Love লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Love লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১১

লিভ টুগেদার


বিশ্বমোড়ল আমেরিকায় লিভ টুগেদারের জনপ্রিয়তা নিছক কোন পারিবারিক কারনে নয়। আমেরিকানরা লিভ টুগেদার করছে অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। বিয়ে হয়নি, অথচ স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একত্রে বসবাস করছেন এমন আমেরিকান নারী-পুরুষের সংখ্যা ৭৫ লাখ। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৬৯/৭০ বছরের অধিক বয়সী অনেক অবিবাহিত আমেরিকানও 'লিভ টুগেদার' করছেন। বিয়ে মানেই পারিবারিক মেলবন্ধন। দায়-দায়িত্ব সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি নানা বিষয়ের জটিল সমাবেশ। আর এই জটিলতা এড়াতেই বিয়ে ছেড়ে লিভ টুগেদারের দিকে ঝুঁকছেন আমেরিকানরা। শুধু আমেরিকানরাই নয়, ওখানে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের মধ্যেও লেগেছে এই ছোঁয়া। লিভ টুগেদারের ক্ষেত্রে পুরুষ আর নারী একেবারে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একসঙ্গে বসবাস করে। সামাজিকভাবে জৈবিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উভয়ে সমানভাবে সংসারের খরচ বহন করে। আর শেষ বয়সে অবসরের ভাতা পৃথকভাবে পাওয়ায় তাদের দিন কাটছে চমৎকারভাবে।
গত দু'বছর ধরেই অর্থনৈতিক মন্দা আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে স্বল্প আয়ী আমেরিকানরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এমনি কঠিন পরিস্থিতিতে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের অবস্থা অকল্পনীয়। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। বিকল্প হিসেবে অনেকের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও শুধু খরচের কথা ভেবে বিয়ে করা হয়ে ওঠে না। আর তাই বিকল্প উপায় খোঁজা। আবার অনেকে ২০/২৫ বছর যাবত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড হিসেবে বাস করে সন্তানাদি নেয়ার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হননি। চাকরি অথবা ব্যবসা থেকে অবসর নিয়েছেন, তবুও বিয়ে করছেন না। এমন আমেরিকানদের ব্যাপারে ইউএসএ টুডে অনুসন্ধানী এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়েসী টম ব্ল্যাক এবং ৬৯ বছর বয়েসী গ্রিটা কহেন গত ১৩ বছর যাবত 'লিভ টুগেদার' করছেন। দিনভর একত্রে চলাফেরা করেন। কেনাকাটা করেন একত্রে। রান্না অথবা হোটেলের ব্যয়ও ফিফটি ফিফটি হারে বহন করেন। এর ফলে এ দম্পতির অবসর সময় আনন্দে কাটছে। অবসরভাতা অথবা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট হিসেবে তারা আলাদাভাবে যে চেক পাচ্ছেন তা দিয়ে উভয়ের মাসিক খরচে ঘাটতি পড়ে না। একইভাবে অনেক কর্মজীবী প্রেমিক-প্রেমিকারাও একই বিছানায় থাকা সত্বেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন না খরচের কথা চিন্তা করে। তাদের ধারণা, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাস করতে ব্যয় বাড়বে। এই ধারা চলতে থাকলে আমেরিকানদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন দেখার বিষয় সেটাই।
আর পশ্চিম বঙ্গেই  বা এর জনপ্রিয়তা কেমন বাড়ছে বলে মনে করেন।কিছু মিডিয়া অলরেডি এর ব্যাপক প্রচারনা শুরু করছে।

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১

ডিভোর্সের আবেদন শোয়ার্জেনেগারের স্ত্রী মারিয়ার

শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথেই হাঁটলেন আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের স্ত্রী মারিয়া শ্রিভার। সম্প্রতি ডিভোর্সের আবেদন করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই আর্নল্ডের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটবে তার। খবর টিএমজির।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডিভোর্সের আবেদনে মারিয়া বলেছেন, ‘আর্নল্ড আর আমার ভেতর যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সেটা কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়। এই দূরত্ব এতোটাই বেশি যে আমরা একে অপরের সঙ্গে আর খাপ খাওয়াতে পারবো না এবং আমাদের সন্ধি হওয়াও আর সম্ভব নয়।’

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, মারিয়া আর্নল্ডের কাছে তাদের সন্তান ১৭ বছর বয়সী প্যাট্রিক এবং ১৩ বছর বয়সী ক্রিস্টোফারের ভরণ-পোষণেরও দাবি করেছেন।

জানা গেছে, মারিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লারা ওয়াসের। এই মামলায় তিনি দুই পক্ষেরই অ্যাটর্নি ফিস ভরার অনুরোধ জানিয়েছেন আর্নল্ডকে।

উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গোপন রাখার পর এ বছরের মে মাসে বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে গৃহপরিচারিকা মিলড্রেড বায়েনার সঙ্গে নিজের ‘লাভ চাইল্ড’-এর কথা স্বীকার করে নেন আর্নল্ড। এরপর থেকেই আলাদাভাবে বসবাস করছেন আর্নল্ড এবং মারিয়া।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/টিকে/এইচআর/জুলাই ০৩/১১

'ভালোবাসার গাছ' লাগালেন উইলিয়াম-কেট

ভালোবাসার স্মৃতিকে বাচিঁয়ে রাখতে মানুষ কত কিছুই না করে। প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন তাদের ভালোবাসার স্মৃতিকে বাচিঁয়ে রাখার জন্য গাছ লাগিয়েছেন। বিয়ের দু’মাস পর সম্প্রতি কানাডা সফরে গিয়েছেন প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন। জানা গেছে, সফরের ৩য় দিনে সেখানে নিজেদের ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে একটি ইস্টার্ন হেমলক গাছ রোপন করেছেন এই জুটি। খবর পপইটার-এর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালের ২১ জুন প্রিন্স উইলিয়ামের প্রথম জন্মদিনে কানাডায় একটি পিন ওক গাছ রোপন করেছিলেন প্রিন্স চার্লস এবং প্রিন্স ডায়ানা। সম্প্রতি সেই গাছের ছায়াতেই ইস্টার্ন হেমলক গাছ লাগিয়েছেন ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ কেমব্রিজ।

বেঁচে থাকলে স্থানীয় প্রজাতির এই গাছটি পরবর্তী ৮০০ বছর ধরে উইলিয়াম এবং কেটের ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন বহন করবে।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/টিকে/এইচআর/জুলাই ০৩/১১

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

সত্যিকারের মুগলি!


সিলভি রবার্ট ও অ্যালেইন ডেগ্রে ছিলেন ফ্রিল্যান্স ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। ফরাসি এই দম্পতি আশির দশকের শেষের দিকে গিয়েছিলেন আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে; ছবি তুলতে। সেই আফ্রিকাতেই নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান। আলফ্রেড হিচককের দ্য বার্ডস ছবির অভিনয়শিল্পী টিপ্পি হেড্রেনের নামানুসারে সেই মেয়ের নাম তাঁরা রাখেন টিপ্পি ডেগ্রে।
একদিকে কোলজুড়ে এল মেয়ে, অন্যদিকে চলতে থাকল পশুপাখি ক্যামেরায় ধরে রাখার কাজ। সেই কাজের জন্য সিলভি ও অ্যালেইনকে চষে বেড়াতে হলো আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল। মেয়ে টিপ্পি বেড়ে উঠতে লাগল একদম প্রকৃতির কোলেই। তার বন্ধু হলো বনের কিছু পশুপাখি। খেলার জায়গা হলো বিশাল ঘাসবন, মরুভূমি কিংবা ঠাসবুনোটের ঝোপঝাড়। মাথার ওপর ছাদ হলো উদার জমিনের সুনীল আকাশ। 
মা সিলভি বলছিলেন মেয়ে টিপ্পির বেড়ে ওঠার দিনগুলোর কথা, ‘আফ্রিকায় একেবারে অন্য রকম একটা শৈশব কাটিয়ে এসেছে মেয়েটা। সেটা ছিল একটা জাদুর দুনিয়া, সেখানে সত্যিকারের আনন্দ পেয়েছিল সে।’ কে দিয়েছিল সেই আনন্দ? প্রকৃতি তো বটেই, বিশেষ কয়েকটি নামের কথা না বললেই নয়। একটা বেজি ছিল টিপ্পির বন্ধু, সেটিই ছিল টিপ্পির প্রথম আফ্রিকান বন্ধু, নাম ছিল ওকানতি। বন্ধু ছিল ২৮ বছরের হাতি আবু। চিতাবাঘ জেঅ্যান্ডবিও ছিল খুব কাছের। এ ছাড়া ছিল আস্ত একটা কুমির! ছিল আদুরে এক সিংহের ছানা, জিরাফ, গালাগো, উটপাখি, মিরক্যাট। খাতির ছিল একটা বাচ্চা জেব্রা, ভেড়া, সাপ ও আফ্রিকান ধূসর তোতাপাখির সঙ্গে। আর ছিল পেটমোটা ব্যাঙ ও বহুরূপী এক গিরগিটি! 
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই এই বুনো পশুপাখিকে বন্ধু মেনেছিল টিপ্পি। পশুপাখিও ছোট্ট মানুষটিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বন্ধুত্বের শুঁড়, ঠোঁট, ডানা কিংবা থাবা!
শুধু পশুপাখিই নয়, টিপ্পি বেশ ভাব জমিয়ে ফেলল বুশম্যান ও কালাহারির হিম্বা আদিবাসীদের সঙ্গে। সোনালি চুলের মেয়েটিকেও আপন করে নিল আফ্রিকার মানুষগুলো। টিপ্পির একেকটা দিন কাটতে লাগল বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যে অভিজ্ঞতা কেবলই আনন্দের। এই সকালে দেখা গেল হাতি আবুর পিঠে সওয়ার হয়েছে টিপ্পি, তার পরই দেখা গেল কুমিরটার সঙ্গে দুটো কথা বলে আসতে। দুপুরে আবার বুশম্যানদের সঙ্গে শিকার শিকার খেলায় ব্যস্ত! বিকেলে বাচ্চা জেব্রাটাকে নিজ হাতে দুধ না খাওয়ালেই নয়। সূর্য যখন পাটে যেতে বসেছে, দেখা গেল উটপাখির পিঠে করে হেলেদুলে ফিরে আসছে সে মা-বাবার কাছে! মুখে রাজ্যজয়ের হাসি।
মোটকথা, আফ্রিকায় সত্যিকারের একটা মুগলি আবিষ্কার করলেন সিলভি-অ্যালেইন দম্পতি। রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের দ্য জাঙ্গল বুক-এর ছবিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠল তাঁদের চোখের সামনে। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো সত্যিকারের মুগলি, মানে মেয়ে টিপ্পি ও তার বন্ধুদের প্রতিদিনের জীবন ক্যামেরায় ধরে রাখতে শুরু করলেন সিলভি ও অ্যালেইন। আলাদা করে কিছুই করতে হলো না তাঁদের। যা করার করল টিপ্পি নিজেই। পশুপাখির সঙ্গে দোস্তি তো তার হামাগুড়ি দেওয়ার বয়স থেকেই। তার ওপর এরই মধ্যে বুশম্যান ও হিম্বা আদিবাসীদের ভাষাও রপ্ত করেছে সে! শিখেছে তীর ছোড়ার কায়দা-কানুন। আর তার পোশাক-আশাক? কিপলিংয়ের মুগলি তাকে দেখলে লজ্জাই পেত! বুশম্যানদের মতো সংক্ষিপ্ত নেংটিতেই মেয়েটি দুর্দান্ত। এদিকে পিঠের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একরাশ সোনালি চুল। পোড় খাওয়া তামাটে চেহারা, চোখে বুনো চঞ্চলতা। মোটামুটি গাট্টাগোট্টা শরীর। এর চেয়ে ভালো সত্যিকারের মুগলি আর কোথায় মেলে?
টিপ্পি যখন ফ্রান্সে
আফ্রিকায় তোলা সত্যিকারের মুগলি টিপ্পির ছবিগুলো নিয়ে একটা বই বেরোল একদিন। নাম—টিপ্পি: মাই বুক অব আফ্রিকা। বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রকাশিত হলো তা। হইচই পড়ে গেল চারপাশে। বেশ নামডাক হলো টিপ্পির। দেশ-বিদেশের নামজাদা পত্রপত্রিকায় ছাপা হতে থাকল তার ছবি আর খবর। কিন্তু টিপ্পির মন ভালো নেই। কী হলো প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে মেয়েটির? মেয়েটিকে বন্দী করা হলো খাঁচায়! হ্যাঁ, আফ্রিকা যদি হয় উন্মুক্ত প্রান্তর, ফ্রান্সের প্যারিস খাঁচাই বটে। 
১৯৯৯ সালের বড়দিনের কথা। সিলভি-অ্যালেইন বড়দিন উদ্যাপনের জন্য মেয়েকে নিয়ে গেলেন মাদাগাস্কারে। কিন্তু সেখানে দিন কতক থাকতে না থাকতেই মেয়ের চোখ ছলছল, ‘মা, আমি ওকান্তিদের কাছে যাব!’ মেয়ের কথা ভেবে সেখান থেকে দ্রুতই পাততাড়ি গোটালেন সিলভি ও অ্যালেইন। কিন্তু এর মধ্যে একদিন ফরাসি একটি টিভি চ্যানেল আমন্ত্রণ জানাল টিপ্পিকে, সঙ্গে ওর মা-বাবাকেও। সত্যিকারের মুগলির একটা সাক্ষাৎকার চাই তাদের। তা-ই হলো, মেয়েকে নিয়ে প্যারিসে এলেন সিলভি-অ্যালেইন।
প্যারিসের বাতাসে কী ছিল কে জানে! মেয়ের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার কদিন যেতে না যেতেই সিলভি ও অ্যালেইন সিদ্ধান্ত নিলেন, বিচ্ছেদ চাই তাঁদের! দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা থমকে গেল। আর সেই সঙ্গে টিপ্পি হারাল আফ্রিকার জীবন!
সেই সময়ের কথা বলছিলেন সিলভি, ‘টিপ্পির বয়স তখন ১০। তখন সে আমাদের বিচ্ছেদের ব্যাপারটা বুঝতে শিখেছে। এবং সেই সঙ্গে আবিষ্কার করল, আফ্রিকা থেকেও সে বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে, যেমনটা হয়েছিল ওর বাবার সঙ্গে।’ আফ্রিকা ও বাবা, দুই সত্তার সঙ্গে যুগপৎ বিচ্ছেদ, টিপ্পির তখন কেমন লেগেছিল? সেই অনুভূতি সহজেই অনুমেয়। মা সিলভি দেয়ালে ঝোলানো মেয়েটার বিমর্ষ একটা ছবির দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘প্রথম দিকে কোনোমতেই প্যারিসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি মেয়েটা। সব সময় ওর আফ্রিকার বন্ধুদের কথা বলত ও! বুকটা ভেঙে যেত তখন।’ কী বলত টিপ্পি? ওর ওয়েবসাইটে লিখেছিল, ‘এখানে তো আমি আকাশটা দেখতে পাই না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি যেন খাঁচায় বন্দী।’ 
মেয়েকে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত করে তুলতে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন মা। কিন্তু নাহ্, স্কুলে কোনো বন্ধুর খোঁজ পেল না টিপ্পি। সারাক্ষণ চোখ-মুখ কালো। পড়াশোনায়ও মন নেই। দুই বছর চেষ্টা করেও স্কুলে মন টেকাতে না পেরে বাড়িতেই চলতে লাগল পড়াশোনা। চিন্তিত মা। একসময় ধরেই নিলেন, এই মেয়ে সময়-সুযোগ পেলেই ফের আফ্রিকায় ছুটে যাবে। 
মায়ের ধারণা সত্যি হয়েছিল। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হলেও শেষমেশ প্যারিসের শহুরে জীবনে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে টিপ্পি। পরে সে ভর্তি হয়েছে প্যারিসের লা সরবনে নভেলে ইউনিভার্সিটিতে। এখনো সে সেখানেই পড়ছে। পড়াশোনার বিষয় ফিল্ম মেকিং। পুঁথিগত বিদ্যা এরই মধ্যে কাজে লাগিয়েছে টিপ্পি। এবং কাজের ক্ষেত্র সেই আফ্রিকা! হ্যাঁ, ফের আফ্রিকায় ফিরে গিয়েছিল টিপ্পি। ডিসকভারি চ্যানেলের জন্য সে তৈরি করেছে ছয়টি প্রামাণ্যচিত্র। 
কদিন আগে, ৪ জুন ছিল টিপ্পির জন্মদিন। এখন ওর বয়স ২১ বছরের খানিকটা বেশি। টিপ্পির বিচরণক্ষেত্র এখন প্যারিসের শহুরে পথ। টিপ্পি প্রতিদিন সূর্যটাকে হারিয়ে যেতে দেখে বড় দালানকোঠার আড়ালে। টিপ্পি পাখির ডাক শোনে না অনেক দিন। টিপ্পির মন পড়ে থাকে সেই আফ্রিকায়। তার পরও সত্যিকারের মুগলি এখন শহুরে মানুষ। বছর কতক আগে ওকে এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘তোমার জাতীয়তা কী?’ ওর দ্বিধাহীন উত্তর ছিল, ‘আফ্রিকা!’ এখনো একই উত্তর দেয় টিপ্পি, ‘আমার দেশ আফ্রিকা!’
রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে মাহফুজ রহমান

ভালোবাসাই কাল হলো


রাজগোখরার সঙ্গে লিউক ইয়োম্যান্স
গোখরাজাতীয় সাপের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিষাক্ত সাপ হচ্ছে রাজগোখরা। এর একটি ছোবলে ২০ জন মানুষ বা একটি হাতির মৃত্যু হতে পারে। এর পরও রাজগোখরার প্রতি ভালোবাসার অন্ত ছিল না লিউক ইয়োম্যান্সের। ভালোবাসার টানেই যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামশায়ারের ইস্টউড শহরে নিজ বাড়ির পেছনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই ভয়ংকর সাপের অভয়ারণ্য। তবে এই ভালোবাসাই কাল হলো তাঁর জীবনে। একটি রাজগোখরাকে চুমু খেতে গিয়ে ওই সাপের ছোবলে মাত্র ছয় মিনিটে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়োম্যান্স। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। 
ইয়োম্যান্স বিশ্বাসই করতেন না যে তিনি কোনো দিন সাপের দংশনে মারা যাবেন। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এসব সাপ জানে, আমি ওদের ভালোবাসি। ওরা জানে, আমি ওদের খাবার দিই, পানি দিই। আক্রান্ত না হলে আক্রমণ করা ওদের স্বভাবে নেই। স্বভাবের বাইরে গিয়ে ওরা কখনোই আমার ক্ষতি করবে না। কারণ, আমি ওদের ক্ষতি করি না।’ 
ইয়োম্যান্সের এই মৃত্যুতে মর্মাহত তাঁর প্রতিবেশীরা। একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘তাঁর এ মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা সবাই জানতাম, তিনি গোখরা পোষেন। কিন্তু তিনি এ ক্ষেত্রে এত অভিজ্ঞ ছিলেন যে, এ রকম কিছু ঘটতে পারে তা আমরা ধারণাই করতে পারিনি। সাপের মঙ্গলের জন্যই জীবনভর খেটে গেলেন।’ 
নিজ বাড়ির পেছনে ২০০৮ সালে অভয়ারণ্যটি গড়ে তোলেন ইয়োম্যান্স। তাঁর দাবি ছিল, এটিই রাজগোখরার জন্য একমাত্র অভয়ারণ্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতীয় বনাঞ্চলে সাধারণত এ রাজগোখরার বাস। ইয়োম্যান্সের আশঙ্কা ছিল, যেভাবে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে কিংবা মানুষের হাতে মারা পড়ছে সাপসহ নানা বন্য প্রাণী, এতে অচিরেই এ রাজগোখরাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এ প্রাণীটিকে টিকিয়ে রাখতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অভয়ারণ্যটি। ডেইলি মেইল।
PROTHOM-ALO

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

৯৯ বছরে খোঁজ মিলল মনের মানুষের


বিয়ের পর হেরিক ও ভার্জিনিয়া
ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। সেটাই আরেকবার প্রমাণ করলেন গিলবার্ট হেরিক। মনের মানুষের খোঁজে নিউইয়র্কের এ বাসিন্দা ৯৯ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে জীবনসায়াহ্নে এসে খুঁজে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত নারী ভার্জিনিয়া হার্টম্যানকে। তাঁকে বিয়ে করে অবসান ঘটালেন কুমার জীবনের।
নিউইয়র্কে অবস্থিত মনরো কমিউনিটি হাসপাতাল নার্সিং হোমে বসবাস করছেন গিলবার্ট। ডাক বিভাগ থেকে অবসর নিয়ে এখানেই আছেন দীর্ঘকাল ধরে। একই নার্সিং হোমে থাকেন ৮৬ বছর বয়সী ভার্জিনিয়া। ২৫ বছর আগে তিনি বিধবা হয়েছেন। ছবি আঁকায় আছে তাঁর পারদর্শিতা। 
বছর খানেক আগের কথা। ভার্জিনিয়ার আঁকা ছবি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজন করল একটি প্রদর্শনীর। সেই প্রদর্শনীর একটি তেলচিত্র নজর কাড়ে গিলবার্টের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই শিল্পের স্রষ্টা ভার্জিনিয়া। এরপর প্রতিদিন তাঁর কক্ষে যাওয়া-আসা আর আড্ডা। ধীরে ধীরে দুজন দুজনায় ভালোলাগা, মন দেওয়া-নেওয়া, অবশেষে ভালোবাসা।
বুড়ো কপোত-কপোতী ভাবলেন এভাবে আর নয়, এখন একই কক্ষে থাকলে মন্দ না। কিন্তু বাদ সাধে বেরসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানানো হলো, বিয়ে ছাড়া এক কক্ষে থাকা অসম্ভব। কী আর করা! অনেক ভেবেচিন্তে ভার্জিনিয়া দিলেন বিয়ের প্রস্তাব। এতদিনে মনের মানুষকে খুঁজে পেয়ে ভার্জিনিয়াকে হারাতে চাননি গিলবার্টও। 
অবশেষে ৬ জুন বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তাঁরা। বিয়ের সব আয়োজন করেন ভার্জিনিয়ার সন্তান, নাতি-নাতনি ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা। অনুষ্ঠানে নবদম্পতির আত্মীয়স্বজন, নার্সিং হোমের চিকিৎসক ও সেবিকারা ছাড়াও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। 
বিয়ের পর গিলবার্ট তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
আমি ভার্জিনিয়াকে ভালোবাসি। এতদিন বিয়ে না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে (ভার্জিনিয়া) খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমি কখনোই আমার মনের মতো কোনো নারীকে খুঁজে পাইনি। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই প্রায় শতবর্ষী মানুষটির জীবনে কোনো অভাব ছিল না। জীবনজুড়ে ছিল শুধুই সফলতা আর সমৃদ্ধি। পেয়েছেন মার্কিন সামরিক পুরস্কার পার্পল হার্ট। তবু এত কিছুর পর তাঁর হূদয়ের একটা জায়গা ছিল শূন্যতায় ভরা। জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে খুঁজে না পাওয়া। অবশেষে ভার্জিনিয়াকে বিয়ে করে সেই শূন্যতা পূরণ হলো তাঁর। সিবিসি নিউজ।
prothom-alo

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

৯৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে!


পণ করেছিলেন জীবনটা এভাবেই পার করে দেবেন। কিন্তু মানুষ নাকি পণ করে তা ভাঙার জন্যই। মার্কিন নাগরিক গিলবার্ট হেরিকের জীবনেও ঘটেছে তাই। ৯৯ বছর বয়সে এসে পণ ভাঙলেন তিনি। অবসান ঘটালেন কুমার জীবনের। 
বয়সের ভার শরীরের ওপর চেপে বসেছে হেরিকের। চলাফেরা করতে হয় হুইল চেয়ারে। নিউইয়র্কের রোচেস্টারের মনরোই কমিউনিটি হাসপাতালে থাকার সময় হেরিকের সঙ্গে দেখা হয় ভার্জিনিয়ার ৮৬ বছর বয়সী বিধবা হার্টম্যানের সঙ্গে। হার্টম্যানেরও ভরসা ওই হুইল চেয়ার। 
হার্টম্যানের পাঁচ ছেলে-মেয়ে, নাতি ও নাতিদের সন্তানেরা এই দুই প্রবীণের মনকে এক সুতায় বাঁধার পরিকল্পনা আঁটেন। তাদের পরিকল্পনা অবশেষে কাজে আসে। গত ৬ জানুয়ারি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন হেরিক ও হার্টম্যান।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় হুইল চেয়ারে বসেই এই নবদম্পতি সারেন নৃত্যের কাজটা। দুজনেরই মুখে তখন অনাবিল আনন্দের ছটা। তবে হেরিকের উচ্ছ্বাসটা হয়তো একটু বেশিই ছিল। প্রথম বিয়ে বলে কথা! হোক না ৯৯ বছর বয়সে!

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

শিশু ‘প্রেমিক’


বারবার ভালোবাসার কথা বলে সহপাঠীকে বিরক্ত করায় প্রথম শাস্তি ১০১ বার কান ধরে ওঠবস। এতে মোটেই দমেনি, ভালোবাসার প্রমাণ দিতে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে রক্তের অক্ষরে লিখেছে ওই সহপাঠীর নাম। তাতেও যখন কাজ হয়নি, তখন এ জীবন রাখা অর্থহীন মনে হয়েছে তার কাছে। তাই সহপাঠীর সামনেই বিষপানে আত্দহত্যার চেষ্টা করেছে। এরপর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়েই সহপাঠীকে বিয়ে করতে ছুটে গেছে তার বাড়িতে। কিন্তু বিয়ে তো হয়নি, উল্টো বৃহস্পতিবার তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে মাদ্রাসা থেকে। এত কিছুর নায়ক বাগেরহাটের যাত্রাপুরের আফরা এবতেদায়ী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রেম-ভালোবাসার উপাখ্যান শিরি-ফরহাদ, লাইলি-মজনু কিংবা রহিম-রূপবানের মতো

ছোট প্রেমিক + বড় প্রেমিকা = প্রেমময় মধুর সম্পর্ক

প্রেমিক ছোট, প্রেমিকা বড়। প্রেমের বাজারে এটাই সাম্প্রতিক ট্রেন্ড। বিশ্ব জুড়েই চলছে এ ট্রেন্ড। প্রেমিক বয়সে ছোট হলেই প্রেমিকা ‘হট এন্ড হ্যাপিনিং’। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? এমন অসম সম্পর্কে জড়ানো তারকাদের প্রেমের বর্তমান হালচাল জানলেই বিষয়টা স্পষ্ট হবে। হলিউড তারকা ডেমি মুর নিজের চেয়ে ১৬ বছরের ছোট অ্যাশটন কুচারকে বিয়ে করে বেশ ভালোভাবেই বেভারলি হিলসে সংসার করছেন। পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা বয়সে ১০ বছরের ছোট ব্রিটিশ পরিচালক গাই রিচির সঙ্গে ঘর করছেন মহানন্দে।
বর্তমানে সম্পর্ক না থাকলেও হলিউডের আরেক অভিনেত্রী ক্যামেরন ডিয়াজও একসময় তার চেয়ে ৯ বছরের ছোট জাস্টিন টিমবারলেকের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছিলেন। শুধু হলিউড নয়, ভারতেও এমনটা দেখা যায়। ভারতীয়দের প্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার তার চেয়ে ৭ বছরের বড় অঞ্জলিকে বিয়ে করেছেন। শেষ অবধি দাম্পত্য না টিকলেও বয়সে ১২ বছরের বড় অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে সাইফ আলী খানের বিয়ের ঘটনা তো আছেই।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons