বর্বরতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বর্বরতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ভাবীকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে জুয়েল

সাতক্ষীরা শহরের দুর্ধর্ষ নারীখাদক সদ্যবিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ জুয়েল হাসানের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তারই আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী (৩০)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার গৃহবধূ। ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এই গুণধর ছাত্রনেতা। এ ঘটনায় ভাবী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর গ্রামের শেখ জুয়েল হাসানের বড় ভাই বিগত ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নারী খাদক জুয়েল হাসান সকাল ১০টার দিকে বড় ভাবীর ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ভাবী তার ইজ্জত রক্ষার জন্য তার কাছে মিনতি করে বার বার। কিন্তু এতে তার মন গলেনি। এক পর্যায়ে তার ভাবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারপিট করে জখম করেন। ভাবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই জুয়েল হাসান পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভাবী বাদী হয়ে দেবর ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসানকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(৪)(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৪, তাং ২২.১০.১০ ইং। এ মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই কামাল হোসেন রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ প্রচেষ্টার মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন। এই ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায়।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

ধর্ষিতা মেয়েকে মায়ের বিষ প্রয়োগ

ভারতের মিরাটে ধর্ষণের শিকার এক মেয়েকে বিষ প্রয়োগ হত্যার চেষ্টা করেন তার মা ও প্রেমিক। ধষির্তার বাবা পুলিশে অভিযোগ করার পর পুলিশ প্রেমিক ধর্মান্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে। বাবার অভিযোগ মেয়ের মা ও প্রেমিক বিষ প্রয়োগে তার মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। চায়ের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে ধর্ষিতা মেয়েকে খেতে দেন মা। গত বছর ধর্ষনের শিকার হয়েছিল ওই মেয়েটি।

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

নবাবগঞ্জে নারীকে জবাই করে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শুভারানী (৫০) নামের এক নারীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালুচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী রাকিব হোসেন (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই গ্রামের সম্ভু মণ্ডলের স্ত্রী শুভারানীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন একই গ্রামের রাকিব হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে রাকিব তাঁর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার দিলে রাকিব তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শুভারানীর গলা কেটে পালিয়ে যান। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শুভারানীকে দ্রুত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে শুভারানীর ঘরের সামনে রাকিবের জুতা দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আশপাশে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে গ্রামের একটি মাঠে রাকিবকে রক্তমাখা অবস্থায় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ করিম বলেন, এ ঘটনায় নিহত শুভারানীর ছেলে অমিত মণ্ডল গতকাল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করতে রাকিবকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১১

 স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী খুন

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় এক নারী খুন হয়েছেন। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে চাপাতি ও ছুরিকাঘাতের হাত থেকে স্বামী শাহাদাত আলীকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী কাজী নুরুন্নাহার (৪২) নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাজী ইমান আলী ও খলিলুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।
টঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, গত কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় কাজী ইমান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর চাচাতো বোন নুরুন্নাহারের স্বামী শাহাদাত হোসেনের মদ খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে গতকাল রাতে জাহাঙ্গীর তাঁর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শাহাদাতের বাসায় গেলে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে শাহাদাতের বাসায় বেড়াতে আসা শহীদ মেম্বার বিষয়টি মিটমাট করতে যান। এ সময় জাহাঙ্গীরের ছুরিকাঘাতে শহীদ মেম্বার আহত হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রবিন ও খায়রুল ইসলাম নামের দুজন প্রতিবেশী আহত হন।
এ সময় তাঁদের চিত্কারে নুরুন্নাহার তাঁর স্বামী শাহাদাতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনি চাপাতি ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপপরিদর্শক আরও জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১১

 পানিতে চুবিয়ে মাকে হত্যা করল ছেলে

‘যে মায় পেটে ধরছে, খাওয়াইয়া-পরাইয়া মানুষ করছে, সেই মায়রেই মাইরা ফালাইল! পানিতে চুবাইতে একটুও বুক কাঁপল না? আল্লায় অর বিচার করব।’ মাকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন আশুলিয়ার মির্জানগরের চারিগ্রাম এলাকার জোহরা ও সুফিয়া খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার ভাই আলাউদ্দিন (২৬) তাঁদের মা জয়তুননেসাকে (৭০) বাড়ির পাশের বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন।
এলাকাবাসী ও আলাউদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে আলাউদ্দিন পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে তাঁর মাকে ধরে নিয়ে যান। ১৫-২০ মিনিট পর তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা খুলে দেয়। এর পরপরই খবর আসে, আলাউদ্দিন তাঁর মাকে বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর লাশ বিলের পাড়ে উঠিয়ে তাঁর পাশে বসে আছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী আলাউদ্দিনকে মারধর করে।
এ সময় আলাউদ্দিন উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, মা নিয়মিত নামাজ না পড়ায় তিনি তাঁকে হত্যা করেছেন। এলাকাবাসী পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে। আলাউদ্দিন চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি বাড়ির মুরগির খামারে কাজ করতেন। বেলা তিনটার দিকে আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বিলাপ করছেন তাঁর বোন জোহরা ও সুফিয়া খাতুন। আলাউদ্দিনের মামা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বোনকে নির্মমভাবে পানিতে চুবিয়ে মারছে আলাউদ্দিন। এর আগেও কয়েকবার আলাউদ্দিন আমার বোনকে মারধর করেছে। অর মা কখনো অর বিচার করতে দেয় নাই। আজ তারে মাইরাই ফালাইল।’
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার বলেন, এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের বড় ভাই মো. জসিমউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আলাউদ্দিন তাঁর মাকে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। prothom-alo

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১

ধর্ষণের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পুনাইল গ্রামের ধর্ষণের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী ভুয়া চিকিৎসকের কাছে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ ওই ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে মীমাংসার নামে গ্রামে সালিস বসিয়ে উল্টো ওই মেয়ের অভিভাবকের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
সাটুরিয়া থানার পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকপ্রতিবন্ধী ওই মেয়েটির মাতৃত্বের লক্ষণ ফুটে উঠলে পরিবারের লোকজন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি তাঁর এ অবস্থার জন্য ওই গ্রামেরই হাতেম আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর হাতেম আলী গত শুক্রবার এলাকার প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোর জন্য তাঁর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। প্রভাবশালীদের ভয়ে ও পরামর্শে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য মেয়েটির মা গত শুক্রবার সকালে মেয়েকে নিয়ে পাশের দরগ্রাম গ্রামের ভুয়া চিকিৎসক উজালা সাহার বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোর পর তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই মেয়েটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
পুলিশ জানায়, গর্ভপাত ঘটানোর পর শুক্রবার রাতে প্রভাবশালী সিদ্দিক বেপারী এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে সালিস বসিয়ে ধর্ষক হাতেম আলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মেয়েটির বাবার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
এক প্রতিবেশী বিষয়টি সাটুরিয়া থানাকে অবহিত করলে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পৃথ্বীস কুমার দত্তকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল দুপুরে মেয়েটির বাড়িতে যান। মেয়েটির অবস্থা দেখে তাঁরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম। তিনি মেয়েটির অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল বিকেলেই তাঁকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। এ জন্য আর্থিক সহায়তাও করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটির অভিযোগের সত্যতা পওয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসক উজালা সাহাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগেই ধর্ষক হাতেম আলীসহ বিচারকেরা গা-ঢাকা দেন। পুলিশ উজালার বাড়ি থেকে অপারেশন করার মতো বেশ কিছু সরঞ্জামও উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে গতকাল সাটুরিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ধর্ষক হাতেম আলী, হাতুড়ে চিকিৎসক উজালা সাহা ও বিচারক সিদ্দিক বেপারীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশি হেফাজতে উজালা সাংবাদিকদের কাছে মেয়েটিকে গর্ভপাত ঘটানোর কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি একটি ক্লিনিকে চাকরি করে কাজ শিখেছেন। বর্তমানে বাড়িতে বসে চিকিৎসা করেন। মেয়েদের গর্ভপাত ঘটানোই তাঁর মূল কাজ। এ জন্য বাড়ির একটি গোপন কক্ষে তিনি অপারেশন থিয়েটারের আদলে চিকিৎসাব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছেন।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শামসুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উজালাকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়িতে গোপন অপারেশন থিয়েটারেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। অথচ চিকিৎসা করার মতো তাঁর কোনো সনদ নেই।

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। আরিফ নামের স্থানীয় এক বখাটে তাঁর এক বন্ধুর সহযোগিতায় ওই হয়রানির দৃশ্য ভিডিও করেন। পরে মেয়েটির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে না পেয়ে ওই ভিডিওচিত্রটি বাজারে ছেড়ে দেন।
গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয় জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের বাড়িতে সালিস বসে। জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সালিসে একই উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মান্নান মিয়া, সাদিপুর ইউপির সাবেক সদস্য জসীম উদ্দিন, স্থানীয় মুছারচর গ্রামের মাতব্বর হুমায়ুন প্রধান, খোকন প্রধান, ফারুক, পরাগ মিয়াসহ গ্রাম্য মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন।
সালিসের শুরুতে হয়রানির শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবার বক্তব্য শোনা হয়। এ সময় মেয়েটির বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে সালিসকারীরা বখাটে আরিফের সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন। মেয়েটির বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে মেধাবী। মেয়েকে আরও পড়াশোনা করাবেন তিনি। এ ছাড়া মেয়ের এখনো বিয়ের বয়স হয়নি।
মেয়েটির বাবার এসব কথা শুনে সালিসকারীদের কয়েকজন তাঁকে মারতে তেড়ে যান। এ সময় অন্যরা প্রতিবাদ করেন। এতে হট্টগোল শুরু হয়।
সালিসকারীরা পরে বখাটে আরিফের (২৫) বক্তব্য শোনেন। আরিফ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে মেয়েটি স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে রাস্তার পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আনিস নামে তাঁর এক বন্ধু ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওচিত্রটি স্থানীয় এক ভিডিও ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। ওই ব্যবসায়ী ইন্টারনেটে ও মুঠোফোনে ভিডিওচিত্রটি সব জায়গায় ছড়িয়ে দেন। বখাটে আরিফ বলেন, এ ধরনের কাজ করে তিনি ভুল করেছেন। এখন মেয়েটিকে বিয়ে করে এই ভুলের মাশুল দিতে চান তিনি।
এ সময় সালিসকারীদের কয়েকজন বখাটের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীর বিয়ের পক্ষে মত দেন। সালিসের এ পর্যায়ে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একদল সংবাদকর্মী ক্যামেরাসহ সেখানে পৌঁছালে সালিসকারীদের অনেকেই দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সালিসের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা ন্যক্কারজনক। তবুও আমরা চেয়েছিলাম, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করতে। কারণ, প্রশাসনকে জানালে মেয়েটির হতদরিদ্র পরিবার ওই ছেলেটির প্রভাবশালী পরিবারের কাছে টিকতে পারবে না। এতে মেয়েটিরই বেশি ক্ষতি হবে। সালিসে অনেকে মেয়েটির সঙ্গে ওই ছেলের বিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।’
বখাটের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে দোষ করেছে। আমার ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে বিষয়টির সুরাহা করতে চেয়েছিলাম। এখন মেয়ের পরিবার রাজি হয়নি। জেনেশুনে আমার ছেলে ও ওই মেয়েকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না।’
মেয়েটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, দুই মাস ধরে বখাটে আরিফ তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়ে আসছিলেন। পরে তাঁর মেয়েকে আরিফের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করায় পুরো পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়। মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের পুরো পরিবারের আত্মহত্যা করে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস আলী বলেন, খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ওই বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

 গরম পানিতে ঝলসে দেওয়া হলো গৃহবধূর শরীর

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালেহা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে ওই গৃহবধূর শরীর ঝলসে যায়। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের নতুনচর চাষী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের হযরত আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী আবদুল আজিজের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে সকাল ১০টার দিকে আজিজ মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগমকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান হযরত আলীর ছেলে বাবুল ও স্ত্রী পিয়ারা বেগম। তাঁরা সালেহাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বাবুল পিঠা তৈরির জন্য রান্নাঘরে গরম করে রাখা পানি সালেহার শরীরে ঢেলে দেন। পরে এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকি ৎ সক খন্দকার আরশাদ কবীর বলেন, সালেহার হাত ও পা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১১

শিক্ষক যখন ভক্ষক !


হাসানুর রশীদ : গর্জনিয়া ,চট্টগ্রাম থেকে : মূলত শিক্ষকদের অভিবাবকের পরেই স্থান দেয়া হয়। নিজের বাবা-মার পর শিক্ষকদের মাঝেই আশ্রয় খুঁজে পান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী নির্যাতন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমানে কিছু শিক্ষক নামধারী পশু ছাত্রীদের রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষক রূপে প্রতিনিয়ত অর্বিভূত হচ্ছে। এবার কঙ্বাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইংগাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৩) প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান (৪০) তা ধামা-চাপা দিতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। ওই ছাত্রীর বাড়ি উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থিমছড়ি এলাকায়।

ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবা মনির আহমদ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে বিদ্যালয় ছুটি হলে প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান তার মেয়েকে বিদ্যালয় কক্ষ ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে রেখে দেন। ছুটির পর সবাই চলে গেলে তাকে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের কক্ষে নিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য তার মেয়েকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন ওই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ভয় ও লজ্জায় এ ঘটনাটি কাউকে প্রকাশ করেনি তার মেয়ে। সম্প্রতি শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে মেয়ে বিষয়টি তার মাকে বলতে বাধ্য হয়। প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে বর্তমানে ওই ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে সমপ্রতি এ বিষয়ে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্য্লাহ চৌধুরীকে অবহিত করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, 'ঘটনাটি শুনেই আমি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক ও তার সাথে কথা বলেছি। ওই ছাত্রীর মুখে পুরো ঘটনাটি শুনে আমি হতবাক। আসলে যা ঘটেছে খুবই দুঃখজনক।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এলাকার প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।'

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক একেএম মিজানুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্য্লাহ চৌধুরীর মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়েছে। উপবৃত্তি না দেয়ার কারণে এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।'

পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গত ছয়মাস ধরে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।'

তবে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১, ২, ১৩ ও সর্বশেষ ১৬ জুনও ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলো বলে হাজিরা খাতায় তা উল্লেখ রয়েছে।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'ঘটনাটি সত্য। ওই মেয়ের বাবা-মা আমার কাছে এসেছে। আমি তাদের আগে একটি থানায় সাধারণ ডাইরি করতে বলেছি।'

তানজানিয়ায় অবিবাহিতা মেয়েরা স্কুল ছাড়ছে বিয়ের কারণে নয় গর্ভবতী হওয়ার কারণে


হ-বাংলা নিউজ : প্রতি বছর তানজানিয়ায় প্রায় আট হাজার মেয়ে গর্ভবতীর হওয়ায় স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়৷ এত অল্প বয়সে গর্ভধারণ রোধের নানা বিষয়গুলো এদের কাছে পুরোপুরি আজানা থাকায় এরা গর্ভবতী হয়ে পড়ে৷ ইহানামিলো উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ঘটেছে৷ প্রতিদিনের মত মেয়েরা স্কুল ড্রেস পডরে স্কুলে এসেছে, সবাই মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করছে৷ এদের একজন ১৯ বছরের এস্থার৷ ক্লাশ টেনের ছাত্রী৷ এক বছর আগে এস্থার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে৷ অথচ এস্থার এখনো অবিবাহিতা৷ এস্থার জানাল, ‘‘আমি যখন গর্ভবতী ছিলাম তখন নিয়মিত স্কুলে আসতে পারতাম না৷ শারীরিকভাবে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন আমি হয়েছিলাম৷ আমার পুরো জীবন পাল্টে যায়৷ আগের মত আর কোন কিছুই নেই৷''

এস্থারের ভাগ্য ভাল৷ কারণ তার বাবা-মা সন্তানসম্ভা থাকার সময় এস্থারের পাশে থেকেছে৷ বার বার মেয়েকে বুঝিয়েছে গর্ভবতী হলে বা একটি সন্তান হলেই সব শেষ হয়ে যায় না৷ এস্থারের বাবা-মা স্কুলের পাট শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন, এস্থার এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে৷


তবে সবাই এস্থারের মত ভাগ্যবতী নয়৷ এস্থারের ক্লাশে আরো চারটি মেয়ে আছে৷ তাদের সবার একটি করে সন্তান রয়েছে এবং এরা সবাই প্রাণপণে চেষ্টা করছে স্কুল শেষ করার৷ তবে বেশিরভাগ মেয়েই শেষ পর্যন্ত আর স্কুলে আসার সময় পায় না৷ বাড়িতে বাচ্চাকে দেখাশোনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আর স্কুলে আসা হয় না৷ তবে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সব ধরণের সাহায্য আর সহযোগিতা পাওয়ার পরও এস্থার মনে করে একই সঙ্গে মা এবং স্কুল ছাত্রী হওয়া সহজ নয়৷ বাড়ি থেকে স্কুল ১০ কিলোমিটারের পথ৷ প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়৷ বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়৷


এসব মেয়েদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে তানজানিয়া মেডিয়া ওম্যান এসোসিয়েশন৷ সংস্থায় কাজ করছেন আনানিলেয়া ইনকিয়া৷ তিনি জানান, এত দূরের পথ যেন হাঁটতে না হয় তাই অনেকেই মেয়েদের বলে যে সাইকেল অথবা মোটর বাইকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া হবে তাদের৷ আর মেয়েগুলোও রাজি হয়ে যায় এরপরই ঘটে অঘটনগুলো৷ এর পাশাপাশি রয়েছে স্কুলের কোন কোন শিক্ষকের হুমকি৷ ছাত্রীকে যদি হাতের মুঠোয় না পাওয়া যায় তাহলে সেই ছাত্রীকে কখনোই পরীক্ষায় পাশ করানো হয় না৷


এসব মেয়েদের বাবা-মায়েরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না কারণ তাদের আগে থেকেই টাকা দেয়া হয় প্রতিবাদ না করার জন্য৷ তবে ইনকিয়ার বিশ্বাস, একদিন এই অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং সেই দিন খুব দূরে নয়৷

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

গৃহকর্মীকে গরম দায়ের ছেঁকা, ছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৃথক ঘটনায় এক তরুণী গৃহকর্মী ও এক স্কুলছাত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। দক্ষিণ সালুয়া গ্রামে গত বুধবার রাতে এক গৃহবধূ দা ও কাঁচি গরম করে ওই তরুণীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব আগরপুর গ্রামে স্কুলছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে বখাটেরা।
গৃহকর্মীকে নির্যাতন: পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর বাড়ি উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের মাটিকাটা খিদিরপুর গ্রামে। তাদের অভাবের সংসার চলে কোনো রকমে। কাজ দেওয়ার কথা বলে দুই বছর আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী লাইলী বেগম। তিনি মেয়েটিকে দেহব্যবসার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে মেয়েটি তখনই ওই বাড়ি থেকে চলে যায়। কাজ নেয় একই গ্রামের খলিল মিয়ার বাড়িতে। এক সপ্তাহ আগে লাইলী মেয়েটির সঙ্গে দেখা করে একই প্রস্তাব দেন, কিন্তু মেয়েটি রাজি হয়নি। গত বুধবার বাড়ির কাছে পেয়ে মেয়েটিকে ধরে এনে ঘরে আটকে রাখেন লাইলী বেগম। রাত ১২টার দিকে রশি দিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দা ও কাঁচি গরম করে মেয়েটির মুখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ও গোপনাঙ্গে ছেঁকা দেন লাইলী বেগম।
রাতে নির্যাতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাইলী বেগম কুলিয়ারচর থানায় যান। তিনি মেয়েটির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মামলা করতে এজাহার জমা দেন, কিন্তু ততক্ষণে পুলিশ অন্য সূত্রের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা জেনে যায়। পুলিশ থানা থেকে লাইলী বেগমকে আটক করে। এরপর তাঁর বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
গতকাল বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ওয়ার্ডের একটি শয্যায় শুয়ে মেয়েটি কাতরাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা গলায় মেয়েটি জানায়, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এমন নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে কুলিয়ারচর থানায় আটক লাইলী বেগম নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মেয়েটি দেহব্যবসা করে। আমি চেয়েছিলাম, সে যেন এ কাজ না করে, কিন্তু সে শোনেনি। এ কারণে ছেঁকা দিয়েছি।’
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, লোহা-জাতীয় কিছু গরম করে মেয়েটির সারা শরীরে ছেঁকা দেওয়া হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল হক জানান, মেয়েটি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। লাইলী বেগমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
স্কুলছাত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব আগরপুর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী মঙ্গলবার বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একই গ্রামের নবদ্বীপ চন্দ্র বিশ্বাসের বখাটে ছেলে দীপু চন্দ্র বিশ্বাস ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পাশের গোসাইয়ের জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে দীপু মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার হাত-পা বেঁধে গলায় পা দিয়ে চাপ দেয় বখাটেরা। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এর পরও মেয়েটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বখাটেরা তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে একই গ্রামের দুজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
ওই স্কুলছাত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলে, ‘প্রতিদিন আমাকে দীপুর বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ সময় প্রায়ই দীপু আমাকে অশালীন কথাবার্তাসহ কুপ্রস্তাব দেয়। মাস খানেক আগেও বিদ্যালয় থেকে আসার পথে দীপু আমাকে ওই জঙ্গলে নিয়ে একটি গাছে বেঁধে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নির্যাতন করে।’
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘লোকজন এগিয়ে না এলে বখাটেরা আমার মেয়েকে মেরেই ফেলত। আমরা গরিব মানুষ, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
গত বুধবার বিকেলে দীপুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ছোট বোন ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল হক প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটির পরিবার অভিযোগ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাউকে আটক করতে পারেনি। তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।
প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১১

বরিশালে সালিশে গৃহবধূকে নির্যাতন

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সালিশের নামে তিন সন্তানের এক জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে।

ঘটনার দুই দিন পর সোমবার রিপা বেগম নামে ওই গৃহবধূকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তিন তলার নয় নম্বর ওয়ার্ডে তিনি চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্ত মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আবদুর রশিদকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য্য।

রশিদ বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের আপন চাচা।

গৃহবধূ রিপার অভিযোগ

সোমবার গৃহবধূ রিপা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, মেয়ে তারমিনকে মারধরের অভিযোগ এনে প্রতিবেশি শাবুদ্দিন মোল্লাসহ কয়েকজনের নামে বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন তিনি। পরে বিচারক মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার ওই ঘটনার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত থেকে নোটিস পাঠানো হয়।

২৪ জুলাই বিচারকের স্বাক্ষরিত নোটিসটি ৩০ জুলাই রিপার গ্রামের বাড়ি শ্রীপুরে পৌঁছে।

গৃহবধূর অভিযোগ, নোটিসের বিষয় জানাজানি হলে ওই দিন সকালে শাবুদ্দিন মোল্ল¬ার নেতৃত্বে প্রতিবেশি হারুন ঘরামী, মান্নান শেখসহ ৮-১০ জন তার ঘরে হামলা চালায়।

"ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মাহেব হোসেন, ফখরুল ইসলাম এবং এমদাদুল হক সালিশের কথা বলে আমাকে ঘর থেকে নিয়ে যায়। রাতে চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে সালিশে মামলায় সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ারও চেষ্টা করেন তারা।"

রিপা জানান, স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান রশিদ বৈদ্যুতিক তার পেঁচানো লাঠি দিয়ে তাকে উপুর্যপরি আঘাত করতে থাকেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মেহেন্দীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনছারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তুচ্ছ ঘটনায় জের ধরে রিপা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশি হারুন ঘরামীর স্ত্রী কুলসুমের ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় হারুন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করে। পরে চেয়ারম্যান কাজী আবদুর রশিদ সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করে।

ওই গৃহবধূকে চেয়ারম্যান মারধর করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বেতের লাঠি দিয়ে রিপাকে আঘাত করার কথা চেয়ারম্যান আমার কাছে স্বীকার করেছেন।"

৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেন জানান, এলাকায় রিপা বেগমেরও অনেক দুর্নাম রয়েছে। সে সমাজ ও দেশের কোনো নিয়ম মানে না। তাই সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিলো।

সালিশে সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার জন্য তাকে পিটুনি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুর রশিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি বলেন, "চেয়ারম্যান সাহেব আপনার সঙ্গে পরে দেখা করবে।"

এর পর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

চুল কেটে নেয়ার পর গৃহবধূ ঘরছাড়া

নির্যাতিত গৃহবধূর চুল কেটেই ক্ষান্ত হয়নি, সন্ত্রাসীরা উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। গত ২০শে জুলাই যশোর আদালতে চিহ্নিত ওই সন্ত্রাসীরা তার ও স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে মামলা করে। এতেও সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি। তাদেরকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বর্বরতার শিকার ওই পরিবারটি এখন আশ্রয় নিয়েছে কেশবপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসায়। পুলিশের অনৈতিক দাবি এবং সন্ত্রাসীদের তাড়া খাওয়া পরিবারটি এখন নিরাপত্তায় ভুগছে। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ জানায়, বেশ কিছু বেসরকারি সংগঠনসহ অনেকে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয় ও টাকার অভাবে কেউ ধরা দিচ্ছে না। মাথার চুল কাটার পর সামাজিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কোথাও বের হতে পারছি না। আত্মহত্যা করা ছাড়া এখন কোন পথ খুঁজে পাচ্ছি না। চুল কাটার পর আমি কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেও ফুটফুটে দুই ছেলের দিকে তাকিয়ে ফিরে এসেছি। তারপরও মন মানছে না। বেশি বিপদে পড়েছি আমি মামলা করে। সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমন কি মামলার আইও এসআই উজ্জ্বল আমাকে ভাল রিপোর্ট দেয়ার কথা বলে অনৈতিক কথা বলছে। আসামিদের সঙ্গে আঁতাত করে বান্ডেল বান্ডেল টাকা নিচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা নেই বলে আমাদের পাশে কেউ নেই। অভাবের সংসারে প্রায় সময় না খেয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে কষ্টে আছি। বড় ছেলেটি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছিল। এখন তাদের কোথায় পড়ালেখা করাবো? সন্ত্রাসীরা আমাকে তা করতে দিল না। মনে হয় আদালতে বিচার পাবো না। কারণ, টাকা নাই। টাকা ছাড়া দেশে বিচারও নাই। যদি থাকত, তাহলে সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করতে পারত না। তাই আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। উল্লেখ্য, উপজেলার সফরাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নূরনাহারকে এলাকার কতিপয় সন্ত্রাসী যুবক বিভিন্ন সময় নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নূরুন্নাহার প্রতিবাদ করলে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ১৮ই জুলাই বিকালে ওই গৃহবধূ কেশবপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আবারও কুপ্রস্তাব দিলে তিনি তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে চরম প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তায় জাপটে ধরে শীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার মাথার চুল কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করে। স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তিনি পেশায় একজন করিমন চালক। বাড়িতে ফিরে তিনি ঘটনা জেনে পৌর কাউন্সিলর মনোয়ার হোসেন মিন্টুকে জানান। ওই সময় সন্ত্রাসীরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে পুনরায় মারপিট করে। ওই ঘটনায় গৃহবধূ নূরন্নাহার কেশবপুর থানায় বাদী হয়ে বখাটে সন্ত্রাসী লিটন, খলিল, আলম, আতিয়ার, সাত্তারের নামে কেশবপুর থানায় মামলা করেন, নং-০৯, তারিখ-১৮/০৭/২০১১ইং। পৌর কাউন্সিলর মনোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
mzamin.com

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১

ঝগড়া বন্ধে ঠোঁটে সেলাই!

বউ-শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া নতুন কোন খবর নয়। তবে এ ঝগড়া বন্ধ করতে ঠোঁট সেলাই করে দেয়ার ঘটনা আগে কখনও শোনা যায়নি। তাইওয়ানের লিন নামের ৫৭ বছর বয়সী এক শাশুড়ি তার পুত্রবধূর প্রতি বিরক্ত হয়ে নিজেই এ কাজ করেছেন। জানা গেছে, বউয়ের যে কোন কাজেই লিন খুঁত ধরতেন এবং বকবক করতেন। আর বউও সর্বৰণ শাশুড়ির বকবকানির সমালোচনা করত।
গত সপ্তাহের এক সকালে দু’জনের মধ্যে শুরম্ন হয় তুমুল ঝগড়া। এক পর্যায়ে চেন নামের এ ভিয়েতনামী বধূ পুলিশের সহায়তা চান। তিনি পুলিশকে বলেন, শাশুড়ি লিন একজন মানসিক রোগী। তিনি চিকিৎসা করাতে চাইলেও লিন তা গ্রহণ করছেন না। পুলিশের উপস্থিতিতে শাশুড়ি একটি রম্নমে দরজা আটকে বসেছিলেন। তাদের ঝগড়ার ঠিক দুই ঘণ্টা পর চেন আবারও পুলিশ ডাকেন। এবার পুলিশ দেখেন যে চেনের মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে। চেন বলেন, শাশুড়ি তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন। পরে ওইদিন বিকেলে লিনকে নিকটবর্তী একটি পার্ক থেকে ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেলাই খোলার জন্য তাকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। লিন পুলিশকে বলেন, পুত্রবধূ তার কথার সমালোচনা করায় তিনি নিজেই সেলাই করে মুখ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। _চায়না টাইমস।
জনকন্ঠ

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১১

গাইবান্ধায় গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বড়গোবিন্দ গ্রামের গৃহবধূ মঞ্জুয়ারাকে (২২) এসিড নিক্ষেপের দায়ে তিনজনের ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ এ টি এম গোলাম কিবরিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—উপজেলার বড়গোবিন্দ গ্রামের ফুল মিয়া, বদি মিয়া, সাহেরা বেগম। তিনজনই বর্তমানে গাইবান্ধা কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৫ মে রাতে মঞ্জুয়ারা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে আগে থেকে ওত্ পেতে থাকা আসামিরা তাঁকে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে তাঁর বুক, গলা ও বাঁ হাতের এক অংশ ঝলসে যায়। এ ব্যাপারে মঞ্জুয়ারার স্বামী আবদুল মজিদ বাদী হয়ে এসিড দমন আইনে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি। এ রায় কার্যকরের দাবি জানাই।’
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল জলিল আকন্দ। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রহমত উল্লাহ আজাদ ও সাবেক পিপি আবু আলা সিদ্দিকুল ইসলাম।
মামলায় মঞ্জুয়ারাকে প্রথম আলো এসিড তহবিল আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। মামলায় প্রথম আলোর পক্ষে আইনি সহায়তা দেন আইনজীবী আনিস মোস্তফা ছোটন।

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

পাথর ছুড়ে আরও এক বাংলাদেশিকে হত্যা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ২৫ দিনের ব্যবধানে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে বাংলাদেশের আরও এক গরু ব্যবসায়ীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নিহত রফিকুলের বাড়ি উপজেলার উফারমারা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম বাহার উদ্দিন। আজ রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এলাকাবাসী জানায়, রফিকুল আজ ভোরে ভারতের ষোলঘড়িয়া বামনদল সীমান্তের ৮৩৬/৭-এর সাব পিলারের কাছে গরু আনতে যায়। গরু নিয়ে তিনিসহ আরও কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী সানিয়াজান নদী হেঁটে পার হচ্ছিলেন। এ সময় নদীর ওপর সেতুতে টহল দিচ্ছিল ভারতীয় ১০৪ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। তারা নদীতে ওই ব্যবসায়ীদের দেখতে পেয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রফিকুল মারা যান। পরে বিএসএফ সদস্য রফিকুলের লাশ ওই নদীতে ফেলে দেয়।
নদীতে রফিকুলের লাশ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী বুড়িমারী বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেয়। বিজিবি সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে পাটগ্রাম থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
উল্লে¬খ্য, গত ৩০ জুন ওই সীমান্তে একইভাবে বিএসএফ সদস্যরা মিজানুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লেবু জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজিবি লালমনিরহাট ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

মৃত্যুর পর তারা ডাকাতি মামলার আসামি

কত পানি থাকে মানুষের চোখে? গণপিটুনিতে নিহত কলেজছাত্র কান্তর মা ও বোন সইবে কেমন করে এই বুকভাঙা শোক কত পানি থাকে মানুষের চোখে? গণপিটুনিতে নিহত কলেজছাত্র কান্তর মা ও বোন সইবে কেমন করে এই বুকভাঙা শোক!
ছবি: সাজিদ হোসেন
আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে যে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর পর তারা হয়েছে ডাকাতি মামলার আসামি। এক বালু ব্যবসায়ী এদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
আবার ‘ডাকাত পিটিয়ে মারার’ অভিযোগে পুলিশ পাঁচ-ছয় শ গ্রামবাসীকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছে। এই মামলায় নিহতদের কাছ থেকে কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার দেখানো হয়।
নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি ছিল পুলিশের সাজানো। তারা সবাই ছাত্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ডাকাত নয়। গতকাল এলাকাবাসী ও বালুর ব্যবসা কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ডাকাতি মামলার বিবরণের সঙ্গে বাস্তবতার কিছু অমিল পাওয়া গেছে।
গত রোববার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর পর থেকে বড়দেশী গ্রামের অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে আহতাবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া তাদের বন্ধু আল আমিন একই মামলায় গ্রেপ্তারের পর রাতে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহতাবস্থায় বেঁচে যায় সে। সোমবার রাত ও গতকাল সকালের মধ্যেই নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় শোক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ডাকাতি মামলা: ডাকাতি মামলার এজাহারে বাদী আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, ‘রোববার রাত সোয়া একটার দিকে ১৫-২০ জনের সশস্ত্র ডাকাতদের একটি দল রামদা, ছোরা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ট্রলারযোগে আসে। তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শাহাদাত এন্টারপ্রাইজে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমি বাধা দিতে গেলে একজন ডাকাত আমাকে মারধর করে জখম করে। এদের একজন মোটাসোটা গড়নের, হালকা দাড়ি আছে এবং একজন হালকা-পাতলা গড়নের।’
এজাহারে বলা হয়, ‘ডাকাতেরা আমার এখানে ডাকাতি করে পার্শ্ববর্তী আবদুল হামিদের গদিঘরে (ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ) ডাকাতির জন্য গেলে হামিদ ডাকাত ডাকাত চিৎকার করলে এলাকার লোকজন টের পায়। এরপর তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে কিছু ডাকাত ট্রলারযোগে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা সাতজন ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দেয়। ফলে ছয়জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত মারা যায়। একজন ডাকাত গুরুতর আহত হয়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ডাকাতকে চিকিৎসার জন্য সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।’
মামলায় বলা হয়, ছয় ডাকাতের লাশ সুরতহাল শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডাকাতদের বয়স অনুমান ২০ থেকে ৩৫। কিছু ডাকাতের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। দু-তিনজনের পরনে হাফপ্যান্ট, পায়জামা, জিন্সের প্যান্ট ও লুঙ্গি ছিল। ডাকাতেরা বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তারা সোয়া একটা থেকে একটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ডাকাতি করে।
হত্যা মামলা ও অস্ত্র উদ্ধার: সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বলা হয় ‘রাত দুইটা ৫ মিনিটে থানা থেকে বেতার মারফত জানা যায় যে বড়দেশী গ্রামে একদল ডাকাত ঢুকেছে। এসআই হারেস শিকদার ও ফোর্সসহ রাত আড়াইটার দিকে বড়দেশী গ্রামে ক্যাবলার চর উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই, পাঁচ-ছয় শ উত্তেজিত জনতার মাঝে ছয় ডাকাতের মৃতদেহ পড়ে আছে। আহত অবস্থায় একজন ডাকাতকে পেয়ে চিকিৎসার জন্য সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। ডাকাতি করতে এসে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে অজ্ঞাতনামা ছয় ডাকাত মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি রামদা, একটি চাপাতি, তিনটি ছোরা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।’
বাস্তবতা: গতকাল এলাকাবাসী ও বালু ব্যবসা কেন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে শবে বরাতের ইবাদতের জন্য ওই এলাকার বালু ব্যবসাকেন্দ্রগুলো (গদি) সব বন্ধ ছিল। শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজসহ আশপাশের কোনো গদিই খোলা ছিল না।
এ বিষয়ে বাদী আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে বা বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাসায় কথা হয় মালেকের ভাই খালেকের সঙ্গে। খালেক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজে ৪০ হাজার টাকা ডাকাতি হয়। তাই সবকিছু ঠিক আছে কি না, তা দেখতে আমার ভাই রাতে গদির দিক গেলে তিনি ডাকাতদের কবলে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটির আট মালিকের মধ্যে হামিদ একজন। শুক্রবার রাতে ওই প্রতিষ্ঠানের একজন মালিক ঈমান আলীর উপস্থিতিতে সেখান থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ ড্রেজারের কিছু যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত। রোববার রাতে সেখানে কোনো ডাকাতি হয়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুরা বলেছেন, এ রকম একটা জায়গায় রামদা, ছুরি নিয়ে তাদের ডাকাতি করতে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। পুলিশ মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস: রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে পুলিশ সংস্কার প্রকল্পের একটি অনুষ্ঠানে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, সরকার আমিনবাজারে ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তদন্ত করবে। দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। সরকার চায় না, মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিক।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, আমিনবাজারের ঘটনা দুঃখজনক। তবে এ ঘটনা দিয়ে সারা দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। আমিনবাজার একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। এ ধরনের এলাকার অপরাধ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
নিন্দা: এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত না হওয়ার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এভাবে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা একদিকে যেমন নির্মম, অন্যদিকে তা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের অনাস্থার পরিচায়ক। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলতে পারে না।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে তেজগাঁও কলেজ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শ্যামলী এলাকাবাসী। ঘটনার প্রতিবাদে দারুস সালাম এলাকায় কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
 প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১

৩ বছর ধরে স্ত্রীর রক্ত পান !

অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি সত্যি। বিশিষ্ট আমেরিকান লেখিকা স্টিফানি মেয়ারের লেখা টোয়াইলাইট ছবিতে যারা ভ্যাম্পায়ারকে মানুষের রক্ত খেতে দেখেছেন ঘটনাটি ঠিক তেমনি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামের পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রীর রক্ত পান করেছে তিন বছর ধরে। এতদিন কেউ জানতো না। সইতে না পেরে স্ত্রী নিজেই এ অবিশ্বাস্য ঘটনা ফাঁস করেছে। আজ সোমবার দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ লোমহর্ষক উপাখ্যান প্রকাশিত হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের দামো জেলার ২২ বছরের স্ত্রী দীপা আরিবার পুলিশকে জানায়, স্বামী মহেষ বিগত তিন বছর ধরে তার রক্ত পান করেছে। সে প্রতিদিন সিরিঞ্জ দিয়ে তার বাহু থেকে রক্ত বের করে নিতো। মহেশ সেই রক্ত একটি শূন্য গ্লাসে রাখতো এবং এভাবে সে তৃপ্তির সঙ্গে ৩ বছর তার রক্ত পান করেছে। প্রতিদিন সে রক্ত নিতো। দীপাকে সে হুমকি দিতো। বলতো, এ ঘটনা ফাঁস করে দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
২০০৭ সালে শিকারপুরা গ্রামের দীপার সঙ্গে কৃষি শ্রমিক মহেষের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মহেষ তার স্ত্রীর শিরা থেকে রক্ত নিতে শুরু করে। রক্ত নিয়ে সে মজা করে পান করতো। মহেষ বলতো, রক্ত পান করায় সে বলবান হচ্ছে। দীপা গর্ভবতী হলেও মহেষ রক্ত নেয়া বন্ধ করেনি। সাত মাস আগে দীপা পুত্র সন্তানের মা হয়েছে। মা হওয়ার পর সে প্রতিবাদ করতে শুরু করে। দীপা পুলিশকে আরো জানায়, স্বামী রক্ত নেয়ার পর তার মাথা ঘুরাতো। বমি বমি লাগতো। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হতো। অবশেষে এ মাসের গোড়ার দিকে দীপা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে পালিয়ে আসে। পিতার বাড়িতে এসে সে পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বলে। তবে এখানেও তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া কম হয়নি। শিকারপুরা গ্রামের লোকদের চাপে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

রুমানা আর দেখতে পাবেন না

রুমানা মনজুর আরা রুমানা মনজুর আরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যা-লয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানা মনজুর আর দেখতে পাবেন না। তাঁর চোখে চার দফা অস্ত্রোপচারের পর গতকাল শনিবার ভ্যাঙ্কুভার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে রুমানার আত্মীয় রাশেদ মাকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার রুমানার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটিতে সবশেষ অস্ত্রোপচারটি করেন চিকিৎসকেরা। রুমানার চোখের বিভিন্ন স্তরে জখম ছিল। তাঁরা আশা করেছিলেন, অস্ত্রোপচার করলে রুমানা পরিষ্কার কিছু দেখতে না পেলেও আবছা কিছু দেখতে পাবেন। কিন্তু গতকাল শনিবার চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, যে নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে আলো-আঁধারের বার্তা পৌঁছায়, সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। রুমানা আর দেখতে পাবেন না।
৪ জুলাই রুমানা মনজুর চোখের চিকিৎসায় কানাডায় যান। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সহযোগী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাঙ্কুভার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল ওই দিনই তাঁর একটি চোখে অস্ত্রোপচার করে। এরপর আরও তিনটি অস্ত্রোপচার হয় রুমানার চোখে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন স্বামী হাসান সাইদের আক্রমণে রুমানার দুই চোখই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতের খ্যাতনামা দুটি প্রতিষ্ঠান রুমানা মনজুর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানান
প্রথম আলো

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১১

রংপুরে গৃহবধূ নির্যাতন

আমাদের সমাজ যে সভ্যতা ও আইনের শাসন থেকে কত দূরে, তার আরেকটি প্রমাণ মিলল দুই গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায়। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর কাশীগঞ্জে গ্রাম্য সালিসে নির্যাতিত দুই গৃহবধূ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সম্ভ্রম রক্ষা করা এখন জনপ্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা আশা করব, রংপুরের ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপার যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে কোনোক্রমেই বিচ্যুত হবেন না। বিপথগামী অথচ প্রভাবশালী সমাজপতিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যে তিনজনকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে, তাতে প্রশাসনের মুখরক্ষা হতে পারে, কিন্তু আইনের শাসনের মুখরক্ষা হবে না। এই মুহূর্তে যাঁরা পলাতক রয়েছেন, তাঁরাই দৃশ্যত নাটের গুরু, অভিযুক্ত। টাকাপয়সা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকলেই দুষ্কর্ম করে নিস্তার পাওয়া যাবে না—এটা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
তবে যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় সেটা হলো, গ্রাম্য সালিস বলে আমরা অনেক সময় যে ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করি, সেখানে আমাদের আস্থার একটি ভিত অবশ্যই তৈরি করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় কমবেশি গণ্যমান্য ও প্রবীণ ব্যক্তি থাকেন। কিন্তু সমস্যা হলো, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো মুখ থুবড়ে আছে। এলাকার শান্তিপ্রিয় বিদ্বান ও বিবেকবানেরা পারতপক্ষে এলাকার সালিস-বৈঠক ইত্যাদিতে গরহাজির থাকেন, বরং বোধগম্য কারণেই এড়িয়ে চলেন। এর ফলে ধীরে ধীরে সামাজিক নেতৃত্ব অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, বহু ক্ষেত্রে টাউট-বাটপারদের হাতে চলে গেছে।
আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি বলতে সাধারণত পুলিশ, র‌্যাব ইত্যাদি বাহিনীর উন্নতি বা শক্তিশালীকরণ বা দলনিরপেক্ষ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে থাকি। কিন্তু সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায়পরায়ণতা সৃষ্টিতে স্থানীয় সমাজের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি অগ্রগণ্য পাওয়ার দাবি রাখে। রংপুরের ঘটনায় দুই গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রাজনৈতিক দলনেতা, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর ছাড়া দুজন শিক্ষকও ছিলেন। তাদের হাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা প্রত্যাশিত ছিল না। সামাজিক ভরসার ক্ষেত্রে এই যে অনাস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করার বিকল্প নেই। শুধু পুলিশ ও আদালত দিয়ে সব এই মারাত্মক ব্যাধি দূর করা যায় না। আমরা আশা করব, স্থানীয় নেতৃত্ব সৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকা রাখবে। সরকারি প্রশাসনও দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে মনোযোগী হবে।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons