জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সামিরার ডিজে পার্টি এবং…

তিনি সামিরা। ধনীর দুলালী। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে ফ্যাশন-শো, হট ড্যান্স ও ডিজে পার্টির আয়োজক। তবে এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে নানা কাহিনী। নানা গল্প। উপরে পার্টি হলেও ভেতরে চলে মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও সিসাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের আসর। চলে পতিতাবৃত্তিও। সামিরার গোপন এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে গোয়েন্দা জালে। গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। গুলশান ও বনানী এলাকায় প্রায় ৭০-৭৫টি ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবে এক নামে পরিচিত সামিরা।গত ৯ই সেপ্টেম্বর গুলশান ২-এ অবস্থিত থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে সামিরাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- অগাস্টিন রোজারিও ওরফে পলাশ, সৈয়দ ওবায়দুল করিম ওরফে রুশো ও সামিরা কায়জার। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা বলেন, সামিরা কায়জার উচ্চশিক্ষিত। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী। তিনি থাই রিক্রিয়েশন ক্লাবের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দিতেন। নিজেও হাই সোসাইটির কলগার্ল হিসাবে কাজ করতেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব ছিল তার।
এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪০৮ ক্যান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার ও ৩০ বোতল বিদেশী মদ। যখন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে হানা দেন তখন ওই বাড়িতে প্রায় ১৫০ নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে উচ্চ শব্দে বাজানো মিউজিকের তালে ড্যান্স করছিল। বেশির ভাগ তরুণীর পরনে সংক্ষিপ্ত পোশাক ছিল। পার্টিতে অংশ নেয়া অনেক তরুণ-তরুণীর সামাজিক পরিচয় ছিল রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। অভিযানের সময় তাদের অনেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি ধমকি দেন। আবার অনেকেই মুখ ঢেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
অবৈধভাবে তৈরি করা বারে থরে থরে সাজানো ছিল নানা ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। গ্রেপ্তারকৃত সামিরা কায়জার অকপটে সব কিছু স্বীকার করেন। কিভাবে তিনি এ জগতে এলেন তার বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। গুলশান এলাকায় কারা অবৈধ মদ ও বিয়ারের আসর বসায় তাদের অনেকের নামও বলেন তিনি। সামিরা জানায়, এমপি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা অনেকেই নিয়মিত তাদের অতিথি হয়ে আসেন। রাতভর ফুর্তি করে সকাল হওয়ার আগে বাসায় ফিরে যান। পরে এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মামলা করেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রমনা বিভাগের পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেয়া হয় না। অনুমতি নেয়া হলেও বলা হয় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু পরে মদ-বিয়ারের জমজমাট আসর বসানো হয়। শতাধিক মেয়ে এসব অবৈধ বার ও পার্টি সেন্টারে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল সংগ্রহ করে দেয়। সংক্ষিপ্ত পাশ্চাত্য পোশাক পরা এসব তরুণী নিজেরাও হাই সোসাইটি কলগার্ল হিসাবে কাজ করে। গত ২৯শে জুলাই আরেকটি অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬,৪৭২ ক্যান বিয়ার ও ১,৭০০ বোতল বিদেশী মদ। গুলশান ২-এর ১১৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে কোরিয়ান ক্লাবের নামে নিয়মিত মদ-বিয়ারের অবৈধ আসর বসছিল।
এ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিং জং সু-কে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় সু’র বাংলাদেশী সহযোগী আবদুর রহিম ওরফে রহমানকে। যৌথভাবে অভিযানটি চালায় র‌্যাব-১ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীন ভূঁইয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীন বলেন, কোরিয়ান ক্লাবের আড়ালে এখানে নিয়মিত মদের আসর বসছিল। কিন্তু তাদের কোন অনুমোদন ছিল না। তিনি বলেন, ক্লাবটিতে নানা রকম অনুষ্ঠানের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল। ওদিকে র‌্যাব ১-এর একটি সূত্র জানিয়েছে গুলশান, বনানী এলাকায় অবৈধ মদ-বিয়ারের আসরের পেছনে রাজনীতিবিদ, এমপি ও মন্ত্রীদের হাত রয়েছে। এ ছাড়া এসব হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ঘনিষ্ঠরাও এসবের আয়োজন করছে। ফলে চাইলেই এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তোহুর আহমদ – মানবজমিন

শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১

জনসংখ্যা বাড়াতে ভালোবাসার ভোজ

স্লাভোলজাব তানাস্কোভিক স্লাভোলজাব তানাস্কোভিক
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যেখানে জনসংখ্যার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে সার্বিয়ার পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। মানুষের অভাবে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে বসেছে। তারা চাইছে জনসংখ্যা বাড়ুক। জনসংখ্যা বাড়াতে দেশটির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জাগোদিনা শহরের মেয়র দ্রাগান মার্কোভিক গত বৃহস্পতিবার এক অভিনব উদ্যোগ নেন। আয়োজন করেন ভালোবাসার ভোজের।
৩৮ বছরের বেশি বয়সী ১৫০ জন নারী ও ১৫০ জন পুরুষকে এই ভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা ছিলেন পরস্পরের অপরিচিত। গ্রিক উপকূলে বিনা খরচে এক দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয় তাঁদের, যাতে তাঁরা পরস্পর পছন্দের সঙ্গী বেছে নিতে পারেন, যা এনে দিতে পারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ। এই ছুটি কাটানোর পুরো ব্যয় বহন করে স্থানীয় পৌরসভা।
স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় এসব নারী-পুরুষের সাক্ষাতের জন্য নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয়। নম্বর দেওয়া নির্দিষ্ট আসনে বসেন অবিবাহিত নারী-পুরুষেরা। নিজ নিজ সঙ্গীকে উপহার দেওয়ার জন্য প্রত্যেক পুরুষকে একটি করে লাল গোলাপ দেওয়া হয়। শুরুতে এসব জুটি কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে ছিল। তাঁদের এ অস্বস্তি কাটাতে মেয়র নিজেই উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কমে যেতে থাকা জনসংখ্যা সমস্যার সঙ্গে লড়ছি।’
এ সমস্যা কাটাতে জুটিদের পরিবার গঠনে উৎসাহ দিয়ে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসব আশ্বাসের মধ্যে আছে, বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য বাস এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বরাদ্দ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও নতুন বাবা-মার জন্য নগদ বোনাস।
মেয়র বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার আমরা জন্মহার ৩০ শতাংশ বাড়াতে চাই। তাই আমি ভালোবাসার জন্য এ ভোজের আয়োজন করেছি।’
মেয়রের এ বক্তৃতার পর স্থানীয় একজন শিল্পীর লোকসংগীতের সঙ্গে যুগলদের নাচের আয়োজন করা হয়। ধীরে ধীরে অপরিচয়ের অস্বস্তি কাটিয়ে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন তাঁরাও। দাঁতের চিকিৎসক পিদ্রাগ জেভেদজিক জানান, তাঁর মতো ভাগ্যবান কেউ কেউ এ নাচের মধ্য দিয়ে খুঁজে পেয়েছেন জীবনসঙ্গীকেও।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ২০ বছর ধরে সার্বিয়ার জন্মহার সবচেয়ে কম। প্রধানত অভাব ও ১৯৯০ সালের যুদ্ধই এ জন্য দায়ী। পরিবারের ভরণ-পোষণের মতো একটি চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ সেখানে নেই। বিশেষ করে সার্বিয়ার নিস্তরঙ্গ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। এসব অঞ্চলে প্রেম বা বিয়ে করার মতো উপযুক্ত একজন নারীর অপেক্ষায় বিয়ের বয়স পার হয়ে যায় অধিকাংশ পুরুষেরই।
এমনই একজন কেন্দ্রীয় সার্বিয়ার উপশহর জাগোদিনার বাসিন্দা ৪৬ বছরের স্লাভোলজাব তানাস্কোভিক। তিনি একজন জুতা প্রস্তুতকারক। বহু রকম মনলোভা জুতা বানালেও নিজের বানানো এক জোড়া জুতা পরানোর মতো প্রিয়তমা তাঁর ভাগ্যে আজও জোটেনি। তিনি আক্ষেপ করে জানান, ‘আমি প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করতে চাই, সন্তানের বাবা হতে চাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখানে জীবনযাত্রার মান এত নিচু আর পুরুষদের অধিকাংশই বেকার হওয়ায় লোকজন বিয়েই করে না।’ বিবিসি।

রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১১

সালিসে অপমান, ছাত্রীর আত্মহনন

শিরিন আক্তার শিরিন আক্তার
মাদারীপুর সদর উপজেলায় গ্রাম্য সালিসে অপমানিত হয়ে গত শুক্রবার ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহত্যা করেছে এক মাদ্রাসাছাত্রী। এ ঘটনায় সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া দুধখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মহসিন বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
মেয়েটির নাম শিরিন আক্তার (১৫)। বাড়ি দুধখালীর এওজ গ্রামে।
গতকাল শনিবার বিকেলে এওজ গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, শিরিনের বাবা হাসেম শরীফ বছর খানেক আগে মারা যান। শিরিনের একমাত্র ভাই মুর্তজা শরীফ যশোরের বেনাপোলে কাজ করেন। অপর এক বোন স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। শিরিনের পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক সম্প্রতি সহায়তাস্বরূপ তাদের তিনটি ছাগল দেয়। এ ছাড়া শিরিনদের আরও তিনটি ছাগল আছে। ছয়টি ছাগলের দেখভাল করত শিরিন। পাশাপাশি গ্রামের বড়াইলবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীতে পড়ত।
শিরিনের ভাই মুর্তজা শরীফ, খালাতো ভাই সবুর খান ও খালাতো বোন মেঘনা আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার শিরিনের একটি ছাগল প্রতিবেশী শাহ আলম হাওলাদারের চারা আমগাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এর জের ধরে শিরিনের পায়ে লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন শাহ আলম।
গ্রামবাসী বলেন, শিরিন প্রতিবাদী ও অভিমানী ছিল। শাহ আলম তাকে লাঠি দিয়ে পেটালে সে হাতের মুঠোফোন তাঁর দিকে ছুড়ে মারে।
এ ঘটনা শিরিন তার মা হাজেরা খাতুনকে জানালে তিনি দুধখালী ইউপির সাবেক সদস্য মহসিন বেপারীর কাছে নালিশ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে গ্রামে সালিস বসে। এতে মহসিন বেপারীর নেতৃত্বে সালিসে ছিলেন আক্কাস বেপারী, আক্কাস চৌকিদার, রশিদ আকনসহ ১০-১২ জন। মাতব্বররা সালিসে শিরিনকে দোষী সাব্যস্ত করে শাহ আলমের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। শিরিন প্রতিবাদ করলে এক মাতব্বর উল্টো তাঁকে চড় মারেন। পরে শাহ আলমের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় শিরিন।
শিরিনের মা কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, শাহ আলমের পা ধরার সময় আমার মেয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। পরে ঘরে এসে বিছানায় শুয়েও কান্নাকাটি করে। আমি পাশের বাড়ি গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরে এসে দেখি, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শিরিনের লাশ ঝুলছে।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে শিরিনের লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ। গতকাল মাদারীপুর সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
শিরিনের মৃত্যুর জন্য সাবেক ইউপি সদস্য মহসিন বেপারীসহ সালিসকারীদের দায়ী করে তাদের শাস্তি দাবি করেছে তার পরিবার। আটক হওয়ার আগে মহসিন বেপারী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সালিস করেছি সত্য। শিরিন শাহ আলমের দিকে মুঠোফোন ছুড়ে মারায় তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু সালিসে শিরিনের গায়ে হাত তুলিনি।’
শিরিনের পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করা সত্ত্বেও শাহ আলমকে শাস্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মহসিন বলেন, ‘সালিসে আমিই সবচেয়ে কম বয়সী ছিলাম। অন্য মুরব্বিরা শাহ আলমকে কোনো শাস্তি দেননি।’
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকায় গিয়ে জানতে পেরেছি যে সালিসে অপমানিত হয়েই শিরিন আত্মহত্যা করেছে। সালিসকারীরা রায় দিয়ে বলেন, “শিরিনই অন্যায় করেছে এবং তাকে শাহ আলমের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।” সালিসে সমবয়সী ছেলেমেয়েসহ এলাকার লোকজন থাকায় অপমানিত হয় শিরিন। সে সালিসে বলেছিল, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। যে অন্যায় করেছে, আমাকে মারধর করেছে; তার কাছেই আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে?” এই বলে সে সালিসে অনেক কান্নাকাটি করেছে।’
ওসি বলেন, সালিসকারীদের প্রধান মহসিন বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে শিরিনের পরিবার সালিসকারীদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সালিসে অপমান ও সমাজচ্যুত করার পর ১৫ আগস্ট চার সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন হবিগঞ্জের ফেরদৌসী বেগম। এতে তিনি ও তাঁর দুই সন্তান মারা যায়। প্রথম আলো

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১

ভাঙছে শাহরুখ-গৌরির সংসার!

বলিউডি টিনসেলে সম্প্রতি যে গুজবটি ডালপালা ছড়িয়েছে সেটা হলো, হুমকির মুখে পড়েছে শাহরুখ এবং গৌরি খানের ২০ বছরের সংসার। ‘ডন ২’ ছবিতে কিং খানের সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়াকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রিয়াংকার সঙ্গে ইদানিং বেশ ঘনিষ্ঠভাবেই মিশছেন শাহরুখ। তারা একসঙ্গে প্রচুর সময়ও কাটাচ্ছেন। ফারহান আখতারের ‘ডন ২’ ছবিতে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়েই নাকি পিগি চপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে কিং খানের।

জানা গেছে, সম্প্রতি ‘রাডটওয়ান’ ছবির একটি আইটেম গানে অংশ নেওয়ার জন্যও পিগি চপসকে প্রস্তাব দিয়েছেন শাহরুখ। বিষয়গুলোকে সহজভাবে নিতে পারেননি শাহরুখের স্ত্রী গৌরি। এর প্রেক্ষিতে তাদের ভেতর ঠাণ্ডা যুদ্ধও নাকি শুরু হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, বাড়িতে গৌরির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এড়াতে কাজের দোহাই দিয়ে বেশিরভাগ সময় বাইরেই কাটাচ্ছেন শাহরুখ। এসব কারণেই দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে অনেকেই বলছেন, এবার শাহরুখ-গৌরির সাজানো সংসারে আগুন লাগতে আর বুঝি দেরি নেই!




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১১

৮১ বছর বয়সে আবার বিয়ে করছেন ভ্রমর লাল

মানবজমিন ডেস্ক: বয়সের কাছে পরাজয় না মেনে ৮১ বছর বয়সে আবার বিয়ে করার মনঃস্থির করেছেন ভারতের আহমেদাবাদের ড. ভ্রমর লাল জোসি। আগামী সপ্তাহেই তিনি নববধূকে ঘরে তুলে আনার পরিকল্পনা করেছেন। দু’মাস আগে রাজ্যের ম্যারেজ ব্যুরোতে পাত্র হিসেবে বায়োডাটা দেয়ার সময় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সী পাণিপ্রার্থী। ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, সব দিক থেকেই আমি সুস্থ। আমি প্রতি মাসে ৩০ হাজার রুপি করে পেনশন পাই। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবেও আমি স্বাবলম্বী। আমার নিজের গাড়ি এবং বাংলো রয়েছে। তাই জীবনের শেষ কটা দিন ভাল একজন সঙ্গীর সঙ্গে কাটাতে পারলে ক্ষতি কি? পাত্রীর খোঁজে ছয়জনের সঙ্গে কথা বলার পর ছয় সন্তানের জনক ভ্রমর লাল অবশেষে তার ৬২ বছর বয়সী কনেকে খুঁজে পেয়েছেন। দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণকারী এ পাত্রী তার আত্মীয়ের সঙ্গে থাকেন। ভ্রমর লাল দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ভ্রমণপিপাসী ভ্রমর লাল বিয়ের পর নতুন বধূকে নিয়ে নতুন নতুন জায়গা ঘুরে বেড়াতে চান। তার এ বিয়ের ব্যাপারে তিন ছেলে এবং তিন জামাতারও কোন আপত্তি নেই।

শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১

 ভোলায় সাত দিনে ৩০০ ঘরবাড়ি বিলীন

এক সপ্তাহ আগেও এখানে বসতি ছিল। সেই বসতি এখন মেঘনার পেটে। একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে অমাবস্যা-পূর�

এক সপ্তাহ আগেও এখানে বসতি ছিল। সেই বসতি এখন মেঘনার পেটে। একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে অমাবস্যা-পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ার আঘাত হানছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে। ছবিটি মঙ্গলবার ধনিয়ার বালিয়াকান্দি এলাকা থেকে তোলা

প্রথম আলো

ঘন ঘন অস্বাভাবিক জোয়ারে ভোলা শহরসহ চারটি ইউনিয়ন রক্ষায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ায় বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে মেঘনার ভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও বাঁধের বাইরের কয়েক শ একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে বাঁধ সংস্কার ও বাঁধের পাশে ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধসহ তীর সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার দফাদারবাড়ি থেকে কাচিয়া হয়ে পূর্ব ইলিশা সোনাডুগির বিল পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকা ভাঙনকবলিত। ধনিয়া ইউনিয়নে বাঁধের যেকোনো অংশ ভেঙে গেলে ভোলা শহরের অনেকাংশ পানিতে তলিয়ে যাবে। কাচিয়া ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের যেকোনো অংশে বাঁধ ভেঙে গেলে কাচিয়া, বাপ্তা, পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের লোকালয় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ধনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বালিয়াকান্দি এলাকায় গত এক সপ্তাহে ২০০ ফুট জমি ভেঙে নদী ভেতরে ঢুকে পড়েছে। ওই এলাকার ভাঙনকবলিত নিজাম, সেলিম, নুর ইসলাম, ফারুক বাঘা, আবুল কাশেম জানান, বর্ষার শুরুতে নতুন বাঁধ থেকে নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩০০ ফুট। ইতিমধ্যে বালিয়াকান্দির ফরাজিবাড়ি, কাজীবাড়ি, বাঘাবাড়ি, হারুন মাঝির বাড়িসহ দুই শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বালিয়াকান্দি ভূমিহীনদের ব্যারাক হাউস ভাঙনের মুখে পড়েছে।
গত রোববার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, কালু মিয়ার হাট, আজাহার পণ্ডিতের বাড়ি, মিজিবাড়ি, নাদের মিয়ার হাটসহ সোনাডুগির বিল এলাকা ভাঙনকবলিত। গত কয়েক দিনে এসব এলাকার মিজিবাড়ি, মহুরিবাড়ি, জমাদ্দারবাড়ি, হাওলাদারবাড়ি, ভূঁইয়াবাড়ি, সারেংবাড়িসহ শতাধিক বাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
ভূঁইয়াবাড়ির কামাল ভূঁইয়া জানান, একেকটি বাড়িতে ২০-৪০টি পরিবার বসবাস করত। তারা ভাঙনের শিকার হয়ে আজ বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত অহিদুর রহমান, শাজাহান, সফিকুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন জমাদ্দার জানান, মেঘনার ভাঙনে বাঁধের বাইরের জমি বিলীন হয়ে নদী এখন বাঁধের কাছে এসে পড়েছে। প্রতি মাসে দুটি অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় অস্বাভাবিক জোয়ার হয়। তখন নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ে বাঁধের গায়ে।
ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ব ইলিশা, কাচিয়া ও ধনিয়ার অন্তত ২০টি স্থানে ঢেউ আছড়ে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার না করলে তা ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হতে পারে। তখন খেতের পাকা আউশ ধানের ক্ষতি হবে। স্থানীয় লোকজন জানায়, গত এক সপ্তাহে ধনিয়া-কাচিয়া ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজন চার শতাধিক বাড়িঘর ও তাদের জমিজমা হারিয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ধনিয়া থেকে পূর্ব ইলিশা পর্যন্ত ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাউবো গত ১০ বছরে বন্যা-জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ করে কমপক্ষে ১০-১২ কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে পারেনি।
ভোলা জেলা পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি ও ভোলা শহর হুমকির মুখে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ভোলাকে রক্ষা করতে হলে ওই আট কিলোমিটার বাঁধে দ্রুত ব্লক ফেলতে হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৮২ কোটি টাকা। আপাতত এটি হলে ভোলা শহর ও চারটি ইউনিয়নের কৃষিজমি, লোকালয় রক্ষা পাবে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১

হাতির প্রেমে পড়ে


 
হাতির সঙ্গে লরা পুকো হাতির সঙ্গে লরা পুকো
চিকিৎসক হবেন বলে হোমিওপ্যাথি পড়ছেন ফিনল্যান্ডের তরুণী লরা পুকো (২৫)। ভারতের কেরালায় গত বছর বেড়াতে গিয়ে বদলে গেছে তাঁর লক্ষ্য। এখন মাহুত হয়ে হাতির সঙ্গে দিন কাটানোর কথা ভাবছেন তিনি।
লরা পুকো জানান, আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে তাঁর চিকিৎসাবিদ্যার পড়াশোনা। এর পর তিনি নতুন করে ঠিক করা পেশার দিকে ঝুঁকবেন।
লরা বলেন, ‘কেরালার কুমলি এলাকায় প্রথম যে দিন হাতি দেখি, প্রথম দেখাতেই প্রাণীটির প্রেমে পড়ে যাই। ওই মুহূর্তে আমি কিছু ভাবতে পারছিলাম না। এখানে থেকে যাব কি না, এ চিন্তাটা মাথায় আসে তখন। এ কথা মুখ দিয়ে বের হওয়া মাত্র সায় পেয়ে যাই।’
প্রথম দিকে লরা কেবল হাতির পালের সঙ্গে হেঁটে যেতেন। এরপর হাতিগুলোকে খাওয়ানোর সময় লোকজনকে সহযোগিতা করতে লাগলেন। ধীরে ধীরে মাহুত হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি। এ সময় টানা তিন মাস তিনি হাতিদের সঙ্গে সময় কাটান। প্রতিদিন ভোরে হাতির খামারে আসতেন, সন্ধ্যা পার করে ফিরতেন নিজের ঘরে। এখন অন্য মাহুতদের মতো তিনিও হাতিকে নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যেতে পারেন। সম্প্রতি তিনি এলিফ্যান্ট জাংকসন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়েছেন।
সাধারণত ছেলেরাই হাতির মাহুত হয়। আর মাহুত হওয়ার বিষয়টি চলে বংশপরম্পরায়। মাহুতের বংশধরেরাই মাহুত হয়ে থাকে। এই পেশায় আয়ও খুব কম। ভারতের ভাষাও লরার জন্য সমস্যা হবে। হাতি পরিচালনার বিষয়টিও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
তবে এসব কোনো কিছু লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি লরাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, হূদয়ের গভীর থেকে কিছু করতে চাইলে কোনো কিছুই বাধা হতে পারে না। বিবিসি।
প্রথম আলো

শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১১

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত, হাজারো মানুষ ঘর ছাড়া

 ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট লোকোন আগ্নেয়গিরি দিয়ে উত্তপ্ত লাভা নির্গমণ শুরু হয়েছে। ওই আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত ছাই দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি দ্বীপের ভূমি থেকে ৫ হাজার ফুট উঁচু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। 

এ ঘটনায় দ্বীপটির আতঙ্কিত অভিবাসীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছেড়ে গেছে বলে শুক্রবার একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগরোহো বলেন, "অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এর আশেপাশে থাকা বনাঞ্চল পুড়ে গেছে।" 

এখনো পর্যন্ত এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায় নি বলে নুগরোহো জানান। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতের ঠিক আগে প্রথম আগ্নেগিরিটি থেকে অগ্ন্যুপাত শুরু হয়। এ সময় ছাইমেঘ ৫ হাজার ২শ' ফুটেরও বেশি উঁচুতে উঠে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় অধিবাসীরা এরপরই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে থাকে। 

নুগরোহো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এসব শরণার্থীদের মাস্ক ও তাঁবু সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উদ্বাস্তুরা নিকটবর্তী একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়ে আছে। 

ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে আগ্নেয়গিরির আশপাশের সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা থেকে ২৮ হাজার অধিবাসীকে সরিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

প্রাদেশিক রাজধানী মানাদোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রায়ই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক

কান্নাভরা স্মৃতিচারণা

অঝোরে কাঁদছে জেসমিন আক্তার। মাইক্রোফোনের সামনে কান্না চাপতে চোখ ও মুখে হাত চাপা দেয় সে। কান্নার শব্দ আসতে থাকে মঞ্চ ও সামনের দিক থেকেও। নিঃশব্দেও চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে অনেকের।
জেসমিন মিরসরাইয়ের আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। মিরসরাইয়ে গত সোমবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদের স্মরণে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শোকসভায় স্মৃতিচারণা করছিল সে। কিন্তু বারবার কান্না থামিয়ে দেয় তাকে। স্মৃতিচারণা করতে আসা অন্য শিক্ষার্থীরাও কেঁদেছে। কেঁদেছেন শিক্ষক-অভিভাবকেরা। স্মৃতিচারণা শুনে কেঁদেছেন সমবেত মানুষেরা।
এই শোকসভা হয় আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে উপজেলা পরিষদের তিন দিনের শোক কর্মসূচির শেষ দিন ছিল গতকাল।
সকালে প্রথমে হয় শোকযাত্রা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সকাল ১০টায় স্কুল থেকে শুরু হয় শোকযাত্রা। আবুতোরাব ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে এটি স্কুলমাঠে গিয়ে শোকসভায় মিলিত হয়। গতকালও ওই বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়নি। ওই দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাবে নিহত ৩৯ জনের মধ্যে ৩৭ জনই শিক্ষার্থী। এদের বেশির ভাগই আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত শোকসভা। এলাকার মতোই শোকের আবহ মাঠজুড়ে। কালো ব্যানারে শোকবার্তা। উপস্থিত সবার বুকে কালো ব্যাজ। মুখে শোকের গভীর ছায়া, যা কান্না হয়ে বেরিয়েছে স্মৃতিচারণার সময়।
শোকসভার শুরুতে ন্যাশনাল ব্যাংকের দেওয়া নিহত ছাত্রদের পরিবারপ্রতি ২০ হাজার টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এই চেক হাতে নিয়ে নিহত সাইদুলের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার টাকার দরকার নেই। আমার সাইদুলকে এনে দাও।’
শোকসভায় নিহত সহপাঠীদের স্মৃতিচারণার সময় জেসমিনের মতো নুসরাত জাহান, তানভির হোসেন, সাইদুর রহমান, সৌরভ হোসেনরা কেঁদেছে। কেঁদেছে অন্য সহপাঠীরাও। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের সামলানোর চেষ্টা করে অন্যরা। কালো ব্যাজ ধারণ করে একসময় মঞ্চে ওঠে ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র।
শোকসভার সভাপতি আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেকও কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাণের যেসব শিক্ষার্থী হারিয়েছি, তাদের আমরা কোনো দিন ভুলব না। তবে এই শোক আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। সবাইকে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী হতে হবে।’ তিনি অভিভাবকদেরও সহযোগিতা কামনা করেন। দুর্ঘটনার পর আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা দেওয়ায় তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লকিয়ত উল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনায় এত প্রাণ চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারে না। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিনুল হকের পরিচালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির, শিক্ষক সমিতির সীতাকুণ্ড শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আবছার, মিরসরাই পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম শর্মা, স্কুল পরিচালনা পরিষদের সদস্য সুভাষ নাথ, মফিজুল ইসলাম, গোলাম সরওয়ার, শিক্ষক সমীরণ বড়ুয়া, রবিউল হোসেন নিজামী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আমরা যেসব ছাত্রকে হারিয়েছি, তারা ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিত। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা আর এমন মৃত্যু চাই না। বক্তারা শিক্ষার্থীদের সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেন।
সভার শুরুতে নিহত ছাত্রদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও নিহত অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রার্থনা এবং শেষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বেলা দুইটার দিকে শেষ হয় শোকসভা।
সর্বত্র শোক: মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া সড়ক দিয়ে ঢুকতেই দুই পাশে কালো ব্যানার। দুর্ঘটনাস্থল আবুতোরাবের সৈদালী এলাকার ওই ডোবায়ও কালো ব্যানারে শোকবার্তা। এর কিছুদূরে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে কালো ব্যানার, শিক্ষার্থীদের সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো ব্যাজ। মাইকে ভেসে আসে শোক কথামালা।
এলাকার দোকান, স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ, মিরসরাইয়ের প্রতিটি বাজার, উপজেলা পরিষদ—সর্বত্র উড়ছে কালো পতাকা। নিহত ছাত্রদের বাড়িতে বাড়িতে মাতম।
শোকাবহ পরিবেশে গতকাল নিহত ছাত্রদের কুলখানি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারটোলা এলাকায় নিহত সূর্য নাথের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান চলছে। কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তার মা ডলি ও বাবা খোকন নাথ। ওই দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া সূর্যর বড় ভাই দশম শ্রেণীর ছাত্র শুভ নাথ বসে ছিল বিমর্ষ মনে।
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী: বেলা দুইটার দিকে আবুতোরাব স্কুলে যান যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনা রোধে যানবাহন চালানোর সময় চালকদের মুঠোফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। এ নিয়ে বুধবার একটি আইন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির এটি মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালককে যে মালিক গাড়ি চালাতে দেবেন, সেই মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে নিহত ছাত্রদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি আশ্বাস দেন, নিহত শিক্ষার্থীদের ভাইবোনদের কেউ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে মন্ত্রীর নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে তাদের পড়ার ব্যবস্থা করবেন।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

ভূমিহীনরা পেয়েছেন চারা বিত্তশালীরা গরু

রাজশাহীর বাগমারায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ১৯ লাখ টাকার সম্পদ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমিহীনদের গাছের চারা এবং বিত্তশালীদের গরু ও ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বাগমারা উপজেলার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাগমারার বাসুপাড়া, বড়বিহানালী, আউচপাড়া ও মাড়িয়া ইউনিয়নকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের চারটি গ্রাম নির্বাচন করে প্রতিটি গ্রামের ৬০টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে সম্পদ বিতরণের জন্য নির্বাচিত করে গ্রাম সংগঠন কমিটি। এ জন্য তারা অতি দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে। অভিযোগ উঠেছে, এ তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গ্রামের প্রভাবশালীরা কথিত গ্রাম সংগঠনের নেতা হয়ে তাঁরাই তালিকা তৈরি করেছেন। নয় সদস্যবিশিষ্ট এই গ্রাম সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা পেয়েছেন মূল্যবান সম্পদ। তাঁদেরই রাখা হয়েছে ‘অতি দরিদ্রের’ তালিকায়। অথচ যাঁদের জমিজমা নেই, তাঁদের রাখা হয়েছে এসব কথিত অতি দরিদ্রের ওপরের স্তরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী দরিদ্ররা পেয়েছেন মূল্যবান গাভী ও ঢেউটিন। আর প্রকৃত দরিদ্ররা পেয়েছেন গাছের চারা ও সবজির বীজ। আউচপাড়ার বিধবা খতেজান বেওয়া জানান, তাঁকে এক হাজার টাকা মূল্যের গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জায়গা নেই। তিনি গাছের চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। গরু চেয়েও তিনি পাননি। আউচপাড়া ইউনিয়নের খুজিপুর গ্রামের বিধবা রনেকা জানান, যাঁদের জায়গা নেই, তাঁদের গাছের চারা ও সবজির বীজ দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা গ্রাম কমিটির সদস্য ও যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের দেওয়া হয়েছে গাভী, ঢেউটিন ও ২০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ।
হাটখুজিপুর গ্রাম সংগঠনের সভাপতি রহিদুল ইসলাম নিজের নামে গরু নিয়েছেন। তাঁর ভাই সাদিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী খাদিজাকে সদস্য করে তাঁদের নামেও গরু দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী ও সদস্য ছামান আলীও নিয়েছেন গরু।
এই সংগঠনের আশরাফ আলী, ছামান আলীসহ অন্যরা নিজেদের নামে গরু নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তাঁরা জানান, পরবর্তী তালিকায় তাঁদের (গরিব ব্যক্তিদের) দেওয়া হবে।
বাসুপাড়ার আব্বাস আলী ও বড়বিহানালীর সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায়ও প্রভাবশালীদের দামি সম্পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁদের সবজির বীজ ও চারা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এম জিয়াউর রহমান জানান, তালিকা তৈরিতে ও সম্পদ বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি প্রকল্পের সভাপতি হলেও এ ব্যাপারে তাঁর কোনো মতামতই নেওয়া হয়নি।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বিআরডিবি কর্মকর্তা তাজ নাওয়াজউল কবির প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তালিকা তৈরিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য লোক নিয়োগ থাকলেও সেসব পদে কেউ না থাকায় অনিয়ম খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।

হরতালের আগুনে পুড়ে শেষ হলো মোশাররফের সংগ্রাম

হরতালের সময় আগুনে পোড়া সেই মোশাররফ হোসেন (২২) গত শনিবার রাতে মারা গেছেন। গত বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আম নিয়ে আসার সময় নাটোরে হরতালকারীরা ট্রাকে আগুন দিলে পুড়ে যায় মোশাররফের শরীর। এরপর তিন দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎ সাধীন ছিলেন তিনি।
গতকাল রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর মোশাররফের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিকেলে তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মোশাররফের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার খোসাল সিকদারকান্দি গ্রামে। ঢাকার হাজারীবাগ, কোম্পানিঘাটে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। মোশাররফের বাবা আইয়ুব আলী ফুটপাতে ফল বিক্রি করেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মোশাররফ দ্বিতীয়। এদিকে মোশাররফের মৃত্যুর খবর তাঁর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী জাজিরা উপজেলা সদরে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। 
মোশাররফের বাবা আইয়ুব আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মোশাররফের ইচ্ছে ছিল ব্যবসা কিছুটা বাড়িয়ে দুই বোনের বিয়ে দেবেন। কিন্তু মোশাররফের মৃত্যুর সঙ্গে ভেসে গেছে সব পুঁজিও। রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় নেই তাঁর।
প্রথম আলোর শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, দারিদ্র্যের কারণে পরিবারটি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। গ্রামে তাদের কোনো সহায়-সম্পদ নেই। মোশাররফই ছিল তাদের মূল চালিকাশক্তি। এদিকে মোশাররফের মৃত্যুতে জাজিরায় বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১১

 বিয়ে ভেঙে স্কুলের পথে কাকলী

বিয়ে ভেঙে দিয়ে স্কুলে আসতে শুরু করেছে কাকলী (১১)। তাকে সাহায্য করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর কালীকৃর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কাকলী।
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাতব্বর বাড়িতে তাদের কুঁড়েঘর। প্রান্তিক কৃষক বাবা মহসিন ও মা রহিমা বেগম তার বিয়ে ঠিক করেন একই গ্রামের শেখ বাড়ির সিরাজ মাঝির ছেলে মিজান মাঝির (২৮) সঙ্গে। মিজানও পেশায় জেলে।
গত জুনের মাঝামাঝি সময় ছেলেপক্ষ মেয়েকে স্বর্ণের নাকফুল ও কানফুল দিয়ে বাগদান করে। কথামতো ৮ জুলাই বিয়ের দিন ধার্য করা হয় কাকলীর। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় কাকলী এ বিয়ে মেনে নিতে পারে না। সে জানায়, ওই নাকফুল ও কানফুল পরিয়ে দেওয়ার পর থেকে তার ঘুম নেই; নাওয়া-খাওয়া নেই। কোথাও যেতে পারছে না, খেলতে পারছে না বন্ধুদের সঙ্গে। মা-বাবা স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন। সারা দিন ঘরের মধ্যে বসে থাকতে হয়। ‘বিয়ে বিয়ে’ করে সমাপনী পরীক্ষা দিতে দেননি মা-বাবা। অনেক কষ্টে সহপাঠীদের দিয়ে কাকলী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন নম্বর জোগাড় করে। মুঠোফোনেই সবকিছু জানিয়ে তার বিয়ে বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে সে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাকলী ফোন করে আমাকে বলে—“স্যার, আমারে বাঁচান। আমার বিয়া ঠিক অইছে। আমনে আব্বারে বুজান, এই বিয়া বন্দ করেন, আমি পড়তাম চাই।” এ কথা শোনার পর আমি ও কয়েকজন শিক্ষক কাকলীর বাড়িতে একাধিকবার যাই। তার মা-বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল, আইনের ধারা-শাস্তি বুঝিয়ে ভয়ভীতি দেখাই। একসময় কাকলীর মা-বাবা তাঁদের ভুল বুঝতে পারেন এবং কাকলীকে আবার স্কুলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত মঙ্গলবার থেকে মেয়েটা স্কুলে আসছে।’
প্রধান শিক্ষক জানান, পড়াশোনার প্রতি কাকলীর প্রচণ্ড আগ্রহ। ছাত্রীও ভালো। ওর সমাপনী পরীক্ষা আলাদাভাবে নেওয়া হবে। কাকলী বলে, ‘আমার ভালো লাগদেছে। স্যারে গো জন্য আমি আবার স্কুলোত আসতাম পারছি। আমি অনেক পড়তাম চাই।’

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

পুত্রসন্তান না হওয়ায়..

প্রথম সন্তান ছেলে না হওয়ায় অসন্তুষ্ট। ছেলের আশায় নিলেন দ্বিতীয় সন্তান। সেটিও মেয়ে। আশা পূরণ না হওয়ায় ৩৩ দিন বয়সী শিশুকন্যাকে ডোবায় ফেলে হত্যা করেছেন এক মা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার কেয়ামুল্লাহ গুচ্ছগ্রামে। পুলিশ শিশুটির মা কনক বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এলাকাবাসীর বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার কেয়ামুল্লাহ গুচ্ছগ্রামের খলিলুর রহমানের (৫০) স্ত্রী কনক বেগম শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁর ৩৩ দিন বয়সী শিশুকন্যাকে গোপনে বাড়িসংলগ্ন একটি ডোবায় ফেলে দেন। পরে তিনি বাচ্চা চুরি হয়েছে বলে ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তারা রাত ১১টার দিকে ডোবায় শিশুটির লাশ দেখতে পায়। এ সময় মেয়ের লাশ দেখে কনক বেগম বারবার মূর্ছা যান।
খবর পেয়ে তজুমদ্দিন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহীম খান ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে কনক বেগমকে আটক করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কনক বেগম তাঁর শিশুসন্তানকে ডোবায় ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে গত রাতে মুঠোফোনে কনক বেগমের স্বামী ইঞ্জিনমিস্ত্রি খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর আদি বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায়। তিনি চারটি বিয়ে করেছেন। তিনি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে লৌহজংয়ে থাকেন। সেই ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। ২০ বছর আগে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু গ্রামের কনক বেগমকে বিয়ে করেন। এই ঘরের বড় মেয়ে লাকির বিয়ে হয়েছে চট্টগ্রামে।
খলিলুর রহমান বলেন, ছেলেসন্তানের আশায় অনেক বিলম্বে কনক বেগম দ্বিতীয় সন্তান নিয়েছেন। কিন্তু মেয়ে হয়েছে দেখে তাঁর স্ত্রী শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট। তিনি প্রায়ই সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে।
ওসি আবদুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এসআই আবদুর রহীম খান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। কনক বেগমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

'ভালোবাসার গাছ' লাগালেন উইলিয়াম-কেট

ভালোবাসার স্মৃতিকে বাচিঁয়ে রাখতে মানুষ কত কিছুই না করে। প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন তাদের ভালোবাসার স্মৃতিকে বাচিঁয়ে রাখার জন্য গাছ লাগিয়েছেন। বিয়ের দু’মাস পর সম্প্রতি কানাডা সফরে গিয়েছেন প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন। জানা গেছে, সফরের ৩য় দিনে সেখানে নিজেদের ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে একটি ইস্টার্ন হেমলক গাছ রোপন করেছেন এই জুটি। খবর পপইটার-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালের ২১ জুন প্রিন্স উইলিয়ামের প্রথম জন্মদিনে কানাডায় একটি পিন ওক গাছ রোপন করেছিলেন প্রিন্স চার্লস এবং প্রিন্স ডায়ানা। সম্প্রতি সেই গাছের ছায়াতেই ইস্টার্ন হেমলক গাছ লাগিয়েছেন ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ কেমব্রিজ।

বেঁচে থাকলে স্থানীয় প্রজাতির এই গাছটি পরবর্তী ৮০০ বছর ধরে উইলিয়াম এবং কেটের ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন বহন করবে।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/টিকে/এইচআর/জুলাই ০৩/১১

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

দুই মেয়ে নিয়ে দেড় বছর গৃহবন্দী বাবা

সিলেট নগরের অভিজাত আবাসিক এলাকা হাউজিং এস্টেটের ১৩২ নম্বর বাড়ি ‘সহিদ মঞ্জিল’। এর প্রধান ফটকে যুক্তরাজ্যের পতাকা আঁকা। দেয়ালজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ইংরেজি ও আরবিতে লেখা কিছু সন-তারিখ আর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানের নাম। দোতলা বাড়িটির নিচতলায় কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করেন যুক্তরাজ্যফেরত বাবা আবদুন নূর (৭০)।
বাইরে থেকে এলাকাবাসী শুধু এটুকুই জানত। বাড়ির ভেতরে যে বাবা, মেয়েসহ তিনজনই প্রায় দেড় বছর ধরে একধরনের স্বেচ্ছাবন্দী জীবন যাপন করছেন, তা জানা গেল গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ উদ্ধারের পর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মত, তাঁরা সবাই মানসিকভাবে অসুস্থ।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবদুন নূর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে মেয়েদের নিয়ে এ রকম অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। গতকাল সকালে পুলিশ তাঁদের ‘বন্দিদশা’ থেকে উদ্ধার করে আত্মীয়দের মাধ্যমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
প্রতিবেশী, আত্মীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কইয়ারখই গ্রামের বাসিন্দা আবদুন নূর ১৯৫৬ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে কর্মজীবন শেষ হলে তিনি ১৯৯৬ সালে দেশে ফেরেন এবং স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে হাউজিং এস্টেটের ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। বাড়িটির অন্য তলায় তাঁর আরও দুই ভাই সপরিবারে থাকতেন।
আবদুন নূরের দুই মেয়ের মধ্যে শাফিয়া বেগম (৩২) নগরের আম্বরখানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। ছোট মেয়ে আফিয়া ওই বিদ্যালয়েই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। পড়াশোনা চলাকালীন হঠাৎ বাবা আবদুন নূর আম্বরখানায় একটি সেলাই কারখানা খুলে দুই মেয়েকেই সেখানে কাজে লাগিয়ে দেন। আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে আবদুন নূরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম মারা গেলে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ‘গৃহবন্দী’ জীবনযাপন শুরু করেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে তাঁদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
আবদুন নূরের ভাইপো আবদুল ওয়াদুদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁরা চাচার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে চাচি মারা যাওয়ার পর তাঁরা তিনজন ঘরে বন্দিজীবন শুরু করেন। আত্মীয়রা একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাঁদের দা নিয়ে তাড়া করা হতো। আটকা থাকা অবস্থায়ও যাতে তাঁরা ভালো থাকেন, এ জন্য ফ্ল্যাটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নিজে থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে রেখে অন্ধকারের মধ্যেই থাকতেন। সপ্তাহে এক-দুবার তাঁদের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত।
আবদুন নূরের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাত্রে কাঁঠালের বিচি আর শুকনো মরিচ ছাড়া আর কিছু নেই। প্রতিবেশীরা জানান, সপ্তাহে এক-দুবার আবদুন নূরকে সাধারণ পোশাকে বের হতে দেখতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি হিসেবে পরিচিত হলেও গত দেড় বছরে তাঁকে মসজিদে দেখেননি কেউ।
কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, তাঁরা শুনেছেন, আবদুন নূর যুক্তরাজ্য থেকে অনেক টাকা নিয়ে ফিরেছিলেন। তাঁরা মনে করেন, স্ত্রীর মৃত্যু ছাড়াও ওই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কোনো সমস্যার কারণেও বড় মানসিক আঘাত পেয়ে তাঁর এই অবস্থা হয়ে থাকতে পারে। তবে হাসপাতালে পাশে থাকা আবদুন নূরের এক ভাই তাজউদ্দিন এ ধারণা সত্যি নয় বলে দাবি করেন। তাজউদ্দিন জানান, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আবদুন নূর মেজো। দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তাঁরা খোঁজখবর কমই নিতেন। পুলিশ উদ্ধার করেছে শুনে হাসপাতালে এসে তিনি ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। তাজউদ্দিন বলেন, তাঁদের জানামতে, ভাই আবদুন নূর অর্থবিত্তের প্রতি উদাসীন। যুক্তরাজ্যে অবসর ভাতাও নাকি তিনি নিয়মিত উত্তোলন করতেন না। তবে ঠিক কী কারণে দুই মেয়েকে নিয়ে এমন অস্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন, এ বিষয়ে তাঁদের ধারণা নেই।
গতকাল দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি শয্যায় থাকা আফিয়া ও শাফিয়া নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন এবং হাসছেন। দুজনেরই পরনে ছেলেদের পোশাক। কথাবার্তায় বিদেশি টান। শাফিয়ার শরীর রোগা হয়ে গেছে। তাঁর ডান হাতে ও দুই পায়ের গোড়ালিতে ঘা।
অন্য ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বাবা আবদুন নূরকে। দেখা গেল শয্যায় বসে নামাজ পড়ছেন। এ প্রতিবেদককে ‘আর ইউ এ রিপোর্টার?’ প্রশ্ন করে বলেন, ‘হোয়াট ইজ লাইফ! আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি!’ (জীবন যে কী! আমি খুব সুখী)। দুই মেয়ের কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাই ডটার্স আর ওয়েল অ্যান্ড গুড’ (আমার মেয়েরা ভালো আছে)। নিজ ঘরে বন্দিজীবন কেন, এ প্রশ্নের জবাবে শুধু বাংলায় ‘আল্লাহর হাওলায় রাখছি’ বলে নীরব হয়ে যান আবদুন নূর।
ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক মকসুদুল হাসান খান জানান, তিনজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় বোন শাফিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাঁর হাতে ও পায়ে চর্মরোগ হয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অপুষ্টিজনিত রোগ। আফিয়াকে সুস্থ দেখালেও তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান গোপাল শংকর রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তিনজনকেই দেখেছি। এঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ। নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন। খাওয়াদাওয়ার কোনো নিয়ম না থাকায় শারীরিকভাবেও তাঁরা অসুস্থ। এর মধ্যে একজনের অবস্থা (আফিয়া) অপুষ্টিজনিত কারণে সংকটাপন্ন।’
এক প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘কোনো মানসিক আঘাত কিংবা একাকী জীবন ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এঁরা একাকী থাকায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। এ জন্য তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।’
প্রথম আলো..

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

পাহাড়ে পিষ্ট মানুষ

undefined
চট্টগ্রামে আবারও ভয়াবহ পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। টাইগারপাস বাটালি হিলের প্রতিরক্ষা দেয়াল ও মাটি গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়েছে আরো একজন।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিরক্ষা দেয়ালটি বাটালি হিলের মাটিসহ ধসে পড়ে। এর নিচে প্রায় ২০টি বস্তিঘর চাপা পড়ে। এসব ঘরের বাসিন্দাদের গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। পরে অনেকে অন্যত্র চলে গেলেও বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ শফিক, আমজাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও হোসনে আরা বেগমের পরিবার আবারও নিজেদের ঘরে ফিরে আসে। গতকাল সকালে আনোয়ার হোসেনের পরিবার ছাড়া বাকি চারটি পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী আরিফা হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শফি মিয়ার স্ত্রীকে ডাকার জন্য এসে দেখতে পাই, পেছনের দেয়ালটি ধসে পড়ছে। আমার চিৎকারে আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সাত-আটজন সদস্য ঘর থেকে বের হয়ে এলেও বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ শফি, আমজাদ হোসেন ও হোসনে আরা বেগমের পরিবারের লোকজন বের হতে পারেনি।'
এরপর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রেহানা আকতার (৩৫), বড় মেয়ে শারমিন (১৮), মেয়ে ফাতেমা (১২), ছেলে আজাদ (১০) ও তানজিনার (২) লাশ উদ্ধার করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের হারিয়ে শোকাহত বাচ্চু মিয়া বলেন, 'আমি সকালে রিকশা চালাতে চলে গিয়েছিলাম। বড় মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেড়াতে এসেছিল। এখন আমি সবাইকে হারালাম।'
মাটি চাপা পড়া আমজাদ হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (২৭) ও মেয়ে শারমিনের (১২) লাশ দুপুর ২টার দিকে উদ্ধার করা হয়। ধসে যাওয়া প্রতিরক্ষা দেয়াল কেটে এর নিচে পাওয়া যায় মোহাম্মদ শফি (৩৫), তাঁর স্ত্রী মিনু আরা বেগম (২৫), ছেলে মিনহাজ (৮) ও মেয়ে সোনিয়ার (৪) মৃতদেহ। রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয় দুই শিশু সাজ্জাদ হোসেন (১২) ও মেয়ে সাহেদার (৮) মৃতদেহ। স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যায় জানায়, এই দুই শিশুর মা মাটির নিচে তখনো চাপা পড়ে আছেন। রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ও দেয়াল ধসে ১৩২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১১ জনের মৃত্যুর পর চট্টগ্রামে গতকাল আবারও বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটল। বাটালি হিল ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাটালি হিলের পাশে রেলওয়ের জায়গায় বেশ কয়েকটি পরিবার অবৈধ ঘর তুলে বসবাস করছে। তাদের উচ্ছেদের জন্য সিটি করপোরেশন অভিযান পরিচালনা করলেও তেমন কোনো ফল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সরকারি জায়গায় থাকব না তো কোথায় থাকব! সিটি করপোরেশন বৃহস্পতিবার আমাদের এখান থেকে তুলে দিলেও আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্কুল খুলে দেয়নি। স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার আবার আগের জায়গায়ই ফিরে গিয়েছিল।'
গতকালের দুর্ঘটনার পর প্রথম উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এরপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সেবক, রেড ক্রিসেন্টের কর্মী এবং সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপপরিচালক রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের চারটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। দেয়ালের নিচে চাপা পড়া আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ ঘণ্টা পর আহতাবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'ঝুঁকিপূর্ণ বসতির লোকজনকে বৃহস্পতিবারও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকে পরে ফিরে আসায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।' অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদ বলেন, 'প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হয়েছে। এর পরও অনেকে থেকে যাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।'
স্থানীয় লোকজন পাহাড়ের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, 'আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেয়ালের পাশের মাটি সরে যাওয়া এবং বৃষ্টির পানি নামতে না পারার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।'
বস্তিঘরেই নিভল প্রাণ : মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। শেষ অবলম্বন ছিল বস্তির ৩০০ টাকায় ভাড়া নেওয়া একটি ছোট কক্ষ। সেখানে গাদাগাদি করে চলত জীবনযাপনের মরিয়া চেষ্টা। সেই শেষ আশ্রয়স্থল বস্তিঘরেই নিভে গেল চার পরিবারের ১৪টি মানুষের প্রাণ।
বাটালি হিলের ধস বাচ্চু মিয়ার পরিবারের স্ত্রী, সন্তানসহ পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। রিকশা চালানোর সময় সকাল ৭টার দিকে পাহাড়ধসের খবর পান বাচ্চু মিয়া। পরে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাচ্চু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিয়ে করার পর আট থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সন্তানের মুখ দেখিনি। এরপর প্রথম স্ত্রী রেনু বেগম আমাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করায়। এর এক বছর পর সংসার আলো করে সন্তান আসে। আজ (শুক্রবার) পাহাড়চাপায় আমার জীবন আবার অন্ধকার হয়ে গেছে।'
ধস ঠেকাতে পারেনি প্রতিরক্ষা দেয়াল : বাটালি হিলের ধস ঠেকাতে গত বছরের প্রথম দিকে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের দেয়ালটি গতকাল পাহাড়ধস ঠেকাতে পারেনি। বরং এটি ভেঙে পড়ায় ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রতিরক্ষা দেয়াল নিয়ে এলাকাবাসী যে অভিযোগ করছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় আমি নিজে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। তার পরও লোকজন আবার সেখানে ফিরে আসে। বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই সবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সরে যাওয়া উচিত।'
প্রতিরক্ষা দেয়ালটি নির্মাণকাজের ঠিকাদার গিয়াস আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা গত বছরের প্রথম দিকে কাজ শেষে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিই। তখন ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার অভিযোগ কেউ করেনি। এখন একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর সবাই নির্মাণকাজে ত্রুটির কথা বলছে। আমরা যে জায়গায় দেয়ালটি নির্মাণ করি, তার নিচ থেকে মাটি কেটে ঘর তৈরি করায় সেটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়সহ দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে।'
নিহত প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান : পাহাড়ধসে নিহত প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব পাহাড়ের মালিক এ নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকে জেলা প্রশাসক এ নির্দেশ দেন। গত বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার এক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পাহাড়-মালিকদেরই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা সেটা বাস্তবায়ন করেননি। তাঁরা ব্যর্থ হলে পাহাড়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।'
বৈঠকে আরো চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো_দুর্যোগকবলিত এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে পিডিবি, বাটালি হিল এলাকার ধসে যাওয়া দেয়াল দ্রুত অপসারণ করবে সিটি করপোরেশন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনে পাঠদান বন্ধ রেখে গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং চাপা পড়া অন্য তিনজনকে দ্রুত উদ্ধারের ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ। এ ছাড়া পাহাড়ধসের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) এহসান এ ইলাহীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কালের কন্ঠ

সত্যিকারের মুগলি!


সিলভি রবার্ট ও অ্যালেইন ডেগ্রে ছিলেন ফ্রিল্যান্স ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। ফরাসি এই দম্পতি আশির দশকের শেষের দিকে গিয়েছিলেন আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে; ছবি তুলতে। সেই আফ্রিকাতেই নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান। আলফ্রেড হিচককের দ্য বার্ডস ছবির অভিনয়শিল্পী টিপ্পি হেড্রেনের নামানুসারে সেই মেয়ের নাম তাঁরা রাখেন টিপ্পি ডেগ্রে।
একদিকে কোলজুড়ে এল মেয়ে, অন্যদিকে চলতে থাকল পশুপাখি ক্যামেরায় ধরে রাখার কাজ। সেই কাজের জন্য সিলভি ও অ্যালেইনকে চষে বেড়াতে হলো আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল। মেয়ে টিপ্পি বেড়ে উঠতে লাগল একদম প্রকৃতির কোলেই। তার বন্ধু হলো বনের কিছু পশুপাখি। খেলার জায়গা হলো বিশাল ঘাসবন, মরুভূমি কিংবা ঠাসবুনোটের ঝোপঝাড়। মাথার ওপর ছাদ হলো উদার জমিনের সুনীল আকাশ। 
মা সিলভি বলছিলেন মেয়ে টিপ্পির বেড়ে ওঠার দিনগুলোর কথা, ‘আফ্রিকায় একেবারে অন্য রকম একটা শৈশব কাটিয়ে এসেছে মেয়েটা। সেটা ছিল একটা জাদুর দুনিয়া, সেখানে সত্যিকারের আনন্দ পেয়েছিল সে।’ কে দিয়েছিল সেই আনন্দ? প্রকৃতি তো বটেই, বিশেষ কয়েকটি নামের কথা না বললেই নয়। একটা বেজি ছিল টিপ্পির বন্ধু, সেটিই ছিল টিপ্পির প্রথম আফ্রিকান বন্ধু, নাম ছিল ওকানতি। বন্ধু ছিল ২৮ বছরের হাতি আবু। চিতাবাঘ জেঅ্যান্ডবিও ছিল খুব কাছের। এ ছাড়া ছিল আস্ত একটা কুমির! ছিল আদুরে এক সিংহের ছানা, জিরাফ, গালাগো, উটপাখি, মিরক্যাট। খাতির ছিল একটা বাচ্চা জেব্রা, ভেড়া, সাপ ও আফ্রিকান ধূসর তোতাপাখির সঙ্গে। আর ছিল পেটমোটা ব্যাঙ ও বহুরূপী এক গিরগিটি! 
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই এই বুনো পশুপাখিকে বন্ধু মেনেছিল টিপ্পি। পশুপাখিও ছোট্ট মানুষটিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বন্ধুত্বের শুঁড়, ঠোঁট, ডানা কিংবা থাবা!
শুধু পশুপাখিই নয়, টিপ্পি বেশ ভাব জমিয়ে ফেলল বুশম্যান ও কালাহারির হিম্বা আদিবাসীদের সঙ্গে। সোনালি চুলের মেয়েটিকেও আপন করে নিল আফ্রিকার মানুষগুলো। টিপ্পির একেকটা দিন কাটতে লাগল বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যে অভিজ্ঞতা কেবলই আনন্দের। এই সকালে দেখা গেল হাতি আবুর পিঠে সওয়ার হয়েছে টিপ্পি, তার পরই দেখা গেল কুমিরটার সঙ্গে দুটো কথা বলে আসতে। দুপুরে আবার বুশম্যানদের সঙ্গে শিকার শিকার খেলায় ব্যস্ত! বিকেলে বাচ্চা জেব্রাটাকে নিজ হাতে দুধ না খাওয়ালেই নয়। সূর্য যখন পাটে যেতে বসেছে, দেখা গেল উটপাখির পিঠে করে হেলেদুলে ফিরে আসছে সে মা-বাবার কাছে! মুখে রাজ্যজয়ের হাসি।
মোটকথা, আফ্রিকায় সত্যিকারের একটা মুগলি আবিষ্কার করলেন সিলভি-অ্যালেইন দম্পতি। রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের দ্য জাঙ্গল বুক-এর ছবিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠল তাঁদের চোখের সামনে। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো সত্যিকারের মুগলি, মানে মেয়ে টিপ্পি ও তার বন্ধুদের প্রতিদিনের জীবন ক্যামেরায় ধরে রাখতে শুরু করলেন সিলভি ও অ্যালেইন। আলাদা করে কিছুই করতে হলো না তাঁদের। যা করার করল টিপ্পি নিজেই। পশুপাখির সঙ্গে দোস্তি তো তার হামাগুড়ি দেওয়ার বয়স থেকেই। তার ওপর এরই মধ্যে বুশম্যান ও হিম্বা আদিবাসীদের ভাষাও রপ্ত করেছে সে! শিখেছে তীর ছোড়ার কায়দা-কানুন। আর তার পোশাক-আশাক? কিপলিংয়ের মুগলি তাকে দেখলে লজ্জাই পেত! বুশম্যানদের মতো সংক্ষিপ্ত নেংটিতেই মেয়েটি দুর্দান্ত। এদিকে পিঠের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একরাশ সোনালি চুল। পোড় খাওয়া তামাটে চেহারা, চোখে বুনো চঞ্চলতা। মোটামুটি গাট্টাগোট্টা শরীর। এর চেয়ে ভালো সত্যিকারের মুগলি আর কোথায় মেলে?
টিপ্পি যখন ফ্রান্সে
আফ্রিকায় তোলা সত্যিকারের মুগলি টিপ্পির ছবিগুলো নিয়ে একটা বই বেরোল একদিন। নাম—টিপ্পি: মাই বুক অব আফ্রিকা। বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রকাশিত হলো তা। হইচই পড়ে গেল চারপাশে। বেশ নামডাক হলো টিপ্পির। দেশ-বিদেশের নামজাদা পত্রপত্রিকায় ছাপা হতে থাকল তার ছবি আর খবর। কিন্তু টিপ্পির মন ভালো নেই। কী হলো প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে মেয়েটির? মেয়েটিকে বন্দী করা হলো খাঁচায়! হ্যাঁ, আফ্রিকা যদি হয় উন্মুক্ত প্রান্তর, ফ্রান্সের প্যারিস খাঁচাই বটে। 
১৯৯৯ সালের বড়দিনের কথা। সিলভি-অ্যালেইন বড়দিন উদ্যাপনের জন্য মেয়েকে নিয়ে গেলেন মাদাগাস্কারে। কিন্তু সেখানে দিন কতক থাকতে না থাকতেই মেয়ের চোখ ছলছল, ‘মা, আমি ওকান্তিদের কাছে যাব!’ মেয়ের কথা ভেবে সেখান থেকে দ্রুতই পাততাড়ি গোটালেন সিলভি ও অ্যালেইন। কিন্তু এর মধ্যে একদিন ফরাসি একটি টিভি চ্যানেল আমন্ত্রণ জানাল টিপ্পিকে, সঙ্গে ওর মা-বাবাকেও। সত্যিকারের মুগলির একটা সাক্ষাৎকার চাই তাদের। তা-ই হলো, মেয়েকে নিয়ে প্যারিসে এলেন সিলভি-অ্যালেইন।
প্যারিসের বাতাসে কী ছিল কে জানে! মেয়ের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার কদিন যেতে না যেতেই সিলভি ও অ্যালেইন সিদ্ধান্ত নিলেন, বিচ্ছেদ চাই তাঁদের! দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা থমকে গেল। আর সেই সঙ্গে টিপ্পি হারাল আফ্রিকার জীবন!
সেই সময়ের কথা বলছিলেন সিলভি, ‘টিপ্পির বয়স তখন ১০। তখন সে আমাদের বিচ্ছেদের ব্যাপারটা বুঝতে শিখেছে। এবং সেই সঙ্গে আবিষ্কার করল, আফ্রিকা থেকেও সে বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে, যেমনটা হয়েছিল ওর বাবার সঙ্গে।’ আফ্রিকা ও বাবা, দুই সত্তার সঙ্গে যুগপৎ বিচ্ছেদ, টিপ্পির তখন কেমন লেগেছিল? সেই অনুভূতি সহজেই অনুমেয়। মা সিলভি দেয়ালে ঝোলানো মেয়েটার বিমর্ষ একটা ছবির দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘প্রথম দিকে কোনোমতেই প্যারিসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি মেয়েটা। সব সময় ওর আফ্রিকার বন্ধুদের কথা বলত ও! বুকটা ভেঙে যেত তখন।’ কী বলত টিপ্পি? ওর ওয়েবসাইটে লিখেছিল, ‘এখানে তো আমি আকাশটা দেখতে পাই না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি যেন খাঁচায় বন্দী।’ 
মেয়েকে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত করে তুলতে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন মা। কিন্তু নাহ্, স্কুলে কোনো বন্ধুর খোঁজ পেল না টিপ্পি। সারাক্ষণ চোখ-মুখ কালো। পড়াশোনায়ও মন নেই। দুই বছর চেষ্টা করেও স্কুলে মন টেকাতে না পেরে বাড়িতেই চলতে লাগল পড়াশোনা। চিন্তিত মা। একসময় ধরেই নিলেন, এই মেয়ে সময়-সুযোগ পেলেই ফের আফ্রিকায় ছুটে যাবে। 
মায়ের ধারণা সত্যি হয়েছিল। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হলেও শেষমেশ প্যারিসের শহুরে জীবনে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে টিপ্পি। পরে সে ভর্তি হয়েছে প্যারিসের লা সরবনে নভেলে ইউনিভার্সিটিতে। এখনো সে সেখানেই পড়ছে। পড়াশোনার বিষয় ফিল্ম মেকিং। পুঁথিগত বিদ্যা এরই মধ্যে কাজে লাগিয়েছে টিপ্পি। এবং কাজের ক্ষেত্র সেই আফ্রিকা! হ্যাঁ, ফের আফ্রিকায় ফিরে গিয়েছিল টিপ্পি। ডিসকভারি চ্যানেলের জন্য সে তৈরি করেছে ছয়টি প্রামাণ্যচিত্র। 
কদিন আগে, ৪ জুন ছিল টিপ্পির জন্মদিন। এখন ওর বয়স ২১ বছরের খানিকটা বেশি। টিপ্পির বিচরণক্ষেত্র এখন প্যারিসের শহুরে পথ। টিপ্পি প্রতিদিন সূর্যটাকে হারিয়ে যেতে দেখে বড় দালানকোঠার আড়ালে। টিপ্পি পাখির ডাক শোনে না অনেক দিন। টিপ্পির মন পড়ে থাকে সেই আফ্রিকায়। তার পরও সত্যিকারের মুগলি এখন শহুরে মানুষ। বছর কতক আগে ওকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘তোমার জাতীয়তা কী?’ ওর দ্বিধাহীন উত্তর ছিল, ‘আফ্রিকা!’ এখনো একই উত্তর দেয় টিপ্পি, ‘আমার দেশ আফ্রিকা!’
রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে মাহফুজ রহমান

ভালোবাসাই কাল হলো


রাজগোখরার সঙ্গে লিউক ইয়োম্যান্স
গোখরাজাতীয় সাপের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিষাক্ত সাপ হচ্ছে রাজগোখরা। এর একটি ছোবলে ২০ জন মানুষ বা একটি হাতির মৃত্যু হতে পারে। এর পরও রাজগোখরার প্রতি ভালোবাসার অন্ত ছিল না লিউক ইয়োম্যান্সের। ভালোবাসার টানেই যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামশায়ারের ইস্টউড শহরে নিজ বাড়ির পেছনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই ভয়ংকর সাপের অভয়ারণ্য। তবে এই ভালোবাসাই কাল হলো তাঁর জীবনে। একটি রাজগোখরাকে চুমু খেতে গিয়ে ওই সাপের ছোবলে মাত্র ছয় মিনিটে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়োম্যান্স। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। 
ইয়োম্যান্স বিশ্বাসই করতেন না যে তিনি কোনো দিন সাপের দংশনে মারা যাবেন। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এসব সাপ জানে, আমি ওদের ভালোবাসি। ওরা জানে, আমি ওদের খাবার দিই, পানি দিই। আক্রান্ত না হলে আক্রমণ করা ওদের স্বভাবে নেই। স্বভাবের বাইরে গিয়ে ওরা কখনোই আমার ক্ষতি করবে না। কারণ, আমি ওদের ক্ষতি করি না।’ 
ইয়োম্যান্সের এই মৃত্যুতে মর্মাহত তাঁর প্রতিবেশীরা। একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘তাঁর এ মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা সবাই জানতাম, তিনি গোখরা পোষেন। কিন্তু তিনি এ ক্ষেত্রে এত অভিজ্ঞ ছিলেন যে, এ রকম কিছু ঘটতে পারে তা আমরা ধারণাই করতে পারিনি। সাপের মঙ্গলের জন্যই জীবনভর খেটে গেলেন।’ 
নিজ বাড়ির পেছনে ২০০৮ সালে অভয়ারণ্যটি গড়ে তোলেন ইয়োম্যান্স। তাঁর দাবি ছিল, এটিই রাজগোখরার জন্য একমাত্র অভয়ারণ্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতীয় বনাঞ্চলে সাধারণত এ রাজগোখরার বাস। ইয়োম্যান্সের আশঙ্কা ছিল, যেভাবে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে কিংবা মানুষের হাতে মারা পড়ছে সাপসহ নানা বন্য প্রাণী, এতে অচিরেই এ রাজগোখরাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এ প্রাণীটিকে টিকিয়ে রাখতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অভয়ারণ্যটি। ডেইলি মেইল।
PROTHOM-ALO

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

৯৯ বছরে খোঁজ মিলল মনের মানুষের


বিয়ের পর হেরিক ও ভার্জিনিয়া
ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। সেটাই আরেকবার প্রমাণ করলেন গিলবার্ট হেরিক। মনের মানুষের খোঁজে নিউইয়র্কের এ বাসিন্দা ৯৯ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে জীবনসায়াহ্নে এসে খুঁজে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত নারী ভার্জিনিয়া হার্টম্যানকে। তাঁকে বিয়ে করে অবসান ঘটালেন কুমার জীবনের।
নিউইয়র্কে অবস্থিত মনরো কমিউনিটি হাসপাতাল নার্সিং হোমে বসবাস করছেন গিলবার্ট। ডাক বিভাগ থেকে অবসর নিয়ে এখানেই আছেন দীর্ঘকাল ধরে। একই নার্সিং হোমে থাকেন ৮৬ বছর বয়সী ভার্জিনিয়া। ২৫ বছর আগে তিনি বিধবা হয়েছেন। ছবি আঁকায় আছে তাঁর পারদর্শিতা। 
বছর খানেক আগের কথা। ভার্জিনিয়ার আঁকা ছবি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজন করল একটি প্রদর্শনীর। সেই প্রদর্শনীর একটি তেলচিত্র নজর কাড়ে গিলবার্টের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই শিল্পের স্রষ্টা ভার্জিনিয়া। এরপর প্রতিদিন তাঁর কক্ষে যাওয়া-আসা আর আড্ডা। ধীরে ধীরে দুজন দুজনায় ভালোলাগা, মন দেওয়া-নেওয়া, অবশেষে ভালোবাসা।
বুড়ো কপোত-কপোতী ভাবলেন এভাবে আর নয়, এখন একই কক্ষে থাকলে মন্দ না। কিন্তু বাদ সাধে বেরসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানানো হলো, বিয়ে ছাড়া এক কক্ষে থাকা অসম্ভব। কী আর করা! অনেক ভেবেচিন্তে ভার্জিনিয়া দিলেন বিয়ের প্রস্তাব। এতদিনে মনের মানুষকে খুঁজে পেয়ে ভার্জিনিয়াকে হারাতে চাননি গিলবার্টও। 
অবশেষে ৬ জুন বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তাঁরা। বিয়ের সব আয়োজন করেন ভার্জিনিয়ার সন্তান, নাতি-নাতনি ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা। অনুষ্ঠানে নবদম্পতির আত্মীয়স্বজন, নার্সিং হোমের চিকিৎসক ও সেবিকারা ছাড়াও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। 
বিয়ের পর গিলবার্ট তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
‘আমি ভার্জিনিয়াকে ভালোবাসি।’ এতদিন বিয়ে না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ভার্জিনিয়া) খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমি কখনোই আমার মনের মতো কোনো নারীকে খুঁজে পাইনি।’ 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই প্রায় শতবর্ষী মানুষটির জীবনে কোনো অভাব ছিল না। জীবনজুড়ে ছিল শুধুই সফলতা আর সমৃদ্ধি। পেয়েছেন মার্কিন সামরিক পুরস্কার পার্পল হার্ট। তবু এত কিছুর পর তাঁর হূদয়ের একটা জায়গা ছিল শূন্যতায় ভরা। জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে খুঁজে না পাওয়া। অবশেষে ভার্জিনিয়াকে বিয়ে করে সেই শূন্যতা পূরণ হলো তাঁর। সিবিসি নিউজ।
prothom-alo

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

বিচেছদ ও ঘটা করে হয়!!!


বিবাহবিচ্ছেদের অনুষ্ঠানে ইউয়ান লি
ঘরভর্তি মেহমান। চারিদিকে হই-হুল্লোড়, খুনসুটি। নানা পদের খাওয়া-দাওয়া বিয়ে মানেই এ রকম রঙিন উৎসব। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদও এমন ধুমধাম ও বর্ণিল করে হয়, সেটি শুনলে ভ্রু কুঁচকে যাওয়ার কথা। অথচ সেই কাজটিই করেছেন চীনা রমণী ইউয়ান লি।
লি তাঁর ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটান ১৯ জুন। বিয়ের মতোই মহা সমারোহে তিনি তাঁর স্বামীকে এ দিন তালাক দেন। 
ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ শানঝির রাজধানী তাইউয়ানে। ঘটনার দিন লি ও তাঁর তিন সন্তানকে একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে লির বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, ঠিক যেভাবে ২৭ বছর আগে লির স্বামী তাঁকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। 
তাইউয়ানের একটি হোটেলে এ বিবাহবিচ্ছেদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন লি। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ঘটা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পেরে আমি খুশি। এর মাধ্যমে অতীতকে বিসর্জন দিলাম। সন্তানদের নিয়ে আমি সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই।’
এরপর অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বিয়ের শপথের মতো লিকে বিবাহবিচ্ছেদেরও একটা শপথবাক্য পড়ান। শপথ নেওয়ার পর লি তাঁর বিয়ের একটি ছবি ভেঙে ফেলেন। এরপর বিয়ের আংটিটাও একটা ছোট পানির ট্যাঙ্কিতে ফেলে দেন। অরেঞ্জ অনলাইন।
প্রথম আলো

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons