নের প্রধান রেগ বেইলি বলেছেন, টিভি বিজ্ঞাপন ও ওয়েবসাইটে শিশুদের বাণিজ্যিকীকরণ এবং যৌনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শৈশব ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
গত জুন মাসে রেগ বেইলিকে লেখা এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন মাদারস ইউনিয়নের সুপারিশগুলোকে স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন আশা প্রকাশ করেছেন, শিশুদের মধ্যে যৌনতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এসব পদক্ষেপ সহায়তা করবে। বিবিসি অনলাইন ও দ্য গার্ডিয়ান।

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১১

 দিনে ২২টি ডিম খেয়েছেন হূতিক!

গ্রিক ধাঁচের চেহারাখানা পিতৃপ্রদত্ত। তা নিয়ে হূষ্টচিত্তে বসে নেই হূতিক রোশন। অভিনয়ের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে এতটুকু দ্বিধা করেন না তিনি। ছবির কাহিনির মতো করে নিজেকে আমূল পাল্টে নিতে পছন্দ করেন। ‘যোধা-আকবর’ ছবিতে রাজসিক কেতায়, অসম্ভব ব্যক্তিত্বপরায়ণ এক সম্রাটকে খুঁজে পাওয়া যায়। ‘ধুম ২’ ছবির জন্য স্টাইলিস্ট একটা ইমেজ গড়ে নিয়েছেন। আর সব শেষ মুক্তি পাওয়া ছবি ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারায়’ হূতিককে অপেক্ষাকৃত ক্ষীণকায় এক তরুণ মনে হয়েছে। এর জন্য ওজন কমাতে হয়েছে তাঁকে। আবার ‘অগ্নিপথ’ করতে গিয়ে উল্টো সমস্যায় পড়েছেন। শরীরে নাদুস-নুদুস একটা ভাব আনতে হয়েছে। সে জন্য নাকি দিনে ২২টি ডিম খেতে হয়েছে তাঁকে। তথ্যটি হূতিকের ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের। এবার আসছে ‘কৃষ’ ছবির সিক্যুয়েল। সেখানে আরও পেশিবহুল হূতিককে দরকার পরিচালক বাবা রাকেশ রোশনের। কোনো আপস নয়। দিনে চার ঘণ্টা করে টানা ১৪ দিন ব্যায়াম করবেন বলে মনস্থির করেছেন। এদিকে হাতে সময়ও কম। তাই চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকেই নতুন ‘কৃষ’ ছবির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে উঠেপড়ে লাগবেন হূতিক। জি নিউজ ব্যুরো।

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

তরুণেরা অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে

বিশ্বের তরুণসমাজের একটা বড় অংশ অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা কার্যকর গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা সম্পর্কেও খুব বেশি জানে না। বহুজাতিক একটি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবস (ডব্লিউসিডি) উপলক্ষে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, তরুণসমাজের একটা বড় অংশ নতুন সঙ্গীদের সঙ্গে অনিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। গত তিন বছরে ফ্রান্সে এই সম্পর্কের হার ১১১ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যে ১৯ শতাংশ বেড়েছে।
ডব্লিউসিডি টাস্কফোর্সের সদস্য ডেনিস কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আপনি বিশ্বের কোথায় আছেন, সেটি কোনো বিষয় নয়। যৌন সম্পর্ক ও গর্ভনিরোধক সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তরুণসমাজের বাধাগুলো সবখানেই আছে।’ ডেনিস কেলার বলেন, ‘তরুণ-তরুণীরা গর্ভনিরোধের বিষয়ে তথ্য ও ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলে, তা তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারবে। কাজেই সহজে তাদের সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য লাভের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
যৌন বিষয় ও গর্ভনিরোধের ব্যাপারে মনোভাব জানতে চিলি, পোল্যান্ড, চীনসহ ২৬টি দেশের ছয় হাজারের বেশি তরুণকে প্রশ্ন করা হয়। এতে দেখা গেছে, তরুণসমাজের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা বেশি, যা গোটা বিশ্বের জন্য মাথাব্যথার কারণ।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, অনেক দেশে যৌনশিক্ষার অভাবে তরুণসমাজের অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক বেড়ে চলেছে। ইউরোপে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া সেখানকার অর্ধেক তরুণ স্কুলে যৌনশিক্ষা পায়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এর হার তিন-চতুর্থাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া অনেকে বলেছে, গর্ভনিরোধ বিষয়ে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা বিব্রতবোধ করে। রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সামিরার ডিজে পার্টি এবং…

তিনি সামিরা। ধনীর দুলালী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে ফ্যাশন-শো, হট ড্যান্স ও ডিজে পার্টির আয়োজক। তবে এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে নানা কাহিনী। নানা গল্প। উপরে পার্টি হলেও ভেতরে চলে মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও সিসাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের আসর। চলে পতিতাবৃত্তিও। সামিরার গোপন এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে গোয়েন্দা জালে। গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। গুলশান ও বনানী এলাকায় প্রায় ৭০-৭৫টি ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে এক নামে পরিচিত সামিরা।গত ৯ই সেপ্টেম্বর গুলশান ২-এ অবস্থিত থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে সামিরাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- অগাস্টিন রোজারিও ওরফে পলাশ, সৈয়দ ওবায়দুল করিম ওরফে রুশো ও সামিরা কায়জার। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা বলেন, সামিরা কায়জার উচ্চশিক্ষিত। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী। তিনি থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দিতেন। নিজেও হাই সোসাইটির কলগার্ল হিসাবে কাজ করতেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব ছিল তার।
এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪০৮ ক্যান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার ও ৩০ বোতল বিদেশী মদ। যখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে হানা দেন তখন ওই বাড়িতে প্রায় ১৫০ নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে উচ্চ শব্দে বাজানো মিউজিকের তালে ড্যান্স করছিল। বেশির ভাগ তরুণীর পরনে সংক্ষিপ্ত পোশাক ছিল। পার্টিতে অংশ নেয়া অনেক তরুণ-তরুণীর সামাজিক পরিচয় ছিল রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। অভিযানের সময় তাদের অনেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি ধমকি দেন। আবার অনেকেই মুখ ঢেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
অবৈধভাবে তৈরি করা বারে থরে থরে সাজানো ছিল নানা ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। গ্রেপ্তারকৃত সামিরা কায়জার অকপটে সব কিছু স্বীকার করেন। কিভাবে তিনি এ জগতে এলেন তার বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। গুলশান এলাকায় কারা অবৈধ মদ ও বিয়ারের আসর বসায় তাদের অনেকের নামও বলেন তিনি। সামিরা জানায়, এমপি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা অনেকেই নিয়মিত তাদের অতিথি হয়ে আসেন। রাতভর ফুর্তি করে সকাল হওয়ার আগে বাসায় ফিরে যান। পরে এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মামলা করেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রমনা বিভাগের পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেয়া হয় না। অনুমতি নেয়া হলেও বলা হয় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু পরে মদ-বিয়ারের জমজমাট আসর বসানো হয়। শতাধিক মেয়ে এসব অবৈধ বার ও পার্টি সেন্টারে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দেয়। সংক্ষিপ্ত পাশ্চাত্য পোশাক পরা এসব তরুণী নিজেরাও হাই সোসাইটি কলগার্ল হিসাবে কাজ করে। গত ২৯শে জুলাই আরেকটি অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬,৪৭২ ক্যান বিয়ার ও ১,৭০০ বোতল বিদেশী মদ। গুলশান ২-এর ১১৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে কোরিয়ান ক্লাবের নামে নিয়মিত মদ-বিয়ারের অবৈধ আসর বসছিল।
এ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিং জং সু-কে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় সু’র বাংলাদেশী সহযোগী আবদুর রহিম ওরফে রহমানকে। যৌথভাবে অভিযানটি চালায় র‌্যাব-১ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীন ভূঁইয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীন বলেন, কোরিয়ান ক্লাবের আড়ালে এখানে নিয়মিত মদের আসর বসছিল। কিন্তু তাদের কোন অনুমোদন ছিল না। তিনি বলেন, ক্লাবটিতে নানা রকম অনুষ্ঠানের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল। ওদিকে র‌্যাব ১-এর একটি সূত্র জানিয়েছে গুলশান, বনানী এলাকায় অবৈধ মদ-বিয়ারের আসরের পেছনে রাজনীতিবিদ, এমপি ও মন্ত্রীদের হাত রয়েছে। এ ছাড়া এসব হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ঘনিষ্ঠরাও এসবের আয়োজন করছে। ফলে চাইলেই এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তোহুর আহমদ – মানবজমিন

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১১

সৌন্দর্যে এখনো অকৃত্রিম সালমা হায়েক


‘ডেসপারাডো’খ্যাত মেক্সিকান অভিনেত্রী সালমা হায়েক সম্প্রতি জানিয়েছেন, চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখার জন্য কখনোই ওষুধ কিংবা কোনো রকম অস্ত্রোপচারের সহায়তা নেননি তিনি। খবর নিউ ইয়র্ক ডেইলির।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ প্রসঙ্গে সালমা বলেছেন, ‘চেহারা থেকে বয়সের ছাপ মুছে ফেলতে কখনোই ওষুধ, ইনজেকশন কিংবা সার্জারির সহায়তা আমি নিইনি।’

জানা গেছে, সালমা আরো বলেছেন, ‘আমি প্রাকৃতিক উপায়েই নিজের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে কোনো রকম ছুরি-কাঁচি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।’

উল্লেখ্য, ৩ বছরের কন্যা সন্তানকে সামলানোর পাশাপাশি সফলভাবে ফিল্ম ক্যারিয়ারও চালিয়ে যাচ্ছেন ৪৪ বছর বয়সী এই তারকা। কসমেটিকস লাইন ‘সিভিএস’-এর হয়েও কাজ করছেন তিনি।

জানা গেছে, সুন্দরী এই মেক্সিকান অভিনেত্রীকে সৌন্দর্যবিষয়ক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘অ্যালিউর’-এর সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রচ্ছদকন্যা হিসেবেও দেখা যাবে ।


বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১১

মোবাইল ফোনে প্রেম, এরপর . . . .


তোহুর আহমদ : ঢাকা থেকে :  পিতা ব্যাংক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন মেয়েকে শখ করে দামি মোবাইল ফোন সেট কিনে দেন সে কখন কোথায় থাকছে তার খোঁজখবর নেয়ার জন্য। কিন্তু মোবাইল কাল হয়ে দাঁড়ায়। স্কুলে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে মেয়ে। না দেখেই মোবাইল ফোনে একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তার। সম্পর্ক গড়ে ওঠার কয়েক মাস পর তাদের দু’জনের দেখা হয়। কিন্তু দেখা হওয়ার পর জানা যায় ছেলেটি মোবাইল ফোনে খুব ভাল কথা বলতে পারলেও লেখাপড়া কিছুই জানে না। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। এরপর প্রচণ্ড মানসিক আঘাত। আশাহত অনুভূতির প্রচণ্ড চাপ। এ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা। ঘটনাটি দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাথীর। মা আফসানা বেগম তাকে নিয়ে এসেছেন ধানমন্ডির মনোজগত সেন্টারে। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য। তার রঙ ফরসা। শরীর শীর্ণ। অসম্ভব রোগাটে, মাথা ন্যাড়া।
মা জানালেন তার মেয়ে প্রায় এক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। কিন্তু এ বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে- এটা কি বংশীয় অসুখ? নাকি অন্যকিছু। এত প্রশ্ন শুনে মুখে আঁচল চাপা দেন মা। প্রশ্ন এড়াতে মেয়েকে নিয়ে একপাশে সরে গেলেন। কাছে গিয়ে আবারও প্রশ্ন করতেই ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন। বলেন, বংশীয় কোন অসুখ নয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন, আমার মেয়ে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। ফাইভে ও এইটে দু’টোতেই বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু এখন অসময়েই ওর জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টিকে আমরা এত গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু ও হঠাৎ খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিল। বান্ধবীদের সঙ্গে আর মেশে না। টিভি দেখে না। পড়াশোনা করে না। ওর শরীর আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগল। উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমরা কি হয়েছে জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের মুখ দিয়ে একটি কথাও বলাতে পারিনি। অথচ ওর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। অবস্থা এমন হলো যে ও আর বাথরুমেও যায় না। ঘরেই বাথরুম করে নোংরা করে রাখে। পরে ওর এক বান্ধবীর কাছ থেকে আমরা জানতে পারলাম কিন্তু এসব বিষয় আমাদের কাছে কিছুই বলেনি। ধীরে ধীরে ও নিজেই নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ হয়ে যেতে থাকে। ও যখন পুরোপুরি অসুস্থ তখন আমরা ওর এক বান্ধবীর মুখে ঘটনা শুনতে পাই।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা যখন একের অপরকে দেখেছে তখন তাদের সাজানো মানুষটির সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকছে না। তখন ঘটছে বিপর্যয়। অনেকেই বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে পারলেও অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিমর্ষতায় ভুগছে নয়তো মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু যে মোবাইল ফোনে প্রেমের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা নয়। মোবাইল ফোনে প্রেমের অভিনয়ের জন্য পেশাদার একটি চক্রও গড়ে উঠেছে। গত মাসে র‌্যাব-৩ আসমা নামের এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে গুলিস্তান এলাকা থেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। এরপর প্রেমিককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে তার বাবা-মায়ের কাছে মুক্তিপণ আদায় করতো। এ সময় পেশাদার মোবাইল প্রেমিকা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে মিসড কল দেয়। কোন ছেলে কণ্ঠ ফোন ব্যাক করলে মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলে। কথার জালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রথম দিকে তারা প্রায়ই ছেলেটিকে মোবাইলে টাকা পাঠাতে বলে। এরপর সব ঠিকঠাক করে ছেলেটিকে তাদের আস্তানায় আসতে বলে। এরপর তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এছাড়া ইন্টারনেট বেশ কিছু বাংলা ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে স্মার্ট নারী কণ্ঠের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা কথা বলা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে ডেটিংও করা যায়। এ ধরনের শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। মনোজগত সেন্টারের চিকিৎসক বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, মোবাইল ফোনে প্রেম-পরবর্তী অবসাদ সংক্রান্ত কেস প্রায়ই আসছে। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেটিকে না দেখেই অল্পবয়সী মেয়েরা মোবাইল ফোনে সুন্দর কণ্ঠস্বর শুনে পুরুষটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কিন্তু পরে যখন তারা একে অপরকে দেখেছে তখন তাদের কল্পনার সঙ্গে মিলছে না।
এসব ক্ষেত্রের মেয়েরাই বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। কল্পনার মানুষটির সঙ্গে না মেলায় এক ধরনের আশাহত অনুভূতির চাপে ভুগছে মেয়েটি। এখান থেকেই তার মানসিক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক মেয়ে পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ছেলেটি মেয়েটির নানা ধরনের ছবি তুলে রাখছে। পরে মেয়েটিকে ওইসব ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। যার পরিণতিতে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। ফিরোজ বলেন, এ ধরনের অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সন্তানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো। সন্তান কোথায় যাচ্ছে কি করছে সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে।
সমাজে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে এ জন্য মোবাইল ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে একটা আইন করা জরুরি। যে আইনে বলা হবে কত বছর বয়স পর্যন্ত মোবাইল ফোন কেনা যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বাবা-মা সন্তানদের কাছে ওপেন বা ফ্রি নন। বাবা মা যদি ফ্রি হন তবে সন্তান কোথায় কি করছে তা তারা জানতে পারতেন। সন্তান বাবা-মাকে লুকিয়ে কোন কিছু করতো না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা থেকেই সন্তানকে রক্ষা করা যেতো।

'তানজানিয়ায় একতৃতীয়াংশ মেয়েশিশু যৌন পীড়নের শিকার'

তানজানিয়ায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ মেয়েশিশু ১৮ বছর হওয়ার আগেই যৌন সহিংসতার শিকার হয়।

আর ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সহিংসতার শিকার হয় ১৩.৪ শতাংশ।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশু সংস্থার এক জরিপে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয় বলে বিবিসি জানায়।

এতে বলা হয়, দেশটিতে যৌন হয়রানির সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো জোরপূর্বক যৌনকর্মের প্রচেষ্টা। এরই জের ধরে এসেছে শরীরের স্পর্শকাতর অংশ স্পর্শ করা।

জরিপে আরো দেখা যায়, ১৮ বছর বয়সের আগেই যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা হয়েছে এমন ২৯.১ শতাংশ মেয়ে ও ১৭.৫ শতাংশ ছেলে জানিয়েছে, এতে তাদের সম্মতি ছিল না।

আর এর অর্থ, তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ব্র"কস বলেন, যেকোন দেশে এ বিষয়ে পরিচালিত এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বিস্তৃত জরিপ। আর দেশটির সরকারও এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

বিবিসির আফ্রিকা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "ছেলে ও মেয়েশিশু হয়রানির বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য প্রদানের বিষয়ে তানজানিয়াই সর্বপ্রথম সাহস দেখিয়েছে।"

দেশটির শিক্ষামন্ত্রী সুকুরু কাওয়াম্বাওয়া জানান, যৌন হয়রানি বন্ধে সরকার উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় হয়রানির শিকার শিশুরা যাতে তা জানাতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের যতœ নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতিও আহ্বান জানানো হবে।

কেনিয়া, রুয়ান্ডা, মালায়ি, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় একই ধরনের জরিপ চালানো হবে বলেও জাতিসংঘ কর্মকর্তা ব্র"কস জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

তানজানিয়ায় অবিবাহিতা মেয়েরা স্কুল ছাড়ছে বিয়ের কারণে নয় গর্ভবতী হওয়ার কারণে


হ-বাংলা নিউজ : প্রতি বছর তানজানিয়ায় প্রায় আট হাজার মেয়ে গর্ভবতীর হওয়ায় স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়৷ এত অল্প বয়সে গর্ভধারণ রোধের নানা বিষয়গুলো এদের কাছে পুরোপুরি আজানা থাকায় এরা গর্ভবতী হয়ে পড়ে৷ ইহানামিলো উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ঘটেছে৷ প্রতিদিনের মত মেয়েরা স্কুল ড্রেস পডরে স্কুলে এসেছে, সবাই মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করছে৷ এদের একজন ১৯ বছরের এস্থার৷ ক্লাশ টেনের ছাত্রী৷ এক বছর আগে এস্থার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে৷ অথচ এস্থার এখনো অবিবাহিতা৷ এস্থার জানাল, ‘‘আমি যখন গর্ভবতী ছিলাম তখন নিয়মিত স্কুলে আসতে পারতাম না৷ শারীরিকভাবে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন আমি হয়েছিলাম৷ আমার পুরো জীবন পাল্টে যায়৷ আগের মত আর কোন কিছুই নেই৷''

এস্থারের ভাগ্য ভাল৷ কারণ তার বাবা-মা সন্তানসম্ভা থাকার সময় এস্থারের পাশে থেকেছে৷ বার বার মেয়েকে বুঝিয়েছে গর্ভবতী হলে বা একটি সন্তান হলেই সব শেষ হয়ে যায় না৷ এস্থারের বাবা-মা স্কুলের পাট শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন, এস্থার এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে৷


তবে সবাই এস্থারের মত ভাগ্যবতী নয়৷ এস্থারের ক্লাশে আরো চারটি মেয়ে আছে৷ তাদের সবার একটি করে সন্তান রয়েছে এবং এরা সবাই প্রাণপণে চেষ্টা করছে স্কুল শেষ করার৷ তবে বেশিরভাগ মেয়েই শেষ পর্যন্ত আর স্কুলে আসার সময় পায় না৷ বাড়িতে বাচ্চাকে দেখাশোনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আর স্কুলে আসা হয় না৷ তবে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সব ধরণের সাহায্য আর সহযোগিতা পাওয়ার পরও এস্থার মনে করে একই সঙ্গে মা এবং স্কুল ছাত্রী হওয়া সহজ নয়৷ বাড়ি থেকে স্কুল ১০ কিলোমিটারের পথ৷ প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়৷ বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়৷


এসব মেয়েদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে তানজানিয়া মেডিয়া ওম্যান এসোসিয়েশন৷ সংস্থায় কাজ করছেন আনানিলেয়া ইনকিয়া৷ তিনি জানান, এত দূরের পথ যেন হাঁটতে না হয় তাই অনেকেই মেয়েদের বলে যে সাইকেল অথবা মোটর বাইকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া হবে তাদের৷ আর মেয়েগুলোও রাজি হয়ে যায় এরপরই ঘটে অঘটনগুলো৷ এর পাশাপাশি রয়েছে স্কুলের কোন কোন শিক্ষকের হুমকি৷ ছাত্রীকে যদি হাতের মুঠোয় না পাওয়া যায় তাহলে সেই ছাত্রীকে কখনোই পরীক্ষায় পাশ করানো হয় না৷


এসব মেয়েদের বাবা-মায়েরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না কারণ তাদের আগে থেকেই টাকা দেয়া হয় প্রতিবাদ না করার জন্য৷ তবে ইনকিয়ার বিশ্বাস, একদিন এই অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং সেই দিন খুব দূরে নয়৷

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১১

নায়িকা (অভিনেত্রী) ও পতিতার মধ্যে পার্থক্য কি?

বলেন তো, নায়িকা(অভিনেত্রী) ও পতিতার মধ্যে আসলে পার্থক্যটা কোথায়? টাকার বিনিময়ে পতিতারা যেমন তাদের দেহ ভোগ করার ক্ষমতা দেয়, তেমনি নায়িকারাও টাকার বিনিময়ে তাদের দেহ ভোগ করার ক্ষমতা দেয়। শুধু তাই নয়, এক জন নায়িকা প্রতিষ্ঠিত হতে তার দেহকে কত জায়গায় যে বখরা দেয় তার ইয়াত্তা নাই। তার প্রমান অবশ্য কিছু দিন আগেই মানূষ জেনেছে... অরুন চৌধুরী নাটকের নায়িকা বানাবে.. এই জন্য স্ক্রিন টেষ্ট করার নাম করে কিভাবে একটা মেয়ের দেহ ভোগ করছিল। আমি এখানে অরুন চৌধুরীর দোষ দিব না, কারন মেয়েটি যেভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছিল তাতে মনে হচ্ছে নাটকের নায়িকা হওয়ার জন্য সে সব করতে পারবে। যদি হাজারটা অরুন চৌধুরী তার রূপ শুধা পান করতে চায় তা হলে ও সে নির্ধিধায় দিতে পারে।


অরুন চৌধুরী

কিছুদিন আগে আপনারা প্রভার (অভিনেত্রী ও মডেল) কথা শুনেছেন, কেউ কেউ দেখেছেন ও.. সেখানে আপনারা দেখেছেন কিভাবে একটা মেয়ে বিয়ের আগেই একটা ছেলের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মেয়েটি এই রকম সম্পর্কের পরও সে কিন্ত্র আরেক জনকে ঠিকই বিয়ে করে ফেলেছিল। তার এই নোংরা ভিডিও যখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন তাকে এ সম্পর্কে জিঙ্গাস করা হলে সে এক জন প্রফেশনাল পতিতার মতো বলে গেল "রাজিব আমার এক্স বয় ফ্রেন্ড সো তার সাথে এই রকম শাররীক সম্পর্ক হতেই পারে"


প্রভা

গত ১ দেড় বছর আগে আমি একবার একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় দেখলাম যে, মিডিয়া জগতের কিছু অপ্রকাশিত ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন মিউজিক ভিডিওর নায়িকা বলল যে, মিউজিক ভিডিওর করার ফাকে ড্রেস চেঞ্জ করার সময়, পরিচালক গোপন ক্যামেরার মধ্যমে আমার শর্স্পকাতর কিছু ভিডিও ধারন করে। এক দিন পরিচালক আমাকে তার সাথে দৈহিক সম্পর্কের অফার দেয়। পরিচালক প্রায় আমার বাবার বয়সী। আমি তাক্ষনিক ভাবে না বলে দেই। তখন পরিচালক আমার গোপন ভিডিওটা দেখিয়ে বলে যদি তার সাথে দৈহিক সম্পর্কে আমি রাজি না হই তা হলে এগুলো সে বাজারে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে। আমি এতে তার সাথে মেলা মেশাতে রাজি হই, কিন্তু আমাদের এই মেলা মেশার দৃশ্যটিও সে গোপনে ভিডিও করে। প্রথমে আমি ব্যাপারটি জানতাম না, কিন্তু সে যখন আবার আমাকে অফার করে তখন আমি তা রিফিউজ করি। সে তখন ২য় ভিডিওটা দেখায় এবং বলে আমি যা বলি তা যদি না শুনো তা হলে এগুলো মার্কেটে ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো। আমি এখন বাধ্য হয়েই ওর কথা মত সব করি। শুধু তার সাথে নয়, অনেক পুরুষদের সাথেই আমি মেলা মেশাতে বাধ্য হই। আর যাদের একবার সতিত্ত্ব হারায়, তাদের তো আর হারাবার কিছুই থাকে না। সুতরাং এগুলো আমার কাছে কিছুই মনে হয় না। মনে হয় এই লাইনে থাকতে হলে এগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার।

আরেক জন অভিনেত্রী বলল, অনেকটা সখের বসেই নাটকে অভিনয় করতে আসি। প্রথমে ছোট দুই একটা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করি। এক দিন পরিচালক বলল, নাটকের জন্য আমাদের ব্যাংকক যেতে হবে, আর যে নাটকটি তৈরী হবে, আমি সেটার প্রধান নায়িকা। হঠাঁ করে বলা হল যে বিমানের টিকিট পাওয়া যায়নি তাই, আমাকে আর প্রযোজককে আপাতত চলে যেতে হবে। বাকী টিম পরের ফ্লাইটে আসছে। আমি আর প্রযোজক দুই জনেই ব্যাংকক গেলাম দুই জনেই ব্যাংককের একটা হোটেলে উঠলাম। রাত ১২ টার দিকে প্রযোজক কিছু কথা বলবে বলে আমার রুমে আসে, তার পর আমাকে তার সাথে মেলা মেশার অফার দেয় প্রথমে আমি রাজি হইনি। তার পর প্রায় জোর করেই তার সাথে মেলা মেশায় বাধ্য করে। আমি ও আর নিজের ইমোশান ধরে রাখতে পারি নি, আর এখানে সিনক্রিয়েট করে দেশে আমার ভাবমুর্তি ক্ষৃন্ন করতে চাই নি। আমি চাইনি এগুলো দেশের মানুষ যেনে আমার ক্যারিয়ারের ক্ষতি হোক। এর পর টিম আসলে আর আসল না, এখানে সে প্রতি রাতেই আমার সাথে মেলা মেশা করত। আমি এখন তাদের কাছে এমন ভাবে বন্দি যে তারা যা বলে তাই শুনতে হয়। আমার প্রশ্ন হল একটি মেয়ে কিভাবে একটা ভিন্ন দেশে, অপরিচিত হোটেলে একই সাথে থাকার কথা চিন্তা করে বিদেশে যেতে পারে। বেশি ফ্রি ভেবে আসলে সবই ফ্রি হয়ে গেছে।




বিপাশা বশু


আনুশকা শর্মা


মল্লিকা শেরয়াত - এই নায়িকার কোন ভাল ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া বিরল। আমি তার নাম দিয়ে সার্স করে রিতিমত থমকে গেছি। কারন তার এত বাজে দৃশ্যের ছবি নেটে আছে যা প্রকাশ করা যায় না।



এখন যে কোন হিন্দি সিনেমার রোমান্টিক দৃশ্য মানেই বিছানার দৃশ্য। আর ইংলিশ ছবি তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা প্রতিনিয়তই বিপাশা বসু, আনুষকা শর্মা, মল্লিকার বিছানার রোমান্টিক দৃশ্য দেখতে পান। সেক্সুয়াল উত্তেজক কিছু দৃশ্যই প্রতিনিয়ত দেখে থাকেন। এসব দৃশ্যে অভিনয় করার পরও মানুষ তাদের সম্মান করে! এসব দৃশ্যে অভিনয় করার সময় তাদের গায়ে সামান্য কিছু কাপড় থাকে আবার অনেক সময় তা ও থাকে না। বিশেষ করে এখনকার ইংলিশ ছবি গুলোতে অনেক ছবিতে নায়িকাদের শরীরে কোন বস্ত্রই থাকে না। চিন্তা করুন এই দৃশ্য গুলোতে যখন কোন নায়িকা অভিনয় করে, তখন তার একই সট বার বার নিতে হয়। তার উপর এখানে রিয়েল ইমোশান আনতে হয়। না হয় সট পার্ফেক্ট হয়না। তার উপর দর্শকদের সামনে রিয়েল করে উপস্থাপনের বিষয় আছে। কিছু কিছু দৃশ্যে প্রায় ৩০/৪০ বার সট নিতে হয়। চিন্তা করুন একটা ছেলে একটা সল্প বসনা বা প্রায় নগ্ন মেয়ের উপর ৩০/৪০ জাপিয়ে পড়ে তার সাথে বিভিন্ন দৃশ্যে অভিনয় করছে। এই রকম ৩০/৪০ জাপিয়ে তো কোন পতিতার উপর ও কেউ পড়ে না। আর নায়িকাদের হাসবেন্ডরা ও তো তাদের উপর এত বার জাপিয়ে পড়ে না। আর চিন্তা করুন, তখন একটা মেয়ের ইমোশন কি হয়! সে প্রায় ৮০% সেক্স করে ফেলে সিনেমার দৃশ্যেই। আমি আগে ভাবতাম দৃশ্যগুলো মনে হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে অন্য কোন উপায়ে নেয়া হয়। পরে মিডিয়ার একজনের সাথে কথা বলে এবং ইন্টারনেট গেটে জানতে পারলাম এসব দৃশ্য গুলো সম্পূর্ণ রিয়েল ভাবে ধারন করা হয়। ইন্টারনেটে এক নায়িকা দেখলাম কমেন্ট করল যে তাকে একটা সেক্সুয়াল দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে। এরকম অভিনয় সে আগে আর কখন ও করে নি। এর জবাবে হলিউডের এক নায়িকা লিখেছে "Naked or Sexual acting is not bad, its Hollywood" আমি তখন বুঝলাম তারা পারে না এমন কিছুই নেই। তারা শুধু যে এরকম করে তাই না তারা এগুলো জনগনকে দেখাচ্ছ্ও। চিন্ত করে দেখুন তো যারা ক্যামেরার সামনে এ রকম করতে পারে ক্যামেরার বাহিরে লোক চক্ষুর আড়ালে তারা কি করতে পারে?

What is the difference between actress and prostitute? এর জবাবে এক জনে লিখেছেন - They are same but actress shows extra talent. এর জবাবে এক জনে লিখেছেন
- Actress shows extra talent how to sex.

এক জনে মন্তব্য করেছেন
- Actress and prostitute are same but actress are higher class.
- Actress and prostitute are same both exposes their sexual organs. But prostitute do it privately and actress are publicly.



সোনালী বিন্দ্রে

কিছু দিন আগে একবার পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল। বলিউডের নায়িকা সোনালী বিন্দ্রে একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছে পেন্টি বিহিন। উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। তখন সে তাদেরকে ডেকে নিয়ে বলেন, "আপনারা যে ব্যপারটা বুঝতে পারেছেন তা সত্য"। এর আগে ভারতের আরেক মডেল এই রকম পেন্টি ছাড়া বের হয়েছিল। তখন এ ব্যপারে তাকে জিগ্ঙাস করা হলে সে বলল "আই এম এ পেন্টিলেস গার্ল" চিন্তা করেন তাদের মানসিকতা। পতিতা যেমন খদ্দেরকে আকষর্ন করার জন্য অনেক কিছু করে, তেমনি নায়িকারা ও করে। আমি চিন্তা করি তারা কি অসুস্থ? কারন এজন সুস্থ মানুষ এ রকম করতে পারবে না। কিছু দিন পর দেখা যাবে তারা হয়তো নগ্ন হয়ে রাস্তায় বেরুতে লজ্জা বোধ করবে না। আমাদের ছেলে মেয়েরা আজ ইন্ডিয়ার এই কালচার খুব বেশি ফলো করে। খুব বেশি দিন নেই... এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশের ও একই অবস্থা হবে। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা আজ এত বেশি ইন্ডিয়ান চ্যানেল ভক্ত হয়ে গেছে যে। তাদের দৈনদিন কাজে তারা ইন্ডিয়ান নায়ক/নায়িকাদেরকেই অনুসরন করে। যেমন ক্যাটরিনা কোন নতুন মডেল এর পোশাক পরলে আমাদের দেশের মেয়েরা সেই রকম পোশাক কিনতে ব্যস্ত হয়ে যায়। এতে তাকে খারাপ দেখা যায়, না ভাল দেখা যায়, পুরা শরির দেখা যায়, না ঢাকা আছে তার চিন্তা করে না। সালমান খান যদি চেড়া পেন্ট পরে তা হলে আমাদের দেশের ছেলেদের ও তা পরতে হবে না হয় তার ঈদ হবে না!

এগুলাতো ফ্লাস হওয়া খবর, এছাড়া ও যে কত খবর আছে, আর কত সম্পর্ক গোপনে চলে তা তো আর সবাই জানে না। এই খবর গুলো সবাই কম বেশ জানে। আর সবাই এ ও জানে যে মিডিয়া জগতে কেউ ইচ্ছা করলে ও ভাল থাকতে পারে না। এমন কোন অভিনেতা, অভিনেত্রী (বিশেষ করে তরুন নায়িকা) নেই , যারা বলতে পারবে যে তারা কোন না কোন ভাবে দৈহিক সম্পর্কে জড়ায় নি। যদি মিডিয়া জগতের কেউ(বিশেষ করে তরুন নায়িকা) নিজেকে পুত পবিত্র দাবি করে তবে মনে করতে হবে, সে ১০০% মিথ্যা কথা বলছে। তার পর ও এ জগতের নায়িকার সংখ্যার কমতি নেই। তা হলে কি তারা ইচ্ছাকৃতই পতিতাবৃত্তিতে যোগ দিল না? তা হলে আপনারা কি বলবেন নায়িকা ও পতিতার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে?

বি:দ্র: এই লেখাটি যৌন শুরশুরি দেয়ার জন্য নয়। আমরা নিজেরা আমাদের মা, বোন, মেয়েদেরকে এ জগত থেকে সাবধান করার জন্যই মুলত আমার এই লেখা। আমি এখানে যত গুলো ছবি দিয়েছি সবগুলো মোটামুটি সালিন কারন ইন্টারনেটে এর চেয়ে শালিন কোন ছবি তাদের নেই। আর ছবি গুলো আমি দিয়েছি যেন আপনারা নষ্টা মেয়েদেরকে চিনে রাখতে পারেন।
স্বাধীনচেতা সোনার বাংলাদেশ

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১১

মুম্বাই গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন বসতপুরের অনেক নারী

ভারতের মুম্বাইয়ের এক পানশালায় এক বছর কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন শানু। সঙ্গে কিছু টাকা, আর শরীরে নির্যাতনের ক্ষত। বাড়িতে পা দিয়েই তিন বছরের সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন কী নির্মম সময় পেরিয়ে এসেছেন তিনি।
শানুর মুম্বাইয়ের জীবন সম্পর্কে তাঁর মামা আকরাম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওর বাবার ক্যানসার ধরা পড়িসিলো। ভাতই যাদের জোটে না, তাদের আবার চিকিৎসা কী? কিন্তু শানু তাঁর আব্বার চিকিস্যা করাবেই। সেই জন্য সে বোম্বে গেল। তিন হাজার টাকা দালালেরে দিয়েসে। পরে শুনিসি শানুরে আটকায়ে রেখে বর্ডারে নির্যাতন করছে দালালেরা। বর্ডার পেরোবার পর এক বছরের চুক্তিতে তারে কাজ করতে হয়েছে এক বারে।’
যেমন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেছিলেন, তেমন কাঁদতে কাঁদতেই আবার একদিন দেশ ছাড়লেন শানু। যশোর সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সীমান্তবর্তী বসতপুর গ্রামের মেয়েটির কোথায় ঠাঁই হলো, সে খোঁজ কেউ রাখেনি। বাবা মারা গেছেন, স্বামী নিরুদ্দেশ। এখন মাঝেমধ্যে কিছু টাকা আসে বাড়িতে। তাতে পরিবারের লোকজন বুঝে নেয়, শানু বেঁচে আছে।
শার্শা উপজেলার বসতপুর ও এর আশপাশের গ্রামের ঠিক কত মেয়ে মুম্বাই গেছেন, তার হিসাব নেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা নারী পাচার নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানের কাছে। গ্রামের কয়েক ব্যক্তি বললেন, তাঁরা খোঁজখবর করার আর চেষ্টাই করেন না। গ্রামের প্রায় ৯০০ পরিবারের মধ্যে মুম্বাইতে কেউ থাকেন না—এমন ১০০ পরিবারও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাঁদের কাছে ‘বোম্বে’ এখন দূরের কোনো অচেনা শহর নয়, পাশের বাড়ি, বড়জোর কয়েক ক্রোশ দূরের কোনো গ্রামের নাম। এদের কেউ জেনে-শুনে শুধু একটু ভালো থাকার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাই যাচ্ছেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে বাধ্য হয়ে যৌনকর্মীর জীবন বেছে নিচ্ছেন।
এত ঝুঁকি নিয়ে নারীরা কেন মুম্বাই যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গিরামের মানুষের আসল সমস্যা হলো অভাব। ইখান থেকে বোম্বেতে ইনকাম সোর্স বেশি। দিন চলতি হলি ২০০ টাকা লাগে। এই বদ্ধ গিরামে কে কাকে এত টাকা দেবে? সেই ’৯২ সাল থিকেই মেয়েরা যাচ্ছে।’
কাগজের বউ: ১৫ বছর ধরে নারী পাচারের কাজ করছেন আমান। বললেন, ‘ধরেন গে, অনেক মেয়ে আছে পরিচয় নিয়ে যেতে চায়। সে ক্ষেত্রে একটা বিয়ের ফলস কাগজ করলিই হলো। এই আমিই তো ৮১টা বে (বিয়ে) করেছি। বউ বলে দেখিয়ে সোজা চলে যাই। তারপর বোম্বেতে বছর খানেকের চুক্তিতে কারও হাতে দিয়ে দিই।’
মুম্বাইফেরত একজন নারী জানান, মাস ছয়েক আগে তিনি এক দালালের সঙ্গে সীমান্তে যান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর এ পারের দালাল তাঁকে ওপারে পাঠিয়ে দেন। ওপার থেকে একজন ট্রেনে তুলে দেন। তিন দিন পর তিনি মুম্বাইতে পৌঁছান। কপাল খারাপ হলে বর্ডারে মারধর খেতে হয় বলেও তিনি জানান।
মুম্বাইতে এত স্বাচ্ছন্দ্য, তার পরও কেন ফিরে এসেছেন—এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আড়াই বছরের বাচ্চা। শুধু কান্নাকাটি করে।’
কোথায় কাজ করছে বাংলাদেশের মেয়েরা, জানতে চাইলে দালাল আমান নিউ মুম্বাই, ওয়াশি, সানপাড়া, জুঁইনগর, নেরুল, বেলপাড়া, খান্ডেশ্বর, পানমেলের নাম উল্লেখ করেন। যশোরের শার্শা এলাকার অধিবাসীরা সাধারণত শালকোনা, শিকারপুর, বেনাপোল, গগা, চান্দরিয়া, পুটখালী, বাহাদুরপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের বনগাঁ, কুরুলিয়া, জয়ন্তীপুর, হরিদাসপুর, ঝাউডাঙ্গা, আংরাইলে পৌঁছান।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা: যশোরে ২২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার হাসিব আলম তাঁদের নজরদারি এড়িয়ে মানব পাচারের কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ আসলে যাচ্ছে পেটের দায়ে।
কখনো কখনো নারীদের উদ্ধার করে বিজিবি ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন একজন যশোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের মেয়ে বীথি। এক দালাল তাঁকে ফুসলে বেঙ্গালুরু নিয়ে যান। দুই বছর যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেন। গত বছর চেন্নাইতে তাঁর অবস্থানের কথা জানতে পেরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় ‘রাইটস যশোর’ নামের একটি সংগঠন। এতে সহযোগিতা করে বিজিবি।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা ফিরে আসছেন তাঁদের কেউ কেউ পুনর্বাসনের পরও আবার মুম্বাই গেছেন। যদিও তাঁদের আয়ের ওপর পরিবারগুলো নির্ভরশীল, কিন্তু মুম্বাইফেরত নারীদের সমাজ গ্রহণ করছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাই অনেকে বাধ্য হয়ে মুম্বাই যাচ্ছেন।
শুধু মামলা নয়, কাজ দরকার: বসতপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব লিচু বেগমও মুম্বাই গিয়েছিলেন ২০ বছর আগে। ইট ভাঙার কাজ করেছেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর নিরুপায় হয়ে তিনি মুম্বাই যান। এখন ছেলে ও ছেলের বউ মুম্বাই থাকে। তারা টাকা পাঠায়। তিনি বলেন, ‘বাঁচতে হলে কাজ চাই, টাকা চাই। শুধু মুম্বাই যাওয়া বন্ধ করলে চলবে কী করে?’
যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ বলেন, পাচার বন্ধে তাঁরা নারীদের ক্ষমতায়নের কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার খরা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর একটি সহায়তা কেন্দ্রে চিকিত্সা নিচ্ছে খরাপীড়িত বুভুক্ষু শিশু। ১ জু সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর একটি সহায়তা কেন্দ্রে চিকিত্সা নিচ্ছে খরাপীড়িত বুভুক্ষু শিশু। ১ জুলাই তোলা ছবিটি গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়
এএফপি
ইউনিসেফ গতকাল শনিবার হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলে পরিচিত অঞ্চলের খরা পরিস্থিতির শিগগির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী ছয় মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার ওই অঞ্চলে গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি, কেনিয়া ইত্যাদি দেশ। এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই খারাপ থাকা সোমালিয়ার অবস্থা বিশেষভাবে খারাপ। প্রতিদিন কয়েক হাজার সোমালীয় কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছে।
খরা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউনিসেফের পরিচালক অ্যান্থনি লেক এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা যথাসাধ্য কাজ করছি। তবে অবস্থা খুবই খারাপ। সোমালিয়ায় আগামী বছরের আগে কোনো ফসল হবে না। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী ছয় মাস পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।’
এদিকে যুক্তরাজ্য আফ্রিকার খরা উপদ্রুত মানুষের সহায়তায় পাঁচ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
খরার কবলে পড়ে সোমালিয়ার অন্তত এক কোটি মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার আঘাত হয়ে উঠেছে মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা। দেশটির বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার কথিত ঘনিষ্ঠতার কারণে ত্রাণ সহায়তা দিতে অনেক দেশই আগ্রহী নয়।
হাজার হাজার সোমালীয় তাই দিনের পর দিন পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। তাদের অনেকের গন্তব্য কেনিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তুশিবির। তবে এ যাত্রা মোটেও সহজ নয়। অনাহারী এ মানুষগুলো দীর্ঘ পথ হেঁটে কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে উদ্বাস্তুশিবিরে পৌঁছায়। সম্প্রতি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা পরিস্থিতির এই বর্ণনা দেন আবদিও আলী এলমিওনামের নামের এক সোমালীয় নারী। ক্লান্ত এই নারী অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে কোনো রকমে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিককে বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিন-রাত হেঁটে দীর্ঘ দুর্গম পথ পাড়ি দেন তিনি। যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেখানে কোনো খাবার নেই। না খেতে পেয়ে তিন শিশুসন্তানকে চোখের সামনে মরে যেতে দেখেছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়কমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল কেনিয়া সফরের আগে বলেছেন, তাঁর দেশের দেওয়া অর্থ খরা উপদ্রুত সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ায় ব্যয় করা হবে। এএফপি, বিবিসি ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইন।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১১

লিভ টুগেদার


বিশ্বমোড়ল আমেরিকায় লিভ টুগেদারের জনপ্রিয়তা নিছক কোন পারিবারিক কারনে নয়। আমেরিকানরা লিভ টুগেদার করছে অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। বিয়ে হয়নি, অথচ স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একত্রে বসবাস করছেন এমন আমেরিকান নারী-পুরুষের সংখ্যা ৭৫ লাখ। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৬৯/৭০ বছরের অধিক বয়সী অনেক অবিবাহিত আমেরিকানও 'লিভ টুগেদার' করছেন। বিয়ে মানেই পারিবারিক মেলবন্ধন। দায়-দায়িত্ব সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি নানা বিষয়ের জটিল সমাবেশ। আর এই জটিলতা এড়াতেই বিয়ে ছেড়ে লিভ টুগেদারের দিকে ঝুঁকছেন আমেরিকানরা। শুধু আমেরিকানরাই নয়, ওখানে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের মধ্যেও লেগেছে এই ছোঁয়া। লিভ টুগেদারের ক্ষেত্রে পুরুষ আর নারী একেবারে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একসঙ্গে বসবাস করে। সামাজিকভাবে জৈবিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উভয়ে সমানভাবে সংসারের খরচ বহন করে। আর শেষ বয়সে অবসরের ভাতা পৃথকভাবে পাওয়ায় তাদের দিন কাটছে চমৎকারভাবে।
গত দু'বছর ধরেই অর্থনৈতিক মন্দা আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে স্বল্প আয়ী আমেরিকানরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এমনি কঠিন পরিস্থিতিতে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের অবস্থা অকল্পনীয়। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। বিকল্প হিসেবে অনেকের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও শুধু খরচের কথা ভেবে বিয়ে করা হয়ে ওঠে না। আর তাই বিকল্প উপায় খোঁজা। আবার অনেকে ২০/২৫ বছর যাবত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড হিসেবে বাস করে সন্তানাদি নেয়ার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হননি। চাকরি অথবা ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছেন, তবুও বিয়ে করছেন না। এমন আমেরিকানদের ব্যাপারে ইউএসএ টুডে অনুসন্ধানী এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়েসী টম ব্ল্যাক এবং ৬৯ বছর বয়েসী গ্রিটা কহেন গত ১৩ বছর যাবত 'লিভ টুগেদার' করছেন। দিনভর একত্রে চলাফেরা করেন। কেনাকাটা করেন একত্রে। রান্না অথবা হোটেলের ব্যয়ও ফিফটি ফিফটি হারে বহন করেন। এর ফলে এ দম্পতির অবসর সময় আনন্দে কাটছে। অবসরভাতা অথবা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট হিসেবে তারা আলাদাভাবে যে চেক পাচ্ছেন তা দিয়ে উভয়ের মাসিক খরচে ঘাটতি পড়ে না। একইভাবে অনেক কর্মজীবী প্রেমিক-প্রেমিকারাও একই বিছানায় থাকা সত্বেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন না খরচের কথা চিন্তা করে। তাদের ধারণা, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাস করতে ব্যয় বাড়বে। এই ধারা চলতে থাকলে আমেরিকানদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন দেখার বিষয় সেটাই।
আর পশ্চিম বঙ্গেই  বা এর জনপ্রিয়তা কেমন বাড়ছে বলে মনে করেন।কিছু মিডিয়া অলরেডি এর ব্যাপক প্রচারনা শুরু করছে।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

মূত্র থেকে পানীয় জল

নভোযান আটলান্টিসের শেষযাত্রায় এর নভোচারীদের নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। জানা গেছে, ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনস্ট্রেশন বা নাসা’র নভোচারীদের পানির সমস্যা দূর করতে এই ‘মূত্র থেকে রূপান্তরিত পানি’ কাজে লাগবে। খবর হাফিংটন পোস্ট-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নাসার গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ‘ফরওয়ার্ড অসমোসিস ব্যাগ’ (এফওবি) নামে ইউরিন রিসাইক্লিং সিস্টেমটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা সফল হলে পরবর্তীতে নভোচারীদের পানির সমস্যা দূর হবে এবং  ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল মহাকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। 

গবেষকরা জানিয়েছেন, এফওবি হচ্ছে সহজেই পরিবহনযোগ্য একটি ছোটো ব্যাগ, যা মূত্রকে পানিতে রূপান্তর করতে পারে। মুত্রে থাকা টক্সিন, মেমব্রেন বা ঘন চিনিকে সাধারণ পানিতে রূপান্তর করে এই ব্যাগটি।

এদিকে নাসার গবেষক হাওয়ার্ড লেভিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের ঘাম থেকে জলীয় দ্রবণ আলাদা করে, আমাদের শ্বাস এমনকি আমাদের বর্জ্য ব্যবহার করেও নিরাপদ পানীয় তৈরি করার ক্ষেত্রে এটি প্রথম পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, আটলান্টিসে থাকা নভোচারীরা এফওবি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তবে, তারা এখনই মূত্র রূপান্তরিত পানি পান করার বদলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ দ্রবণ ব্যবহার করেই পরীক্ষা চালাবেন।

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১১

দুনিয়ার বিচিত্র আইন সমুহ

সবচেয়ে লম্বা কোন হাত? ডান হাত,বাম হাত অথবা অজুহাত? এই প্রশ্ন করলে কেউ বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে গিয়ে বলবে আইনের হাত।কারন আইনের হাত যে কত শক্ত তা মানুষ জানে।আইন যতক্ষন হাত হিসেবে থাকে তখন তা অনেক লম্বা ক্ষমতাশালী।কিন্তু কার্বনের মত আইনের বহুরূপতা য়াছে।এর দুটা রূপের আরেকটা হল জাল।আইন যখন জাল হয়ে যায় তখন তার ফাঁক ফোকড় হয়ে যায় বিশাল এবং বিস্তৃত।এর বিশাল ফাকঁ গুলো দিয়ে রাগব বোয়ালরা সহজেই চলাচল করতে পারে।তবে আইনের হাত কিন্তু অনেক শক্ত।

আইনের হাতের এই শক্তিমত্তার রূপক হিসেবে বিচারকদের লম্বা হাতার পোষাক পড়তে হয় কোন কোন দেশে।এই পোষাকের আরো বিভিন্ন রূপক অর্থ আছে।যেমন এই কাল রঙের পোষাকের অর্থ নাকী নিজের পরিচয় গোপন রাখা।আর গলার সাদা ব্যান্ডের অর্থ মিথ্যার কাল আধাঁর থেকে সত্য প্রকাশ।আমাদের দেশের প্রধান বিচারপতি যে পরচুলা পড়েন এই পরচুলা দিয়ে বোঝানো হয় বিচারক মায়ের মত।মায়ের কাছে যেমন আপনি যেমন আপনার ছোট তেমন ঠিক তেমনি এই বিচারকের কাছে বাদী বিবাদী সবাই সন্তানের মত ,সবাই সমান।

দেশে এবং বিদেশে এমন কিছু আইন আছে যেগুলো শুনতে একটু হাস্যকর এবং অদ্ভুত বলে মনে হয়।বাংলাদেশের আইনের দন্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় আছে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করলে তার শাস্তি এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা একবছরের কারাদন্ড দেয়ার বিধান।এক্ষেত্রে উভয় দন্ডেও হতে পারে।

কলোরাডতে যৌক্তিক কোন কারন না দেখিয়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা এক ধরনের চুরি।প্রতারনা অথবা ছিনতাইয়ের পর্যায়েও পড়ে।মহান আদালত এ ব্যাপারে বলেছেন, বৃষ্টির পানি এভাবে ধরে রাখলে কৃষিকাজের জন্য পানি পাওয়া যাবে না।অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়বে।

হংকংযে একটা আইন আছে যদি কারো স্ত্রী পরকীয়া করে তবে স্বামী তাকে খুন করতে পারে।তবে শর্ত একটাই খুন করতে হবে খালি হাতে।তবে যে লোকের সাথে পরকীয়া করেছে তাকে অস্ত্র দিয়ে খুন করতে পারবে।

আমেরিকার আরিজোয়ানাতে শিশুরা পেয়াজ খেয়ে স্কুলে যেতে পারবে না বলে আইন আছে।১৮৮০ সালে এই পেয়াজ নিষিদ্ধকরন আইন পাশ হয়।আমেরিকার আরেকটি আইন হল কেউ রসুন খেয়ে গির্জা থিয়েটার ইত্যাদিতে যেতে পারবে না।ম্যাসাটুচেসের একটা আইন কেউ গির্জায় চীনাবাদাম খেতে পারবে না।

ক্যালিফোর্নিয়ার সুসানভিলে শব্দ করে সুপ খাওয়া অপরাধ।মায়ামীতে পুরুষের স্ট্র্যাপলেস গাউন পরে জনসমক্ষে যাওয়া আইনত অপরাধ।

ইলিনয়িস রাজ্যে আরেকটি আইন রয়েছে শীতকালে কোনো বাচ্চা জমে থাকা তুষার দিয়ে স্নো বল বানিয়ে গাছের দিকে ছুঁড়তে পারবে না।


আলাস্কায় কোনো গ্রিজলি ভালুককে মোটেও বিরক্ত করা যাবে না।উনি সম্মানী লোক।আপনি কেন বিরক্ত করবেন।

মেইন-এ একটা অতি পুরনো আইন রয়েছে, কোনো খচ্চরকে আগুনে ফেলা যাবে না।

মেইন-এ রাস্তায় হাঁটা অবস্থায় কোনো পথচারীর জুতার ফিতে যদি খোলা পাওয়া যায়, তাহলে এটা আইনত অপরাধ।

সান দিয়েগোতে একটা আইন রয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গান গেয়ে পেট চালায়, তাদের অবশ্যই কাপড় পরতে হবে।

কানেকটিকাট রাজ্যে কড়া আইন রয়েছে, কোনো বাচ্চা পা ওপরে তুলে হাতে হেঁটে রাস্তা পেরোতে পারবে না।এই এলাকার বাচ্চাগুলা এককালে বান্দরস্বভাবের ছিল এটার প্রমান পাওয়া যায় এই আইন থেকে।ডারউইনের বিবর্তনবাদ প্রমানে এটা একটা যুক্তি হতে পারে।


মিশিগানে কঠোর আইন রয়েছে, যদি দোতলার চেয়ে উঁচু কোনো দালান তোলা হয়, তাহলে সেই দালানের প্রতিটা জানালায় একটা করে দড়ি ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
আমেরিকার মিশিগানে কোন বিবাহিত মহিলার চুল কাটাতে স্বামীর অনুমতি লাগে।


ইন্ডোনেশিয়ায় হস্তমৈথুনের শাস্তি হলো মুন্ডচ্ছেদ।

আমেরিকার কলাম্বিয়া প্রদেশে মেয়ের বাসর রাতে তার মার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

গুয়ামের আইন অনুসারে কোন কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে পারেনা। তাই কিছু লোক আছে যারা পয়সার বিনিময়ে কুমারিত্বের অভিশাপ মুক্ত করার কাজ করে। মেয়ের বাবা-মা সাধারনতঃ এই কাজের জন্য অনেক টাকা থরচ করেন।এরা কাজ শেষে সার্টিফিকেট দেয়।

লেবাননের আইন অনুসারে কোন পুরুষ লোক গৃহপালিত পশুর সাথে সহবাস করতে পারে। কিন্তু পশুটা অবশ্যই মাদী হতে হবে। মদ্দা পশুর সাথে সহবাস করার শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড।

এথেন্সের পুলিশ কোনও গাড়ির চালকের লাইসেন্স বাতিল করে দেবার ক্ষমতা রাখে যদি ঐ চালক গোসল না করে গাড়ি চালায় অথবা চালকের বেশভূষা না ঠিক থাকে।

মস্কোতে আবহাওয়াবিদরা ভুল তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।এটা বাংলাদেশে হলে বিটিভির আবহাওয়াবিদদের খবর হয়ে যেত।

ইংল্যাণ্ডে পার্লামেন্টে মৃত্যুবরন করা বেআইনি।

ফ্রান্সে শুকরের নাম নেপোলিয়ন রাখা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

ইংল্যান্ডে একজন গর্ভবতী মহিলা যেকোন জায়গায়মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এমনকি তিনি চাইলে কোন ট্রাফিক পুলিশে হেলমেটে মুত্র বিসর্জন করতে পারেন।এটা তার বিবেচনা।

সিঙ্গাপুরে চুইং গাম অবৈধ।
ইন্ডিয়ানাতে রবিবারে গাড়ি বিক্রি করা আইনত দন্ডনীয়।


জাপানে কোন মেয়েকে ছেলে ডেটিং য়ে যেতে বললে মেয়েটি আইন অনুসারে না করতে পারবে না।


জাপানে কারো বড় ভাই তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে ছোট ভাইকে সম্মানীত করতে চাইলে আইন অনুসারে গার্লফ্রেন্ড অসম্মতি জানাতে পারবে না।

জাপানে একটা মাছের নাম ফাগু।এই ফাগু মাছ ৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করা আইনত অপরাধ।৮০ সেকেন্ডের বেশী রান্না করলে এটি থেকে একধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়।


জাপানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিল্ডিংযে মেয়েদের ব্রা না পড়া আইনত দন্ডনীয়।

১৬০৪ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জেমস witch craft act নামে একটা আইন প্রনয়ন করেন।এই আইনে যারা কালোশক্তি মানে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করবে তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়।সাধারনত যারা কৃষ্ণশক্তি বা এই ব্ল্যাকম্যাজিক ব্যবহার করত তাদের বলা হত ডাইনি।ডাইনিদের পুড়িয়ে মারা হত,যদিও বিধান ছিল ফাসিতে ঝুলিয়ে মারা।এই আইনের আয়তায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মারা হয়।ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত জোয়ান অব আর্ক কে এই আইনের অধীনেই পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।তিনি ফ্রান্সকে ইংল্যান্ডের শাষন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।১৯৫১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন বাতিল করে দেয়।


প্রাচীন ভারতে এক আইন ছিল সতীদাহ প্রথা।এই প্রথায় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদের সহমরনে যেতে বাধ্য করা হত।কোন ধনী লোকের মৃত্যুর সম্পত্তি অধিকার করার লোভে তার আত্মীয়রা তার সদ্যবিধবা স্ত্রীকে ধরে বেঁধে, ঢাক-ঢোলের শব্দ দ্বারা তার কান্নার আওয়াজকে চাপা দিয়ে তার স্বামীর সাথে চিতায় শুইয়ে পুড়িয়ে মারতো।পরবর্তীতে ১৮২৯ সালে ৪ ডিসেম্বর রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের ফলে উইলিয়াম বেন্টিংক এই প্রথা বেঙল প্রেসিডেন্সিতে বাতিল করেন।


তথ্যসুত্রঃ
বিভিন্ন ওয়েবসাইট
হুমায়ুন আহমেদের ম্যাজিক মুন্সী
উইকিপিডিয়া

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons