Cheat লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Cheat লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১১

প্রেমের ফাঁদে কিশোরীরা, শঙ্কায় অভিভাবকেরা

ভোলায় বেশ কয়েকজন কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে সিডি করা ও মুঠোফোনে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের শতাধিক মুঠোফোন জব্দ করেছেন। তাঁদের দাবি, মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ধরনের অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভোলার সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভোলার সাতটি উপজেলায় তথাকথিত প্রেমিক সেজে তাদের প্রেমিকাকে যৌন হয়রানি করছে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন অশ্লীল চিত্র মুঠোফোনে ও ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে বাজারে ছাড়ছে। ওই ভিডিওচিত্র ভোলার দুই শতাধিক কম্পিউটার ব্যবসায়ী উচ্চ দরে বিক্রি করছে। পুলিশের তথ্যমতে, গত চার মাসে এ ধরনের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।
সম্প্রতি ভোলা শহরের একটি স্কুলের ছাত্রীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অশ্লীল দৃশ্য গোপনে ক্যামেরাবন্দী করে সিডি বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে এক বখাটে চক্র। এ ঘটনায় ৭ জুলাই ভোলা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভোলা জেলার সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির সামাজিক দায়িত্ব এ ধরনের অন্যায়ের প্রতিরোধ করা। এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সবার ঘরে ঘটতে পারে। সমাজে এ ধরনের অশ্লীলতা প্রশ্রয় পাবে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যাদের কম্পিউটারে, মুঠোফোনে, ভিসিডিতে এ ধরনের দৃশ্য থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনবেন।’
ভোলা আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সামস উল আলম বলেন, ‘সমস্যাটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ যে তারা ১৮ বছরের কম বয়সীদের মুঠোফোন জব্দ করছে। আর তরুণদের কাছে আমার অনুরোধ, ওই অশালীন ভিডিওচিত্রটি নিজের বোনের মনে করে মুঠোফোন থেকে ফেলে দিন!’
শাহাবাজপুর থিয়েটারের পরিচালক এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। কম্পিউটারের দোকানের ব্যবসাও অনুমোদনের (লাইসেন্স) আওতায় আনা দরকার।’
জেলা গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক রতন কৃষ্ণ রায় চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্রীকে এভাবে যৌন নিপীড়ন চালানো এবং সে দৃশ্য ভিডিও করে বাজারে ছাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে শঙ্কা-ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ ভোলা শহরে ব্যাপক তদন্ত চালায়। দেখা গেছে, জেলা শহরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকার দরগা রোডের বাসিন্দা মো. হাসান এ ঘটনার মূল হোতা। গত বুধবার রাতে ডিবি পুলিশ বাসায় হানা দিয়ে হাসানের বাবা ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় হাসানের ব্যবহূত কম্পিউটারসহ একাধিক স্কুলছাত্রীর অশ্লীল ভিসিডি, মেমোরি কার্ড ও সাতটি মুঠোফোনের সিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি পুলিশ শহরতলির পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাসিয়া লঞ্চঘাট থেকে হাসানকে গ্রেপ্তার করে।
হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সঙ্গে তার বন্ধুরাও আছে। তার তথ্যের সূত্র ধরেই শুক্রবার তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম সৌধকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অশ্লীল সিডি বিক্রির অভিযোগে শনিবার দিবাগত রাতে তিনটি কম্পিউটার সিপিইউসহ তিন ব্যবসায়ী আজিজ, রুবেল ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, প্রথম সতর্কতায় যদি কেউ ওই চিত্র মুছে না ফেলে, তবে পরবর্তী সময়ে কারও মুঠোফোন ও কম্পিউটারে অশ্লীল চিত্র পেলেই তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি করা হবে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘মুঠোফোনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের বাবা-মা সন্তানের হাত থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ জন্য অভিযান চালিয়ে ১৮ বছরের নিচের তরুণ-তরুণীর হাত থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে অভিভাবককে ফেরত দিচ্ছি।’ এ পর্যন্ত তাঁরা ভোলা শহর থেকে শতাধিক মুঠোফোন জব্দ করেছেন।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

সস্তা দামের সালফার ও মাটি মিশিয়ে দস্তা সার বিক্রি

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নিম্নমানের দস্তা সার অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির চকচকে প্যাকেটে সস্তা দামের সালফার ও মাটি ভরে দস্তা সার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুধু দস্তা সারের নামেই ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করে জেলা থেকে প্রতিবছর ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক কৃষক না বুঝে এসব নিম্নমানের সার জমিতে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সার ব্যবহারের কারণে কৃষকেরা বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লোকসান গুনছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই দুই ও তিন ফসলি। এসব জমিতে উন্নত ফলনের আশায় কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ দস্তা সার ব্যবহার করছেন। ৪২টি দস্তা সার কোম্পানি স্থানীয় ৮১ পাইকারি, ৯১০ জন খুচরা সার ও কীটনাশকের ডিলারসহ বিভিন্ন মুদি দোকানের মাধ্যমে এসব সার বিক্রি করছে। যশোরের নওয়াপাড়া, ঢাকা ও স্থানীয় বেশ কিছু কোম্পানি এ সার তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত।
বাজার থেকে দস্তা সার কিনে ব্যবহারের পর আশানুরূপ ফসল উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মে মাসে বাজার থেকে দস্তা সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার মৃত্তিকাসম্পদ ইনস্টিটিউটে পাঠায়। সেখানে পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ১ জুলাই চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌঁছায়।
প্রাপ্ত ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মান অনুযায়ী মনোহাইড্রেট-জাতীয়তে সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশ, হেপ্টাজাতীয়তে ২১ শতাংশ ও চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারে ১৭ শতাংশ জিংক থাকার কথা। অথচ পরীক্ষাগারের ৪৪টি সারের মধ্যে মাত্র নয়টিতে এ মানের কাছাকাছি জিংক পাওয়া গেছে। চিলেটেড-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে এআরজেড কোম্পানির ‘জিংক’-এ কোনো জিংক পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মনোহাইড্রেট-জাতীয় দস্তা সারের মধ্যে জিংকটক্সে দশমিক ৪, যমুনা জিংক প্লাসে ৪, সিনো জিংকে ৪ দশমিক ৪, আর কে তাজায় ১০ দশমিক ৪, প্রাইম জিংকে ১২ দশমিক ৬, ক্রাউন মনো সুপার জিংকে ১৪ দশমিক ৮, ফিউচার জিংকে ১৫ দশমিক ৩ এবং হেপ্টাজাতীয় দস্তা সারের মধ্যে সুফলন জিংকে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ দস্তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত বছর চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল সারের একটি কারখানার সন্ধান মেলে, যেখান থেকে সারের উপকরণ হিসেবে কালো মাটি, ইটের গুঁড়া ও সালফার পাওয়া যায়।
সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরীফ উদ্দীন জানান, জমিতে দস্তার প্রয়োজন আছে কি না, তা না জেনেই কৃষকেরা বিক্রেতা ও কোম্পানির লোকের মিষ্টি কথায় সার ব্যবহার করে চলেছেন। এতে জমির উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি।’
চুয়াডাঙ্গা শহরে দস্তা সারের পাইকারি বিক্রেতা তসলিম আরিফ জানান, কোনো সার নিম্নমানের প্রমাণিত হলে সেগুলো কোম্পানিকে জানানো হবে। কোম্পানি ব্যবস্থা না নিলে নিম্নমানের সার বিক্রি করা হবে না। সেলিম ট্রেডার্সের মালিক এম এম সেলিম জানান, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির দস্তা সার বিক্রি করেন। মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, পরীক্ষায় প্রমাণিত নিম্নমানের সার বিপণন বন্ধ করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

বারাক ওবামা আততায়ীর গুলি তেঁ নিহত


মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের টুইটার অ্যাকাউন্টে হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। শুধু তাই নয়, তারা সেখানে লিখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিহত হয়েছেন। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা এই বার্তা ফক্স নিউজ চ্যানেলের টুইটারে থাকে। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে এ ঘটনা ঘটে। টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রথমে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর লেখা হয়, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই মাত্র মারা গেছেন। আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনা টের পেলে ফক্স নিউজ চ্যানেল দ্রুত তাদের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়।
কে বা কারা এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে, তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে ফক্স নিউজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য ফক্স নিউজ চ্যানেল অনেক মার্কিনির কাছে প্রিয় নয়। তাদেরই কেউ হ্যাক করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি দেখা চ্যানেলের মধ্যে ফক্স নিউজ সবার শীর্ষে। এরপর রয়েছে সিএনএন ও এমএসএনবিসি। হ্যাকার গ্রুপ লুলজসিকিউরিটি গত মে মাসে ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের ওয়েবসাইট ফক্স ডটকমে হামলা চালায়।
একটা গল্প


Read more: http://techtunes.com.bd/news/tune-id/78478/#ixzz1RJNVlMWH

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

টারান্টিনোর সেক্স স্ক্যান্ডাল!


সম্প্রতি ভারতীয় এক তরুণী যৌনঅভিযোগ করেছেন, ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’খ্যাত অস্কারজয়ী হলিউডি চিত্রনির্মাতা কুয়েন্টিন টারান্টিনোর বিরুদ্ধে। জানা গেছে বিজলি নামের ঐ তরুণী জানিয়েছেন, ‘একটি পার্টি থেকে টারান্টিনো তাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা সেখানে রাত্রিযাপনও করেছেন। খবর স্ক্রিন ইন্ডিয়ার।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী চিত্রনির্মাতা টারান্টিনোর বিরুদ্ধে অদ্ভুত যৌন আচরণের অভিযোগও এনেছেন ২৩ বছর বয়সী বিজলি শাহ। প্রমাণ হিসেবে সেই রাতে টারান্টিনোর সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছেন ঐ তরুণী।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ প্রসঙ্গে একটি ই-মেইলে বিজলি লিখেছেন, ‘হলিউড হিলের একটি পার্টিতে টারান্টিনোর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ। সে পার্টিতে আমাকে চুমুও খেয়েছেন তিনি। পার্টি শেষে তিনি আমাকে বলেন, আমার বাড়িতে যেতে চাও? আমি কিছু না ভেবেই রাজী হয়েছিলাম এবং তার বাড়িতে গিয়েছিলাম।’

বিজলি আরো লিখেছেন, ‘এরপর তিনি আমাকে বিছানায় নিয়ে গেলেন এবং কোনো রকম সংকোচ ছাড়াই অদ্ভুত এক প্রশ্ন করে বসলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমার পায়ের আঙুল চেখে দেখতে পারি? এমন অদ্ভুত প্রশ্ন আমার জীবনে সেই প্রথম শুনলাম আমি।

বিজলির ভাষ্যে, ‘ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আতঙ্কিত হলেও, চুপ করে রইলাম। এরপরই আমার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত দশ মিনিট পার করলাম আমি। একজন অস্কারজয়ী চিত্রনির্মাতা দশ মিনিট ধরে আমার পা চাখলেন এবং নিজেকে পরিতৃপ্ত করলেন। সত্যি বলতে কি, ব্যাপারটা মন্দ লাগেনি আমার।’

এদিকে জানা গেছে, সেই রাতে টারান্টিনোর বাড়ির ভেতরের একটি ফটোবুথে বেশ কয়েকটি ছবিও তুলেছেন এই দুজন। টারান্টিনোর বিরুদ্ধে নিজের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ই-মেইলের সঙ্গে সেই ছবিগুলোও জুড়ে দিয়েছেন বিজলি।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/টিকে/এইচআর/জুলাই ০২/১১

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসা

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কামাল খান
'চুড়ি নিবেন চুড়ি? লাল, নীল, কালো, সাদা_যা চান তাই পাবেন।' এটাই একজন চুড়ি বিক্রেতা ফেরিওয়ালার ডাক। কিন্তু র‌্যাব-৩-এর সদস্যরা দেখতে পেলেন, একজন চুড়িওয়ালা কাঁধে চুড়ির বোঝা নিয়ে যাচ্ছে, অথচ কোনো ধরনের হাঁক দিচ্ছে না। বরং ভয়ে এদিক-ওদিক চেয়ে হাঁটছে। সন্দেহবশত তাকে থামিয়ে চুড়ির কার্টনগুলো তল্লাশি করতে চাইলে চুড়িওয়ালা নির্বিঘ্নে তা নামিয়েও দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কার্টনের ওপর সারিবদ্ধভাবে চুড়ি সাজানো। ওপরের কার্টনটি ওঠাতে বললেই বেরিয়ে এল আসল ঘটনা। র‌্যাবের সদস্যরা দেখতে পেলেন, লোকটি চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। কামাল খান (৩৫) নামের ছদ্মবেশী ওই ফেনসিডিল ব্যবসায়ীকে সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
র‌্যাব-৩-এর মেজর এমারত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কামাল মূলত একজন পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রেতা। রাজধানী এবং এর আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সে চুড়ি বিক্রির নাম করে ছদ্মবেশে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। সে রাজশাহীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকার কাশিয়াডাঙ্গা থেকে ফেনসিডিল কম দামে কিনে এনে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তার ক্রেতা ছিল। অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে ছদ্মবেশে সে মাদক ব্যবসা করত।'
গ্রেপ্তারকৃত কামাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ছয় মাস ধরে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে সে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিক্রি করছে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বাহাড়া খানপাড়া এলাকায়। শুধু ফেনসিডিল ব্যবসার জন্য সে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসা ভাড়া করে ছিল। চুড়িওয়ালার বেশে ফেনসিডিল বহন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো সন্দেহ করেন না; এ কারণে সে এ কৌশলে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিল। এর আগে সে আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার কাছে ধরা পড়েনি। তার ক্রেতা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী। প্রতি বোতল ফেনসিডিল ভারত থেকে এক-দেড় শ টাকায় কিনে ক্রেতাদের কাছে বারো-চৌদ্দ শ টাকায় বিক্রি করত সে। ফেনসিডিল বিক্রির টাকা সে গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঠাত।
র‌্যাব-পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে লোকাল বাসে চলাফেরা করত কামাল। সীমান্ত থেকে ঢাকায় আসতে তার দুই থেকে তিন দিন লেগে যায়। এভাবে ফেরিওয়ালার বেশে পথ চলতে তার সমস্যায় পড়তে হতো না। বিভিন্ন জেলায় সে পরিচিত লোকজনের আশ্রয়ে থাকত। চুড়ির পোঁটলার ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল বহন করত সে।
ফেনসিডিল আকারে বড় হওয়ায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এখন ফেনসিডিল থেকে ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছে_এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল র‌্যাবকে জানায়, ফেনসিডিলের দাম বেশি, তাই ঝুঁকি হলেও এই অভিনব কায়দায় ব্যবসায় তাড়াতাড়ি লাভবান হওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ফেনসিডিল বহনের আরো কিছু অভিনব পন্থার কথা উল্লেখ করে। তার মতে, মোটা বিদ্যুতের তারের ভেতর, মাটির হাঁড়িতে দই বহনের মতো করে, গাড়ির সিটের নিচে অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল বহনে ঝুঁকি কম।
র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর এমারত জানান, গত ২৩ জুন র‌্যাবের একটি টহলদল কেরানীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব চরআইল খোকন চেয়ারম্যানের গলি এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় কাঁধে সাদা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে এক যুবককে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দেখে মনে হয় চুড়িওয়ালা। কিন্তু তার আচরণ চুড়িওয়ালার মতো না হওয়ায় সন্দেহ হয়। এ সময় তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পোঁটলার ওপর সারিবদ্ধ চুড়ি আর তার নিচে ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এরপর ১৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ কামাল নামের ওই ছদ্মবেশী চুড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে খোকন চেয়ারম্যানের গলির জাহাঙ্গীরের বাড়ির (পাঁচ তলা) নিচ তলায় ভাড়া থাকত।

রং সুন্দর করতে রাসায়নিক! (হায়রে মৌসুমী ফল)!!

রাজধানীতে ফলের সবচেয়ে বড় বাজার সদরঘাটের পাশে বাদামতলী ফলপট্টি। সেখানে আছে ছোট-বড় প্রায় ৩০০ আড়ত। এখন প্রায় সব আড়তই আমের দখলে। আম আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে, উত্তরবঙ্গ থেকে।
গত ১৬ মে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। সাতটিতে অভিযান চালিয়ে চারটি আড়তের আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের প্রমাণ পান আদালত। রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে আদালত আট হাজার কোটি আম ধ্বংস করেন।
সম্প্রতি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ওই বাজারের আম কিনে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ী ও আড়তের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাজারে আসা প্রায় সব আম পাকানো হয় কৃত্রিমভাবে। আম পাকাতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড অথবা ইথেফন নামের জৈব রাসায়নিক। ঢাকায় আনার আগে বা পরে আমে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যেখান থেকে আম আসে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় আমে রাসায়নিক ব্যবহার করে তারপরই তা ঢাকায় আনা হয়। তবে বাদামতলীর অনেক আড়তে আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়।
আমে কেন ইথেফন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেওয়া হয় জানতে চাইলে আবদুল জলিল নামের একজন আম ব্যবসায়ী বলেন, ‘রঙের লাইগ্যা। রঙেরই তো দুনিয়া, বুঝেন না।’ তবে তাঁর দাবি, তিনি এসব মেশান না।
একাধিক ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ইথেফনের ব্যবহার এখন স্বাভাবিক বিষয়। রাসায়নিক ব্যবহার না করলে রাজশাহীর আম ঢাকা বা দেশের অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে না, নষ্ট হবে। তাঁদের যুক্তি, গাছের সব আম একসঙ্গে পাকে না। সে ক্ষেত্রে একটি-দুটি করে আম বিক্রি করতে হবে। আবার গাছপাকা আম ঢাকা পর্যন্ত আনতে গেলে অনেক আম পচে যাবে। ব্যবসার স্বার্থে তাঁরা এসব ব্যবহার করেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হতো। এখন কার্বাইডের চেয়ে ইথেফন বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ, ইথেফন দিলে আমের রং বেশি সুন্দর হয়।
বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীদের সমবায় সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের বাজারে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। বাদামতলী থেকে নেওয়া আমের নমুনায় কীভাবে ক্যালসিয়াম কার্বাইড পাওয়া গেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি ব্যাপারীরা আমে কোনো কেমিক্যাল দিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা তো আর দেখে বুঝি না, কোন আমে কী আছে।’ তাঁর দাবি, আম ঢাকায় নিয়ে আসার আগেই ব্যাপারীরা তাতে ওষুধ মেশান। যেখান থেকে আম ঢাকায় পাঠানো হয়, সেখানে স্থানীয়ভাবে এটি প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

কোলে শিশু, গায়ে মাদক

কাজে যাওয়ার আগে শিশুটিকে পেট ভরে খাওয়ানো হয় না। ধরা পড়লে ঘন ঘন চিমটি দিতে হয় কোলের শিশুটির গায়ে। এতে শিশুটি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। সে সময় এক ধরনের সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি হয়। তখন পুলিশকে বলি, খাবারের অভাবে কোলের বাচ্চাটা অভুক্ত। এগুলো নিতে পারলে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে দুধ কেনা হবে। তখন উপস্থিত সবার মন একটু নরম হয়।’
মাদক পাচারের কৌশল সম্পর্কে এভাবেই বললেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার এক নারী মাদক বহনকারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও ভাইবোনের বাচ্চাদের নেওয়া হয়। এ জন্য দিনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা গুনতে হয়। আর শিশুটির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠতে তাঁদের পূর্বপ্রস্তুতিও থাকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক তমিজ উদ্দিন মৃধা জানান, ব্যক্তি, প্রশাসন ও বিচারকদের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় করতে নারী মাদক বহনকারীরা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে ব্যবহার করছে। জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েন তানহিয়া বেগম। কোলের শিশুটি তাঁর ছিল না। ভাড়ায় এনেছিলেন।
মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝুঁকি এড়াতে অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে এ পেশায় অতি কৌশলী হতে হয়। কিছুদিন পর পর বদলাতে হয় সেই কৌশল। তবে পুরুষের চেয়ে নারীরা এ পেশায় বেশ যোগ্য ও নিরাপদ। 
মাদক ব্যবসায়ীরা জানান, ভৈরব রেলওয়ে থানার ভৈরব থেকে ঢাকার টঙ্গী এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে। অপর দিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেল থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় কিশোরগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলা। র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের অধীনে আছে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ভৈরব মূল থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী সদস্য নেই। এই সুযোগটি নেন নারী মাদক বহনকারীরা। তাঁরা গায়ে মাদকদ্রব্য পেঁচিয়ে বহন করেন। ফলে পুলিশের পুরুষ সদস্যের পক্ষে দেহ তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। 
ভাড়ায় শিশু নিয়ে মাদক বহন করেন ভৈরবের পঞ্চবটির এমন একজন নারী মাদক বহনকারী বলেন, ‘কাঁঠাল, কুমড়া, গাড়ির চাকা, স্যালাইনের প্যাকেট, সাপ রাখার বাক্স এমনকি গরম ভাতের পাত্রে করে মাদক পাচারের কৌশল পুলিশ জেনে গেছে। কী কারণে কোলে শিশু রাখা হয়, তা-ও পুলিশের জানা। এর পরও শিশু কোলে থাকলে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবেই। পুলিশের কাছ থেকে মাফ না মিললে আদালতে গিয়ে পাওয়া যায়।’
বেসরকারি সংস্থা সাদ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সাগর রহমান প্রথম আলোকে জানান, যেসব নারী কোলে নিজের বা ভাড়ায় নিয়ে মাদক বহন করেন, তাঁরা কিন্তু ব্যবসায়ী নয়, বহনকারী। গডফাদারদের দ্বারা পরিস্থিতির শিকার। ভৈরবের নামীদামি অনেক ব্যক্তি এই খাতে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ওই গডফাদারদের বিরুদ্ধে পুলিশের একার পক্ষে সফল হওয়া কঠিন। 
সমস্যা সমাধানের কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেল ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের কাছ থেকে। তারা জানায়, ‘বাল্লা লোকাল’ নামে ভৈরব-আখাউড়ার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনে করে নারীরা মাদক বহন করে থাকেন বেশি। সে কারণে স্থানীয়ভাবে ট্রেনটি ‘মাদক ট্রেন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ট্রেনে নারী পুলিশ সদস্য রাখা, ওঠা ও নামার সময় সন্দেহভাজন যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করা, কামরায় আলোর ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ভৈরবের নারী মাদক ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে ফেলা যায়।

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

চুরির কাজেও ফেসবুক!

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। নতুন নতুন বন্ধু তৈরি, পুরাতন বন্ধু বা আপনজনদের খুঁজে বের করাসহ প্রিয় উক্তি, ভিডিও, অডিও, ছবি ও অনুভূতি বিনিময়ের সবচেয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় মাধ্যম এখন ফেসবুক। কিন্তু এ অতি প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় মাধ্যমটি যে চুরির কাজেও ব্যবহƒত হতে পারে তা কী কেউ ধারণা করেছিলেন।
ধারণা না করলেও এমন ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনে। ব্রিটেনের পশ্চিম সাসেক্সের পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুক ব্যবহার করে এ এলাকায় গত চার মাসে কমপক্ষে ১২টি বাড়িতে চুরি হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চোরেরা ফেসবুকে প্রথমে বন্ধু বানিয়ে তাদের ছুটির দিনগুলোর ব্যাপারে তথ্য নেয়। ছুটির দিনে যখন পরিবারের সবাই বেড়াতে যায় সেই সুযোগে তাদের বাড়ি চুরি করে। এ ধরনের চুরি ঠেকাতে লোকজনকে ছুটির দিনগুলো এবং এদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে ফেসবুকে না লিখতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১১

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিতে ভুয়া সনদ ব্যবহার!


শিক্ষক পদে ১৫২ প্রার্থীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া


শ্যামল সরকার

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করা এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদই ভুয়া। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তার অবসরের বয়স দুই বছর বাড়ানোর পর অনেকেই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আবেদন করেন। এ রকম আবেদনকারী ২৫ জন পদস্থ কর্মকর্তার সনদ সন্দেহজনক চিহ্নিত করে তা যাচাই করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রযোজ্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া সাত হাজার জনের সনদও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর জাল করেও কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তদন্ত এবং যাচাই-বাছাইয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স বাড়ানো-সম্পর্কিত সারসংক্ষেপ অনুমোদনকালে সনদ যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন। সারসংক্ষেপের একাংশে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেড় হাজার লোক নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগেও একই অবস্থা হয়েছে।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

দিল্লির একজন স্বামী বিমানন্দ এবং তার নারী ব্যবসা


আসল নাম রাজীব রঞ্জন দিবেদী। কিন্তু ভারত জুড়েই তিনি স্বামী বিমানন্দ নামেই পরিচিত। ১৯৯৮ সালে একবার যৌন ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে জেলে যান। জেল থেকে বেড়িয়ে একজন আত্মোৎসর্গকারী সাধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ দিল্লির জওহর পার্কে সাঁই বাবা মন্দির নির্মাণ করেন। এ মন্দিরে প্রায় ১ লাখ সাধু ধর্মের জন্য আত্ম নিবেদন করছে। একজন পরকল্যাণকামী সাধু হিসেবে ভারত জুড়েই ছিল তার সুনাম। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটে গেলো অঘটন।
মুখোশ উন্মোচিত হলো এ বহুরূপী সাধুর। জানা গেলো, পরোপকারী এ সাধু বাবা ভারত জুড়ে পরিচালনা করছেন নারী ব্যবসা। তবে যেই সেই নারী নয়। অত্যন্ত দু®প্রাপ্য এবং নজরকাড়া সব সুন্দরী যুবতী নিয়েই তার কারবার। গোটা ভারতের ১২টি রাজ্যে তিনি গড়ে তুলেছেন অত্যন্ত দুর্ভেদ্য এবং গোপন সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট নিজেদের মধ্যে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতো সুন্দরী নারী যোগান দেয়ার ব্যবসা। সমাজের উচ্চবিত্তরাই তার খরিদ্দার। তাদের তুষ্ট করার জন্য তিনি যোগান দিতেন সব বয়সী এবং সব ধরণের কিশোরী থেকে নারী।

সতীত্ব মেরামতের রমরমা ব্যবসা

আরবের অবিবাহিত তরুণীদের কাছে কুমারীত্ব বড়ই গুরুতর বিষয়। বিয়ের আগে প্রেমে পড়েই হোক, আর ঘটনাচক্রের হোক কোনো পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলনের কথা জানাজানি হলে কেবল সামাজিক লাঞ্ছনাই নয়, খুন হওয়াটাও তাদের কাছে বিচিত্র কিছু নয়। এ কারণেই বিয়ের আগে সতীত্ব যারা হারিয়েছে, তারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটা আবার ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। যাতে বাসর রাতে স্বামী বুঝতে পারে নববধূ সত্যিই কুমারী।

বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই আজকাল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়েদের সতীত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তার জন্য খরচ পড়ে এক হাজার ৭০০ পাউন্ড (২ হাজার ইউরো)। তবে আরব তরুণীদের ওই অস্ত্রোপচারের জন্য ক্লিনিক দুবাই কিংবা কায়রোসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নগরীতে নেই। সেজন্য তাদের যেতে হয় প্যারিসে। যেমন ডা. মার্ক আবেকাসিস নামের এক চিকিৎসকের একটি ক্লিনিক আছে, যেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়েদের সতীত্ব ফিরিয়ে আনা হয়। ওই চিকিৎসক সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মেয়েদের যে অস্ত্রোপচার করে থাকেন, তাকে বলা হয় ‘হিমেনোপ্লাস্টি’। সোজা কথায় সতীচ্ছদ পুনঃস্থাপন। লোকাল অ্যানেসথেশিয়ার সাহায্যে সতীচ্ছদের টিস্যু স্থাপনের ওই কাজ সারতে সময় লাগে বড় জোর ৩০ মিনিট। ডা. আবেকাসিস জানান, ঐতিহ্যগত ও পারিবারিক দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা করেই মেয়েরা তাদের কাছে আসে। তাদের ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা বিচার করা চিকিৎসকের কাজ নয় বলে তিনি জানান।

রবিবার, ১২ জুন, ২০১১

চিকিৎসকদের যথেচ্ছ ডিগ্রি ব্যবহার


একশ্রেণীর চিকিৎসক নিজের নামপত্র (ভিজিটিং কার্ড) বা নামফলকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত নয় এমন নানা ধরনের ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। বড় মাপের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য তাঁরা এটি করেন। আইন বলছে, এসব অস্বীকৃত ডিগ্রি ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, অর্জন করেননি বা কোনো ডিগ্রিই নয়, এমন অনেক কিছুই নামের সঙ্গে ব্যবহার করছেন একশ্রেণীর চিকিৎসক। কেউ কোনো কোর্সে ভর্তি হয়ে লিখছেন এমডি বা এমএস (ইন-কোর্স)। লন্ডন বা ওয়াশিংটনে দু-চার দিনের সেমিনার থেকে ফিরে ডিগ্রি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। এটা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা।

ওহাব খানের ডিগ্রি রাশিয়ার!


পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ ওহাব খান জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়া থেকে ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সেই ডিগ্রি দেখিয়ে দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে ডিগ্রির কোনো সনদ তিনি পুলিশকে দেখাতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার থেকে ওহাব খানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ (রিমান্ড) করছে হাজারীবাগ থানার পুলিশ। হাজারীবাগ থানায় জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি মামলায় ওহাব খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওহাব পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়া থেকে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে এই ডিগ্রির কোনো সনদ তিনি দেখাতে পারেননি।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons