ধর্ষন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্ষন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২

প্রেম প্রতারণা, ফেঁসে গেছেন যশোর কারাগারের ডেপুটি জেলার

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীর সর্বস্ব লুট করে এখন ফেঁসে গেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী’র মতো সম্পর্ক গড়ে এখন অস্বীকার করছে। এ অবস্থায় তরুণীটি এ প্রতারণার বিচার চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে এবং তার সঙ্গে আকতারের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি জমা দিয়েছে। আবেদনে মেয়েটির দাবি- এ প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার বিকল্প নেই। এদিকে মেয়েটির আত্মহত্যার হুমকি এবং বিচারের আবেদন ও তার সঙ্গে যুক্ত করা কিছু ছবি নিয়ে বিপাকে পড়েছে কারাকর্তৃপক্ষ। ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় গোটা কারাপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যশোর কারাকর্তৃপক্ষ ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনকে শোকজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনের সঙ্গে প্রায় ৮ মাস আগে পরিচয় হয় কারাগারেরই আরেক কর্মচারীর কলেজপড়ুয়া কন্যার। অল্পদিনেই অনিন্দ্য সুন্দর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আকতার। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আকতার মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সর্বনাশ শুরু করে। বিয়ের কথা বলে আকতার মেয়েটির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। দিনে দিনে তাদের ঘনিষ্ঠতা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। যা নিয়ে কারা চত্বরে নানা রকম রসাত্মক আলাপ-আলোচনার জন্ম হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ‘হবু জামাই’ জেলার আকতারের পরামর্শে ৩ মাস আগে তরুণীর পিতা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বদলি হয়ে স্বেচ্ছায় যান রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। আকতার ছুটি নিয়ে মাঝে মধ্যে রাজশাহী যেতেন এবং ওই তরুণীর বাসায়ও থাকতেন। আর বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে সময় ক্ষেপণ করতেন। পাঁচদিন আগে জরুরি কাজে নিজ বাড়ি যাওয়ার নামে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আকতার রাজশাহী যান। এবারও রাজশাহীতে গিয়ে আকতার তার প্রেমিকার বাসায় উঠেছিলেন। এ সময় মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মেয়ের পিতা-মাতা আকতারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এরপরই প্রকাশ পায় আকতারের আসল রূপ। তিনি সরাসরি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জানিয়ে দেন- ‘যা হয়েছে তা দু’জনের সম্মতিতেই হয়েছে। যে মেয়ে বিয়ের আগে তার প্রেমিককে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে, নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।’
আকতারের এ প্রত্যাখ্যানে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তরুণীর। সে ছুটে আসে যশোরে। লিখিত নালিশ জানায় কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আকতারকে ডেকে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। নিরুপায় তরুণী এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ফলে বিপাকে পড়ে কারাগার কর্তৃপক্ষ। গত দু’দিন ধরে তরুণী ও তার অভিভাবকরা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মচারীর বাসায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, কারাগার কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডেপুটি জেলার আকতারের পিতা-মাতাও এসেছেন যশোর। তারাও ছেলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, ওই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে তারা মেনে নেবেন না।
আকতারের এ প্রতারণার কাহিনী এখন শুধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে শহরে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা, সাংবাদিকসহ বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কারাগারে।
তরুণীর মা সাংবাদিকদের বলেন, আকতারের সঙ্গে তার মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেম সম্পর্ক। সে তার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে রাত-বিরাতে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় দু’জনে ছবি তুলেছে। কিন্তু যখনই বিয়ের কথা বলা হয়েছে তখনই সে ‘একটু সময় দিন’ বলে কালক্ষেপণ করেছেন। সমপ্রতি গত ৫ দিন আগে রাজশাহী গিয়ে তার বাসায় ওঠেন আকতার। তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ফাঁস হয়ে যায় তার আসল চেহারা। সে এখন আর তার মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললেও তারা বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ডেপুটি জেলার আকতার হোসেন দাবি করেন, ‘আমাদের মধ্যে স্রেফ বন্ধুত্ব ছিল। এর বেশি কিছু না।’
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে যশোরে এসে অফিসে যোগদান করেছি। এরপর আকতারের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের বিষয়টি অবহিত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত। এখানে কারা প্রশাসনের করার কিছুই নেই। তবে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান আশা করেন তিনি।
আকতার বিয়ে করতে রাজি না হলে তরুণী আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে- এমন কথা শুনেছেন কিনা জানতে চাইলে জেলর মাসুদ পারভেজ বলেন, যদি উভয়পক্ষ কোন যৌক্তিক সমঝোতায় আসতে না পারেন এবং মেয়েপক্ষ লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেন তবে তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এদিকে মেয়েটির লিখিত আবেদন ও বিশেষ ঘনিষ্ঠতার মুহূর্তের কিছু ছবি হাতে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকতারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নোটিসে বলা হয়েছে, তার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিব্রত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে আশু সুস্থ সমাধানে উপনীত হতে না পারলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সুপার সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিসটি বৃহস্পতিবার ডেপুটি জেলার আকতারের হাতে দেয়া হয়। আগামী দু’দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জেলার জানান, বিষয়টি জানানো হয়েছে কারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আইজিকেও। আইজি (প্রিজন্স) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ডেপুটি জেলার নোটিসের জবাব দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বিবদমান যে কোন পক্ষ ইচ্ছা করলে আইনের আশ্রয় নিতে পারে।
এদিকে, প্রতারণার শিকার তরুণী গতকাল যশোর ছেড়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি যশোরের জেলা প্রশাসককে প্রতারণার কাহিনী লিখিতভাবে জানিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারও বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। এদিকে কারা অভ্যন্তরে বসবাসকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ, ২০১২

ধর্ষণের পর টুনি’র শরীর থেকে বের করে নেয়া হয় রক্ত

 বছরের টুনিকে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা, তার শরীর থেকে রক্ত বের করে নিয়েছে। এরপর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপসী গ্রামের। এ ঘটনায় পুলিশ রুবেল শেখ তুহিন নামে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। রুবেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে সে রক্ত বিক্রেতা। রক্ত সংগ্রহ করার জন্যই এ কাজ করেছে।
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান জানান, গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জুলেখা খাতুন টুনি কীর্তন দেখতে যাচ্ছিল। এ সময় একই গ্রামের রমজান ব্যাপারীর ছেলে রুবেল, তার সহযোগী সোহেল (১৯) ও মঞ্জিল (২০) তাকে ফুঁসলিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে তারা। একপর্যায়ে টুনি অচেতন হয়ে পড়লে তার শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করে নেয়। শুধু তাই নয়, ৩ জন মিলে হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার লাশ পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টুনির পিতা শুকুর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় মামলা করেন। রোববার রাতে বাড়ি থেকে  রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিরাজগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ ভটাচার্জ বলেন গ্রেপ্তারকৃত রুবেল মাত্র ৫ হাজার টাকার চুক্তিতে টুনিকে তার সহযোগীদের হাতে তুলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক অপর দু’ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা  চলছে। রুবেলকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিকালে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মানব জমিন

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মেয়ে ধর্ষণের শিকার, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাবা খুন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাঘবপুর এলাকা থেকে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বালুয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মেয়ে গত সোমবার তার ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিল। বেলা ১ টার দিকে তালতলা নুনদহ সেতুতে পৌঁছালে বালুয়াবাজার গ্রামের আবু বক্কর মিয়ার ছেলে আবুল বাসার ওরফে পিচ্চি মিলন (২৫) সহযোগিদের নিয়ে জোরপূর্বক তাকে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামের এক বাড়ীতে মিলন ও তার সহযোগিরা তাকে ধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিকেল ৫ টার দিকে মেয়েটিকে তার বাড়ীর নিকটবর্তী ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ৪১ মাইল নামক স্থানে রেখে যায় তারা। বাড়ী ফিরে মেয়েটি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁরা গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার জন্য রওনা হন। এ খবর শুনে বখাটে মিলন ও তার সঙ্গীরা মেয়েটির বাড়ির কাছে তার বাবা ও অন্যান্য অভিভাবকদের পথরোধ করে। এ সময় মেয়েটির বাবার চিৎকার শুনে গিয়ে এলাকাবাসী মিলনকে আটক করে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে মিলনের সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে মিলনের সঙ্গীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মেয়েটির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ী ভাঙচুর এবং মেয়েটির বাবা ও চাচাকে বেদম মারপিট করে মিলনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটির বাবাকে সোমবার রাত ৮ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাস বলেন, নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সমকামী নারীরা

ননো নেশানগানি নামের এই সমকামী নারী বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেনননো নেশানগানি নামের এই সমকামী নারী বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন
লিকামভা সেকিসোর বয়স ২৯ বছর। তিনি এগারো বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা। এক দিন চাচাতো ভাইয়ের ঘর পরিষ্কার করছিলেন সেকিসো। এমন সময় সেই ভাই ওই ঘরে ঢোকে। একপর্যায়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। ‘আমি সমকামী, তাই সমকামিতা দূর করার জন্য সে আমাকে ধর্ষণ করে।’ বলেন সেকিসো। ওই চাচাতো ভাই পরে তাঁকে আরও একবার ধর্ষণ করে।
শুধু সেকিসো নন, দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর মতো সমকামী নারীরা ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনকারীরা তাঁদের উপহাস করে বলছে, পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট করতে ‘সংশোধনের পদক্ষেপ’ হিসেবে তারা সমকামী নারীদের ধর্ষণ করছে। সমকামী নারীরা পরিবার, এমনকি আইনের আশ্রয় নিতে গেলে পুলিশের কাছেও বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন।
লিন্ডেকা স্টুলো নামের ২৫ বছর বয়সী একজন নারী বলেন, ‘আমি অন্তত চারবার হামলার শিকার হয়েছি।’ একবার লিন্ডেকার পা ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ জন্য তাঁকে প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকতে হয়। লিন্ডেকা বলেন, ‘তারা আমাকে মারতে মারতে বলছিল, আমাকে অবশ্যই বদলে যেতে হবে...আমি একজন নারী, তাই একজন নারীর সঙ্গে অভিসার করতে পারি না। আমি নারী, এটা বোঝাতে আমাকে ধর্ষণেরও চেষ্টা করে তারা।’ তিনি বলেন, সমকামী নারীদের কুমারী হিসেবে মনে করা হয়। তাই ধর্ষণের শিকার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে বেশি।
চাচাতো ভাইয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার লিকামভা সেকিসো জানান, সমকামী এক নারী তাঁর নিজের বাবার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে ক্রিশ্চিয়ান সেন্টার অ্যান্ড সেফ হাউস। এ সংস্থার কর্মকর্তা বুলেলওয়া পান্ডা বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ সমকামীরা বেশি সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকে। আমাদের সংস্কৃতির কারণেই তাঁদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটে।’
পুলিশের তথ্যমতে, ২০১০-১১ সালে ৫৬ হাজার ২৭২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সমকামী নারী ও পুরুষেরা এর শিকার হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টিলালি টিলালি এসব ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এসব ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি হবে।’
২০০৬ সালে বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেওয়া হয়। এএফপি।

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২

নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার

পেটের দায়ে উত্তরাঞ্চলের এক জেলা থেকে ১৫ দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী। অনেক চেষ্টায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ জোটে। তাঁর স্বামী রিকশা চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত শুক্রবার রাতে ভাষানটেক বালুরমাঠে নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার হন কর্মজীবী এই নারী। তিনি গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত ১০টার সময় তিনি ও তাঁর স্বামী হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তাঁদের পিছু নেয় এলাকার বখাটে যুবক ইব্রাহীম, বাবু, রানা ও নাম না জানা আরেকজন। তাঁদের পিছু পিছু বখাটেরাও ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয়। বখাটেরা প্রথমে মুড়ি মাখিয়ে দিতে বলে, তারপর বলে ভাত রান্না করে খাওয়াতে। ভাত খাওয়ার পর একপর্যায়ে বখাটেরা স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে বাথরুমে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার এক দিন পর ওই এলাকার দুজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর সহযোগিতায় নির্যাতিত ওই নারী কাফরুল থানায় মামলা করেন।
জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিষয়টি দেখছি। আশা করছি, শিগগিরই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।’ প্রথম আলো

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

বলাৎকারের দায়ে ৩ বছরের জেল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্কুল পড়ুয়া এক বালককে বলাৎকার করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ বছরের জেল দিয়েছে দুবাইয়ের এক আদালত। এম এ ছদ্ম নামের ২৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৪ বছরের এক বালককে ২০ দিনে ৪০ বারের বেশি বলাৎকার করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচারক হামাদ আবদুল লতিফ আবদুল জাওয়াদ বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি উভয়ের সম্মতিক্রমে বালকের সঙ্গে সেক্স করেছেন উল্লেখ করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। অভিযোগপত্র মতে, ওই ব্যক্তি তার গাড়িতে বালকের সঙ্গে সেক্স করার পাশাপাশি ওই বালক তার সঙ্গে সেক্স করতে অস্বীকৃতি জানালে মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের কথা বালকটির মাকে জানিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছিল। মানবজমিন ডেস্ক

পর্নো ভিডিও ধারণ করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল!

যৌতুক আদায়ের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের বহু উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর পর্নো ভিডিও ধারণ করে যৌতুক আদায়ের চেষ্টার কথা খুব একটা শোনা যায়নি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্ত্রী নির্যাতনের এ কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করে ফেঁসে গেছেন যৌতুকলোভী এক স্বামী।
নির্যাতিত ওই নারী গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর একটি থানায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বায়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি দাবি করেন। অন্যথায়, ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর ওই নারীর (২০) সঙ্গে মোহাম্মদ বায়াসের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি যৌতুক নেন বায়াস। বেকার বায়াস পরে ওই গয়নাগুলো বিক্রি করে দেন। কিছুদিন আগে ওই তরুণী মাথা ব্যথার কথা বললে স্বামী বায়াস তাঁকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর তিনি অচেতন হলে বায়াস তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এ সময় তাঁর ভিডিওচিত্র ধারণ করেন বায়াস।
মামলার এজাহার থেকে আরও জানা যায়, আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণের পর থেকেই তাঁর স্বামী তাঁকে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অন্যথায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু ওই তরুণী যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বায়াস তাঁকে ঘরে আটকে রাখতেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে ভাইয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়েও বায়াস যৌতুক দাবি করেন।
এ ব্যাপারে রামান্নাথাপুরাম থানা পুলিশের পরিদর্শক মুনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছি।’ প্রথম আলো

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১২

পঞ্চম শ্রেণীর শিশু অন্তঃসত্ত্বা, অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে


ঝালকাঠীতে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে।

নলছিটি উপজেলার হয়বাতপুর গ্রামের ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার রনজিৎ নট্ট (৬৩) শিশুটির প্রতিবেশী। উপজেলার পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি।

শিশুটির মা শুক্রবার রাতে নলছিটি থানায় মামলা করলে রনজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

শিশুটি কয়েকদিন আগে পেটে ব্যথার কথা জানালে তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর দেখা যায়, সে সন্তানসম্ভবা।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আওছাফুল ইসলাম রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটি পেটে ব্যথা নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি ভর্তি হয়। ১২ জানুয়ারি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে দেখা যায়, সে ১৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

শিশুটি হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছে, “অনেক দিন আগে পাশের ঘরের রনজিত স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে খারাপ (ধর্ষণ) কাজ করে, তখন স্যারের ঘরে কেউ ছিল না।”

ধর্ষণের পর গলায় দা ঠেকিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে রনজিৎ হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ করে সে।

তবে রনজিৎ ধর্ষণের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মেয়েটির পরিবার তার কাছ থেকে জমি কিনে বসবাস করে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার আরো সম্পত্তি দখলের জন্য মেয়েকে দিয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

রনজিতের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির মায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ভাবীকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে জুয়েল

সাতক্ষীরা শহরের দুর্ধর্ষ নারীখাদক সদ্যবিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ জুয়েল হাসানের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তারই আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী (৩০)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার গৃহবধূ। ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এই গুণধর ছাত্রনেতা। এ ঘটনায় ভাবী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী জানায়, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর গ্রামের শেখ জুয়েল হাসানের বড় ভাই বিগত ২০১০ সালের ২০শে অক্টোবর সকালে বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নারী খাদক জুয়েল হাসান সকাল ১০টার দিকে বড় ভাবীর ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ভাবী তার ইজ্জত রক্ষার জন্য তার কাছে মিনতি করে বার বার। কিন্তু এতে তার মন গলেনি। এক পর্যায়ে তার ভাবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারপিট করে জখম করেন। ভাবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই জুয়েল হাসান পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভাবী বাদী হয়ে দেবর ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসানকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(৪)(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৪, তাং ২২.১০.১০ ইং। এ মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই কামাল হোসেন রাজনৈতিক চাপের কারণে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ প্রচেষ্টার মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন। এই ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায়।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২

পাতলা পোশাকের কারণে..

undefined
মানবজমিন ডেস্ক: নারীরা ফিনফিনে পাতলা ও ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পোশাক পরলে ধর্ষণকে প্রলুব্ধ করা হয়। এমন মন্তব্য করেছেন অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশ প্রধান ডিজিপি ভি দিনেশ রেড্ডি। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ওই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ভি দিনেশ রেড্ডির বিবৃতির সঙ্গে আমি কোনভাবেই একমত নই। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে আরও বলা হয়, শুক্রবার হায়দরাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভি দিনেশ রেড্ডি। তিনি এ সময় বলেন, ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য পুলিশ দায়ী নয়। এ সময় তিনি উল্টো নারীদের দোষারোপ করেন। বলেন, নারীরা যে পাতলা পোশাক ও ফ্যাশনওয়ালা পোশাক পরেন তার মাধ্যমে তারা পুরুষদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করেন। এর ফলেই বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনার জন্য পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। শুধু শহর নয়, গ্রামেও আজকাল অনেক নারী ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরছে। কেউ যদি অপরাধের ধরন নিয়ে গবেষণা করেন তাহলে তার চোখে ধরা পড়বে ধর্ষণের এটাও একটা কারণ। তার এ বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে চারদিকে। এ নিয়ে গতকাল নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকরা জেঁকে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। প্রত্যেকেরই যেমনটা পছন্দ তেমন পোশাক পরার অধিকার আছে। যখন ফুটবল, টেনিস খেলা হয় অথবা কেউ সুইমওয়্যার পরেন তখন তো কেউ সারা শরীর ঢেকে মাঠে নামেন না অথবা কেউ ককটেল পার্টিতে যান তখন তো তার সারা গা ঢেকে যান না। এ নিয়ে চারদিকে যখন শোরগোল পড়ে গেছে তখন ভি দিনেশ রেড্ডি নতুন করে দাবি করছেন তার বক্তব্যকে বিকৃত করে পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি বলতে চেয়েছেন ধর্ষণ বৃদ্ধির একটি কারণ হলো নারীদের পোশাকের ধরন, যেখানে পুলিশের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। মানব জমিন

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

ধর্ষিতা মেয়েকে মায়ের বিষ প্রয়োগ

ভারতের মিরাটে ধর্ষণের শিকার এক মেয়েকে বিষ প্রয়োগ হত্যার চেষ্টা করেন তার মা ও প্রেমিক। ধষির্তার বাবা পুলিশে অভিযোগ করার পর পুলিশ প্রেমিক ধর্মান্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে। বাবার অভিযোগ মেয়ের মা ও প্রেমিক বিষ প্রয়োগে তার মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। চায়ের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে ধর্ষিতা মেয়েকে খেতে দেন মা। গত বছর ধর্ষনের শিকার হয়েছিল ওই মেয়েটি।

কুকুরকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১০ বছর জেল

মানবজমিন ডেস্ক: কুকুরকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে আহত করার অপরাধে এক মার্কিনিকে ১০ বছরের কারদণ্ড দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট এডওয়ার্ড ডি শিল্ড গত মার্চে আট মাস বয়সী কুকুর চিহুআহুয়াকে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে কুকুরটির মালিক তাকে ওই বাড়ির গ্যারেজ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কুকুরটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কুকুরটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে বাঁচিয়ে তোলা হলেও তার মালিক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শিল্ডকে গত সপ্তাহে এই কারাভোগের শাস্তি দেয়া হয়। সে সঙ্গে তাকে আজীবন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে তাকে সব সময় ইলেকট্রনিক শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি স্কুল এবং যেসব জায়গায় শিশুরা জমায়েত হয় সেসব স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। mzamin.com

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১১

কোম্পানীগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে: কোম্পানীগঞ্জের চর কচ্চপিয়া গ্রামের খাল পাড়ের একটি ধানক্ষেতে গতকাল পিংকি আক্তার (১২) নামের এক বালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। পুলিশ বালিকাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. রনিকে আটক করেছে।
নিহত বালিকার পিতা আবু ইউসুফ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বাড়ির নিহত শিশু পিংকি আক্তারকে ক্ষেতে পাঠানো হয়। ধান ক্ষেতে বিলের মধ্যে পিংকিকে একা পেয়ে বখাটে রনি ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর হত্যা করে তার লাশ পাশের খালে ফেলে যায়। বালিকার পিতা মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি করে খালের মধ্যে তার লাশ দেখে চিৎকার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মো. মিজানের পুত্র বখাটে রনিকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

মেয়েকে ধর্ষণের শাস্তি ২০৮০ ঘা বেত

সৌদি আরবে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক পাষাণ্ড পিতাকে ১৩ বছরের জেল ও ২০৮০ ঘা বেত মারার রায় দিয়েছে এক আদালত। সৌদি আরবের মক্কা নগরীর এক আদালত ওই সোদি নাগরিকের বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে নেশাগ্রস্ত করে গত ৭ বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করে।  স্থানীয় প্রভাবশালী ওকাজ পত্রিকা গত শনিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। সৌদি ধর্মীয় পুলিশ জানায়, মেয়ের চাচার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই অপরাধ উদঘাটন করেন।   মানব জমিন

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

পাষণ্ড পিতা!

 পাষণ্ড এক পিতাকে নিয়ে জার্মানিতে তোলপাড় চলছে। ৬৯ বছর বয়সী ওই পিতার নাম অ্যাডলফ বি। তাকে জার্মানির জোসেফ ফ্রিটজলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। কেউ কেউ তার নামে থু-থু ছিটাচ্ছেন। এর কারণ অ্যাডলফ বি অমানুষের মতো নিজের কন্যাকে ৩৪ বছর যাবৎ ধর্ষণ করেছে। এর ফলে ওই কন্যা তিনটি সন্তানের মা হয়েছেন। এতটা সময় অ্যাডলফ বি তার পুরো পরিবারকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। সব ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়ির মাটির নিচে অন্ধকার বাঙ্কারে। সেখানে দিনের পর দিন সে তার মেয়ের সঙ্গে এ অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছে। অ্যাডলফ বি’র রয়েছে স্ত্রী, সন্তান। কিন্তু দীর্ঘদিন সে মাটির নিচে প্রকোষ্ঠে আটকিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রেখেছে। যে মেয়ের সঙ্গে সে এই সম্পর্ক গড়েছে তার এখন বয়স ৪৬ বছর। এ ঘটনা এক পর্যায়ে চলে যায় পুলিশের কানে। পুলিশ জার্মানির উইলমার্সব্যাচ গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে ওই পরিবারের সবাইকে। এ সময় অ্যাডলফ বি’র ওই মেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার বয়স যখন ১২ বছর তখন থেকেই তার পিতা তাকে ধর্ষণ শুরু করে। তা অব্যাহত থাকে গত ৩৪টি বছর। তিনি মা, ভাই-বোনের সঙ্গে ওই একই বাড়িতে অবস্থান করতেন। সেখানে পরিবারের সবাইকে প্রহার করা হতো। তাদের ভয় দেখানো হতো। নুরেমবার্গ-ফুর্ট আঞ্চলিক আদালতে এক প্রসিকিউটর বলেছেন, অ্যাডলফ বি’র ওই কন্যা তার পিতার কারণে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি সন্তান শৈশবেই মারা গিয়েছে। অন্য একটি সন্তান সমপ্রতি মারা গিয়েছে। তৃতীয় সন্তানটি এখনও বেঁচে আছে। এসব অভিযোগে গতকাল জার্মানির স্থানীয় সময় সকালে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয় অ্যাডলফ বি’কে। এ সময় তার আইনজীবী আদালতকে বলেন, তার কন্যা পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তা ছিল দু’জনের সমঝোতার ভিত্তিতে। জার্মানির আইন অনুযায়ী অ্যাডলফ বি যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে জেল অথবা জরিমানা করা হতে পারে। এ বিচার চলবে আগামী ৬ দিন। এ সময়ে ২৪ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেয়া হবে। মানবজমিন ডেস্ক:

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ

রাজধানীর রামপুরায় মুন্নি (ছদ্মনাম) নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। মেয়ের ভবিষ্যৎ আর লোকলজ্জার ভয়ে এ খবর কাউকেই জানাননি মা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেছেন, বাপমরা মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটা বাসায় ভাড়া থাকি। মামলা করলে এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে। ওর বিয়ে হবে না। তখন ওর কি হবে? এটা জানাজানি হলে আমাকেও এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না। আমার স্বামী নেই। মেয়েকে নিয়ে তখন কোথায় যাবো? তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের এমন কোন খবর থানায় আসেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী রেজিস্ট্রার নথিতে ধর্ষণজনিত কেস বলে উল্লেখ আছে। দুপুরে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী দু’জন মহিলা চিকিৎসক জানান, প্রাথমিক আলামতে এটিকে ধর্ষণ বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। তবুও টেস্ট করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা নার্স জানিয়েছেন, সে এখনও স্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যেই বমি করছে। দুপুরে মুন্নির সঙ্গে কথার বলার সময়ও একবার বমি করে। তার চোখ-নাক-মুখ ফোলা ছিল। কথা বলার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
গতকাল চিকিৎসাধীন মুন্নির কাছে ঘটনার বর্ণনা জানতে চাওয়া হয়। মুন্নি চোখ বন্ধ করে আধো আধো কণ্ঠে জানায়, সে রামপুরার ম্যাগ স্টার গার্মেন্টসে কাজ করে। রোববার বিকাল ৫টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে বান্ধবী কল্পনার সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। তারা আফতাবনগরে ঘুরতে যায়। সেখানে দু’টি ছেলে তাদের পিছু নেয়। ঘোরাঘুরি শেষে তারা হেঁটে ১৯৬ নম্বর পাকা মসজিদের বাসার দিকে ফিরছিল। তখন রাত ৮টা। হঠাৎ করে ওই দু’টি ছেলে তাদের পেছন থেকে হাত ধরে মুখ ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী মহানগর প্রজেক্ট মাঠের কোনায় নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ওই দু’জনের সঙ্গে মুন্নিকে দৈহিক অপকর্মে লিপ্ত হতে বলে। না হলে ১০ হাজার টাকা চায়। মুন্নি টাকা দিতে রাজি হলে তার মাকে ফোন করতে বলে। কিন্তু তারা ফোন না দিয়ে তার মুখ ছাপিয়ে ধর্ষণ করে। এক সময় মুন্নি নিস্তেজ হয়ে এলে উঠে যায় ধর্ষণকারীরা। সে জানায়, কল্পনাকেও হয়তো একইভাবে অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ শেষে ওই যুবকরা তাদের হাতে ১০ টাকা দিয়ে রিকশায় করে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই মুন্নি প্রজেক্ট মাঠের অনতিদূরের একটি বাজারে আসে তার মাকে ফোন করার জন্য। এ সময় পূর্বপরিচিত এক যুবককে পেয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। কয়েক যুবক মিলে ধাওয়া করলে দেখতে পায়, ধর্ষণকারীদের একজন তাদেরই কারও ছোট ভাই। ফিরে এসে ‘পরে এর বিচার হবে, এ ঘটনা কাউকে যেন না জানায়’ বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ফাতেমা বেগম জানান, রাত ১০টার দিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় মুন্নি ঘরে ফেরে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই মেঝেতে পড়ে যায়। বলেন ‘আমার সব শেষ’। এরপর তার রক্তক্ষরণ দেখে বুঝতে পারে পরের ঘটনা। মুন্নি জানায়, তাদের দু’জনকে ‘হেরোইনচি’র  মতো লাগছিল। তাদের সে এর আগে দেখেনি।
রমাপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। থানায় এখনও এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১১

 ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ - গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ইছাদীঘি গ্রামের ডাবাইলপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আম্বিয়া খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আম্বিয়ার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী লিটন মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা আম্বিয়াকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেন। পরে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেন।
লিটনসহ তিনজনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন আম্বিয়ার বাবা আমিনুল ইসলাম। আমিনুল বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ইছাদীঘি গ্রামের আরিফুল ইসলামের সঙ্গে আম্বিয়ার বিয়ে হয়। সুখেই কাটছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী লিটন মাঝেমধ্যে আম্বিয়াকে উত্ত্যক্ত করতেন।
সখীপুর থানার পুলিশ ও আম্বিয়ার পরিবারের ভাষ্যমতে, ৮ নভেম্বর লিটন, তাঁর বন্ধু সাইফুল ও রুবেল আম্বিয়াকে অপহরণ করেন। পরে লিটন ইছাদীঘি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করে আম্বিয়াকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন এবং আম্বিয়ার সন্ধান করতে বারণ করেন। রফিকুল বিষয়টি আম্বিয়ার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে বাবার বাড়ির সামনে কাঁঠালগাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আম্বিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আম্বিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
আম্বিয়ার বাবা আমিনুল বলেন, ‘লিটন আমার মেয়ের সর্বনাশ করে হত্যা করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আম্বিয়ার স্বামী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। হঠাৎ করেই শুনি, আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পরে শ্বশুরবাড়ির পাশে লাশ পাওয়া যায়।’
এ ব্যাপারে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝুলন্ত লাশ দেখে মনে হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তা ছাড়া অপহরণকারীরা মুঠোফোনে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে বলেও লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি।’
আম্বিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে ধর্ষণের পর হত্যা লেখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বোঝা যাবে আসল রহস্য। তার পরও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ মেয়েটিকে তিন দিন আগেই দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছিল।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১

ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগী গত শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ঢাকার সাভারের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।
এ অভিযোগ এনে ওই শিক্ষিকা গতকাল মঙ্গলবার সাভার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। ধর্ষণের পর ওই দুর্বৃত্তরা শিক্ষিকার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুটে নেয়। ওই শিক্ষিকা বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষিকা বলেন, গত শনিবার বিদ্যালয়ের কাজে তিনি ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি গাবতলী থেকে ভিলেজ লাইন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে তাঁর পাশে গিয়ে বসেন অপরিচিত এক লোক। বাসটি সাভারের দিকে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওই লোকটি নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই লোকটি তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বলেন।
শিক্ষিকা নিজের পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তির কথার প্রতিবাদ করলে লোকটি তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন। শিক্ষিকা ভয়ে লোকটির কথামতো সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। এর পর ওই লোকটি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে লোকটি তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে যান আরও এক ব্যক্তি। তিনিও তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই দুই দুর্বৃত্ত শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেন।
ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষিকা প্রথম আলোকে বলেন, চলন্ত বাসে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই প্রতারকের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তাঁর বাগিবতণ্ডা চলার সময়ে বাসের অন্য যাত্রীরা তাঁকে কোনো সহায়তা করেননি। যাত্রীদের সহায়তা না পেয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের (রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই প্রতারক তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়ে তিনি ওই প্রতারকের কথামতো বাস থেকে নেমে হোটেলে যান।
শিক্ষিকা বলেন, আকস্মিক ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর পুলিশ ভাইকে বিষয়টি জানালে তাঁর পরামর্শে গতকাল তিনি সাভার থানায় মামলা করতে যান।
ওই শিক্ষিকা বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি সাভার থানায় গিয়ে থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেনকে জানান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে তাঁর কক্ষে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোর এ প্রতিবেদক সাভার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। ওসি ঘটনা শুনে শিক্ষিকার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ওই এসআই আবুল হোসেনকে।
দুপুর পৌনে একটার দিকে এসআই আবুল হোসেন বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষিকাকে নিয়ে ওই হোটেলে যান। পুলিশ হোটেলের মালিক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই আবদুস ছালাম ও ভগ্নিপতি ফরিদ আহাম্মেদকে আটক করেন। ছালামকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ফরিদকে থানায় নিয়ে যান। এর আগেই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন পালিয়ে যান।
আবদুস ছালাম নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের হোটেলে এসেছিলেন।
সাভার থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে মামলা করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

 বিচার না পেয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন!

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার হয় দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেয় পুলিশ। এতে মেয়েটিকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয় ধর্ষকেরা।
বিচার না পেয়ে সেঁজুতি ওরফে কমলা (১৬) নামের ওই ছাত্রী গত শুক্রবার রাতে বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
কমলা রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী সাদেক মৃধার মেয়ে। পড়ত চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
গতকাল শনিবার সকালে কমলার আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী এবং পাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি ও বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়ক অবরোধ করে। তারা বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ রবিউল হককে প্রত্যাহার ও ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
ওসি রবিউল গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘেরাও করলে তিনি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
রঘুনাথপুর গ্রামবাসী ও কমলার পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে সাতটার দিকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কমলার চাচাতো ভাই মো. নয়ন মৃধা কমলাকে তার ঘর থেকে ডেকে নেয়। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা গ্রামের মো. নাসির আকন, মো. শামীম আকন, মো. রাজীব, মো. সবুজ ও মো. সাইফুল ইসলাম কমলাকে জোর করে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে চাচাতো ভাই নয়নও যোগ দেয়। কমলার চিৎকারে তার মা ও অন্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কমলার মা হাফিজা বেগম ওই ছয়জনকে আসামি করে পরের দিন বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কমলার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেনি।
হাফিজা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণধর্ষণের পর আসামিরা নানাভাবে আমার অন্য দুই মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয়। কিন্তু বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করে আমাকে মীমাংসা করতে বলেন। মীমাংসায় রাজি না হলে ওসি অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেন। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষকেরা কমলাকে আবার গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে। বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কমলা। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সবার অজান্তে ঘরের চৌকাঠের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।’
রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওসি রবিউল ধর্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ধর্ষণের মামলা না নিয়ে অপহরণচেষ্টার মামলা নেন। তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে ধর্ষকেরা কমলা ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখে। বিচার না পেয়ে লজ্জায়-ঘৃণায় আত্মহননের পথ বেছে নেয় কমলা।
চৈতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, কমলার আত্মহত্যার খবর জানার পর তাঁর বিদ্যালয়সহ পাশের আরও চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবরোধ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের শান্ত করলে আধঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ওসি রবিউল হক বলেন, ‘আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব আসামি পলাতক। তাদের আমি চিনিও না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরও কমলার ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণ জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি রবিউল।

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১

ধর্ষণের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পুনাইল গ্রামের ধর্ষণের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী ভুয়া চিকিৎসকের কাছে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ ওই ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে মীমাংসার নামে গ্রামে সালিস বসিয়ে উল্টো ওই মেয়ের অভিভাবকের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
সাটুরিয়া থানার পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকপ্রতিবন্ধী ওই মেয়েটির মাতৃত্বের লক্ষণ ফুটে উঠলে পরিবারের লোকজন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি তাঁর এ অবস্থার জন্য ওই গ্রামেরই হাতেম আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর হাতেম আলী গত শুক্রবার এলাকার প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোর জন্য তাঁর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। প্রভাবশালীদের ভয়ে ও পরামর্শে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য মেয়েটির মা গত শুক্রবার সকালে মেয়েকে নিয়ে পাশের দরগ্রাম গ্রামের ভুয়া চিকিৎসক উজালা সাহার বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোর পর তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই মেয়েটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
পুলিশ জানায়, গর্ভপাত ঘটানোর পর শুক্রবার রাতে প্রভাবশালী সিদ্দিক বেপারী এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে সালিস বসিয়ে ধর্ষক হাতেম আলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মেয়েটির বাবার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
এক প্রতিবেশী বিষয়টি সাটুরিয়া থানাকে অবহিত করলে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পৃথ্বীস কুমার দত্তকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল দুপুরে মেয়েটির বাড়িতে যান। মেয়েটির অবস্থা দেখে তাঁরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম। তিনি মেয়েটির অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল বিকেলেই তাঁকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। এ জন্য আর্থিক সহায়তাও করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটির অভিযোগের সত্যতা পওয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসক উজালা সাহাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগেই ধর্ষক হাতেম আলীসহ বিচারকেরা গা-ঢাকা দেন। পুলিশ উজালার বাড়ি থেকে অপারেশন করার মতো বেশ কিছু সরঞ্জামও উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে গতকাল সাটুরিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ধর্ষক হাতেম আলী, হাতুড়ে চিকিৎসক উজালা সাহা ও বিচারক সিদ্দিক বেপারীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশি হেফাজতে উজালা সাংবাদিকদের কাছে মেয়েটিকে গর্ভপাত ঘটানোর কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি একটি ক্লিনিকে চাকরি করে কাজ শিখেছেন। বর্তমানে বাড়িতে বসে চিকিৎসা করেন। মেয়েদের গর্ভপাত ঘটানোই তাঁর মূল কাজ। এ জন্য বাড়ির একটি গোপন কক্ষে তিনি অপারেশন থিয়েটারের আদলে চিকিৎসাব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছেন।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শামসুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উজালাকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়িতে গোপন অপারেশন থিয়েটারেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। অথচ চিকিৎসা করার মতো তাঁর কোনো সনদ নেই।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons